শৈলেন ঘোষ

ঘুম ভেঙে গেল ইতিমিচিসাহেবের হঠাৎ, এই কাকভোরে। সত্যি বলতে কী, এখনই ঘুম ভাঙার কথা নয় ইতিমিচিসাহেবের। তা নয়-নয় করে বেলা ন’টা অবধি তো তিনি বেমালুম নাক ডাকাবেন! এমন গেঁতো লোক তুমি দুটি পাবে না। উঁহু! না, না। ইতিমিচিসাহেবকে গেঁতো বলাটা ঠিক হল না। কেননা, বিলিতি গন্ধওলা এই দিশি-সাহেবটির অন্তত রাত একটার আগে কোনওদিনই চোখের পাতা এক হবে না। তার আগে পর্যন্ত ঘরে খিল এঁটে গুনে গুনে তিনি একশো পঁচিশটি মশা মারবেন। তারপর আলমারির ফাঁকে ওঁত পেতে চুপটি করে বসে থাকবেন। বসে বসে নেংটির ওপর নজর রাখবেন। নেংটি নজরে পড়লেই, খপাত করে খাবলে ধরে তার ভুষ্টিনাশ করে ছাড়বেন। এমনি করে এখনও পর্যন্ত তিনি শ’দুয়েক ইঁদুর মেরেছেন আর কয়েক হাজার মশার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তাঁর যুদ্ধের এই দুর্দান্ত বীরত্বের কাহিনি আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি। সেই কারণে এই কাহিনি নিয়ে খবরের কাগজেও হইহই করে কোনও খবরও বেরোয়নি। এমনকী, তাঁর কোনও ছবিও ছাপা হয়নি। না-ই ছাপা হোক। ছবি ছাপলে তো আর ইতিমিচিসাহেবের রাবণের মতো দশটা মাথাও গজাবে না, কিংবা তাঁর সাফসুরত টাকটিরও ওপর কচি কচি চুলও দেখা দেবে না। তিনি যেমন কে তেমন সাহেবই থাকবেন। খুশি হলে, নাকে খড়কে গুঁজে হাঁচতে হাঁচতে গান গাইবেন।
হ্যাঁ, গান তিনি গাইতে পারেন, এ তো সবাই জানে। কিন্তু তাঁর গান তিনি ছাড়া আর কারও ভাগ্যে শোনা হয়নি কোনওদিন। অবিশ্যি শোনবার ইচ্ছে হলে অন্যকথা। তখন কে আর ঠেকিয়ে রাখতে পারে! তবে, সেই গান শোনার ইচ্ছেটা যখন তখন হলে শোনা মুশকিল। ইচ্ছেটা হওয়া চাই সেই নিশুতরাতে। মানে, যখন তিনি ইঁদুর মশার সঙ্গে যুদ্ধ করে হাঁফ ছেড়ে ডিগবাজি খান। গভীর রাতে ডিগবাজির তালে তালে সে-গান যে কী মিঠে মিঠে শুনতে লাগে তা কহতব্য নয়। আমি হলপ করে বলতে পারি, সেই গান যে শুনবে ডিগবাজি তাকেও খেতে হবে। অবিশ্যি কেউ যদি গায়ে গতরে একটু ইয়ে, মানে শাঁসেজলে হয়, তবে তার কথা আলাদা। কেননা, তাঁর ডিগবাজিটা চিতবাজি হয়ে যাবার মারাত্মক সম্ভাবনা একশোর মধ্যে একশো।
থাক বাবা, আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। এখন আসল কথাতেই আসা যাক। কথাটা হচ্ছে, এই কাকভোরে তাঁর ঘুমটা ভাঙল কেন! ভাঙবে না-ই বা কেন? অমন একদঙ্গল কাক যদি এই ভোর থেকেই তাঁর জানলার ধারে কিংবা কার্নিশের খাঁজে ক্যারকেরে গলায় ক্যা ক্যা করে চেল্লায় তো কার চোখে ঘুম থাকে। অবিশ্যি শুয়ে শুয়েই তিনি যে দু’-চারবার হুসহাস করেননি, তা নয়। কিন্তু কাক বলে কথা। সে কখনও শোনে? ইস্কুলের অঙ্কের স্যারের কথাই সে শোনে না, তো ইতিমিচিসাহেব। অগত্যা কাকের ক্যারক্যারানিতে বিরক্ত হয়ে তিনি নিজেও ক্যা ক্যা করে কাকেদের ভেংচি কেটেছেন। তাতেও কাকেদের ঠেকানো যায়নি। এমনকী, একবার বিছানা ছেড়ে তড়াং করে উঠে বালিশটা ছুড়ে দিয়েছেন, সাঁ-ই-ই! কাকেদের গায়ে তো লাগলই না। উলটে বালিশটা ঘরের জানলা টপকে গোত্তা মারল জঞ্জালের ডাব্বায়। ব্যাস! ইতিমিচিসাহেবের ঘুম গেল চটকে। তিনি তড়বড় করে উঠে পড়লেন। বিছানা ছেড়ে উঠে জানলার গরাদে মুখ ঠেকালেন আঁকপাকিয়ে। হায়, হায়! বালিশটা যে জঞ্জালের গাদায় ডুব মেরেছে। আর একটু হলে তিনি প্রায় ভ্যাঁ করে কেঁদেই ফেলেছিলেন। কিন্তু খুব রক্ষে কাঁদতে তিনি পারলেন না। পারলেন না বলাটা ঠিক হল না। বরঞ্চ বলা উচিত, কান্নাটা তাঁর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল না। আসলে যখন পড়ব পড়ব করছিল তখনই রাগে তাঁর চোখদুটো কটমট করে উঠল। তিনি চক্ষু রক্তবর্ণ করলেন। দেখলেন, ঝাঁক ঝাঁক কাক তাঁর বালিশটার পেটের ওপর নাচছে এবং নেচে নেচে ঠোকরাচ্ছে। আর দেখতে হয়, বালিশের পেটটি ঠোঁটের ঠোক্করে ফুটি ফাটা হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে পেটের তুলো ফুরফুর করে বেরিয়ে পড়ছে। তিনি ভ্যাবাচাকা খেয়ে হে-হে করে তেড়ে উঠলেন। জানলার গরাদের ফাঁকে মাথাটা গলাবার জন্যে তিনি হাঁসফাস করতে লাগলেন। কিন্তু এখন ইতিমিচিসাহেবকে কে বোঝাবে বলো, তাঁর অতবড় মাথাতা গরাদের ফাঁকে গলবে না। আজ্ঞে, আপনার চেষ্টা করাই বৃথা! কিন্তু হায় রে, তাঁর বালিশের ওই দুর্দশা দেখে, তিনি এমন চটান চটেছেন, দেখে মনে হচ্ছে মাথা দিয়ে গোত্তা মেরে তিনি বুঝি-বা জানলাটাই ভেঙে ফেলেন। এখন তাঁকে কে বলবে, আরে মশাই, জানলা দিয়ে নয়, দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান।

কিন্তু যাঃ! সে-কথা বলবার সুযোগই এল না। তাঁর মাথা জানলায় গোত্তা খেতে খেতে ফট! মানে? মানে জানলার গরাদের ফাঁকে মাথাটি তার গলে গেছে! ব্যাস! হাড়িকাঠে পাঁঠার যেমন অবস্থা হয়, এখন ইতিমিচিসাহেবেরও ঠিক সেই অবস্থা। তিনি না-পারেন নিজে বেরিয়ে আসতে, না-পারেন মাথাটিকে গরাদের ফাঁক থেকে বার করে আনতে। অগত্যা জানলার গরাদের সঙ্গে লাগিয়ে দিলেন কোস্তাকুস্তি। তিনি মাথা টানেন, হাত দিয়ে ঠেলা মারেন, কোঁত পাড়েন। কিছুতেই কিছু হয় না। কিন্তু হল কী, কাকগুলো সাহেবের ওই দুর্দশা দেখে আরও জোরে চিৎকার করতে লাগল। একটা কাক তো তাল বুঝে ঠকাস করে সাহেবের টেকো মাথায় ঠোক্কর মেরে বসল। সাহেব ঠোক্কর খেয়ে উ-হু-হু করে ককিয়ে উঠলেন বটে, কিন্তু কিছুই করতে পারলেন না। উলটে হল কী, একটা কাককে ঠোক্কর দিতে দেখে অন্যগুলোও বালিশ ছেড়ে সাহেবের টাকটাকেই তাক করল। দে ঠোক্কর! সাহেবের প্রাণ বুঝি যায়। সাহেব চিৎকার করে উঠল, “সেভ মি, সেভ মি!”
কিন্তু তাঁর চেঁচানোই সার। কেননা, ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁকে রক্ষা করার জন্যে হাতের কাছে কেউ-ই ছিল না। কাজেই নিজেকে বাঁচাতে তিনি নিজেই মাথা ঝাঁকিয়ে কাক তাড়াতে লাগলেন। আর থেকে থেকে চিৎকার করে লম্ফ দিতে লাগলেন। কিন্তু হায় রে হায়, মাথাখানা তাঁর গরাদের ফাঁকে এমন সাঁটা সেঁটেছে যে, কার সাধ্যি তাঁকে উদ্ধার করে!
অগত্যা, যখন আর কিছুতেই কিছু হল না, তখন তিনি ভয়ানক ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। তিনি হাঁপাতে লাগলেন ফোঁস ফোঁস করে। আর ভাবতে লাগলেন, শেষ পর্যন্ত কি তাঁকে এমনি করেই থাকতে হবে গরাদে আটকে! এবার কিন্তু ইতিমিচিসাহেবের সত্যিই কান্না পেয়ে গেল। যেই কান্না পেয়ে গেল, অমনি তাঁর চোখ দিয়ে টুপুস টুপুস করে জল গড়িয়ে পড়ল। আর বলব কী, কেলেকিষ্টি কাকগুলোও ক্যারক্যারানি থামিয়ে ঝপাঝপ এদিক ওদিক উড়ে পালাল। যাঃ! ইতিমিচিসাহেব এখন এক্কেবারে একা। একা একা তিনি হতাশায় কপাল চাপড়াতে লাগলেন! হায়, হায়! কী কপাল মানুষটার! আজ এই শনিবারের ভোরবেলায় কোথায় তিনি ঘুম থেকে উঠে একটু ভালমন্দ খাবেন, কোথায় নিজের আয়নাতে মুখখানা দেখতে দেখতে নিজেই নিজে মোহিত হয়ে খিলখিল করবেন, তা নয়, জানলার গরাদে মাথা আটকে গেল! গেল তো গেল একেবারে চিরদিনের মতো! অথচ দ্যাখো, মাথাটি গরাদের ফাঁকে যখন ঢুকল, তখন সুড়ুত করে! কিন্তু বেরোবার বেলায় দাঁত কপাটি! এ কী অন্যায় আবদার বলো তো! বলিহারি যাই পথে-ঘাটের মানুষকে! তোদেরও কি বাবা কাজকম্ম নেই! একবার যাবি তো এই পথ দিয়ে! তা নয়, তাদের টিকিটি পর্যন্ত নজরে পড়ছে না।
না, না, ওই তো নজরে পড়েছে। ওই তো কে যেন আসছে ইদিকে! ইতিমিচিসাহেবের বুকটা চনমন করে উঠল। তিনি মহা উৎসাহে গলা খেঁকরি দিয়ে আঃ আঃ করে ডাক দিলেন। ইতিমিচিসাহেবের কাছাকাছি এসে সে-ও সাড়া দিল ব্যা-এ্যা-এ্যা! তারপর ঘাস-পাতা খুঁজতে খুঁজতে ফিরফির করে ল্যাজ নাড়তে লাগল। আর থেকে থেকে বুড়ুত বুড়ুত করে নাক ঝাড়তে লাগল। এ কী রে! এ তো মানুষ নয়! একটা ছাগল!
হোক ছাগল। ইতিমিচিসাহেব সেই ছাগল দেখেই পাগল হলেন। তিনি আকুল স্বরে চিৎকার করে উঠলেন, “প্লিজ মাদার-গোট, সেভ মি, সেভ মি!”
কিন্তু মাদার-গোট তাঁর কথা কানেই নিল না। সে ঘাসে মুখ দিয়েই দাঁত কড়মড় করতে লাগল। ইতিমিচিসাহেবের চিৎকার শুনে ছাগলের কোনও গ্রাহ্য নেই দেখে সাহেবের মনে হল, দুর ছাই কার সঙ্গে কথা বলছেন তিনি! এ তো ছাগল! ছাগল কি আর ইংরিজি বোঝে! তাই তিনি খানিকটা দিশি বাংলায় আর অনেকটা ভাঙা হিন্দিতে চিৎকার করে উঠলেন, “ছাগলিমায়ি, ছাগলিমায়ি, হামি মরে যাবে, হামাকে বাঁচাও!”
ছাগলিমায়ি কী বুঝল কে জানে! ইতিমিচিসাহেবের ফাঁদে আঁটা মুন্ডুটার দিকে পলক তাকিয়ে নরম সুরে ডাক দিল, “বা-আ-আ!” ডাক দিয়ে, আবার ঘাস চিবোতে লাগল।
সেই নরম ডাক শুনে ইতিমিচিসাহেবের মন যেন মোমের মতো গলগল করে গলে গেল! তিনি ভাবলেন, তা হলে বোধহয় ছাগলি-মা-র মন টলেছে। হোক না ছাগল, তবু মা তো! পৃথিবীর কোন্ মাকে ‘মা’ বলে ডাকলে তার মন গলে না শুনি! সে তুমি বাঘই বলো আর ছাগই বলো, মায়ের বেলা সবাই সমান। তাই ইতিমিচিসাহেব আর থাকতে না পেরে নিজেও ‘ব্যা-এ্যা-এ্যা’ করে ডেকে উঠলেন। কাঁপা কাঁপা গলায়, ফাঁপা ফাঁপা সুরে আবদার করলেন, “ম্যা-এ্যা-এ্যা, হামাকে বাঁচাও-ও-ও। হামার মুন্ডু এই জানলামে ফাঁস গ্যয়া। তুমহি ছাড়া আমার কোই নেহি আছে ম্যা-এ্যা-এ্যা!”
ছাগলটা আরও একবার ইতিমিচিসাহেবের মুখের দিকে আড়চোখে তাকাল। তারপর “ব্যা-এ্যা-এ্যা” করে ডেকে নিজের মনে ঘাস চিবোতে লাগল।
ইতিমিচিসাহেব ছাগলটার চোখে অমন তাচ্ছিল্যের চাউনি দেখে ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে কড়কে উঠলেন, “ইউ নটি ছাগলি, হামি কী বলছি কানমে প্রবেশ করছে না? মারব এক গাঁট্টা।”
ছাগলটা ইতিমিচিসাহেবের কড়কানি শুনে যে একটুও ভয় পেয়েছে, তাকে দেখে তেমনটা মনে হল না। তবে ছাগলটা এবার বেশ মন দিয়ে ইতিমিচিসাহেবের মুখের দিকে তাকাল। মাথাটা নাড়ল। নাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাগলের কানদুটো গালের ওপর থুবড়ি খেয়ে পতপত করে উঠল। আর সঙ্গে সঙ্গে ইতিমিচিসাহেবের মেজাজটাও ঠান্ডা জলের মতো স্থির হয়ে গেল। ইতিমিচিসাহেবও তাঁর মুখখানাকে আহ্লাদে মাখামাখি করে তাকালেন ছাগলটার দিকে। আর অমনই ছাগলটা তার সামনের দুটো ঠ্যাং দেওয়ালে ঠেকিয়ে মুখখানাকে বাড়িয়ে দিল। ইতিমিচিসাহেবের ধড়ে যেন প্রাণ এল। তিনি দু’হাত দিয়ে ছাগলটাকে ধরতেই, ছাগলটা তাঁর গালের ওপর জিভ ঠেকিয়ে চটাং চটাং করে চাটতে লাগল। আহা রে, এই দুঃসময়ে তাঁর গালে ছাগলের এই চটাং চটাং চাটনিচাটা কী ভালই না লাগছে! ইতিমিচিসাহেব আর থাকতে পারলেন না। তিনি এ-গাল ও-গাল দু’গালই বাড়িয়ে দিলেন। এ-গাল ও-গাল দু’গাল-ই চাটতে চাটতে ছাগলটা যেই কানের গর্তে মুখ ঠেকিয়েছে, ইতিমিচিসাহেবের লেগে গেছে সুড়সুড়ি। ইতিমিচিসাহেব দু’বার হি-হি করে হেসে উঠতেই, ছাগলটা ইতিমিচিসাহেবের কানটা ধরেছে কামড়ে। আর হাসি! লোকটা যন্ত্রণায় ছটফটিয়ে উঠল, “আঃ, উঃ, আউচ!” শেষে কামড়ের টানে যখন কানটা প্রায় উপড়ে যাবার গোত্তর, তখন ইতিমিচিসাহেবও ছাগলের কানদুটো দু’হাত দিয়ে খামচে ধরেছে, ব্যাস! লেগে গেল কানে কানে টানামানি। এ-ও ছাড়ে না, সে-ও ছাড়ে না। অগত্যা দু’জনেই জুড়ে দিল চেঁচামেচি। এ যদি ডাক ছাড়ে ব্যা-এ্যা-এ্যা-ব্যা! তবে ও হাঁক ছাড়ে বাপ রে বাপ! ছাগল যদি কান কামড়ে ঠ্যাং ছোড়ে, তবে সাহেব তখন কান পাকড়ে লাফ মারে। শেষে ঠ্যাং ছুড়তে ছুড়তে আর লাফ মারতে মারতে হঠাৎ একফাঁকে ছাগলের নাকের ভেতর একটা মাছি সেঁদিয়ে গেছে। আর দেখতে হয়! ছাগল দিয়েছে এক বাজখাঁই হাঁচি, বুড়ুত-ত-ত। ছাগলের নাকের ভেতর থেকে সর্দির ফুলকিগুলো ইতিমিচিসাহেবের মুখের ওপর ধাক্কা দিয়ে গড়িয়ে পড়ল। ইতিমিচিসাহেব ঘেন্নায় এ ম্যা-ম্যা করে চিৎকার করে উঠলেন। চিৎকার করতেই মাথাটা মারল এক বোম্বাই গোত। জানলার গরাদ ফসকে মাথা নিয়ে তিনি ছিটকে পড়লেন ঘরের মধ্যে। আর কান ফসকে ছাগলটা মারল এক ছুট যে দিকে দু’চোখ যায়। ব্যা-এ্যা-এ্যা!
ইতিমিচিসাহেব প্রথমটা থতমত খেয়ে কেমন যেন ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইলেন এদিক ওদিক। তাঁর মাথাটি যে গরাদ হড়কে আবার বেরিয়ে এসেছে এ-কথাটা যেন তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছিল না প্রথম-প্রথম। তারপর যখন অবিশ্বাস করতে করতে তিনি বিশ্বাস করে ফেললেন, তখন তিনি প্রথমটা হেসে উঠলেন! তারপর চক্ষু কপালে তুলে ভেবে পড়লেন। ভাবতে ভাবতে তাজ্জব বনে গেলেন! ছাগলিমায়ির হাঁচির এত তেজ! এক হাঁচিতেই মুন্ডুপাত! ব্যা-এ্যা-এ্যা! তারপর তিনি অনেকক্ষণ কথাও বলতে পারলেন না।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন