অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়
এক দেশে ভারি চালাক আর দেখতেও বেশ সুন্দরী একটি মেয়ে ছিল৷ গ্রামের দুটি ছেলের ইচ্ছা হল এই মেয়েকে বিয়ে করে৷ মেয়েটি দু-জনকেই কথা দিয়েছিল, বিয়ে করবে বলে৷ ছেলে দু-টি কেউ কাউকে চিনত না আর এটা জানত না যে দু-জনে একই মেয়েকে বিয়ে করতে চায়৷ এই দুষ্টু মেয়ের কাছে দু-জনে দুই বিদ্যা শেখে, একজন হল চোর, চুরি করে খায়-আর একজন হল ঠগ, লোককে ঠকিয়ে পয়সা উপার্জন করে৷
একদিন চোর কতকগুলি চোরাই মাল এক দোকানির কাছে বিক্রি করে ঢের টাকা নিয়ে সেই মেয়েকে দিল৷ খানিক বাদে সেই ঠগ গিয়ে দোকানিকে ধরেছে-'এ সব জিনিস তুমি কোথায় পেলে? এ সব আমার বাড়ি থেকে চুরি হয়েছে-নিশ্চয় তুমি চুরি করেছ৷' দোকানি তো রেগে আগুন, 'বটে! আমি কখনোই চুরি করিনি, এগুলো আমি একজনের কাছ থেকে কিনেছি৷ সে লোক যদি চুরি করে থাকে, তবে আমি তার কী জানি-তাকে গিয়ে খুঁজে বার করো৷' এইরূপ গোলমালে, ক্রমে সেখানে ঢের লোক জড়ো হল৷ চোর ভাবল, 'মাটি করেছে, এখন তো খুঁজে খুঁজে আমাকে ধরে ফেলবে!' এই ভেবে সে সেই মেয়ের কাছে গিয়ে সব কথা বললে পর, মেয়ে বলল, 'তাই তো এ তো ভারি মুশকিল হল৷ এক কাজ করো, কিছুদিনের জন্য এখান থেকে সরে পড়ো৷' এই বলে, আধখানা রুটি আর ভাজা ভেড়ার লেজের অর্ধেকটা কেটে একটা পুঁটলি বানিয়ে তাকে দিল৷ তাই নিয়ে চোর তখনই চম্পট৷
খানিক বাদে ঠগ এসে উপস্থিত৷ বলল, 'আর তো চালাকি খাটছে না, এবারে দেখছি ধরা পড়তে হবে৷ এখন কিছু খাবার দাও, নিয়ে এখান থেকে পালাই৷ তারপর গোলমাল মিটে গেলে, নাহয়, আবার ফিরে আসা যাবে৷' তখন মেয়ে, ভেড়ার লেজের আর রুটির বাকি অর্ধেক একটা পোঁটলা বেঁধে দিলে পর, ঠগ আর সেখানে এক মুহূর্তও দেরি করল না৷
এদিকে চোর চলতে চলতে ভারি কাহিল হয়ে একটা নদীর ধারে বসে পোঁটলা খুলেছে, খাবে বলে৷ এমন সময় ঠগও এসে উপস্থিত আর এসেই সেও তার পোঁটলা খুলেছে৷ দু-জনে মুখোমুখি হয়ে খেতে বসেছে, এমন সময় তারা দেখল যে, দু-জনের খাবার ঠিক একইরকম৷ শুধু তাই নয়, রুটি আর লেজের আলাদা আলাদা টুকরো জুড়ে দেখল, হুবহু একটা গোটা লেজ আর একটা গোটা রুটি হয়েছে! দেখে তো তারা অবাক! ঠগ চোরকে জিজ্ঞাসা করল, 'ভাই! তুমি কোথা থেকে আসছ?' 'অমুক শহর থেকে আসছি৷' 'কোন রাস্তায় তোমার বাড়ি?' 'অমুক রাস্তায় একজন স্ত্রীলোক থাকে, তার বাড়ি থেকে আমি আসছি৷ সেই স্ত্রীলোকটির সঙ্গে আমার বিয়ে হবে৷'
একথা শুনে ঠগের তো চক্ষুস্থির! বলল, 'ওই স্ত্রীলোকটির সঙ্গে যে, বছর খানেক থেকে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে-তুমি মিছে কথা বলছ কেন?' চোর বলল, 'বটে! আমি মিছে কথা বলছি না, তোমার মাথা খারাপ হয়েছে-তোমার ঢের আগে থেকে ওর সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক৷ বিশ্বাস না হয়, চলো তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেই সব জানতে পারবে৷' তখন ঠগ আর চোর দু-জনে ফিরে চলল সেই মেয়ের কাছে৷
