দাদু ভুলে গেছে

শৈলেন ঘোষ

সকালে ঘুম ভাঙলে বুড়ো জিনজির সবপ্রথম চোখ মেলে চাইবে ওই দূর আকাশটার দিকে জানলা দিয়ে। আকাশটা... ওই নীল আকাশটা রোজ ডাকে জিনজিরকে হাতছানি দিয়ে। আকাশ দেখলেই মানুষটার সমস্ত মন গুনগুন করে ওঠে। সেই ছোট্টবেলায় মন যেমন গেয়ে উঠত গুনগুন করে। আজও ঠিক তেমন। তাই জিনজিরের বন্ধু ওই আকাশ।

আজকে ওই আকাশে কালো মেঘের দল ঢেউ ভেঙে উথাল-পাথাল করছে। বৃষ্টি নেমেছে। কী আনন্দ! বুড়ো জিনজির হাসে। আর যখনই সেই ভাঙা ঢেউয়ের আড়াল থেকে বিদ্যুৎ ঝিলিক দেয়, বুড়ো পলকে কানদুটো চেপে ধরে। তবু মেঘের গর্জন শোনা যায়, তবে একটু একটু। এই ফাঁকে বাতাস ঢুকে পড়ে জানলা দিয়ে। এলোমেলো করে দেয় বুড়োর মাথাভর্তি একরাশ চুল। এখন তার মাথার চুল যেন একটিও আর চুল নয়। রুপোলি রেশম। বুড়োর কপাল ছুঁয়ে নেমে এসে, চোখের ওপর স্বপ্ন এঁকেছে। ছুটে আসে তার ছোট্ট নাতনিটা। টুকরি। দাদুর মুখখানা দেখে দাঁড়ায়। বলে, তুমি যেন রূপকথার আজব-বুড়ো।

বুড়ো হাসে।

নাতনিও বুড়ো জিনজিরের মুখখানা দেখে হাসতে হাসতে বলে, “আজকের সেই কথাটা ভুলে যাওনি তো, দাদু?”

“কোন কথাটা?” বুড়ো অবাক হয়।

নাতনি হাসতে হাসতেই বলে, “ওমা, ভুলে গেছ? তা হলে বলছি না।”

বুড়ো জিনজির নাতনির মুখের দিকে চেয়ে চোখ মটকাল। তারপর তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “বাজার থেকে ডিম আনার কথা ছিল, না রে?”

দাদুর কথা শুনে নাতনি খুশিতে হাততালি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “দাদু ভুলে গেছে।”

নাতনি যতক্ষণ “ভুলে গেছে, ভুলে গেছে” বলে চেঁচাল বুড়ো জিনজির ততক্ষণ ভাবল। তারপর বলল, “ও বুঝতে পেরেছি! আজ তোকে সেই হাঁসের গল্পটা শোনাতে হবে, তাই না?”

“ধ্যাত।” নাতনি এবারও হাততালি দিল। এবারও চেঁচাল, “হয়নি, হয়নি!”

জিনজির আবার ভাবল। ভাবতে ভাবতে আবার বলল, “বুঝতে পেরেছি, বাগানের মাচাটা ভেঙে গেছে, সারাতে হবে।”

এবার আর হাততালি দিল নাতনি। দাদুর কপালের চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে আদর করে বলল, “তোমার কিচ্ছু মনে থাকে না।”

দাদু হাসতে হাসতে বলল, “কী করে মনে থাকবে বল? আমি কি তোর মতো ছোট্ট?”

দাদুর কথা শেষ হতেই নাতনি মুখ উঁচিয়ে মজা করে বলল, “তবে তুমি ফেল।”

“কেন?”

নাতনি বলল, “সবাই বলে, মনে রাখতে না পারলে কেউ নিচু ক্লাস থেকে উঁচু ক্লাসে উঠতে পারে না। ফেল করে। তাই তুমিও ফেল।” বলতে বলতে মায়ের কাছে ছুটে গেল টুকরি। মায়ের গলাটা জড়িয়ে বলল, “তুমি ঠিক বলেছ মা, মনে রাখতে না পারলে সবাই ফেল করে। তাই আজ দাদুও আমার কাছে ফেল।”

মা কিছু বোঝার আগেই সে বাবার কাছে ছুটে গেল। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলল, “বাবা আমি কি কোনওদিন ক্লাসে ফেল করেছি, বলো? আজ দাদু আমার কাছে ফেল করেছে।”

বাবাও কিছু বুঝতে পারলেন না। তার আগেই বুড়োর নাতনি, টুকরি, “দাদু ফেল, দাদু ফেল” বলে এ-দোর ও-দোর ছুটোছুটি করতে লাগল।

একটু পরেই বৃষ্টি থামল। কিন্তু থামল না টুকরির খুশির চিৎকার। সে চিৎকার করতে করতে বাইরে বেরিয়ে এল। চিৎকার করতে করতেই ছাগলছানাটাকে জড়িয়ে ধরল। আদর করল। কোলে তুলে নিয়ে ছুট দিল বৃষ্টি ভেজা পথের ওপর দিয়ে। চেঁচাতে লাগল, “ফেল, ফেল।” কিন্তু ছুটতে ছুটতে কোথায় গেল? কে জানে।

বুড়ো জিনজির নাতনিকে দেখে চেঁচায়, “ওরে মেয়ে কাদায় পড়বি। ছানাটাকে নিয়ে অমন করে ছুটিস না। তুই ছুটলে, আমাকেও ছুটতে হবে।”

কে কার কথা শোনে। শেষকালে সত্যি-সত্যিই দাদুকে ছুটতে হল। কিন্তু কোথায় ধরবে টুকরিকে? সে তখন পগারপার। দাদু কি আর পারে ওই ছোট্ট মেয়েটার মতো ছুটতে। দাদু হনহন করে হাঁটছে তাই।

বুড়োকে এমন অস্থির হয়ে হাঁটতে দেখে মনোহারি দোকানের মেজকর্তা চেঁচিয়ে উঠল, “কর্তামশাই, অমন হনহন করে কোথায় চললেন?”

বুড়ো দাঁড়িয়ে পড়ল। জিজ্ঞেস করল, “আমার নাতনিটাকে ইদিকে ছুটতে দেখেছ?”

“কই, না তো! ছুটছে কেন? কী হয়েছে?”

বুড়ো বলল, “আমি নাতনির কাছে ফেল করে গেছি।”

“কীসে ফেল করলেন?” বলে হাসল মেজকর্তা।

“সেই তো, কীসে যে ফেল করলুম, কিছুতেই বুঝতে পারছি না। মেয়েটা বলল, ‘আজকের সেই কথাটা মনে আছে তো?’ আমি শত চেষ্টা করেও কোন কথাটা সে জিজ্ঞেস করছে, মনে করতে পারলুম না। বয়েস হলে যা হয়। তোমার কী মনে হয় বলো দিকিনি? কোন কথাটা ভুলে গেছি?”

মনোহারি দোকানের মেজকর্তা হো-হো করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই বলল, “এই সহজ কথাটা আপনি এমন সহজে ভুলে গেলেন?”

বুড়ো জিনজির উদ্‌গ্রীব হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোন কথাটা?”

“গুড়!”

বুড়োর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল, “গুড়?”

মনোহারি দোকানের মেজকর্তা ভুরুর দিকে চোখটা ঠেলে বলল, “তবে আর বলছি কী? আপনার নাতনিটিকে অমন যত্ন করে মানুষ করছেন বটে, অথচ তার মনের ইচ্ছে আপনি মনে রাখতে পারেননি।”

মেজকর্তার কথা শুনে বুড়ো জিনজির প্রায় কর্তার ঘাড়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোন ইচ্ছেটি, কোন ইচ্ছেটি?”

মেজকর্তা ভড়ং করে দু’বার ছি-ছি করল! তারপর বলল, “মেয়েটা যে আপনার কাছে গুড় খেতে চেয়েছিল, এই কথাটা আপনি ভুললেন কী বলে? আমার দোকান থেকে এক কলসি গুড় নিয়ে যান। একদম টাটকা। সোনা যেন গলে টলমল করছে। দেখলেই মেয়ে লাফিয়ে উঠবে।”

বুড়ো জিনজির হতাশ চোখে মেজকর্তার দিকে তাকিয়ে রইল খানিক। তারপর বলল, “গুড়? না, না, তেমন কথা তো নাতনি কোনওদিন বলেনি। গুড় দুরে থাক, নলেনগুড়ের সন্দেশ পর্যন্ত সে কোনওদিন মুখে দেয়নি।”

মনোহারি দোকানের মেজকর্তার মুখখানা কেমন যেন ভ্যাপসা হয়ে গেল। তারপর খেঁকিয়ে উঠে বলল, “আপনাকে এক কলসি গুড় বেচলে কি আমার পাঁচতলা বাড়ি উঠবে? নিয়ে গেলে নিজেরাও তো খেতে পারতেন? ঘেন্না! ঘেন্না! এখন আর টাটকা জিনিসের কদর নেই মশাই,” বলেই মুখ ঘুরিয়ে নিল মেজকর্তা।

বুড়ো জিনজির পথ দেখল। হাঁটতে হাঁটতে ভাবল, লোকটা কেমন ধড়িবাজ! কেমন কৌশল করে এক কলসি গুড় গছিয়ে দিচ্ছিল! ভাবতে ভাবতে একটুখানি হাঁটতেই ইস্কুলের মাস্টারমশায়ের সঙ্গে দেখা।

“এই যে মাস্টারমশাই, নমস্কার।”

মাস্টারমশাই জিজ্ঞেস করলেন, “এই বর্ষা-বাদলে কোথায় চললেন?”

“আজ্ঞে, আমার নাতনিটাকে খুঁজছি। তাকে কি এদিকে যেতে দেখেছেন? বগলে একটা ছাগলছানা ছিল।”

“ছানাটি কদ্দিনের?” জিজ্ঞেস করলেন মাস্টারমশাই।

“আজ্ঞে দিন দুয়েকের।”

“কালো? না ধলো?”

“আজ্ঞে, কালোও নয়, ধলোও নয়। পাঁশুটে।”

“ডাকে? না হাঁকে?”

“আজ্ঞে, খুঁজে পাচ্ছি না আমার নাতনিকে আপনি ছাগলছানার বৃত্তান্ত নিচ্ছেন কেন?”

“আরে মশাই এটা অঙ্কের যুগ।”

“আজ্ঞে, ছাগলের সঙ্গে তো অঙ্কের কোনও সম্পর্ক নেই। অঙ্কের সম্পর্ক তো বাঁদরের সঙ্গে। শুনেছি, বাঁদর বাঁশের ওপর ওঠে, আবার গড়িয়ে পড়ে। আর তাই নিয়ে সবাই অঙ্ক কষে।”

মাস্টারমশাই এবার একটু ঘাড়টা এদিক ওদিক ঘুরিয়ে মুরুব্বিচালে জিজ্ঞেস করলেন, “তা হলে বলুন তো অঙ্কটা কাকে নিয়ে? বাঁদরকে নিয়ে? না বাঁশকে নিয়ে?”

বুড়ো জিনজির উত্তর দিল, “আজ্ঞে সেটা তো বলতে পারব না।”

“ফেল।”

“কে? আমি?”

“হ্যাঁ।”

“কেন?”

“হিসেবে গোলমাল। আপনি যেটি শিশুকালে শিখেছেন, সেটি এখন বেমালুম ভুলে গেছেন। বয়েস হলে যা হয়।”

বুড়ো জিনজির ব্যস্ত হয়ে বলল, “আজ্ঞে, আপনি ঠিক ধরেছেন। আমার নাতনিও ঠিক আপনার কথাটিই বলেছে। আজকের কী একটা কথা আমি কিছুতেই মনে করতে পারছি না।”

“চলুন আমার সঙ্গে।”

“কোথায়?”

“আমার কোচিং ক্লাসে।”

“আপনার কোচিং ক্লাসে? কেন?”

“আপনার ভুলে ভরা মাথাটাকে একটু ঘষে-মেজে ঠিক করে দেব।”

“আজ্ঞে, এখন তো সময় হবে না। এখন যে নাতনিটাকে খুঁজতে হবে।”

“ঠিক আছে, খোঁজা হয়ে গেলে আসবেন। সঙ্গে কিছু নিয়ে আসবেন।”

“কী আনতে হবে, আজ্ঞে?”

“আপনি আচ্ছা লোক তো!” মাস্টারমশাই তেড়ে উঠলেন। তারপর বললেন, “টিউশন ফি!” বলে দুমদাম পা ফেলে চলে গেলেন।

বুড়ো জিনজির জুলজুল করে তাকিয়ে ভাবতে লাগল শেষ বয়সে শেষকালে কি মাস্টারমশায়ের পাঠশালায় ভর্তি হতে হবে? চড়... চাপটা? দরকার নেই বাবা।

আর ক’পা হাঁটলেই নদী। দাঁড়িয়ে পড়ল জিনজির। এখন রোদ উঠেছে। নীল আকাশে সাদা-মেঘ, ছেঁড়া-ছেঁড়া। ছায়া পড়েছে জলের ওপর। জলের ঢেউ উত্তাল হয়ে লুটোপুটি খাচ্ছে। অবাক হয়ে দেখছে জিনজির।

“বাবু একটা পাখি নেবেন নাকি?”

কে ডাকল আচমকা? বুড়ো জিনজির ফিরে তাকাল। চোখে পড়ল এক পাখিওলা। তার পেছনে দাঁড়িয়ে, খাঁচাভর্তি পাখি নিয়ে।

এ্যাই, মনে পড়ে গেছে। ঠিক, ঠিক, একদিন টুকরিকে দাদু পাখি দেবে বলেছিল। এ্যাই, বোধহয় আজই দেবার কথা ছিল। মাথাটা কী ত্যাঁদড় দেখেছ। যত বয়েস বাড়ছে মাথাটা ততই যেন ঠুঁটো হচ্ছে। এই বুঝি জিনজির নিজের মাথায় নিজেই মেরে বসে একগাঁট্টা!

না, তা করল না। উলটে হাসিমুখে পাখিওলাকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার কী কী পাখি আছে?”

খাঁচা উঁচিয়ে পাখিওলা বলল, “এই যে দেখছেন, এগুলো মুনিয়া। এইগুলো টুনটুনি। আর এই একটাই বুলবুলি আছে।”

“বেশ, বেশ। বুলবুলিটাই চলবে। কত দাম?”

পাখিওলা উত্তর দিল, “সে আপনি যা ভাল বোঝেন।”

“এই তো মুশকিল করলে। তোমার পাখি। দাম বলবে তুমি। আমি আন্দাজে কী বলব।”

“ঠিক আছে বাবু, পাঁচটা টাকা দিন?”

“খাঁচাসুদ্ধু বলো!”

“খাঁচাসুদ্ধু আজ্ঞে, আর দশ টাকা বেশি দেবেন!”

“তার মানে পনেরো টাকা? কিছু কম করো। বারো টাকা দেব।”

পাখিওলা রাজি হয়ে গেল। ছোট্ট খাঁচায় বুলবুলিটি নিয়ে বুড়ো জিনজির বাড়ি ছুটল। ছুটল তো, কিন্তু নাতনি কি এখনও বাড়ি ফিরেছে! দেখা যাক।

হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই তো। বাড়ির সামনে এসে ওই তো তার গলা শোনা যাচ্ছে। বুড়ো দরজা ঠেলে ঘরে পা দিতেই, মেয়ে একেবারে পড়িমরি করে ছুটে এল। চেঁচিয়ে উঠল, “দাদু এসেছে, দাদু এসেছে! ও মা, দাদুর হাতে কী? খাঁচায় বন্দি পাখি!”

দাদু হাসতে হাসতে বলল, “হুঁ-হুঁ বাব্বা, আমাকে ফেল বলা হচ্ছে! ভেবেছিলি, তোর পাখি চাওয়ার কথাটা আমি ভুলে গেছি! একদম ভুলিনি। মাঝে মাঝে মাথাটা গড়বড় না করলে আমাকে কেউ ঠকাতে পারবে না।”

কিন্তু কই, পাখি দেখে তো টুকরি দু’ হাত তুলে নাচল না! উলটে, থমকে বোবার মতো চেয়ে রইল খাঁচায় বন্দি পাখিটার দিকে। কেন?

অবাক হল বুড়ো জিনজির নাতনির মুখ দেখে। তারপর অস্ফুটস্বরে জিজ্ঞেস করল, “কী রে, পছন্দ হল না! তুই নিবি না?”

“কেন নেব না! দাও!”

দাদু খাঁচাটা তুলে দিল নাতনির হাতে।

টুকরি ছুটল খাঁচাটা নিয়ে বাইরে। খোলা আকাশের নীচে। ডাকল, “দাদু এসো!”

দাদুও পিছু নিল।

ছুটতে ছুটতে যেখানে এসে দাঁড়াল টুকরি, সেখান থেকে খোলা আকাশটা স্পষ্ট দেখা যায়। টুকরি বলল, “দ্যাখো দাদু, আকাশটা এখন কেমন রোদে রোদে ঝলমল করছে! তুমি তো বলো, তোমার বন্ধু আকাশ। আর সেদিন তুমিই বলেছিলে, আকাশের বন্ধু পাখি। তবে, আজ এই খাঁচায় বন্দি পাখিকে ধরে এনে আমায় দিচ্ছ কেন? আমি কবে চাইলুম পাখি, তোমার কাছে?”

“চাসনি? তবে কি আমি আবার ফেল হয়ে গেলুম?”

“ফেল! ফেল!” বলে টুকরি আবার চেঁচিয়ে উঠল। চেঁচাতে চেঁচাতে খাঁচার দরজা খুলে দিল। পাখি দরজা গলে ফুড়ুত করে উড়ে গেল। আকাশে। দাদু একটি কথাও বলতে পারল না।

“দ্যাখো, দ্যাখো দাদু পাখির কী আনন্দ। ওর বুকভর্তি আনন্দ আজ সারা আকাশে ভেসে ভেসে ছড়িয়ে পড়ছে। আজ তোমারও আনন্দের দিন। এই দিনে পাখিকে কষ্ট দিতে আছে!”

“আমার আনন্দ?” দাদু অবাক হল।

“হ্যাঁ, তুমি একদম ভুলে গেছ।” বলে টুকরি দাদুকে জড়িয়ে ধরল। তার ছোট্ট দুটি হাত দিয়ে দাদুকে আদর করে বলল, “তোমার কিছু মনে থাকে না। আজ তোমার জন্মদিন।” বলে হেসে উঠল টুকরি। তার সে কী আনন্দ!

দাদুর যেন চমক ভাঙল। মুখে তার একটিও কথা ফুটল না। শুধু তার নাতনির হাসি-ভরা মুখখানির দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। আর মনে মনে ভাবল, ওই রোদ-ঝলমল আকাশের মত তার নাতনিও খুশিতে ঝলমল করছে। আকাশ যেন নেমে এসেছে মাটিতে। আহা!

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%