শৈলেন ঘোষ

রাজা বাপ্পাহুহুর তিন রাত্তির চোখে ঘুম নেই। কেন যে ঘুম নেই, সেই কথাটি কেউ জানে না। কারণ তিনি তো রাজা। রাজপ্রাসাদের নিদমহলে তিনি সোনার পালঙ্কে যখন গা এলিয়ে শুয়ে পড়েন, তখন সেখানে কেউ ঢুকতে পারে না। ঢোকার কথা ছেড়েই দাও, ঘরের আশপাশে ফিসফাস শব্দ, কিংবা খুটখাট আওয়াজ হলেই ব্যাস, গর্দানটি ঘ্যাঁচাং! কিন্তু রাজার খবর সে কী আর চাপা থাকে! যতই ঢাকঢাক গুড়গুড় করো, রাজা বাপ্পাহুহুর যে ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় ঘুম চলে গেছে, সেটা সবাই জানতে পেরেছে। কী ব্যাপার বলো তো? ব্যাপার আর কী, সেদিন ছিল রাজা বাপ্পাহুহুর জন্মদিন। তিনি তো সাজগোজ করে হাতির পিঠে চেপে শহরে বেরিয়েছেন, প্রজাদের দর্শন দেবার জন্যে। রাজার জন্মদিনের শোভাযাত্রা বুঝতেই পারছ কী এলাহি কাণ্ড! তাঁর হাসি মুখখানি প্রজারা দেখছে আর তিনি প্রজাদের হাসিমুখ থেকে জয়ধ্বনি শুনছেন, “রাজা বাপ্পাহুহু যুগ যুগ বেঁচে থাকো, যুগ যুগ বেঁচে থাকো।” ওঃ। সে কী খুশির হুল্লোড়! সেই জয়ধ্বনি শুনে রাজা বাপ্পাহুহুর আনন্দে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু একটা কথা যতবারই তিনি মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন, ততবারই সেই কথাটা মনটাকে খামচে খামচে ধরছে। উফ! কী মুশকিল! হয়েছে কী, তিনি যখন হাতির পিঠে চেপে রাজপ্রাসাদের সিংদরজা পেরিয়ে বেরিয়ে আসছিলেন, ঠিক তখনই একটা কটা-চোখা, কালো বেড়াল ফ্যাঁচ করে হেঁচে একেবারে রাজার নাকের সামনে তিড়িং করে লাফিয়ে পড়েছে। ছ্যাঁত করে চমকে উঠেছেন রাজা। তিনি খ্যাঁক করে চেঁচিয়ে ওঠার আগেই বিল্লিমশাই ল্যাজ পাকিয়ে দে ছুট! কালো বেড়াল— তার ওপর কটা চোখ, কী অযাত্রা, কী অযাত্রা! ছিঃ ছিঃ! জন্মদিনটা ভালয় ভালয় কাটলে বাঁচি!
যাক গে, যাক গে, যা হবার সে তো হয়েই গেছে। এখন আর ভেবে কী লাভ। বরঞ্চ এখন তিনি যা করছেন তাই করুন—হাতির পিঠে বসে পথে পথে ঘুরুন আর দাড়িতে হাত বোলান। থুড়ি, থুড়ি, একদম ভুল হয়ে গেছে। রাজা বাপ্পাহুহু দাড়িতে হাত বোলাবেন কেমন করে! তাঁর তো গোঁফও নেই, দাড়িও নেই। একেবারে চাঁচাপোঁছা! মানে ভগবান রাজাকে দাড়ি-গোঁফ কিছুই দেননি। কিন্তু এই চাঁচাপোঁছা দাড়িই যে কাল হবে, সে আর কে জানত! হয়েছে কী, রাজা তো চলেছেন পথের মাঝখান দিয়ে। যেদিকে চোখ যায় শুধু মাথা আর মাথা। কালো মাথা, সাদা মাথা, কালো-সাদা ঢাকা মাথা। ওরই মধ্যে একটি ছোট্ট মাথার ছোট্টছেলে এর হাতের ফাঁক দিয়ে, ওর ঘাড়ের ফোকর দিয়ে ঠ্যাং লেংচে রাজার দিকে উঁকি মারছে। সে তো এর আগে আর কখনও রাজাকে দেখেনি, তাই সে চোখ ঘুরিয়ে দেখতে দেখতে মুখখানা বিচ্ছিরি করে চেঁচিয়ে উঠল, “এ আবার কী রাজা রে! রাজার দাড়িই নেই! রাজা না হাতি।”
ইস, দ্যাখো কাণ্ড। চুপ-চুপ-চুপ! আর চুপ! কথাটা রাজা বাপ্পাহুহুর কানে ঠিক পৌঁছে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসি-হাসি মুখখানা তার হাঁড়ি-হাঁড়ি হয়ে গেল! ফোলা-ফোলা গাল দুটো তাঁর ফাটা বেলুনের মতো চুপসে—ফুস! অপমানে মাথার টিকি থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাড়া হয়ে উঠল! তিনি কাঁপতে কাঁপতে ফুঁসতে লাগলেন, কী আস্পদ্দা! তাঁর দাড়ি নেই বলে একটা পুঁচকে ছেলে তাঁকে বলল, রাজা না হাতি! রাজা বাপ্পাহুহু আচমকা হাঁক পাড়লেন, “হাতি রোখো, ফিরে চলো রাজপ্রাসাদে, আমার জন্মদিন নেহি হোগা।”
সঙ্গে সঙ্গে হাতি পিছু ফিরল। অত হাসি, অত আনন্দ, নিমেষে ফক্কা। বোঝো ঠেলা। সেই যে রাজার মাথায় ঢুকল ‘দাড়ি নেই, দাড়ি নেই’ এই নেই নেই করতে করতেই তাঁর চোখে তিনরাত্তির ঘুমও নেই। কে জানে বাবা, কালো বেড়ালের কোপ বুঝি শুরু হয়ে গেল!
তিনরাত্তির পেরোতেই রাজা বাপ্পাহুহু আর থাকতে পারলেন না। হুকুম করলেন, “বোলাও মন্ত্রীকে। ডাকো সভা।”
রাজার হুকুম মুখ থেকে পড়তে না-পড়তেই মন্ত্রী, সান্ত্রি, সভাসদ সক্কলে পড়ি-মরি করে ছুটে এল। সভা বসল। কী হল? ব্যাপার কী?
রাজা বললেন, “ব্যাপার গুরুতর। বিশ্বচরাচরে সবার দাড়ি আছে, আমার নেই। একটা বাচ্চা ছেলে পর্যন্ত আমাকে শুনিয়ে দিল, আমার দাড়ি নেই।”
একজন এই ফাঁকে চট করে বলে উঠল, “তা ঠিক। রাজামশাই ঠিকই বলেছেন। রাজার দাড়ি না-থাকাটা খুবই দুঃখের কথা। ব্যাপারটা এতদিন আমাদের খেয়াল করা উচিত ছিল। একটা তুচ্ছ ছাগলের যদি দাড়ি থাকতে পারে, তবে রাজামশায়ের দাড়ি থাকবে না। এটা মানা যায়!”
বুড়ো মন্ত্রী মুখখানা কাঁচুমাচু করে বললেন, “তা ঠিক। তবে ছাগল আর রাজা তো এক নয়। তবুও ছাগলের যে দাড়ি আছে এটা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। সত্যিই তো ছাগলের দাড়ি থাকবে আর রাজার দাড়ি থাকবে না, এ কখনও মেনে নেওয়া যায়।”
একজন সভাসদ ফুট কাটলেন, “এ ভগবানের অবিচার।”
আর একজন দাঁড়িয়ে উঠে হাত ছুড়লেন, “এ অবিচার, মানব না, মানছি না।”

অন্য আর একজন ধমকে উঠলেন, “মানব না, মানছি না করলেই কি সব ল্যাঠা চুকে গেল। এর একটা বিহিত করা দরকার। নইলে ছাগলই হয়তো একদিন দাড়ি উঁচিয়ে রাজার গায়ে হেঁচে দেবে।”
মন্ত্রীমশাই হঠাৎ হাততালি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, “সমাধান খুঁজে পেয়েছি, খুঁজে পেয়েছি। যেখানে যত ছাগল আছে, তাদের সব দাড়ি ছাঁটাই করে দেওয়া হোক।”
রাজা বাপ্পাহুহু এবার কথা বললেন, বেশ রেগেমেগেই তিনি বললেন, “মুখ্যু, সব গণ্ডমুখ্যু। ছাগলের দাড়ি ছাঁটাই করলে আমার দাড়ি কেমন করে জন্মাবে? সুতরাং আমার হুকুম, যে-রাজ্যে রাজার দাড়ি নেই, সে-রাজ্যে প্রজারও দাড়ি থাকবে না। সুতরাং শুধু ছাগল নয়, মানুষেরও দাড়ি ছাঁটাই করা হোক।”
পাত্র-মিত্র, সভাসদ সবাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে সায় দিলেন, “ঠিক কথা। ছাঁটো দাড়ি।”
রাজা বাপ্পাহুহুর হুকুম শুনে মন্ত্রীমশায়ের তো মুখ শুকিয়ে এইটুকুনি। তিনি ফ্যালফ্যাল করে সবার মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের দাড়িতে হাত দিতেই রাজা বাপ্পাহুহু চেঁচিয়ে উঠলেন, “কাজটা শুরু হবে রাজবাড়ি থেকে। মন্ত্রীমশায়ের দাড়ি ফার্স্ট।”
রাজার হুকুম শুনে মন্ত্রীমশাই তো প্রায় কেঁদেই ফেললেন। তিনি আমতা-আমতা করে রাজাকে কিছু বলার আগেই রাজা হি-হি করে হেসে উঠে বললেন, “চালাও কাঁচি।”
যার যার দাড়ি আছে তার দাড়ির ওপর কাঁচি চালাবার হুকুম জারি হয়ে গেল সারা রাজ্যে। ক্যাঁচ-ক্যাঁচ করে কাটা পড়ল কাঁচা দাড়ি, পাকা দাড়ি, চাপা দাড়ি, মাপা দাড়ি, ঝোলা দাড়ি, তোলা দাড়ি, টাটকা দাড়ি, শুকনো দাড়ি। ধরো আর কাটো।
সেই রাজ্যের একটি মানুষের দাড়িতে তখনও কিন্তু কাঁচি পড়েনি। ভদ্রলোক বহাল তবিয়তে নিজের দাড়ি নিয়ে দিব্যি এ-বাড়ি, ও-বাড়ি করে বেড়াচ্ছে। দ্যাখো কোনও ভয়ডর নেই। তার দাড়ির কথাটা কানাকানি হতেই রাজবাড়ি থেকে পেয়াদা ছুটল তাকে ধরে আনার জন্যে। তাকে নিয়ে আসা হল রাজার কাছে। হুকুম অমান্য করায় রাজা তো রেগেই ছিলেন। তাই বেশ কড়া মেজাজেই রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এত সাহস হল কী করে?”
রাজার রাগ দেখেও লোকটা একটুও ঘাবড়াল না। বেশ খুশ-মেজাজেই জিজ্ঞেস করল, “কীসের সাহস হুজুর?”
লোকটার ভয়ডর না দেখে রাজা তো রেগে টং। ফট করে হাত উঁচিয়ে রাজা চেঁচিয়ে উঠলেন, “মারব এক থাপ্পড়। ইয়ার্কি করার জায়গা পাওনি! দাড়ি ছাঁটা হয়নি কেন?”
সে তেমনই সহজভাবেই বলল, “ধ্যাত! আপনি বললেই আমার শখের দাড়ি আমি ছেঁটে ফেলব?”
লোকটা ধ্যাত বলতেই বুঝতে পারছ রাজা বাপ্পাহুহুর তখন রাগ কোথায় চড়েছে। তিনি গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, “কী, আমাকে ধ্যাত বলা? এই লোকটাকে শূলে চাপা!”
“রাজামশাই, দাঁড়ান, দাঁড়ান,” লোকটা তেমনই ঠান্ডা মেজাজেই বলল, “দেখুন রাজামশাই, আপনি যখন-ইচ্ছে আমাকে শূলে চাপাতে পারেন, যেহেতু আপনি রাজা। কিন্তু রাজামশাই বলতে পারেন, আপনার দাড়ি নেই বলে অন্যের দাড়ি কেটে আপনার কী লাভ হবে? কারণ যার দাড়ি আছে, তার কাটলেই বা কী, আর না কাটলেই বা কী! কাটলে ক’দিন পরে আবার টুক-টুক করে গজাবে। সুতরাং আবার কাটতে হবে। আবার গজাবে। আবার কাটতে হবে। আবার গজাবে, আবার কাটতে হবে। বুঝতেই পারছেন কাটতে কাটতে মাথার ঘাম পায়ে পড়লেও কাটা শেষ হবে না। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, যদি আপনার চাঁচাপোঁছা গালে কাঁচা-কাঁচা দাড়ি গজিয়ে ওঠে। আর যদি ইচ্ছে করেন এ-কাজের ভারটা আপনি আমার ওপর ছেড়ে দিতে পারেন।”
“মানে?” রাজা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
“মহারাজ, মানেটা আপনাকে আমি গোপনে বলতে চাই। আপনার লোকজনেরা এখান থেকে চলে গেলেই ভাল।”
রাজা বাপ্পাহুহুর ইশারায় সবাই সেখান থেকে চলে গেল।
তখন সেই লোকটা ট্যাঁক থেকে একটা গাছের শুকনো ছাল বার করে বলল, “মহারাজ, এর ভেতর আপনার দাড়ি আছে।”
রাজা থতমত খেয়ে গেলেন।
“বিশ্বাস করতে পারছেন না তো?” বলে লোকটা একটু মুচকি হাসল। তারপর রাজার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, “মহারাজ আমার ওপর বিশ্বাস রেখে, আপনি আজ রাতে শোবার আগে এটি গালে ফেলে ঢক ঢক করে এক ঘটি জল খেয়ে নেবেন। দেখবেন কাল সকালেই ফল পেয়ে গেছেন। আর যদি ফল না পান, আপনার যা খুশি আমায় শাস্তি দেবেন। তবে মহারাজ, একটি কথা, আপনার দাড়ি যেদিন থেকে দেখা দেবে সেদিন থেকে আপনাকে হাসি ভুলতে হবে। মানে হাসলেই আপনার বিপদ।”
রাজা বাপ্পাহুহু, চমকে উঠলেন, “কেন?”
লোকটা বলল, “আজ্ঞে, কারণটা যদি আগে বলে দিই, তবে এই ওষুধে কাজই হবে না। সুতরাং, সে-কথাটি বলা বারণ।” বলে লোকটা রাজা বাপ্পাহুহুর হাতে গাছের ছালটা গুঁজে দিয়ে বলল, “আমি কি এখন বিদায় নিতে পারি?”
রাজা বললেন, “ঠিক আছে, যাও। কিন্তু কাজ না-হলে গর্দানটা ঠিক রেখো।”
“জো হুকুম।” বলে লোকটা রাজাকে সেলাম ঠুকে চলে গেল।
যা বলা তাই। রাতে শোবার সময় গাছের ছাল গিলে রাজা বাপ্পাহুহু ঘুমিয়ে পড়লেন।
এ কী! সত্যিই তো! সকালবেলা ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই তো রাজা বাপ্পাহুহুর গালে দাড়ি দেখা যাচ্ছে! ও, কী আনন্দ, কী আনন্দ! রাজা বাপ্পাহুহু বিছানা ছেড়ে তিড়িং করে লাফিয়ে পড়লেন। তারপর ঘরের মস্ত আয়নাটার সামনে সটান দাঁড়িয়ে নিজের গালের দিকে চাইলেন। তিনি চিৎকার করে উঠলেন। চিৎকার করে তিনি নাচতে লাগলেন। আনন্দ আর সামলাতে না পেরে হো-হো করে হেসে উঠলেন! যাঃ। সর্বনাশ! সর্বনাশ! এ কী করলেন রাজা বাপ্পাহুহু! তাঁর যে হাসতে মানা! ব্যাস! আর দেখতে হয়, যেই হাসা অমনি তাঁর গালের নতুন দাড়ি হু-হু শব্দে বাড়তে লাগল। বাড়তে বাড়তে প্রথমে গাল থেকে গলা, গলা থেকে বুক, বুক থেকে পেট, পেট থেকে একেবারে ঠ্যাং-এর নীচ অবধি নেমে এসেছে। দেখেই তো রাজা বাপ্পাহুহুর চক্ষু চড়কগাছ। কোথায় নাচ, আর কোথায় হাসি। ভয় পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করে দিলেন, “দাড়ি, দাড়ি! আমি হেসে ফেলেছি।”
যে যেখানে ছিল চিৎকার শুনে ছুটে এল। রাজার দাড়ি দেখে তো সবাই একেবারে ভ্যাবাচাকা-হাম্বা।
তাদের দেখে রাজা হাত-পা ছুড়ে চেঁচাতে লাগলেন, “আমি হেসে ফেলেছি। দাড়ি কেটে ফেলো!”
সঙ্গে সঙ্গে নাপিতভায়া হাজির। ক্যাঁচ-ক্যাঁচ কাঁচি চালাতেই দাড়ি খসল।
ওমা! এ কী! সঙ্গে সঙ্গে যে আবার তরতর করে দাড়ি গজিয়ে ঠ্যাং-এর নীচ অবধি নেমে এল।
রাজা চেঁচালেন, “এ কী হল? কাটলে না?”
নাপিতভায়া অবাক চোখে দেখতে দেখতে বললে, “কাটলুম তো?”
রাজা বললেন, “কই কাটলে? আবার কাটো!”
আবার কাটা হল। আবার গজাল।
সর্বনাশ! দ্যাখো, এ বোধ হয় সেই হাসির ফল!
রাজা রেগে চেঁচিয়ে উঠলেন, “কী হচ্ছে কী, আমার সঙ্গে ঠাট্টা হচ্ছে! আবার কাটো!” কাটলে কী হবে, আবার সেই ঠ্যাং অবধি। অমনি রাজা বাপ্পাহুহু হাউ-হাউ করে কেঁদে উঠলেন, “চাই না, চাই না, আমি দাড়ি চাই না।”
আর চাই না বললে কী হবে? দাড়ি যখন একবার গজিয়েছে আর সেই দেখে, রাজার মুখ থেকে যখন হাসি একবার গড়িয়ে পড়েছে, তখন যতই এঁ করো আর উঁ করো কিচ্ছুটি হবে না। অগত্যা রাজা বাপ্পাহুহু তাঁর সেই ঠ্যাং ঝোলা দাড়ি নিয়ে মুখখানা কোলা ব্যাঙের মতো ঢ্যাপসা করে স্বর্গে যাবার দিন গুনতে লাগলেন! যেমন কথা না শুনে হ্যা-হ্যা করে হাসা! বোঝো এবার!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন