বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

এক বোকা রাজার একটি ছেলে ছিল৷ রাজার নিজের মাথায় বুদ্ধি নেই, তাঁর ছেলের মাথাতেও বুদ্ধি নেই৷ রানির মাথাতে কিন্তু অনেক বুদ্ধি ছিল৷ ভাগ্যিস ছিল! তাই যখনই রাজা আর রাজপুত্তুর মিলে পাশের রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধ বাধাতে চাইতেন রানি অমনি অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখতেন, এবং বলতেন যে, সেই স্বপ্নের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করা যাবে না৷ তার মধ্যে যুদ্ধ করলেই হেরে ভূত হয়ে যাবেন রাজা৷ স্বপ্নে রানি জানতে পেরেছেন, এরকমই বিধির বিধান! আর তবে উপায় কী? রাজাকে শুনতেই হয়৷

তা প্রথমবার রাজা যখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন-ঘোড়া সেজেছে, রথ সেজেছে, হাতি সেজেছে, ঢাল মেঘর ঘাঘর বেজেছে-বাজতে বাজতে চলল ডুলি-

ডুলি কোথা যাবে? না পাশের রাজ্যে৷ ডুলির ভেতর কে? না, রাজদূতমশাই, আর রাজপুরোহিতমশাই৷ তাঁরা কেন ডুলিতে? কেননা তাঁরা ঘোড়ায় চড়তে জানেন না আর রথে চড়তে ভয় পান৷ পাশের রাজ্যে গিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন রাজদূত, আর তার লগ্নটা স্থির করে দেবেন রাজপুরোহিত৷

হঠাৎ দৌড়োতে দৌড়োতে রানিমার খাস দাসী এসে ডুলি ধরলেন৷ 'কী ব্যাপার? কী ব্যাপার?'

'রানিমা স্বপ্ন দেখেছেন, দুটো গ্রাম পেরিয়ে এক গ্রাম আছে, তার নাম আন্ধারা গ্রাম৷ সেখানে কোনো বাড়িতে দিনের বেলাতেও আলো নেই৷ সেই গ্রামের ঘরে ঘরে আলো না এনে দিয়ে যুদ্ধে গেলে যুদ্ধে হেরে যাব আমরা৷'

'ওঃ এই কথা, তা আমরা যাচ্ছি, এক্ষুনি গিয়ে রাজাকে বলছি৷' রাজপুরোহিত আর রাজদূতমশাই সভায় ফিরে চললেন৷

রাজা শুনে বললেন, 'ওই, এই? তা এক্ষুনি ওদের গ্রামে আমি বালতি পাঠিয়ে দিচ্ছি আড়াই-শো৷ সৈন্যরা সারাদিন ধরে বালতি করে সূর্যের আলো ভরে ভরে ঘরে ঢালুক৷ ঘর আলো হয়ে যাবে৷' আপাতত যুদ্ধযাত্রা বন্ধ রইল৷

আড়াই-শো বালতি নিয়ে সৈন্যসামন্ত হাজির হল আন্ধারা গ্রামে৷ সারাদিন তারা সূর্যের আলো ভরতি করে আর প্রজাদের ঘরে নিয়ে ঢালে৷ কিন্তু ঘরে আলো আর হয় না৷ এরকম চলতেই থাকল অনেক বছর৷ রাজা তো অস্থির-যুদ্ধুযাত্রা আর হচ্ছে না৷ পাশের রাজ্যের রাজকুমারী একদিন আন্ধারা গ্রামের সামনে দিয়ে বেড়াতে যাচ্ছিলেন ঘোড়ায় চড়ে৷ এতগুলি বালতি নিয়ে লোকেরা ছুটোছুটি করছে দেখে অবাক হয়ে গেলেন৷ 'কী করছে এরা? কী ব্যাপার!'

'অন্ধকার ঘরে সূর্যের আলো ধরে আনার চেষ্টা করছি৷'

রাজকুমারী গিয়ে দেখলেন, এ গ্রামের কোনো ঘরেই জানলা নেই, ঘুলঘুলি নেই, কেবল ছোট্ট একটা দরজা আছে৷ অমন গুহার মতন ঘরে আলো ঢুকবে কোথা দিয়ে?

আপন মনে হেসে নিয়ে রাজকুমারী বললেন, বোকা রাজার সেনাপতিকে ডেকে, 'আমি তোমাদের গ্রামের ঘরে ঘরে সূর্যের আলো ভরে দিতে পারি৷ কিন্তু তার বদলে তোমাদের রাজাকে আমার একটা ইচ্ছে পূরণ করতে হবে৷ জিজ্ঞেস করে এসো তিনি রাজি কি না?'

সেনাপতি তো তক্ষুনি ঘোড়া ছুটিয়ে রাজসভায় ফিরে এলেন৷ শূন্য বালতি বইতে বইতে ততক্ষণে তার সৈন্যসামন্ত প্রায় পাগল হবার জোগাড়৷ রাজা বার্তাটি পেয়ে খুব খুশি৷ তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিলেন তথাস্তু৷ তাই হবে৷ ঘরে ঘরে রোদ্দুর নিয়ে দিতে পারলে একটা ইচ্ছে পূরণ করতে রাজি৷

শুনে রাজকন্যা সৈন্যসামন্তদের ডেকে প্রত্যেকটা বাড়িতে রুজু রুজু জানলা কাটিয়ে দিতে বললেন৷ দেওয়াল কেটে প্রত্যেক ঘরে দুটো করে জানলা বসাতেই ঘরে ঘরে প্রচুর রোদ্দুর খেলতে লাগল৷ আন্ধারা গ্রামে আলো আর ধরে না৷ আহ্লাদ আর ধরে না!

'রাজামশাইয়ের কাছে চলুন এবার আপনার ইচ্ছে পূরণ করতে?' হাতজোড় করে সেনাপতি রাজকুমারীকে ডাকলেন৷

কিন্তু রাজকুমারী বললেন, 'থাক, এখন নয়, পরে বলব৷'

বোকা রাজার খুব আনন্দ৷ আবার নতুন করে সেজেগুজে অন্যপথ ধরে পাশের রাজ্যে আক্রমণ করতে বেরোচ্ছেন, রানিমাও আবার ঠিক ওই সময়েই স্বপ্ন দেখে ফেললেন-আর রানিমার স্বপ্ন সফল হবার আগে যুদ্ধ যাওয়া মানে যুদ্ধে হার নিশ্চিত!

রাজামশাই হন্তদন্ত হয়ে ফিরে এসে রানিমার মহলে প্রবেশ করলেন, 'কী রানি? আবার কী স্বপ্ন দেখলে তুমি? সহজ স্বপ্ন তো বেশ? অ্যাঁ? বেশি কঠিন নয়?'

রানিমা বললেন, 'কেন মহারাজ, স্বপ্নের আবার সহজ কঠিন কী? খুব সহজেই তো দেখা গেল৷ দিব্যি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে-কোনো কষ্টই হয়নি তো স্বপ্ন দেখে!'

'আহা, সে কথা নয়৷ বলি স্বপ্নটা কেমন?'

'খুব সহজ স্বপ্ন দেখলুম-আমাদের এই বুড়ো বাজে-পোড়া পিপুল গাছটাকে আমাদের হাওয়া খাবার ঘরে ঢোকানো হয়েছে৷ কিন্তু ঘরের কোনো ক্ষতি হয়নি৷'

'এ আবার এমন কী?' রাজামশাই তক্ষুনি হুকুম দিলেন, 'গাছটা উপড়ে এনে ঘরে ঢোকানো হোক৷'

সৈন্যসামন্ত সব লেগে গেল কাজে৷ সে বুড়ো পিপুল কি সোজা গাছ? প্রায় চার-শো বছর বয়েস হয়েছে তার৷ ইয়া মোটকা গুঁড়ি৷ গাছ উপড়ে, ডালপালা ছেঁটে তাকে আপ্রাণ চেষ্টা করা হতে লাগল রাজারানির হাওয়া খাবার ঘরে ঢোকানোর৷ সে ঘরে যদিও অনেকগুলো দরজা-জানলা কিন্তু এত মোটা গাছের গুঁড়ি ঢোকানোর মতন দরজা একটাও নেই৷ প্রাসাদসুদ্ধ ভেঙে পড়ার জোগাড় হচ্ছে চেষ্টায়৷ এমন সময়ে পাশের রাজ্যের রাজকুমারী আবার ঘোড়ায় চড়ে প্রাসাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন৷ অত সুন্দর রাজপ্রাসাদের হাওয়াঘরে সৈন্যরা একটা গাছ দিয়ে ধাক্কা মারছে দেখে তাড়াতাড়ি ঘোড়া থামালেন, 'কী ব্যাপার?'

