শৈলেন ঘোষ

আজ রোদ উঠেছে। নীল আকাশটা এখনও ভাল করে দেখা যাচ্ছে না। দেখা যায় না সামনেটা। কুয়াশা রয়েছে এখনও। সকাল থেকে শীতবুড়িটা গুড়িসুড়ি মেরে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেন। বেড়াচ্ছে পাহাড়ের মাথায় মাথায়। সোনালি রোদ কুয়াশার গায়ে গায়ে ঝিলিমিলি খেলছে তার রং ছড়িয়ে। হিমানি ছড়িয়ে আছে পাহাড়ে-পাহাড়ে। বরফের হিমানি। রুপোলি রং তার ঝলমল টলমল।
আজ মোমপার খুব ভাল লাগছে। ক’দিন পরে রোদ উঠেছে। খুশিতে মনটা দুলে উঠছে মোমপার। সে একটি ছোট্ট ছেলে। কেমন দেখতে তাকে? ফোলাফোলা গাল। চ্যাপটা নাক। গালদুটো লাল টকটকে। আর এইটুকুনি ফুটফুটে দুটি চোখ। রোদ আরও উঠলে, পাহাড়ের মাথার বরফ গলে গলে পড়বে। সূর্যের সাতটি রঙের রামধনু ঝিলমিল-ঝিলমিল করে হেসে উঠবে গলা বরফের ওপর। দেখতে দেখতে মোমপাও হাসবে। আপন মনে। হাসলে চোখদুটি তার ডুবে যায়। হারিয়ে যায়। গালদুটি টোল খেয়ে ভেঙে পড়ে। তখন ভারী ভাল লাগে তাকে।
কুয়াশা আরও একটু সরে গেল। রোদের আলো আরও একটু ঝিকমিক করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে খুশিতে চেঁচিয়ে উঠল মোমপা। নেচে উঠল। ঘরের জানলা দু’হাত দিয়ে খুলে ফেলল। আকাশের রোদ ছড়িয়ে গেল সারা ঘরে। ছুটে বেরিয়ে পড়ল সে ঘর থেকে। চেঁচিয়ে ডাক দিল, “মুনমুন।” ঘণ্টা বাজল টুং-টুং।
ভারী মজা। মোমপার ডাক শুনলেই মুনমুন ঘাড় নাড়ে। ওর গলার ঘণ্টা দোল খায়। মিষ্টি সুরে ঘণ্টা বাজে টুং-টুং। মোমপার বন্ধু মুনমুন। একটা বাচ্চা ঘোড়া।
ছুটতে ছুটতে মুনমুনের সামনে এসে দাঁড়াল মোমপা। ঘণ্টা তখনও বাজছে টুং-টুং-টাং। সারাক্ষণ বাজবে। রোদ উঠেছে যে। মুনমুনের গলাটা জড়িয়ে ধরল মোমপা। চুক করে চুমু খেল মুনমুনের গালে। লাফিয়ে উঠল একেবারে তার পিঠে। ছুট দিল পাহাড়ের রাস্তায়। ঠিক তক্ষুনি কে যেন চেঁচিয়ে উঠল ঘর থেকে, “মোমপা—”
মোমপা সাড়া দিল, “আসছি—”
হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এল একজন বুড়ো মানুষ। চেঁচাল, “যাসনি—” মোমপার বুড়োদাদা।
কে কার কথা শোনে। অনেক দূরে চলে গেছে তখন মোমপা। মুনমুনের পিঠে চেপে। লোকটার ভয়ে মুখ চুমসে গেল। বুড়ো থুত্থুড়ে। গালের মাংস ঝুলে ঝুলে নেমে এসেছে। হয়তো মানুষটা ছুটত মোমপাকে ধরবার জন্যে। কিন্তু ছুটবে কেমন করে? তার যে একটা পা নেই। ঘরের দরজা ধরে কাঁপতে লাগল ঠকঠক করে। খানিকটা শীতে। অনেকটা ভয়ে।
ভয় করে। বড্ড ভয় করে বুড়োদাদার মোমপার জন্যে। তার নাতি। ছেলেটার মা নেই। বাবা নেই। ওর বাবা যুদ্ধে গেছল। ফেরেনি। ওর মা কাঁদতে কাঁদতে রোগে পড়ল। সারেনি, তারপর বুকে করে মানুষ করেছে ছেলেটাকে বুড়োদাদা। পাহাড়ের পাথরের মতো শক্ত করেছে। পাহাড়ের গায়ে-গায়ে ছড়ানো গুঁড়ো গুঁড়ো বরফের মতো নরম করেছে।
পাথর কাটার কাজ করত বুড়োদাদা। যুদ্ধের সময় পাহাড়ের ওপর পাথর কেটে রাস্তা তৈরির কাজ। একদিন রাস্তা কাটতে কাটতে পা পিছলে গেল। আর? উঃ। কত উঁচু থেকে পড়ে গেল বুড়োদাদা। একেবারে নীচে। খাদে। বেঁচে গেল কোনওরকমে। পা-টা চলে গেল চিরদিনের মতো। ভয় লাগে তাই, ছেলেটাও যদি কোনওদিন পড়ে যায়। পড়ে যায় ঘোড়ার পিঠে ছুটতে ছুটতে। কিন্তু আজকে যেন অন্য ভয় বুড়োদাদার। কীসের ভয়?
না একটুও ভয় নেই মোমপার। ও ছুটবেই ও নামবেই। ও উঠবেই। খুশিতে দুলবেই। আর মুনমুনের গলার ঘণ্টা শুনবে টুং-টাং। তারপর গান গাইবে। বড্ড ভালবাসে মুনমুনকে মোমপা।
কুয়াশা কেটে গেছে। কত রোদ! এত রোদ তবু আজ কেউ বেরোয়নি কেন— ঘরের বাইরে! অবাক লাগছে মোমপার। তাই সে আরও জোরে গান ধরল। খুব জোরে।
“মোম—” হঠাৎ কে ডাকল তাকে।
থমকে থামল মোমপা। পিছন ফিরে দেখল। কই? কাউকে তো সে দেখতে পাচ্ছে না! আবার চলল। টুং-টাং। দু’পা গেছে। আবার ডাকল, “মোম, যাসনি, ধরে নিয়ে যাবে।”
এবার মোমপা স্পষ্ট বুঝল এটা রংটুর গলা। রংটু তার বন্ধু। ঘরের ভেতর থেকে চেঁচাচ্ছে। তাই মোমপা জিজ্ঞেস করল, “কে ধরে নিয়ে যাবে রে?”
“সিপাই।” উত্তর এল।
“ধুত্তোর ধরে নিয়ে যাবে।” মোমপা চেঁচাল, “যাক গে! সিপাইকে ভয় কীসের। সিপাই কি জুজু?” বলেই আবার চলল আবার টুং-টাং বাজল। আবার গান ধরল।
না, গান ধরল না, গান গাইতে গিয়ে হঠাৎ ভাবল, সিপাই এল কোত্থেকে! তাই তো!
