অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়
মোহনপুরের জমিদার বাড়ির নাটমন্দিরে লোকে লোকারণ্য-ঠেলাঠেলি-ধাক্কাধাক্কি৷ সে কী ভিড়ের ভিড়৷
মেজোবাবুর ছেলের অন্নপ্রাশন; কলকাতা থেকে খুব নামকরা যাত্রার দল এসেছে৷ সব প্রজাদের নেমন্তন্ন৷ তার ওপর আবার পালাটাও খুব ভালো-'পঞ্চনদ'৷ ভিড় হবে না তো কী? আশেপাশের গ্রাম উজাড় করে তো সব এসেছেই-এমনকী দু-চার ক্রোশের লোকেরাও৷ নাটমন্দিরের থামে থামে রংবেরঙের আলোয় আলোয় রাতকে দিন করে ফেলেছে৷
আসর বেশ জমে উঠেছে; এমনি সময় চার জুড়িদার এসে গলা সাধতে শুরু করে দিল৷ সামনেই অনেকখানি জায়গা দখল করে একদল ছেলে গুম হয়ে যাত্রা শুনছিল কিন্তু এই হতভাগা জুড়িদারদের চিৎকারে বিরক্ত হয়ে উঠল৷
যে ছেলেটি সবার আগে বসে ছিল তার নাম তড়িৎ৷ তড়িৎকে ও-দলের পাণ্ডা বললেও অন্যায় হয় না; কারণ ওর কথায় আর সবাই উঠত-বসত৷
তড়িৎ ফেলুকে বলল, 'চল খানিকক্ষণ বাইরে থেকে ঘুরে আসি৷ এ ব্যাটাদের গর্দভরাগিণীর জের শিগগির মিটবে বলে মনে হচ্ছে না৷' বাইরে এসে তড়িৎ বলল, 'ভাবছিলাম আজকের পালাটা ভালো করে শুনব; কিন্তু লক্ষ্মীছাড়া জুড়িদাররা যেমনিভাবে গলা ভাঁজতে শুরু করেছে-এতে সরে পড়াই ভালো৷' তারপর চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে খাটো গলায় বলল, 'পাঁজি দেখেছিস?' সবাই অবাক হয়ে বলল, 'পাঁজি? কেন বল তো?'
'দুর বোকারা, আজকে যে নষ্টচন্দ্র!'
'আজ নষ্টচন্দ্র?'
'আরে হ্যাঁ হ্যাঁ৷ সে খবরও রাখিস না? তোরা দেখছি সবাই ভালোমানুষ হয়ে চললি রে!'
ফুর্তিতে অধীর হয়ে খেলু একটা লাফ মেরে চেঁচিয়ে উঠতেই-তড়িৎ ওর মুখ চেপে ধরে বলল, 'আস্তে, আস্তে! চেঁচাসনে!' হাত ছাড়িয়ে দিয়ে আবার খেলু বলল, 'ওরে ভালোই হয়েছে রে, আজ পাকা ফলার-যাও দু-হাতে তোলো আর খাও৷ এন্তার খাও বাবা, এন্তা-র খাও৷ কেউ দেখবার নেই! কেউ কইবার নেই! বিলকুল যাত্রার আসরে মশগুল৷ চল তাড়াতাড়ি৷'
ফেলু বলল, 'বড্ড গরম বোধ হচ্ছে, আগে চল প্যারিবাবুর বাগানে ডাবের জল খেয়ে- দিল খোলাসা করি, তারপর শিববাবুর বাগানের কলা, বাড়ুয্যেমশাইয়ের আখ, রামধন পোদ্দারের শশা এ তো আছেই৷' খেলু ক্যানক্যানে গলায় বলল, 'তারপর মদন ময়রার দোকানে হানা দিয়ে 'মিষ্টিমুখ'! কি বলিস?' বলেই হিঃ হিঃ করে হেসে উঠল৷ টুক্কু এক হুমকি ছেড়ে বলল, 'নে নে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লেকচার ঝাড়লে হবে না-চল৷'
জমিদারবাড়ি থেকে বেরিয়ে ওরা রওনা হল শিববাবুর কলা বাগানে৷ বড়ো রাস্তায় উঠে খানিকটা পথ এগুতেই, ফেলু ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল, 'ওরে বাবা! সামনে ওটা কী?' সকলে অবাক হয়ে চেয়ে দেখে তাই তো দূরে মস্ত বড়ো একটা সাদা ভূতের মতো টলতে টলতে এগিয়ে আসছে না৷ ভয়ে জড়সড় হয়ে ফেলু চেঁচিয়ে বলল, 'ওরে বাবারে! এযে মস্ত বড়ো ভূত! চল বাঁচতে চাস তো পালাই শিগগির৷ কাজ নেই বাবা নষ্টচন্দ্রে!' তড়িৎ ওদের সাহস দিয়ে বলল, 'ভয় নেই৷ আরে ভূতই যদি হয়, তো এতগুলো লোক একটা ভূতকে শায়েস্তা করতে পারব না?' তা বললে কি হয়! ভূতটা যে ক্রমেই টলতে টলতে এগিয়ে আসছে! আর একটু হলেই হয়তো ঘাড়ে চাপবে৷ রইল পড়ে নষ্টচন্দ্র! ভয়ে ঘাবড়ে গিয়ে ওরা যে যেদিকে পারল আপ্রাণ চেষ্টায় ছুটল৷
তড়িৎ কিন্তু ঘাবড়াবার ছেলে নয়৷ সাহস করে এগিয়ে দেখে সাদা ভূত আর কিছুই নয়, একটা গোরুর গাড়ির ছাদ সাদা কাপড় দিয়ে ছাউনি দেওয়া! দেখে তো ও হোঃ হোঃ করে হেসে উঠল৷ তড়িৎকে হাসতে দেখে গাড়োয়ান বলল, 'কী হয়েছে খোকাবাবু?' তড়িৎ বলল, 'সব সাহসীর দল কিনা তাই৷'
যাক! ভূতের ঘাড়ে চেপে তড়িৎ যখন, ফেলু, খেলু, টুক্কুকে ডাকল, তখন ওদের ধড়ে প্রাণ এল৷
হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে এসে ওরা বলল, 'দুর ছাই! এরই জন্য এত ভয়?' তড়িৎ বলল, 'তোদের মতো সাহসী নিয়ে-'৷ ওর মুখের কথাটা কেড়ে নিয়ে খেলু বলল, 'হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমাদের নিয়ে খুব সুবিধে হবে৷ তুই ভাবিস কী? এবার ভূত কেন, ভূতের ঠাকুরদা এলেও আর আমরা কেউ ঘাবড়াচ্ছি না, চল শিগগির৷'
বড়ো রাস্তা থেকে নেমে একটা সরু পথ ধরে ওরা চলল কলা বাগানের দিকে৷ কিছুদূর এসে পথটা ঘুরে একটা বাড়ির উঠোনের ওপর দিয়ে চলে গেছে৷ তড়িৎ বলল, 'আরে কে আর এখন জেগে আছে? যারা জাগবার তারা এতক্ষণে যাত্রার আসরে বিভোর৷' চোরের মতো পা টিপে টিপে উঠোন পেরিয়ে ওরা পুকুর পাড়ের ধার দিয়ে চলল৷ সামনেই কলা বাগিচা৷ বাঁশ দিয়ে উঁচু করে বেড়া দেওয়া৷ কোনো দিক দিয়েই ভেতরে ঢোকবার সুবিধে নেই৷ দরজার সামনে এসে ওরা দেখে, দরজায় কুলুপ দেওয়া৷ ফেলু বলল, 'হয়েছে আজ কলা খাওয়া৷ চল দেখি অন্য কোথাও সুবিধে করা যায় কি না৷'
হঠাৎ তড়িতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল৷ ও বেড়ার পাশে একটা গাছে চড়ল; তারপর হাত ছেড়ে দিয়ে ধুপ করে-একেবারে বাগানের ভেতর! কাছেই মালির ঘর, তড়িৎ পা টিপে টিপে ঘরের বেড়ায় কান ঠেকিয়ে দেখল-ভেতরে কারোর নাক ডাকানির শব্দ শোনা যাচ্ছে না৷ আর চাই কী! মালি তো গেছে যাত্রা শুনতে৷ আনন্দে অধীর হয়ে বলল, 'মালি নেই রে৷ তোরা পেছনের দরজার কাছে যা, খুলে দিচ্ছি৷'
দরজা খুলে দিতেই তিনজনে ভেতরে ঢুকে পড়ল৷ খেলু বলল, 'কোন গাছে কলা পেকেছে আগে তাই খোঁজ৷' এসব কাজে তড়িতের মাথায় বুদ্ধি খেলে বেশি৷ ও বলল, 'আরে গাছে চড়া পরে হবে, আগে চল মালির ঘরে৷' টুক্কু বলল, 'কেন রে?' 'কেন আবার কী? আগে চল না! বেটা রোজ রোজ বাজারে পাকা কলা বেচতে নেয়৷ আজ ঘোল খাইয়ে তবে ছাড়ব৷' ঠোঁট টিপে হাসতে হাসতে ওরা মালির ঘরের কাছে এল; কিন্তু দরজায় তালা দেওয়া৷ অনেক কলকৌশলে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকল৷ ঘরে পা দিয়েই খেলু বলল, 'আঃ কী চমৎকার পাকা কলার গন্ধ৷' কিন্তু অনেক খোঁজাখুজি করেও সে পাকা কলার সন্ধান মিলল না৷ হঠাৎ তড়িতের চোখ পড়ল মাচার নীচে খানিকটা বালির ওপর৷ বালি সরাতেই কলা বের হয়ে পড়ল৷
তারপর মজা দেখে কে! চারজনে মাচার নীচে বসে কলা তোলে আর কপাকপ গেলে৷ এমনি করে সমস্ত কলা সাবাড় করে ওরা বেরিয়ে পড়ল৷ তড়িৎ কিন্তু ঘর থকে মালি বেচারির কাটারি আর দড়িগাছা নিতে কসুর করল না৷
পথে বের হয়ে তড়িৎ বলল, 'চল এবার ডাব খেতে প্যারিবাবুর বাগানে৷'
পুকুরের পশ্চিম পাড়ের পথ ধরে, উত্তর পাড়ার ভেতর দিয়ে ওরা যখন ক্ষেত্রবাবুর বাগানে পৌঁছোল, তখন রাত দেড়টা৷ চারিদিকে হুয়া হুয়া রবে শেয়াল ডাকছে৷ তড়িৎ সড়সড়িয়ে গাছে উঠে পড়ল৷ তারপর দড়িটার একদিক গাছের সঙ্গে বেঁধে নিয়ে আর একদিক বাগানের বাইরে টুক্কুদের কাছে ছুড়ে ফেলল৷ ওরা দড়ি টেনে ধরার সাথে সাথেই তড়িৎ অনেকগুলো ডাব দড়ির গায়ে ঝুলিয়ে দিয়ে সুড়সুড়িয়ে গাছ থেকে নেমে পড়ল-অমনি ডাবগুলোও দড়ির গায়ে ঝুলতে ঝুলতে একেবারে বাগানের বাইরে টুক্কুদের কাছে৷
কাছাকাছি একটা পোড়োবাড়ি ছিল; ওরা ডাবগুলো সেখানে বয়ে নিয়ে একে একে সবগুলো ডাবই সাবাড় করে চলল আবার আখ খেতে৷
আখ খেতে গিয়ে তড়িৎ বলল, 'টুক্কু তুই এই দিকটায় পাহারা থাক, আর, খেলু ওই দিকে যা৷' তারপর ফেলুকে ইশারায় ডেকে আখ খেতে ঢুকে পড়ল৷ ভেতরে গিয়ে তড়িৎ দা দিয়ে আখের গোড়ায় কোপ শুরু করল৷ কোথায় আখ কাটবে তা না ঠক ঠক শব্দ করে উঠল৷
ফেলু বলল, 'ওরে সর্বনাশ করলি, ওটা আখ নয়৷ আখ নয়৷'
এদিকে শব্দ শুনে ঘর থেকে ক্যানকেনে গলায় কে যেন বলে উঠল, 'কেরে বাগানে? কে-কে?' বেগতিক দেখে ফেলু তো হুড়মুড় করে মারল এক দৌড়৷ আখের পাতার হিঁচকে লেগে ওর পা কেটে গেল৷ তড়িৎ আর কী করে, সেও অগত্যা সটান দিল৷
ছুটতে ছুটতে সবাই একেবারে তড়িৎদের বৈঠকখানাতে৷ এতক্ষণে ফেলুর ভয় ভেঙেছে৷ সে হোঃ-হোঃ করে হেসে বলল, 'তড়িৎ তুই কিনা শেষে আখ ভ্রমে বাঁশের খুঁটিতে কোপ মারলি?' তড়িৎ বলল, 'আরে দেখলুম তোদের সাহসের দৌড়!'
দেওয়ালের ঘড়িতে ঠং ঠং করে তিনটে বাজল৷ টুক্কু বলল, 'থাক, খুব খেয়েছি বাবা, আর কত? লাভের ভেতর ও আখ খেলে জিব কাটত৷' ফেলু হেসে বলল, 'আঙুর যখন নাগালের বাইরে তখন তাকে টকই বলতে হবে, এই তো? ওসব বাজে কথা রাখ, সোজা কথায় বল আখ খেতে পেলুম না৷'
টুক্কু বলল, 'নে নে হয়েছে, আর তর্ক করতে হবে না; চল আবার যাত্রার আসরে, এতক্ষণে হয়তো পালাটা বেশ জমে এসেছে৷' খেলু টুক্কুকে বাধা দিয়ে বলল, 'আরে রেখে দে তোর যাত্রা৷' তারপর তড়িতের দিকে চেয়ে বলল, 'আরে আসল কথাটাই ভুলে গেছি৷ বলেছিলুম না, যে মিষ্টিমুখ করতে হবে সেইটেই যে বাকি রয়ে গেল৷' ফেলু খেলুকে এক ধমক দিয়ে বলল, 'নে নে হয়েছে, আর মিষ্টিমুখে কাজ নেই-চল যাত্রার আসরে৷'
এতক্ষণে তড়িৎ মুরুব্বির মতো বলে উঠল, 'বড্ড ইয়ার হয়েছিস ফেলু, না! খেলু ঠিকই বলেছে, মিষ্টিমুখ করতেই হবে৷ বিকেলে নবীন ময়রার দোকানে যা রসগোল্লা তৈরি করতে দেখেছি-জমিদার বাড়ির বায়না! আঃ , জিব বেয়ে জল ঝরছে রে! আর পারছি না, চল শিগগির৷'
বাজারে ঢুকতেই নবীন ময়রার দোকান মস্ত একটা বট গাছের তলায়৷ চারজন দোকানের কাছাকাছি যেতেই একটা খেঁকি কুকুর ভয়ে কেঁউ কেঁউ করতে করতে উঠে পালাল৷
তড়িৎ বলল, 'দাঁড়া, আর এগুসনে! দেখি আগে কেউ জাগল কি না৷' একটু কান পেতে থেকে পা টিপে টিপে সবাই একেবারে-দোকান ঘরের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল৷ তড়িৎ বলল, 'দোকানে বোধকরি সেই হাবাটা ঘুমুচ্ছে৷' টুক্কু বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখে-ঘরে কেরোসিনের আলো জ্বলছে; আর কাঠের সিন্ধুকের ওপর হাবা দিব্বি আরামে ঘুমুচ্ছে৷ তার নাক ডাকছে-ঘড়, ঘড়, ঘড়৷ খেলু বলল, 'হ্যাঁ রে হ্যাঁ, আর দেখ মেঝেতে বড়ো বড়ো দু-দুটো কড়া ভরতি রসগোল্লা-রসে হাবুডুবু খাচ্ছে!' তড়িৎ বলল, 'চুপ, চুপ! টের পায় তো সবই মাটি৷' তারপর দা দিয়ে চোরের মতো বেড়া কেটে একে একে সবাই ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল৷ ফিসফিস করে তড়িৎ বলল, 'এত বড়ো কড়া টেনে বাইরে নেওয়া মুশকিল হবে৷ তার চাইতে আলোটা নিবিয়ে দে, এখানে বসেই সৎকার করা যাক৷ আরে হ্যাঁ, ও হাবার ঘুম সহজে ভাঙলে তো৷'
তারপর আর কী? সবাই মনের সুখে অন্ধকারে কপাকপ শুরু করল৷ হঠাৎ একটা গোঁ গোঁ শব্দ হতেই ওরা ভাবল, হাবার বুঝি ঘুম ভেঙে গেছে৷
ফেলু 'সারলে রে' বলে তড়াক করে উঠে দাঁড়াতেই-তার মাথার সাথে ঠকাস করে কী একটা লেগে একেবারে হুমড়ি খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেল৷ সাথে সাথে 'ওরে বাপ রে গেলাম' বলে সবার ছুটোছুটি দেখে কে! তড়িৎ বেচারি পড় তো পড় একেবারে জ্বলন্ত উনোনে! চেঁচাতে চেঁচাতে হুড়মুড় করে বেড়া ভেঙে যে যেদিকে পারল ভোঁ দৌড়!
চেঁচামেচি শুনে আঁৎকে উঠে হাবা হাঁউমাউ করে উঠল৷ দেখতে দেখতে লন্ঠন হাতে পাশের দু-চার দোকানের লোক ছুটে এল-ব্যাপার কী? ব্যাপার কী?
আর ব্যাপার কী! হাবা তো এদিকে সিন্ধুক থেকে পড়ে, হাত-পা ভেঙে চোখ কপালে তুলে গোঁ গোঁ করছে; আর ঘরময় রসগোল্লার হরির লুট৷
ওপরে তাকাতে সবাই দেখল, সিকেয় তোলা বড়ো একটা কড়া কাত হয়ে রয়েছে, আর তারই গা বেয়ে টপ টপ করে রস ঝরছে!
হাবা হাঁউমাঁউ করে কী বলল, কেউ তা বুঝতে পারল না৷ সবারই মুখে একই প্রশ্ন, 'ব্যাপার কী? ব্যাপার কী?'
অনেকক্ষণ চিন্তা করে গনেশ মুদি বলল, 'আরে মাথা ঘামানোর দরকার নেই হে, ভোর হোক না; দেখবখন চোর পালায় কোথায়? হ্যাঁ বাবা, এ ময়রার ঘরে 'নষ্টচন্দ্র'! পিঠে ছাপ না নিয়েই কি ফিরে গেছে?'
হাঁপাতে হাঁপাতে তড়িৎ, খেলুর বাড়ি এসে উঠল, কিন্তু তখনও ওদের গরম রসের পোড়ার জ্বালা একটুকুও কমেনি? খেলু তো যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে হাঁউমাঁউ করে কাঁদতে কাঁদতে একেবারে শুয়েই পড়ল৷ এত দুঃখের সময়ও বেচারি তড়িৎ আর খেলুর অবস্থা দেখে ফেলু হিঃ-হিঃ করে হেসে বলল, 'কেন বাপু, খুব যে মিষ্টিমুখ মিষ্টিমুখ বলে লম্ফঝম্ফ করছিলে-এখন?
অগ্রহায়ণ ১৩৩৮
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন