কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

গোপীনাথ ঘোষের মেয়ের বিয়েতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে কলাবতীর দাদু রাজশেখর সিংহ আর ছোটোকাকা সত্যশেখরের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল 'বঙ্গবাণী' দৈনিকের মালিক-সম্পাদক সদানন্দ চক্রবর্তীর৷ গোপীনাথ হুগলির একটা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এম.এল.এ.৷ সদানন্দর পৈতৃক বাড়ি সেই অঞ্চলেই, কলাবতীদেরও৷ 'বঙ্গবাণী' খুবই পুরোনো কাগজ এবং ওরা বলে 'বহুল প্রচারিত'৷

কলাবতীর খুব ইচ্ছে সাংবাদিক হওয়ার, বিশেষ করে খেলার৷ সে নিজে ক্রিকেট খেলে, বাংলার মেয়েদলের ডিপেন্ডেবল ব্যাটসউওম্যান৷ টেস্ট দলে আসার সম্ভাবনাও আছে৷ তার লেখার হাতটিও ভালো৷ স্কুল ম্যাগাজিনে ক্রিকেট সম্পর্কে দুটো প্রবন্ধ দিদিমণিরা প্রশংসা করেছেন৷ বড়দি অর্থাৎ হেডমিস্ট্রেস মলয়া মুখার্জি ওকে ঘরে ডাকিয়ে বলেছিলেন, 'কালু তোমার কলমটা খুব জোরালো৷ মেয়ে প্লেয়ারদের অসুবিধাগুলো, অভিযোগগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছ৷ কিন্তু স্কুল ম্যাগাজিনের লেখা ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের চোখে পড়বে না৷ এসব কথা খবরের কাগজে বেরোনো উচিত৷ তুমি কাগজে লেখার চেষ্টা করো৷'

ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় বড়দি ঠাট্টার স্বরে বলেছিলেন, 'তোমার লেখাটা কেউ ব্রাশ আপ করে দেয়নি তো? অবশ্য তোমাদের বাড়িতে ভালো গদ্য কেই-বা আর লিখতে পারে৷'

মলয়া মুখার্জি বকদিঘি গ্রামের মুখুজ্জেবাড়ির, আর তার পাশের গ্রাম আটঘরার সিংহবাড়ির কলাবতী৷ একদা জমিদার এই দুই পরিবারের মধ্যে রেষারেষি কর্নওয়ালিসের আমল থেকে আজও চলে আসছে৷ সুযোগ পেলেই ওরা পরস্পরের লেগ পুল করতে ছাড়ে না এখনও৷ ব্যাপারটা বিশেষ করে হয় কলাবতীর ঠাকুরদা রাজশেখরের সঙ্গে মলয়ার বাবা হরিশঙ্করের আর সত্যশেখরের সঙ্গে মলয়ার৷ কলাবতী একে বলে, ডাবল-উইকেট কম্পিটিশন, আর সে নিজে নিউট্রাল উইকেটকিপার৷ ওদের ফসকানো বলগুলো ধরাই তার কাজ, তবে ক্যাচ বা স্টাম্পড করায় কোনোরকম পক্ষপাতিত্ব তার নেই৷

কলাবতী গদ্যর খোঁচাটা হজম করে শুধু হেসেছিল৷ কিন্তু বড়দির ওই কথাটা, 'তুমি কাগজে লেখার চেষ্টা করো'-তার মাথায় ঢুকে যায়৷ বঙ্গবাণীর সম্পাদকের সঙ্গে তাদের আলাপ হবার পরই তার মনোবাসনা ছয়ের পর ছয় হাঁকিয়ে অবশেষে তাকে রাজশেখরের কাছে পৌঁছে দিল৷

রাতে খাওয়ার টেবিলে ওরা তিন জন৷ তখন রাজশেখর বললেন, 'কালু রিপোর্টার হতে চায়, সতু তোমার কী বক্তব্য?'

'দারুণ হবে, দারুণ৷' সত্যশেখর তাঁর কাঁচাপাকা চুলের মধ্যে আঙুলের চিরুনি চালাল৷

'কিন্তু উচ্চ-মাধ্যমিক পাশটা না করে এইরকম একটা প্রফেশনে যাওয়া কি ওর উচিত হবে?'

'দাদু আমি তো ফুলটাইম রিপোর্টার হব বলছি না৷ ক্রিকেট সিজন এসেছে, আমি ক্রিকেট নিয়ে টুকটাক কিছু লিখতে চাই৷ স্টাফ রিপোর্টার ছাড়াও বাইরের অনেকেই তো খবর-টবর লেখে৷'

'কোন কাগজে লিখবি, কথাবার্তা হয়ে গেছে?' সত্যশেখর জানতে চাইল৷

'বঙ্গবাণীর সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করব৷ দাদুর কাছে তাই একটা চিঠি চাইছি৷ দাদুর রিকোয়েস্ট নিশ্চয় ফেলতে পারবে না৷'

'হয়তো পারবে না! সদানন্দর বাবা কাগজ বার করে কিছুদিন পর আর চালাতে পারছিল না৷ উঠে যায় যায় অবস্থা৷ তখন আমার বাবার কাছে টাকার জন্য এসেছিল৷ বাবা দশ হাজার দিয়েছিলেন৷ আমি তখন খুব ছোটো কিন্তু ব্যাপারটা জানি৷ সে-টাকা আর শোধ দেয়নি৷ কোনো লেখাপড়া করে টাকা দেওয়া হয়নি, আমিও আর চাই-টাইনি৷ যদি রিকোয়েস্ট করি হয়তো রাখতেও পারে৷ কিন্তু তুই কি পারবি? আগে কখনো লিখেছিস কোথাও?' সত্যশেখর উদবিগ্ন স্বরে বলল৷ পিতৃ-মাতৃহীন একমাত্র ভাইঝিকে অবিবাহিত এই ব্যারিস্টার-কাকা মেয়ের মতো ভালোবাসে৷

'স্কুল ম্যাগাজিনের লেখাটা পড়ে বড়দি বলেছেন আমার কলম খুব জোরালো৷'

'হুঁ৷ তার মানে ধরে নিতে পারিস, তোর লেখাটা বাজে৷'

'সতু!' ছোট্ট একটা বজ্রনির্ঘোষ অর্থাৎ রাজশেখরের বিরক্তি টেবিল গড়িয়ে ওপারে পৌঁছোল৷ সত্যশেখর দ্রুত নিজের প্লেটে মুখ নামিয়ে নিল৷ বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেলেও এখনও সে বাবাকে বাঘের মতোই ভয় করে৷

'কালুর কলম জোরালো নয় অর্থাৎ মলয়া বাজে কথা বলছে এ ধারণা তোমার হল কেন?'

সত্যশেখর ডালের বাটিতে রুটি ডুবিয়ে বইঠা চালাবার মতো নেড়ে যাচ্ছিল৷

'লন্ডন টাইমসে একটা চিঠি ছাপাব বলে সেটা লিখে প্রথমে মলয়াকে একবার দেখতে দিয়েছিলাম৷ সে ওটাকে ধুয়ে মুছে এমন করে দিয়েছিল যে লেখার বক্তব্যই বদলে গেল৷' সত্যশেখর কাঁচুমাচু হয়ে বলল৷ যদিও 'শত্রুপক্ষ' বাড়ির মেয়ে কিন্তু মলয়ার সঙ্গে তার পরিচয় বাল্য থেকেই৷ দু-জনে প্রায় একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে গেছল, ওদের দু-জনের মধ্যে যত ভাব, তত ঝগড়া, এই বয়সেও৷ কলাবতী এটা খুব উপভোগ করে৷

'তোমাকে ব্যারিস্টার হতে বিলেত পাঠিয়েছিলাম, চিঠি লেখার জন্য নয়৷ হরির পয়সায় মলয়া গিয়েছিল পড়াশোনা করতে, চিঠি ঠিক করে দেওয়ার জন্য নয়৷'

'কিন্তু বাবা, আমরা দু-জনেই তো পাশ করে...'

'তাতে কী হল?' বজ্রনির্ঘোষে কলাবতীর আঙুলে ট্যাংরা মাছের কাঁটা ফুটে গেল৷

'তুমি হরির মেয়েকে দিয়ে চিঠিটা ঠিক লিখেছ কি না যাচাই করিয়েছিলে! নিশ্চয় এটা মেয়ের কাছে শুনেছে আর নিশ্চয় সে লোককে বলে বেড়িয়েছে সিংগিরা মুখ্যু৷ উফফ৷ তা চিঠির বিষয়টা কী ছিল?'

'বেড়ালের ডাক, মানে বেড়ালের ঝগড়া৷'

'য়্যা!'

কলাবতীর ভাতের গ্রাস হাত থেকে পড়ে গেল৷

'এত বেড়ালের ঝগড়া, রাত্তিরে ঘুমোতে পারতাম না৷'

'তা মলয়া কী করল?'

'সাহেবদের বেড়াল পোষার উপর কষে গালাগাল দিয়ে চিঠিটাকে আচ্ছাসে ঝালাই করে দিল৷'

'হরির মেয়ে তো, এসবে পোক্ত তো হবেই৷' রাজশেখরকে খুশিতে নরম দেখাল, বললেন, 'কী লিখল?'

'মনে নেই এখন, আঠারো-কুড়ি বছর আগের কথা তো৷ তবে সেটা বেড়ালের উপর একটা থিসিসের মতো হয়েছিল৷ প্রমাণ করেছিল, লন্ডনের বেড়ালরা কলকাতার বেড়ালের থেকে বেশি বাঁদর৷ বেশ বড়োই হয়েছিল চিঠিটা, কিন্তু ছেপেছিল, কুকুর-বেড়ালের জন্য ওরা কাগজে জায়গা দেয়৷'

'রিয়্যাকশান কিছু হল? তাতে বেড়ালরা কি ঝগড়া বন্ধ করল?'

'আমাকে ডবল গালাগাল দিয়ে শুধু গুচ্ছের চিঠি বেরোল৷'

'হরির মেয়ে তো, গালাগাল খাইয়ে সিংগিদের হেনস্থা করার ব্যবস্থা করল আর কি৷' রাজশেখর টক দইয়ের প্লেটটা টেনে নিলেন৷ চামচেয় এক খামচা তুলে বললেন, 'কালু, আমি তোমায় একটা চিঠি লিখে দেব৷'

পরদিনই চিঠি নিয়ে কলাবতী হাজির হল বঙ্গবাণী সম্পাদকের ঘরে৷ চিঠি পড়তে পড়তে সদানন্দ চক্রবর্তীর মুখ হাসিতে ভরে গেল৷

'তোমাদের বাড়িতে বাবা যেতেন খুবই৷ কিন্তু তোমার ঠাকুরদা যে আমার বাবার কাছ থেকেই বাংলা লেখার তালিম পেয়েছেন তা তো জানতাম না! তা উনি তো আমায় মুশকিলে ফেলে দিয়েছেন৷ তোমাকে বাংলা লেখার ট্রেনিংয়ের দায়িত্ব আমার উপর চাপালেন কিন্তু আমার সময় কোথা? স্পোর্টসেরও আমি কিছু বুঝি না৷ কিন্তু উনি যা লিখেছেন, 'এই বংশের সবাই বঙ্গজননীর বাণী শিক্ষা করিয়াছে বঙ্গবাণী হইতে'...কী দারুণ বাংলা! হবেই তো, বাবার কাছে শিক্ষার ফল৷ কিন্তু আমি যে মুশকিলে পড়লাম৷'

সদানন্দ চক্রবর্তী ডাকিয়ে আনলেন ক্রীড়া সম্পাদক অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ মাঝারি উচ্চতা, থলথলে ভুঁড়ি, মোটা ফ্রেমের চশমা, মিশমিশে রং, ধূসর খদ্দরের হাওয়াই শার্ট৷ এই সব মিলিয়ে কলাবতীর একদমই মনে হল না এই লোকটি এবং খেলা, এই দুইয়ের মধ্যে সহাবস্থান হতে পারে৷ খুবই বিগলিত দেখাল অনন্তবাবুকে৷ সদানন্দবাবু তাকে বসতে বলে কলাবতীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই তিনি উৎসাহ ভরে বললেন, 'চিনি খুবই চিনি, খুব নামি ক্রিকেটার, গতবারই তো মেয়েদের রঞ্জি ট্রফিতে ইডেনে সেঞ্চুরি করেছে৷'

'মেয়েদের রঞ্জি ট্রফি' শুনে কলাবতীর যতটা হাসি পেল ততটাই সে ভয় পেল সেঞ্চুরির কথা শুনে৷ এখনও তার সেঞ্চুরি নেই, ক্লাব ক্রিকেটে ছাড়া৷ প্রতিবাদ করতে গিয়েও করল না৷ দরকার কী ক্ষুণ্ণ করে, চটে থাকলে মুশকিল হতে পারে৷

কলাবতীর আগমন-উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দিয়ে সম্পাদক বললেন, 'আজকাল তো মেয়েরাও রিপোর্টিং করছে, একে যদি তৈরি করে নিতে পারেন...অবশ্য বয়সটা খুবই কম, ফুলটাইম স্টাফ ও হতে পারবে না, পড়াশোনা করছে৷ কিন্তু টুকটাক লেখার কাজ, প্রেস কনফারেন্সে যাওয়া, হ্যাঁ সেদিন যে বললেন রবিবারে মাঠে যাওয়ার লোক থাকে না, তা একে তো পাঠানো যায়৷'

'নিশ্চয় নিশ্চয়৷ ক্রিকেটারকে ক্রিকেট মাঠে পাঠানোই তো দরকার৷ খেলার টেকনিক্যাল সাইডটা নিয়ে আমাদের পর এখন তো কেউ লেখেই না, এখন তো শুধু কাব্যের ফুলঝুরি৷ ক্রিকেট যে খেলেছে শুধু সেই পারে৷'

অনন্তবাবু তার ভাসমান অবস্থা থেকে এবার ডাঙায় উঠেছেন৷ আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, সম্পাদক তাকে থামিয়ে বললেন, 'ওকে এখন নিয়ে গিয়ে সব বুঝিয়ে দিন, একটু কেয়ার নিয়ে শেখাবেন, দেখাবেন৷ ওর ঠাকুরদা আমার বাবার কাছে বাংলা শিখেছেন এটাও মনে রাখবেন৷'

কলাবতীকে সঙ্গে নিয়ে ক্রীড়া বিভাগে এলেন অনন্তবাবু৷ দুটো বড়ো টেবিল, তাতে প্যাড, ছড়ানো কাগজ, পেপার ওয়েট, পিনকুশন আর কাচের গ্লাস৷ কাঠের একটা চাকতিতে সরু শিক লাগানো৷ এর নাম শূল বা স্পাইক৷ লম্বা হলঘরের একধারে কয়েকটা টাইপ রাইটারের মতো যন্ত্র৷ সেগুলো অবিরাম খটখট করে চলেছে৷ সংবাদ, যা টেলিপ্রিন্টার মারফত দেশ-বিদেশের নানান জায়গা থেকে এসেছে, তার মধ্যে যেগুলো কাজে লাগবে না সেগুলি এই শূলে গেঁথে রাখা হয়৷ দুটো লোক টেবিলে ঘাড়গুঁজে লিখছে৷ আর একজন টেলিপ্রিন্টার কপি পড়ছে আর শূলে গাঁথছে৷ জিনস আর হাফ শার্টপরা, ঘাড় পর্যন্ত ছাঁটা চুল কলাবতীকে দেখে সে পড়া বন্ধ করে তাকিয়ে রইল৷ অনন্তবাবু ওদের সঙ্গে কলাবতীর পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, 'এবার থেকে কলাবতীই রোববারে মাঠ করবে৷ তোমরা তো বল সোমবারের কাগজে জায়গা অনেক, ভরাতে প্রাণ বেরিয়ে যায়৷ এবার কলাবতীই ভরিয়ে দেবে, ব্যাস, নিশ্চিন্ত৷'

'আমাকে কোন ম্যাচ করতে হবে?'

'সব ম্যাচ৷' অনন্ত দু-হাত ছড়িয়ে বললেন, 'গড়ের মাঠে যত খেলা সব৷'

কলাবতী বিভ্রান্ত হল৷ দুটো ডিভিশন মিলিয়ে তো ডজন-দুই লিগ খেলা হয়, সব ম্যাচ কী করে একজনের পক্ষে সম্ভব?

'সব ম্যাচের শুধু রেজাল্ট জোগাড় করবে৷ ঘুরতে হবে না তোমায়৷ ওরাই স্কোর বই নিয়ে হাওড়া ইউনিয়ন টেন্টে আসে তুমি শুধু টুকে নেবে৷ দরকার হলে জিজ্ঞাসা করে নেবে কে কেমন খেলল, রেকর্ড-টেকর্ড কিছু হল কি না...তাই তো হে নকুল, তোমরা তো তাই কর?'

নকুল নামক ধুতি-পাঞ্জাবিপরা লোকটি 'হুঁ' বলল লিখতে লিখতেই৷

'সেঞ্চুরি করলে ক-টা বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি মেরেছে সেটাও লিখবে আর ক-বলে কত মিনিটে৷ আজকাল আউট-ফাউট নিয়ে খুব ঝামেলা হয়, আম্পায়ারকে ধরে ঠ্যাঙায়ও! অবশ্য এসব বড়ো ক্লাবের খেলাতেই হয়৷ যদি এরকম হয়েছে শোনো তাহলে দু-পক্ষের বক্তব্যও নেবে৷ যদি ইনজুরি হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয় তাহলে খবর নেবে কেমন আছে, না না হাসপাতালে গিয়ে নয়, এখান থেকে ফোন করলেই হবে, এই আর কি!'

কলাবতী যাবতীয় উপদেশ শুনে, এই রবিবারই মাঠে যাবে কথা দিয়ে বাড়ি ফিরে এল৷ দোতলায় উঠেই মুরারির কাছে শুনল, দাদু তার জন্য লাইব্রেরিতে অপেক্ষা করছেন৷

'কাজ হল?'

গদিমোড়া ইজিচেয়ারে রাজশেখর বই পড়ছিলেন, হাতের পাশের টেবিলে দুটো বই৷

'দারুণ কাজ দিয়েছে৷'

'চিঠি লিখতে জানা চাই, এটা একটা আর্ট৷ লেট কাট কি সবাই পারে? সতুটা কিছুই শিখল না, না পারে চিঠি লিখতে, না পরে ক্রিকেটটা খেলতে৷ সদানন্দর বাবা আমায় বাংলা শেখাবে? ঘেঁচু শেখাবে! আমি নিজেই বাংলা শিখেছি৷'

অঃতপর কলাবতীর কাছে সবিস্তারে সব শুনে বললেন, 'শুধু রেজাল্ট-টোকা জার্নালিজম তোর ভালো লাগবে?'

'তা কেন, উনি বললেন বলেই কি আমি তাই করব? আমি দুটো ম্যাচ ভালো করে দেখব, লাঞ্চের আগে পর্যন্ত একটা, আর তার পরে একটা৷ কে কীরকম বল করছে, উইকেট কিপ করছে; নতুনদের মধ্যে ভালো কেউ খেললে তার সম্পর্কে লিখব যাতে সি.এ.বি.-র নজরে আসে৷' কলাবতী উৎসাহে কলকলিয়ে উঠল৷

রাজশেখর হাতের বইটা তুলে ধরে বললেন, 'নেভিল কার্ডাস; তোর জন্যই আবার পড়ছি৷ কতকগুলো জায়গা দাগিয়ে রেখেছি টুকে নিয়ে যাবি, লেখায় বসিয়ে দিবি৷ রবার্টসন-গ্ল্যাসগো আর ফিঙ্গলটনের বইও বার করেছি৷'

'কিন্তু দাদু, ময়দানের ক্রিকেটে কি কার্ডাস একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না?' কলাবতী তার ঘোরতর সন্দেহটা জানিয়ে দিল৷ 'সেরকম ক্রিকেট কি ময়দানে খেলা হয় নাকি যে ম্যাকলারেন, উলি, ভেরিটি, হ্যামন্ডের মতো প্লেয়ার দেখতে পাব৷ বাংলা তো এখন ইস্ট জোন লিগেই আঁকুপাঁকু করে৷'

রাজশেখর গম্ভীর হয়ে রইলেন৷ কিছুক্ষণ পর মৃদুস্বরে বললেন, 'সমাজের অবস্থা সব থেকে ভালো বোঝা যায় খেলার মাঠ থেকে৷ তার উদ্দীপনা, সাহস, ভয়, সংকোচ, দারিদ্র্য, উদারতা সব ফুটে ওঠে ক্রিকেটের মধ্য দিয়ে৷ ইটস অ্য গেম অব লাইফ অ্যান্ড লাইফ ইজ অ্য গেম৷ বাংলার ক্রিকেটই আমাদের এখনকার অবস্থাটা জানিয়ে দিচ্ছে৷' রাজশেখর বইটা বন্ধ করে চোখ বুজলেন৷

রবিবার দশটার আগেই কলাবতী বাস থেকে শহিদ মিনারের কাছে নামল৷ সে ঠিক করেই রেখেছিল ছোটো ক্লাবের ম্যাচ প্রথমে দেখবে৷ ময়দানে কোন মাঠ কোথায় সবই তার জানা৷ হাঁটতে হাঁটতে দূর থেকেই এ-মাঠ সে-মাঠের খেলা দেখতে দেখতে অবশেষে একটা মাঠে দাঁড়িয়ে পড়ল৷ মিনিট দশেক হল খেলা শুরু হয়েছে কিন্তু টেলিগ্রাফিক স্কোর বোর্ডে দেখা যাচ্ছে পাঁচ রানে চার উইকেট, লাস্ট ম্যান চার রান করে আউট হয়েছে৷ নিশ্চয় দারুণ বল করেছে কেউ! কলাবতী শামিয়ানার নীচে স্কোরারদের টেবিলের পিছনে গিয়ে দাঁড়াল৷

'দাদা উইকেট চারটে কে নিল?'

কলাবতী দু-জন স্কোরারের একজনকে জিজ্ঞাসা করল খুব বিনীতভাবে৷ সযত্নে বোলিং অ্যানালিসিসের ঘরে পেনসিলের একটা ফুটকি বসিয়ে লোকটি মুখ তুলে একটি মেয়েকে দেখে বলল, 'জেনে কী করবেন?'

'না এমনিই৷' থতোমতো হল কলাবতী৷

'ওই যে ছেলেটা এখন বল করতে যাচ্ছে, ও একাই চারটে নিয়েছে৷ দুটো বোল্ড, একটা এল.বি., একটা কট৷ সাত বলে শূন্য রানে৷'

কলাবতীর ইচ্ছা হচ্ছে বোলারের নামটা জিজ্ঞাসা করতে৷ কিন্তু স্কোরারের মেজাজ দেখে ভরসা পেল না৷ সে একটু সরে গিয়ে দাঁড়াল৷ তখন কানে এল স্কোরার তার পাশের জনকে বলছে, 'এখন মেয়েরাও ক্রিকেট বোঝে, কালে কালে কতই যে দেখব!'

'ক্রিকেট মাঠে যাওয়াটা এখন ফ্যাশন হয়েছে, এদের জন্যই খেলাধুলো গোল্লায় গেল৷'

ওভারের শেষ তিনটি বল কলাবতী দেখল৷ ছেলেটির বোলিং স্টাইলটা কপিলদেবের মতো, বেশ জোরেই বল করে৷ ডিরেকশন আর লেংথ তো বটেই বল সিম করাচ্ছেও চমৎকার৷ শেষ বলটায় ব্যাটসম্যান পিছিয়ে খেলে ক্যাচ দিয়েছিল উইকেট-কিপারকে, তার আগের বলটায় এল.বি.ডব্লু. অ্যাপিল করেছিল বোলার৷ কী বল করছে দেখার জন্য কলাবতী সাইট স্ক্রিনের পাশে গিয়ে দাঁড়াল৷

কিন্তু কী আশ্চর্য, ছেলেটি তার তৃতীয় ওভার বল করার জন্য এগিয়ে আসছিল কিন্তু ক্যাপ্টেন হাত নেড়ে তাকে ফাইন লেগ বাউন্ডারিতে যেতে বলে, আর একজনকে বল করতে ডাকছে৷ ছেলেটির মুখে অবিশ্বাস ও বিস্ময় একই সঙ্গে ফুটে উঠেছে৷ কলাবতী প্রথমে অবাক হয়ে রেগে উঠল৷ লিখতে হবে এটা৷ নোট বইয়ে সে লিখে রাখল কয়েকটা কথা৷

লাঞ্চ পর্যন্ত সে খেলা দেখল৷ ছেলেটিকে আর একবারও বল করতে ডাকা হল না৷ চার উইকেটে পাঁচ রান থেকে স্কোর গেল চার উইকেটে ১৯০ রানে৷ কলাবতী টেন্টের কাছে এসে তার এক বন্ধুর দাদাকে দেখতে পেল৷ মনে হল এই ক্লাবেরই কর্তা-গোছের কেউ৷ তিনি তো ওকে দেখে অবাক৷ আরও অবাক হলেন বঙ্গবাণীর জন্য রিপোর্ট করবে শুনে৷

'ওই ছেলেটিকে আপনার ক্যাপ্টেন আর বল করতে দিল না৷ এরকম ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে নিশ্চয় আপনারা ব্যবস্থা নেবেন৷'

'ছেলেটা মানে রবীন? হ্যাঁ খুব প্রমিস আছে৷'

'আর ওকে কিনা দু-ওভার পরই বসিয়ে দিল৷'

'ব্যাপার আছে৷ এদিকে সরে এসো৷... সি.এ.বি.-র এক কর্তা, নাম বলব না, তার টিমের সঙ্গে খেলা৷ সামনে টেস্ট ম্যাচ, নানান কমিটি হবে, আমাদের ক্লাবের দুই মাতব্বর তাতে ঢুকবে৷ এই ম্যাচটায় ওদের অন্তত দু-শো রান করিয়ে না দিলে কি কমিটিতে নেবে? তা ছাড়া রবীন তো ভেরি ইয়াং, ওর সামনে এখনও বহু বছর পড়ে, অনেক উইকেট ও পাবে৷ একটা ম্যাচে বল না করলে ওর কিছু ক্ষতি হবে না৷ ক্যাপ্টেনকে বলেই দেওয়া হয়েছিল ওকে দিয়ে বল না করাতে, তবুও যে কেন দিল! দু-ওভারেই ম্যাচটা রুইন করে দিচ্ছিল৷'

শুনতে শুনতে কলাবতী স্তম্ভিত হয়ে গেল৷ দারুণ বল করা মানে ম্যাচ ধ্বংস করা! এমন বোলারকেই তো উৎসাহ দিতে আরও বল করানো উচিত৷ ছেলেটিকে তার সমবয়সিই মনে হচ্ছে৷ ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য সে কাছে এগিয়ে গেল৷ দু-জনের বক্তব্যটাই লেখার জন্য তার দরকার৷

'ভেরি স্যাড, সত্যিই দুঃখ হচ্ছে, তোমার হচ্ছে না?'

'না৷ আমাকে বলেছিল উইকেট না নিলে জুনিয়ার বেঙ্গল টিমের জন্য ট্রায়ালে রাখবে৷ কিন্তু আমি চারটে উইকেট নিয়ে ফেলেছি৷ কী যে হবে!' ভয়ে রবীনের মুখ শুকিয়ে রয়েছে৷

শুনে, কলাবতী আর একবার স্তম্ভিত হয়ে পায়ে পায়ে সরে গেল৷ প্যাকেটে স্যান্ডউইচ আর কলা এনেছে৷ মাঠের ধারে বসে সেগুলো শেষ করে লাঞ্চের সময়টা কাটিয়ে সে খেলা খুঁজতে বেরোল৷ কয়েকটা মাঠ দেখল৷ একটাতেও তার চোখ বা মন বসল না৷ এসব খেলার থেকে তাদের আটঘরার ক্রিকেট অনেক ইন্টারেস্টিং মনে হল৷ বল করার মধ্যে বুদ্ধি নেই, ব্যাট করায় সাহস নেই৷ অপরিচ্ছন্নতা আর একঘেয়েমি খেলাগুলোয় ঠাসা, একসময় ক্লান্ত বোধ করে সে একটা মাঠের বাউন্ডারিতে বসে খেলা দেখতে লাগল৷

হঠাৎ তার মনে হল কিছু যেন একটা হচ্ছে৷ মাঠের মধ্যে আম্পায়াররা কেমন অন্যমনস্ক, একজন তো খেলা চলার মধ্যেই হাতের ইশারায় কথা বলল মাঠের বাইরে কার সঙ্গে৷ স্কোয়ার লেগ বাউন্ডারির ফিল্ডার বুট দিয়ে শট মেরে একটা বল মাঠ থেকে বার করে দিল৷ কোনো অ্যাপিল হচ্ছে না, বল এনতার শর্ট পিচ পড়ছে, বাই হয়ে বল বাউন্ডারিতে গেল পরপর চার বার৷ কলাবতীর পিছনে কয়েকজন দর্শক চেঁচিয়ে ঠাট্টাবিদ্রূপ করছে৷

'শাবাশ, শাবাশ, সেঞ্চুরিটা হয়ে এল৷'

'আরে আরে, এ যে সত্যি সত্যিই ফিল্ড করল, ওরে ছেড়ে দে, ছেড়ে দে, নইলে সিজনের মতো বসে যাবি৷'

'বোলার চেঞ্জ, বোলার চেঞ্জ, এ গুড লেংথে বল ফেলছে, চেঞ্জ করো একে৷'

কলাবতী ঘাড় ফিরিয়ে দেখল স্কোর বোর্ডের ২৩ সংখ্যাকে একটি ছেলে গিয়ে ৪৪ করে দিল!

'ভাই এর মধ্যেই একুশটা রান হয়ে গেল?' একজন জিজ্ঞাসা করল বিদ্রূপের স্বরে৷

'যান না স্কোর বইটা দেখে আসুন না৷' ছেলেটি নির্বিকার হয়ে চলে গেল৷

কলাবতী উঠে গিয়ে দুই স্কোরারের পিছন থেকে দেখল, দুটো খাতাতেই হুবহু একই স্কোর৷ গুনে দেখল এক ব্যাটসম্যানের নামে দশটা বাউন্ডারি আর চারটে এক৷

'দুটো চার জি. ভট্টাচার্যের৷' এক স্কোরার বলে দিল, অন্যজন খাতায় তাই বসাল৷

'ফিফটি হয়ে গেছে রে, স্কোর বায়ান্ন কর৷' বোর্ডে চুয়াল্লিশ হল বাহান্ন৷ মাঠের মধ্যে কয়েকটা চটপট শব্দ হল, বেঁটে মোটা ব্যাটসম্যানটি ব্যাট তুলল৷ প্যাড পরে বসে থাকা একজন কলাবতীকে দেখতে পেয়ে হাসল৷

'বিশুদা কী ব্যাপার বলুন তো৷ এটা কি খেলা হচ্ছে?'

'ওর পাঁচটা সেঞ্চুরি এই সিজনে হয়েছে, আর একটা দরকার৷ বেঙ্গল টিমে আনার জন্য সিলেক্টরদের কাছে ওর যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে না?' বিশুদা গলা নামিয়ে বলল৷

'অপোনেন্ট এতে রাজি হল?'

'লিগ টেবিলে তলায় রয়েছে, চ্যাম্পিয়ানশিপ ফাইট তো করছে না৷ এখন একটা ম্যাচ হেরে বা জিতে ওদের কিছুই ক্ষতি বা লাভ হবে না, বরং আমরা ঋণী রইলাম৷ যখন ওদের দরকার হবে আমরা শোধ দেব ম্যাচ ছেড়ে দিয়ে৷'

কথা বলতে বলতেই আবার হইচই শুনে কলাবতী দেখল ৫২টা ৭৫ হয়ে গেছে৷ মিনিট দশেকের মধ্যেই সেটা পৌঁছোল সেঞ্চুরিতে এবং খেলাও শেষ৷ করমর্দন আর পিঠ চাপড়ানি নিয়ে জি. ভট্টাচার্য তাঁবুতে ঢুকে গেল৷

কলাবতীর মনে হচ্ছে সে যেন অ্যালিসের মতো কোনো আজব দেশে রয়েছে৷ তার মাথার মধ্যে বোঁ বোঁ করছে৷ বোধ হয় ডেনিস লিলির বল মাথায় লাগার পর মিঁয়াদাদের এই রকমই লাগছিল৷ কী যে রিপোর্ট লিখবে ভেবে পাচ্ছে না সে৷ ক্রীড়া সম্পাদকের কথাটা মনে পড়ল, কার কী বক্তব্য আছে জেনে নেবে৷

স্কোর খাতায় সই করে আম্পায়ার দু-জন ফিরছেন৷ তাদের একজনকে সে প্রশ্ন করল, 'এইভাবে রান বাড়ানো হল, আর আপনারা তাতে আপত্তি করলেন না?'

'বাড়ানো হয়েছে নাকি!' তিনি আকাশ থেকে পড়লেন৷ 'আমরা তো মাঠে ছিলাম, স্কোরে কী হয়েছে তা তো আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়! স্কোরার তো দু-দলেরই রয়েছে, কেউ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি, সুতরাং আমাদের কিছুই করার নেই৷'

ময়দানের খেলার রেজাল্টগুলো সংগ্রহ করে কলাবতী বঙ্গবাণীর ক্রীড়া বিভাগে এসে দেখল চেয়ারগুলো ফাঁকা, কেউ তখনও আসেনি৷ সে একটা প্যাড টেনে নিয়ে লিখল, 'কিছুই লেখার নেই৷' রেজাল্টগুলো প্যাডটার উপর পেপারওয়েট চাপা দিয়ে রেখে সে বাড়ি ফেরার জন্য বঙ্গবাণী থেকে বেরিয়ে পড়ল৷

শারদীয়া ১৩৯৩

Cov161
সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%