ভাবল বলেই মোমপার মনে পড়ে গেল বুড়োদাদার কথা। বুড়োদাদা বড্ড ভালবাসে মোমপাকে। রোজ রাত্তিরে বুড়োদাদার বুকের নীচে ও ঘুমোয়। বুড়োদাদা রোজ গল্প বলে। আর মোমপার মনে হয়, বুড়োদাদার বুকটা যেন ঘুমের দেশ। স্বপ্ন-আঁকা। বুড়োদাদা একদিন গল্প বলেছিল। এক সিপাই-এর গল্প। টুং-টাং ঘোড়া চলেছে। আর মোমপার মনে গল্পটা যেন ভেসে আসছে—
এক যে ছিল সিপাই আর এক ছিল রাজকন্যে। আহা! রাজকন্যের রূপের কী বাহার! ফুল তুকতুক, লাল টুকটুক। ছোট্ট দুটি চোখ, যেন কাজললতা। মিষ্টি মুখের হাসি, যেন ফুলের রাশি। একদিন রানিমা স্বপ্ন দেখলেন। কী স্বপ্ন? দেখলেন কী— উত্তর দিকে ওই যে পাহাড়টা তার মাথাটা হঠাৎ কড় কড় কড়াৎ করে ভেঙে গেল। কী ভীষণ শব্দ। ভাঙল আর অমনি একটা দত্যি বেরিয়ে এল। উরি বাবা কী চেহারা। ইয়া লম্বা লম্বা নখ। এত বড় বড় ভাটার মতো চোখ। যেন লাল জবাফুল। মাথাটা এতখানি। রানিমার সামনে এসে দাঁড়াল দত্যিটা। গাঁক গাঁক করে বলল, “আমার মেয়ে নেই। জগতের সব-সুন্দরী মেয়ে তোমার। আজ থেকে ঠিক এক বছর পরে আমি আসব। ঠিক আজ যেমন করে এলুম। সেদিন তোমার মেয়েকে আমার মেয়ে করে নিয়ে যাব। আর আমায় যদি বাধা দাও, তুমি মরবে। রাজ্য যাবে ছারেখারে।” বলেই দত্যিটা কী বিকট হেসে উঠল। হাসতে হাসতে পাহাড়ের মধ্যে লুকিয়ে পড়ল। আর ঠিক সেদিন থেকে ওই পাহাড়টার চূড়া থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বেরোচ্ছে আর উড়ছে। রানিমার চোখ জলে ভাসছে। জল ঝরছে আর পড়ছে।

তারপর দিন এগিয়ে এল। একটি বছর কেটে গেল। রাজা সারা রাজ্যে খবর পাঠালেন। কী খবর? রাজকন্যেকে দত্যির হাত থেকে যে বাঁচাবে, তার সঙ্গে কন্যের বিয়ে দেবেন। বাব্বা! দত্যির সঙ্গে কে লড়বে? সবাই ভয়ে জুজুবুড়ি। কে আসবে?
একজন এল। সিপাই। রাজার সামনে বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি পারব। আমি পারব দত্যিকে রুখতে।”
অমনি ভেঁপু বাজল। ঘোড়া সাজল। ঢাল-তলোয়ার ঝন ঝন-ঝন বেজে উঠল। সিপাই ঘোড়া ছুটিয়ে পাহাড়ে পাড়ি দিল।
তারপর সন্ধে এল এল। আকাশে কে যেন সিঁদুর ছড়িয়ে দিয়েছে। এমন সময় গুড় গুড় গুড়, কড় কড় কড়াৎ কী ভয়ংকর শব্দ। পৃথিবীটা যেন কেঁপে উঠছে। পাহাড়ের চুড়ো ছিটকে গেল। চাঁই চাঁই পাথর ভেঙে গড়িয়ে চুর হয়ে গেল। তারপর আগুন। গড়িয়ে আসছে। গলগলে লাল রক্তের ঢেউ! কত রক্ত! উপচে পড়ছে পাহাড়ের চুড়ো দিয়ে, মাটিতে।
তারপর? আর কেউ কিছু জানে না।
রাজকন্যেকে কেড়ে নিতে দত্যি আর এল না সেদিন। রাজকন্যেকে বিয়ে করতে সিপাইও ফিরল না কোনওদিন। কেউ জানে না সিপাই কোথা গেল। শুধু রাজকন্যে জানে। জানে, সেই দত্যিটার সঙ্গে লড়তে লড়তে সিপাই বীরের মতো মরেছে। সে দত্যিকে মেরেছে নিজের বুকের রক্ত দিয়ে। রাজকন্যে ভাবে, আহা! আমার জন্যে যে প্রাণ দিল তার জন্যে আমি কী দিলুম। রাজকন্যের গাল বেয়ে চোখের জল ভেসে যায়! জল পড়ে টুপটাপ!
টুং-টাং! হঠাৎ চমকে ওঠে মোমপা। এ কী! ভাবতে ভাবতে কোথায় চলে এসেছে সে! আনমনে। আরি ব্যাস! কী ঘন বন এদিকটা। অন্ধকার ঘুরঘুট্টি। বড় বড় গাছগুলো মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে। এতটুকু আলো আসে না। কী রকম যেন ভয়লাগানো। মোমপার একেবারে অচেনা। ভয় করছে নাকি? না ভয় নেই। মনে হচ্ছে আরও গভীর বনে চলে যায় সে। মনে হচ্ছে লাফিয়ে পড়ে, হু-ই-ই-ই নীচে। পাহাড়ের খাদে। লাফিয়ে নামল মোমপা মুনমুনের পিঠ থেকে। পিঠে হাত বুলিয়ে বললে, “তুই। এখানে দাঁড়া। আমি একটু এদিক ওদিক দেখে আসি।” ছুট দিল মোমপা ছুট দিল লম্বা লম্বা গাছের আড়ালে। ছুট-ছুট-ছুট।
আঃ! মুনমুনের ঘণ্টার টুং-টাং, পাতার ঝুর-ঝুর হাওয়ার শিরশির শব্দ সব মিলিয়ে যেন স্বপ্ন। ও যেন অন্ধকারের ভেতর দিয়ে সেই দত্যিটার সঙ্গে লড়াই করতে চলেছে।
না, বেশি দূর যেতে হল না। হঠাৎ যেন একটা কীসের শব্দ ভেসে আসছে! থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল মোমপা। কান পেতে রইল। মনে হচ্ছে কীসের যেন গোঙানি।
হ্যাঁ ঠিক তাই। একটা মানুষকে পিঠে নিয়ে ওই তো কে যাচ্ছে! পিঠের মানুষটার সারা গা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ছুটে গেল মোমপা। ভয়ে-ভয়ে। জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”
লোকটা উত্তর দিল না। চেয়ে দেখল মোমপার মুখের দিকে একবারটি। আবার চলল উঁচু রাস্তায় এবড়ো-খেবড়ো পাথরের ওপর পা রেখে রেখে লোকটাকে পিঠে নিয়ে। কী কষ্ট!
সেই কষ্ট দেখে মুমপারও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। থাকতে পারল না মুমপা। আবার জিজ্ঞেস করল, “তোমরা কারা?” রক্ত দেখে ওর গলা কাঁপছে।
না, এবারও উত্তর দিল না।
এবার খুবই ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল মোমপা, “কোথা যাচ্ছ তোমরা?”
এবার লোকটা দাঁড়াল। হাঁপাচ্ছে। বলল, “আমরা রাজার সিপাই। একটু জল এনে দেবে?”
ছুটে গেল মোমপা। জল পেল না। বরফের টুকরো নিয়ে এল। লোকটার মুখে দিয়ে দিল।
লোকটা এবার বলল, “যুদ্ধ করতে করতে আমার বন্ধুর বুকে আঘাত লেগেছে। তাই রক্ত। লুকিয়ে লুকিয়ে ঘাঁটিতে নিয়ে যাচ্ছি। শত্রু যদি দেখতে পায়!”
“কোথায় ঘাঁটি?”
“এখনও অনেক দূরে।”
“অনেক দূরে? আমাদের বাড়ি চলো না। আমার বুড়োদাদা আছে।”
“তা কেমন করে হয়? ঘাঁটিতে ফিরলে আমার বন্ধু বাঁচলেও বাঁচতে পারে। ওখানে ওষুধ আছে। অনেক লোক।”
“কিন্তু এত কষ্ট, যাবে কেমন করে?”
“উপায় কী? যেতেই হবে।” সিপাই মোমপার চিবুকে হাত দিল। ঘাড় নাড়ল, “চলি।”
টুং-টাং! হঠাৎ মুনমুনের গলার ঘন্টাটা কেমন যেন স্পষ্ট হয়ে বেজে উঠল মোমপার কানে। কী যেন মনে হল তার। বলল, “দাঁড়াবে একটু? আমি এক্ষুনি আসছি।”
দাঁড়িয়ে রইল সিপাই। পিঠে তার বন্ধু। রক্ত ঝরছে। পাথরের ওপর। বরফের টুকরোর ওপর। ছুট দিল মোমপা।
তক্ষুনি চলে এল। সঙ্গে তার মুনমুন। সিপাইকে বলল, “আমার মুনমুন। আমার বন্ধু। এর পিঠে চেপে তোমরা চলে যাও। কিচ্ছু ভেবো না। মুনমুন খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের পৌঁছে দেবে।” বলেই মোমপা মুনমুনের পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করল, “পারবি না মুনমুন?”
গলার ঘণ্টাটা তাড়াতাড়ি নেড়ে দিল মুনমুন, টুং-টাং। যেন বলল, পারব, পারব, খুব পারব।
সিপাই জিজ্ঞেস করল, “এ তোমার ঘোড়া?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি যাবে না?”
“না। আমি বাড়ি যাব। আমার কেউ নেই? বুড়োদাদা আছে। ভাবছে। মুনমুন আমার বন্ধু। মুনমুনের সঙ্গে আমি খেলা করি। ছুটি। ও গলার ঘণ্টা বাজায়, আমি গান গাই। তোমার বন্ধুর জন্যে, আমার বন্ধুকে দিয়ে দিলুম। মুনমুন তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধে যাবে।” বলতে বলতে মোমপার চোখ ছলছল করে উঠল। ছোট্ট দুটি চোখ। সিপাই-এর চোখদুটিও যেন ভিজে গেল। মাথায় হাত দিল সে মোমপার।
তারপর?
তারপর মুনমুন ছুটল। সিপাই দু’জনকে পিঠে নিয়ে উঁচু-নিচু রাস্তা। তার খেয়াল নেই। ছুটছে, উঠছে, নামছে। কোনওদিন তো এত জোরে ছোটে না সে! আজ কী হল তার? বাঁচাতে হবে যে সেপাই-বন্ধুকে।
চুপটি করে দাঁড়িয়ে রইল মোমপা। একদৃষ্টে সেইদিকে চেয়ে। মুনমুনের গলার ঘণ্টাটা বাজছে, টুং-টাং, টুং-টাং, টুং-টাং। কোথায় চলে যাচ্ছে মুনমুন! কত দূরে! হারিয়ে যাচ্ছে মুনমুন। আর কোনওদিন ফিরবে না। সত্যি হারিয়ে গেল। ওই উঁচু পাহাড়টার আড়ালে। মিলিয়ে যাচ্ছে ঘণ্টার শব্দটা—টুং-টাং, টুং-টাং। এখনও শোনা যাচ্ছে। এখনও। এখনও। ব্যাস!
না, আর শোনা যাবে না। মোমপার চোখদুটি ঝাপসা হয়ে এল। ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল চোখ দিয়ে—টুপ-টুপ। না, পারল না সে থাকতে। কেঁদে ফেলল। চেঁচিয়ে উঠল, “মুনমুন—।” কে সাড়া দেবে! ছুট দিল সে। ছুট দিল বাড়ির দিকে। বুড়োদাদার কাছে। বুড়োদাদার বুকে ঘুমের দেশ। স্বপ্ন আঁকা। সেখানে কি মুনমুনকে সে খুঁজে পাবে? না। বুড়োদাদার বুকে মুখ লুকিয়ে সে দেখবে আজ সিপাই-এর স্বপ্ন। বড় হয়ে সে সিপাই হবে। যুদ্ধে যাবে।
আকাশের রোদ-ঝিলমিল পাতায়-পাতায় দুলছে কেমন? মোমপার মনে হচ্ছে ওরা যেন মুনমুনের গলার ঘণ্টা শুনে নাচছে—টুং-টাং, টুং-টাং।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন