শৈলেন ঘোষ

আমার নাম ছক্কা। বলো তো আমি কে। সত্যি কথা বলা বড়ই শক্ত। আমার নাম শুনে কেউ যদি ঘুণাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারে আমি একটি কাকের ছানা, তবে তারিফ করতেই হয়, হ্যাঁ, আমি তা-ই। একটি ছানা-কাক। একটি কাক যেমন হয়, এক্কেবারে তেমন, কেলেকিষ্টি বিচ্ছিরি।
আসলে কাকের কথা উঠলেই কে না বলে আমরা পাজির পা-ঝাড়া। আদতে আমরা পা-ঝাড়া না ডানা-ঝাড়া, সে নিয়ে কেউ কেউ তক্ক বিতক্কও করতে পারে। চাই কী, হাতাহাতিও লেগে যেতে পারে। কিন্তু যেটা সত্যি সেটা নিয়ে তো ঝুটমুট কূটকচালি করার কোনও মানে হয় না। এ তো হাজারবার সত্যি, আমাদের দেখলে গা ঘিনঘিনিয়ে ওঠে মানুষের। কিন্তু আমরা যদি ময়না, মুনিয়া হতুম তা হলে রক্ষে ছিল না। আদরের ঠেলায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। অথচ আমাদের গায়ে যদি কারও গা ঠেকে যায় আর দেখতে— ছোটো গঙ্গায়। তবে বাপু, আমাদের গায়ে গা ঠেকানো অত সহজ নয়, ঠেকাবার আগেই ফুড়ুৎ!
মাঝে মাঝে মানুষের পুঁচকেগুলোর সঙ্গে রগড় করে, ভড়কি দিয়ে ভারী মজা লাগে। ওরা যখন ধরো দুধ খাচ্ছে, কি গজা খাচ্ছে, আমরাও তাল বুঝে যেই ছোঁ দিতে যাই তখন তাদের মুখে ‘হুস-স-স, হুস-স’ শুনে হেসে মরে যাই!
এ্যাই, কথাটা হল হাসি। নিশ্চয়ই কেউ কেউ বলতে পারে, “বোকারাম, কাক আবার হাসে না কি!”
তখন আমি নিশ্চয়ই বলব, হেঁ, বোকারাম, একশো বার হাসে। হাসিটা কি মানুষের একার সম্পত্তি! কে মাথার দিব্যি দিয়ে বলেছে পৃথিবীর মাটিতে মানুষ একা হাসির ছররা ছোটাবে!
আরে বাবা আমরা তো তুচ্ছ কাক। অমন যে ভয়ংকর বাঘ, অমন যাদের নোড়ার মতো দাঁতের ছিরি, তারাও কি তা বলে ছেলেমেয়েদের যখন আদর করে, হাসে না? আলবত হাসে! তবে হ্যাঁ, বলতে পারো তারা মানুষের মতো ‘হা-হা, হো-হো’ করে হাসে না। কিন্তু যাই বলো বাপু, যেখানে-সেখানে ‘হা-হা হো-হো’ করে হাসাটাকেও পাঁচজনে ছ্যাঁচড়ামো বলতে পারে। তার চেয়ে মুচকি হাসা অনেক ভদ্র। অবশ্য বলতে পারো বাঘের মুখখানা এমন যে, কোনটা তার মুচকি হাসি আর কোনটা যে তার মুখটা রাগি, কার সাধ্যি টের পায়!
যাক গে, যাক গে, বাঘ নিয়ে তো আর আমাদের কথা নয়, কথা হচ্ছে আমি ছক্কা, আমাকে নিয়ে।
তো একবার হল কী একটা দেড় হাতটাক বড় এমন একটা বেঁটকুলে ছেলে আমার পেছনে পড়ল। পড়ল মানে, আমাকে দ্যাখে আর ইট ছোড়ে। আমি ফুড়ুত করে উড়ে পাঁচিলে বসি, সেও আমাকে টিপ করে পাথর ছোড়ে। আমি যদি ফুড়ুত, উড়ে আলসেতে বসি, তিনিও ‘সাঁই-ই-ই’ উড়িয়ে দেন পাথর।
আমি তো দেখলুম, ছেলেটা তো মোটেই সুবিধের নয়। এ তো দেখি বিচ্ছুর একখানা। না বাবা, এর সামনে না থাকাই ভাল। দেহটা আস্ত থাকতে থাকতে কেটে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বলা যায় না একবার যদি আলটপকা ডানায় একখানি লাগে তবে আর মা বলারও সুযোগ থাকবে না। পৃথিবীতে কোন মুখ্যু এমন আছে যে ইটের সামনে মাথা পেতে দেয়।
সুতরাং আমি সেখান থেকে কেটে পড়ার জন্য যেই হাওয়াতে ডানা মেলেছি, ওমা! সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটাও মাটিতে পাঁই পাঁই করে ছুট দিয়েছে। এ্যায় দ্যাখো! আমায় প্রাণে না শেষ করে দেয়। তবে বেঁটকুলকে কেমন করে যে শায়েস্তা করতে হয় তা আমি জানি। আমি চু-কিত-কিত খেলাটা কোনওদিন খেলিনি বটে, কিন্তু গাছের ডালে বসে বসে দেখেছি তো! ছেলেরা মাঠে খেলছে। দেখেছি খেলার আসল কায়দাটা হল ধোঁকা দিয়ে প্যাঁচ মারা। আর বলব কী ঠিক এই সময়েই প্যাঁচের কায়দাটা কে যে আমার মাথায় খোঁচা মেরে মনে করিয়ে দিল! আর দেখতে! আমি শুরু করে দিলুম ছেলেটার সঙ্গে ‘কিত-কিত’ খেলা। আমি শূন্যে উড়ে উড়ে প্যাঁচ মারি, মানে একবার এদিকে যাই, একবার ওদিকে উড়ি, আর তাই দেখে ছেলেটাও মাটিতে ছুটতে ছুটতে একবার এদিকে ইট ছোড়ে, একবার সেদিকে।
আরে বাবা অতই সোজা। এ কি যুদ্ধের কামান ছোড়া যে টিপ করে ছুড়লেই ‘গুড়ুম-ম-ম’! লাগল উড়ন্ত বিমানে কামানের গোলা। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল বিমান। জ্বলন্ত আগুনের টুকরোগুলো ছিটকে পড়ল এদিকে ওদিকে। এক্ষেত্রে সেটি হবার জো নেই। আমার নাম ছক্কা। কাকের ছানা পাক্কা! আমাকে টেক্কা দেওয়া অত সহজ নয়। বেশি বাড় বাড়লেই নিজেই অক্কা পাবে।
এই যাঃ! কী হল রে ভাই?
হবে আর কী! আন্দাজ করতে পারিনি, মেরেছি গিয়ে একটা জামগাছে ধাক্কা! ‘উহু-হু’, একটা শক্ত ডালে মাথাটা ঠুকেছে, বড্ড লেগেছে। উফ্! খুব রক্ষে যে তেমন ফাটাফাটি কাণ্ড কিছু হয়নি। বেঁচে গেছি!
দুর, একে বাঁচা বলে! আমি হেন কাকের ছানা, আমি কি না কানামাছির মতো অসাবধানে গাছে ধাক্কা মারব! ঠিক আছে, মেরেছি, তাতেও ক্ষতি নেই। মেরেই আমি ঝিঙের মতো ঝুলব কেন? ছি-ছি, গাছের ডালে যে একটা শক্ত মতো চেন আটকে দুলছে, সেটা পর্যন্ত নজরে পড়ল না। পড়বি তো পড় চেনটার ওপর। সব্বনাশ! আমার পা-টা গেল পেঁচিয়ে। আর আমি ঝিঙের মতো মুন্ডু দুলিয়ে ঝুলছি।
ইস! কী লজ্জার কথা।
আরে বাবা ঝোলাটা কী শুধু লজ্জার কথা! দেখতে পাচ্ছ না, সেই হুজুগে ছেলেটা আমার দুর্দশা দেখে কেমন হা-হা করে দাঁত ছরকুট্টে হাসছে, আর নাচছে। দেখে এমন রাগ ধরছে না! মনে হচ্ছে দিই ঠকাস করে ঠুকরে মাথাটা ফুটো করে!
এই রে বাবা! কম্মসারা!
কেন কী হল?
কী হল মানে? তোমরা কি চোখে ঠুলি পরে বসে আছ? কথা শুনলে গা কষ কষ করে ওঠে! দেখতে পাচ্ছ না, ছেলেটা গাছের ডাল ধরে উঠে আসছে। এবার কী করি আমি। উড়ে যে পালাব সে গুড়ে বালি। চেনে এমন জড়িয়েছি পা, পার পায় কার সাধ্যি। অগত্যা ঝটপটানি ছাড়া করারই বা কী আছে।
তাই করি! প্রাণপণে ডাল ঝাপটাই, আর পাতায় গা ঘষটাই!
ঘষটাব আর কতক্ষণ। মহাপুরুষ যে একেবারে আমার চোখের সামনে হাজির। হাত বাড়ালেই খপাত।
আমি রেডি। ঠিকই করে ফেলেছি ধরলেই মারব সপাত, ডানার ঝাপটা!
কিন্তু আশ্চর্য, মারতে হল না। কেন না, সে ধরল না আমায় খপাত করে। আমি স্পষ্ট দেখলুম তার চোখদুটো কেমন লোভে জ্বলজ্বল করে উঠল। সে যেন ঢক করে একটা ঢোঁক গিলে ফেলল। আমার জন্যে তার যে আর কোনও মাথাব্যথা আছে তা মোটেই মনে হল না। সে জ্বলজ্বলে চোখে দেখতে দেখতে আমার পায়ে জড়ানো চেনটাতে হাত দিয়েই বলে উঠল, “আরি ব্যাস, এ যে সোনার চেন রে!” বলে আমার ঠ্যাংটা ঝটাং করে চেনটা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দিল আমায় উড়িয়ে। আমি পড়িমরি করে ডানায় ঝাপটা দিয়ে আকাশে হুস।
বেশিক্ষণ নয়, তিন বার কি চার বার শূন্যে চরকি খেয়ে তারপর এসে বসে পড়েছি একটা ধসে পড়া বাড়ির ছাদে। তখনও হাঁপাচ্ছি। কেন না, আমি যে বেঁচে গেছি যেন বিশ্বাস করতে পারছি না তখনও। যতই হোক মানুষের হাত থেকে বেঁচে ফেরা চাট্টিখানি কথা তো নয়।
সে নয় ঠিক আছে, আমি না-হয় বাঁচলুম এখন, এবার ছেলেটার মরণ-বাঁচনের কথা তো আমায় একটু ভাবতে হয়। যতই হোক একটা সোনার চেন সে হাতিয়েছে। অবিশ্যি চোরের মতো সে হাতায়নি। দস্তুরমতো ভাগ্যের জোরে সে পেয়ে গেছে। এবার এই সোনা দিয়ে তিনি কী কম্ম করেন, সেটা তো এখন দেখা দরকার। যতই হোক আমারও তো মনটা এখন একটু ইয়ে ইয়ে করছে। আমার মনে হচ্ছে অমন একটা দামি জিনিস হাতে পেয়েও মাঠে মারা গেল।

এ্যাই দ্যাখো, একটা ভুল বলে বসলুম। হাতে পেলুম কই? জড়ানো তো আমার পায়ে। কাজেই বলতে পারো, হাতে না পেয়ে পা-এ পেয়েও ফসকে গেল। অবশ্য সোনা নিয়ে আমি কিই বা করতে পারতুম? কাকের কাছে সোনাও যা, লোহার দানাও তা। তারচে বরং এক টুকরো মুরগির ঠ্যাং অনেক বেশি কাজের। আরে বাবা, সোনা তো আর ঠুকরে ঠুকরে গেলা যায় না। কিন্তু কাঁচাপাকা মুরগির ঠ্যাং? দারুণ!
এই দ্যাখো, দারুণ বলতেই চোখের সামনে একটা দারুণ ঘটনা ঘটে গেল। ওই সেই বেঁটকুল ছেলেটা। এতক্ষণ ঠায় তার দিকে আমি নজর রেখেছিলুম। দেখি ছেলেটা কাউকে কিছু না বলে চটপট সোনার চেনটা পকেটে পুরে ফেলল। বুঝতে পারলুম কাকের কাছে যা অখাদ্য, ছেলেটার গেছে তা ই মহার্ঘ।
কিন্তু সোনার চেনটা ছেলেটা অমন চোরের মতো পকেটে পুরল কেন! নিশ্চয়ই এই দামি চেনটা কারও হারিয়ে গেছে। যার হারিয়েছে সে বেচারা হয়তো আঁতিপাতি করে চতুর্দিকে হাতড়ে বেড়াচ্ছে, তুমি যখন পেয়েছ তখন একবার হাঁকাহাঁকি করে জিজ্ঞেস করবে তো কার সোনার চেন সেটা? সে সব চুলোয় যাক, উলটে কেউ না দেখে ফেলে এই রকম হাবভাবিয়ে সেখান থেকে কেটে পড়ছ। ঠিক আছে যাও! দেখি তোমার দৌড় কত। আমিও তোমায় ছাড়ছি না, ভেবেছিলুম তুমি চোর নও! এখন দেখছি...
সত্যি কথাই, ছেলেটা মাটিতে হাঁটছে, আমিও লুকিয়ে ছাপিয়ে আকাশে উড়ছি, তার পিছু নিচ্ছি।
দেখতে দেখতে ছেলেটা বাজারে এল। একটা দোকানে ঢুকল। মনে হল দোকানটা সোনা-চাঁদির। আমিও সেই সোনা-চাঁদির দোকানের সামনে বসে রইলুম ঘাপটি মেরে একটা গাছের ডালে। দেখা যাক কী হয়। অবশ্য বাইরের গাছের ডালে বসে ভেতরের ঘরে কী হচ্ছে সে তো আর দেখা যায় না। তবু এটা তো বুঝতে পারছি সোনার চেন নিয়ে সোনা-চাঁদির দোকানে ঢোকার মানেটা কী! সোনার চেনটি দোকানে বেচে পকেট ভর্তি করার মতলব। ছেলেটা সত্যি একদম আস্ত চোর। ইস, আমি কাক না হয়ে যদি মানুষ হতুম, তা হলে দিতুম হাটে হাঁড়ি ভেঙে।
হঠাৎ এ কী দেখি! কী দেখি? এ কী রে ভাই, দোকানদার ছেলেটাকে অমন কান ধরে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে আসছে কেন? ওমা, গালে একখানি অমন সপাটে থাপ্পড় মেরে টেনে বার করে দিল কেন? ঠেলা মারতেই ছেলেটা ‘অঁক’ করে ঢোঁক গিলে মাটিতে ছিটকে পড়ল। পড়েই ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়ায়। তারপর এদিকে ওদিকে কোনও দিকে না তাকিয়ে দিল সিধে লম্বা-ই পাঁই পাঁই।
সোনার দোকানের সামনে এমন কাণ্ড! কাজেই চোখের পলকে লোক জড়ো হয়ে গেল! “কী হল মশাই? কী হল?” এদিক ওদিক থেকে মানুষের জিজ্ঞাসা!
“কী আর হবে?” দোকানদার হাতের চেনটা সকলকে দেখায়, “আরে মশাই, এই পেতলের চেনটা কোথা থেকে কুড়িয়ে এনে ওই চোর ছেলেটা বলে এটা সোনা! বিক্রি করবে। দেখুন মশাই? ওইটুকু ছেলে অথচ কী ধড়িবাজ!” বলে দোকানদার সেই চেনটা ধরে এমন এক টান মারল যে ফট করে সেটা দু’-টুকরো হয়ে গেল। রাস্তার সামনে ছিল জঞ্জালের টিন, ছুড়ে ফেলে দিল তার ভেতরে।
যাঃ সব শেষ।
শেষ মানে, দোকানি আবার দোকানের কাজে বসল।
জমায়েত লোকেরা একে একে ছেলেটাকে দুষতে দুষতে যে যার পথে হাঁটল।
পলকের মধ্যে হট্টগোল শেষ হয়ে গেল।
আমি কিন্তু নট নড়ন চড়ন। গাছের ডালে যেমন চুপটি করে বসেছিলুম তেমনই বসে রইলুম। তারপর যখন দেখলুম আর হল্লা-গুল্লা নেই, ফুড়ুত করে নেমে এলুম গাছের ডাল থেকে। জঞ্জালের টিনের খাঁজে এসে বসলুম। নজর করতে লাগলুম টিনের ভেতরটায়। দেখতে পেলুম দু’-টুকরো সেই পেতলের চেন। ছোঁ মেরে তুলে নিলুম দুটোই। তারপর উড়তে উড়তে গিয়ে বসলুম গাছের ডালে। বসে বসে টুকরো দুটো ভাল করে পরখ করতে লাগলুম। আসলে আমার পায়ে কেমন করে চেনটা জড়িয়ে গেছিল তখন, সেইটাই বোঝবার চেষ্টা করছিলুম।
কিন্তু ভাল করে বোঝাবার জন্যে আমায় বেশিক্ষণ চেষ্টা করতে হল না। হঠাৎ আমার নজর পড়ল চেনের ফাঁকগুলো যেমন হওয়া উচিত তার চেয়ে যেন একটু বেশি ফাঁক। এই ফাঁকেই যে আমার পা আটকে ছিল, এবার আমি বুঝতে পারি।
সুতরাং আমার মাথায় চট করে একটা বুদ্ধি এসে গেল। আমি চেনের টুকরো দুটোর একটি একটি ফাঁকে দুটো পা গলিয়ে একবার গাছের ডালে উঠি, একবার নামি। একবার পাতার আড়ালে লুকোই, আবার বেরিয়ে আসি। এমনই ক’বার করার পরে আমার বুকের ভেতরটা কেমন তোলপাড় করতে লাগল আনন্দে। আনন্দ হলে কে আর স্থির থাকতে পারে। বিশেষ করে আমার মতো কাচ্চা-বাচ্চা। তারা দু’পা তুলে নাচবেই। আমিও শুরু করে দিলুম নাচতে। গাছের ডালে আমার সে কী নাচ! কী নাচ!
ওমা! হঠাৎ শুনি কী, আমার পায়ে গলানো সেই পেতলের চেনদুটো থেকেও তখন শব্দ উঠছে—ঝুম্-ঝুম্, যেন ঘুঙুর বাজছে। আমি একদম ‘থ’ বনে গেলুম।
এমনও হয়!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন