অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়
'সদ্দার! বনটা যেন বড্ড গরম লাগছে!'
'রাখো তোমার গরম! কাটব তো ঝরার পাশের গোলপাতা৷ চিলতে-পানা গোলঝাড়, তা ছাড়া লাও কোলের কাছেই! অত নরম গরমের হিসেব কীসে!'
সদ্দারের চোটপাটি কথায় লজ্জা পেয়ে হোক বা বনের মাঝে বাকবিতণ্ডার অনিচ্ছায় হোক সবাই কাজে মন দেয়৷
গল্প আর প্রত্যক্ষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনের বনচারীরা বনের গভীরে এলেই তাদের সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন সজাগ হয়ে ওঠে৷ চারিদিকে জীবনের সহজ স্পন্দন পেলেই ওদের মনও সায় দেয়-না, তেমন কিছু অঘটন ঘটবার আশঙ্কা নেই৷ বনের পাতার ছাতার নীচে ঝিরঝিরে বাতাসে বিচ্ছিন্ন পাতা ডগা একটু-আধটু দুলবে৷ হরিণের কিছু-না-কিছু সাড়া পাওয়া যাবে দূর থেকে৷ নতুন নতুন দু-একটা পাখির ডাকও শোনা যাবে৷ এক-আধটা সাপও দেখা যাবে এখানে-ওখানে৷ এক-আধটা গো-সাপও ওঠা-নামা করবে ছোটো খালে ও ঝরায়৷ আর সর্বোপরি বানরের লাফালাফি ও কিচিরমিচির তো শান্ত বনের মূর্ত প্রতীক বলা যেতে পারে৷ এমনি ধারা সুন্দরবনের সহজ আবহাওয়া ব্যাহত হলেই বনচারী আবাদি মানুষের মন সুতীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে৷ অনুভূতি আসে-বন গরম৷ কেননা, সুন্দরবনের রাজার একবার আগমন হলে বনের সে অঞ্চলে যেন সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যায়৷ নিঃশব্দ পদচারণে চুপিসারে এলেও তার আগমন বার্তা যেন কানে কানে পৌঁছে যায় সমস্ত জীব, পাখি ও গাছগাছড়ার কাছে৷ তা না হলে এমন হবে কেন!
তবু দুর্গা সর্দার কিছুই তোয়াক্কা করতে চায় না৷ দীর্ঘকায় সবল দেহ৷ নাম দুর্গা সর্দার; পেলব পলিমাটির মানুষ অমন দুর্দান্ত নামকে সহজ করে নিয়ে ডাকে 'দুগ্যো সদ্দার'৷ কৃষ্ণবর্ণের মাংসপিণ্ডগুলি যেন ফুলে ফুলে উঠেছে তার দেহে৷ দেখলেই মনে হবে অসীম শক্তিধর৷ অমন বিশাল এবং তাগড়া দেহের মানুষেরা সাধারণত স্থবির হয়৷ কিন্তু সদ্দার তার বিপরীত৷ কেমন করে সে যে অত চটপটে হয়েছে, তা ভাবাই দায়৷
তাহলেও সে কিন্তু দলের নেতা নয়৷ দলের নেতা কালীপদ৷ দল বলতে তিনজন৷ তৃতীয় জন সবের আলি৷ এমনি ধরনের ছোটো ছোটো পঁচিশ-ত্রিশটি দল এক-একটি বড়ো ডিঙি নিয়ে একত্রে বহর বানিয়ে এসেছে সুন্দরবনের পশ্চিমাঞ্চলে হরিভূষণ বনে৷ সবাই এসেছে গোলপাতা কাটতে৷ বনের কোনো কোনো নীচু ও নরম চাতারে, কখনো বা ঝরার পাড় ঘেঁষে গোল গাছের আধিপত্য বিস্তৃত হয়৷ কোনো কাণ্ড নেই বললেই চলে; সোজা মাটি থেকে ঝাঁক বেঁধে নারকোল গাছের মতো সুদীর্ঘ পাতা ঊর্ধ্বে উঠে চারদিকে নুইয়ে মাথা নীচু করে দেয় খানিকটা ফোটা ফুলের পাপড়ির মতো৷ নারকোল গাছের পাতার মতো দেখতে হলেও গোল পাতা কিন্তু তেমন করকরে নয়৷ পাতা, কাঠি ও ডগাও খুবই নরম, পেলব ও মসৃণ৷ অমন কমনীয় হলে কী হবে, অত্যন্ত তেজি-আর কোনো গাছ ও গাছড়াকে ওর চাতারের ত্রিসীমানায় হতে দেবে না কিছুতেই৷ একটানা বিস্তীর্ণ গোল ঝাড়ে ঘন সন্নিবিষ্ট সবুজের ওপর ঈষৎ লালাভ বিনম্র পাতাগুলি ঝিরঝিরে হাওয়ায় যখন দুলতে থাকে, তখন সুন্দরবনের সৌন্দর্য যেন ফেটে পড়ে৷
সৌন্দর্য ফেটে পড়ে বটে, কিন্তু গোলঝাড় সুন্দরবনের অন্যতম বিভীষিকা৷ শিকারের জন্য নরখাদক গোলঝাড়ের আড়ালে ওত পাততে আসে না৷ আসে নিশ্চিন্তে বিশ্রামের জন্য৷ মাটি স্পর্শ না করে নরম ডগাগুলি চেপে তার ওপর শুতে ওরা ভালোই বাসে৷ তার চেয়েও বড়ো কথা, এই ধরনের ঝাড়ে কারও পক্ষে বিনা শব্দে অনুপ্রবেশ করা দায়৷ ঝাড়ের গভীরে নিশ্চিন্তে যখন নরখাদক ঘুমোয় তখন দক্ষ শিকারির পক্ষেও নিঃসাড়ে এগিয়ে অতর্কিতে আক্রমণ করা দুরূহ৷ দুরূহতর করবার জন্যই বোধ হয় নরখাদক বিশ্রামের জন্য বিস্তৃত গোল-ঝাড়ই বেছে নেয়৷ এ কথা জানা ছিল বলেই দুগ্যো সদ্দার চিলতে-পানা ঝাড় দেখে অমন বেপরোয়া কথাবার্তা বলছিল৷
ভোর সকাল থেকে তিনজনে কাজে লেগেছে৷ হু-হু করে পাতা কেটে চলেছে৷ ভারী পুরুষ্টু ঝাড়! ভালো দাম পাবার আনন্দে ওরা মাতোয়া৷ এত লম্বা যে একটা করে পাতার চাপান দিলে বুঝি চাষিবাড়ির কুঁড়েঘরের ঘর ও বারান্দার ছাউনি একই সঙ্গে হয়ে যাবে৷
গোলপাতা আহরণে জনের হিসাবে কমপক্ষে তিনজন লাগে৷ একজন উবু হয়ে এক-একটা পাতার ডগা ধরে মাটির কাছাকাছি কোপ মেরে কাটতে থাকে৷ তার হাত থেকে প্রায় লুফে নিয়ে দ্বিতীয়জন সঙ্গেসঙ্গে দায়ের সুতীক্ষ্ণ মাথাটা আলগোছে ডগার মাঝে বসিয়ে একটানে গোটা ডগাটা দ্বিখণ্ডিত করে চিরে ফেলে৷ দ্বিখণ্ডিত হতে-না-হতে তৃতীয়জন পাশাপাশি দু-টি পাইলে দুটি খণ্ডকে সাজাতে থাকে৷
তালে তালে যেন কাজ এগিয়ে চলেছে৷ তিনজনের হাতে তিনখানি পাতা-কাটা দা-মাথা বাঁকা ক্ষুরধার কাটারি৷ এমন ধার যে গোলের ডগা ছুঁতে-না-ছুঁতেই দ্বিখণ্ড হয়ে যায়৷ এই মাথা-ভারী সুতীক্ষ্ণ অস্ত্র যখন হাতের মুঠোয় আঠার মতো লেগে থাকে তখন বনচারীদের মনে হয়, এ যেন কোনো অস্ত্র নয়, তাদের অঙ্গেরই অঙ্গ বুঝি৷ দুগ্যো সদ্দারের তো কথাই নেই; তার দীর্ঘায়ত আঙুলের বজ্র বেষ্টনীতে পিষ্ট ওই অস্ত্রের হাতলে তার দেহের সর্বশক্তি চালনা করতে এতটুকুও আয়াস করতে হয় না৷ বন্দুক মনের জোর বাড়ায় বটে, কিন্তু তার অনেক হুজ্জুত-তাকে কাঁধে তুলতে হবে, তার ঘোড়া চাপতে হবে, নিরিখ করতে হবে ট্রিগার টিপতে হবে-তবেই তার মারণ অস্ত্র নির্গত হবে৷ কিন্তু গোলপাতা কাটার দা যখন হাতের মুঠোয় জমে থাকে, তখন মানুষের হাত যেমন আত্মরক্ষায় সহসা উদ্যত হয়, তেমনি এই অস্ত্রও হানবার জন্য অস্ত্রধারীর কোনো চিন্তা-ভাবনার আবশ্যক হয় না৷
দুগ্যো সদ্দার পাতা-কাটার কাজে দ্বিতীয় জনের দায়িত্ব পালন করছে৷ বিরাট দেহখানা প্রায় সোজা রেখেই দাঁড়িয়ে পাতার ডগা বিদীর্ণ করে চলেছে তড়িৎ গতিতে ও একমনে৷ প্রথম জনের কাজের দায়িত্বে নেতা কালীপদ উবু হয়ে ঝাড়ের মধ্যে প্রায় ডুবে গিয়ে পাতা কাটছে৷ দলের নেতারাই এই কাজের দায়িত্ব নেয়৷ এদেরই সবচেয়ে বিপদ৷ পেছনটা থাকে উঁচু হয়ে আর মাথা থাকে ঝোপের মধ্যে নামানো৷ এমন সুযোগ ছাড়বে কেন নরখাদক! ঝাঁপিয়ে পড়ে কোমরে দাঁত বসিয়ে সোজা মুখে তুলে একটানে নিয়ে চলে যায়৷ তৃতীয়জনের দায়িত্ব সবের আলির-একটু দূরে সে খণ্ডিত পাতাগুলি দু-ভাগে পাইল করছে৷ ঠিকমতো থাকে থাকে রাখবার জন্য ডগাগুলি উঁচু-নীচু করে নাড়াচাড়া করতেই হচ্ছে৷ দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সে তার চারপাশে যেন অনবরত লাঠি ঘোরাচ্ছে৷
যতই না একমনে কাজ করুক, শঙ্কা যে ওদের মনে ছিল না তা নয়৷ কিন্তু তা নিবদ্ধ ছিল গোলঝাড়কে নিয়ে৷ ফাঁকেফুকে ওরা সেদিকেই নজর রাখে৷ দেখে, দূরে ঝাড়ের কোনো পাতা অস্বাভাবিক ভাবে কেঁপে ওঠে কি না!
ঝাড় আজ ওদের বিপদ আনে না৷ দুগ্যো সদ্দারের পেছনে ছিল একটু ফাঁকা 'চাতার'৷ সেই পথেই এল বিপদ৷
এল দানবীয় হুংকারে৷ নরখাদক উদ্যত থাবা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সদ্দারের কাঁধ লক্ষ করে৷ দুর্দান্ত শক্তিধর থাবার আঘাতে আর তীক্ষ্ণ নখের দংশনে ধরাশায়ী করতে চায় তার শিকারকে৷
সচকিত হয়ে দুগ্যো সদ্দারের ঘাড় ফিরিয়ে দেখবার অবকাশ হয় না৷ তার চোখের কোণে এক ঝলকে প্রতিবিম্বিত হয়ে শুধু বিস্ফারিত থাবার শ্বেতাভ বক্র নখগুলি আর রক্তাভ গহ্বরের সামনে হিংস্রতায় উজ্জ্বল দু-টি বিশাল দাঁত৷ উড়ন্ত নরখাদকের আর কোনো কিছুই তার চোখে প্রতিবিম্বিত হয় না-না তার আক্রোশে উদ্বেলিত স্ফীতকায় দেহ, না তার উগ্রতায় অগ্নিসম চোখ, বা তার ঊর্ধ্বমুখী কম্পিত লেজ৷
দুগ্যো সদ্দার আর দুগ্যো সদ্দার নেই-নেহাতই হিংস্রতম জীবের লব্ধ শিকার৷ মৃত্যুর মুখগহ্বর থেকে বাঁচবার তাগিদেই মাথাটা ডান পাশে হেলিয়ে বাঁ-হাতের কনুই উঁচু করেছে৷ গোলপাতা ধরে রাখতে হাতখানা ভাঁজ করা ছিল৷ ভাঁজ খুলে সটান হাতে শত্রুর রোখকে রুখবার অবকাশ হয়নি৷ বিপদকে আড়াল দিতে ভাঁজ করা কনুই উঁচু হয়েছে যেন আপনা থেকেই৷
নরখাদকের থাবা পড়েছে বাঁ-হাতের বাহুর ওপর৷ দৃঢ় মাংসপেশিগুলিতে যেন অতি সহজে বসে গেল থাবার বিস্ফারিত নখগুলি৷ তবু দাঁড়িয়েই ছিল শক্তিমান দুগ্যো সদ্দার, বাঘকেও তেমনি দাঁড়িয়ে পড়তে হয়েছে দু-পায়ের ভরে৷
ঝাঁপিয়ে পড়ার বেগ স্তব্ধ হতেই নরখাদক তার বিস্ফারিত মুখ-ব্যাদানকে আরও বিস্ফারিত করে সদ্দারের মাথাটাকে এক কামড়ে ধরবার জন্য গলা বাড়িয়েছে৷
দুগ্যো সদ্দার বুঝি আবার দুগ্যো সদ্দার হয়ে ওঠে! ডান হাতের মুঠোতে ছিল পাতা-কাটা দা৷ অমন কাত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাতে সজোরে দায়ের আঘাত হানা দুরূহ ছিল, মুহূর্তের অবকাশও বোধ হয় তার জন্য ছিল না৷ আগুয়ান করাল মুখগহ্বরে সোজা দাখানা ঢুকিয়ে দিয়েছে৷ আত্মরক্ষার সর্বশক্তি জড়ো করে সজোরে ঢুকিয়ে দিয়েছে৷ লব্ধ শিকারের হাতখানাকে মুখের মধ্যে পেয়েছে ভেবে নরখাদক করকর করে কামড়ে গুঁড়িয়ে দিতে চায়৷ সঙ্গেসঙ্গে দুগ্যো সদ্দার প্রাণপণে দাখানাকে মোচড় দিয়ে 'ঘুলিয়ে' দেয়৷ ক্ষতবিক্ষত মুখ গহ্বর৷ দিশাহারা হয়ে বাঘ আরও সজোরে কামড়ে ধরে; সদ্দারও তার শেষ অস্ত্র হাতছাড়া হবার ভয়ে প্রাণপণে হাতের মুঠোয় হাতল চেপে ধরেছে৷ যন্ত্রণা নিশ্চয় এবার অসহ্য৷ রক্তধারাও গাল বেয়ে ঝরতে আরম্ভ করেছে৷ বিদ্ধ নখাগ্রে সদ্দারের বাহুর মাংস ছিঁড়ে নিয়ে যন্ত্রণাকাতর নরখাদক মাটিতে নেমে পড়ল আর সেই সঙ্গে বুঝি গোলপাতার ডগার চেয়েও নরম মাংসে বিদ্ধ দায়ের অগ্রভাগ গোটা জিঘাংসু জিহ্বা চিরে বেরিয়ে এল৷
মাটিতে থাবা নামিয়েই নরখাদক মুখ নীচু করে মাটিতে প্রায় ঘষতে ঘষতেই ছুটে গেল অনেকখানি৷ এমনভাবে সুন্দরবনের হিংস্রতম জীবকে সরে পড়তে কেউই কখনো দেখেনি৷ তবু টানা ছুটে পালায় না৷ কিছুদূর এগিয়ে দুগ্যো সদ্দারের দিকে তাকায় আর বারবার থাবাখানা মুখের ধারে এনেও স্পর্শ করতে যেন সাহস পায় না৷ সেও বুঝি কিংকর্তব্যবিমূঢ়!
দলের অন্য দু-জন হকচকিয়ে এতক্ষণ জায়গায় দাঁড়িয়ে দায়ের আস্ফালন করে প্রাণপণে চিৎকার করছিল৷ চিৎকারে আশেপাশের অন্যান্য দলগুলি একত্রে হইচই করে ছুটে এসেছে৷ দুগ্যো সদ্দার রোখের মাথায় রক্তাক্ত দাখানি উদ্যত করে তখনও দাঁড়িয়ে আছে৷ বাঁ-হাতের নখ-দংশন থেকে তারও গা বেয়ে রক্ত ঝরে পড়ছে৷
বাঘ দূরে বসে হুংকার দেবার চেষ্টা করেছিল কি না বোঝা যায় না৷ বিদীর্ণ জিহ্বায় সে-ক্ষমতা বোধ হয় লুপ্ত৷ ছিন্নমস্তার মতো নিজের রক্ত নিজেই পান করতে করতে অবশেষে ছুটে পালাল৷
* * * *
দুগ্যো সদ্দার আজও এই অভিজ্ঞতার কথা গল্প করে রাঙিয়ে রসিয়ে৷ কিন্তু প্রতিবারই গল্পের শেষে তার পাটাতনের মতো বুকে হাত বোলাতে বোলাতে ভক্তের মতো বলে, 'জানো! শেষবেশ বাঘ অমন জব্দ হল কেন? মা বনবিবি ওকে নিশ্চয় সেদিন ও তল্লাটে ছেড়ে যেতে বলেছিলেন৷ মা-র কথা মানেনি, অমান্য করেছে৷ তাইতে তো অমন হল!'
ভক্তের মতো দুগ্যো সদ্দার অমন কথা বলে বটে, কিন্তু তার বনে যাবার বিরাম নেই৷ কত কাজে আর কত বার যে সে তারপর বনে উঠেছে, তার ইয়ত্তা নেই-কখনো মাছ ধরতে কখনো বা গোলপাতা কাটতে, কখনো বা মধু কাটতে৷ আর প্রতিবারই সে তার সযত্নে রক্ষিত সেই দাখানা সঙ্গে নিতে ভুল করে না, কখনো না!
শারদীয়া ১৩৮০

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন