হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

এক দেশে এক বেজায় ভালোমানুষ রাজা ছিলেন; তাঁর মেজাজ এত ভালো ছিল যে কখনো তিনি রাগ-টাগ করতেন না৷ প্রজারা তাঁকে খুব ভালোবাসত, কিন্তু কেউই মান্য করতে পারত না৷ কেন জান? তিনি আশ্চর্যরকম মোটা ছিলেন; এমন মোটা জন্মে কেউ দেখেনি৷ মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটা পিপে ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এমন অদ্ভুত মজার চেহারা দেখে, দেশের লোকে হেসেই খুন হত৷ রাজা বেচারা যতই গম্ভীর চালে কথা বলবার চেষ্টা করতেন ততই তারা হাসত৷ কী বিপদ মোটা হয়ে! শোনা যায়, রাজা যখন মোটা হতে আরম্ভ করলেন, তখন লোকেরা অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখত৷ কিন্তু রাজার দেহ যতই ফুটবল হতে লাগল তাদের পক্ষে হাসি চাপাও ততই মুশকিল হল৷ শেষে এমন দাঁড়াল যে তাঁকে দেখলেই লোকে হো-হো করে হেসে গড়াগড়ি দিত৷ একবার ভেবে দেখো তো, দিনের পর দিন যদি লোকে তোমায় দেখলেই হাসে তবে তোমার কেমন লাগে! কিন্তু রাজা বেচারা এমন ভালোমানুষ ছিলেন যে, শান্তভাবে সব সহ্য করতেন৷

মোটা রাজার দেশটি চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা, তার মাঝে সবুজ মাঠ আর সুন্দর শহর৷ সবাই ভাবত কী সুন্দর দেশ; কিন্তু দেশের লোকের মনে শান্তি ছিল না৷ কারণ এই পাহাড়ের উপরেই একজন দুষ্টু দৈত্য থাকত; তার নাম 'হেঁড়ে-গর্জন'; তার খাওয়া দেখলে তাক লাগে! রাজার সব সৈন্য মিলে যত খেতে পারত এ একাই তত খেত! ভালোমানুষ রাজা বলতেন, 'বেচারার যখন অত বেশি খিদে তখন তো তার উপযুক্ত খাবার চাই৷ তোমাদের যদি এই দৈত্যের মতো বড়ো পেট হত তখন কী করতে বলো তো?' লোকেরা কিন্তু তাঁর কথায় খুশি হত না৷ তখন রাজা বাধ্য হয়ে দৈত্যকে বোঝাবার জন্য মন্ত্রীকে পাঠালেন৷ দৈত্য কিন্তু চটে গিয়ে মন্ত্রীকে এমন জোরে এক লাথি মারল যে মন্ত্রীমশায় একেবারে সোজা রাজধানীতে এসে পৌঁছোলেন৷ তখন আর রাজা কী করেন? সব পাত্রমিত্র নিয়ে কত রকমেরই পরামর্শ করতে বসলেন৷

এদিকে, 'হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য' ক্রমেই লোকেদের বাড়ির সব ছাগল গোরু খেয়ে শেষ করল৷ যখন সে দেশে তার খাবার জিনিস আর কিছু বাকি রইল না তখন বেচারা কষে কোমর বাঁধতে লাগল; কিন্তু তবু কি খিদে কমে! শেষে দৈত্য ভাবল, 'না! আর পারা যায় না! পেট তো গেল, কোমর এঁটে আর চলে না!' একদিন সত্যিই কোমরের বাঁধন ফেঁসে গেল৷ এইবার আর উপায় কী, এবার মানুষ ধরে খেতে হবে! দেশের লোকে তো এই খবর শুনে ভয়ে দলে দলে সব রাজার কাছে গিয়ে উপস্থিত৷ রাজা বললেন, 'দেশে ঢেঁড়া পিটিয়ে দাও, যে এই দৈত্যকে মারতে পারবে আমার অর্ধেক রাজ্য পাবে৷' মন্ত্রীমশাইও তাই করলেন৷ কিছুদিন পর কিন্তু দেখা গেল যে অর্ধেক রাজ্য পাবার লোভেও কেউ দৈত্য মারতে গেল না৷ তখন রাজা ভাবলেন, 'তাই তো! কী করা যায়? আর তো কোনো উপায় দেখি না! কথায় বলে, '(যদি) মনের মতো কাজটি চাও, নিজেই তাতে লেগে যাও৷' কাজেই আমারই দৈত্য মারতে যাওয়া উচিত৷' তারপর তিনি সকলকে ডেকে খুব গম্ভীর হয়ে বললেন যে, তাদের রক্ষা করবার জন্য তিনি নিজেই যুদ্ধ করতে যাবেন৷ রাজামশাই খুব আস্তে আস্তে আর খুবই গম্ভীর গলায় কথাগুলি বলেছিলেন, কিন্তু তাহলেই বা কী? তাঁর কথা শেষ হতে না হতে সকলে এত জোরে হেসে উঠল যে, সে হাসির শব্দ দৈত্যের দেশের লোকেও শুনতে পেল! এদিকে, হাসির চোটে মন্ত্রীমশায়ের চোয়ালই ভেঙে গেল! রাজামশাই কিন্তু দমে যাবার পাত্র নন! হাসি থামতেই তিনি লড়াই করবার অস্ত্রশস্ত্র ঠিক করতে হুকুম দিলেন৷ সবই ঠিক হল, কিন্তু এত মোটা রাজার উপযুক্ত ঘোড়া মেলে কোথায়? সে দেশে এমন কোনো ঘোড়া ছিল না যে রাজার ভার সইতে পারে৷ তারপর আর এক মুশকিল! রাজার মাপের বর্ম কই? যদি তৈরি করানো যায় তবে সেটা এত ভারী হবে যে, রাজামশাই তার ভারে চলতেই পারবেন না! তখন রাজামশাই বললেন, 'আমার ঘোড়াও চাই না, বর্মও চাই না৷'

তারপর খুব পুরোনো একটা পোশাক পরে আর নিজের ভালো তলোয়ারখানা নিয়ে সেইদিনই রাজামশাই হেঁটে রওনা হলেন৷ প্রজারা বিদায় দেবার জন্য দলে দলে এল৷ কিন্তু যখন তারা দেখল রাজামশায় কেমন করে তাঁর ছোটো গোদা গোদা পায়ে অত প্রকাণ্ড শরীর নিয়ে উপরে উঠতে গিয়ে, হাঁপিয়ে ঘেমে অস্থির হচ্ছেন তখন তাদের হাসি চাপাই দায় হল৷ রাজার কিন্তু ভারি দুঃখ হল; তাঁর চোখে জল এল৷ ক্রমে রাত হল৷ তখন রাজার বড়ো আনন্দ, কারণ ততক্ষণে লোকেরা নিজের নিজের বাড়ি ফিরেছে৷ পাহাড়ে খানিকটা চড়লেই দৈত্যের বাড়ি দেখা যায়৷ রাজামশাই ওইটুকু উঠে আর পারলেন না; থপ করে বসে পড়লেন৷ মনে মনে ভাবলেন, 'কী আপদ এত মোটা হয়ে!'

হঠাৎ সমস্ত পাহাড় কেঁপে উঠল; রাজামশাই উপরে চেয়ে দেখলেন হেঁড়ে গর্জন দৈত্য খাবার খুঁজতে নীচে আসছে৷ তিনি তড়াক করে লাফিয়ে উঠলেন৷ 'যাক বাঁচা গেল! আর কষ্ট করে উপরে যেতে হল না, দৈত্য নিজেই আসছে৷' দৈত্য কিন্তু তাঁকে দেখেই দু-পাটি দাঁত বার করে, হ্যাঃ-হ্যাঃ করে বিকট হাসতে হাসতে বলল, 'উঃ ! কী মোটাই তুমি! তোমার চেহারা দেখে যে আমি হেসেই ফেটে মরব দেখছি!'

রাজা বললেন, 'আমি তো তোমাকে মারতেই এসেছি, এখন তোমার যেমন খুশি মরতে পার৷'

দৈত্য বলল, 'তাই যদি হয়, তবে তো হাসি থামাতেই হয়৷' বলে সে ভক ভক করে এমন জোরে হেসে উঠল যে ঠিক যেন মেঘ ডাকছে৷ দৈত্য তো আর রাজামশাইয়ের প্রজা নয়; তার হাসি কেন তিনি সহ্য করবেন? রেগে তলোয়ার বের করে বললেন, 'চুপ করো!' দৈত্যের তখন হাসতে হাসতে চোখে জল এসেছে; সে বলল, 'আর পারি না, দোহাই তোমার!'

রাজা বেজায় চটে বললেন, 'শিগগির থামো, তা না হলে কী করে তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করব৷'

হেঁড়ে গর্জন বলল, 'আমি যখন হাসি চাপতে পারছি না তখন তোমার সঙ্গে লড়াই করি কী করে?' বলতে বলতেই তার ভয়ানক বিষম লাগল৷ রাজা আর কী করেন? তিনি বললেন, 'আচ্ছা এখন থাক'; বলে তলোয়ারখানা খাপে ভরে রাখলেন৷ হেঁড়ে গর্জন বলল, 'এখন চলো৷ আজ রাত্রের জন্য তুমি আমার অতিথি; কাল সকালে লড়াই হবে এখন৷'

তখন দু-জনে উপরে উঠতে লাগলেন৷ দৈত্যের তো হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরেছে, রাজামশাইও অনেক কষ্টে পাহাড় বেয়ে উঠলেন৷ উপরে উঠে দৈত্য বলল, 'ওই যা! বাড়িতে কিছু খাবার নেই; এখন তোমায় খেতে দিই কী? আমার বড়ো খিদে পেয়েছিল, তাই মনে করেছিলাম নীচে গিয়ে ৫-৬টা ছেলে ধরে আনি; তা আর হল না৷'

রাজা তো আর তা খাবেন না৷ তিনি বললেন, 'আর কাজ নেই; আমার খিদে পায়নি৷ একটু শোবার জায়গা দাও, বড়ো ক্লান্ত হয়েছি৷' দৈত্য একজন চাকরকে ডেকে রাজামশাইকে শোবার ঘরে নিয়ে যেতে বলল৷ তার ২১ জন চাকর, কদাকার কাঠির মতো হাত-পা আর বড়োই অদ্ভুত চেহারা; গায়ের মাংস ঝুলে পড়েছে, চোখ যেন কপাল থেকে বেরিয়ে আসছে৷ রাজামশাই চাকরের সঙ্গে শোবার ঘরে গিয়ে দেখেন খালি একটা খাট পাতা আছে তাতে গদি তোশক কিছুই নাই৷ শক্ত বিছানায় শুতে রাজামশাইয়ের বড়ো অসুবিধা লাগল কিন্তু বড়ো ক্লান্ত হয়েছিলেন বলে একটু পরেই ঘুমিয়ে পড়লেন৷

Cov34

দৈত্য কিন্তু কিছুতেই ঘুমোতে পারছে না৷ কেন জান? তার যে বড্ড খিদে পেয়েছে! বেচারা বার বার এঁটে কোমর বাঁধছে, যদি পেটের জায়গা একটু কমে! কিন্তু যখন আর কিছুতেই থাকতে পারল না তখন মনে মনে ভাবল, 'রাজার গায় কী চমৎকার নরম মাংস! কাল তো তাকে হারিয়ে তার মাংস খাবই; তার চেয়ে আজই কেন খেয়ে ফেলি না?'

পরে আবার ভাবল, 'থাক, আজ রাজা আমার অতিথি, কাল দেখা যাবে৷'

হ্যাংলা দৈত্য কিন্তু বেশিক্ষণ চুপ করে থাকতে পারল না, একটা ছোরা হাতে নিয়ে সে আস্তে আস্তে উপরের ঘরে গেল৷ রাজার খাটের কাছে গিয়ে দেখে চাঁদের আলো রাজার মুখের উপর পড়েছে; রাজামশাই দৈত্যের প্রকাণ্ড লেপটা গায়ে দিয়ে ঘুমোচ্ছেন৷ ঠিক যেন, এয়া প্রকাণ্ড এক গোল তাকিয়া! এমন মজার চেহারা দেখে দৈত্য কিছুতেই হাসি চাপতে পারল না; সে হ্যা-হ্যা-হ্যা-করে হেসে উঠল৷ রাজামশাই 'বাজ পড়ল' মনে করে হঠাৎ ভয়ানক চমকে জেগে গেলেন৷ দৈত্যের হাতের ছোরাখানা চকচক করছে দেখে তিনিও তাড়াতাড়ি নিজের তলোয়ারখানা বের করে ভয়ানক রেগে বললেন, 'কাপুরুষ! ঘুমন্ত লোককে মারতে এসেছিস!' দৈত্যের কিন্তু ততক্ষণে হাসির চোটে পেট ফাটার জোগাড়; তাই সে পেট চেপে দৌড়ে রাজার ঘর থেকে পালাল৷ রাজা তো দৈত্যের কাণ্ড দেখে অবাক হলেন, কিন্তু তাঁর বড্ডই ঘুম পাচ্ছিল তাই আবার পাশ ফিরে ঘুমোলেন৷ চোখ বুজতে না বুজতেই এক বিকট চিৎকারে আবার তাঁর ঘুম ভেঙে গেল৷ রাজা ভাবলেন, 'দূর ছাই! এ আবার কী হল!' তারপর উঠে কম্বলটা মুড়ি দিয়ে কোথায় গোলমাল হচ্ছে দেখতে গেলেন৷ এসে দেখেন কী, দৈত্য তো পা মচকে সিঁড়ির নীচে পড়ে বেজায় চেঁচাচ্ছে, 'এবার গেলাম রে, একেবারেই গেলাম! কে আছিস বাঁচা৷'

দৈত্যের ২১টি চাকর তাকে ঘিরে দাঁড়িয়েছে কিন্তু তার হাত-পা ছোড়া দেখে কেউ আর কাছে যেতে সাহস পাচ্ছে না৷ ওই লম্বা লম্বা পায়ের এক লাথি খেলেই বেচারাদের কাঠির মতো শরীর চুরমার হয়ে যাবে৷

রাজার বড়ো ঘুম পেয়েছে৷ কী করে দৈত্যের এই ভয়ানক চিৎকার আর ভীষণ লাথি থামানো যায় কিছুতেই বুঝতে পারছেন না৷ শেষে হঠাৎ তাঁর মাথায় এক বুদ্ধি জোগাল৷ তিনি শুনেছিলেন যে ঘোড়া যখন পড়ে যায় তখন লোকে তার মাথার উপর চেপে বসে; কিন্তু ঘোড়ার যে তাতে কী উপকার হয় তা তিনি কিছুই জানেন না৷ 'তবু একবার বসেই দেখি না যদি চুপ করে' এই না ভেবে রাজামশাই সাবধানে দৈত্যের কাছে গেলেন৷ যদি একবার তার হাত কিংবা পায়ের কাছে পড়েন তাহলেই তো সর্বনাশ! তাই তড়াক করে একেবারে এক লাফে গিয়ে তার মাথার উপরেই চেপে বসে পড়লেন;-আর তক্ষুনি দৈত্যের চেঁচানো থেমে গেল৷ হাত-পা কিন্তু আরও জোরে ছুড়তে লাগল৷ রাজা চাকরদের বললেন, 'এইবার ঠিক হয়েছে! যতক্ষণ না ওর হাত-পা ছোড়া বন্ধ হয় ততক্ষণ আমি এখানে বসে থাকব৷ তোমরা ওর পায় ভালো করে পট্টি বেঁধে দাও৷'

ঘণ্টা দুই পর যখন দৈত্যের হাত-পা নাড়া থেমে গেল, তখন রাজামশাই উঠে, উপরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন; ভাবলেন, 'এবার চাকরগুলো মনিবের দেখাশোনা করুক৷'

ভোর বেলা জাগতেই রাজামশাই ভয়ানক কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পেলেন! তিনি মনে করলেন, 'কী গোলমালের জায়গাই এটা! সারারাত ঘুমাতে তো দিলই না! এখন দেখি গিয়ে দৈত্য আজ লড়াই করতে পারবে কি না; তার পা না জানি কেমন আছে!' তার পর নীচে গিয়ে গোলমালের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন৷ চাকরেরা কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে বলল যে, রাত্রে তিনি যখন দৈত্যের মাথার উপর থেকে উঠলেন তখনই তারা দেখল যে সে মরে গিয়েছে৷

রাজা অবাক হয়ে বললেন, 'তাই নাকি! আমি তো তাকে এভাবে মারতে চাইনি৷ আমরা ঠিক করেছিলাম যে আজ সকালে লড়াই হবে৷ তবু যাক, মরে যখন গেছে, আমি খুব খুশিই হয়েছি, কারণ চোরের মতো কাল রাত্রে আমায় খুন করতে যাওয়াটা তার ভালো কাজ হয়নি৷' এই বলে তিনি চাকরদের বিদায় দিলেন৷ তারা সব বাড়ি চলে গেল৷ তারপর নিজের দেশে রওয়ানা হলেন আর ভাবলেন, 'এবার তো আর পাহাড়ে ওঠা নয়, এবার নামতে হবে-তবু ভালো!' এই ভেবে যেই না পা বাড়িয়েছেন, অমনি পা পিছলে একেবারে গড়াতে গড়াতে পাহাড়ের তলায় এসে পৌঁছোলেন৷

এদিকে রাজার সৈন্যেরা রাজামশাইয়ের খবর নিতে পাহাড়ের নীচে এসে পৌঁছেছে৷ তাঁকে এ অবস্থায় গড়াতে দেখে তারা চমকে উঠল! রাজা হাঁপাতে হাঁপাতে শুধু বললেন, 'দৈত্য মরেছে!'

বুঝতেই পারছ এ কথা শুনে রাজার লোকেরা কত খুশি হল! তাদের এত আনন্দ হল যে, তারা রাজাকে কাঁধে তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করল কিন্তু এত ভার বইতে না পেরে শেষটায় গাড়িতেই নিয়ে চলল৷ ভীড় যা হল তা বলবার নয়৷ দেশের সব লোকে এই খবর শুনে ছুটে এসেছে৷ তার পর বহু দিন ধরে ঘরে ঘরে আমোদ আহ্লাদ চলল৷ সকলেই বলল, 'আমাদের রাজা কী বীরপুরুষ!'

আর কখনো তারা রাজাকে দেখে হাসত না৷ যখনই হাসি পেত, তারা ভাবত হোক না মোটা, হেঁড়ে গর্জন দৈত্যকে যিনি মারতে পারলেন তাঁর মতো বীরপুরুষ আর কে আছে? তাঁকে দেখে হাসা কখনোই উচিত নয়৷

মাঘ ১৩২৭

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%