নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

গরমের ছুটিতে সদলবলে যখন পাহাড়ে যাবার প্ল্যানটা একেবারে পাকা হয়ে গেল তখনও কিন্তু আমরা জানতাম না যে এবারের গ্রীষ্মাবকাশটি ঠিক কোন জায়গায় হবে, তবে দার্জিলিং-এর দিকে একেবারেই নয়৷ কারণ, মিঠুদিদের ওখানে বাড়ি থাকায় গত চল্লিশের দশক থেকে আজ পর্যন্ত শুধু আমাদের পরিবার নয়, বন্ধু তৎবন্ধু, তৎসহ তাদের আত্মীয় অনাত্মীয়, চেনা আধাচেনা পুরোপুরি অচেনা প্রত্যেকে, রিচি রোডের মামার বাড়ি থেকে চাবি নিয়ে গিয়ে পাইনবনের হাওয়া খেয়ে এসেছে৷ আর আমাদের তো কথাই নেই৷ গড়িয়াহাটের মোড়েও বুঝি অতবার যাইনি, যতবার গিয়েছি দার্জিলিং৷ বারবার গিয়ে, অলিগলির সাইনবোর্ড, লাইটপোস্টও সব চেনা৷

গাড়োয়ালের দিকে যাবার কথা হয়েছিল, কিন্তু বেবিদি একেবারে হাঁ হাঁ করে উঠল 'খেপেছিস? খবরের কাগজ পড়িসনি, দু-দিন অন্তর ওইদিকে ভূকম্প৷ অত কষ্টে পাহাড়ে উঠে, শেষে ঝাঁকানিতে টুপটাপ ঝরে পড়ি আর কি! আর একবার সমতলে পড়লে আবার কী বেয়ে-ছেয়ে ওপরে ওঠার এনার্জি থাকবে? তার চেয়ে চল নীলগিরি৷'

খুকুদি বলল, 'বেবির মাথাটা গিয়েছে৷ এই গরমে, ওই সুদূর দক্ষিণ পর্যন্ত জ্বলতে জ্বলতে যাব? পৌঁছোনোর আগেই হিট স্ট্রোক৷ নীলগিরি, লালগিরি ওসব একেবারে বাদ৷'

বুড়িমাসি বলল, 'কুলু-মানালি৷' এবার তো সবাই ছ্যা ছ্যা করতে শুরু করল৷ গরমের সময় বড়ো বড়ো হিল স্টেশনগুলো নাকি একেবারে ছাব্বিশ পল্লির পুজো প্যান্ডেল৷ শুধু ভিড় এবং তার নব্বই ভাগই অবশ্যই বাঙালির, মারামারি ঠেলাঠেলি৷ তা তার জন্য অতদূর যাবার দরকার কী, ভবানীপুর, শেয়ালদা, মানিকতলা যেখানে ইচ্ছে থাকা যায় হোটেল ভাড়া করে৷

শেষে অনেক কাপ কফি, দুশোগ্রাম ডালমুট, তার সঙ্গে ঘুগনি, নিমকি, জিভেগজা একেবারে তলানিতে আসার পর মোটামুটিভাবে ঠিক হল, হিমাচলেই যাওয়া হবে৷ তবে বড়ো শহরে নয়৷ ছোটোখাটো কোনো সুন্দর পাহাড়ে৷

বেচারা টুনুদি জানতেও পারল না যে তাকে ঘুণাক্ষরে না জানিয়েই সব ঠিক করা হল৷ আর সেই নাকি দিল্লি থেকে সব ব্যবস্থা করে রাখবে৷ কারণ, টুনুদির বর বেশ হোমরাচোমরা সরকারি আমলা৷

আমরা প্রথমে দিল্লি যাব৷ সেখান থেকে কালকা হয়ে একেবারে পাহাড়ে৷ দিন দশেকের ট্রিপ, আবার দিল্লি হয়ে ফেরা৷ এত চেঁচামেচি, হল্লাবাজির পর, এই সিদ্ধান্তটুকুতে অন্তত আসবার পর সবাই এমনই নিশ্চিন্ত হল যেন হাতে টিকিটই এসে গিয়েছে, সঙ্গে হোটেল বুকিংও৷ আয়েশে হাই তুলে আর একপট গরম চা শেষ করে সভাভঙ্গ হল-তাহলে সেকথাই রইল, বিশ তারিখ রিচিং, ত্রিশ তারিখ ব্যাক? ডান৷

সত্যি এলেম আছে টুনুদির৷ ওই ক-দিনের নোটিশে এই গরমের আক্রায়, কোথা থেকে কী করে যে এমন চমৎকার ব্যবস্থা করে ফেলল, ভাবতেও অবাক লাগে৷

গতকাল সকালে দিল্লি পৌঁছে, সারাটা দিন টুনুদির বিরাট সরকারি বাংলোয়, গা মুড়মুড়ি দিয়ে, হাই তুলে, আঙুল মটকিয়ে আড্ডা হল৷ শেষে, রাতে ট্রেনে চেপে কালকায়৷

ওখান থেকে গাড়ি চেপে সোজা নাড়কান্ডায় আসতে পারতাম, কিন্তু বাচ্চাদের এবং বড়োদের এবং প্রায় বুড়োদের প্রবল ইচ্ছেতে, টয়ট্রেনে চেপে এলাম সিমলা৷ সেখানে একটু ঘোরাঘুরি করে, গাড়ি আগেই ঠিক করা ছিল, তাতে করে একেবারে গন্তব্যে৷

তবে আমরা যে জায়গাটাতে আছি সে ঠিক নাড়কান্ডাতে নয়৷ নাড়কান্ডা থেকে সামান্য পথ গিয়ে যে সরকারি অতিথিশালা 'হোটেল হাটু' তার থেকেই বাঁ-হাতে সরু একটা রাস্তা এঁকেবেঁকে মনে হয় যেন গ্রামের দিকে চলে গিয়ে বুঝি বা হারিয়ে গিয়েছে, সেই রাস্তার শেষে একটা বিরাট পাহাড়ের গায়ে ছোটো উপত্যকা৷ তার মাঝে আপেল, নাশপাতি, চেস্টনাটের বাগান৷ আর তারই ভিতর বিরাট, যাকে বলে কলোনিয়াল বাংলো৷

সবুজ রং-করা টিনের ছাদ, ফায়ার প্লেস, আলিসান সব আসবাব, পোর্সেলিনের ক্রকারি, বাথটাব৷ খাবার ঘরের বিশাল ওভাল টেবিলে, যখন রাতে আমরা বসলাম, মনে হল, বুঝি-বা টেবিলের অর্ধেকও ভরেনি৷

আমরা বলতে অবশ্যই আমি, আমার জেঠতুতো দিদি বেবিদি, আর মাসতুতো দুই বোন, মিঠুদি, নুটুদি৷ আমাদের আরেক কাকার মেয়ে খুকু৷ তার বুড়িমাসি, বুড়িমাসির হস্টেলতুতো বোন ছুটকি, আর কে না জানে হস্টেলতুতো বোনেরা নিজের বোনের থেকেও কোনো কোনো সময় বেশি বোন হয়৷ টুনুদি আসতে পারল না, তবে তার প্রাণের বন্ধু কাজরি, ওরফে কাজুদি এসেছে৷ আর তার সঙ্গে খান কয়েক বাচ্চা৷ আমার তেরো বছরের ছেলে ভুটিয়া, খুকুদির পনেরো বছরের মেয়ে বেগম, ছুটকি আর কাজুদির আঠারো আর ষোলো বছরের ছেলে পাবলো আর ঘন্টু৷

প্রথমদিন আসতে আসতে বিকেল গড়িয়ে গেল৷ চা, কেক খেয়ে যে যার মতন প্রকৃতি পরিদর্শনে বেরোলাম৷ পাহাড়ের তুলনায় বেশ বড়ো লন সামনে৷ বাচ্চারা ব্যাডমিন্টন খেলতে শুরু করল৷ বেগম আবার খানসামার ঘর থেকে এক কুকুর জোগাড় করেছে, সাদা লোমওয়ালা, তারও নাম নাকি বেগম৷ পাবলো খেপাচ্ছে, ওকে দেখার আগেই ওর নামে কুকুর পুষছে ব্যাপারটা কীরকম? বেগম প্রচণ্ড প্রতিবাদ করছে যে, মুখ ফসকে নাকি বলে ফেলেছে, আসলে নাম নাকি পাবলো৷ তা নাকি কেউই মানছে না৷ আর যাকে নিয়ে এত হুল্লোড় সে বেচারা দুই নামেই লেজ নাড়ছে৷ এমনকী ভুটিয়া বা ঘন্টু বলাতেও ততটাই উৎসাহ৷ আসলে এমন পাণ্ডববর্জিত পাহাড়ে একসঙ্গে এতগুলো লোক দেখে বেচারা একেবারে দিশাহারা৷

কথাটা ঠিকই৷ নাড়কান্ডা থেকে আর কতটুকুই-বা পথ, দু-তিন কিলোমিটার হবে, পাহাড়ে ঠিক আন্দাজ করতে পারি না৷ তবে এই সামান্য দূরত্বেই জায়গাটা যেন কোন সুদূর বলে মনে হয়৷ এর পজিশনই এমন, আশপাশে কোনো লোকালয়ই দেখা যায় না৷ নাড়কান্ডার আলো দেখতে হলেও, মাইল খানেক এগিয়ে যেতে হবে 'হাটুর' দিকে৷

তবে লোক দেখতে তো আমরা আসিনি হাঁচড়েপাঁচড়ে এতদূর? কলকাতায় যেন লোকের অভাব! লোকের ঘাড়ের পাশ দিয়ে বগলের ফাঁক দিয়ে মাথার ওপর দিয়ে যা দেখা যায়, তাও ওই লোকই৷ সুতরাং এই নিরিবিলি পাহাড়ে আমরা দশ দিন ধরে শুধু ঠান্ডায় কেঁপে কেঁপে পাহাড় দেখব, আর ঘুরে বেড়াব, তৈরি খাবার খাব, তৈরি বিছানায় ঘুমাব৷ আর পায়ের উপর পা দিয়ে গপ্পোগুজব করব৷

গল্পের আমাদের শেষ নেই৷ নামকরা আড্ডাবাজ বাড়ি আমাদের৷ ছেলেরাও যাদের বিয়ে করে আনে তারাও আড্ডাবাজ হয়, আবার মেয়েরা যে বাড়িতে বিয়ে হয়ে যায় তারাও আড্ডাবাজ হয়৷ এককথায় রসিক মানুষেরাই আমাদের বাড়ির বন্ধু হয়৷ ফলে এ বাড়ির বারোজন বোঝাই হয়ে যেখানে যাবে, সেখানে আর কারোর দরকারই নেই৷ দরকার শুধু জোগানদারের৷ সে এখানে আছে৷ এ বাড়ির রক্ষক-জন৷ কেরালার ক্রিশ্চান, কুক কাম কেয়ারটেকার, বউ মেরিয়াপ্পা তার সহকারী, সপরিবারই থাকে এখানে৷

ঘরদোর ঝকঝকে, বেল টিপলেই বাথরুমে গরমজল থেকে খাবার টেবিলে গরম গরম চিকেন রোস্ট তৈরি৷ আমরা আহ্লাদে একেবারে আটখানা৷

নুটুদি সঙ্গেসঙ্গে ঠিক করল, আগে কলকাতায় জানিয়ে দিতে হবে আমরা আরও এক মাস ছুটি বাড়ালাম, পরে সময় মতো টুনুদেরকেও জানিয়ে দিলেই হবে, ব্যবস্থা পাকা করে দিতে৷ সরকারি বনবাংলো, শেষে গরমের ছুটি দেখে কোনো মিনিস্টারের শ্যালক এসে, দরজায় খটখটাবে৷ দরকার কী?

তবে এর খবর বোধ হয় তেমন কেউ জানে না৷ এমনকী নাড়কান্ডার মানুষেরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করছিল৷ কেবল 'হাটুবাংলো'র চৌকিদারের বুড়োবাবা ভাগ্যিস হাত তুলে এদিক পানে দেখিয়ে দিল৷ এ জায়গার কী একটা যেন নাম আছে, পানকা, নাকি নানচি বা গামপু৷ অদ্ভুত নাম মনেও থাকে না৷ বুড়ো বলেছিল বটে৷ তবে এটা যে রুলেট সাহেবের বাংলো মনে আছে৷

সন্ধ্যে হবার আগে আমরা যখন বেড়াতে বেড়াতে নাড়া ফটক পর্যন্ত হেঁটে এলাম, বোর্ডে দেখলাম 'রুজভেল্ট কটেজ' উনিশশো বিশ৷

এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ঝুপ করে সন্ধ্যে নামল, আর আমরাও বাড়ি ফিরে যার যার ন্যাপথলিনের গন্ধমাখা গরমজামা মোজা টুপি মাফলারে নিজেদের সাজিয়ে গুজিয়ে হলঘরের ফায়ার প্লেসের সামনে বসলাম৷ যদিও আগেই বলা ছিল৷ তবু কায়দা করে 'টিং' করে বেল টিপে জনকে বলা হল, ঠিক সাড়ে আটটায় ডিনার লাগাতে৷ জন যেন দরজার বাইরেই ছিল 'জি মেমসাব' বলে বেরিয়ে গেল৷ অবশ্য বেরিয়ে গেল না বলে মিলিয়ে গেলই বলা যায়৷ কারণ, আমাদের ঘরে ছাড়া কোথাও আলো নেই৷ বড়ো দরজার বাইরেটা ঘন অন্ধকার৷ ওদিকটাই তো খাবার ঘর, প্যানট্রি৷ রান্নাবান্নাই বা হচ্ছে কোথায় কে জানে, এই ঘুরঘুটে অন্ধকারে?

সকাল থেকে কী বৃষ্টি, কী বৃষ্টি! আকাশ কালো, যেন গভীর রাত৷ দু-হাত দূরের জিনিসও দেখা যায় না৷ জানলা দরজা বন্ধ, তবু মনে হচ্ছে বৃষ্টি যেন আছড়ে পড়ছে৷ এমন বৃষ্টি পাহাড়ে কমই হয়৷ আর যদি হয় তো চিন্তার বিষয়৷

আমাদের চিন্তা অবশ্য তেমন নেই, কারণ রাস্তায় ধ্বস নামলেও দশ দিনে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে৷ আর খাবারদাবার নিশ্চয়ই মজুদ আছে, নয়তো এমন এলাহি ব্যবস্থাটা হচ্ছে কী করে? এসব নিয়ে চিন্তা না করলেই হয়৷ যত চিন্তা তত মাথা ব্যথা৷

সকালে চা কফি দুধ ওভালটিন যার যার মতন খেয়ে, ন-টা নাগাদ আকাশ একটু পরিষ্কার হতে, জন টেবিল সাজিয়ে ডাকল৷ ব্রেকফাস্টে বিশাল টেবিলে কী নেই? জ্যাম বোধ হয় পাঁচ রকমের, ক্রিস্পি টোস্ট, গরম পরিজ, যার যার পছন্দমতন ডিসের বাহার৷ জন তৎপর হয়ে সাজিয়ে যাচ্ছে সব৷

নুটুদি একবার থাকতে না পেরে জিজ্ঞাসাও করল, 'জন, এত সব জোগাড় করলে কোথা থেকে, বাজার হাট ধারেকাছে আছে?'

জনের সেই একনাগাড়ে মিষ্টি হাসি আর একটু বিস্তৃত হল৷ 'বাঃ, আপনারা সব আসবেন৷ এটুকু জোগাড় তো করতেই হয়৷' এ যদিও কোনো উত্তর নয়, তবু তা শোনার আগ্রহও আমাদের নেই৷ নিজেদের গালগল্পে মেতে আছি, বাইরে তুমুল বৃষ্টি হয়ে চলেছে৷ সকালের টেবিল যখন ছাড়লাম, তখন এগারোটা প্রায় বাজে৷ যদিও তা বুঝবার কোনোই উপায় নেই৷

দুপুরে খাবার পর বেবিদি একবার বলল, 'কলকাতায় একবার ফোন করা উচিত ছিল, আমরা যে সব ভালোমতো পৌঁছেছি৷'

খুকুদি সঙ্গেসঙ্গে বলল, 'টুনুদি নিশ্চয়ই জানিয়ে দিয়েছ ইতিমধ্যে৷' পাবলো যখন বলল টুনুমাসিই বা জানবে কী করে, খুকু জবাব দিল, সে নাকি ওরা সব জানে, দিল্লির সরকারি আমলা বলে কথা৷ আমরাও আর কিছু বললাম না, কারণ এটা মেনে নেওয়াই সব থেকে সুবিধের৷ এই ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে কে যাবে ফোন করতে? আর যাবেই বা কেমন করে?

জন ফায়ার প্লেসে দুটো কাঠ গুঁজতে এসেছিল, বলল, ওকে নাম্বার দিলে ও জানিয়ে দেবে৷ কাজুদি সঙ্গেসঙ্গে টুনুদির দিল্লির ফোন নাম্বার লিখে ওর হাতে দিয়ে দিল৷ ওখানে করাই সব থেকে ভালো, একজন খবর পেলে সব বাড়িতে জানিয়ে দেবে৷ সরকারি ফোনে তো আর পয়সা লাগে না!

ছুটকিদি হঠাৎ বলল, 'এই বাদলায় ওকে পাঠালি, বুথ কি আর খোলা থাকবে, আর সেও তো সেই নাড়কান্ডায়৷ অতদূর যাবেই বা কী করে?'

বুড়িমাসি বলে উঠল, 'আমরা তো আর ঠেলে পাঠাইনি, ও-ই তো যেতে চাইল, পাহাড়ে থাকে৷ চৌপর পাঁচ-সাত মাইল ওঠানামা করে, এতে ওদের মোটে কষ্ট হয় না৷'

আমরাও কথাটা স্বীকার করলাম, সত্যি তো আমাদের মধ্যে কে-ই বা যাবে! অচেনা রাস্তায় এই বৃষ্টিতে, পা পিছলে কোথায় যেতে কোথায় যেয়ে পড়বে৷ ওদের সব অভ্যাস আছে৷

ফায়ার প্লেসের আগুনের তাতে আমাদের বড়ো আরাম লাগছিল৷ স্যাঁতসেঁতে ভাব চলে গিয়ে ঘরটা গরম আর আমরাও হাত-পা সেঁকে, সোফা-টোফায় বসে গল্পের জন্য তৈরি৷

ছুটকিদি বলল, 'আমি বিছানায় যাব না, তবে এখানে বসেই একটু জিরিয়ে নেব৷ কাল রাতে তোরা কে কেমন ঘুমিয়েছিস জানি না, আমি মোটে ঘুমোইনি৷ সারারাত কুকুরটা কেমন কেঁদেছে, আর কেউ যেন হাঁটাচলাও করেছে বাপু বারান্দায়৷ চৌকিদারই হবে৷ টর্চের আলো একেকবার চোখে পড়ছিল৷ আমি জানালার ধারেই ছিলুম কিনা?'

আমরা সমস্বরে বললাম, 'সকালে দেখেছি, ছুটকিদির চোখমুখ ফোলা, খুব ঘুম হয়েছে সারা রাত, এখন মোটেই ঘুমালে চলবে না৷'

মুখে বললাম বটে, তবে, মন থেকে খুব একটা চেঁচাতে পারলাম না৷ কারণ, ঘুম আমারও ভেঙেছে কয়েকবার৷ শুধু তাই না একবার জানলার ধারে গিয়ে বাইরেটা দেখারও চেষ্টা করেছিলাম৷ ঘুমের ঘোরের জন্যই বোধ হয়, কিচ্ছুটি দেখতে পাইনি, বাদে কিছু এর-ওর ঘাড়ে পড়া বড়ো বড়ো গাছ৷ ও ঘর থেকে বুঝি বাগান মোটেই দেখাই যায় না৷ কেবল পেছনের বিটকেল খাদ৷ হাঁটতে চলতে কাউকে দেখিনি অবশ্য, কিন্তু একটা ঢিবির ওপর, বিকেলের দেখা সাদা ফুটফুটে কুকুরটাকে দেখেছিলাম, ওপর পানে মুখ তুলে কাঁদছে৷ এমন অলুক্ষুণে কান্না কাঁদে শুনেছি এদের মনিব-টনিব মরে গেলে৷ শুনেও কেমন জানি গা ছমছম করে বাবা!

এই কুকুরের কান্না থেকেই শুরু হল আমাদের আষাঢ়ে ভূতের গল্প৷ যার কাছে যত স্টক, অফুরন্ত৷ বাচ্চারা গা ঘেঁষাষেঁষি করে বসেছে, আমরাও হাত-পা কম্বলে ঢেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে৷

কবে, কার ছাতে এক পায়ে ঠক ঠক শব্দ হত, রোজ রাতে৷ শেষ দেখা গেল ডাক্তারি পড়া ছোটোপিসি, যে কঙ্কালটা এনেছিল অ্যানাটমি পড়তে, তার একটা পা সাদা প্লাস্টিকের হাড় দিয়ে তৈরি৷ অথবা লাশকাটার ঘরে যে সার বাক্সবন্দি বেওয়ারিশ মরা থাকে, তার মধ্যে একটি দিন দিন আয়তনে বাড়ছে, এদিকে স্টুডেন্টদের টিফিন বাক্স ফাঁকা৷

এসব গল্প হচ্ছিল বটে, তবে বেশিটাই হাসাহাসি৷ কঙ্কালটা একপায়েই হাঁটত, নাকি ক্রাচ নিয়ে; ছেলেপুলেদের ঘেন্নাপিত্তি বলেও কি কিছু নেই, মড়া-কাটা টিফিন বাক্স ঘরে নিয়ে খায় কোনো বিটকেল শখে, ইত্যাদি৷

এই কথা সেই কথা, হাজার কথার মাঝে, কথায় কথায় জনের কথাও উঠল৷ এই যে নির্বান্ধব পুরীতে পড়ে আছে, এ কেমন কথা, বলি সরকারি চাকরিই তো, তা বদলি নেয় না কেন? আর লাটসাহেবের ব্যবস্থাই বা হচ্ছে কোথা থেকে, ফরেস্ট বাংলোয় একেবারে সার্কিট হাউসের ব্যবস্থা৷ শুধু সার্কিট হাউস কেন? বলা যায় গভর্নর'স হাউস৷ এই খাবার এই বিছানা, এই সুবিধে, এসব ব্যবস্থার জন্য চাই খান দশেক লোক৷ এখানে তো ওর বউকেও দেখলাম না?

খুকুদি বলল, 'মারিয়াপ্পা কোথায় জিজ্ঞেস করাতে ওদিক পানে হাত তুলে দেখিয়েছে৷ বর বেচারা খেটে খেটে মরে, বউটি কেন বসে থাকবে সারাদিন?'

ভুটিয়া বলল, জন আঙ্কেল কোথায় থাকে জিজ্ঞেস করাতেও নাকি ওই দিকটাই দেখিয়েছিল৷ বল কুড়োতে ওদিকে গিয়ে দেখে, বাড়িঘর কিছু নেই, শুধু আপরুটেড কিছু বিশাল বিশাল গাছ৷

কাজুদিরও নাকি চিরকুটটা দিতে জনের হাতে হাত লেগেছিল, বাবারে কী ঠান্ডা, কী ঠান্ডা! ফায়ার প্লেসে কাঠ গুঁজেও অত ঠান্ডা, তো বাসন ধুলে কী হবে, নুটুদি বলল, 'কাঠ দিয়েছিল তো, ভালো করে দেখেছিস, পা গুঁজে দেয়নি তো আবার?' বুড়িমাসি বলল, 'রোসো, ফিরে আসুক, দুটো লেবু পাড়তে বলি৷'

বলছি বটে অনেক কথাই, তবে আমার মতন অন্যদেরও মন কী বলছে জানি না৷ প্যানট্রির দিকে গিয়েছিলাম কৌতূহলবশত, ধুলোপড়া, মাকড়সার জালে ঢাকা অমন প্যানট্রি সচরাচর দেখিনি৷ রসুইখানাটি দেখার সৌভাগ্য হয়নি অবশ্য৷ সে নাকি বাংলোর বাইরে৷ এই ঝড়বাদলায় ওদিক থেকে আসা-যাওয়া . . .!

গল্পে গল্পে বিকেলের চা নাস্তার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম সব, নাকি জটলা ছেড়ে নড়বে না বলে কেউ৷ ফলে যা ডালমুট, বিস্কুট ছিল, সে সবই জড়ো করে রেখেছি, যদি বাচ্চারা খায়৷ এর মধ্যেই কখন নিঃশব্দে জন এসে দুধের জাগ চা কফির পট রেখে সামান্যক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল৷ আমাদের সবার কেমন মুখ থেকে কথা বেরোল না৷ খটখটে শুকনো জামা কাপড়ে বিনীত হেসে জানিয়ে দিল খবর দিয়েছে, আর রাতে কখন খাবার দেবে৷

আমরা একবারও জিজ্ঞাসা করলাম না খবরটা দিল কোথা থেকে আর কেমন করেই বা গেল৷ খুকুদি শুধু কোনোমতে বলল, রাতে যেন শুধু রুটি ভাজি করে, কারোর তেমন খিদে নেই৷ নামকাওয়াস্তে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়বার কথাই ভাবছিলাম৷ এমন সৃষ্টিছাড়া বৃষ্টি বাবা জন্মে দেখিনি৷ গুম গুম শব্দ, হুড়মুড় গাছ ভাঙছে, বিদ্যুতের আলোয় বাইরে সাদা হয়ে যাচ্ছে৷ ঘরে অবশ্য আলো আছে, আর আছে নির্বাক বেরসিক একডজন ছেলেপুলে আর তাদের মা-মাসিরা৷

জন ঘরে ঘরে সেজবাতি রেখে যাচ্ছিল৷ শেষে বলল, 'এখন মোটে ন-টা বাজে, আরও তিন-চার ঘণ্টা আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন৷ আমার বারণ করবার ক্ষমতা থাকলে অবশ্যই করতাম, তবে এসে যখন পড়েইছেন দেখি কতটা কী করতে পারি৷' দরজা দিয়ে চলেই যাচ্ছিল, তবু কী মনে করে দাঁড়াল আর একেবারে সরাসরি আমার চোখের দিকেই যেন তাকিয়ে বলল, 'আপনারা ভূতের গল্প করছিলেন না? ভূত বিশ্বাস করেন নাকি?' আমাদের যার যার গলা দিয়ে যা বেরোল তাতে, হ্যাঁ না কিছুই স্পষ্ট হল না৷ জন আবার হাসল, বেশ করুণই দেখাল হাসিটা৷ 'বিশ্বাস অবিশ্বাসে কী আসে যায়৷ গল্পগুলো তো সত্যিও হয়, আবার সত্যি কথাও গল্প হয়ে যায়, গুড নাইট৷' বলে বাইরে চলে গেলে আমরা এর-ওর মুখের দিকে তাকিয়ে, যার যার ঘরে ঢুকে লেপমুড়ি দিলাম৷

কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানি না, ভোরের দিকেই বোধ হয় কীসের আওয়াজে নাকি ধাক্কায় ঘুম-টুম ভেঙে চিৎকার করে সব উঠে বসেছি, বাড়িঘর তখন দুলছে৷ টিনের চাল যেন উড়ে যাবে, কড়কড় আওয়াজ৷ গুম গুম শব্দ বেড়েই চলেছে৷ আলো নেই৷ সবাই ভয়ে থরথর করে কাঁপছি৷ সামনে যাকে পেয়েছি তারই হাত ধরে হাতড়িয়ে দরজা খুলে একেবারে বাগানে৷

কোথা থেকে কী ভেঙে পড়ছে, ঝনঝন, হুড়মুড় শব্দ৷ কিন্তু বৃষ্টি তখন ধরে এসেছে৷ বিদ্যুতের আলোয় ওরই মধ্যে মাথা গুনে বারোজন হতেই, সামনের পায়ে-চলা নুড়ি পাথরের রাস্তা ধরে প্রাণভয়ে পালাচ্ছি, কোথায় জানি না৷

রাত মনে হয় শেষ হতে চলেছে, কারণ অন্ধকার কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছিল৷ নুটুদি কেবলই বলে চলেছে, আর একটু যেতে পারলেই 'হোটেল হাটু'৷ ওখানে লোকজন আছে৷ কিছু একটা ব্যবস্থা হবে৷

যত এগুচ্ছি তত রাস্তা পরিষ্কার, সামান্য ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আর আলোও ফুটছে৷ ভয়ে ভাবনায়, হা ক্লান্ত, ছানাপোনা নিয়ে আমরা যখন পাকা রাস্তায় পৌঁছোলাম, মেঘ কেটে তখন ভোরের প্রথম রোদও দেখা দিয়েছে৷

পাহাড়ের মানুষেরা নিজের নিজের কাজে বেরিয়ে কাকভেজা আমাদের দলটার দিকে কৌতূহলে দেখছে৷ তারাই শেষে রামপুরের বাস হাত দেখিয়ে থামিয়ে, খানিক দূরে আমাদের নাড়কান্ডার ট্যুরিস্ট লজে তুলে দিয়ে গেল৷ শীতে ভয়ে নীল মুখগুলো খুলে কোনোক্রমে আমরা বলতে পারলাম, 'ভাই আমাদের কাছে পয়সা নেই, শুধু একটু ফোন করতে দাও, দিল্লিতে খবর দেব৷'

ধোপদুরস্ত ম্যানেজার হাসিমুখে, আমাদের বড়োদুটো ঘর আর ডর্মিটরি খুলে দিতে বলে 'সামান' ভেতরে রেখে দিতে বলল৷ ভ্যাবলা চোখে তাকিয়ে দেখি, সার সার আমাদের স্যুটকেস, ব্যাগ, পোঁটলাপুঁটলি৷

বাক্যহারা মুখের দিকে তাকিয়ে, ম্যানেজার সাহেব বললেন, 'কী চিন্তায় যে ফেলেছিলেন, গত পরশু থেকে বুকিং অথচ আপনাদের দেখা নেই৷ এদিকে এখন রাশের সময়, খালিঘর ঠেকিয়ে রাখাও মুশকিল! দিল্লি থেকে বড়ো সাহেবের তলব, না-ও করতে পারি না গর্দান যাবে৷'

একটু থেমে আবার বলল, 'দিল্লি থেকেই নাকি কার ভুলে রুজভেল্ট কটেজে বুক করে দিয়েছিল৷ অথচ সে বাংলো তো দু-বছর আগে ধস নেমে মাটিতে মিশেছে, সেকথা সরকারি ফাইলে এখনও লিখে উঠতে পারেনি৷ কোথা থেকে জানতে পেরে তারপর এখানে ফোনের পর ফোন, আর আপনারাও রওনা হয়ে গিয়েছেন৷ কী চিন্তার কথা!'

কাজুদি উদভ্রান্তের মতন বলল, 'তা এখানের বনবাংলোটা কোথায়, আমাদের তো সেখানে বুকিং ছিল৷'

'ওই রুজভেল্ট সাহেবের অবর্তমানে, তাঁর বেওয়ারিশ কটেজ বহুকাল এমনি পড়েছিল, পরে বনবিভাগ সেটি দখল নিয়েছিল, সেও বহু বছর আগে৷ সাহেবের নামেই চলত এ অঞ্চলে৷ শুনেছি বহুকাল আগে সাহেব-মেম মারা গিয়েছিলেন মারাত্মক দুর্যোগে গাছ চাপা পড়ে, ওই বাংলোর চত্বরেই৷ আবার কাণ্ড দেখুন, ওই ফরেস্ট বাংলোর যে কেয়ার-টেকার ছিল জন, অতিথি বৎসল ভালো লোক, সেও গেল ওই বাড়ি চাপা পড়েই৷ কিন্তু দুই ছেলে দেশ থেকে এসে বাবা-মায়ের কবর দিয়ে গেল পেছনের জমিতেই৷ কবর তো হয়েই ছিল, অবশিষ্ট কিছু কি আর ছিল? যা পেয়েছে তাই মাটি চাপা দিয়েছে৷ মনের শান্তি আর কি, যান আপনারা ফ্রেশ হয়ে নিন৷ চা নাস্তা পাঠিয়ে দিচ্ছি ঘরে৷ হেড অফিসেও ফোন করে দিই আপনারা পৌঁছেছেন নিরাপদে৷ তা একদিন আপনারা ছিলেন কোথায়?'

নুটুদি সঙ্গেসঙ্গে মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল, 'সিমলা, সিমলায় ছিলাম আমরা৷ কী চমৎকার জায়গাটা বল? তা রুজভেল্ট না কার কটেজ বললেন, যখন বুকিং ছিল, একবার নাহয় গিয়ে দেখে আসব সে কেমন ব্যবস্থা?'

'সে বাংলো কি আর আছে? রাস্তার শেষে গভীর খাদ৷ গোটা এলাকা ভেঙে গড়িয়ে গিয়েছে নীচে৷ শুনেছি জনের পোষা কুকুরটা এখনও ওদিকেই ঘুরঘুর করে৷ শত ডাকলেও কারোর কাছে যাবে না৷ মনিবরা মরল, তাদের কবরের ওপর বসে সারারাত কাঁদে৷'

বেবিদি বলল, 'সে কাঁদুক, কিন্তু আমাদের লাগেজ কে দিয়ে গেল ভাই?'

ম্যানেজার বলল, 'ম্যাডাম, সে তো চিনি না৷ আমি এখানে নতুন৷ কালো মতন, লম্বা কোট গায়ে৷ সে কালও বিকেলে এসে এখান থেকেই দিল্লিতে ফোন করে আপনাদের কথা জানিয়ে দিয়ে গেল৷ আপনারা ভালোভাবে পৌঁছে গিয়েছেন চিন্তার কারণ নেই৷'

আমি বললাম, 'চিন্তার আর কী, ভুল করে অন্য জায়গায় গিয়েছিলাম, ভুল ভাঙতেই চলে এসেছি৷ তবে পাহাড় আমাদের সুট করছে না৷ পেট গুরগুর, গলা খুশখুশ৷ তাই ভাবছি দিল্লিই ফিরে যাই৷ সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো৷ আর এ বাংলোও দু-বছর আগে ধস চাপা পড়েছিল কি না, সেও তো আমাদের জানা নেই!'

ম্যানেজার কী বুঝলেন কে জানে, কেমন অদ্ভুতভাবে মুচকি হাসলেন৷ তবে মিলিয়ে গেল না, এই যা রক্ষে!

শারদীয়া ১৪১১

Cov195
সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%