একটা গান শেখাবে

শৈলেন ঘোষ

আহা, চারদিক কেমন উছলে উঠেছে রং বাহারে! শরৎ এসেছে যে! ঝকঝকে আকাশ। এখানে মেঘ, ওখানে মেঘ। রেশম-সাদা পাল তুলে ভেসে বেড়াচ্ছে। সায়রে শাপলা-শালুক। মাঠে কাশ-কশাড়। বাতাস ছুঁয়ে দোল খাচ্ছে, আর চোখ টিপছে।

চোখ যে টিপছে, সেটা ওই পুঁচকে হাঁসছানাটা ছাড়া আর কেউ দেখতে পাচ্ছে না। দ্যাখো, হাঁসছানাটাও কেমন সাদা ধবধব করছে। তারও গায়ে কে যেন মুঠোভর্তি সাদা মেঘ ছড়িয়ে দিয়েছে। বাতাসের নরম ছোঁয়া যতই তার গায়ে লাগছে ততই তার মনে হচ্ছে, আহা রে, এই সময় সে যদি একটা গান গাইতে পারত!

হায় রে, গান জানলে তবে তো গাইবে!

হাঁসছানাটা একা, এক্কেবারে একা। তাই সে একা-একাই জলে সাঁতার কাটল। হেলে-দুলে। কেমন থেকে থেকে ডানা ঝাপটাচ্ছে! জল ছিটিয়ে দিচ্ছে কেমন শালুকফুলের গায়ে! কী দুষ্টু দেখেছ! হাসছে আবার!

না, বেশিক্ষণ সে হাসল না। সে সাঁতার কাটছিল সায়রে। বেশিক্ষণ তার সাঁতারও কাটতে ইচ্ছে করল না। তার মনটা বারবার ‘গান গাই, গান গাই’করতে লাগল। তাই সে উঠে পড়ল সায়রের জল থেকে ডাঙায়। ডাঙায় উঠে এক পা গেছে, কি যায়নি, উঠতেই তার সামনে একটা ব্যাঙ! গাল-ফোলা! ডেকে উঠল, “ঘ্যাঙ-ঘ্যাঙ। সাঁতার কাটা হয়ে গেল?” বলে থপাস করে হাঁসছানার সামনে লাফিয়ে পড়ল। যেমন তার গালটি ফোলা, তেমনই তার পেটটিও নাদা।

ব্যাঙটা সামনে লাফিয়ে পড়তেই হাঁসছানাটা ফ্যাঁক-ফ্যাঁক করে হেসে উঠেছে। প্যাঁক-প্যাঁক করে বলল, “ও হরি, তুমি?”

ব্যাঙটা ড্যাবড্যাবে চোখদুটো সিধে হাঁসের চোখের ওপর রেখে ঘঙ-ঘঙ করে বলে উঠল, “আমায় দেখেই তোমার হাসি পেয়ে গেল কেন শুনি? যেখানে সেখানে হাসলেই হল!” বলে ব্যাঙ দিল এক ধমক।

হাঁসছানা বলল, “যাঃ বাব্বা! তোমাকে দেখে হাসব কেন?”

ব্যাঙ তেমনই ধমকানোর স্বরে বলল, “তবে কাকে দেখে হাসা হচ্ছে? এখানে এখন আমি ছাড়া আর কেউ নেই। পাগল ছাড়া কাউকে না-দেখে নিজের মনে কে হাসে?”

হাঁসছানাটা বলল, “কী ফ্যাসাদ! আনন্দ হলে হাসবারও জো নেই?”

“কীসের জন্যে তোমার এত আনন্দ, সেটা শোনা যেতে পারে কি? আর, যখন-তখন আনন্দই বা কেন হবে তারও কী কারণ জানতে পারি?” কড়কে উঠল ব্যাঙটা।

হাঁসছানা বলল, “যখন-তখন কী বলছ? এখনই তো আনন্দ করার সময়। তমি টের পাচ্ছ না, বাতাস কেমন ফুরফুর করে গায়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে? আকাশে কেমন তির-তির করে মেঘ ভাসছে? সায়রে কেমন শাপলা-শালুক চোখ টিপছে? ওহো! আনন্দে আমার গান গাইতে ইচ্ছে করছে!”

“বাহ্! তা গেয়ে ফেলো!” ব্যাঙ ঠেস দিয়ে বলে উঠল। হাঁস বলল, “সেই তো মুশকিল! গান জানলে তবে তো গাইব!”

এবার ব্যাঙটা ফিক করে একটু তাচ্ছিল্যের সুরে হাসল। তারপর বলল, “গানের আবার জানবার কী আছে! গলা ছাড়ো, গেয়ে ফেলো! আমি তো হরদম গাইছি। শুনবি?”

হাঁসছানা খুব ব্যগ্র হয়ে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ গাও না!”

ব্যাঙ দোনোমনো করল না। গাইতে শুরু করে দিল:

গোংরা বাজারে

ঘোংড়া হাংচে

খ্যাংরা-পটিতে

খোংকা নাংচে

হাঁসছানা ব্যাঙের গান শুনে ডানা ছড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “বাহ্‌! বাহ্! কী গান! আমায় শিখিয়ে দেবে?”

ব্যাঙ হাঁসছানার মুখে গানের তারিফ শুনে একেবারে গদগদ। বলল, “তোর তা হলে ভাল লেগেছে?”

“খু-উ-ব।”

ব্যাঙ খুশিতে ডগমগিয়ে জিজ্ঞেস করল, “সুরটা কেমন বল?”

“দা-রু-ণ।” উত্তর দিল হাঁসছানাটা।

“আমার মতো গাইতে পারবি?”

“শিখিয়ে দিলে নিশ্চয়ই পারব।”

ব্যাঙ বলল, “দেখি কেমন পারিস? আমার মতো গা দিকিনি!” বলে ব্যাঙ আবার গেয়ে উঠল:

গোংরা বাংজারে

ঘোংড়া হাংচে—

হাঁসছানা কপাল তুলে গলাটা একটু ঝেড়ে নিল। তারপর গাইল:

প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ-ক, প্যাঁক প্যাঁক—

ব্যাঙ হেসে ফেলল। বলল, “দুর বোকা, অমন নয়। এমন।” বলে আবার গাইল:

গোংরা বাংজারে

ঘোংড়া হাংচে—

হাঁস গাইল:

প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ-ক, প্যাঁকে

প্যাঁক-প্যাঁক-প্যাঁক।

“তোমার মুণ্ডু।” বলে ব্যাঙ খিঁকিয়ে উঠল, “দুর, তোর দ্বারা হবে না। সেই যে প্যাঁ ধরে আছিস, ছাড়বার নাম নেই। ভাগ, তোর গান গেয়ে আর দরকার নেই। তোকে শেখাতে গিয়ে শেষে আমাকেই না প্যাঁ-এ ধরে! আমার গলাটাই না বেসুরো হয়ে যায়! কাট, কাট, কেটে পড়!” বলে ব্যাঙ গর্তে ঢুকে গেল। আর হাঁসছানাটা ভ্যাবাচাকা খেয়ে সেই গর্তের দিকে খানিক তাকাল। তারপর অন্য পথে হাঁটা দিল।

একটু হাঁটতেই হাঁসছানার একটা ছাগলের সঙ্গে দেখা। হাঁসছানাকে একা একা হাঁটতে দেখে ছাগল জিজ্ঞেস করল, “কোথায় যাওয়া হচ্ছে, খোকাবাবুর?”

হাঁস বলল, “যাচ্ছি না, খুঁজছি।”

“কী খুঁজছিস?”

“গান।”

“কেন, গাইবার ইচ্ছে, না শোনবার বাসনা?”

