বুনো মোষ পোষমানা

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

এক গ্রামে এক গরিব বিধবা থাকত৷ তার একটিমাত্র ছেলে ছিল৷ ছেলেটি রাখালের কাজ করত, পাড়ার লোকের গোরু ছাগল চরাত, তাতেই যা কিছু পেত কোনো গতিকে তাদের অতি কষ্টে দিন কাটত৷

এমন করে তো দিন যায়, একদিন রাখাল তার মাকে বলল, 'মা দেখো সকলের জায়গা-জমি আছে আর গোরু বলদ দিয়ে জমি চষে৷ আমাদের না আছে জমি না আছে গোরু বলদ৷ আমি বলি এক কাজ করলে হয় না? একটা কাঠের ছোটোখাটো লাঙল তৈরি করে, গাঁয়ের লোকেদের যে সব ছাগল চরাই তাদের জুতে চাষ করলে হয় না?' একথায় মায়ের মত পেয়ে খুশি হয়ে সে কোনো গতিকে জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে সেই কাঠের একটা ছোট্ট লাঙল তৈরি করে, দুটো বেশ বড়ো বড়ো দেখে ছাগল বেছে নিয়ে, গ্রাম থেকে অনেক দূরে বনের ধারে একটা পতিত জায়গা খুঁজে বার করল-যার কোনো মালিক নেই; আর সেই জায়গায় লাঙল দিতে লেগে গেল৷

এইরকম করে তো জমি তৈরি হল-এখন বীজ পায় কোথায়? কী করে? তখন গাঁয়ের চাষিরা ধান ঝাড়া হলে কুঁড়ো (পেটেগ-বাবা) গুলো ফেলে দিয়েছিল সেইগুলো সে কুড়িয়ে জড়ো করে জমিতে ছড়িয়ে দিল৷ কুঁড়ো থেকে কি কখনো গাছ হয়! কিন্তু কী আশ্চর্য! একদিন সে সেই বীজের খোসা থেকে সুন্দর চারা বেরোচ্ছে-তখন তার কী আনন্দ! তারপর দু-একবার বেশ ভালো করে বৃষ্টি হওয়াতে খেত ধানে একেবারে ভরে উঠল! তারপর দেখল ক্রমে ক্রমে ফল ধরতে আরম্ভ হয়েছে, দানা বাঁধতে (ডেম্বো) শুরু করেছে! তারপর আবার একদিন দেখল ফসলে সোনালি রং ধরেছে-এবার পাকবে৷ আর দু-একদিন গেলেই সে সেগুলো কেটে তুলবে মনে করল৷

বেচারা তারপর একদিন সকালে খুব খুশি হয়ে ফসল কেটে আনবে বলে কাস্তে নিয়ে গেছে৷ গিয়ে দেখে-হায়! হায়! তার অত সাধের ফসল অত পরিশ্রমের ফল একদিনে একদল বুনো মোষে খেয়ে গেছে! বেচারা তো রাগে দুঃখে অস্থির৷ তক্ষুনি সে ঘরে মায়ের কাছে গেল৷ মাকে বলল, 'মা, আমাকে কিছু জনারের ময়দা (লুপু) আর চালভাজা দাও, আমি যেখানে পাব তির ধনুক দিয়ে মোষেদের মেরে তবে ছাড়ব-আমি তাদের না মেরে ফিরছি না৷' মা আর কী করে! ছেলেকে খাবার জিনিস ঘরে যা ছিল তা দিল৷ সে তির ধনুক আর একটা একতারা নিয়ে মোষেদের পায়ের দাগ দেখে দেখে তাদের সন্ধান করতে চলল৷

শেষে, যেতে যেতে গভীর বনে যেখানে জনমনিষ্যির যাতায়াত নেই এমন এক জায়গায় গিয়ে পড়ল৷ সেখানে একদল বাচ্চা মোষ চরছে, আর সমস্ত জায়গাটা একেবারে তাদের গোবরে বিছিয়ে আছে৷ রাখাল করল কী, চুপি চুপি তাদের চোখের আড়ালে থেকে সেই অপরিষ্কার জায়গাটা বেশ করে নিকিয়ে চুকিয়ে তকতকে ঝকঝকে করে রেখে কাছেই একটা বড়ো গাছের কোটরে গিয়ে লুকিয়ে রইল৷

যখন বিকেল হল, ধাড়ি মোষের পাল তাদের থাকবার জায়গায় ফিরে এল; তখন তারা সেখানটা হঠাৎ অত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখে অবাক হয়ে গেল! কিছুতেই বুঝে উঠতে পারল না কী করে এমন অসম্ভব সম্ভব হল৷ বাছুরদের জিজ্ঞাসা করল, 'কে এমন ঝেড়ে পুঁছে রেখেছে রে জানিস?' তারা কিছুই বলতে পারল না৷

তার পরদিন তারা একটা ছোটো মাদি মোষকে চরতে যাবার সময় 'গোঠপিঠ' পাহারায় রেখে গেল-ব্যাপারটা ধরবার জন্যে৷ রাখাল খুব সাবধানে চালাকি করে যেই সেই মোষটা একটু অন্যমনস্ক হয়েছে অমনি বেরিয়ে এসে, জায়গাটা নিকিয়ে চুকিয়ে তাড়াতাড়ি আবার আপনার কোটরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল৷ তার পরদিন একটা মর্দা মোষ পাহারায় রইল কিন্তু তারও চোখে ধুলো দিয়ে রাখাল আপন কাজ সেরে নিল৷ অবশেষে কোনো গতিকে ধরবার উপায় না দেখে তারা এবার একচোখ-কানা মোষকে পাহারায় রেখে গেল৷ কানি তার কুতকুতে একটি চোখে রাখালের ব্যাপার ধরে ফেলল৷

তখন, মোষেদের সর্দার রাখালকে ডেকে বলতে লাগল, 'কে তুমি? এমন লুকিয়ে থেকে আমাদের উপকার করছ? আমরা তোমায় কিছু বলব না, তুমি স্বচ্ছন্দে বেরিয়ে এসো৷ গাঁয়ে যেমন রাখালে গোরু ছাগল চরায়, তেমনি তুমি আমাদের এখন থেকে দেখবে শুনবে নাওয়াবে ধোয়াবে৷ আমরা তোমাকে দুধ, মাখন খাওয়াব, বিপদে আপদেও সহায় হব৷'

তখন রাখাল কোটর থেকে বেরিয়ে এল৷ আর তারপর থেকে সে তাদের রাখাল হয়ে মজা করে থাকতে লাগল৷ যখন দরকার হত তার একতারাটি বাজালেই মোষেরা যে যেখানেই থাক হাজার বাধা পড়লেও ছুটে দলে দলে তার সামনে এসে হাজির হত৷ তার যখন কাপড়ের দরকার, তখন সেই বনের কোনো পথ দিয়ে তাঁতিদের কাপড়ের বোঁচকা নিয়ে যেতে দেখলেই অমনি তাদের ডাকত৷ তারপর, তাদের কাছে বেছে বেছে ভালো কাপড় নিত৷ পয়সা চাইলে বলত, 'দাঁড়াও, আমার লোক আসছে, তার কাছে চেয়ো৷' অমনি 'বানাম' বাজিয়ে দিত আর দলে দলে শিং নাড়তে নাড়তে মোষের পাল সেখানে কোথা থেকে ছুটে আসত৷ তাঁতিরা ভয়ে কাপড়চোপড় যা কিছু ফেলে রেখে প্রাণভয়ে দে ছুট! এমনি করে প্রতি হাটে লোকজনদের কেনাবেচার যা সব জিনিস পেত দরকার বুঝে আদায় করত৷ এমনকী তার কুমোরের হাঁড়িকুড়িও সে সেই বনে বসে পেয়ে যেত৷

রাখাল করত কী রোজ একটা ঝরনায় মোষেদের স্নান করাত আর নিজেও করত৷ একদিন কী হয়েছে, সে মাটি দিয়ে খুব ভালো করে মাথাটা লেপেছে, তারপর মোষেদের নিয়ে গেছে৷ মোষেদের চান হয়ে গেলে সে যেমন নিজে চান করবে, অমনি তার একটি মাথার লম্বা চুল খসে গেল৷ সেটা পাছে মাছেদের গায়ে জড়িয়ে পড়ে আর তাদের বিপদ ঘটায় তাই ভেবে সে একটা ডুমুর (লোয়াদারু) পেড়ে তারই ভিতরে সেই লম্বা চুলগাছটি পুরে স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিল৷ ডুমুর ক্রমে ক্রমে ভাসতে ভাসতে যেখানে ঝরনাটা ক্রমে নদী হয়ে চওড়া হয়ে গেছে সেইখান দিয়ে দূরে চলে গেল৷

একজায়গায় নদীতে এক রাজকন্যা তাঁর সখীদের সঙ্গে স্নান করছিলেন, হঠাৎ ডুমুরটা তাঁর গায়ে গিয়ে ঠেকল৷ তিনি সেটা তুলে দেখেন তার মধ্যে একটি চমৎকার লম্বা চুল রয়েছে৷ তিনি সেই চুল দেখেই একেবারে মুগ্ধ! প্রতিজ্ঞা করে বলেন, 'এই চুল যার মাথার, তাকে ছাড়া আমি আর কাউকে বিয়ে করব না৷' ঘরে গিয়ে তিনি দুয়ার বন্ধ করে রইলেন- আহার নিদ্রা সব ছেড়ে দিলেন৷ রাজার ওই একটিমাত্র মেয়ে; তিনি সব ব্যাপার জানতে পেরে তক্ষুনি নদীর ধারে ধারে যেখানে গিয়ে নদীটা আরম্ভ হয়েছে সেখান পর্যন্ত খুঁজবার জন্য জন পাঠালেন৷

Cov28

লোকেরা খুঁজতে খুঁজতে যেখানে জংলি মোষগুলো থাকে সেই আড্ডায় গিয়ে পড়ল৷ তারপর তারা সেই লম্বা চুলওয়ালা রাখালকে দূর থেকে একটা মোষের পিঠে দেখতে পেল৷ কিন্তু বুনো মোষের পালের মধ্যে তার কাছে এগোতে কারও সাহসে কুলাল না৷ রাজার কাছে খবর যেতেই তিনি তো অনেক টাকাকড়ি বকশিশ দেবার লোভ দেখালেন কিন্তু তবু কেউ মোষের সামনে এগোল না৷ রাজা মহা ভাবনায় পড়লেন৷

এমন সময়, কোথা থেকে একটা সেকালের প্রকাণ্ড কাক রাজার কাছে উড়ে এসে বলল, 'মহারাজ! কিছু ভাববেন না, হুজুরের হুকুম হলেই, আর পেট ভরে মিঠাই পেলেই, আমি এক্ষুনি তাকে এখানে নিয়ে আসতে পারি৷' তারপর, রাজার হুকুমে খানিক ভোজন করে কাকটা উড়ে যেখানে রাখাল মোষেদের দলের মাঝে বসে আছে সেইখানে গেল৷ গিয়েই সে করল কী, ফস করে রাখালের 'বানাম' যন্ত্রটি ঠোঁটে করে নিয়ে উড়ে পালাল৷ রাখাল বেগতিক বুঝে তাকে ধরবার আশায় মোষের পিঠ থেকে নেমে তার সঙ্গে সঙ্গে ছুটল৷ ধূর্ত কাক মাঝে মাঝে একতারাটা পথের মাঝে ফেলে দিতে লাগল আর রাখাল যেই এগিয়ে গিয়ে কুড়োতে যাবে আবার অমনি ঠোঁটে করে নিয়ে উড়ে যেতে লাগল৷ এমনি করে ভুলিয়ে ভুলিয়ে কাক তাকে একেবারে পাহাড়, বন, মাঠ ছাড়িয়ে শহরের মধ্যে রাজার প্রাসাদের ভিতরে একেবারে সিপাই পাহারার মাঝখানে এনে ফেলল৷ সিপাইরা তাকে দেখেই একেবারে ধরে রাজার কাছে নিয়ে গেল৷

তারপর, রাজার কাছে রাখাল সব জানতে পেরে রাজকন্যাকে বিয়ে করতে রাজি হল৷ কিন্তু বলল, তার বিয়ের আগে তার একটা বিশেষ দরকারি কাজ করতে হবে৷ সে প্রাসাদের প্রকাণ্ড উঠোনের এক পাশে একটি মাচা বাঁধতে বলল আর তার সামনে এক হাজার খুঁটিতে মোটা মোটা দড়ি বেঁধে পুঁতে রাখতে বলল৷ রাজার হুকুমে তার দরকারমতো সব তৈরি হয়ে গেল৷ তখন, রাখাল সেই উঁচু মাচার উপরে চড়ে সেই বানামটি (একতারা) খুব জোরে জোরে বাজাতে লাগল৷ আর দেখতে দেখতেই পাহাড় জঙ্গল থেকে দলে দলে বুনো মোষ এসে রাজার সেই প্রকাণ্ড উঠোন একেবারে ভরিয়ে তুলল৷ তখন রাখাল লোকজনদের বলল, 'মোষগুলোকে খুঁটির দড়িতে ধাঁ ধাঁ করে বেঁধে ফেলো'৷ কতকগুলো মোষ সেই গোলমালে আর লোকজন দেখে ভয়ে আবার বনে পালিয়ে গেল৷ আর বাকি মোষগুলো সেই সব খুঁটির দড়িতে বাঁধা পড়ে গোরু ছাগলের মতো মানুষের পোষা হয়ে গেল৷ আর যারা বনে পালাল, তারা বুনো মোষ হয়েই থেকে গেল৷

(হো জাতির গল্প)

জ্যৈষ্ঠ ১৩২৫

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%