ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া

শৈলেন ঘোষ

হঠাৎ চোখ পড়লে প্রথম নজরেই তোমার মনে হবে ঘোড়াটার গায়ের রং কুচকুচে কালো। কিন্তু একটু ভাল করে ঠাওর করলেই তুমি বুঝতে পারবে, কালো নয়, ঘোড়ার গায়ের রং কালচে নীল। তবে বলা যাবে না, ঘোড়াটা টগবগিয়াল। এখন ঠুকুস ঠুকুস করে হাঁটে। একটু হেঁটেই হাঁপায়। যেন খেতে পায়নি কতদিন। কার ঘোড়া কেউ জানেও না। এককালে হয়তো ছিল কোনও মস্ত জমিদারের। হয়তো তখন পেটে দানাপানি পড়ত চারবেলা। এখন একা একা, মাঠে ঘুরে ঘুরে ঘাস চিবোয়। শুধু ঘাসে কী আর তাকত হয়! তার ওপর সে ঘাস যদি হয় শুকনো। কাজেই হাঁটো ঠুকুস ঠুকুস করে যদ্দিন বেঁচে আছ।

সবাই বলে ঘোড়ার দয়ায় লোকের কপাল খোলে। আবার তারই জন্যে যে কোমর ভাঙে, একথাটাও মিথ্যে নয়। তা, ঘোড়ার সে সব কাহিনি নিয়ে অনেক গল্পটল্প হয়েছে। কিন্তু ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়ার কাহিনি নিয়ে এই প্রথম কথাবার্তা শুরু হল। আর সেই কাহিনি নিয়েই যে কত কাণ্ড ঘটে গেল, কী বলব!

মাঝে মাঝে ইতিমিচিসাহেবের মাথায় এমন সব আজগুব-গুব ইচ্ছে চাগাড় দিয়ে ওঠে! একবার তার মনে হয়েছিল, চিলের মতো ছোঁ মেরে তিনি জিলিপি খাবেন। দ্যাখো কাণ্ড! আসলে তাঁর নাকের ডগায় ঘটনাটা ঘটেছিল বলেই এমন একটা উদ্ভট চিন্তা তার মাথায় কিলবিলিয়ে উঠেছিল। হয়েছে কী, একটা নেহাতই পুঁচকে ছেলে দোকান থেকে গরম জিলিপি কিনে চাখতে চাখতে যাচ্ছিল রাস্তা দিয়ে। ও মা, এমন সময়ে একটা গোদা চিল আচমকা কোত্থেকে উড়ে এসে তার হাতে মারল ছোঁ! মেরেই জিলিপি নিয়ে ভোঁকাট্টা। ছেলেটা তো হাঁ! তারপরেই ভ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ-এ্যাঁ!

সেই সময়ে রাস্তা দিয়ে ইতিমিচিসাহেবও যাচ্ছিলেন। ছেলেটা ভ্যাঁ করে কেঁদে উঠতেই তিনিও প্রায় আর একটু হলেই হাউ হাউ করে হেসে ফেলেছিলেন। খুব রক্ষে! কী কষ্ট করেই না সামলে গেলেন। ছিঃ, এমন বিপদেপড়া একটা ছোট্ট ছেলের কান্না দেখে, ইতিমিচিসাহেবের মতো এমন একজন টুপিপরা মানুষের হাউ হাউ করে হাসাটা কি উচিত কাজ! তিনি অবশ্য হাসতে গিয়েও হাসলেন না বটে, কিন্তু তিনি ছেলেটার কান্না দেখে ছুটলেন চিল ধরতে। তিনিও ছিনিয়ে আনবেন চিলের ঠ্যাং থেকে ছেলেটার মুখের আধ-কামড় জিলিপিটা! কে কবে শুনেছে আকাশে চিল ধরতে মাটিতে মানুষে ছোটে। এই যে তুমি আকাশে ঊর্ধ্ব-মুখে ছুটছ, সামনে দেখবে তো কী আছে, না আছে। এক্ষুনি টপাস করে খালেও পড়তে পারো, না হয় ধপাস করে গাড়ি ঘোড়ার ধাক্কাও খেতে পারো। অবিশ্যি রক্ষে, এখানে খালও নেই, গাড়িও নেই। কিন্তু তিনি ধাক্কা খেলেন, গাড়ির বদলে ঘোড়ার।

ধাক্কা খেতেই ইতিমিচিসাহেবের আকাশমুখো মুখখানা একমুখ হাওয়া ছেড়ে যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠল, উফ-ফ-ফ! ধাঁ করে আকাশ থেকে চোখ নামিয়েই তিনি হাঁ হয়ে গেলেন। দেখলেন, তাঁর সামনে একটি ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে। তাই দেখে তিনি সাত হাত দূরে পালিয়ে গেলেন। সাত হাত দূর থেকেই তিনি দেখলেন। দেখলেন ঘোড়ার ছিরি! হাড় বার করা রোগাপটকা। মরে যাই ঘোড়ার দশা দেখে! ঘোড়াকে তিনি ধাক্কা মারলেন, না, ঘোড়াটা তাঁকে মারল, সে নিয়ে ভেবে তো কোনও লাভ নেই। যাক গে যাক, ধাক্কা যখন লেগেছে, তখন ছাড়ান দাও! খামোকা চেঁচামেচি করে লাভ নেই। এই ভাল যে, তেমন কিছু অঘটন ঘটেনি। ঘটতে যে পারত না, তেমন কথা কি জোর দিয়ে বলা যায়! বাছাধন ঘোড়া যদি পেছনের পা দিয়ে ইতিমিচিসাহেবকে একখানি ঝাড়ত, তা হলে সাহেবের দুর্দশার শেষ থাকত কি? ভাগ্য ভাল তেমন কিছু হয়নি।

কিন্তু যেটা হল সেটাই বা কম কী! জিলিপি ছোঁ-মারা চিলটা তো এই তক্কে হাওয়া হয়ে গেল। হায়! হায়! এতটা ছোটাই সার। তবে একদিক থেকে ভালই হয়েছে, ছুটতে ছুটতে সাহেবেরও যে দম ছুটে গেছে। বোকা! বোকা! আকাশের উড়ন্ত পাখিকে কেউ কখনও ছুটে ধরতে পেরেছে! এ কি ছিঁচকে চোর ধরা, না, আকাশে ভোঁকাট্টা ঘুড়ি ধরা! তার ওপর এটি একটি চিল। ঠিক দুকুরে আকাশে যদি হঠাৎ নজর পড়ে যায়, আর তোমার যদি ভাগ্য ভাল থাকে, তবে তুমি ঠিক দেখতে পাবে হুই-ই-ই আকাশে হাই-ই-ই লি-লি করে চিল উড়ছে। এট্টুসখানি বুড়ো-আংলার মতো দেখতে লাগছে। তাকে ধরবে কে!

তা, বলতে নেই, ঘোড়াটার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভালই হয়েছে। ইতিমিচিসাহেব দম নিয়ে বাঁচলেন। আর দম নিতে নিতেই তিনি ভাবলেন, সত্যিই তো, তিনি বোকার মতো কেন ছুটছিলেন চিলটাকে তাক করে। ভাগ্যিস কেউ দেখে ফেলেনি।

কে বলল দেখে ফেলেনি? এমন একটা জলজ্যান্ত ঘোড়া চোখ ড্যাবড্যাব করে দেখছে, আর তুমি বলছ কেউ দেখেনি!

তাই তো বটে! ওই তো দ্যাখো, ঘোড়াটা কেমন একদৃষ্টে ইতিমিচিসাহেবকে দেখছে!

হ্যাঁ তো রে। ঘোড়াটা কার ঘোড়া? এখানে এমন ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছে কেন? দেখে তো মনে হচ্ছে, ভূভারতে তার কেউ নেই। এই কথা মনে হতেই তিনি চিলের ভাবনা ছেড়ে, ঘোড়ার ভাবনা নিয়ে অস্থির হলেন। ঘোড়াটাকে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে দেখতে ইতিমিচিসাহেবের মনে হল, ঘোড়াটাকে ঘোড়া না বলে প্যাঁকাটি বললেই বুঝি মানাত ভাল। তা ঘোড়ার আর দোষ কী! ঠিক মতো দানাপানি দাও, গা-গতরে দলাই-মলাই করো, তারপর দ্যাখো, ঘোড়া প্যাঁকাটি থাকে, না নাদুসনুদুস গোবদা হয়। পড়ত যদি ইতিমিচিসাহেবের হাতে, তবে তিনি দেখিয়ে দিতেন, ঘোড়াকে কেমন করে মানুষ করতে হয়। থুড়ি! থুড়ি! ঘোড়া কোন দুঃখে মানুষ হতে যাবে! কী বলতে মুখ ফসকে কী বলে ফেলেছেন তিনি। সাহেবের মাথাটা একদম গেছে। ছ্যাঃ!

দ্যাখো, দ্যাখো, ঘোড়াটাকে! দৃষ্টি এখনও সাহেবের মুখ থেকে একটুও নড়েনি। কীরে বাবা, ঘাস থেকে মুখ তুলে সেই থেকে সে সাহেবের দিকে চেয়ে আছে কেন? ভাল লেগে গেল নাকি সাহেবকে!

ভাল লাগল, না সাহেবের ওপর রাগ করল, সে অবশ্য ঘোড়ার মুখ দেখে কে বুঝবে। রাগ যদি করেই থাকে, করুক। তবে কাছে এসোনি বাপ! রাগ ফলাতে কাছে এলে মানুষটাকে আবার ছুটতে হবে। তা, এতক্ষণ এতখানি চিলের পেছনে ছোটার পর, এখন তারই পেছনে ঘোড়া যদি ছোটে, তবে নাকালের একশেষ হতে হবে সাহেবকে। তারচে বরং ঘোড়াটা যেমন দেখছে, দূর থেকে তেমনই দেখুক। আর সাহেবও দূর থেকে স্বপ্ন দেখুন: আহা! তাঁরও যদি একটা ঘোড়া থাকত! তা হলে কী মজাটাই না হত! প্রাণ খুলে তিনি হিল্লি-দিল্লি করে দিন কাটাতেন। তাঁর কত ইজ্জত বাড়ত! নিদেন এই ঘোড়াটাও যদি তাঁর হত, তখন দেখতে এই ঘোড়ার বাহার। ঘোড়াটাকে বলতেই পারতে না, রোগাপটকা। দেখতে, ঘোড়া ডগমগ করছে। ওই কালচে নীল গায়ের রং দেখতে ঝকমক করছে। তখন ঘোড়ার এমন ঠুকুস ঠুকুস করে হাঁটা দেখতে না, দেখতে টগবগ করে ছোটা। তখন তার পিঠে বসে আছে কে? স্বয়ং ইতিমিচিসাহেব। হয়তো একদিন ইতিমিচিসাহেব ঘোড়ার পিঠে বসে চলেছেন কোনও এক রাজবাড়ির পাশ দিয়ে। তার পায়ের খুরে শব্দ উঠেছে, টগবগ টগবগ। তার প্রতিধ্বনি উঠেছে রাজবাড়ির দেওয়ালে দরজায়। সেই শব্দ পৌঁছে গেছে রাজার মেয়ের কানে। মেয়ে ছুটে এসেছে ঝরোকার ধারে। সে দেখবে, কোন বীরপুরুষ যায় ঘোড়ায় চড়ে এমন শব্দ তুলে। তাঁকে দেখে, ছোট্ট রাজকন্যা পাখির মতো কলতান তুলে ডাক দেয়, ও সাহেব, তুমি কোথা যাও? আমায় সঙ্গে নেবে?

তারপর? তাঁর স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে গেল। ওই দ্যাখো, ঘোড়াটা যে সাহেবের দিকেই এগিয়ে আসছে। কীরে বাবা, সাহেবের ঘাড়ে পড়বে নাকি লাফিয়ে! কী সর্বনাশ! দরকার নেই বাবা এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখার। তার চেয়ে কেটে পড়াই ভাল!

কাটবেন কী, ঘোড়াটা যে তাঁর পিছু নিয়েছে।

ইতিমিচিসাহেব হনহন করে হাঁটা দিলেন।

ঘোড়াটাও খুট খুট হাঁটা ছেড়ে ঝটাপট পা ফেলল।

তাকে ঝটাপট হাঁটতে দেখে ইতিমিচিসাহেব তড়বড়িয়ে ছোটা দিলেন।

ঘোড়াটাও টগবগিয়ে তাড়া করল।

ঘোড়াটা প্যাংলা হলে কী হবে, ছুটতে ওস্তাদ। একছুটে ইতিমিচিসাহেবের একেবারে সামনে হাজির। বলতে নেই, সাহেব যত ভয় পাচ্ছিলেন, ঘোড়াটা তেমন কিচ্ছু করল না। উলটে ঘোড়াটা মাথা দুলিয়ে ইতিমিচিসাহেবকে আদর করতে লাগল।

মাথা দোলানোর ঠেলায় প্রথমটা সাহেবের খুব ভয়।

তারপর একটু একটু ভয়।

তারপর ভয়-ভয়।

তারপর নয়-নয় ভয়।

তারপরেই একটু মায়া।

একটুর পর অনেক মায়া।

ঘোড়ার গায়ে হাত।

একটু আদর হাত বুলিয়ে।

অনেক আদর।

একটু হাসি।

অনেক হাসি।

হাসতে হাসতে জড়িয়ে ধরলেন ঘোড়ার গলাটা। লাফিয়ে উঠলেন ঘোড়ার পিঠে। ছুটিয়ে দিলেন ঘোড়া।

এর আগে তিনি কোনওদিন ঘোড়ায় চড়েছেন কি না, ঠিক মনে করতে পারেন না। কিন্তু এখন সাহেবের ঘোড়া ছোটানো দেখলে কে বলবে, তিনি জানেন না ঘোড়া ছোটাতে। সাবাস!

সে তো হল। কিন্তু ঘোড়া ছুটিয়ে তিনি যাচ্ছেন কোথায়?

সে এখন তাঁর জানার কথা নয়। তিনি এখন যা জানেন, তা হল, এ ঘোড়াটা তাঁর। মালিক তিনি। বুঝতে পেরেছেন ঘোড়ার দাবিদার কেউ নেই। যদি থাকত, তবে নিশ্চয়ই একা একা ঘুরত না। ঘাটে মাঠে ঘুরে ঘুরেই তার এমন পটকা দশা। যত্ন আত্তি করলে এমন চেহারা হয়! এই কুড়িয়ে পাওয়া ঘোড়ার ভোল তিনি পালটে দেবেন। দেখিয়ে দেবেন, ঘোড়া কাকে বলে। আহ্, এতদিনে একটা কাজের মতো কাজ করতে পেরেছেন তিনি। কে বলতে পারে, এই ঘোড়ার দৌলতে তাঁর কপাল খুলবে না! আগের দিনে রাজা-বাদশারা ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করেছেন। দেশ জয় করেছেন। তিনিও কমতি যাবেন না কি! ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ কাকে বলে তিনি দেখিয়ে দেবেন। কে বলতে পারে, যুদ্ধ করে তিনি একটা মস্ত রাজ্য জয় করতে পারবেন না। নিশ্চয়ই পারবেন। চাই কী, মনের মতো একটা মস্ত রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলতে পারবেন তিনি। হ্যাঁ সে প্রাসাদ হবে অবশ্যই পাহাড়ের গায়ে। কত লোক-লস্কর, দাস-দাসী, সিপাই-সান্ত্রি, উফ! ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়! কেউ তাঁর গা দলছে, কেউ তাঁর পা টিপছে। কেউ গায়ে আতর ছড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ মাথার চুলে সুগন্ধি মাখিয়ে দিচ্ছে। আর তিনি আরাম করে সোনার গড়গড়ায় তামুক খাচ্ছেন। ধোঁয়া বেরোচ্ছে সুবাস ছড়িয়ে।

পৃথিবীটা কত বড়? সেটা যে অনেকটা বড়, তা জানা আছে তার পুরোপুরি। কে বলতে পারে, একদিন হয়তো গোটা পৃথিবীটাই তিনি ঢুঁড়ে ফেলবেন এই ঘোড়ার পিঠে বসেই।

বাহাদুর বটে ঘোড়াটা। থামছে না তো। ডিগডিগে হলে কী হবে, ছুটছে দ্যাখো ইতিমিচিসাহেবকে পিঠে নিয়ে। আহা রে, কে তোকে এমন অচ্ছেদ্যা করে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে! সে কি মানুষ!

হাই, কোন দেশের ঘোড়া রে তুই। এই হাড়-জিরজিরে চেহারায় ভেলকি দেখিয়ে ছাড়লি! চল তবে সাগরপারে। ইতিমিচিসাহেবকে নিয়ে যা সাহেবদের সাগরপারের দেশে।

দাঁড়া, দাঁড়া। সাগরপারে না যাওয়াই ভাল। সাগরপারের সাহেবরা আবার ইতিমিচিসাহেবকে সাহেব বলে না-ও মানতে পারে। যতই হোক ইতিমিচিসাহেবের গায়ের রংটা তো তেমন টুকটুকে নয়। তার চেয়ে বরং চিনদেশটা ভাল।

ও বাবা! কী ভয়ংকর। সে দেশটা তো ড্রাগনের দেশ! একবার ওরা যদি একটা ড্রাগন ঘোড়ার পেছনে লেলিয়ে দেয়, তবে চোখে ধুতরো ফুল দেখতে হবে। ড্রাগন সাংঘাতিক চিজ। হাঁ করলেই আগুনের হলকা! আর সেই আগুনের সামনে পড়লেই জ্বলে পুড়ে ছাই। ঘোড়া তো যাবেই, তার সঙ্গে ইতিমিচিসাহেবও ভস্ম!

অবশ্য যাওয়া যেতে পারে, শাহারাজাদ-এর দেশে। কী বলছ? শাহারাজাদকে চিনতে পারলে না? কী আশ্চর্য! হাজার রাত্তির ধরে হাজারটা গল্প বাদশা-শাহকে কে শুনিয়েছিল? সেই আলিবাবা আর চল্লিশ চোরের গল্প তোমার মনে নেই? কিংবা আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ? অথবা উড়ন্ত ঘোড়ার কাহিনি? সেই দেশটাই ভাল। কে বলতে পারে সেখানে গেলে একটা তেমনই আশ্চর্য প্রদীপ, নয়তো একটা উড়ন্ত ঘোড়া তাঁর কপালে জুটে যাবে না! ঝামেলার দরকার নেই, ইতিমিচিসাহেব সেই দেশেই যাবেন।

ইতিমিচিসাহেবের জানাই আছে, আরবদেশেও অনেক ঘোড়া পাওয়া যায়। সেই চল্লিশ চোরের চল্লিশটা ঘোড়া যখন ছুটে আসছিল বনের ভেতর দিয়ে, তখন কী সুন্দর দেখতে লাগছিল বলো! অবশ্য গল্পের সেই উড়ন্ত ঘোড়াটা আরও চমৎকার। অমন একটা ঘোড়া পেলে যা হয় না! উড়ন্ত ঘোড়া মানে, কেউ আর বাধা দিতে পারবে না তোমায়। যেখানে খুশি ঘোড়ার পিঠে চেপে উড়ে চলে যাও। আকাশ-ছোঁয়া পাহাড় ডিঙোও চোখের পলকে। সাতসুমুদ্দুর তেরো নদী উড়ে যাও এক নিমেষে। তখন আর দরকারই পড়বে না এই ডিগডিগে ঘোড়াটার। দুর, উড়ন্ত ঘোড়ার সঙ্গে এই প্যাংলা ঘোড়ার কোনও তুলনা হয়! ছ্যাঃ!

ব্যাস! ইতিমিচিসাহেব মনে মনে যেই ছ্যাঃ বলেছেন, তেমনই সঙ্গে সঙ্গে ঘটে গেল এক ভয়ংকর কাণ্ড। এই প্যাংলা ঘোড়াটাই আচমকা লাফিয়ে এমন একখানি ঝটকা মারল যে, ইতিমিচিসাহেব ঘোড়ার পিঠ থেকে সিধে মাটিতে চিতপটাং। উঃ হু হু হু! গেল রে! সাহেবের হাড়গোড় ভেঙে বুঝি খানখান হয়ে গেল!

ঘোড়াটা সাহেবকে ফেলে দিয়ে মার দৌড়। পেছনে মাথা ঘুরিয়ে একবার দেখলও না। দৌড়তে দৌড়তে চোখের নিমেষে অদৃশ্য। হাত-পা ঝেড়ে ইতিমিচিসাহেব যখন উঠে দাঁড়ালেন, তখন ঘোড়া পগারপার।

না, ভাগ্য ভাল সাহেবের হাত-পা ভাঙেনি। কিন্তু লেগেছে সাংঘাতিক। এদিকে মাথার টুপিটাও যে মাথা থেকে উড়ে পালিয়েছে। যাবে আর কোথায়। এখানেই কোথাও পড়ে আছে। খুঁজলে মিলে যাবে। কিন্তু ঘোড়াটা তাকে ফেলে দিয়ে পালাল কেন? ব্যাটা ঘোড়া বোধহয় মনের কথা বুঝতে পারে। ইতিমিচিসাহেব তো মনে মনে ‘ছ্যাঃ’ বলেছেন, মুখে উচ্চারণ তো করেননি, তবে?

ঠিক সেই সময়ে সেই জিলিপি ছোঁ মারা চিলটা কী বিচ্ছিরি একটা চিলকি সুরে চিঁচিঁ করে ডেকে উঠল। যেন ভেংচি কেটে দিল ইতিমিচিসাহেবকে! যেন বলল:

লোভ করলে বেশি

জুটবে শেষাশেষি,

ঢু ঢু!

সকল অধ্যায়
১.
কাক্কাবোক্কার বিয়ের পদ্য
২.
ইতিমিচিসাহেবের স্বপ্নের গাধা
৩.
কাক্কাবোক্কার টোক্কা ফক্কা
৪.
কাক্কাবোক্কার কান্নাকাটি
৫.
কাক্কাবোক্কার গানের জলসা
৬.
ইতিমিচিসাহেবের ছাগলি-মা
৭.
কাক্কাবোক্কার বায়নাক্কা
৮.
কাক্কাবোক্কার ঘাড়ে ভূত
৯.
পিঠ নিয়ে পিঠোপিঠি
১০.
কাক্কাবোক্কার কাণ্ড বটে
১১.
গল্পের নাম ফিক
১২.
কাক্কাবোক্কার ভুতুড়ে কাণ্ড
১৩.
ইতিমিচিসাহেবের ঘোড়া
১৪.
রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি
১৫.
ছি ছি, এ কী কাণ্ড
১৬.
ইতিমিচিসাহেবের নাচানাচি কাণ্ড
১৭.
আচ্ছা আজব ইচ্ছে বটে
১৮.
রগড় নিয়ে কাণ্ড জবর
১৯.
ইতিমিচিসাহেবের আম্মা বিল্লি
২০.
ভগবানের হাত
২১.
তাক্কাদুম
২২.
চ্যাং ঝোলা
২৩.
স্বপ্ন দেখি রূপকথায়
২৪.
দস্যি সেই ছেলেটি
২৫.
পাখিমের আকাশ
২৬.
সোনা-ঝুরঝুর হাসি
২৭.
ছুম আর ছবি
২৮.
টুক্‌কির ফুলবাগানে
২৯.
চাঁদ আর পাপুই
৩০.
কালো বেড়ালের গুপ্তধন
৩১.
মায়ের সোনা ছেলে আফজল
৩২.
এক বুড়ো আর একটি পাখি
৩৩.
আজবদেশের নাচন-পাখি
৩৪.
একলা ডিঙি যখন একা
৩৫.
সেই যে আলো নীল
৩৬.
আকাশের দুই বন্ধু
৩৭.
তিনটে বুড়োর গল্প
৩৮.
ভেলকির নাম ঘোড়া
৩৯.
বন্ধুর নাম কাকের ছানা
৪০.
টুং-এর বন্ধু ঝুমঝুমি
৪১.
উড়ুক্কু ভূত
৪২.
ঘণ্টা বাজে টুংটাং
৪৩.
সময়ের জাদুখেলা
৪৪.
আমি শূন্য
৪৫.
কেউ জানে না কে চোর
৪৬.
একটি মেয়ের গল্প
৪৭.
শুধুই গল্প অদ্ভুতুড়ে
৪৮.
আলোর সন্ধান
৪৯.
সোনার ঘণ্টা
৫০.
সে এক ভেলকি
৫১.
সুন্দর যাকে বলি
৫২.
সর্দার
৫৩.
বেড়াল-বাঁদর-গাধা আর লোকটা
৫৪.
রুমঝুম নূপুরের রূপকথা
৫৫.
হো-বুড়োর খুদে বন্ধু
৫৬.
ভালবাসি পশুপাখি
৫৭.
বুক্কুটা তা বলে বোক্কা নয়
৫৮.
ছোট্ট পাখি আর কেঁদো বাঘ
৫৯.
যার যা সাজে না
৬০.
কানকাটা বাঘ
৬১.
একটা গান শেখাবে
৬২.
হ্যাংলা
৬৩.
কুক্কু আর হাঁসছানা
৬৪.
ছোট্ট পাখি টুনটুন
৬৫.
ছাগল-বুড়োর মামা
৬৬.
চাচার গানে নাচানাচি
৬৭.
একটা ছিল নেংটিছানা
৬৮.
টুক্কুর হাসি
৬৯.
হুম-চক্‌কা
৭০.
কাণ্ড বটে আজব
৭১.
পিড়িং-পিড়িং গঙ্গাফড়িং
৭২.
একটা বুদ্ধু নেংটি
৭৩.
বনমানুষ না ভালুক
৭৪.
তিড়িং-তিড়িং পাখিটা
৭৫.
কীসের থেকে কী
৭৬.
গল্পের রং রকম রকম
৭৭.
দাদু ভুলে গেছে
৭৮.
মুক্তো আছে কোন ঝিনুকে
৭৯.
নীল গোলাপের গল্প
৮০.
ডাকু
৮১.
অদ্ভুত সেই ঘোড়ার গল্প
৮২.
সে কী আনন্দের দিন
৮৩.
আলোর ভোর
৮৪.
রাংতা
৮৫.
মুক্তো-আঁকা
৮৬.
ইয়াসিনের চিঠি
৮৭.
গুড়িয়া
৮৮.
ছই একটি মেয়ের নাম
৮৯.
মায়ের জন্য একটি গোলাপ
৯০.
এই সুন্দর পৃথিবীতে
৯১.
স্বপ্নের ঝলমলে আলো
৯২.
সাগরের বন্ধু জানলা
৯৩.
রহস্য
৯৪.
ফিকির ভাবনা
৯৫.
নির্দোষ দুই বন্দি
৯৬.
রতন
৯৭.
রোদ ঝিলমিল
৯৮.
রহস্যের নাম সুন্দরী
৯৯.
ঝড়ের বনে আতঙ্ক
১০০.
কুয়াশার তিন সঙ্গী
১০১.
মায়ের ডাকা নামটি
১০২.
ভোরের আলো ফুটছে
১০৩.
ভালবাসার পৃথিবী
১০৪.
এ সময়ের গল্প
১০৫.
উত্তর পাইনি এখনও
১০৬.
অরুর বিকেল হারিয়ে গেল
১০৭.
মিষ্টি হাসির খেলনা
১০৮.
ম্যাজিক
১০৯.
বন্ধ ঘরে কান্নার শব্দ
১১০.
পাকা ধানের গন্ধ
১১১.
সেতুপারের বন্ধুরা
১১২.
সুলতান
১১৩.
তুসি জাদু জানে
১১৪.
তিত্তি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%