ছি ছি, এ কী কাণ্ড

শৈলেন ঘোষ

ইতিমিচিসাহেব শেষপর্যন্ত ঠিক করে ফেললেন, তিনি পদ্য লিখবেন। কেন যে তাঁর মাথায় এমন একটা অদ্ভুতুড়ে ভাবনা বাসা বাধল, সে-কথা আমাদের জানার কথা নয়। আসলে জানা যায়ও না। কেন না, কার মনে কোন ইচ্ছেটি গোপনে খচখচ করছে, সেটি যাঁর মন তিনি ছাড়া আর জানবেটা কে? ধরো, ইতিমিচিসাহেবের ইচ্ছে হল, তিনি শূন্যে একশোটা ডিগবাজি খাবেন। তা খান, একশোটার জায়গায় তিনি পাঁচশোটা খান, কে বারণ করছে! কিন্তু তিনি যে শূন্যে ডিগবাজি খাবেন, সে খবরটা তিনি যদি পাঁচকানে পাচার না করেন, তবে জানছেটা কে! অবশ্য তোমরা জিজ্ঞেস করতেই পারো, তাঁর যে পদ্য লেখার জন্যে মন অস্থির হচ্ছে, এ খবরটা তুমি কেমন করে জানলে বাপু! তিনি তো ঢাক পিটিয়ে ঢ্যাঁড়া দেননি।

যাচ্চলে, এ-জানাটা এমন কী শক্ত জানা! তিনদিন তিনরাত্তির মানুষটার চোখে ঘুম নেই। তেরাত্তির ঠায় তিনি চাঁদের আলো গায়ে মেখে চেয়ে আছেন আকাশে। একটা একটা রাত কাটছে, চাঁদ ছোট হচ্ছে। চাঁদ যত ছোট হচ্ছে তিনি ততই খেপে উঠছেন। কেন না, কে যেন তাঁকে বলেছে: গায়ে মেখে চাঁদের আলো/পদ্য লেখো জমবে ভাল।

ভাল রে ভাল! তা চাঁদ তো আর একনাগাড়ে তিনশো পঁয়ষট্টি দিন পূর্ণিমার খই ফুটিয়ে আলো ছড়ায় না। তোমার মাথায় পদ্য না এলে চাঁদের কী দোষ? চাঁদের ওপর তোমার রাগ করাটা খুবই অন্যায্য কাজ। রাগ যদি করতেই হয় সে তোমার মাথার ওপর করো। সেখানে তো আর কেউ নাক গলাতে যাচ্ছে না!

হ্যাঁ, ওই নাকের কথা যখন উঠল, তখন নাকের কথাই বলি। আমাদের দেহের মাথার মতো নাকটিও কম যান না। নাকের কাজ অবিশ্যি বাতাসে নিশ্বাস টেনে প্রাণ বাঁচানো। কিন্তু শ্বাস টানতে গিয়ে কতরকমের গন্ধ যে বাতাসে মাখামাখি হয়ে নাকে ঢোকে, সে আর কে না জানে! কখনও পাঁশুটে গন্ধ, কখনও আঁশুটে গন্ধ। কখনও সোঁদাটে গন্ধ। আবার কখনও বেগুনি, আলুর চপ, ঝালমুড়ি...। তবে ফুলমুকুলের গন্ধও যে বাতাসে ভর দিয়ে নাকে ঢোকে, এটাও তো স্বীকার করতে হবে! আহা, শরৎকালে শিউলি ফুলের গন্ধ, বলো!

যাক গে, ওসব গন্ধ নিয়ে আমাদের অত কথা চালাচালির কোনও দরকার নেই।

কে বলল নেই? আছে, নিশ্চয়ই দুরকার আছে। বাতাস যখন চাঁদের আলোয় সাঁতার কাটতে কাটতে নাক দিয়ে ঢুকে মন মাতোয়ারা করে, তখন কি মনে হয় না, বাতাসে পদ্য-পদ্য গন্ধ ভাসছে? সে-বাতাস বুকের মধ্যে ঢুকলে কার না বুক হু-হু করে ওঠে? কার না মনে হয়, দু’লাইন পদ্য লিখে এক গেলাস ঠান্ডা জল খাই?

যাকগে, ছেড়ে দাও! দরকার নেই অত কথার! কারণ, ইতিমিচিসাহেবের চাঁদের আলো গায়ে মেখে যেমন তাঁর এক লাইন পদ্য মনে আসেনি, তেমনই বাতাসেও পদ্য-পদ্য গন্ধের ছিটেফোঁটা ভেসে এসে তাঁর নাকে ঢোকেনি। কাজেই, আকাশ থেকে চাঁদ বিদায় নিতেই অন্ধকার হয়ে গেল চরাচর। তবে অবিশ্যি তারা ফুটফুট আকাশটাও মন্দ নয়। তাই তিনি অন্ধকারে বসে বসেই তারা গুনতে লাগলেন। এই তারা গোনার কাজটা যে তিনি এই প্রথম করলেন, তা যেন ভেবো না। ইতিমিচিসাহেবের যখন বয়েস হয়নি, মানে, যখন তিনি ছোট্ট ছিলেন, তখনও তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা গুনতেন। ধুত! পাগল ছাড়া তারা গোনার কথা কে ভাবে! গোনা যায়? গুনতে গুনতে যখন তিনি জেরবার হয়ে যেতেন, তখনই তাঁর নাকে খিদে খিদে গন্ধ ভেসে আসত। তখন তাঁর মনে হত, তারা গোনার চেয়ে পেটে কিছু দেওয়া ভাল। ভাল বলেই তখনই তিনি জামার পকেটে হাত পুরে একমুঠো নকুলদানা বার করে চিবোতে বসতেন। তখন তো আর এখনকার মতো দামি দামি চকোলেট, টফি, কিংবা আলুভাজার প্যাকেট পাওয়া যেত না। পাওয়া যেত যা, তাও কেনার পয়সা জুটত না ইতিমিচিসাহেবের। সুতরাং ভাল মামার চেয়ে কালো মামাই ভাল। প্যাকেটের আলুভাজার বদলে নকুলদানাই ফার্স্ট কেলাস!

কিন্তু সে না হয় তাঁর ছেলেবেলার কথা। কিন্তু এখন এই যে তাঁর মাঝ-বয়সের কথা নিয়ে এত কথার ফুলঝুরি, তার কী হবে?

তাঁর কোন কথা নিয়ে তোমরা ফুলঝুরির কথা তুলছ?

যাঃ বাবা! তুমিও ভুলে বসলে? বলছি, ইতিমিচিসাহেবের পদ্য লেখার কথা।

ও, হ্যাঁ-হ্যাঁ! কিন্তু এখন এই অন্ধকার রাতে কি পদ্য লেখার কথা ভাবা যায়! অন্ধকারে আকাশের দিকে তাকিয়ে মানুষ কি একা একা বসে থাকতে পারে? অগত্যা ইতিমিচিসাহেব ঘরে ঢুকে পড়লেন। হয়তো মনে মনে ভাবলেন, চাঁদ তো আর পালাতে পারছে না। ক’দিন পরে আবার পূর্ণ চাঁদের উদয় হবে। তখন তিনি একটা হেস্তনেস্ত না করে ছাড়ছেন না। কাজেই, এখন তাঁর চোখে যদি ঘুমের আবেশ ছুঁই ছুঁই করে, তবে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। তার ওপর তো রাতও কম হল না। কাজেই তিনি শুয়ে পড়লেন।

কই ঘুম! ঠিক কথা, সাহেবের দু’-চারবার হাই ওঠেনি তেমন নয়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে দু’-চারবার তিনি চরকিও খেয়েছেন। কিন্তু মাথায় যখন পদ্যের চরকা চরকি খাচ্ছে, তখন এই জোড়া চোখে ঘুম আসা কি অতই সোজা! তিনি বিছানায় শুয়ে যতবারই ভাবেন এই বুঝি ঘুম এল, অমনই বুকের ধুকধুকিটা ধড়ফড় করে ওঠে। তিনি পাশ ফেরেন ছটফটিয়ে। পা ছোড়েন, হাত দিয়ে লন্ডভন্ড করে দেন বিছানাটা। তা, সাহেবকে দোষ দিয়ে তো কোনও লাভ নেই। কী করবে মানুষটা বলতে পারো? মাথার ভেতর পদ্য যদি সারাক্ষণ কুর্দন করে, তবে মানুষের ঘুম পায়? কেন রে বাবা, মাথার ভেতর থেকে বেরিয়ে পড়লেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। তা হলে মানুষটাকে অমন করে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় না।

“বিছানার ওপর অমন ধামসা-ধামসি করছ কেন হে, বাবা ইতিমিচি?” কে যেন হঠাৎ কথা কয়ে উঠল!

ইতিমিচিসাহেব ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। এখন তো ঘরের ভেতর তিনি ছাড়া কথা বলার আর কেউ নেই! তিনি ধড়ফড় করে উঠে বসলেন। ফস করে টর্চটা জ্বেলে ঘরের ভেতর চোখ বুলিয়ে সন্ধান করতে লাগলেন। চোখ বোলালেন সারা ঘরে তন্নতন্ন করে। কিন্তু কাউকে দেখা গেল না। তিনি ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন। এ তো আচ্ছা কিম্ভূতুড়ে কাণ্ড! লোক নেই, জন নেই অথচ মানুষের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট শোনা গেল ঘরের ভেতরে! তিনি তো আর কানে খাটো নন যে, ভুল শুনবেন! স্পষ্ট, একটা জ্যান্ত মানুষের গলার স্বর যতটা স্পষ্ট হওয়া উচিত, ঠিক ততটাই স্পষ্ট কথাগুলো তিনি শুনতে পেলেন। তিনি তখনই বলতে পারতেন, তুমি কে বাবা, এই রাতদুপুরে আমার ঘরে ঢুকেছ? না, তিনি তা-ও বললেন না। কাউকে দেখতে-না পেয়ে তিনি টর্চটা নিভিয়ে আবার শুয়ে পড়লেন। এবার তিনি মটকা মেরে বিছানায় পড়ে রইলেন। নট নড়ন-চড়ন।

“কী হে, শুঁয়োপোকার মতো গুটিসুটি মেরে চোখ টেরিয়ে কী ভাবছ অত?” আবার তার কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

ইতিমিচিসাহেব ভীষণ ভয়-তড়াসে আবার উঠে বসলেন। কী রে বাবা, ঘরে ভূতের উপদ্রব শুরু হল নাকি! কই না তো, এতদিন তিনি এই ঘরে বাস করছেন, কখনও তো ভূতের পাল্লায় তাঁকে পড়তে হয়নি। অত কী, ভূতের একটুস গন্ধ পেলে কি তিনি এতদিন এ-ঘরে থাকতেন!

“হি-হি-হি।” ওই সে হেসে উঠেছে! কী বিচ্ছিরি খিনখিনে হাসি।

ইতিমিচিসাহেব খাট থেকে মারলেন লাফ। বিছানা ছেড়ে দে লম্বা।

লম্বা বললেই তো আর লম্বা দেওয়া যায় না। তিনি লম্বা দিতে গিয়ে অন্ধকারে এমন একখানি পা ফসকালেন যে, পড়ে-ঝরে একশা। এই ভাঙল বুঝি হাঁটুর মালাইচাকি! মারাত্মক লেগেছে। কী বলব লোকটাকে! আচ্ছা, একটু দেখেশুনে ছুটবেন তো মশাই! অতবড় একটা ধুমসো লোক ভূতের ভয়ে যে অমন আনাড়ির মতো দৌড় মারবেন, স্বপ্নেও ভাবা যায় না।

নিশ্চয়ই ভাবা যায়। তিনি তো শুধু দৌড় মেরেছেন। ভূতের নামে তাঁর যে দাঁতকপাটি লেগে যায়নি, এই-ই ঢের। বাহাদুর সাহেব বটে একখানা!

তিনি সেই যে হড়কালেন, তার দাপটে অনেকক্ষণ পড়ে পড়ে কাতরালেন। কিছুতেই উঠতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু ঠিক এই সময়ে সেই অদৃশ্য মানুষের গলার শব্দটা যখন যাচ্ছেতাইভাবে খিলখিল করে উঠল, তখন তাঁর যেন লজ্জায় মাথা কাটা যায়! পায়ের হাঁটু যতই টনটন করে উঠুক, তাঁর এভাবে পড়ে পড়ে কাতরানোটা যে মোটেই একজন নির্ভীক মানুষের যোগ্য কাজ নয়, তিনি এটা হাড়ে হাড়ে ঠাওর করতে পারলেন। সুতরাং আর দেরি করা নয়। একটা লম্বা ঝাপটা মেরে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। উঃ উহুহুহু! যন্ত্রণার তাড়সে মুখখানা বেঁকে তুবড়ে কী যাচ্ছেতাই না হয়ে গেল!

হ্যাঁ, আমরা তাঁকে দেখতে না পেলেও নিজেকে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। ভীষণরকম খেপে উঠে, তিনি টর্চ ছেড়ে ফস করে মোমবাতিটা জ্বেলে ফেললেন। ঘর আলোয় আলো হয়ে গেল। আয় এবার! তোর ভূতের নিকুচি করেছে! তোর একদিন, কী আমার একদিন। বলতে না-বলতেই ঘরের ভেতর মস্ত আয়নাটায় তাঁর নিজেরই রাগে তোবড়ানো মুখখানা ঝলসে উঠেছে। নিজের মুখখানা নিজে দেখতে পেয়ে তিনি থমকে গেলেন। ইস, কী মূর্তি হয়েছে তাঁর! লোকে তো এখন তাঁকে দেখলেই আঁতকে উঠে ভয়ে পালাবে। এ কী! এখন যে তাঁকে ঠিক কিম্ভূতের খুড়োমশাইয়ের মতো দেখতে লাগছে! মাথার চুল খাড়া খাড়া। চোখের চাউনি কটোমটো। মুখের ভেতর দাঁতখিঁচুনি। রেগেমেগে তেলেবেগুনি। যেন নিজেই তিনি ভূত!

ভূত! ভূত! তবে কি শুয়ে শুয়ে তিনি নিজেই নিজেকে ভয় দেখাচ্ছিলেন? নিজের মনে নিজেই ভূতের মতো কথা বলছিলেন? হি-হি করে হাসছিলেন? এই কথা মনে হতেই আচমকা ভীষণ চিৎকার করে উঠলেন তিনি। মারলেন লাফ। আয়নার সামনে নিজের চুল নিজেই খামচে ধরে নাচতে লাগলেন। নাচতে নাচতে হাসতে লাগলেন হা-হা-হা। লোকটা কি পাগল হয়ে গেল? হবে হয়তো! আরে দ্যাখো দ্যাখো সাহেব ভীষণ একটা হুঙ্কার ছেড়ে মারলেন এক ঘুষি আয়নার গায়ে। ঘুষি মেরেই তারস্বরে গলা ফাটালেন, “আমি ভূত! আমি ভূত! হাঁউমাঁউখাঁউ!” বলতে বলতে কখনও তিনি হাত ঘোরান। কোমর দোলান। নিজের কান নিজেই টানেন। নয়তো নিজের ঠোঁট নিজে টিপে তুড়তুড়ি কাটেন, তুড়-ড়-ড়! ওই দ্যাখো আয়নার সামনে তিনি নৃত্য জুড়ে দিয়েছেন! তবে কি সত্যিই তিনি নিজেকে ভূত ভাবলেন? আরে মশাই, না মরলে যে কেউ ভূত হয় না, এই সার কথাটা কি ইতিমিচিসাহেবের মাথায় একবারও আসছে না?

সত্যিই আসছে না। তাই তিনি ভূতের মতোই লম্ফঝম্ফ করতে করতে ঘরের দরজা খুলে ফেললেন। সেই ঘোর রাতেই তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন। অন্ধকার ছমছম। কোনও সাড়া নেই, শব্দ নেই। একটু কোথাও টুক করে শব্দ উঠলে, বুকের ভেতরটা ধক করে চমকে ওঠে। শুধু একাই ইতিমিচিসাহেব আড়বাড় করতে লাগলেন। মাথার ভেতর ভূতের পোকা এমন ঘুরঘুর করতে লাগল যে, তিনি থাকতে পারলেন না। তিনি একাই চিৎ...না, চিৎকার করতে গিয়ে তিনি থমকে গেলেন। অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে এ তিনি কোথায় চলে এসেছেন! তাঁর চোখে পড়ল একটা মস্ত ভাঙা বাড়ি। বাড়িটা তাঁর চেনাও নয়, জানাও নয়। তাই তিনি থামলেন। অন্ধকারে মুখ বাড়িয়ে তিনি ঠাওর করার চেষ্টা করলেন। ভূতেরা তো ভাঙা-পোড়ো বাড়িতেই থাকে। সুতরাং তিনি এ বাড়িতে ঢুকতেই পারেন। কাজেই বাড়ির ভেতরে ঢোকার পথটা তিনি নজর করে খুঁজতে লাগলেন। অবশ্য খুঁজতে হল না বেশিক্ষণ। কারণ, ঢোকার পথ একটা নয়। যেদিকেই তিনি তাকান সেইদিকেই পথ। ভেঙে ধসে ধ্বংসস্তূপের কাঁড়ি ছড়িয়ে মড়িয়ে একাক্কার হয়ে আছে। ইতিমিচিসাহেব পা বাড়ালেন। ঘেঁস-জঞ্জালে তাঁর পা তলিয়ে যায়। তিনি টাল খান। টলতে টলতে তিনি পা তোলেন, পা ফেলেন। হড়কে যান, হোঁচট খান। হাত বাড়ান, চমকে দাঁড়ান। কিন্তু ছি ছি এ কী কাণ্ড! ভূতেরা তো চমকায় না। কোথায় ভূতের ভয়ে মানুষ চমকাবে, তা নয়, তিনিই চমকান! তিনি অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে বাড়ির ভেতরে অনেকখানি ঢুকে পড়েছেন। কিন্তু কোথায় চলেছেন, কিছুই আন্দাজ করতে পারছেন না।

ওই দ্যাখো, তিনি দাঁড়ালেন! ভাঙা দেওয়ালে হাত ঠেকালেন। তিনি কি ওপরে ওঠার এবড়ো খেবড়ো সিঁড়ির সন্ধান পেয়েছেন? হ্যাঁ, ওই তো তিনি ওপরে উঠেছেন। বাড়িটার যে একটা ওপরতলাও আছে, অন্ধকারে সেটা একেবারেই মালুম হয়নি ইতিমিচিসাহেবের। উফ! সাহস বটে! কেমন উঠছেন দ্যাখো! কাছেপিঠে যদি সাপখোপ থাকে, তবে আর দেখতে হবে না! মারবে ছো...

না, না, সাপের ছোবল তাঁকে খেতে হল না। ওই দ্যাখো, তিনি ওপরে উঠে পড়েছেন। সামনে ওটা বারান্দা। এখান থেকে আকাশটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে! বারান্দাটার মাথার ছাতটা পর্যন্ত ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। বারান্দার কোলে ওটা কী? একটা ঘর মনে হচ্ছে। তাই তো। দরজাও নেই, জানলাও নেই। মস্ত মস্ত ফোকর। তিনি দাঁড়ালেন। এটা বোধহয় একটা ভাঙা জানলার ফোকর। তিনি উঁকিঝুঁকি মেরে দেখতে লাগলেন। সামনেই ওটা কী? ওটা কি একটা খাট? মনে হচ্ছে বিছানা পাতা। কী সর্বনাশ! এই ধুলোর রাজ্যে কে বিছানা পেতে শুয়ে আছে? মনে হচ্ছে একজন মানুষ। না কি মানুষের মতো লম্বা একটা পাশ-বালিশ? অন্ধকারে তাঁর ঠিক বোধগম্য হল না। আশ্চর্য! অন্ধকারে ভূতের চোখ তো আর অন্ধ থাকে না, সে সব দেখতে পায়। অথচ ইতিমিচিসাহেব কেন যে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না, এ ভাবনাটা তাঁর মনে বারবার খুঁচিয়ে উঠছে। ওঠবারই কথা। কেননা, নিজেকে তিনি নিজেই আস্ত একটা ভূত ভেবে বসে আছেন! তিনি ভাঙা জানলার ফোকরে মাথা গলালেন। তারপর অদ্ভুত গলায় ভূত ভূত সুর করে তিনি খেঁকিয়ে উঠলেন, “কে ঘুমোয় রে, কে ঘুমোয়? বল, নইলে আমি তোর ঘাড় মটকাব!” বলেই তিনি একটা বিকট জোরে হেসে উঠলেন। যেন ভয় দেখালেন। আর কি দেখতে হয়, ইতিমিচিসাহেবের হাসির তোড়ে ভাঙা বাড়ির এই ভাঙা ঘরটা থরথর করে কেঁপে উঠল। ঘরের মধ্যে, ওই খাটে কে যে শুয়ে ছিল কে জানে! হাসিটা যখন খেঁকিয়ে-ওঠা গন্ধ মেখে তার কানে গেল, তখনই সে ধমকে উঠল, “আমার ঘুম ভাঙায় কে র‍্যা?” তাকে দেখতে হবে না, তার গলার স্বর কানে গেলেই চক্ষু কপালে!

ইতিমিচিসাহেবের চোখ কপালে উঠল কি না বলা শক্ত। উঠলেও সে চোখ বেশিক্ষণ কপালে না-থাকার কথা। কেননা, তিনি সঙ্গে সঙ্গে তিরিক্ষি গলায় ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, “আমি, আমি!”

ঘরের ভেতর থেকে উত্তর এল, “তুই তো আচ্ছা বেকুব! ‘আমি’ বললে ‘আমি’কে আমি চিনব কেমন করে? খোলসা করে বল!”

ইতিমিচিসাহেবও কম যান না। তাঁকে বেকুব বলা! তিনি তেমনই তেরিমেরি গলায় তড়পে উঠলেন, “তোর সাহস তো কম নয়! তুই আমায় বেকুব বলিস! জানিস, আমি তোর গলাটা খাবলে ধরলে এক্ষুনি তোর ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে!”

এবার ঘরের ভেতর ভয়ংকর জোরে হাসির রোল উঠল, হ্যা-হ্যা-হ্যা!

ইতিমিচিসাহেব ভয় দেখাবেন কী! হাসি শুনে তাঁরই আত্মারাম খাঁচাছাড়া। তিনি থ মেরে গেলেন। তাঁর মুখে বাক্য ফোটার আগেই ঘরের ভেতর থেকে জবাব এল, “একটা মানুষের ক’বার ভবলীলা সাঙ্গ হয় রে ইস্টুপিড! আমার গলা ধরবার আগে আমিই যদি খাবলে ধরি তোর গলাটা, তুই যে দম ফেলার সময় পাবি না রে হতচ্ছাড়া!” বলে সে একনাগাড়ে হেসেই চলল। তারপর আচমকা কড়কে উঠল, “ভাগ এখান থেকে! রাতদুপুরে খ্যাপাস না আমাকে!”

ইতিমিচিসাহেবের মাথার ভেতরটা কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে গেল তার কথা শুনে। লোকটা কেন বলল, মানুষের ক’বার ভবলীলা সাঙ্গ হয়? কী বলতে চায় লোকটা? যাকগে, যা বলতে চায় বলুক। এখন ঘাবড়ালে চলবে না। যতই হোক তিনি নিজে ভূত। সুতরাং তাকে ভড়কে দেওয়ার জন্যে ইতিমিচিসাহেব বলে উঠলেন, “তুই আমাকে তখন থেকে অকথা-কুকথা বলেই চলেছিস! জানিস আমি কে?”

ইতিমিচিসাহেবের কথা শুনে ঘরের ভেতরে যে আছে, সে হেসে উঠল। এবার হাসিটা এমন বিতিকিচ্ছিরি শোনাল যে, ইতিমিচিসাহেবের আগাপাশতলা জ্বলে গেল। ইতিমিচিসাহেব কিছু বলার আগেই সে হাসতে হাসতে বলল, “তুই কে, সেটা তো জানা যাবে তুই বললে। সেটি না জানিয়ে তুই সেই তখন থেকে নেংটি ইঁদুরের মতো তিড়িং বিড়িং করে লাফাচ্ছিস খালি।”

এবার আর থাকতে পারলেন না ইতিমিচিসাহেব। তিনি দপ করে জ্বলে উঠলেন। তিনি অন্ধকারে গলা ফুলিয়ে, ফেটে পড়লেন। বলে উঠলেন, “শোন আমি কে! আমি ভূত!”

ঘরের ভেতর থেকে সেই বিতিকিচ্ছিরি হাসিটা এবার আরও জোরে ধাক্কা মেরে ইতিমিচিসাহেবের কানে ঢুকল। সে হাসতে হাসতেই জিজ্ঞেস করল, “তুই কোন জাতের ভূত রে?”

ইতিমিচিসাহেব তার কথা শুনে রেগে ফেটে পড়লেন। বললেন, “তুইও তো দেখি মুখ্যু একখানি। ভূতের আবার জাত কী রে! ভূত সে ভূতই।”

সে এবার উত্তর দিল, “তুই যখন আমায় মুখ্যু বললি, তখন তোকে বলি, তুই একটি গর্দভ! ওরে গর্দভ জাত ছাড়া এখন আর কেউ পাত পায় না। জানিস কি, ভূতের হাত দেখলেই জাত চেনা যায়? তোর হাত কতখানি দেখি!”

ইতিমিচিসাহেবের যেটুকু হাত এতক্ষণ দেখা যাচ্ছিল, সেটুকু হাত তিনি পেছন দিকে লুকিয়ে ফেললেন। বললেন, “আমার হাত তোকে দেখাব কেন রে!”

ঘরের ভেতরের সে এবার গরম মেজাজে ইতিমিচিসাহেবকে মারল ধমক, “দরকার নেই তোর হাত দেখাবার। তোর নাক দেখেই আমি বুঝতে পেরেছি। তুই একটি নচ্ছার ভূত।”

ইতিমিচিসাহেব থতমত খেয়ে জিজ্ঞেস করে ফেললেন, “সেটা কী জিনিস?”

সে উত্তর দিল, “খুব সোজা জিনিস। তুই আঁস্তাকুড়ের ভূত। নর্দমার জল খাস। দ্যাখ, আমি কেমন রাজপ্রাসাদে বাস করি। অথচ আমার একফোঁটা খিদে নেই। যখন খিদে পায়, তখন তোর মতো ম্লেচ্ছ ভূতের পিণ্ডি চটকাই।”

এই রগ চটানো কথা শুনে ইতিমিচিসাহেবের মাথায় রক্ত চড়ল। তিনি থরথর করে কাঁপতে লাগলেন। কথার ঝাঁঝে তিনি যে কুপোকাত, এটা বুঝতে তাঁর একটুও কষ্ট হচ্ছিল না। মনে মনে তিনি এটাও বুঝতে পারছিলেন, লোকটা ভয়ানকরকম ধড়িবাজ। নইলে অন্ধকারে ঘাপটি মেরে গা-ঢাকা দিয়ে তাঁকে অপমান করতে সাহস করত না। আঁস্তাকুড়ে বাস করেন, নর্দমার জল খান, এসব কী মিথ্যে অপবাদ তাঁকে দিল বলো! তাঁর মনের ভেতরটা যদি এইরকম সব অপমানজনক কথা শুনে গুমরে ওঠে, তবে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। অবিশ্যি ইতিমিচিসাহেবের নিজের বুদ্ধির দৌড় দেখলে আমাদের মুখে যদি মুচকি হাসির সুড়সুড়ি লাগে, তবে সেটাও কেউ অন্যায্য বলে উড়িয়ে দিতে পারো না। আচ্ছা, তোমরাই বলো, একটা জলজ্যান্ত মানুষ হঠাৎ যদি অমন নিজেকে ভূত ভেবে উলটোপালটা কাণ্ড করে বিপদ ডেকে আনেন, তবে সে বিপদ থেকে তাঁকে কে বাঁচাবে! পদ্য লেখার ভূতটা যে কেন তাঁর ঘাড়ে চাপল! আমি বলি, ইতিমিচিসাহেব আগ বাড়িয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকেছেন। এখন তিনি নিজেই যদি সাবধান না হন, তবে অকালে মরে তিনি নিজেই নির্ঘাত ভূত হবেন।

তো সাবধান হতে বললে কে শুনছে! ইতিমিচিসাহেব? তোমাদেরও কি মাথাখারাপ হল? তবেই হয়েছে। লোকটার পাশে সাহেব কথাটা যখন জড়িয়ে জ্বলজ্বল করছে, তখন নচ্ছার কথাটা কেমন করে হজম করেন তিনি। যদি এর একটা হিল্লে তিনি করতে না পারেন, তবে বেঁচে থাকাই মিথ্যে। তাই তিনি ঝট করে জঞ্জালের ডাঁই থেকে একটা বড়সড় ইট তুলে ধাঁই করে ছুড়ে দিলেন খাটের ওপর। বাস রে বাস, ইতিমিচিসাহেবের চোখের পলক পড়তে না-পড়তেই তিনি অন্ধকারে স্পষ্ট দেখতে পেলেন, ঘরের ভেতর কোত্থেকে একটা দোলনা গজিয়ে দুল দুল করে দুলছে। আর তার ওপর বসে আছে একটা মানুষ নয়, অথচ মানুষের মতো দেখতে প্রাণী। সে দুলে দুলে হুই ওপরে উঠছে, হেই নীচে নামছে। সে যতবারই নামছে আর উঠছে, ঠিক ততবারই তার খামচে তোলা গাব্বুর মতো চোখদুটো এই জ্বলছে, এই নিভছে। সেই সঙ্গে তাল ঠুকে সে তার বত্রিশ পাটি দাঁত ছটকিয়ে ফিকফিক করে হাসছে। এই রে! ইতিমিচিসাহেবের দফারফা। কিন্তু তিনি ভয়ে পালালেন না। তবে তো বলতে হয়, সাহেবের সাহস আছে। ভয় যদিও বা থাকে, মুখ দেখে বোঝাই যাবে না। মুখের ভয়টাকে তিনি হয়তো বা ঢোক গিলে পেটের ভেতর তলিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কতক্ষণ চেষ্টা করবেন? খানিকটা ভয় পেটের মধ্যে ঢুকছে ঠিকই, কিন্তু ঢুকতে-না-ঢুকতেই ঢেকুর উঠছে, আবার বেরিয়ে আসছে। এ কী হ্যাপা রে বাবা! বোধহয় এই হ্যাপাটাকে চাপা দেওয়ার জন্যেই তিনি বীরত্ব দেখাতে গেলেন। তিনি বলে উঠলেন, “তুই দোলনায় উঠে আমায় ভয় দেখাস, তুই কে রে বেঁড়ে? আয়, আমার কাছে এগিয়ে আয়! মারব তোকে ঘুষো/ আঙুল মুখে চুষো!”

তোমাদের বলব কী, সঙ্গে সঙ্গে তার বত্রিশ পাটি দাঁত কিড়মিড় করে উঠল। সে ভেংচি কেটে খেঁকিয়ে উঠল, “পদ্য শুনিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে!” বলেই একেবারে আচমকা সে একটা বাঁশের মতো লিকলিকে হাত বার করে খ্যাচাং করে ইতিমিচিসাহেবের মাথার খুলিটা খামচে ধরল। ছুড়ে দিল এই এখান থেকে হুস-স-স! ইতিমিচিসাহেব উড়তে উড়তে গিয়ে পড়লেন একটা জল থই-থই দিঘির জলে। পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বাঁশের মতো লম্বা হাতটা এবার তার ঘাড়টা ধরে তাকে একবার জলের মধ্যে চোবায়, আবার ওঠায়। আবার চোবায়, আবার ওঠায়। ইতিমিচিসাহেব একবার ডোবেন! একবার ভাসেন! মানে জলের ভেতর নাকানি-চোবানি খেতে খেতে তাঁর প্রাণ বুঝি এই যায়, সেই যায়! কী বলব তোমাদের, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে গেল একটা অসম্ভব ঘটনা। এমন যে ঘটতে পারে আমিও জানি না, তোমরাও জানো না, ইতিমিচিসাহেবও জানেন না। হঠাৎ কোথেকে একটা সাদা ধবধবে বেড়াল লম্বা লম্বা লাফ মেরে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়ল সেই লিকলিকে হাতটার ওপর। ইঁদুরের মুড়ো ধরার মতো সেই হাতটা কামড়ে ধরে বেড়ালটা এমন ঝটকা মারল যে, চোখের পলকে হাত হুস-স-স! ইতিমিচিসাহেবের ঘাড় ছেড়ে যেখানকার হাত সেখানে সেঁধিয়ে গেল। যার হাত সে তখন হাত নিয়ে হাউ হাউ করছে। আর এদিকে ইতিমিচিসাহেব নাকানি চোবানি খেয়ে হাঁচতে হাঁচতে জল থেকে উঠে আসছেন। উফ! খুব বাঁচান বেঁচে গেছেন! কিন্তু এ কেমন কথা! বাঁচা? ভূত তো মরেই ভূত হয়। যে মরে সে বাঁচে কেমন করে? আজগুবি আর কাকে বলে! নতুন করে বাঁচার কথা উঠছে কেন!

কিন্তু ওই বেড়াল? সেটা তো আর আজগুবি নয়। জল থেকে উঠেই তিনি দেখলেন, অন্ধকারে সেই সাদা ধবধবে বেড়ালটার জ্বলজ্বলে চোখদুটো তাঁর দিকে চেয়ে আছে। তিনি বেড়ালটার কাছে এগিয়ে গেলেন। জলের ভেতর চোবানি খেয়ে তিনি এখনও হাঁপাচ্ছেন। জামা-প্যান্ট ভিজে ঢোল। মাথার জল কপাল গড়িয়ে মুখে পড়ছে। মুখ থেকে গায়ে। গা থেকে পায়ে। পায়ের কাছে বেড়াল। তিনি হেঁট হয়ে বেড়ালটার গায়ে হাত দিলেন। বেড়াল ‘মিউ’ করে ডেকে উঠল। তিনি বেড়ালটাকে কোলে তুলে নিলেন। জল-শপশপ কোলে বেড়ালটা সিঁটিয়ে বসে রইল চুপচাপ।

ইতিমিচিসাহেব পুরোদস্তুর নাকাল হয়ে বেড়ালটাকে কোলে নিয়ে নিজের আস্তানায় চললেন। আর মনে মনে ভাবলেন, নিজেকে ভূত ভেবে কী ভুতুড়ে কাণ্ডটাই না তিনি করলেন! ছিঃ! পদ্য লেখার ভূতটা তাঁর ঘাড়ে না-চাপলে যে এমনটা হত না, এটা এখন তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। দুর, দুর, পদ্য লেখার চেয়ে বেড়াল পোষাই ভাল। এই কথা মনে হতেই তিনি বেড়ালের গালটা টিপে আদর করে জিজ্ঞেস করলেন, “তুই কী বলিস মিনি?”

মিনি তো আর ইতিমিচিসাহেবের মতো কথা বলতে পারে না, তাই তার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়েই রইল। কথা বলতে পারলে হয়তো বলত, “তুমি পদ্য লিখতে না-পারলেও পদ্য বলতে পারো। সেই যে তখন রেগেমেগে বললে,

মারব তোকে ঘুষো,

আঙুল মুখে চুষো। মিঁউ-উঁ-উঁ!”

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%