ফাঁকিবাজের শিক্ষা

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

রমাইয়ের বুদ্ধির অভাব ছিল না৷ বরং একটু বেশি মাত্রায় ছিল বলেই অসুবিধা হয়েছিল৷ বুদ্ধির জোরে সকলকে ও সব কাজে ফাঁকি দিতে দিতে এমন তার ফাঁকির অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে নিজেও ফাঁকিতে পড়ে যেত৷ একটু চেষ্টা করলেই সে পড়াশোনায় খুব ভালো হতে পারত, কিন্তু এই ফাঁকির জন্যেই স্কুলের সব প্রাইজগুলোই অন্য ছেলেরা নিয়ে নিত৷ কিন্তু সে সব কথা থাক৷ সেবার সে স্কুল ফাঁকি দিতে গিয়ে কীরকম মজাটা ভোগ করেছিল তাই বলি৷

সেবার গ্রামে যাত্রার দল এল পুজোর অনেক পরে৷ পুজোর ছুটি তখন ফুরিয়ে গিয়েছে৷ ক্লাস প্রমোশনের পরীক্ষার তাড়ায় স্কুলে রীতিমতো পড়া আরম্ভ হয়েছে৷ হেডমাস্টারমশায় সকলকে ডেকে তাই বলে দিলেন, কেউ যেন যাত্রা শুনতে গিয়ে শরীর খারাপ আর পড়াশোনা নষ্ট না করে৷ রমাকান্তের বাবাও রমাইকে যাত্রা শুনতে যেতে মানা করে দিলেন৷

রমাই হাঁ-না কিছু না বলে সন্ধ্যার সময় ভাত খেয়ে ভালো ছেলে হয়ে পড়াশোনা করতে বসল৷ একটু পরেই উঠে সকাল সকাল শুয়ে পড়ল৷ তারপর কখন যে পাশ বালিশের উপরে লেপ ঢাকা দিয়ে রেখে চুপিচুপি বের হয়ে গেল তা কেউ টেরই পেল না৷

যাত্রার আসরে গিয়ে যখন সে পৌঁছোল তখন তাকে দেখে কে বলবে সে রমাই৷ কবেকার ছেড়ে-ফেলা এক জোড়া ছেঁড়া চটি জুতো তার পায়৷ শৌখিন গোলাপি রঙের র্যাপারটার উপরে ময়লা একটা বিছানার চাদর ঢেকে সেইটাই মাথামুড়ি দিয়ে গায় দিয়েছে৷ সেই অদ্ভুত র্যাপারের ঘোমটার ফাঁক দিয়ে মিটমিট করে তাকাতে তাকাতে পশ্চিম পাড়ার গোয়ালারা যে ধারে বসে ছিল সেই ধারে গিয়ে বসল৷ পাছে যাত্রার সভায় চেনা কোনো লোক তাকে চিনে ফেলে এবং বাবা বা মাস্টারমশায়ের কাছে বলে দেয় এই তার ভয়৷

যাত্রা তখন আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল৷ কাজেই কেউ বড়ো একটা তার দিকে তাকিয়ে দেখল না৷ সেও নিশ্চিন্ত হয়ে যাত্রা শুনতে লাগল৷ শুনতে শুনতে কখন যে রাত কেটে গেছে তা খেয়ালই ছিল না৷ হঠাৎ পিছন দিকে তাকিয়ে দেখল, বুড়ো তেঁতুল গাছ আর ঝাঁকড়া আম গাছটার ফাঁক দিয়ে পুবের যেটুকু আকাশ দেখা যায় তার অন্ধকারটা ঘুলিয়ে এসেছে৷ আর দেরি করা চলে না৷ রমাই আস্তে আস্তে বাড়ি ফিরে এল৷ পা টিপে টিপে, দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকল৷ বিছানার কাছে গিয়ে সবেমাত্র লেপটা উঠিয়ে তার মধ্যে ঢুকতে যাবে অমনি দরজার বাইরে খড়মের শব্দ৷ তাকিয়ে দেখে বাবা৷ ভয়ে সে একেবারে কাঠ হয়ে গেল৷

রমাইয়ের বাবাও রমাইকে এত ভোরে বিছানার বাইরে দেখে অবাক হয়ে গেলেন৷ বললেন, 'কীরে! আজ যে এত ভোরে উঠেছিস? কাল সকাল সকাল শুয়েছিলি বলে বুঝি? তা ভালোই হয়েছে৷ তোর ছোটোকাকাটা দেখছি যাত্রা শুনে এখনও ফেরেনি৷ দৌড়ে যা, তাকে ডেকে নিয়ে আয়৷ তারপর হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বস!'

রমাই বেঁচে গেল৷ ভাগ্যি বাবার কোনো কথায় তাকে জবাব দিতে হয়নি৷ নইলে বুকটা যেরকম ধড়াস ধড়াস করছিল তাতে মুখ দিয়ে একটা কথাও আস্ত বের হত না৷ বাবাও সব ধরে ফেলতেন৷

ছোটোকাকাকে ডেকে নিয়ে রমাই যখন বাড়ি ফিরল তখন বেশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷ পিসিমা উঠোনে বসে গোবর গুলছেন৷ বাবা ছোটোকাকাকে দুটো বকুনি দিয়ে দাওয়ায় বসে তামাক খাওয়ার আয়োজন করতে লাগলেন৷ কোনোরকমে তখনও গিয়ে বিছানায় ঢোকা যায় কি না ভাবছিল, কিন্তু বাবার তাড়া খেয়ে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসতে হল৷ পড়তে বসেও যে পড়ার ভান করে ঢুলে ঢুলে একটু ঘুমোবে তাও হল না৷ বাবা সব দিন এমন করেন না৷ আজই দিন বুঝে পড়ার কাছে ঠায় বসে রইলেন৷ কাজেই ঠিক সময়েই বাবার তাড়ায় স্নান করে খেয়ে-দেয়ে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে বই-টই নিয়ে স্কুলে রওনা হতেও হল৷

কিন্তু চলতে যে আর পারে না! হাত-পা সব এলিয়ে আসছে৷ কী করা যায়? কিছু দূর গিয়েই ঝাঁ করে মাথায় একটা ফন্দি এল৷ অন্যান্য ছেলেদের বলল, 'আমার ভাই বড্ড পেট কামড়াচ্ছে৷ তোরা যা, আমি এখনই আসছি৷' বলেই সে নদীর ঘাটের দিকে চলে গেল৷ ভাবল ছেলেগুলো চলে গেলেই লুকিয়ে কোনোরকমে বাড়িতে ঢুকে একটা ঘুম দিয়ে উঠবে৷ তারপর স্কুলে গিয়ে বলবে, পেটের অসুখের জন্য আসতে দেরি হল৷

ছেলেরা চলে গেল, রমাই কিন্তু ভরসা করে বাড়িমুখো হতে পারল না৷ কী জানি, বাবার চোখে পড়ে গেলে আর রক্ষা থাকবে না৷ অসুখ বললেও নিস্তার নেই৷ এক মাইল পথ হাঁটিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন৷ আবার ডাক্তারটা যা চালাক! হয়তো সব ধরে ফেলবে৷ তা না হলেও ঘুমের দফা তো শেষ হবেই, সঙ্গে সঙ্গে চার-পাঁচ দিন খাওয়া বন্ধ, খেলা-বেড়ানো বন্ধ, তার উপরে বিশ্রী ওষুধ তিন বার করে! তার চেয়ে বড়োবাবুদের বাগানের সেই কাঁঠাল গাছটার তলায় ঘুম দেওয়া ভালো৷

সেই দিকেই যাবে বলে ফিরেছিল, এমন সময় চোখ পড়ল নদীর ঘাটে সার সার নৌকোগুলোর উপরে৷ অমনি মাথায় এল এক নূতন ফন্দি৷ কাঁঠালতলার আড্ডার কথা তো সকলেই জানে৷ তার উপর সেখানে যেমন মশা, তেমনি শুঁয়োপোকা! তার চেয়ে একটা নৌকোয় উঠে খানিকটা ঘুমিয়ে নিয়ে স্কুলে গেলে কেউ কিছু টের পাবে না৷ নৌকোগুলো তো খালি পড়েই থাকে৷ হাটের দিন ছাড়া কোনোখানে যাবার দরকারও হয় না, কেউ খবর নিতেও আসে না৷ এই সব ভেবে সে নদীর ঘাটেই চলে গেল৷ প্রথম দু-খানা নৌকোয় ছই পাটাতন কিছুই ছিল না; তার পরের খানায় ছই ছিল কিন্তু ভেতরে লোক রয়েছে মনে হল৷ তার পরে প্রকাণ্ড একটা নৌকো একেবারে বিচালি বোঝাই৷ বিচালি গাদার মাথা এত উঁচু যে নীচে থেকে তার উপরের কোনো কিছু দেখা যায় না৷ নৌকোখানাও খালি৷ রমাই আস্তে আস্তে সেই বিচালি গাদায় উঠে একটা জায়গা বিচালি দিয়ে রোদ আড়াল করে শুয়ে পড়ল৷ তারপর বেহুঁশ ঘুম! তখন আর রমাই নয়, একেবারে কুম্ভকর্ণের মাসতুতো ভাই!

স্কুলের ছুটি হয়ে গেল, সাড়ে চারটে বাজল, রমাই কিন্তু বাড়ি ফিরল না৷ শীতের বেলা, সূর্য ক্রমে ডুবু ডুবু হয়ে এল, তবু রমাইয়ের দেখা নেই৷ কোথায় গেল, কোথায় গেল? অন্য ছেলেরা বলল, 'রমাই আজ তো স্কুলে যায়নি৷ সে কি বাড়ি ফেরেনি? পেট কামড়াচ্ছিল বলে সে যে নদীর ধারে পায়খানায় গিয়েছিল৷' খোঁজ খোঁজ, ছুটল সবাই নদীর দিকে৷ ঝোপঝাপ, এদিক-ওদিক, কোনোখানেই তার সন্ধান পাওয়া গেল না৷ বাবুদের বাগানের কাঁঠাল গাছ তলা, ভাঙা শিবমন্দির, যাত্রাদলের আখড়া, ছোটোবাবুদের পিছন-বাড়ির চিলে ছাদ, সব জায়গা থেকে লোক ঘুরে এল; রমাই যে কোথায় তার ঠিক নেই৷ তবে কি নদীর মধ্যে-?

সন্ধ্যার অন্ধকার তখন ঘনিয়ে এসেছে৷ বাতি মশাল নিয়ে, জেলে ডেকে, সকলে আবার নদীতে ছুটল৷ নদীতে জাল ফেলে টানা দেওয়া হল৷ শামুক গুগলি অনেক উঠল, রমাই উঠল না৷ রমাইয়ের বাবা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে দাওয়ার উপর ধপ করে বসে পড়লেন৷ মা ও পিসিমা ডাক ছেড়ে কাঁদতে আরম্ভ করে দিলেন৷ পাড়ায় পাড়ায় ছেলে-বুড়োর জটলা চলতে লাগল৷ যাত্রা সেদিন জমল না৷

রমাই নৌকোর উপরে দিব্যি আরামে ঘুম দিচ্ছিল, সে কি এসব জানে? সে ঘুমিয়ে পড়বার একটু পরেই পাশের দোকান থেকে খাওয়া-দাওয়া করে মাঝিরা ফিরে এল৷ এসেই নৌকো ছেড়ে দিল৷ বিচালির গাদার উপরে কুম্ভকর্ণের মাসতুতো ভাই রমাই কিছু টেরই পেল না৷ আর অত উপরে কেউ যে পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে মাঝিরাও তা জানতে পারল না৷ বেলা যখন প্রায় ২টা তখন ঘুমের ঘোরেই রমাই একবার পাশ ফির শুল৷ ঘুম যখন ঠিকমতো ভাঙল তখন বেলা পড়ে এসেছে৷ জেগে উঠে প্রথমটা সে বুঝতে পারল না, কোথায় সে আছে৷ তারপর মনে পড়ল, সে নৌকোয় ঘুমিয়ে পড়েছিল৷ কিন্তু নৌকো যে চলছে! সে লাফিয়ে উঠল৷ তাকে লাফিয়ে উঠতে দেখে মাঝিরাও সব চমকে উঠল৷ এ আবার কে রে! কোথা থেকে এল! রমাইও তাদের চিনতে পারল না৷ এরা তো তাদের গ্রামের মাঝি নয়! তখন দু-দিক থেকেই প্রশ্ন আর বকাবকির পালা আরম্ভ হল৷ কিন্তু তাতে লাভ কিছুই হল না৷ কেবল এইমাত্র বোঝা গেল যে মাঝিরা সে গ্রামের নয়, দূরের একটা গঞ্জ থেকে আর একটা গঞ্জে চলেছে৷ গ্রামে কিছু কেনবার ছিল বলে নৌকো বেঁধেছিল৷ গ্রাম থেকে তারা নদীপথেই ৫-৬ ক্রোশ চলে এসেছে, হাঁটা পথে ৭-৮ ক্রোশ হবে৷ এখন আর তারা ফিরতে পারবে না, অথবা এই আ-ঘাটাতে এখন নৌকো বাঁধতেও পারবে না ইত্যাদি৷

Cov99

অনেক খোশামুদির পর তারা রমাইকে একটা মাঠের ধারে নামিয়ে দিল৷ সূর্য তখন ডোবে ডোবে৷ রমাই নদীর কিনার ধরে ছুটল৷ কিছু দূর যেতেই একটা খাল৷ কী আর করবে, সাঁতার দিয়েই সেটা পার হতে হল৷ একে শীত কাল তাতে সন্ধ্যা হয়ে আসছে৷ শীতে কাঁপতে কাঁপতে রমাই চলল৷ কিন্তু যাবে কোথায়? সম্মুখে বন৷ সেই জঙ্গলের মধ্যে সরু একটা পথ ধরে ছুটে চলল৷ পথ ক্রমেই সরু হয়ে আসতে লাগল৷ শীতের রাত্রি হঠাৎ অন্ধকার হয়ে ঝপ করে নেমে পড়ল৷ তখন সেই অন্ধকারে পথ হারিয়ে সে বনের মধ্যে কেবলই পাক খেয়ে ঘুরতে লাগল৷ কাঁটা গাছে কাপড়জামা তো গেলই, গায়ের চামড়া পর্যন্ত কেটেকুটে ছিঁড়েখুঁড়ে গেল৷ তার উপরে দারুণ শীত, গায় র্যাপার পর্যন্ত নেই৷ ঠক ঠক করে কাঁপছে, চলছে আর হোঁচট খাচ্ছে, এমন সময় শুনল দূরে ফেউ ডাকছে৷ তবে কি বাঘ আসছে নাকি? ভয়ে সে একেবারে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল৷ পা আর বাড়াতে পারে না৷ মনে হয় চারিদিকেই যেন কে পথ আগলে বসে রয়েছে৷ ওই যেন কার চোখ জ্বলছে৷ না, ওটা তো জোনাকি৷ কিন্তু ওদিকে ওটা কি ঝোপ না বাঘ? মনে হল যেন গুঁড়ি মেরে আসছে৷ এমন সময় সত্যিই একটা জানোয়ার ঝোপের মধ্যে থেকে একটু ফাঁকা জায়গায় বের হয়ে এল৷ তাকে দেখেই রমাই ভয়ে 'বাবা গো!' বলে চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল৷ তার আর জ্ঞান রইল না৷ তার চিৎকারে ভয় পেয়ে শেয়ালটা পালিয়ে গেল৷

রমাইয়ের যখন জ্ঞান হল তখন উপর আকাশের অন্ধকার কেটে আসছে বটে তবে বনের ভেতরের অন্ধকার তখনও বেশ ঘোর৷ কিছুক্ষণ বসে থেকে সে উঠে দাঁড়াল, মাথা ভার, হাত পায়ে জোর নেই৷ বনের মধ্যে পথ হারিয়ে অন্ধকারে ঘুরে ঘুরে তার দিক ভ্রম হয়ে গিয়েছিল৷ তবে তাদের গ্রাম যে উত্তর দিকে তা মনে ছিল৷ আকাশের যেদিক ফরসা হয়ে উঠছিল সেই দিকটা তাই ডাইনে রেখে সে চলতে আরম্ভ করল৷

রাত্রি বেলা কত পাক খেয়েছিল কে জানে! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে যখন নিজেদের গ্রামের বাইরের বড়ো মাঠটার ধারে এসে পৌঁছোল তখন বেশ বেলা হয়ে গিয়েছে৷ ওই ওদিকে রাখালেরা গোরু চরাচ্ছে৷ ওই তো মাঠের মধ্যের রাস্তা ধরে র্যাপার গায়ে কে তিন জন ভিন গাঁয়ে চলেছে৷ রমাই আরও খানিকটা ঘুরে, রাখাল ও রাস্তা অনেক দূরে রেখে ঝোপঝাপের মধ্যে দিয়ে বাড়ির পিছন দিকের বাঁশ বনে এসে ঢুকল৷ বাড়ির কাছে আসতেই শুনল পিসিমা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কাঁদছেন৷ কোন মুখে কী করে যে বাড়িতে ঢুকবে তা ভেবেই পাচ্ছিল না৷ কিন্তু তখন বেশি ভাববার তেমন ক্ষমতাও তার ছিল না৷ চাপবাঁধা মাথা বোঁ বোঁ করছে, ভারী ভারী পায়ের নীচে মাটি দোল খাচ্ছে৷ দাঁড়াতে আর পারে না৷ সে চোখ-কান বুজে উঠানে এসে ঢুকল৷ তাকে দেখে পিসিমার কান্না বন্ধ হয়ে গেল৷ তিনি হতভম্ব হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকাতে লাগলেন৷ মা চিৎকার করে উঠে ছুটে এলেন৷ চারিদিকে শোরগোল পড়ে গেল৷ গ্রামের যত ছেলে-মেয়ে, ছোটো-বড়ো, কচি-বুড়ো, সকলে ছুটে এল৷ এসে তো সকলেই অবাক৷ গায়ের জামা ১০-১২ জায়গায় ছিঁড়ে ঝুলছে৷ আধ ভিজে কাপড়, কাদা মাখা ও ময়লা৷ তাও হাঁটুর নীচে থেকে ছিঁড়ে খসে কোথায় পড়ে গেছে৷ পায়ে জুতো নেই৷ চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে গিয়েছে৷ হাত-মুখও ফোলা ফোলা৷ চুল উশকোখুশকো৷ সারা গা কাটা, আঁচড়ানো আর রক্তমাখা৷ সেই চেহারা দেখে সকলেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল৷

বাবা এসে তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে তখন তাদের কাছ থেকে বাঁচালেন৷ কিন্তু দিনটা কাটতে-না-কাটতেই রমাইয়ের সব কথা জাহির হয়ে গেল৷ সঙ্গেসঙ্গে ছেলেমহলে হাসাহাসির ধুম পড়ে গেল৷ তার এত যে প্রতিপত্তি, আজ বেশি চালাকি করতে গিয়ে সব নষ্ট হল৷

কিন্তু এই শাপই তার বর হয়ে দাঁড়াল৷ লজ্জার জন্যই হোক আর যে জন্যই হোক, সে আর বেশি আড্ডা দিত না বা ফাঁকিবাজি করে চাল মেরে বেড়াত না৷ তা ছাড়া, সে দু-মাস এমন মন দিয়ে পড়াশোনা করল যে, ক্লাস প্রমোশনে প্রথম হয়ে উঠল৷ সেই থেকে বরাবর সে ক্লাসের ফার্স্ট বয়৷ ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষাতে সে স্কলারশিপ পেয়ে কলকাতায় কলেজে এখন পড়ছে৷ যারা তাকে চেনে তারা জানে রমাই এখন কথায় কাজে এক৷

পৌষ ১৩৪১

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%