মেয়ে ভারি চালাক, ঠগ আর চোর একসঙ্গে ফিরে আসছে দেখেই বুঝতে পারল, ব্যাপারটা কী৷ যাহোক, তারা এসে প্রশ্ন করবামাত্র সে বলল, 'তোমাদের দু-জনের কথাই ঠিক, দু-জনকেই বলেছিলাম বিয়ে করব৷ কিন্তু এখন আমি তাকেই বিয়ে করব, যে বেশি চালাক৷ তোমাদের দু-জনকে দুই বিদ্যা শিখিয়েছি-এখন যার বিদ্যায় বেশি বুদ্ধির খেলা দেখিয়ে, যে আমাকে খুশি করতে পারবে, সেই-ই হবে আমার স্বামী৷' এ কথায় ঠগ আর চোর দু-জনেই খুশি হয়ে রাজি হল৷ তখন ঠগ চোরকে বলল, 'আজ, তাহলে, আমি আমার বিদ্যার পরিচয় দিব আর কাল দিবে তুমি৷'এই স্থির করে, তারা দু-জনেই চলল বাজারের দিকে৷
বাজারে এসে ঠগ দেখল যে, একজন লোক, তার ব্যাগে এক হাজার মোহর পুরে, ব্যাগটা বুকের পকেটে রেখে দিল৷ অমনি সে চলল, সেই লোকের পিছনে পিছনে৷ খানিক দূর গিয়ে, ভিড়ের চাপের মধ্যে, ঠগ চট করে লোকটার বুক-পকেট থেকে ব্যাগটা তুলে নিয়েছে! তারপর, একটু নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে, করেছে কী, নয়টা মোহর ব্যাগ থেকে বার করে, তার নাম লেখা আংটিটা ব্যাগে রেখে দিল৷ এবং ফিরে গিয়ে, ব্যাগটা আবার সেই লোকের বুক-পকেটে রাখল-কেউ কিন্তু এই ব্যাপারের বিন্দু বিসর্গও জানতে পারল না৷ কিন্তু তাহলেও, একজন লোক সবই দেখতে পেয়েছিল-সে সেই চোর৷
ঠগ ব্যাগটি রেখেই সরে পড়ল, আবার খানিক বাদে ফিরে এসে চট করে গিয়ে সেই ব্যাগওয়ালার ঘাড় টিপে ধরেছে! ধরেই চিৎকার, 'হতভাগা, পাজি! আমার মোহরের থলেটি চুরি করেছিস!' লোকটি তো অবাক! বুঝতেই পারল না, তার কী অপরাধ! বলল, 'বাপু হে, সরে পড়ো৷ বেশি চালাকি করছ কেন, যাও আমি তোমাকে চিনিও না৷' ঠগ বলল, 'আমাকে চিনবার কিছু দরকার নাই-চলো, কাজির কাছে৷' তখন আর উপায় কী, দু-জনে কাজির কাছে গিয়ে উপস্থিত৷ বিচারক কাজি দু- জনের কথা শুনে, লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার ব্যাগে কত মোহর ছিল?' 'এক হাজার মোহর৷' ঠগকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার কত মোহর চুরি গিয়েছে, বলছ?' 'আজ্ঞে হুজুর, নয়-শো একানব্বইটা মোহর আর আমার নাম লেখা আংটিটাও ব্যাগের মধ্যে আছে৷' তখন কাজি সাহেব গুণে দেখলেন-ব্যাগের মধ্যে সত্যি সত্যি নয়-শো একানব্বইটা মোহর, তা ছাড়া, সেই আংটিটাও রয়েছে৷ বেচারি ব্যাগওয়ালা খেল বেদম প্রহার! আর ঠগ মোহরের থলে নিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল৷
পরদিন রাত্রে চোর করল কী, এক গাছা মোটা দড়ি নিয়ে, ঠগকে সঙ্গে করে, সেই দেশের বাদশাহের প্রাসাদে গিয়ে উপস্থিত৷ তখন রাত হয়েছে ঢের, সব নিঝুম৷ চোর দড়িটা পাঁচিলের উপর দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল, কীসে জানি সেটা বেশ করে আটকে গেল৷ তারপর দড়ি বেয়ে প্রথম উঠল চোর, তার পিছনে উঠল ঠগ৷ এই করে তো তারা প্রাসাদের ভিতরে গেল৷ চোরের সঙ্গে ছিল নানা রকমের চাবি, সেই চাবি দিয়ে খাজাঞ্চিখানা (ধনাগার) খুলতে আর কতক্ষণ লাগে৷ খুলেই ঠগকে বলল, 'যত পার মোহর বোঝাই করে লও৷' সে নিজেও রাশি রাশি মোহর থলে বোঝাই করে পিঠে নিয়ে চলল৷ পথে হাঁস-মুরগির ঘর দেখে চোর করল কী, একটা হাঁস মেরে, আগুন জ্বেলে, তাতে সেটাকে পোড়াবার ব্যবস্থা করল৷ আর ঠগকে বলল, 'তুমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকো, হাঁসটাকে উলটে দিয়ো-দেখো, যেন পুড়ে না যায়৷' এই বলে, চোর ফিরে বাদশার ঘরে চলল৷
চোরকে আবার বাড়ির ভিতরে যেতে দেখে, ঠগ মহা ব্যস্ত হয়ে বলল, 'আরে যাচ্ছ কোথায়! ফিরে এসো৷' চোর বলল, 'যাচ্ছি বাদশার কাছে! যা বুদ্ধি খেলিয়েছি আজ, বাদশাকে না বললে কি চলে! সব বলে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করব-ওই মেয়েকে তুমি বিয়ে করবে, না আমি করব৷' একথা শুনে ঠগের তো চক্ষুস্থির বলল, 'দোহাই ভগবানের! তুমি ভিতরে যেয়ো না, চলো, শিগগির এখান থেকে পালিয়ে যাই৷ আমি মেয়ের আশা ছাড়লাম, তুমি মনের সুখে তাকে বিয়ে করো গিয়ে৷' চোর বলল, 'তা হবে না ভাই৷ এখন ঠেলায় পড়ে বলছ বটে, 'তুমি মেয়েকে বিয়ে করো' কিন্তু কালই আবার মতটি বদলে ফেলবে৷ তাই আমি বাদশার কাছে যাচ্ছি, সব কথা শুনে তিনি যা ঠিক করে দেবেন, তুমি তা না মেনে যাবে কোথায়?'
এই বলে তো চোর চুপিচুপি বাদশার ঘরে উপস্থিত৷ এক কোণে লুকিয়ে থেকে দেখল, বাদশা ঘুমাচ্ছেন আর একটা চাকর তাঁর পা টিপছে আর একটা কিশমিশ চিবাচ্ছে৷ দেখেই, চোরের মাথায় খেয়াল হল যে, চাকরের মুখ থেকে কিশমিশ চুরি করবে৷ মেঝেতে ঘোড়ার লেজের একটা চুল পড়েছিল; চোর সেটা তুলে নিল৷ চাকরটার পেয়েছিল বেজায় ঘুম, ঢুলে পড়ছে আর মাঝে মাঝে এই বড়ো এক-একটা হাই তুলছে৷ চোর সেই চুলটার একটা মাথা চাকরের মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিতেই কিশমিশের সঙ্গে সেটা গিয়েছে এঁটে৷ তারপর আর একটা হাই তুলবার সময়, চোর সেই চুল ধরে টেনে কিশমিশটাকে চট করে বার করে এনেই নিজের মুখে ফেলে দিল! এইসময় চাকর একটু সজাগ মতো হয়েছিল বলে, বুঝতে পারল যে, মুখে কিশমিশ নাই৷ মেঝেতে এদিক-সেদিক চেয়ে কোথাও সেটা দেখতে পেল না৷ ততক্ষণে সে একেবারে রীতিমতো ঘুমিয়েই পড়ল৷ এই সুযোগে চোরও এসে, ভারি কড়া কী একটা আরকের শিশি তার নাকে ধরতেই সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে একেবারে চিতপাত৷ তখন চোর, চাকরটাকে একটা ঝুড়ির মধ্যে পুরে, সেই ঝুড়িটা জানলার বাইরে ঝুলিয়ে রেখে, বাদশার পা টিপতে লেগেছে৷ (ঠগ চুপিচুপি চোরের পিছনে পিছনে এসেছিল আর বাইরে থেকে এসব দেখছিল!)

চোর খানিকক্ষণ পা টিপলে পর, বাদশা একবার যেই একটু নড়ে উঠেছেন, অমনি সে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করল, 'হুজুর, খোদাবন্দ! একটা গল্প বলব, শুনবেন?' 'হাঁ, বলো৷' তখন চোর, তার আর ঠগের সব কথা বলল৷ (আবার দরজার দিকে চেয়ে ঠগকেও তিরস্কার না করে ছাড়ল না, 'এখানে দাঁড়িয়ে কী করছ? যাও না, হাঁসটাকে গিয়ে উলটে দাও-পুড়ে যাবে যে!') তারপর বাদশাকে আবার খাজাঞ্চিখানার চুরির কথা, চাকরের মুখ থেকে কিশমিশ চুরির কথা-সব না বলে ছাড়ল না! (ততক্ষণ দরজার বাইরে থেকে ঠগ ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছে আর বলছে-'শিগগির বেরিয়ে এসো, চলো পালাই৷' তার উত্তরে চোর সেই একই কথা- 'যাও, হাঁস উলটে দাও গিয়ে৷') চোর সব কথা বলে বাদশাকে জিজ্ঞাসা করল-'হুজুর! কার বুদ্ধি বেশি-চোরে না ঠগের? এখন মেয়ে কাকে বিয়ে করবে?' বাদশা ঘুমের ঘোরেই উত্তর দিলেন, 'চোরেরই বাহাদুরি বেশি, মেয়েকে চোরই বিয়ে করবে৷'
আরও খানিকক্ষণ পা টিপলে পর বাদশা ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লেন৷ তখন চোর পা টিপে টিপে বাইরে এসেই ঠগকে বলল-'বাদশা কি বললেন শুনলে তো?' ঠগ বলল, 'হাঁ হাঁ সব শুনেছি-মেয়ে তোমারই, শুধু মেয়ে তোমারই নয়, আমিও চিরকাল তোমার চেলা বনে থাকব৷ এখন চলো ভাই, শিগগির এখান থেকে বেরিয়ে পড়ি নইলে ভয়ে আমি মরেই যাব৷' দুইজনে বেরিয়ে সব টাকাকড়ি নিয়ে, একেবারে সেই মেয়ের বাড়িতে হাজির৷ মেয়ে সব কথা শুনে এমনই খুশি হল যে, চোরকে তখনই বিয়ে করল৷
এদিকে পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলে পর, বাদশা শুয়ে শুয়ে চাকরকে ডাকছেন৷ কে সাড়া দেবে? কোথায় চাকর! বার বার ডেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বাদশা রেগে বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠলেন৷ তখন দেখেন যে, জানলায় একটা দড়ি বাঁধা রয়েছে৷ ব্যাপার কী? চেয়ে দেখলেন-জানলা থেকে একটা ঝুড়ি ঝুলছে আর তার মধ্যে তাঁর চাকর অজ্ঞান অবস্থায় গুড়ি মেরে পড়ে আছে৷ এই দেখে ডাকহাঁক করতে লাগলেন আর দেখতে দেখতে অন্য সব চাকর এসে উপস্থিত৷ তারা তো অনেক চেষ্টা করে, ঝুড়ির চাকরকে সজ্ঞান করল, তারপর ব্যাপার কী তাকে জিজ্ঞাসা করা হল বটে, কিন্তু সে বেচারি কিছুই বলতে পারল না৷ তখন বাদশার একটু একটু করে মনে পড়ল-রাত্রে ঘুমের ঘোরে সে চোরের কাছে একটা গল্প শুনেছিলেন৷
বাদশা তখন সভায় গিয়ে বসলেন; উজির, নাজির, পাত্র, মিত্র সবাই হাজির৷ তখন রাত্রের ঘটনা সকলকে বলে, বললেন, 'এই চোরকে খুঁজে বের করতেই হবে৷ ঢোল পিটিয়ে দাও- চোরের কিছু ভয় নাই, তাকে আমি অভয় দিলাম৷ সে আমার কাছে এসে, সব কথা বলুক৷ আমি আল্লার নামে শপথ করছি-তাকে কোনো সাজা দিব না৷ টাকাপয়সা আমার যা নিয়েছে, সবই তার; তা ছাড়া, তাকে আমি আরও অনেক বকশিশ দিব৷'
বাদশার হুকুমে শহরময় ঢোল পিটিয়ে দেওয়া হল৷ চোরও সব শুনল আর বাদশার প্রতিজ্ঞার উপর ভরসা করে, একেবারে সভায় গিয়ে উপস্থিত হয়ে বলল, 'দোহাই হুজুরের! আমিই সেই চোর৷ এখন আমাকে মারুন, কাটুন, আপনার যা ইচ্ছা তাই করুন৷'
তখন চোরের কাছে বাদশা আগাগোড়া সব কথাই শুনলেন৷ কিন্তু তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা ভুললেন না, আর, চোরের বুদ্ধি দেখে খুশিও হলেন৷ তারপর চোরকে কত যে বকশিশ দিলেন, তার সীমা নাই৷ চোরও তখন প্রতিজ্ঞা করল যে, আর সে কোনোদিন চুরি করবে না৷
(তুরস্কের উপকথা)
আশ্বিন ১৩২৮
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন