উত্তর পাইনি এখনও

শৈলেন ঘোষ

আমি ক’দিন ধরেই দেখছি ছেলেটাকে। অন্য কোনও সময়ে দেখতে পাই না। আশ্চর্য, দেখি রাত্রে! যখন পাড়ার দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়, জমজমাট আলোর রোশনাই যখন আবছা হয়ে আসে, রাস্তা-ঘাটও হয়ে আসে নিঝুম ফাঁকা, ঠিক তখনই সে যে কোথা থেকে উদয় হয়, কে জানে!

আমাদের বাড়ির সামনেই একটা খাবারের দোকান। রাস্তার ওপারে সামনের যে-বাড়িটা দেখতে দেখতে আমাদের চোখে ছ্যাতলা পড়ে গেল, সেটা একটা সাবেককালের দোতলা বাড়ি। সেই বাড়িরই ঝুলবারান্দার নীচে খাবারের দোকানটা। আমাদের একতলার বাইরের ঘরের জানলায় দাঁড়ালে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়, কাচের শো-কেসের ভেতর, গামলায় রসগোল্লা ভাসছে! বড় বড় রেকাবে কত রকমের মিষ্টি সাজানো। নানা স্বাদের সন্দেশ থেকে শুরু করে ছানার মুড়কি পর্যন্ত। তোমার তেষ্টা পেলে ওই ঝুলবারান্দার নীচে দাঁড়িয়ে দুটো রসগোল্লা গালে দাও, চোখের পলকে এক গেলাস ঠান্ডা জল হাতে নিয়ে তোমার সামনে হাজির দোকানের কাজের লোক। কত মানুষ যে রোজ ঝুলবারান্দার নীচে দাঁড়িয়ে ওই দোকানের খাবার খায়, তা গুনেও শেষ করা যাবে না। আসলে দোকানটার খুব নামডাক। আমাদের বাড়িতেও যদি অসময়ে হঠাৎ কেউ এসে পড়েন, তবে ভাববার কিচ্ছু নেই। একছুটে দোকান। দোকান থেকে ছুট দাও, একনিমেষে বাড়ি! অবশ্য একবার ছুটতে গিয়ে সে কী কেলেঙ্কারি কাণ্ড করে বসেছিলুম। আমার হাত ফসকে এক ভাঁড় দই রাস্তায় ফটাস! পড়েই রাস্তার মধ্যিখানে সে এক নৈরেকার কাণ্ড! আমি তো লজ্জায় পালাতে পথ পাই না। ছেলে হলে একরকম। আমি মেয়ে বলে, প্রাণটি প্রায় হাতে নিয়েই পড়িমরি ছুটতে ছুটতে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়লুম। লজ্জার হাত থেকে বাঁচলুম। অবশ্য মায়ের কাছে একটু বকা খেতে হল ঠিই, কিন্তু মা যত বকেন, তার চেয়ে ভালবাসেন অনেক বেশি। তবে, কে সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন, বাবা, না মা, আমি বলতে পারি না।

আমার নাম রাকা। আমি ক্লাস ফোর-এ পড়ি। তোমাকে আগেই বলা উচিত ছিল, আমি গান গাইতে পারি। এতক্ষণ আমি বলতে ভুলেই গেছলুম। সক্কলে বলে আমার গানের গলাটা ভাল। তুমি হয়তো ভাবছ, মেয়ের এ কী আদিখ্যেতা! নিজের মুখে নিজেরই গুণগান করছে।

আসলে কিন্তু তা নয়! কী জানো, গানের কথা না বললে আসল কথাটাই যে বলা হবে না। আসল কথাই কিন্তু ওই গানে!

এখন থাক সে-কথা।

আমি ইস্কুল থেকে ফিরি বিকেল চারটের পর। আমার ভাইটা সবে এক-পা এক-পা হাঁটতে শিখেছে। ইস্কুল থেকে ফিরে একটু কিছু মুখে দিয়ে ওর সঙ্গে হুড়োহুড়ি করতে আমার খুব মজা লাগে। আমি ছুটব, ভাই ধরতে আসবে। তখন যদি তার ছোটার বহর দ্যাখো! হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবে! টলতে টলতে এই বুঝি খেল ডিগবাজি! আবার আমি যদি তাকে তেড়ে ধরতে যাই, তোমাকে বলব কী, একেবারে চিল-চেঁচিয়ে ছুটে এসে আমাকেই জড়িয়ে ধরবে। তারপর কী হাসি তার! আমিও হাসতে হাসতে মরি!

এমনই করে অনেকটা সময় আমার কেটে যায়, ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে খেলতে। সন্ধে হলে পড়তে বসি। ইস্কুলের হোমটাস্কগুলো করে না রাখলে আর সময় পাব না। তা ধরো, সব শেষ করতে রাত্তির আটটা সাড়ে আটটা তো হবেই। সিস্টার আমায় পড়াতে আসেন সকালে। সন্ধেবেলায় পড়ার সময় যে টাস্কগুলো করে রাখি, সকালে তিনি দেখেন। ভুলভালগুলো শুধরে দেন। আর ওই সন্ধেবেলা আটটার পর আমি গলা সাধতে বসি। আমার বাবা গান জানেন। তিনি আমায় শেখান। কাজেই কোনও গানের ইস্কুলে আমায় যেতে হয় না। এই ফাঁকে একটা কথা বলে রাখি, আমার ঠাকুরদাদা সেকালের একজন খুব নামকরা গাইয়ে ছিলেন। তিনি অবশ্য গাইতেন খেয়াল-ঠুংরি। আমাদের বাড়িতে তখন প্রায়ই গানের জলসা বসত। অনেক বড় বড় গাইয়ে আসতেন গান শোনাতে। আমাদের ওপরের জলসাঘরটা বেশ বড়। হেসেখেলে চল্লিশ-পঞ্চাশ জন লোক আরামসে বসে গান শুনতে পারবেন। তা, ঠাকুরদাদা মারা গেলেন হঠাৎ। সঙ্গে সঙ্গে জলসার পাটও উঠে গেল। তাঁর দুটো তানপুরা, একটা খুব দামি হারমোনিয়াম, তিনজোড়া তবলা, একটা সারেঙ্গি এখনও তুমি আমাদের বাড়িতে এলে দেখতে পাবে। বাবা ভারী যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছেন সেগুলি। শুধু হারমোনিয়ামটাই বাবা বাজান। তখনকার জিনিস তো। আওয়াজটা ভারী মিষ্টি। বাবার গলার সুরের সঙ্গে হারমোনিয়ামের সুর যখন একাকার হয়ে যায়, তখন আমার ভেতরে কেমন যেন একটা শিহরন জাগে। আমার মন বলে, বাবার গলার সঙ্গে আমিও গলা মেলাই। আমি বাবার সঙ্গে গুনগুন করে গাইতে গাইতে এমনই করে গানের অ-আ-ক-খ শিখতে লাগলুম। তা বলে খেয়াল-ঠুংরি নয়, সাদামাঠা বাংলা গান। বাবার এক বন্ধু কবি। তিনি গান লিখে দেন বাবাকে। বাবা নিজেই সুর দেন তাতে। বন্ধুর গানে গানে বাবার একটা মোটা খাতা প্রায় ভরেই গেছে। বাবার গলার গানগুলো আমি বোকার মতো নকল করি। সব কথার সব মানে বুঝি না। আমার গাওয়া ঠিক, না বেঠিক, তাও জানি না। তবু গাইতে ভাল লাগে। আমার এক-একটা হিন্দি গানও এমন ভাল লেগে যায়। কী বলব! কিন্তু যেখানে সেখানে যখন তখন সেগুলো রেকর্ডে বাজিয়ে একেবারে পচিয়ে শেষ করে দেয় যে-সে! ভাল সুরেলা গানও তুমি যদি হাজারবার কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে মাইকে বাজাও, বলো, শুনতে ভাল লাগে?

তুমি ভাবতে পারো, আমি বোধহয় ধান ভানতে শিবের গীত গাইছি! শুরু করলুম একটা ছেলের কথা দিয়ে, তারপরে এল দোকানের কথা। আমার ছোট্ট ভাইয়ের কথা। দই আনতে রাস্তায় হাত থেকে ফসকে ফটাস...! তুমি নিশ্চয়ই আমার এই এলোমেলো কথা শুনে আমাকে পাগল ভেবে মনে মনে হাসছ। ভাবছ, কী যে বলতে চায় মেয়েটা, কে জানে!

হ্যাঁ, সত্যি তাই। কথায় কথায় খামোকা আমি অনেক আজেবাজে কথা বলে ফেললুম। কিন্তু, আসলে আমার বলার কথা ওই ছেলেটারই। যার কথা দিয়ে আমার এই গল্পের কথা শুরু! আগেই বলেছি রাত্তির অন্ধকার হলেই তার উদয়। সামনের বাড়িটার ঝুলবারান্দার নীচে তার রাতের আশ্রয়। কবে থেকে যে এই আশ্রয়টাই সে বেছে নিয়েছে, তা আমি বলতে পারব না। বলো, অত আর কে খেয়াল রাখছে। কে আসছে, কে যাচ্ছে, সেসব নিয়ে কে আর অত মাথা ঘামাচ্ছে! সকালবেলা দোকান খোলার আগেই বোধহয় তার ঘুম ভাঙে। কেন না, সকাল হলে আর তাকে দেখা যায় না। তাকে প্রথম আমি এই সেদিন দেখি। সেদিন, রাত্তিরবেলা বাবার কাছে গানটান শিখে যখন রাস্তার ধারের জানলাটা বন্ধ করতে যাই, তখনই আবছা আলোয় সে আমার নজরে পড়ে। মনে মনে ভাবি, কে তো-কে! প্রথমে দু’দিন আমি গ্রাহ্যই করিনি। কিন্তু তিনদিনের দিন আমার কেমন যেন মনে হল। বয়সে সে আমার চেয়ে ছোট, না বড়, আলো-আঁধারে আমি ঠিক ঠিক ঠাওর করতে পারলুম না। তবে জানলায় দাঁড়িয়ে একটু চুপি দিয়ে চোখ মেলতেই আমার মনে হল, ছেলেটা একটা কতকালের না-কাচা কাপড় পড়ে আছে। গায়ে তার তেমনই নোংরা একটা ছিটের জামা। আমি একঝলক দেখেই জানলা বন্ধ করে দিলুম। জানলা বন্ধ করে দিলে আর কী, রাস্তার সঙ্গে সব সম্পর্ক শেষ।

একটা খুব মজার খবর শোনাই তোমাকে। আমার বাবার সেই কবি-বন্ধু আমার জন্য একটা গান লিখে দিয়েছেন। অবাক করা সে-গানের শব্দগুলি। বাবা সুরও দিয়েছেন। আমি শিখেও ফেলেছি। শিখতে শিখতে বারবার ওই ছেলেটার ছবি আমার চোখের ওপর ভেসে উঠেছে। তোমাদের শোনাই সেই গান:

ছেলেটাকে ডাকে কেউ, এই ভেলভেলে,

কেউ বলে, ছেলে না তো যেন এলেবেলে!

পথে পথে ঘোরে খালি,

ফুটোজামা মারা তালি,

শুয়ে পড়ে ফুটপাতে রাতে ঘুম পেলে।

ঘর নেই, দোর নেই, হাসি নেই মুখে,

শুধু আছে প্রাণখানা ধুকধুক বুকে।

ধুতিটাও ছেঁড়া ছি ছি,

পেলে খুশি সে যে কী কী,

জানে না তো আর কেউ, জানে সেই ছেলে,

তবে সে কি খুশি হবে মাকে খুঁজে পেলে?

গানটা শুনে আশ্চর্য লাগছে না তোমার? বাবার কবি-বন্ধু যেন আমার দেখা সেই ছেলেটারই কথা লিখেছেন তাঁর গানের ছন্দে। তবে কি তিনিও ছেলেটাকে দেখেছেন? তাকে দেখেই কি লেখা তাঁর এই গান! না কি, এ তাঁর নিজেরই ভাবনা! আমি ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে যাই। গাইতে গাইতে থমকে থামি। মনে মনে ভাবতে থাকি, তবে কি সত্যিই ছেলেটার মা-বাবা কেউ নেই!

সেদিন বাবা অফিস থেকে যখন ফিরলেন, তখন আমি নীচের ঘরেই পড়ছি। বাবার অফিস থেকে ফিরতে সচরাচর এত দেরি হয় না। অন্যদিন অফিস থেকে ফিরে, ওপরের সিঁড়িতে ওঠার আগে আমার ঘরে একবার অন্তত উঁকি মেরে একটু মুচকি হাসবেনই। আজ তা করলেন না। সটান ওপরের ঘরে চলে গেলেন। আর নামলেন না। আমি পড়তে পড়তেই বুঝতে পারলুম, বাবার জন্য চা-জলখাবার নিয়ে মা ওপরের ঘরেই গেলেন। আমার ভাইটা তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। অন্যদিন হলে বাবার পায়ের শব্দ শুনলে আর রক্ষে নেই। কী সাংঘাতিক দুরন্তপনা শুরু করে দেয়। বাবা যতক্ষণ না তাকে আদর করবেন, ততক্ষণ নিস্তার নেই। তবে কোনও-কোনওদিন বাবার ফিরতে দেরি হলে আমরা যে খুব ভাবনায় পড়ি, তেমন না। রাস্তাঘাটের যা অবস্থা! কখন যে কোথায় পথ আটকে গাড়ির জট বাধবে কেউ বলতে পারে না। মাসের মধ্যে দু’-চারদিন বাবার এমন দেরি হয়ই। কিন্তু আজ ফিরেই বাবা সেই যে ওপরে নিজের ঘরে ঢুকলেন, আর বেরোলেন না। এদিকে আমার বইয়ের পড়া আর লেখাপত্তর যা ছিল, সব শেষ করে ফেলেছি। আটটা বেজে গেছে। এখন আমার গান শেখার সময়। এতক্ষণে নীচে, আমার পড়ার ঘরে বাবা এসে যান। আজ এলেন না। আমার কেমন মনে হল। বাবার কি তা হলে কিছু হয়েছে! আমি ওপরে ছুটে গেলুম। বাবার ঘরে। দেখলুম, বাবা হেলান-চেয়ারে গা এলিয়ে কাগজ পড়ছেন।

“বাবা।” আমি আলতো গলায় ডাক দিলুম।

বাবা মুখের ওপর থেকে কাগজ সরিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালেন।

আমি জিজ্ঞেস করলুম, “আজ গান শেখাবে না?”

বাবা উত্তর দিলেন, “আজ অফিসে বড্ড খাটুনি গেছে। ক্লান্তি লাগছে। আজ থাক। শেখানো গানটা আজ তুমি নিজেই প্র্যাকটিস করো।”

আমি মনে মনে ভাবলুম, বাবার মুখে এমন কথা আর কোনওদিন শুনিনি। আজ তা হলে নিশ্চয়ই বাবার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলুম, “তোমার মাথাটা একটু টিপে দেব, বাবা?”

বাবা হেসে ফেললেন। বললেন, “না, না, আমার মাথায় কিছু হয়নি। আমি এমনই একটু বিশ্রাম নিচ্ছি। তুমি গানটা নিজে নিজেই অভ্যেস করো। আমার ইচ্ছে আছে, এ-বছর আমাদের অফিসের ফাংশনে তুমি যাতে ওই গানটা গাইতে পারো, আমি সেক্রেটারিকে বলব।”

“কোন গানটা বাবা!”

“কেন, সেই ছেলেটার গান!” বলে বাবা গানের প্রথম লাইনটা নিজেই গেয়ে উঠলেন।

বাবার কথা শুনে আমার যে কী আনন্দ হল, সে তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। এই দ্যাখো, আনন্দে আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে! অত লোকের সামনে আমি গান গাইব, এ যেন আমি ভাবতেই পারছি না। যতটা আনন্দে আমি উছলে উঠছি, ভয়েও ঠিক ততটা কুঁকড়ে যাচ্ছি। পারব তো আমি! কোনওদিন কোনও ফাংশনে আমি গান গাইনি। কী জানি কী হবে! তাই ভয়ে ভয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করলুম, “পারব তো?”

বাবা উত্তর দিলেন, “আমি তো আছি। ভয় কীসের!”

আমি আর কথা বাড়ালুম না। সিধে নীচে নেমে এলুম। প্রথমেই, রান্নাঘরে মায়ের কাছে ছুটে গেলুম। বাবার ইচ্ছের কথা মাকে বললুম। মা শুনে বললেন, “খুব ভাল কথা। কোনওবার তো ওঁদের অফিসের ফাংশনে যাওয়া হয় না, এবার তা হলে যেতেই হবে।”

আমি আর সময় নষ্ট করলুম না। সিধে হারমোনিয়ামটার সামনে বসে খাতা খুললুম, গান ধরলুম:

ছেলেটাকে ডাকে কেউ, এই ভেলভেলে

কেউ বলে, ছেলে না তো যেন এলেবেলে!

গানটা যে কতক্ষণ ধরে প্র্যাকটিস করেছি, আমি নিজেই জানি না। মা যখন হঠাৎ ডাকলেন, “রাকা, খাবি আয়!” তখন আমার চমক ভাঙল। মনে হল, অনেক রাত হয়ে গেছে। গান বন্ধ করে মায়ের ডাকে সাড়া দিলুম। হারমোনিয়ামটা বাকসের ভেতর রাখলুম। তারপরেই ঘরের জানলাটা বন্ধ করতে গিয়ে আমি হকচকিয়ে গেছি। আচমকা আর্তনাদ করে উঠেছি, “কে-এ-এ-এ!” দেখি সেই ছেলেটা! জানলার গরাদে মুখ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে চোখ পড়তেই আমার বুকটা ধড়ফড় করে উঠল।

চোখের পলকে সরে গেল ছেলেটা।

মা আমার চিৎকার শুনে ব্যস্ত হয়ে ছুটে এলেন, “কী হল রে!”

ততক্ষণে আমি জানলা ছেড়ে মাকে জড়িয়ে ধরেছি।

মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে?”

তখন আমি মুখ তুলে জানলার দিকে তাকিয়ে ঠকঠক করে কাঁপছি। মুখে কোনও কথা বলতে পারছি না।

মা জিজ্ঞেস করলেন, “জানলায় কেউ উঁকি মারছিল?”

আমি কিছুই বলতে পারলুম না। নিমেষে কেমন যেন কুঁকড়ে গেলুম। ভয়ে? না তো, আমার তো ভয় পাওয়ার কিছু ছিল না। ছেলেটা তো আমায় ভয় দেখায়নি। সে তো একমনে আমার গান শুনছিল! তবে কি তাকে আচমকা দেখে আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠেছি। বোধহয়, তাই। আমি এইসব ভাবতে ভাবতে মুখ বুজে মায়ের সঙ্গে খেতে চলে গেলুম! খেতে বসলুম বটে, কিন্তু মুখে রোচে না কিছুই। শুধু ছেলেটার চোখদুটোই বারবার আমার চোখের ওপর ভেসে উঠছিল। আমি বুঝতে পারছিলুম মা আমাকে মাঝে মাঝে আড়চোখে দেখছেন। অন্যদিন খেতে খেতে মায়ের সঙ্গে কলকল করে ইস্কুলের বন্ধুদের সম্বন্ধে কত কথা বলি। আজ মুখ নিচু করে খাচ্ছি আর ভাবছি কখন খাওয়াটা শেষ হবে। ঠিক তখনই মা জিজ্ঞেস করে বসলেন, “কী হল তোর? কথা বলছিস না কেন?”

আমি মায়ের মুখের দিকে তাকালুম। কী উত্তর দেব কিছু ভেবে না পেয়ে আমিই উলটে মাকে জিজ্ঞেস করলুম, “বাবা কি শুয়ে পড়েছে?”

“অনেকক্ষণ।” মা উত্তর দিলেন।

আমি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলুম, “নতুন গানটায় বাবা খুব সুন্দর সুর দিয়েছে, তাই না মা?”

“হ্যাঁ, তোর গলায় গানটা শুনতেও ভাল লাগছে,” মা উত্তর দিলেন।

“বলো, বাবার কবি-বন্ধু কেমন সুন্দর লিখেছেন গানটা।” আমি এবার অনেক সহজ গলায় জিজ্ঞেস করলুম।

“উনি তো ভালই লেখেন,” জবাব দিলেন মা।

ঠিক এই সময়ে ওপরের বড় ঘড়িতে এগারোটা বাজার ঘণ্টা পড়ল। মা বললেন, “উঠে পড়, অনেক রাত হয়ে গেছে!” সত্যি রাত হয়ে গেছে অনেক। এখনই শুয়ে পড়তে হয়। আর দেরি করা ঠিক নয়।

বাবার অফিসের ফাংশনের দিন এগিয়ে এসেছে। পরশু। ঠিক হয়েছে আমি গাইব। উফ কী ভয় করছে। একবার যদি বেসুর করে ফেলি, তা হলে লজ্জার একশেষ। তাই ক’দিন ধরে আদা-জল খেয়ে বাবা আমায় নিয়ে পড়েছেন। আমাকে ভাল গাইতেই হবে।

বলতে বলতেই পরশু এসে গেল। ফাংশন আজ। বাবার অফিসের ছাদটা বিরাট। ওঁদের অফিসের সব ফাংশনই হয় ওই বিরাট ছাদে। কী চমৎকার প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছে গোটা ছাদটা ঘিরে। নানা বাহারি কাপড়ের চোখধাঁধানো কারুকাজ। দেখলে কে না অবাক হয়! তেমনই সুন্দর করে সাজানো হয়েছে মঞ্চ। যত আলো, ততই ঝলমলানি। ছাদভর্তি দর্শক। একেবারে জমজমাট অনুষ্ঠান।

থাক অন্য কথা, আমার কথায় আসি। তিনটে অনুষ্ঠানের পর আমার ডাক পড়ল মঞ্চে। ঘোষণা করা হল: এবার গান শোনাবে আমাদের ছোট্ট বন্ধু রাকা সরকার।

আশ্চর্য এই, এতদিন আমি যে প্রায় রোজই ফাংশনের কথা ভেবে ভেবে ভয়ে দিন কাটাচ্ছিলুম, আজ কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমার সেই ভয় নিমেষের মধ্যে কোথায় যেন উবে গেল। আর তেমন করে কাঁপল না আমার বুক। কোথা থেকে কে যে আমায় সাহস জোগাল, আমি বলতে পারব না। কোনও কিছু না ভেবে সিধে মঞ্চের মধ্যিখানে গিয়ে হাতজোড় করে সবাইকে নমস্কার করে আমি হারমোনিয়ামের সামনে বসলুম। আমার মুখের সামনে মাইকটা সেট করে দিয়ে গেলেন একজন। আমি গান শুরু করলুম:

ছেলেটাকে ডাকে কেউ, এই ভেলভেলে

এই একটা লাইনই মাত্র সবে গেয়ে উঠেছি। এমনই সময়ে হঠাৎই কোত্থেকে যে একটা ছায়া ভেসে এসে আমার চোখের ওপর অন্ধকার ছড়িয়ে দিল, আমি বুঝতে পারলুম না। তারপরেই আমি ধন্দে পড়ে গেলুম। কেন না, আমার মনে হল, এই ছায়া সেই ছেলেটার। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখতে পেলুম, পলকের মধ্যে মস্ত বড় প্যান্ডেলটা অন্ধকারে ডুবে গেল। কোথাও একফোঁটা আলোর চিহ্ন নেই! সব আলো নিভে গেছে। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলুম, আমার মুখের মাইকটা সেই ছেলেটার ছায়া টান মেরে ছুড়ে ফেলে দিল দর্শকদের দিকে। কার মাথায় পড়ল কে জানে! আলোর তার, মাইকের সাজ-সরঞ্জাম, প্যান্ডেলের বাহারি কাপড়ের কারুকাজ সমস্ত ছিঁড়ে-ছড়িয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। শুরু হয়ে গেল হইহল্লা, চিৎকার। চেঁচামেচি। তারপর হুড়োহুড়ি। হুড়োহুড়ি মানেই ধাক্কাধাকি। চেয়ার, টেবিল, ফুলের টব, শৌখিন আসবাব ভেঙে সব তছনছ হয়ে গেল। সে কী তুলকালাম কাণ্ড! আমি তখন মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছি। ঠিক তখনই মঞ্চের একটা খুঁটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। বাবা চিৎকার করে উঠলেন,“রাকা-আ-আ!” মা আমাকে উদ্ধার করার জন্যে পাগলের মতো মঞ্চটা হাতড়াতে লাগলেন। কিন্তু সেই ভয়ঙ্কর গণ্ডগোলে তখন কে কাকে খুঁজে পাবে!

হঠাৎ আমার কানের কাছে সেই ছেলেটা কান-ফাটানো কর্কশ গলায় চিৎকার করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে আমায় ধমক দিয়ে বলতে লাগল, “আমি ভেলভেলে! কে বলেছে আমি ভেলভেলে! আমি তোমার কী ক্ষতি করেছি যে, তুমি আমায় ভেলভেলে বলবে! আমি সব ভেঙে তছনছ করে দেব। তোমাকে ছাদের ওপর থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলব। তুমি মরবে, যেমন আমি মরে গেছি!”

তারপর যে কী হল, আমি মনে করতে পারছি না। শুধু এইটুকু মনে করতে পারি, আমি আর দাঁড়াতে পারলুম না। আমি জ্ঞান হারালুম।

কখন কেমন করে যে বাড়ি এসেছি, বলতে পারব না। কখন আমার জ্ঞান ফিরেছিল তাও আমার মনে নেই। হঠাৎ একটা কানফাটা শব্দ শুনলে যেমন চমক লেগে মানুষের ঘুম ভাঙে, তেমনই করে আমার ঘুম ভেঙেছিল। আমি এখন মায়ের পাশে শুয়ে আছি। অন্ধকার ঘরে মা ঘুমোচ্ছেন। বাবা পাশের ঘরে ভাইকে নিয়ে নিজেও ঘুমোচ্ছেন। আমি অন্ধকারে উঠে বসলুম। ভীষণ তেষ্টা পাচ্ছিল। না, মাকে ডাকলুম না। নিজেই হাত বাড়িয়ে টেবিলের হদিস করতে লাগলুম। বুঝতে পারছিলুম রাত এখন নিশুতি। কিন্তু ঘড়িতে ক’টা বেজেছে, অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছিলুম না। দেওয়াল ঘড়ির টিক টিক শব্দ ছাড়া এখন সব নিস্তব্ধ। বিছানা ছেড়ে নীচে নেমে দাঁড়ালুম। মাটিতে পা পড়েছে কী পড়েনি, ঠিক তখনই কে যেন নেহাতই ভেংচি কাটার মতো গলায় আমার কানের কাছে ফিসফিস করে গেয়ে উঠল:

অন্যকে গাল পেড়ে, গান গেয়ে

যারা মজা পায়,

ধিক ধিক! তারা যেন দুখ-তাপে

মরে লজ্জায়!

আমার সমস্ত শরীর আতঙ্কে শিরশির করে উঠল। আমি ঝড়ের মতো মুখ ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালুম। কাউকে দেখতে পেলুম না। শুধু শুনতে পেলুম, একটা অদ্ভুত অস্পষ্ট চাপা হাসি! সে-হাসিতে ঠাট্টার ঠোক্কর। আমিও চাপাস্বরে জিজ্ঞেস করলুম, “তুমি কে? কে আমার ঘরে ঢুকেছ?”

তার হাসি থেমে গেল। মুখের গানটা গুনগুন করে সে ঘরের ভেতর লুটোপুটি খেতে লাগল। আশ্চর্য এই, তার গলার শব্দটা এখন এতই মিহি, মায়ের ঘুমের কোনওই ব্যাঘাত ঘটল না। মা নিঃসাড়ে ঘুমোচ্ছেন। মাকে সে সম্মোহন করে দিল না তো!

হঠাৎ আমার মনে হল, সে গুনগুন করতে করতে এই ঘর থেকে বেরিয়ে আমার ঠাকুরদাদার জলসাঘরে ঢুকেছে। আমিও তার পিছু নিলুম। আমি এদিক ওদিক হাঁটকে হাঁটকে তাকে খুঁজতে লাগলুম। খুঁজতে খুঁজতে জিজ্ঞেস করলুম, “তুমি এভাবে এ-ঘরে ও-ঘরে কেন ঘুরঘুর করে ঘুরে বেড়াচ্ছ?”

সে এবারও কোনও উত্তর দিল না। আমাকে অগ্রাহ্য করে গুনগুন করে গাইতেই লাগল:

অন্যকে গাল পেড়ে, গান গেয়ে

যারা মজা পয়,

ধিক ধিক! তারা যেন দুখ-তাপে

মরে লজ্জায়!

সে গুনগুন করতে করতে ঠাকুরদাদার জলসাঘর থেকেও বেরিয়ে গেল।

আমিও তার পেছনে ধাওয়া করলুম।

আমি বুঝতে পারলুম, সে ছাদের সিঁড়ি ধরেছে। আমিও সিঁড়িতে পা দিলুম। এই অন্ধকার রাতে আমার একা ছাদে ওঠা উচিত কি না, সে বিচার করার বুদ্ধি তখন আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমি তার গান শুনতে শুনতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো অন্ধকারে সিঁড়ি টপকাচ্ছি! তখন আমার কারও কথা মনে নেই। না মায়ের কথা, না বাবার কথা। এমনকী, মনে নেই আমার ছোট্ট ভাইটার কথাও! সেই অবস্থাতেই আমি ছাদে উঠে এলম। আমি ছাদের কিনারায় এসে দাঁড়াতেই আমি দেখতে পেলুম সেই ছেলেটাকে। গান থামিয়ে সে এখন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমার চোখের দৃষ্টি কেমন ঝাপসা হয়ে এল। আমি হাঁকপাক করে ছুটে তাকে ধরতে গেলুম। খেয়াল করলুম না, ছাদের কিনারা থেকে আর এক পা এগোলেই আমি একতলার উঠোনে গিয়ে পড়ব। আমি চিৎকার করে তার হাতটা খামচে ধরতে গেছি। ফসকে গেল আমার হাত। পিছলে গেল আমার পা। আমি বোধহয় মুখ থুবড়ে একতলাতেই পড়লুম।

না, বেঁচে গেলুম! কে যেন আমায় ধরে ফেলল। বোধহয় বাবা! আমি তড়িৎগতিতে ফিরে দাঁড়াতেই আমার চক্ষুস্থির! দেখলুম, আমার বাবা নন, আমার ঠাকুরদাদা, দু’হাত দিয়ে আমাকে জাপটে ধরে আছেন। আমার দেহটা ছাদ থেকে একতলার দিকে ঝুলছে। আমি আর্তনাদ করে উঠলুম, “মা-আ-আ-আ!” তারপর আর আমি কিচ্ছু জানি না। শুধু জানি, ছাদের আলসের ওপর আমার মাথাটা ছিটকে পড়ে আটকে গেল। আমি মুখ থুবড়ে ছাদের ওপরই পড়ে রইলুম!

তারপর?

তারপর অনেকদিন কেটে গেছে। সেই ছেলেটার আর কোনওদিন দেখা পাইনি। কিন্তু হঠাৎ সেদিন যাঁর দেখা পেলুম, সেই ঠাকুরদাদা যে কেমন করে কোথা থেকে এসে আমাকে বাঁচিয়েছিলেন তার হদিস আজও করতে পারিনি। আজও যখন সেই দৃশ্যের কথা ভাবি, আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। আমার ঠাকুরদাদা আমাকে বাঁচিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি তো তার কতদিন আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তবে কি আমাকে বাঁচাল ঠাকুরদাদার প্রেতাত্মা!

তার উত্তর আমি এখনও পাইনি।

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%