শৈলেন ঘোষ

একটা ছেলে, ছোট্ট। হয়তো তোমার মতো। নয়তো সুমিতের মতো। কিংবা রতন অথবা রাজা। তার নামটা সে ছাড়া আর কেউ জানত না। কেউ যদি তাকে ডাকত বোকা বলে, সে রাগ করত না। কেউ যদি বলত, ডিগডিগে, সে হাসত। কেউ যদি বলত, হুস-স-স, সে বলত, ধুপ-স-স।
তুমি যখন পড়তে বসো, সে তখন নদীর সঙ্গে কথা বলে। তুমি যখন ইস্কুলে যাও, সে তখন সবুজ মাঠে ছুটে বেড়ায়। তুমি যখন খেলা করো, সে তখন সূর্য-ডোবা আকাশ দেখে।
তার কেউ ছিল না, ছিল একটা বাঁশি। কেউ দেয়নি তাকে, কুড়িয়ে পেয়েছে। অন্য কেউ শেখায়নি তাকে বাজাতে। যে শেখাল, সে একজন বুড়ো থুত্থুড়ে মানুষ। বাঁশিটা দেখলে ভাববে, সোনার। এত সুন্দর। সোনার নয়, বাঁশের। বাঁশের রং কাঁচা কাঁচা সোনা। বাঁশির সুর টুটুর-টুটুর। স্বর যেন পাখির। শুনলে ভাববে আবার শুনি।
ওই নদী তার বন্ধু! ওই নদীর তীর ছুঁয়ে ছুয়ে সে পথ হাঁটছিল একদিন। এখান থেকে আর-একখানে চলে যাচ্ছিল। নৌকো নদীর জলে। মাঝি গান গায়। ছেলেটা আপন মনে গান শোনে। ভাবে আমিও যদি গাইতে পারতুম! আহা রে, আমারও গান যদি ভেসে যায় হাওয়ায়! এই মাঝির মতন!
সে ভাবে, আচ্ছা, গান ভেসে যায় কোথায়? একবার ভেসে হারিয়ে গেলে, সে-গান কেন আর শোনা যায় না? এমনই সব আজব-কথা ভাবতে ভাবতে সেদিন সে বনে ঢুকল। এর গায়ে, ওর গায়ে হেলে আছে গাছ-গাছালি। এর ডালে, ওর ডালে পাখি ডাকে টুটুর-টুটুর। রোদ পড়ছে গাছের পাতা গড়িয়ে মাটিতে। ঝিলমিল রোদ আঁক কেটেছে মাটির ওপর।
ছেলেটা দেখতে দেখতে যায়। এদিক ওদিক তাকায়। তার পরেই থমকে দাঁড়ায়। ঠিক সেইখানেই সে কুড়িয়ে পায়— ঝিলমিল রোদের আঁকিবুকির ওপর একটা বাঁশি। পড়ে আছে। ফুঁ দেয়। বাঁশি বাজে প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ। আবার বাজায়। আবার বাজে প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ। ফুঁয়ে সুর নেই, কিন্তু মজা আছে, দারুণ মজা। প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁর মজা।
তাই সে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে, হাঁটে, ছোটে, নাচে। জানে না সে, বনের ভেতর সাপ আছে, না বাঘ আছে। হাতি আছে, না সিংগি আছে। কিন্তু দেখে, গাছভর্তি পাখি আছে। ডালভর্তি ফুল আছে, ফল আছে।
এমন সময় সে যেন থমকে দাঁড়ায়।
কে যেন চেঁচিয়ে ডাকে, “কে যায় রে, কে যায়!”
এদিক ওদিক চোখ ফেরাল, মুখ ঘোরাল। কাকে যেন দেখতে পেল!
“এদিকে আয়!” সে ডাকল।
ছেলেটার চোখ অবাক বে-বাক!
আবার সে ডাকল, “আয় না!”
একটা মানুষ। বুড়ো। অনেক বয়েস। জবুথবু। বসে আছে।
“বাঁশি অমন করে বাজায় না রে। আয়! আমি তোকে শিখিয়ে দেব।”
ছেলেটা গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল।
“বস!”
ছেলেটা ভয়ে ভয়ে বসল। দেখল, তার মাথাভর্তি চুল সাদা সাদা। একগাল দাড়ি ঝোলা ঝোলা। চোখদুটো তার নরম নরম। মুখে তার হাসির ঝরন।
সে বলল, “দে, তোর বাঁশিটি দেখি।”
ছেলেটা হাত বাড়িয়ে বাঁশিটা তার হাতে দিল।
“কোথায় পেলি?”
“কুড়িয়ে।”
লোকটি দেখতে লাগল বাঁশিটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে। তারপর বলল, “এমন করে ধর। এমনি করে ফুঁ দে। এমনই করে এই ফুটোটায় আঙুল চাপ। ওই ফুটোটার আঙুল তোল।”
বাঁশির সুরে বাজে বোল: সা রে গা মা।
তারপর বাজে: সা সা রে রে গা গা মা মা।
তারপর তার বাঁশিতে গান বাজল এক লাইন:
গায় রে বাঁশি গায় রে—
সেই গান শুনে ছেলেটা ছুটল খুশিতে।
“কোথা যাস?” বুড়ো হাঁকল ব্যস্ত হয়ে।
“তোমার জন্যে গাছের ফল পেড়ে আনি, খাবে।”
তারপরের দিন বাঁশি গান গাইল দু’লাইন:
গাছের ডালে লুকিয়ে পাখি।
জুলুক-জুলুক চায় রে।

পরের দিন ছেলেটা খুশিতে উলুক-ঝুলুক। ছুটল। গাছের ফল পাড়ল। বুড়োকে দিল। নিজে খেল। তার পরের দিন— তার পরের পরের দিন— তার পরের পরের পরের দিন— বাঁশির সুর ছড়িয়ে ছড়িয়ে বেজে উঠল সারা বনে। তারপর তার বুড়োর সঙ্গে ভাব হয়ে গেল খুব। ছেলেটা বনে থেকে গেল বুড়োর কাছে। সে বাঁশি বাজায়, বুড়ো শোনে। সে বাঁশি বাজায়, পাখি শোনে। সে বাঁশি বাজায়, হাওয়ায় ঝরাপাতা উড়তি-ঝরতি। তারপর একদিন সে বলল, “বুড়ো, বুড়ো, শহরে যাব।”
বুড়ো বলল, “কেন?”
“তোমার জন্যে মিষ্টি-মিঠাই খাবার আনব।”
“পয়সা?”
“বাঁশি বাজাব, পয়সা পাব।”
“শহরে যদি হারিয়ে যাস?”
“নদীর স্রোত দেখব, পথ চিনব।”
মন ভার বুড়োর। বলল, “যতদিন একা ছিলুম, ততদিন সে একরকম। লোহার ভার যেন বুকে চাপা ছিল। মুখ বুজে থাকতে থাকতে কথা কইতে ভুলে যাই। ভুলে যাই আদর করার কথা। এখন তোকে দেখে মন বলে আদর করি। হাসি। ভালবাসি।”
ছেলেটা বলল, “তবে এবার আসি?” বলে ছেলেটা বুড়োর কাছে বিদায় নিল। শহরে চলল।
একদিন সে শহরে পৌঁছল। বাঁশি বাজাল। পয়সা পেল। পয়সা দিয়ে ভালুকের নাচ দেখল। পয়সা দিয়ে ম্যাজিক দেখল। আলু-নারকোলের ঘুগনি খেল। তারপর সে বুড়োর জন্যে মিষ্টি মিষ্টি মিঠাই কিনল। বনে ফিরল হাসতে হাসতে মিঠাই কিনে। কিন্তু এ কোন বন? এ কোনখান? কোথায় সেই গাছের ছায়া? কোথায় গেল সেই মানুষটি, বুড়োমানুষ? সে-বন বুঝি এ-বন না! সে-পথ বুঝি এ-পথ না! সে ছোটে এদিক ওদিক। সে খোঁজে তন্নতন্ন। হায়! হায়! কোথায় সে, কোথায়?
ছেলেটা হাঁক পাড়ে, “ও বুড়ো, কই তুমি?” কেঁদে ফেলে আকুল হয়ে। কাঁদতে, কাঁদতে, কাঁদতে হাঁটে সে। হাঁটতে, হাঁটতে, হাঁটতে সে-ও হারিয়ে যায়। আর মনে পড়ে না তার বাঁশি বাজানোর কথা। বাঁশি তার কোমরের কাপড়ে আঁটা।
বুড়ো নেই। কাকে শোনাবে?
আনমনে হাঁটতে হাঁটতে সে যেখানে পৌঁছল, সেখানে দিঘিভর্তি পদ্ম-শালুক। সেখানে কাশফুল। আকাশে বকের পাতি। সাদা মেঘ। নদীতে হংস-পাতি। দোদুল দুল। এমন সময় হঠাৎ সাদা মেঘ রং বদলায়। কালো মেঘ আকাশ ছায়। বাজ পড়ল গমগম। বৃষ্টি নামে ঝমঝম।
ওমা! এদিকে বৃষ্টি, ওদিকে যে রোদ। এদিকে কালো আকাশ, তো ওদিকে যে আলো-আকাশ। এদিকে গাছের গায়ে জল, তো ওদিকে গাছের গায়ে রোদ। ছেলেটা ভিজতে ভিজতে ছুটে যায় ওদিকেই। এতক্ষণ বৃষ্টি মেখে ভিজেছে। এবার রোদের ছটায় হেসেছে। এদিক ওদিক রোদ-রোদ্দুর, চোখ চলে যায় যদ্দূর, তদ্দূর। যদ্দূরও নয়, তদ্দূরও নয় এই খানে সে হঠাৎ দেখে— গাছের ফাঁকে একটা পাখি। পাখিটা না পেঁচা, না পেঁচি। না টিয়া, ট্যাঁটোন। না টুনটুন, না টুনটুনি। একটা কোয়েল। পাখিটা দেখছে তোকে। মারছে উঁকি। তক্ষুনি তার মনে পড়ে যায় বুড়োর কথা। তক্ষুনি তার মনে পড়ে যায় বাঁশির কথা। মনে পড়ে যায় বুড়ো শিখিয়েছে বাঁশির গান:
গায় রে বাঁশি গায় রে,
গাছের ফাঁকে লুকিয়ে পাখি।
জুলুক-জুলুক চায় রে।
তক্ষুনি সে কোমরে আঁটা বাঁশের বাঁশি বার করল। তক্ষুনি সে বাঁশিতে সুর বাজাল। ওমা! পাখি এবার জুলুক-জুলুক চাইল না। গাছের ডালে উলুক-ঝুলুক নাচ ধরল। বাঁশি বাজে। পাখি নাচে। ছেলেটা আরও বাজায়। পাখি আরও নাচে। আরও, আরও, আরও। এক দিন, দু’দিন, তিন দিন। ছ’দিন, সাত দিন, আট দিন। বাজতে বাজতে দশ দিন।
একদিন একটা লোক সেই নাচ দেখে অবাক হয়। তো, দু’দিনে দুটো লোক সেই নাচ দেখতে হাজির হয়। তিন দিনে তিনটে লোক। চার দিনে চারটে। তারপর লোকে লোকে লোকারণ্য। পয়সা দেয় বাঁশির সুর শুনে। পাখির নাচ দেখে। সন্ধে হলে পাখি উড়ে যায়। কোথায় যায় কেউ জানে না। রাত্তির হলে ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়ে— এখানে, না-হয় সেখানে। এদিকে এক কাণ্ড হল, শহরে ভালুকওলার ভালুক নাচ কেউ দেখে না আর। ম্যাজিকওলার জাদুর খেলায় মন ভরে না কারও। সবাই শোনে বাঁশির গান। সবাই দেখে পাখির নাচ—উলুক-ঝুলুক। একদিন তাই ভালুকওলা, ম্যাজিকওলা সড় করল। ছেলেটার বাঁশিটাকে হাত করবে। একদিন তারা ছেলেটার কাছে এল। বাঁশি চাইল। বলল, “পয়সা দেব অনেক।”
ছেলেটা বলল, “পয়সাও চাই না, বাঁশিও দেব না।”
লোকদুটো আবার বলল, “পয়সা দেব তত, চাস তুই যত।”
ছেলেটাও তেমনি উত্তর দিল, “রেখে দাও পয়সা। কেটে পড়ো সোজা।”
আর তক্কও না, বিতক্কও না, লোকদুটো কেটেই পড়ল। সন্ধে হলে পাখিটা যেখানে যায়, সেখানে চলে গেল। রাত্তির হলে ছেলেটা যেখানে ঘুমোয়, সেখানে ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম ঘুম রাত্তির, ফুরফুরে বাতাস। মানুষ নেই, জন নেই, চুপচাপ নিঃসাড়। টুক করলে টাক করে শব্দ ওঠে। ছুম করলে ছ্যাঁত করে বুকটা কাঁপে।
এমন সময় দু’-দুটো চোর আলতো পায়ে এগিয়ে আসে। এই দুটো চোর সেই দুটো লোক ভালুকওলা, ম্যাজিকওলা দেখে ছেলেটা ঘুমোচ্ছে।
চোরদুটো তালাশ করছে, কই বাঁশিটা কই বাঁশিটা! করতে করতে দেখতে পায়, সেই বাঁশিটা কোমরে আঁটা ছেলেটার।
ভালুকওলা জাপটে ধরল ছেলেটাকে। ম্যাজিকওলা ছিনিয়ে নিল বাঁশিটাকে। ছেলেটার ঘুম ভেঙে যায়, চমকে ওঠে। দুটো চোর গা ঢাকা দেয় অন্ধকারে।
ছেলেটা চেঁচিয়ে ওঠে, “চোর! চোর!” ততক্ষণে ছিঁচকে দুটো দে পিটটান। ছেলেটা ছাড়বে কেন? সে-ও ছোটে পিছু পিছু। দুটো চোর ছুটছে জোরে। ছেলেটা পিছিয়ে হারে। হারতে হারতে ছেলেটা হাঁপিয়ে গেল। ছুটতে ছুটতে দুটো চোর পালিয়ে গেল।
সে-রাতে আর ঘুম এল না চোখের পাতায় ছেলেটার। ভাবছে খালি, ভাবছে বসে আকাশ-পাতাল। ভাবতে ভাবতে হতাশ হয়ে আকাশ দেখে।
রাত কাটছে। আকাশভর্তি আলোর হাসি ফুটছে। ফুল ফুটছে। শিশিরের ফোঁটা ঝরছে। পাখি ডাকছে। ঠিক তখনই উড়তে উড়তে সেই পাখি, সেই কোয়েল আসে। ওই গাছটার ওই ডালে সে বসে পড়ে। ভাবে, এবার বুঝি বাঁশি বাজে। এবার বুঝি নাচতে হবে বাঁশি শুনে।
কিন্তু না তো, বাঁশি আজ বাজল না তো! পাখিও নাচল না। ছেলেটাও উঠে দাঁড়ায়। এদিক তাকায়, ওদিক তাকায়। পাখির দিকে চোখ পড়ে না।
হাঁটতে থাকে নিরাশ হয়ে, ক্লান্ত পায়ে। হাঁটতে, হাঁটতে, হাঁটতে কোথায় যে হারিয়ে যায়! পাখিটাও তাই না-দেখে উড়তে, উড়তে, উড়তে— আকাশে মিলিয়ে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে হায়! হায়!
তারপর? দিন যায়, এক দুই তিন চার।
ঠিক সেই সময়, পাঁচ দিনের ভোরে ছেলেটা ঘুমিয়েছিল— গাছের নীচে। নিঝুম হয়ে। আহা রে, ধুলোর ওপর পড়ে আছে! কত মানুষ ওদিক যাচ্ছে। কত মানুষ এদিক আসছে। ভোর না-হতেই কাজের তাড়া। কারও মাথায় মোট। কারও কাঁধে বাঁক। কারও মাথায় টুপি। কারও মাথায় পাগড়ি। কারও হাতে থলে। ছোট্ট ছেলে মায়ের কোলে।
এমন সময় দ্যাখো! দ্যাখো! দ্যাখো! আকাশে উড়ছে যেন কোয়েল পাখি। কোথায় ছিল? কোথা থেকে উড়ে এল? ঠোঁটে তার ওটা কী? যেন সেই বাঁশের বাঁশি!
কী আশ্চর্য! কোথায় পেল!
উড়তে উড়তে পাখি বসল সেই গাছটায়।
কোন গাছটায়? ছেলেটা ঘুমিয়ে আছে যে-গাছটার নীচে। পাখিটা ঠোঁট বাড়িয়ে বাঁশিটা ফেলে দিল ছুড়ে। এক্কেবারে ঠিক ছেলেটার গায়ে।
ছেলেটা চমকে ওঠে। ঘুম ভেঙে যায়। ধড়ফড়িয়ে উঠে পড়ে চোখ রগড়ায়। এদিক ওদিক চেয়ে দেখে। হঠাৎ দেখে বাঁশি! এ কী কাণ্ড! কোথায় ছিল! তুলে নেয় হাত বাড়িয়ে চট করে। এদিক নাড়ে, ওদিক নাড়ে। এটা কি সেই বাঁশিটা? মনে ভাবে। তাই তো বটে, এই বাঁশি তো সেই বাঁশি।
নাড়তে নাড়তে ফুঁ দেয়। অমনি বাঁশি গেয়ে ওঠে:
গায় রে বাঁশি গায় রে,
গাছের ফাঁকে লুকিয়ে পাখি।
জুলুক-জুলুক চায় রে।
যেই না বাঁশি গাইল, অমনি পাখি ডাকল। ছেলেটা চমকে উঠে যেই দেখল পাখিটাকে, অমনই পাখি নেচে উঠল উলুক-ঝুলুক গাছের ডালে। কেমন করে এমন হল?
ছেলেটা ভাবল অনেক। বলবে কে? তাই তো সে জানল না—ভালুকওলা, ম্যাজিকওলা বাঁশিটা চুরি করে চুপিসারে—আঁস্তাকুড়ে দেয় ফেলে।
তারপরে খুব খোশমেজাজে ভালুক নাচের খেল চলে। ম্যাজিকওলা ভেলকি দেখায়।
এদিকে, সেই যে কোয়েল খুঁজে বেড়ায় বাঁশি। এদিক খোঁজে, সেদিক খোঁজে। কোথায় বাঁশি! কোথায় বাঁশি! দিন চলে যায়, নেই বাঁশি! নেই বাঁশি! কোয়েলটা খুঁজতে খুঁজতে সারা হল। তবু তার মন মানে না, হাল ছাড়ে না। শুধু খোঁজে।
এমন সময় একদিন সে যেন চমকে ওঠে হঠাৎ। চোখ পড়ে যায় আঁস্তাকুড়ে। ওটা কী সোনার মতো ঝকঝকে! পড়ে আছে নোংরা গাদায়! উড়তে উড়তে, ঘুরতে ঘুরতে দেখে আর দেখে! দেখতে দেখতে যা ভাবা ঠিক তা-ই হল। তার মনে হল, এটা সেই সোনালি সুর-ঝরানো সেই বাঁশি!
অমনি সে ছোঁ মারল আকাশ থেকে নীচে।
অমনি বাঁশি ঠোঁটে উঠল, নোংরা থেকে ভালয়।
তারপরে যা ঘটল, সে যে খুব খুশির খবর। কোয়েলের বন্ধু হয়ে ছেলেটা বাঁশি বাজায়। ছেলেটার বন্ধু হয়ে পাখিটা নাচ দেখায়।
সে যেন এক আজবদেশের মজার কথা।
মজা! মজা! মজা!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন