চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

টেনিদা বলল, 'আজকাল আমি খুব হিস্ট্রি পড়ছি৷'

আমরা বললুম, 'তাই নাকি৷'

'যা একখানা বই হাতে পেয়েছি না, শুনলে তোদের চোখ কপালে উঠে যাবে৷'

চুয়িং গামটাকে গালের আর একপাশে ঠেলে দিয়ে ক্যাবলা বলল, 'বইটার নাম কী, শুনি?'

টেনিদা 'হযবরল'র কাক্কেশ্বর কুচকুচের মতো গলায় বলল, 'ন্তোরিয়া দে মোগোরা পুঁদিচ্চেরি বোনানজা বাই সিলিনি কামুচ্চি৷'

শুনে ক্যাবলার চশমাটা যেন এক লাফে নাকের নীচে ঝুলে গেল৷ হাবুল যেন 'আঁক' করে একটা শব্দ করল৷ আমি একটা বিষম খেলুম৷

ক্যাবলাই সামলে নিয়ে বলল, 'কী বললে?'

'ন্তোরিয়া দে মোগোরা পুঁদিচ্চেরি-'

'থাক-থাক৷ এতেই যথেষ্ট৷ যতদূর বুঝছি দারুণ পুঁদিচ্চেরি৷'

'আলবাত পুঁদিচ্চেরি৷ যাকে বাংলায় বলে ডেনজারাস৷ ল্যাটিন ভাষায় লেখা কিনা৷'

কুঁচো চিংড়ির মতো মুখ করে হাবুল জিজ্ঞেস করল, 'তুমি আবার ল্যাটিন ভাষা শিখলা কবে? শুনি নাই তো কোনোদিন৷'

খুশিতে টেনিদার নাকটা আট আনার সিঙাড়ার মতো ফুলে উঠল, 'নিজের গুণের কথা সব কি বলতে আছে রে৷ লজ্জা করে না? আমি আবার এ ব্যাপারে একটু-মানে- মেফিস্টোফিলিস-বাংলায় যাকে বলে বিনয়ী৷'

ক্যাবলা বলল, 'ধেৎ! মেফিস্টোফিলিস মানে হল-'

টেনিদা বলল, 'চোপ!'

পশ্চিমে থাকার অভ্যেসটা ক্যাবলার এখনও যায়নি৷ মিইয়ে গিয়ে বলল, 'তব ঠিক হ্যায়, কোই বাত নেহি৷'

'হ্যাঁ-কোই বাত নেহি৷'

এর মধ্যে হাবলা আমার কানে কানে বলছিল, 'ঃহ, ঘোড়ার ডিম-বিনয়ী না কচুর ঘণ্ট-' কিন্তু টেনিদার চোখ এড়াল না৷ বাঘা গলায় জিজ্ঞেস করল, 'হাবলা, হোয়াট সেয়িং? ইন প্যালাজ ইয়ার?'

'কিচ্ছু না টেনিদা, কিচ্ছু না৷'

'কিচ্ছু না?'-টেনিদা বিকট ভেংচি কাটল একটা, 'চালাকি পায়া হ্যায়? আমি তোকে চিনিনে? নিশ্চয় আমার বদনাম করছিলি৷ এক টাকার তেলেভাজা নিয়ে আয় এক্ষুনি৷'

'আমার কাছে পয়সা নাই৷'

'পয়সা নেই? ইয়ার্কি? ওই যে পকেট থেকে এক টাকার নোট উঁকি মারছে একখানা? গো-কুইক-ভেরি-কুইক-'

তেলে ভাজা শেষ করে টেনিদা বলল, 'দুঃখু করিসনি হাবলা, এই যে ব্রাহ্মণ ভোজন করালি, তাতে বিস্তর পুণ্যি হবে তোর৷ আর সেই ল্যাটিন বইটা থেকে এখন এমন একখানা গপ্পো বলব না, যে তোর এক টাকার তেলেভাজার ব্যথা বেমালুম ভুলে যাবি৷'

মুখ গোঁজ করে হাবুল বলল, 'হুঁ৷'

ক্যাবলা বলল, 'একটা কথা জিজ্ঞেস করব? হিস্টরির এমন চমৎকার বইখানা পাওয়া গেল কোথায়? ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নাকি?'

'ছোঃ! এসব ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে পাওয়া যায়? ভীষণ রেয়ার৷ দাম কত জানিস? পঞ্চাশ হাজার টাকা৷'

'অ্যাঁ:!'

ক্যাবলার চশমা লাফিয়ে আর একবার নেমে পড়ল৷ হাবুল কুট করে আমাকে চিমটি কাটল একটা, আমি চাটুজ্জেদের রোয়াক থেকে গড়িয়ে পড়তে পড়তে সামলে নিলুম৷

ক্যাবলা বোধ হয় আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু টেনিদা হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল, 'স্টপ৷ অল সাইলেন্ট৷ আচ্ছা, হ্যামলিন শহরের সেই বাঁশিওলার গল্পটা তোদের মনে আছে?'

'নিশ্চয়-নিশ্চয়-' আমরা সাড়া দিলুম৷ সে গল্প আর কে না জানে! শহরে ভীষণ ইঁদুরের উৎপাত-বাঁশিওলা এসে তার জাদুকরা সুরে সব ইঁদুরকে নদীতে ডুবিয়ে মারল৷ শেষে শহরের লোকেরা যখন তার পাওনা টাকা দিতে চাইল না-তখন সে বাঁশির সুরে ভুলিয়ে সমস্ত বাচ্চা ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় যে পাহাড়ের আড়ালে চলে গেল, কে জানে!

টেনিদা বলল, 'চেঙ্গিস খাঁর নাম জানিস?'

'কে না জানে! যা নিষ্ঠুর আর ভয়ংকর লোক!'

টেনিদা বলল, 'চেঙ্গিস দেশে দেশে মানুষ মেরে বেড়াত কেন জানিস? হ্যামলিনের ওই বাঁশিওলাকে খুঁজে ফিরত সে৷ কোথাও পেত না, আর ততই চটে যেত, যাকে সামনে দেখত তারই গলা কুচ করে কেটে দিত৷'

ক্যাবলা বলল, 'এসব বুঝি ওই বইতে আছে?'

'আছে বই কী৷ নইলে আমি বানিয়ে বলছি নাকি? তেমন স্বভাবই আমার নয়৷'

আমরা এক বাক্যে বললুম, 'না-না, কখনো নয়৷'

টেনিদা খুশি হয়ে বলল, 'তাহলে মন দিয়ে শুনে যা৷ এসব হিস্টরিক্যাল ব্যাপার, কোনো তক্কো করবিনে এ নিয়ে৷ এখন হয়েছে কী, আগে মোঙ্গলদের দেশে লোকের বিরাট বিরাট গোঁফ-দাড়ি গজাত৷ এমনকী, ছেলেপুলেরা জন্মাতই আধ হাত চাপদাড়ি আর চার ইঞ্চি গোঁফ নিয়ে৷'

ক্যাবলা পুরোনো অভ্যেসে বলে ফেলল, 'স্রেফ বাজে কথা৷ ওদের তো গোঁফ-দাড়ি হয়ই না বলতে গেলে৷'

'ইউ-চোপ রাও!'-টেনিদা চোখ পাকিয়ে বলল, 'ফের ডিসটার্ব করবি তো-'

আমি বললুম, 'এক চড়ে তোর কান কানপুরে রওনা হবে৷'

'ইয়াহ-কারেকট৷'-টেনিদা আমার পিঠ চাপড়ে দেবার আগেই আমি তার হাতের নাগালের বাইরে সরে গেলুম, 'শুনে যা কেবল৷ সব হিস্টরি৷ দাড়ি আর গোঁফের জন্যেই মোঙ্গলরা ছিল বিখ্যাত৷ বারো হাত তেরো হাত করে লম্বা হত দাড়ি, গোঁফগুলো শরীরের দু-পাশ দিয়ে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঝুলে পড়ত৷ তখন যদি মঙ্গোলিয়ায় যেতিস না, তাহলে আর লোক দেখতে পেতিস না, খালি মনে হত চারদিকে কেবল গোঁফদাড়িই হেঁটে বেড়াচ্ছে৷ কী বিটকেল ব্যাপার বল দিকি?'

'ওইরকম পেল্লায় দাড়ি নিয়ে হাঁটত কী করে?'-আমি ধাঁধায় পড়ে গেলুম৷

'করত কী, জানিস? দাড়িটাকে পিঠের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে ঠিক বস্তার মতো করে বেঁধে রাখত৷ আর গোঁফটা মাথার ওপর নিয়ে গিয়ে বেশ চূড়োর মতো করে পাকিয়ে-'

হাবুল বলল, 'খাইছে৷'-বলেই আকাশজোড়া হাঁ করল একটা৷

'অমনভাবে হাঁ করবিনে হাবলা'-টেনিদা হাত বাড়িয়ে ঝপ করে হাবুলের মুখটা বন্ধ করে দিলে, 'মুড নষ্ট হয়ে যায়৷ খোদ চেঙ্গিসের দাড়ি ছিল কত লম্বা, তা জানিস? আঠারো হাত৷ বারো হাত গোঁফ৷ যখন বেরুত তখন সাতজন লোক সঙ্গে সঙ্গে গোঁফদাড়ি বয়ে বেড়াত৷ বিলেতে রানি-টানিদের মস্ত মস্ত পোশাক যেমন করে সখীরা বয়ে নিয়ে যেত না? ঠিক সেইরকম৷

'আর দাড়ি-গোঁফের জন্যে মোঙ্গলদের কী অহংকার৷ তারা বলত, আমরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি৷ এমন দাড়ি কোথাও খুঁজে পাবে নাকি তুমি, সকল দাড়ির রাজা সে যে-হুঁ হুঁ!

'কিন্তু বুঝলি, সব সুখ কপালে সয় না৷ একদিন কোত্থেকে রাজ্যের ছারপোকার আমদানি হল কে, জানে! সে কী ছারপোকা, সাইজে বোধ হয় এক-একটা চটপটির মতন, আর সংখ্যায় কোটি কোটি অর্বুদ নির্বুদ! কোথায় লাগে হ্যামলিন শহরের ইঁদুর৷

'সেই ছারপোকা তো দাড়িতে ঢুকেছে, গোঁফে গিয়ে বাসা বেঁধেছে৷ ছারপোকার জ্বালায় গোটা মঙ্গোলিয়া ইরে ব্বাস গেছিরে-খেয়ে ফেললেরে-বলে দাপাদাপি করতে লাগল৷ চারটে ধরা পড়ে-বাকি সব দাড়ির সেই বাঘু জঙ্গলে কোথায় লুকিয়ে যায়, কেউ আর তার নাগাল পায় না৷ আর স্বয়ং সম্রাট চেঙ্গিস৷ রাতে ঘুমুতে পারেন না-দিনে বসতে পারেন না- গেলুম গেলুম বলে রাতদিন লাফাচ্ছেন আর সঙ্গে লাফাচ্ছে দাড়ি ধরে থাকা সেই সাতটা লোক৷ গোটা মঙ্গোলিয়া যাকে বলে জেরবার হয়ে গেল৷'

হাবুল বলল, 'অত ঝঞ্ঝাটে কাম কী, দাড়ি গোঁফ কামাইয়া ফ্যালাইলেই তো চুইক্যা যায়৷'

'কে দাড়ি কামাবে? মঙ্গোলিয়ানরা? যা না, বলে আয় না একবার চেঙ্গিস খাঁকে!' টেনিদা বিদ্রূপ করে বলল, 'দাড়ি ওদের প্রেস্টিজ-গর্ব-বল না গিয়ে! এক কোপে মুণ্ডুটি নামিয়ে দেবে৷'

হাবুল বলল, 'থাউক, থাউক, আর কাম নাই৷'

টেনিদা বলে চলল, 'হুঁ, খেয়াল থাকে যেন৷ যাই হোক এমন সময় একদিন সম্রাটের সভায় এসে হাজির হ্যামলিনের বাঁশিওলা৷ কিন্তু সভা আর কোথায়! দারুণ হট্টগোল সেখানে৷ পাত্র-মিত্র সেনাপতি-উজির-নাজির সব খালি লাফাচ্ছে, দাড়ি চুল ঝাড়ছে-দু-একটা ছারপোকা বেমক্কা মাটিতে পড়ে গেল, সবাই চেঁচিয়ে উঠল মার-মার-ওই যে-ওই যে-

'বাঁশিওলা করল কী, ঢুকেই পিঁ করে তার বাঁশিটা দিলে বাজিয়ে৷ আর বাঁশির কী ম্যাজিক-সঙ্গেসঙ্গে সভা স্তব্ধ! এমনকী দাড়ি গোঁফের ভেতর ছারপোকাগুলো পর্যন্ত কামড়ানো বন্ধ করে দিল৷

'গম্ভীর গলায় বাঁশিওলা বলল, সম্রাট, তেমুজিন-''

'তেমুজিন আবার কোত্থেকে এল?'-আমি জানতে চাই৷

ক্যাবলা বলল, 'ঠিক আছে৷ চেঙ্গিসের আসল নাম তেমুদিনই বটে৷'

টেনিদা আমার মাথায় কটাং করে একটা গাঁট্টা মারায় আঁতকে উঠলুম৷

'হিস্টরি থেকে বলছি, বুঝেছিস বুরবক কোথাকার! সব ফ্যাকটস! তোর মগজে তো কেবল ঘুঁটে-ক্যাবলা সমঝদার, ও জানে৷'

হাবুল বলল, 'ছাড়ান দাও-ছাড়ান দাও-প্যালাডা পোলাপান৷'

'এইসব পোলাপানকে পেলে চেঙ্গিস খাঁ একেবারে জলপান করে খেত৷ যত সব ইয়ে-!' একটু থেমে টেনিদা আবার শুরু করল, 'বাঁশিওলা বলল, সম্রাট তেমুজিন, আমি শহরের সব ছারপোকা এখুনি নির্মূল করে দিতে পারি৷ একটিরও চিহ্ন থাকবে না৷ কিন্তু তার বদলে দশ হাজার মোহর দিতে হবে আমাকে৷

'ছারপোকার কামড়ে তখন প্রাণ যায় যায়, দশ হাজার মোহর তো তুচ্ছ চেঙ্গিস বললেন, দশ হাজার মোহর কেন কেবল, পাঁচ হাজার ভেড়াও দেব তার সঙ্গে৷ তাড়াও দেখি ছারপোকা!

'বাঁশিওলা তখন মাঠের মাঝখানে মস্ত একটা আগুন জ্বালতে লাগল৷ আগুন যেই জ্বলে উঠল, সঙ্গেসঙ্গে সে পিঁ-পিঁ-পিঁ করে তার বাঁশিতে এক অদ্ভুত সুর বাজাতে আরম্ভ করল৷ আর-বললে বিশ্বাস করবিনে-শুরু হয়ে গেল এক তাজ্জব কাণ্ড৷ দাড়ি-গোঁফ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি অর্বুদ-নির্বুদ ছারপোকা লাফিয়ে পড়ল মাটিতে-সবাই হাত-পা তুলে ট্যাঙ্গো-ট্যাঙ্গো জিঙ্গো-জিঙ্গো বলে সংকীর্তনের মতো গান গাইতে গাইতে'-

আমি আর থাকতে পারলুম না, 'ছারপোকা গান গায়!'

'চোপ'-টেনিদা, হাবুল আর ক্যাবলা একসঙ্গে আমাকে থামিয়ে দিল৷

'তখন সারা দেশ ছারপোকাদের নাচে গানে ভরে গেল৷ চারদিক থেকে সব দাড়ি-গোঁফ থেকে, কোটি কোটি অর্বুদ-নির্বুদ ছারপোকা লাইন বেঁধে নাচতে নাচতে গাইতে গাইতে গিয়ে 'জয় পরমাতম' বলে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল৷ ছারপোকা পোড়ার বিকট গন্ধে লোকের নাড়ি উলটে এল, নাকে দাড়ি চেপে বসে রইল সবাই৷

'এক ঘণ্টার ভেতরেই মঙ্গোলিয়ার সব ছারপোকা ফিনিশ৷ সব দাড়ি, সব গোঁফ সাফ৷ কাউকে একটুও কামড়াচ্ছে না৷ চেঙ্গিস খোশ মেজাজে অর্ডার দিলেন, রাজ্যে মহোৎসব চলবে সাত দিন৷

'বাঁশিওলা বলল, কিন্তু সম্রাট, আমার দশ হাজার মোহর? পাঁচ হাজার ভেড়া?

Cov128

'আরে, দায় মিটে গেছে তখন, বয়ে গেছে চেঙ্গিসের টাকা দিতে৷ চেঙ্গিস বললেন, ইয়ার্কি? দশ হাজার মোহর, পাঁচ হাজার ভেড়া? খোয়াব দেখছিস নাকি? এই, দে তো লোকটাকে ছ-গণ্ডা পয়সা৷

'বাঁশিওলা বললে, সম্রাট, টেক কেয়ার, কথার খেলাপ করবেন না৷ ফল তাহলে খুব ডেঞ্জারাস হবে৷

'অ্যাঁ! এ যে ভয় দেখায়! চেঙ্গিস চটে বললেন, বেতমিজ, কার সঙ্গে কথা কইছিস, তা জানিস? এই-কোন হ্যায়-ইসকো কান দুটো কেটে দে তো৷

'কিন্তু কে কার কান কাটে? হ্যামলিনের বাঁশিওলা তখন নতুন করে বাঁশিতে দিয়েছে ফুঁ৷ আর সঙ্গেসঙ্গে আকাশ অন্ধকার করে উঠল ঝড়ের কালো মেঘ৷ চারদিকে যেন মধ্যরাত্রি নেমে এল৷ হু-হু করে দামাল বাতাস বইল আর সেই বাতাসে-

'চড়াৎ-চড়াৎ-চড়াৎ-

'না, আকাশ জুড়ে মেঘ নয়-শুধু দাড়ি-গোঁফ৷ ঠোঁট থেকে, গাল থেকে চড়াং চড়াং করে সব উড়ে যেতে লাগল-জমাটবাঁধা দাড়ি-গোঁফের মেঘ আকাশ বেয়ে ছুটে চলল, আর সেই দাড়ির মেঘে, যেন গদির ওপর বসে, বাঁশি বাজাতে বাজাতে হ্যামলিনের বাঁশিওলাও উধাও৷

'আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে সারা মঙ্গোলিয়া এ-ওর দিকে থ হয়ে চেয়ে রইল৷ জাতির গর্ব-দাড়ি গোঁফের প্রেস্টিজ-সব ফিনিশ! সব মুখ একেবারে নিখুঁত করে প্রায় কামানো, কারও কারও এখানে-ওখানে খাবলা খাবলা একটু টিকে রয়েছে এই যা৷ সর্বনেশে বাঁশি তাদের সর্বনাশ করে গেছে৷

'রইল মহোৎসব, রইল সব৷ এক মাস ধরে তখন জাতীয় শোক৷ আর দাড়ি-গোঁফ সেই গেল, একবারেই গেল-মোঙ্গলদের সেই থেকে ওসব গজায় না, ওই দু-চারগাছা খাবলা খাবলা যা দেখতে পাস৷ হ্যামলিনের বাঁশিওলা-হুঁ হুঁ, তার সঙ্গে চালাকি!

'আর সেই রাত্রেই চেঙ্গিস মানুষ মারতে বেরিয়ে পড়ল৷ বাঁশিওয়ালাকে তো পায় না- কাজে কাজেই যাকে সামনে দেখে, তার মুণ্ডুটিই কচাৎ! বুঝলি-এ হল রিয়্যাল ইতিহাস- ন্তোরিয়া দে মোগোরা পুঁদিচ্চেরি বোনানজা বাই সিলিনি কা মুচ্চি ফিফথ সেনচুরি বি-সি!'

টেনিদা থামল৷

ক্যাবলা বিড়বিড় করে বলল, 'কী বললি, প্রেমেন মিত্তিরের ঘনা দা! কী যে বলিস! তাঁর পায়ের ধুলো একটু মাথায় নিতে পারলে বর্তে যেতুম রে৷'

শারদীয়া ১৩৭৭

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%