হাঁস উত্তর দিল, “শেখবার সাধ। তুমি জানো?”

ছাগলটা মুরুব্বির মতো মুচকি হাসল। তারপর ঢুলু-ঢুলু চোখে হাঁসছানাটার দিকে তাকাল। মনে হল, ছাগলের মুখ ফসকে এই বুঝি গান বেরিয়ে পড়ে।

ছাগলের মুখখানা দেখতে দেখতে আবার জিজ্ঞেস করল, “তুমি গান জানো?”

ছাগল হঠাৎ বুড়ুত করে হেঁচে দিল। তুড়ুক-তুড়ুক করে পা ঠুকল। তারপর বলল, “গান কী বলছিস, আমি নাচতেও জানি।”

“আমায় শিখিয়ে দেবে?”

“কোনটা শিখবি? নাচটা, না গানটা?”

“গানটা আগে শিখি, তারপর নাচ শিখব।”

“তো নে, গা!” বলে ছাগল গলা কাঁপিয়ে গেয়ে উঠল:

ব্যা-এ্যা-এ্যা-এ্যা বুড়ুত-বুড়ুত

বু-উ-উ-উ ফুড়ুত ফুড়ুত।

হাঁসছানা গেয়ে উঠল:

প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁক, প্যাঁক-প্যাঁক প্যাঁক-প্যাঁক,

ফ্যাঁ এ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁক, ফ্যাঁক-ফ্যাঁক, ফ্যাঁক-ফ্যাঁক।

ছাগল ছাগুলে গলায় ছ্যা-ছ্যা করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে বলল, “দুর ল্যাবান্ডিস, তোর গলায় সুড়-সুড়িই নেই। প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁক, প্যাঁক-প্যাঁক—এটা কি একটা গান হল?”

হাঁসছানা বলল, “তোমার ব্যা-এ্যা-এ্যা-এ্যা ডাকটা যদি গান হতে পারে, তবে আমার প্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁকটা কেন গান হবে না?”

ছাগল রাগল। বলল, “এই শোন, তক্ক-বিতক্কে কাজ নেই। কোনটা গান, আর কোনটা গান নয় সে বেত্তান্ত তোকে শোনাতে হবে না। শিখতে যদি চাস গলা সেধে আসিস। তখন দেখা যাবে। গান গাওয়াটা অত সোজা নয় যে, বললেই গলা গেয়ে উঠবে। অনেক ওঠ-বোস করতে হয়।” বলে ছাগল মুখ ঘুরিয়ে নিল।

অগত্যা হাঁসছানা আবার হাঁটা দিল। হাঁটতে হাঁটতে এক গোবাবুর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। গাছের ছায়ায় বসে বসে জাবর কাটছে। হাঁসছানাকে অমন দুঃখী মনে হাঁটতে দেখে হেঁকে উঠল, “কী-রে ফটকে, মুখখানা অমন চটকে কোথায় কাটচ্ছিস?”

হাঁসছানা থমকে দাঁড়াল গোবাবুর হাঁক শুনে।

তারপর বলল, “ভুল বললে। আমার নাম তো ফটকে নয়।”

“তবে?”

“আমি প্যাঁক-প্যাঁক।”

গোবাবু গম্ভীর হয়ে গেল হাঁসছানার কথা শুনে। তিরিক্ষি মেজাজে বলল, “এই বয়সে খুব ট্যাঁক-ট্যাঁক করে কথা বলতে শিখেছিস তো!”

“আবার ভুল বললে। আমি ট্যাঁক-ট্যাঁক করে বললুম কই? আমি তো প্যাঁক-প্যাঁক করে বললুম।”

এবার গোবাবু খুবই রাগান্বিত হয়ে উত্তর দিল, “তোর সাহস তো কম নয়! আমার প্রত্যেকটা কথার তুই ভুল ধরিস! প্যাঁকে আর ট্যাঁকে তুই তফাত দেখাস!”

হাঁসছানা উত্তর দিল, “যাঃ বাব্বা, ভুল আবার ধরলুম কোথায়?”

“ভুল ধরিসনি? তোকে আমি ‘ফটকে’ বলে ডাকলুম। তুই বললি ভুল বললে। বললুম, ‘ট্যাঁক-ট্যাঁক’ করে কথা বলছিস। উত্তর দিলি, ট্যাঁক-ট্যাঁক করে নয়, প্যাঁক-প্যাঁক করে বলেছিস। একে ভুল ধরা বলে না তো, কী ধরা বলে শুনি?”

হাঁস বলল, “যাক গে, যাক গে, যা হবার হয়ে গেছে। আমিও ছেলেমানুষ, তুমিও বুড়ো মানুষ। কী বলতে কী—”

কথা শেষ করতে দিল না গোবাবু। রেগে টং। গ্যাঁক-গ্যাঁক করে ধমকে উঠল, “তোর আস্পর্দ্দা তো কম নয়! তুই আমাকে বুড়ো বলিস!” বলতে বলতে গোবাবু নিজের পেটে নিজেই চাপ মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল। ধড়মড় করে তেড়ে গেল হাঁসছানাটার দিকে, “বল, কোনখানটায় আমি বুড়ো! বল, কোনখানটায় আমি মানুষ! তুই গোরুর সঙ্গে মানুষের তুলনা করিস! জানিস শিবের বাহন গোরু!”

“শিবের বাহন তো গোরু নয়!—যাঁড়।”

“ত্যাড়!” এবার ভীষণ খেপে গেল গোবাবু। “মুখে মুখে তক্ক করা! তোর ভারী বিচ্ছিরি স্বভাব তো! গোরু আর ষাঁড়ে তফাত কীরে? আমিও জাবর কাটি, ষাঁড়ও কাটে। আমিও ল্যাজ তুলে মাছি তাড়াই, ষাঁড়ও তাই করে। আমি নিরিমিষ্যি খাই, ষাঁড়ও তা-ই খায়। আমিও গান গাই, ষাঁড়ও—”

গোবাবুর কথা শেষ করতে দিল না হাঁসছানা। এক্কেবারে গোবাবুর মুখের সামনে হামলে পড়ে জিজ্ঞেস করল, “তুমি পর্যন্ত গান জানো—?”

গোবাবু বেঁকা-চোখে তাকাল হাঁসছানাটার দিকে। জিজ্ঞেস করল, “আমি পর্যন্ত মানে?”

হাঁসছানাটা একটুও ভয় পেল না। সটান উত্তর দিল, “ব্যাঙ জানে, ছাগল জানে, তুমিও জানো। অথচ আমি জানি না।”

হাঁসছানার কথা শুনে ভারী গম্ভীর হয়ে গেল গোবাবু। জিজ্ঞেস করল, “ব্যাঙের গান তুই শুনেছিস?”

“নিশ্চয়ই?”

“ছাগলের গান শুনেছিস?”

“না শুনে বলছি!”

“তবে আমার গানও শোন।”

হাম্বা হাম্বা—

গোলমাল থামবা।

গান গাই হাঁকড়ে

জান যায় যাক রে!

“বল কেমন শুনলি? বল কার গান ভাল—ব্যাঙের না ছাগলের, না আমার?”

হাঁসছানা উত্তর দেবে কী, গোবাবুর হেঁড়ে গলার গান শুনে নিজেরই কানে তালা লেগে গেছে। যাই হোক, দু’-চারবার মাথা ঝাড়তেই হাঁসছানার কানের তালা অবশ্য খুলে গেল। কিন্তু মাথার ভেতরটা তখনও বোঁ-বোঁ করছে। ইতিমধ্যে গোবাবু আবার জিজ্ঞেস করল, “কীরে, বলছিস না, কার গান ভাল?”

হাঁসছানা ভাবল, মাথার বোঁ-বোঁ মাথায় থাকা। দরকার নেই কথা বাড়িয়ে। মানে মানে উত্তর দিয়ে কেটে পড়তে পারলে বাঁচে। তাই সে বলল, “আসলে কী জানো—ব্যাঙ দু’-দু’বার গান শুনিয়েছে। ছাগলও দু’-দু’বার গেয়েছে। কিন্তু তুমি একবার শোনালে। তাতে ঠিক ঠাওর করা গেল না। আজ আমি যাই। পরে আর একদিন তোমার গান ভাল করে শুনে বলব।”

গোবাবু ল্যাজটা ওপর দিকে তুলে হাঁসছানার পথ আটকাল। হাঁকার দিল, “তোকে আজই বলতে হবে। ওরা যদি দু’বার শুনিয়ে থাকে তোকে আমি পাঁচবার শোনাব। তাতেও যদি না হয়, একশোবার শোনাব। না বললে তোকে কিছুতেই ছাড়ব না।” বলে গোবাবু গাইতে শুরু করে দিল:

হাম্বা হাম্বা

গোলমাল থামবা

গান গাই হাঁকড়ে

জান যায় যাক রে।

গাইতে গাইতে গোবাবু তার ল্যাজটি উচ্চে তুলে সুরের সঙ্গে ঢেউ খেলাতে লাগল। উফ, গান বটে! একবার নয়, দু’বার নয়। দম দেওয়া কলের মতো গোবাবু গেয়েই চলল। হাঁসছানাটা “থামো, থামো,” করে চিৎকার জুড়েও তাকে থামাতে পারল না। হাঁসছানার কান ভোঁ-ভোঁ করতে লাগল। মাথা বোঁ-বোঁ করতে লাগল। সে আর থাকতে পারল না। অসহ্য হয়ে সে বলেই ফেলল, “তোমার গাঁক-গাঁকানি কি থামাবে? সাধ করে তোমায় কি গোরু বলে!”

ব্যাস! লেগে গেল লাগ-বঙা-বঙ! গোবাবুর গান মাথায় উঠল। চার পা তুলে তেড়ে এল হাঁসছানাটার দিকে। গাঁকিয়ে উঠল, “তুই আমায় গোরু বলিস! দাঁড়া, তোর আম্পর্দ্দা ঘোচাচ্ছি!” বলে শিং নাড়িয়ে এই বুঝি দেয় হাঁসের পেটে ঢুকিয়ে! এই বুঝি ফাটল হাঁসের পেট।

হাঁসছানা মার ছুট। গোরুও করল তাড়া।

ছুটলে কী-আর হাঁসছানা গোরুর সঙ্গে পারে!

ছুটোছুটি করতে করতে হাঁসছানা কখনও গোরুর সামনে যায়। কখনও তার পেটের তলায় সেঁধিয়ে পড়ে। কখনও পেছনে ছোটে। কখনও বাঁচতে বাঁচতে মরে, কখনও মরতে মরতে বাঁচে। এ যেন গোরুর সঙ্গে হাঁসের কিতকিত খেলা।

এমনই করতে করতে কখন যে হাঁসছানা সেই সায়রের সামনে চলে এল, নিজেও খেয়াল করতে পারল না। তোমার গান মাথায় থাক। ঝপাং করে সায়রের জলে দিল লাফ! তরতর করে সাঁতার কেটে, এপার থেকে সিধে মাঝ-সায়রে। আর ধরতে হচ্ছে না। যাঃ! হাঁস-ফসকে গোরুটা চোখ টসকে দাঁড়িয়ে পড়ল সায়রের পাড়ে। কী ঠকান ঠকল! তারপরও হাঁসটা যখন মাঝ-সায়রে সাঁতার কাটতে কাটতে ভেংচি কেটে বলল, “এই গোরু শেওলা খাবি?” তখন দেখতে যদি গোরুর মুখখানা! যেন হাঁদারাম ধুমসো।

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%