এবারেও স্বপ্নের কথা বলা হল তাঁকে৷ গাছটা যে ঘরে ঢোকাতেই হবে, রানির স্বপ্ন সফল না হলে যুদ্ধযাত্রা হচ্ছে না৷

রাজকন্যে আবার মনে মনে হাসলেন৷ তারপর বললেন, 'হ্যাঁ, আমি যদি এই সমস্যাটার সমাধান করে দিই তাহলে কিন্তু রাজামশাইকে আমার একটা ইচ্ছে পূরণ করতে হবে৷ এখন আগে আপনারা গাছ নামান৷'

রাজামশাই তো একপায়ে রাজি ইচ্ছে পূরণ করতে, যদি রানিমার স্বপ্ন পূরণ হয়৷

রাজকন্যে বললেন সৈন্যদের, পিপুল গাছের গুঁড়িটাকে টুকরো টুকরো করে চিরে ঘরে ঢোকাতে৷ তাহলেই পুরো গাছটা ঢুকে যাবে, ঘরও ভাঙবে না৷ তাই হল৷ রাজা আহ্লাদে আটখানা, 'কী ইচ্ছে তোমার রাজকন্যে মা?'

'এখন থাক, পরে হবে৷' বলে রাজকন্যে ঘোড়া ছুটিয়ে চলে গেলেন৷ রানিমা জানলা থেকে সবটা দেখলেন আর মনে মনে ভাবলেন-'বাঃ! চমৎকার মেয়ে৷ এমনি মেয়েই বউ চাই আমার৷'

রাজামশাই তো আবার যুদ্ধের সাজ শুরু করেছেন৷ সৈন্যসামন্ত সেজেছে, হাতিঘোড়া সেজেছে, কাড়ানাকাড়া বেজেছে, রাজদূত বা রাজপুরোহিত ডুলিতে চেপে বসেছে৷ রানিমার খাসদাসী এসে রাজামশাইয়ের সামনে দাঁড়ালেন৷ অমনি রাজামশাই বললেন, 'অ্যাঁ আবার? রানিমা আবার স্বপ্ন দেখলেন নাকি?'

'রানিমা এবারে স্বপ্ন দেখেছেন-তাঁর চিলের ছাদের ফাটলে যে লম্বা লম্বা ঘাস গজিয়েছে, রাজহস্তিনী প্রেমকুমারী সেই ঘাস খাচ্ছে খুব আনন্দ করে৷'

রাজার তো মাথায় হাত৷ চিলের ছাদে মানুষই উঠতে পারে না মই দিয়ে ছাড়া-ওখানে যাবার কোনো সিঁড়ি নেই৷ আর হাতি তো সিঁড়ি বেয়ে ওঠে না-সে প্রথমে প্রাসাদের চারতলায় উঠবে তো? তারপরে চিলের ছাদের ঘাস! আরও এক তলার ধাক্কা৷

হাতিকে তো সিঁড়ি দিয়ে তোলা যাবে না৷ কপিকল আনাও৷ কপিকলে হাতি বেঁধে তাকে টেনে ছাদে তোলা হবে৷

কপিকল তৈরি হল, কিন্তু কিছুতেই তাতে বাঁধা যাচ্ছে না প্রেমকুমারীকে৷ সে শুঁড় তুলে বৃংহতিধ্বনি করে বেজায় আপত্তি জানাচ্ছে৷ বেশি জোর করতে গেলে পিছনের দুই পায়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে৷

প্রেমকুমারীকে বশ মানাতে পারছে না মাহুতও৷ রাজহস্তিনী বলে কথা? তা ছাড়া এই কপিকলে হাতি বাঁধার ব্যাপারটা মাহুতেরও পছন্দ হয়নি, তবু রাজার হুকুম তাই চেষ্টা করছে৷

এই সময়ে রাজকুমারী বিদিশা সেই পথ দিয়ে ঘোড়া চড়ে বেড়াতে যাচ্ছেন৷ হাতির দুর্দশা দেখে তিনি তো অস্থির, 'ওকি হচ্ছে, ওকি হচ্ছে?'

এবার তো রাজকন্যেকে চিনে গিয়েছেন সেনাপতি সৈন্যসামন্ত সকলেই৷ তাঁকে দেখে যেন ধড়ে প্রাণ পেল-যাক! এবার একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে৷ রানিমার স্বপ্নের কথা জানানো হল রাজকন্যেকে৷

রাজকন্যা বললেন, 'ও এই? যাও তোমাদের মধ্যে চারজন সৈন্য রাজপ্রাসাদের ছাদে ওঠো কাস্তে আর অ্যাসিড নিয়ে, ঘাসগুলো সব কেটে বান্ডিল বেঁধে নিয়ে নেমে এস নীচে৷ আর ঘাস কাটার পরে ফাটলে অ্যাসিড ঢেলে দেবে, যাতে আর ঘাস-টাস না গজায় ছাদে৷ কবে বট গাছই গজিয়ে যাবে৷ ছাদ ভেঙে রাজপ্রাসাদসুদ্ধু ধ্বংস হয়ে যাবে৷'

সেনাপতি তো হাতে মুরাটিক অ্যাসিডের শিশি নিয়ে মই দিয়ে ছাদে উঠলেন৷ সঙ্গে উঠলেন চারজন জওয়ান, কাস্তে হাতে৷ ঘাস-টাস কেটে নামিয়ে আনলেন৷ রাজকন্যা সেই ঘাস নিয়ে আদর করে প্রেমকুমারীর মুখে ধরলেন৷ প্রেমকুমারী আদরে গদগদ হয়ে ঘাস খেতে লাগল৷

সেবারের মতো স্বপ্ন সফল৷

পরের ঋতুতে রাজামশাই আবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মন্দিরে প্রণাম করে বেরোবেন, রানিমা নিজেই চলে এলেন, 'মহারাজ, আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি৷'

'কী দেখলে আবার? এ তো মহা জ্বালা? যেই আমি যুদ্ধে যাব অমনি তুমি স্বপ্ন দেখবে?'

'তা আমি কী করব মহারাজ? স্বপ্ন কি কারোর হাতে থাকে? আমি স্বপ্ন দেখেছি-শাঁখ বাজছে, সানাই বাজছে, আর আমি লাল বেনারসি পরে কোলে করে সেই ঘোড়ায়-চড়া রাজকন্যাকে বধূবরণ করে আমাদের ঘরে তুলছি৷'

খুশি হয়ে রাজা বললেন, 'বাঃ, এ তো বড়ো চমৎকার স্বপ্ন৷ চলো সেনাপতি, আমরা সেই ঘোড়ায়-চড়া রাজকন্যেকে খুঁজতে যাই৷ কিন্তু তাকে পাব কোথায়? তার নামধাম কিছুই তো জানা নেই!'

তখন রাজসভার চর বলল, 'আমি জানি মহারাজ৷ আমি তো চর? আমাদের এ সব খবর রাখতে হয়৷ রাজকন্যে পাশের রাজ্যের রাজার মেয়ে৷ যে রাজ্যে আমরা এখন যুদ্ধ করতে যাচ্ছি!'

'ও, তাহলে তো এখন হল না?' রাজার একটু মন খারাপ৷

রানি তখন রাজদূত আর রাজপুরোহিতকে বললেন 'আপনারা যেমন ডুলি চড়ে যাচ্ছেন তেমনি যান, সঙ্গে অত বেশি সৈন্যসামন্ত চাই না, আপনারা গিয়ে সবিনয়ে পাশের রাজ্যের রাজামশাইয়ের কাছে রাজকুমারীর সঙ্গে সম্বন্ধের কথা পাড়ুন৷' বলে রানি থালা থালা মিষ্টান্ন, বড়ো বড়ো মাছ, দই-রাবড়ির হাঁড়ি সৈন্যদের হাতে সব তুলে দিলেন৷ অস্ত্রশস্ত্র নামিয়ে রেখে তারা তত্ত্বতালাস নিয়ে চলল-সঙ্গে সঙ্গে চলল তাদের মিলিটারি ব্যান্ড, 'দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে' গান বাজাতে বাজাতে৷

বিয়ে-থা হয়ে গেল৷ খুব ঘটাপটা৷ অনেকদিন হইহই চলল দুই রাজ্যে৷ খাওন-দাওন, নাচন-গাওন, দেওন-থোওন! সবাই খুশি৷ সবচেয়ে খুশি রানিমা৷ বোকা রাজকুমারের কপালে বুদ্ধিমতী বউ জুটেছে বলে৷ নইলে রাজ্য চলবে কী করে?

আহ্লাদ পেহ্লাদ একটু জুড়োতেই রাজা বললেন, 'তাহলে যাই পাশের রাজ্যে যুদ্ধ করতে যাই গে?'

রানি তো অবাক৷ 'ওমা সে কী কথা? ওরা আমাদের বেয়াই-বেয়ান৷ কুটুমবাড়িতে যুদ্ধ করতে যাবে কী গো?'

রাজা বলেন, 'আমি কি এতই বোকা? ওপাশের রাজ্য নয় এবার যাচ্ছি এপাশের রাজ্যে যুদ্ধ করতে৷ বউমা তুমি কিচ্ছু ভেব না৷'

বউমা তখন এগিয়ে এসে বললেন, 'কিন্তু বাবামশাই, আপনার কাছে আমার তিনটে ইচ্ছে-পূরণ পাওনা আছে৷ সেগুলোর একটা কি এখন দেবেন?'

'কী চাও বলো বউমা, নিশ্চয়ই দেব৷'

'জীবনে কোনোদিন নিজে থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন না, কোনোদিন কাউকে অযথা আক্রমণ করবেন না৷ এ আমার প্রথম ইচ্ছে৷ আমরা শান্তির রাজ্য হব, যুদ্ধের নয়৷'

রানিমা বললেন, 'বাঃ বাঃ বউমা৷ আমাদের সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মী!'

রাজার খুব মন খারাপ৷ রানিমা তো আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠেছেন! ওঃ! কত বুদ্ধি করে করে তাঁকে প্রত্যেকবার যুদ্ধযাত্রা আটকে দিতে হয়৷ শুধু শুধু ছোটো ছোটো ছেলেদের প্রাণ যাবে, এ দেশে, ও দেশে৷ রানিমার একদম যুদ্ধ ভালো লাগে না৷ তাই তিনি প্রত্যেকবার একটা স্বপ্নের গল্প ফাঁদেন৷

কথা দিয়ে কথা রাখবেন না সে তো আর হতে পারে না৷ বউমার কাছে রাজামশাই শপথবদ্ধ৷ অতএব যুদ্ধযাত্রা শেষ হয়ে গেল৷

রাজকুমারীর হাতে আরও দু-খানা ইচ্ছে বাকি আছে পূরণ করতে৷ সেগুলো এখন তোলা থাক৷ পরে যদি রাজামশাই বুদ্ধির ভুলে আবার কোনো বোকামির কাজ করে প্রজাদের ক্ষতি করতে যান তখন সেই ইচ্ছাপূরণের শর্তগুলো আঁচল থেকে বের করবেন রাজকুমারী৷ এখন থাকুক ওরা গেরোয় বাঁধা-ভবিষ্যতের জন্য৷

বোকারাজার রাজপুত্তুর কিন্তু বুদ্ধিমতী মা আর বুদ্ধিমতী বউয়ের কল্যাণে ক্রমশ বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছেন৷ কিছুদিনের মধ্যে আর একটুও বোকামি থাকল না তাঁর মগজে৷ সব সুবুদ্ধিতে ভরে গেল৷ এ রাজ্যে, ও রাজ্যে, সব রাজ্যের রাজা-প্রজা সবাই সুখেশান্তিতে রইল৷ আর সৈন্যরা সব অস্ত্রশস্ত্র ফেলে দিয়ে চাষবাসের কাজে নেমে পড়ল৷ খেতের ধান উপচে পড়তে লাগল-

আমার গপ্পো ফুরাল, দুধের বাটি জুড়ুল৷

শারদীয়া ১৪০৬

Cov176
সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%