লেখক-পরিচিতি

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

সন্দেশ ১৯১৩-২০১৩

অখিল নিয়োগী (১৯০২-৯৩) জন্ম ময়মনসিংহ জেলার সাকরাইল গ্রামে৷ ছদ্মনাম স্বপনবুড়ো৷ সাহিত্যিক, নাট্যকার, অলংকরণশিল্পী, সংগঠক৷ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ছোটোদের বিভাগ, ছোটোদের পাততাড়ির পরিচালক ও সব পেয়েছি-র আসরের প্রতিষ্ঠাতা৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : বেপরোয়া, শশী শ্যামলের সাঁকো, বাবুই বাসা বোর্ডিং, বাণী (নাটক), স্বপনবুড়োর রকমারি গল্প±৷ শিশু সাহিত্যে বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷

অচ্যুতানন্দ ভট্টাচার্য (?-?) গল্প লেখক৷ সন্দেশ পত্রিকায় প্রথম পর্বের শেষের দিকে লিখতেন৷

অজয় হোম (১৯১৩-৯২) জন্ম কলকাতায়৷ প্রধানত পাখি ও জীবজন্তু বিষয়ের প্রবন্ধ ও ক্রিকেটের আলোচনা লিখতেন৷ ফ্যান্টাসি লেখাতেও পারঙ্গম৷ কিছু চমৎকার গল্পও লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য বই : বাংলার পাখি, মরণ ঘুম ইত্যাদি৷ প্রধান সম্পাদক-প্রকৃতি জ্ঞান৷

অজেয় রায় (১৯৩৭-২০০৮) জন্ম শান্তিনিকেতনে৷ তৃতীয় পর্বের সন্দেশ-এ গল্প লেখা শুরু৷ দুঃসাহসিক অভিযান ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপন্যাস রচনা করেছেন৷ গোয়েন্দা রহস্যের গল্পও লিখেছেন৷ শিশু সাহিত্য রচনার স্বীকৃতিতে বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : মঙ্গু, কেল্লা পাহাড়ের গুপ্তধন, আমাজনের গহনে, ফেরোমন ইত্যাদি৷

অনিতা অগ্নিহোত্রী (১৯৫৬) উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক৷ ছোটোবেলায় সন্দেশ পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন এবং সন্দেশ-এর হাত পাকাবার আসরে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর লেখা৷

অরুণিমা রায়চৌধুরী (১৯৩৮) জন্ম ঢাকায়৷ খুব ছোটোদের জন্যে লেখায় পটু৷ সন্দেশ-এর নিয়মিত লেখক৷ তাঁর গল্প-উপন্যাস-কবিতার উল্লেখযোগ্য বই : সেতু বন্ধন, তিড়িং, বংশীধর বাগাল, বন-পাহাড়ের কথা, টুকুস৷ বিদ্যাসাগর পুরস্কারে সম্মানিত৷

অশোক দাশগুপ্ত (১৯৪৮) জন্ম কলকাতায়৷ আজকাল পত্রিকার সম্পাদক৷ ৭০-এর দশকে আনন্দমেলায় প্রথম খেলা সংক্রান্ত ফিচার লেখেন৷ ক্রীড়া সাংবাদিকতায় নতুন জোয়ার এনেছিলেন৷ ১৯৮১-তে আজকালের ক্রীড়া সম্পাদক এবং ১৯৮৬ থেকে আজকালের সম্পাদক৷ রাজনৈতিক নিবন্ধ, খেলার ফিচারের পাশাপাশি লিখেছেন বেশ কিছু অসাধারণ খেলার গল্প এবং গোয়েন্দাকাহিনিও৷ গোয়েন্দার নাম সিদ্ধার্থ সেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : নেপথ্য ভাষণ (কয়েক খণ্ডে), উটকো সাংবাদিকের ডায়রী, আরো জোরে, রঞ্জির ব্যাট ইত্যাদি৷

অসিতকুমার হালদার (১৮৯০-১৯৬৪) জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে৷ তাঁর মা সুপ্রভাসুন্দরী ছিলেন দেবেন্দ্রনাথের দৌহিত্রী৷ তিনি ছিলেন কলাশিল্পী৷ শান্তিনিকেতন কলাভবনের অধ্যক্ষ৷ জয়পুর ও লক্ষ্ণৌ সরকারি আর্ট কলেজের অধ্যক্ষের পদে বৃত ছিলেন৷ চলিত বাংলায় চমৎকার লিখতেন৷ হো-দের গল্প লিখেছেন ছোটোদের জন্য৷ অজন্তা, বাঘগুহা ও রামগড় ইত্যাদি গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য৷

আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-৯৫) জন্ম কলকাতায়৷ বালিকা বয়সে কবিতা লিখে পুরস্কৃত হয়েছেন৷ বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক৷ রবীন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার সহ অনেক সাহিত্য সম্মানও পেয়েছেন৷ ছোটোদের জন্য তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ছোট ঠাকুর্দার কাশীযাত্রা, রাজকুমারের পোশাকে, গজু উকিলের হত্যা রহস্য, ভাগ্যি যুদ্ধ বেঁধেছিল, কিশোর সাহিত্য সম্ভার ইত্যাদি৷

ইলা রায় (১৯০০-প্রয়াত) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের চতুর্থ ভ্রাতা কুলদারঞ্জনের কন্যা৷ ছোটোদের জন্য লেখার হাত ছিল চমৎকার৷ প্রথম পর্বের সন্দেশ-এ প্রচুর গল্প ও অন্যান্য লেখা অনেক লিখেছেন৷

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) জন্ম ময়মনসিংহ জেলার মসূয়া গ্রামে৷ মেধাবী ছাত্র, সংগীত শিল্পী, বাঁশি, হারমোনিয়াম, বেহালা, পাখোয়াজ বাজনায় পারদর্শী৷ ফোটোগ্রাফি চর্চা থেকে ব্লক নির্মাণ শিল্পী৷ গল্প লেখায়, ছবি আঁকায় অতুলনীয়৷ ছোটোদের স্বপ্নের পত্রিকা সন্দেশ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক৷ বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃত৷ উল্লেখযোগ্য ছোটোদের গ্রন্থ : টóনটুনির বই, সেকালের কথা, ছেলেদের রামায়ণ, ছেলেদের মহাভারত, ছোট রামায়ণ, মহাভারতের গল্প ইত্যাদি৷

উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৮৩-১৯৬০) জন্ম ভাগলপুরে৷ ওকালতি পেশা ত্যাগ করে সাহিত্য সাধনায় ব্রতী হন৷ বিচিত্রা নামে একটি বিশিষ্ট পত্রিকা তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়৷ পরে গল্প ভারতী-রও সম্পাদক হন৷ কয়েকটি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : বিদূষী ভার্যা, ছদ্মবেশী প্রভৃতি৷

এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৪-) জন্ম কলকাতায়৷ ছড়া, প্রবন্ধ, গল্প লেখেন৷ সহ-লেখক স্বামী শান্তিময় চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরমাণু জিজ্ঞাসা গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত৷ ছোটোদের জন্য লেখায় বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷ উল্লেখযোগ্য বই : মানুষ যেদিন হাসবে না, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা ইত্যাদি৷

কল্যাণী চক্রবর্তী (১৯১১-২০০২) উপেন্দ্রকিশোরের দ্বিতীয়া কন্যা পুণ্যলতার জ্যেষ্ঠা কন্যা কল্যাণী প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের সন্দেশ-এ বেশ কয়েকটি গল্প ও অন্যান্য ধরনের লেখা লিখেছেন৷ পরে সমাজসেবার কাজে আত্মনিয়োগ করেন৷ বর্তমান পর্বের সন্দেশ-এর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল৷

কুলদারঞ্জন রায় (১৮৭৩-১৯৪৮) জন্ম ময়মনসিংহ জেলার মসূয়া গ্রামে৷ উপেন্দ্রকিশোরের চতুর্থ ভ্রাতা পেশায় ফোটোগ্রাফার ছিলেন৷ উপেন্দ্রকিশোর পরিকল্পিত সন্দেশ পত্রিকা প্রকাশিত হলে তিনি ক্যামেরার সাটারের সঙ্গে কলমও হাতে তুলে নেন৷ দেশ-বিদেশের পুরাণ কথা, লোককথা অতি সরস ভাষায় লিখে বাংলার ছেলে-মেয়েদের উপহার দেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : বেতাল পঞ্চবিংশতি, কথাসরিৎসাগর, ইলিয়াড, ওডিসিয়ুস, আশ্চর্য দ্বীপ ইত্যাদি৷

কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায় (১৮৬১-১৯৬৫) জন্ম বাঁকুড়া জেলার পাঠকপাড়ায়৷ পিতৃদেব বিখ্যাত সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়৷ কেদারনাথ উচ্চশিক্ষার্থে বিলেতে গিয়েছিলেন, সুকুমার রায়ও তখন ওদেশে৷ সুকুমারের অনুরোধে তিনি সন্দেশ-এর জন্য 'ভবম হাজম' গল্পটি লিখে দেন৷ জগন্নাথ পণ্ডিত ছদ্মনামে বেশ কয়েকটি কিশোর উপভোগ্য চমৎকার গল্প রচনা করেন৷ প্রবাসী ও মডার্ন রিভিয়্যু পত্রিকার পরিচালক ছিলেন৷ ছোটোদের জন্য প্রকাশিত গ্রন্থ : জগন্নাথের খেয়ালখাতা৷

ক্ষিতীশচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৯০২-৭৬) জন্ম শ্রীহট্ট জেলার নর্তন গ্রামে৷ কলকাতা আর্ট স্কুলে পাঠকালে বাংলা শিশুসাহিত্যের প্রতি আকর্ষণবোধ করেন৷ বন্ধু অখিল নিয়োগীর সঙ্গে মাস পয়লা নামে দু-পয়সা দামের ছোটোদের মাসিকপত্র বের করেন৷ পরে বিশু মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গী করে রবিবার নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও বের করেছিলেন৷ দু-টি পত্রিকাই অভিনবত্বের গুণে সাড়া জাগালেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি৷

গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯২২-২০০৪) জন্ম কলকাতায়৷ প্রতিভাসম্পন্ন গল্পলেখিকা৷ এঁর স্বামী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ববির বন্ধু, হনুমানুষ, পিকলুর সেই ছোটকা ইত্যাদি৷

গৌরী ধর্মপাল (১৯৩১-২০১৪) জন্ম কলকাতায়৷ গল্প-কবিতা লেখায় সিদ্ধহস্ত৷ চমৎকার রূপকথা লেখেন৷ তাঁর গদ্যে আশ্চর্য স্বাদু কোমলতা লক্ষ করা যায়৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : মালশ্রীর পঞ্চতন্ত্র, ঘোড়া যায়, ইংলে পিংলে ইত্যাদি৷

জলধর সেন (১৮৬০-১৯৩৯) জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্ঠিয়া জেলার কুমারখালি গ্রামে৷ বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা ভারতবর্ষ-এর সম্পাদক৷ হিমালয় ভ্রমণের কাহিনি লিখে ভ্রমণ সাহিত্যকে বাংলাভাষায় প্রতিষ্ঠিত করেন৷ ছোটোদের জন্যও লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : কিশোর, আইসক্রিম সন্দেশ, শিশুবোধ ইত্যাদি৷

জ্যোতির্ময়ী দেবী (১৮৯০-১৯৪৫) জন্ম কলকাতায়৷ ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ও ডিগ্রিধারী চিকিৎসক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের কন্যা৷ বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী৷ স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী সৈনিক৷ ওই আন্দোলনের এক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আহত হয়ে মৃত্যবরণ করেন৷ তিনি ছোটোদের জন্যে কয়েকটি গল্প, কবিতা এবং নাটিকা লিখেছিলেন৷

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) জন্ম বীরভূম জেলার লাভপুরে৷ বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী৷ জ্ঞানপীঠ সহ ভারতের সকল প্রধান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন৷ বয়স্ক পাঠ্য রচনার অবসরে ছোটোদের জন্যও গল্প-কবিতা লিখেছেন৷ গণদেবতা, কবি, হাঁসুলীবাঁকের উপকথা, আরোগ্য নিকেতন-তাঁর লেখা অসংখ্য গ্রন্থের কয়েকটি৷

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) জন্ম ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামে৷ বাংলার রূপকথার অন্যতম লেখক৷ কর্মসূত্রে ময়মনসিংহে থাকার সময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে রূপকথা সংগ্রহ করেন এবং তাঁর লিখিত রূপ প্রকাশ করেন৷ প্রথম গ্রন্থ ঠাকুরমার ঝুলি-র ভূমিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ৷ রূপকথার আরও বই : ঠাকুরদার ঝুলি, দাদামশায়ের থলে, ঠানদিদির থলে৷ রূপকথা ছাড়া শিশুসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য আরও গ্রন্থ : ফার্স্ট বয়, লাস্ট বয়, চারু ও হারু, সবুজ লেখা ইত্যাদি৷

দেবাশিস সেন (১৯৬১) জন্ম আসামের ডিগবয়ে৷ প্রথম প্রকাশিত গল্প অধুনালুপ্ত কিশোর মন পত্রিকায়৷ বহু বছর ধরেই সন্দেশ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত৷ সব ধরনের গল্প, উপন্যাস, ফিচার লেখেন৷ পত্রিকার প্রয়োজনে স্বনামের পাশাপাশি সন্দেশ-এর পাতায় বল বয়, থার্ড আম্পায়ার, গ্রন্থবিমুখ গোস্বামী, সন্দেশি নামেও লেখেন৷ প্রসাদরঞ্জন রায়ের সঙ্গে যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেছেন সন্দেশ-এর সত্যজিৎ গ্রন্থটি৷ এছাড়াও সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছু গল্প সংকলন৷ নেশা ফটোগ্রাফি৷

দ্বিজেন্দ্রনাথ বসু (১৮৬৫-১৯২১) জন্ম ভাগলপুরে৷ তিনি ছিলেন কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাই, সম্পর্কে সুকুমার রায়ের মেজো দাদামশাই৷ সন্দেশিদেরও মেজো দাদামশাই৷ সন্দেশ-এ তিনি জন্তু-জানোয়ার, গাছপালা, কীট-পতঙ্গ নিয়ে অসংখ্য নিবন্ধ লিখেছেন৷ মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও সন্দেশ-এর জন্য লেখাটি শেষ করেছিলেন৷ প্রথম পর্বের সন্দেশ গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান লেখক৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : জীব-জন্তু, কীট-পতঙ্গ, চিড়িয়াখানা৷

ধীরেন্দ্রলাল ধর (১৯১৩-৯১) জন্ম কলকাতায়৷ বড়োদের জন্য লেখা কিছু থাকলেও মূলত ছোটোদের জন্য লিখতেন৷ গল্প-উপন্যাস, ভ্রমণকথা, নিবন্ধ, নাটিকা সব ধরনের লেখা লিখেছেন৷ যুদ্ধ নিয়ে অনেক গল্প-উপন্যাস লিখেছেন৷ আমার দেশের মানুষ নামে যুদ্ধ-দুর্ভিক্ষ এবং উদবাস্তু জীবনের ছোটো ছোটো কাহিনি অপরূপ মমতায় পরিবেশন করতেন৷ তাঁর লেখা অসংখ্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল : যুদ্ধ নিয়ে গল্প, নীল নায়ের মাঝি, যতরাজ্যের রূপকথা, লালচাঁদের টাকা নিমচাঁদের লাঠি, প্রিয়দর্শী অশোক৷ শিশুসাহিত্যের জন্য বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷

ননীগোপাল মজুমদার (১৯১২-প্রয়াত) জন্ম ঢাকায়৷ বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক৷ শিশুসাহিত্য পরিষদের অন্যতম কর্মকতা৷ স্বাস্থ্য পত্রিকার সম্পাদক৷ সন্দেশ-এর দ্বিতীয় পর্বে একটি গোয়েন্দা উপন্যাস লিখেছেন৷ দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প ছাড়াও নানা স্বাদের গল্প রচনা করেছেন৷ প্রবন্ধ এবং নাটকও লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : রঙ মেশা, ট্যাঁসরুমে, বাহাদুর, তাই নাকি ইত্যাদি৷

নবনীতা দেব সেন (১৯৩৮) জন্ম কলকাতায়৷ বিশিষ্ট সাহিত্যসেবী দম্পতি নরেন্দ্র দেব ও রাধারাণী দেবীর একমাত্র সন্তান৷ কৃতী ছাত্রী ও অধ্যাপিকা৷ গল্প-কবিতা-রূপকথা-ভ্রমণকাহিনি, রম্যরচনা সব ধরনের লেখাতেই পারদর্শী৷ উল্লেখযোগ্য কিশোর সাহিত্য গ্রন্থ : মসিয়ে হুলোর হলিডে, গল্পগুজব, সমুদ্রের সন্ন্যাসিনী, কিশোর সাহিত্য ইত্যাদি৷

নলিনী দাশ (১৯১৬-৯৩) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের দৌহিত্রী৷ কৃতী ছাত্রী ও শিক্ষাব্রতী৷ দীর্ঘকাল সন্দেশ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক ছিলেন৷ চার কিশোরী গোয়েন্দার দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের কাহিনি গোয়েন্দা গন্ডালু৷ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : রা-কা-যে-টে-না-পা, মধ্যরাতের ঘোড়সওয়ার, অলৌকিক বুদ্ধমূর্তি রহস্য, হাতিঘিসার হানাবাড়ি ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্যে বিদ্যাসাগর পুরস্কার প্রাপক৷

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৯১৮-৭০) জন্ম দিনাজপুরে৷ উজ্জ্বল ছাত্রজীবন, বৃত্তি অধ্যাপনা৷ ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, সমালোচক৷ ছোটোদের ও বড়োদের সবার জন্য লেখায় সব্যসাচী৷ টেনিদা কাহিনি কিশোর পাঠকদের কাছে অতি আকর্ষণীয়৷ ছোটোদের জন্য উল্লেখযোগ্য বই-চার মূর্তি, ঝাউবাংলোর রহস্য, টেনিদা সমগ্র, তপন চরিত, পঞ্চাননের হাতি, কম্বল নিরুদ্দেশ, রাঘবের জয়যাত্রা, রামমোহন ইত্যাদি৷

পুণ্যলতা চক্রবর্তী (১৮৮১-১৯৭৪) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের দ্বিতীয় কন্যা৷ প্রথম পর্বের সন্দেশ-এ লিখেছেন, তৃতীয় পর্বেরও সন্দেশ-এও৷ একটি অসাধারণ স্মৃতিকথা লিখেছেন ছেলেবেলার দিনগুলি৷ ছোটো ছোটো গল্প তাঁর আরেকখানি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ৷

পুষ্পলতা রায় (১৮৯৮-প্রয়াত) উপেন্দ্রকিশোরের মধ্যম পুত্র সুবিনয় রায়ের স্ত্রী৷ মধ্যপ্রদেশে ছোটোবেলা কেটেছিল, বিবাহের পর কলকাতাবাসী৷ গল্প লিখেছেন, নিবন্ধও লিখেছেন৷ প্রথম পর্বের সন্দেশ-এর লেখিকা৷

প্রণব মুখোপাধ্যায় (১৯৫১) জন্ম হাওড়ার শিবপুরে৷ অধ্যাপনা করতেন৷ কবি ও গল্পকার৷ তৃতীয় পর্বের সন্দেশ-এ সম্পাদনার কাজে যুক্ত আছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : জল-মাটি-হাল্লা৷

প্রমদারঞ্জন রায় (১৮৭৪-১৯৪৯) জন্ম ময়মনসিংহের মসূয়া গ্রামে৷ চাকরি করতেন ভারত সরকারের জরিপ বিভাগে৷ কর্মসূত্রে তাঁকে ভারতবর্ষের উত্তর-পূর্বের দুর্গম লুসাই, জয়ন্তী, মায়ানমার, থাইল্যান্ডের ঘোর বনজঙ্গল, পর্বত-উপত্যকায় বাস করতে হয়েছে৷ এই সময়ে তাঁর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কাহিনি লেখেন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের সন্দেশ-এ৷ উপেন্দ্রকিশোর চিত্রিত বনের খবর নামে সে কাহিনি পাঠকচিত্তে আলোড়ন তুলেছিল৷ বনের খবর হল প্রমদারঞ্জনের একমাত্র মুদ্রিত গ্রন্থ৷

প্রসাদরঞ্জন রায় (১৯৪৮) জন্ম কলকাতায়৷ কৃতী ছাত্র৷ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব৷ প্রমদারঞ্জনের পৌত্র প্রসাদরঞ্জন বর্তমান পর্বের সন্দেশ সম্পাদনার কাজে যুক্ত৷ ছোটোদের জন্য গল্প লেখায় তাঁর নৈপুণ্য রয়েছে৷ তাঁর নানা বিষয়ে লেখা প্রবন্ধে গভীর অধ্যয়ন ও অভিনিবেশ লক্ষ করা যায়৷ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন সম্পাদনা করেছেন৷ ছোটোদের জন্য লেখা প্রকাশিত গ্রন্থ: যমুনাবতী৷ তা ছাড়া কয়েকটি মূল্যবান সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন৷

প্রিয়ংবদা দেবী (১৮৭১-১৯৩৫) জন্ম পাবনা জেলার গুনাইগাছায়৷ তাঁর মা প্রসন্নময়ী দেবী কবিতা লিখতেন৷ প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যার সন্দেশ-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল৷ প্রিয়ংবদা দেবীর কবিতা রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা লাভ করেছিল৷ সন্দেশে অনেক কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ লিখেছেন৷ কার্লো কল্লোদির বিখ্যাত কাহিনি পিনোচ্চিয়োর অ্যাডভেঞ্চার-এর অনুবাদ পঞ্চুলাল নামে সন্দেশ-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল, ছবি এঁকেছিলেন সুকুমার রায়৷

ফটিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০২-৫৫) জন্ম কলকাতায়৷ ছোটোদের জন্য চমৎকার কবিতা লিখতেন৷ গান-বাজনায় পারদর্শী ছিলেন৷ বেশ কিছু গল্পও লিখেছিলেন৷ বিগত শতকের তিরিশ-চল্লিশের দশকে ছোটোদের সকল প্রধান পত্রিকায় তাঁর লেখা দেখা যেত, অবশ্য ততদিনে চন্দ্র হারিয়ে ফটিক বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে গেছেন৷ বাংলা শিশুসাহিত্যের জন্য প্রথম পুরস্কার তিনিই প্রবর্তন করেন-তাঁর মায়ের নামে ভুবনেশ্বরী পদক দেওয়া হয় শিশুসাহিত্যে জীবনকৃতী সম্মান হিসাবে৷ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : হেস্তনেস্ত, খুকুর স্বপ্ন৷

বন্দে আলি মিঁয়া (১৯০৬-৭৯) জন্ম পাবনা জেলার রাধানগরে৷ ছাত্র জীবনেই কবিতা রচনা শুরু৷ বিগত শতকের ত্রিশ-চল্লিশ এবং পঞ্চাশের দশকে ছোটোদের পত্রিকাগুলিতে তাঁর কবিতা নিয়মিত দেখা যেত৷ দেশভাগের পরে পাকিস্তানে চলে যান৷ শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য ঢাকা বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন৷ বড়োদের জন্য কবিতা-গল্প-উপন্যাস-নাটক রচনা করেছেন৷ ছোটোদের জন্য রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, গল্পের আসর, শিকারের গল্প; জীবনীগ্রন্থ : কামাল আতাতুর্ক প্রভৃতি৷

বলরাম বসাক (১৯৪৩) জন্ম ঢাকায়৷ দেশভাগের পর এদেশে চলে আসেন৷ ছোটোদের এবং বড়োদের সাহিত্যে সমান পারদর্শী৷ তরুণ বয়সে আনন্দমেলায় পিঁপড়ে হাতি গল্প লিখে রসিক পাঠকের চোখে পড়েন৷ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : পিঁপড়ে হাতি, হালুম, হাতি-খরগোশ, ভালুকের দোলনা, ফুল পরিরা বল খেলে, গণ্ডলুলু ভণ্ডুলুটি, রাজকন্যা কমলমালা ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্য রচনার জন্য সাহিত্য আকাদেমি বাল পুরস্কার, উপেন্দ্রকিশোর স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন৷

বিজয়চন্দ্র মজুমদার (১৮৬১-১৯৪২) জন্ম ফরিদপুর জেলার খানাকুলে৷ সুকবি, ভাষাতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও গবেষক৷ ছোটোদের জন্যও লিখেছেন৷ সন্দেশ-এর প্রথম পর্বে নিয়মিত কবিতা প্রবন্ধ ও গল্প লিখেছেন৷ বার্ষিক শিশুসাথী (১৩৩৫ ব.) সম্পাদনা করেছেন৷ তাঁর লেখা ছোটোদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : যুগপূজা, হেঁয়ালি ইত্যাদি৷

বিজয়া রায় (১৯১৭) জন্ম পাটনায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের পৌত্রবধূ এবং সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী৷ বর্তমান পর্বের সন্দেশ প্রকাশনার সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত এবং কিছুকালের জন্য সম্পাদনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন৷ সুগায়িকা৷ লেখালিখিতেও আগ্রহ ছিল৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : আমাদের কথা৷

বিমল দত্ত (-প্রয়াত) এক সময়ে প্রচুর লিখেছেন৷ সন্দেশ ছাড়া মৌচাক-এও অনেক মজার গল্প লিখেছেন, সিংখুড়ো তাঁর বিখ্যাত চরিত্র৷ অনেকটা ঘনাদার মতো৷ তাঁর লেখা গ্রন্থ তালিকাটিও দীর্ঘ৷ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : আগডুম বাগডুম, গ্যাস বেলুন, জঙ্গলের রাজা, নিঝুম রাতের কান্না, সিংখুড়োর গল্প ইত্যাদি৷

বুদ্ধদেব গুহ (১৯৩৬) জন্ম কলকাতা৷ পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আবার বনজঙ্গলের গল্প লেখায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী৷ পুরাতনী গান ও রবীন্দ্র সংগীতেরও যশস্বী শিল্পী৷ বড়োদের জন্য যেমন লিখেছেন, ছোটোদের জন্যেও তাঁর কলম তাল মিলিয়ে ছুটেছে৷ ছোটোদের জন্য লেখা উল্লেখযোগ্য বই : জঙ্গল মহল, অ্যালবিনো, ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলে, দূরের দুপুর, নিনিকুমারীর বাঘ, রুআহা, কিশোর সাহিত্য ইত্যাদি৷

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-৭৪) জন্ম কুমিল্লায়৷ উজ্জ্বল ছাত্রজীবন, যশস্বী অধ্যাপক৷ কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রবন্ধকার৷ ছোটোদের জন্যও অনেক লিখেছেন৷ সন্দেশ-এর দ্বিতীয় পর্বের লেখক৷ তিনি মৌচাক, রংমশাল পত্রিকায় গল্প-কবিতা-উপন্যাস লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য কিশোরপাঠ্য গ্রন্থ : অন্য কোনখানে, এলোমেলো, জলতরঙ্গ, তাসের প্রাসাদ, হাউই ইত্যাদি৷

ব্রহ্মদাস গোস্বামী (?-?) সন্দেশ-এর দ্বিতীয় পর্বে বেশ কয়েকজন গল্প লেখকের দেখা পাওয়া গিয়েছিল৷ ব্রহ্মদাস গোস্বামী সেই দলের অন্যতম৷

মঞ্জিল সেন (১৯২৬) জন্ম কলকাতায়৷ ছোটোদের জন্যই প্রধানত লেখেন৷ তৃতীয় পর্বের সন্দেশ-এ অনেক গল্প-উপন্যাস লিখেছেন৷ শিশুসাহিত্য রচনার জন্য বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : অভিশপ্ত গুপ্তধন, গঙ্গোত্রী রহস্য, চিতার থাবা, নীল সায়রের আতঙ্ক, বাছাই গল্প ইত্যাদি৷

মণীশ ঘটক (১৯০২-৭৯) জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে৷ কল্লোল যুগের কবি ও কথাশিল্পী৷ ছদ্মনাম যুবনাশ্ব৷ পটলডাঙার পাঁচালী তাঁর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ৷ উপন্যাস লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন এবং ছোটোদের জন্যও কিছু লিখেছেন৷

মতি নন্দী (১৯৩২-২০১১) জন্ম কলকাতায়৷ বাংলার প্রতিষ্ঠিত কথাশিল্পী৷ কিশোরদের জন্য তাঁর লেখায় এক আশ্চর্য জগতের সন্ধান পাওয়া যায়৷ তাঁর গল্প-উপন্যাসের পটভূমি বাংলার ক্রীড়াজগৎ৷ সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, সাঁতার এমনকী স্কুলের বার্ষিক স্পোর্টসও৷ ওই জগতের হাসি-কান্না, লোভ-অসূয়া, আদর্শ ও আদর্শহীনতার ছবি নির্লিপ্তভাবে এঁকে গেছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ননীদা নট আউট, কোনি, স্ট্রাইকার, জীবন আরম্ভ, ফেরারি, কলাবতী ইত্যাদি৷

মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য (১৯০৩-৩৯) জন্ম ফরিদপুরে৷ ছোটোদের বিশিষ্ট পত্রিকা রামধনু-র সম্পাদক৷ ছাত্রজীবনেই সাহিত্য সাধনার শুরু৷ ছোটোদের জন্য রহস্য কাহিনি এবং মজার গল্পে তাঁর বিপুল খ্যাতি৷ বাংলায় জাপানি গোয়েন্দা হুকাকাশিকে এনে এক বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেন৷ মাত্র ৩৬ বছর বয়সে জীবনাবসানে বাংলা শিশুসাহিত্যের এক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটে৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ঘোষ চৌধুরীর ঘড়ি, পদ্মরাগ, সোনার হরিণ, চায়ের ধোঁয়া, নূতন পুরাণ ইত্যাদি৷

মহাশ্বেতা দেবী (১৯২৮) জন্ম কলকাতায়৷ পিতা বিখ্যাত সাহিত্যিক মণীশ ঘটক৷ বিভিন্ন ধরনের গল্প-উপন্যাস লিখে থাকেন৷ প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের কথা তাঁর লেখায় প্রাধান্য পায়৷ ছোটোদের জন্য অনেক ধরনের লেখা লিখেছেন৷ তাঁর লেখা ছোটোদের বই : আরমানি চাঁপার গাছ, মানিক দুলের বন্ধু, গল্পের গরু ন্যাদোশ, পাথরের সিংহ, কালোমানিক ইত্যাদি৷

মাধুরীলতা রায় (১৯০৩-প্রয়াত) উপেন্দ্রকিশোরের চতুর্থ ভ্রাতা কুলদারঞ্জনের কন্যা৷ প্রথম পর্বের সন্দেশ-এ বেশ কিছু লিখেছেন৷ নানা ধরনের লেখা৷ বুলা (প্রফুল্লকুমার) মহলানবিশের সঙ্গে বিবাহ হয়৷ পরেও সুকুমার রায় প্রসঙ্গে চমৎকার স্মৃতিচিত্রণ করেন৷

মিমি রাধাকৃষ্ণন (১৯৫৫) জন্ম কলকাতায়৷ শান্তিনিকেতন এবং বরোদায় সোমনাথ হোড় এবং কে.জি. সুব্রমণিয়ামের ছাত্রী৷ শিল্পকলা বিষয়ে পেয়েছেন বেশ কিছু পুরস্কার ও ফেলোশিপ৷ ১৯৯৯-তে দেশ পত্রিকায় প্রথম গল্প প্রকাশিত৷ ছোটোদের জন্য প্রথম লিখেছেন সন্দেশ-এই৷ প্রাকৃতিক, সম্পদরক্ষায় সক্রিয় কর্মী ও পশুপ্রেমিক৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : নিশির ডাক, ষষ্টেন্দ্রিয়, লবঙ্গলতিকা চরিত৷

মীরা বালসুব্রমনিয়ম (১৯২৯-৯৫)৷ বিভিন্ন দৈনিক ও শিশু কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লেখক ছিলেন৷ কর্মসূত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদাধিকারী এবং প্রবাসী৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : তিনটি তামার পয়সা, প্রবলেম সলভার পুল্লা রেড্ডি ইত্যাদি৷

মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯০৯-৬৯) জন্ম কলকাতায়৷ শিল্পগুরু অবনীন্দ্রনাথের দৌহিত্র ও মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র৷ পরিসংখ্যানবিদ৷ ছোটোদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক৷ অবশ্য লেখক জীবনের পূর্ণতার সময়ে সৃজনধর্মী লেখা বন্ধ করে যে স্মৃতিমূলক রচনা লিখেছিলেন, তার সাহিত্যমূল্যও কম নয়৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : বাবুইয়ের অ্যাডভেঞ্চার, বোর্ডিং স্কুল, সোনার ঝরণা, দক্ষিণের বারান্দা, চরণিক, অল কোয়ায়েট ইন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (অনুবাদ) ইত্যাদি৷

যতীন সাহা (১৯০৬-প্রয়াত) কর্মসূত্রে স্টেটসম্যান পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ ছবি আঁকতেন, চমৎকার গল্প লিখতেন৷ দ্বিতীয় পর্বে সন্দেশ-এর প্রচ্ছদচিত্র এঁকেছেন, কয়েকটি গল্পও লিখেছেন৷ প্রকাশিত বই : সোনার ঘর, যাদুঘর ইত্যাদি৷

রণজিৎ রায় (১৯০৬-প্রয়াত) জন্ম যশোহরে৷ আই.সি.এস., দুঁদে সরকারি অফিসার৷ যেমন পড়াশোনা করেছেন, তেমনি শিকারেও পারদর্শী ছিলেন৷ এইসব অভিজ্ঞতার কথা তার কলমে সত্যি গল্প হয়ে বেরিয়েছে৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : শিকার কাহিনী৷

রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৮৮-১৯৬১) জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোয়৷ রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র৷ আমেরিকার ইলিনয় কৃষি বিদ্যালয়ের কৃষি বিদ্যায় স্নাতক৷ বিশ্বভারতীর কর্মাধ্যক্ষ ও শেষে উপাচার্যও হয়েছিলেন৷ পল্লি উন্নয়নে তাঁর আগ্রহ ছিল৷ নিজে শিল্পী ছিলেন৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : পিতৃস্মৃতি, প্রাণতত্ত্ব, অভিব্যক্তি, On the Edges of Time৷

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর মহর্ষি ভবনে৷ ইউরোপের বাইরে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী৷ তাই বিশ্বকবি৷ সাহিত্যে, সংগীতে, শিল্পসৃষ্টিতে সমান গুণী৷ নতুন ধরনের নাট্যকার, সামাজিক উপন্যাস লিখেছেন৷ মানুষের মনের সমস্ত ভাব ও অনুভূতি নিয়ে দু-হাজারেরও বেশি গান লিখেছেন৷ অদ্বিতীয় গল্পকার৷ শিক্ষক৷ ছোটোদের জন্য কবিতা, গান, নাটক, গল্প, উপন্যাস, মজার কথা, ভ্রমণকথা, নিবন্ধ, এমনকী পাঠ্যগ্রন্থও লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য ছোটোদের বই : সে, গল্পগুচ্ছ, মুকুট, ছেলেবেলা, সহজ পাঠ, শিশু, শিশু ভোলানাথ, ছড়া, খাপাছাড়া ইত্যাদি৷

রবীন্দ্রনাথ সেন (১৮৮৯-প্রয়াত) জন্ম ঢাকা জেলার ভাটপাড়ায়৷ মূলত ছোটোগল্পের লেখক৷ সন্দেশ-সহ সেকালের অনেক পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য বই : ছেলে চুরি, ডিগবাজী খাঁ, জলপরী ইত্যাদি৷ ইউ. রায়. এন্ড সনস-এর মালিকানা হস্তান্তরিত হবার পর সেখান থেকে তাঁর সম্পাদনায় শিশু জগৎ নামে একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল৷

রবীন্দ্রলাল রায় (১৯০৫-৭৮) জন্ম নদিয়ার কৃষ্ণনগরে৷ বয়স্কপাঠ্য কল্লোল ইত্যাদি পত্রিকায় তরুণ বয়সে গল্প লিখে ফেললেও ছোটোদের প্রতি আকর্ষণে পরে যতদিন লিখেছেন ছোটোদের জন্যই লিখেছেন৷ হাসির গল্পে হাতখানি ছিল চমৎকার৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : হালকা হাসির খাতা, নতুন কিছু, বলি তো হাসব না, বীরবাহুর বনিয়াদি চাল, অভিশপ্ত ইত্যাদি৷

রেবন্ত গোস্বামী (১৯৩৬) জন্ম নদিয়ায়৷ একালের উল্লেখযোগ্য লেখক৷ নানা পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত গল্প ও অন্য ধরনের গদ্য লেখেন৷ সন্দেশ-এর ঘরের লেখক৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : কচি পাতার রং, অরু মিতুদের কথা, বাবলা ফুলের গন্ধে, সাহেববাড়ির গুপ্তধন৷

লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের ভ্রাতস্পুত্রী ও প্রমদারঞ্জনের কন্যা৷ উজ্জ্বল ছাত্রীজীবন, বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যের স্রষ্টা৷ তৃতীয় পর্বের সন্দেশ-এর সম্পাদনার দায়িত্ব দীর্ঘকাল বহন করেছেন৷ লিখেছেন ছড়া-কবিতা, গল্প-উপন্যাস, নাটক, স্মৃতিকথা, জীবনী-রম্যরচনা কী নয়! তাঁর লেখার ভঙ্গিটি যেমন সহজ, ভাষাটিও তেমনি সরস৷ সাহিত্য সৃষ্টির জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন, বিদ্যাসাগর পুরস্কারও৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : দিন দুপুরে, পদিপিসির বর্মিবাক্স, নতুন ছেলে নটবর, হলদে পাখির পালক, টংলিং, গুপির গুপ্তখাতা, বাতাস বাড়ি, আর কোনোখানে, উপেন্দ্রকিশোর, সুকুমার রায় ইত্যাদি৷

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭০) জন্ম পূর্ণিয়ায়৷ বি.এল. পাশ করার পর ওকালতি ছেড়ে সাহিত্যে আত্মনিয়োগ করেন৷ ঐতিহাসিক উপন্যাস ও ছোটো গল্প রচনায় জুড়ি মেলা ভার৷ বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা গল্পের লেখক৷ তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা ব্যোমকেশকে সকল বাঙালি পাঠকই চেনে৷ আবার ঐতিহাসিক পটভূমিতে সদাশিবের গল্পগুলির আবেদন কিশোরসাহিত্যে অমোঘ৷ তাঁর রচিত ছোটোদের বইগুলি : ছোটোদের ভাল ভাল গল্প, সদাশিবের পঞ্চরঙ্গ, দাদার কীর্তি, জেনারেল ন্যাপলা, ভূমিকম্পের পটভূমি, টিকিমেধ ইত্যাদি৷

শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৪২) জন্ম উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে৷ কর্মজীবনে ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক৷ বসুমতী ও যুগান্তর দৈনিকপত্রে চাকরি করেছেন৷ বর্তমানে দু-টি বিখ্যাত মাসিকপত্র সম্পাদনার কাজে যুক্ত আছেন৷ ক্রীড়ার পটভূমিতে অনেক গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, ক্রীড়াবিদদের জীবনকথাও লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : সুন্দর ক্রিকেট, বাদশা গোলাম, দুরন্ত দুর্জয়, নট আউট, মারাদোনা মারাদোনা ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্য রচনার জন্য বিদ্যাসাগর, উপেন্দ্রকিশোর পুরস্কারে ভূষিত৷

শান্তিলতা চৌধুরী (১৮৯৭-১৯২৯) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের কনিষ্ঠা কন্যা৷ রায়বাড়ির অন্য সদস্যের মতোই সাহিত্যে, বিশেষত শিশুসাহিত্যে গভীর অনুরাগ ছিল৷ তাঁর লেখা কবিতা 'পাকা রাঁধুনী' পড়লে রায়বাড়ির সরস ঘরানাটি বোঝা যাবে৷ সন্দেশ-এ তাঁর লেখা গল্পও ছাপা হয়েছে৷

শিবরাম চক্রবর্তী (১৯০৫-৮০) জন্ম মালদহ জেলার চাঁচলে৷ চাঁচল রাজপরিবারের সদস্য অথচ প্রজার হালে জীবন কাটালেন মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের মেসবাড়িতে তক্তাপশে শুয়ে৷ কথায় কথায় pun ব্যবহার তাঁর বৈশিষ্ট্য-কৃতিত্বও বটে৷ লেখক জীবন শুরু করেছিলেন বড়োদের জন্যে লিখে, তিনি হয়ে ওঠেন মূলত ছোটোদের লেখক৷ উল্লেখযোগ্য ছোটোদের বই : বাড়ি থেকে পালিয়ে, মন্টুর মাস্টার, হাতির সঙ্গে হাতাহাতি, বাজার করা হাজার ঠেলা, যুদ্ধে গেলেন হর্ষবর্ধন ইত্যাদি৷

শিবশঙ্কর ভট্টাচার্য (১৯৫৪) জন্ম কলকাতায়৷ কোনো আর্ট কলেজে শিক্ষা নেননি, কিন্তু অসাধারণ অলংকরণ করেন৷ একই সঙ্গে গল্প লেখার হাতটিও দারুণ৷ বহু বছর ধরেই সন্দেশ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত৷ সন্দেশ ছাড়াও অন্যান্য বহু পত্র-পত্রিকায় অলংকরণ করেন৷

শিবশঙ্কর মিত্র (১৯০৯-প্রয়াত) জন্ম খুলনায়৷ সুন্দরবনের মানুষজন নিয়ে দীর্ঘদিন নিবিড় অনুসন্ধান করেছেন৷ ওই অনুসন্ধানের ফসল 'আর্জান সর্দার'কে খুঁজে পাওয়া৷ এদের নিয়েই তাঁর লেখা সুন্দরবনে আর্জান সর্দার, বনবিবি, সুন্দরবন, রয়্যাল বেঙ্গলের আত্মকথা ইত্যাদি৷

শিবানী রায়চৌধুরী (১৯৪৩) জন্ম মুর্শিদাবাদে৷ তৃতীয় পর্বের সন্দেশ-এর গোড়ার দিকে ছোটো ছোটো চমৎকার গল্প লিখতেন, নিজের আঁকা ছবিশুদ্ধু৷ পরে শিবানী বিলেত চলে যান৷ ওদেশে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত, শিক্ষা বিষয়ক বই লিখেছেন ইংরেজিতে, ছোটোদের জন্য প্রকাশিত গল্পের বইও ইংরেজিতে লেখা৷

শিশিরকুমার মজুমদার (১৯২৩-) প্রধানত সন্দেশ-এর লেখক৷ অন্যান্য পত্রিকাতেও অনেক লিখেছেন৷ তবু নিজেকে সন্দেশি-ই ভাবতেন৷ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত অনেক লেখাই গ্রন্থ হিসাবে প্রকাশিত হয়নি৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : তুফান দরিয়ার পরাণ মাঝি, আকাশে আগুন পাতালে আগুন, পাতালপুরী অভিযান, দালাং মিশনের ঘণ্টা, মামাবাবুর অ্যাডভেঞ্চার, দান্তাল ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্য রচনার জন্য বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (১৯৩৫) জন্ম ময়মনসিংহে৷ আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত৷ বড়োদের জন্য লেখায় যেমন সিদ্ধহস্ত, ছোটোদের জন্য লেখাতে তেমনি নিপুণ৷ তাঁর লেখা ছোটোদের বইয়ের কয়েকটি-মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি, গন্ধটা খুব সন্দেহজনক, গোঁসাইবাগানের ভূত, পাতাল ঘর, বক্সার রতন, হারানো কাকাতুয়া ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিতে বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷

শ্যামলকৃষ্ণ ঘোষ (১৯০৫-প্রয়াত) জন্ম পূর্ব আফ্রিকার নাইরোবিতে৷ শৈশব ও কৈশোর কেটেছিল পূর্ব আফ্রিকায়৷ নামকরা ভূতত্ত্ববিদ৷ পৃথিবীর নানা দেশ ঘুরেছেন ও সে অভিজ্ঞতার কথা নানা কাগজে লিখেছেন৷ বিশেষত ভারতের বন ও খনি বিষয়ে৷ প্রকাশিত বই : জঙ্গলে জঙ্গলে, রবি থেকে নাইরোবি৷

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৯) জন্ম কলকাতায়৷ পেশায় চিকিৎসা পরিকল্পনা ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ৷ ৩০ বছর ভারতীয় নৌসেনার চিকিৎসা বিভাগে এবং তারপরে দেশে বিদেশে বিভিন্ন চিকিৎসা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত৷ মূলত ছোটোদের জন্যই লেখেন৷ প্রথম প্রকাশিত গল্প চল্লিশ বছর বয়সে সন্দেশ-এ৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : জাম্বুবানের মা, ইচ্ছে ঘোড়া৷

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৬) জন্ম বরাহনগরে৷ গল্প-উপন্যাস-কবিতা-প্রবন্ধ-নাটক সবই লেখেন৷ ছোটোদের এবং বড়োদের দু-ধরনের লেখায় সব্যসাচী৷ দীর্ঘদিন সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং লেখনি তাঁর জীবন ও জীবিকাও৷ ছোটোদের জন্যও অসংখ্য বই লিখেছেন : রুকু সুকু, সেরা চাঁদের হাট, নবেন্দুর দলবল, আবার বড়োমামা, ইতি পলাশ, বালির ওপর পোল, জনার্দনের জর্দার কৌটো ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্য সৃষ্টির স্বীকৃতিতে বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷

সত্যজিৎ রায় (১৯২১-৯২) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের পৌত্র ও সুকুমার রায়ের একমাত্র সন্তান সত্যজিৎ বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার৷ সংগীতে তাঁর আকর্ষণ, চিত্রাঙ্কণে তাঁর স্মরণীয় দক্ষতা৷ ১৯৬১ সালে সন্দেশ পত্রিকা পুঃন প্রকাশিত হলে তিনি হন তার অন্যতম সম্পাদক এবং অন্য সম্পাদক বদল হলেও তিনি আজীবন সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন৷ মূলত সন্দেশ-এর জন্য তিনি লিখেছেন অসংখ্য গল্প-উপন্যাস, অনুবাদ, ধাঁধা এবং পত্রিকার অলংকরণ করেছেন৷ তাঁর অসংখ্য গ্রন্থের মধ্যে কয়েকটির নাম উল্লেখ করা হল : বাদশাহী আংটি, সোনার কেল্লা, ফেলুদা এন্ড কোং, প্রফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ফটিকচাঁদ, যখন ছোট ছিলাম, গল্প ১০১৷

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪২-১৯২৩) জন্ম কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে৷ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের দ্বিতীয় পুত্র৷ প্রথম ভারতীয় আই.সি.এস.৷ যেমন কিছু দেশাত্মবোধক সংগীত ও ব্রহ্মসংগীত রচনা করেছেন, তেমনি সাহিত্য রচনাও করেছেন৷ তাঁর রচিত গ্রন্থ : বোম্বাই চিত্র, বাল্যকথা ইত্যাদি৷

সমর দে (১৯০৭-৮৫) জন্ম ময়মনসিংহের জামালপুরে৷ কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলের সফল ছাত্র৷ প্রকাশনা জগতে অলংকরণের কাজে বিখ্যাত৷ দ্বিতীয় পর্বের সন্দেশ-এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন এবং অনেক রচনার অলংকরণও করেছেন৷ ছোটোদের জন্য ছড়া ও গল্প লিখেছেন৷ নিজের চিত্রিত ছড়া-কবিতা পত্রিকাগুলির আকর্ষণ বাড়াত৷ আমার শৈশব গ্রন্থটি তাঁর পরিকল্পিত ও অলংকৃত৷

সলিল চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৭) জন্ম ঢাকায়৷ পদস্থ সরকারি কর্মী ছিলেন৷ অবসর গ্রহণের পর সমাজ কল্যাণব্রতী৷ সন্দেশ-এ গল্প এবং উপন্যাস লিখেছেন৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : জিঙ্কাগোল ও অন্যান্য, জাটন মালিদের দেশে, সোনার ঘণ্টা ইত্যাদি৷

সুকুমার রায় (১৮৮৭-১৯২৩) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরে জ্যেষ্ঠ পুত্র৷ অসম্ভবের ছন্দ রচনায় বাংলা সাহিত্যের সেরা কারিগর৷ সন্দেশ-এর দ্বিতীয় সম্পাদক৷ গল্প-ছড়া-কবিতা-উপন্যাস-প্রবন্ধ-ধাঁধা এবং অভিনব অলংকরণে সন্দেশের প্রতিটি সংখ্যা আশ্চর্য নৈপুণ্যে ভরিয়ে তুলতেন৷ কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শেষজীবনে শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও সযত্নে সন্দেশ সম্পাদনা করেছেন, লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন৷ তাঁর লেখা বই : আবোল তাবোল, খাই খাই, ঝালাপালা, হ য ব র ল, পাগলা দাশু ইত্যাদি৷

সুকুমার ঘোষ (?-?) সুবিনয় রায়ের সম্পাদনাকালে সুকুমার ঘোষ সন্দেশ-এ নিয়মিত কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন৷ দ্বিতীয় পর্বের সন্দেশ-এ তাঁর লেখা রোমাঞ্চকর দীর্ঘ উপন্যাস চাকরির দুর্ভোগ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল৷

সুকুমার দে সরকার (১৯১০-প্রয়াত) জন্ম কলকাতায়৷ জীবজন্তু, পশু-পাখিদের নিয়ে এমন গল্প বাংলায় আর কেউ লেখেনি৷ রহস্য কাহিনিও লিখেছেন৷ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ময়ূরকন্ঠী বন, হিমের পরশ, অরণ্য রহস্য, চব্বিশে এপ্রিল চুপ, দুধ সায়রের পথে, বাঘ মারার গল্প, ভালুকদাদার গল্প, হানাবাড়ি, বনের গল্প ইত্যাদি৷

সুখলতা রাও (১৮৮৬-১৯৬৯) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের জ্যেষ্ঠ কন্যা৷ গল্প-কবিতা-উপন্যাস, ছড়া, প্রবন্ধ, ভ্রমণকথা-সব ধরনের লেখায় পটু৷ সন্দেশ-এ অজস্র লিখেছেন, এঁকেছেনও৷ রবীন্দ্রনাথের কবিতা-'সময় হারা'-র অলংকরণ তাঁরই কীর্তি৷ উল্লেখযোগ্য বই : আলিভুলির দেশে, পথের আলো, নানান দেশের রূপকথা, নিজে পড়, ঈশপের গল্প ইত্যাদি৷ নিজে পড় গ্রন্থটি ভারত সরকারের শিক্ষা দপ্তর কর্তৃক পুরস্কৃত৷

সুধাবিন্দু বিশ্বাস (?-?) সুধাবিন্দু প্রথম জীবনে ইউ. রায়. অ্যান্ড সনস-এর কর্মচারী ছিলেন৷ রায় পরিবারে বিপর্যয়ে তিনি ওই সম্পত্তি কিনে নেন এবং পরবর্তীকালে সুবিনয় রায়কে সম্পাদক করে ১৩৩৮-এর আশ্বিন থেকে সন্দেশ পত্রিকা দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করেন৷ এই পর্বের মাঝামাঝি ১৩৪১-এর বৈশাখ থেকে এককভাবে সন্দেশ-এর সম্পাদক হন৷ ইউ. রায় অ্যান্ড সনসের মালিক হিসাবে শিশুসাহিত্য প্রকাশক পরিচয় বজায় রাখতে চেয়েছিলেন৷ ১৩৪২-এর আষাঢ়-শ্রাবণ যুগ্ম সংখ্যা (৪র্থ বর্ষ ১০ম সংখ্যা) প্রকাশের পর ওই পর্বের সন্দেশ বন্ধ হয়ে যায়৷

সুধীন্দ্র সরকার (১৯৪৮) জন্ম খুলনায়৷ শিশু ও কিশোরদের জন্য রচনায় দক্ষতা আছে৷ গল্প-উপন্যাস, ছড়া, কবিতা লিখে থাকেন৷ বিজ্ঞান বিষয় গ্রন্থও রচনা করেছেন৷ ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট আয়োজিত উপন্যাস রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : দর্জিপাখির জামা, বাঘের বাসা, বাঁদর ভালুক ডুগডুগি, আগডুম ছড়া বাগডুম ইত্যাদি৷

সুনির্মল বসু (১৯০২-৫৭) জন্ম গিরিডিতে৷ বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম রূপকার৷ কবিতা-ছড়া, গল্প-উপন্যাস, নাটক, স্মৃতিকথা রচনায় পারদর্শী৷ আলপনা নামে একটি মাসিক সম্পাদনা করেছেন৷ পাক্ষিক কিশোর এশিয়া পত্রিকার পরিচালক ছিলেন৷ দেব সাহিত্য কুটিরের বার্ষিকীর প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের তিনি অন্যতম সম্পাদক ছিলেন৷ আরতি নামে আরেকটি বার্ষিকীও তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ছানাবড়া, বেড়ে মজা, হুলুস্থূল, কিপটে ঠাকুর্দা, আমার ছড়া, কাণাকড়ির খাতা, ঝিলমিল, জীবনখাতার কয়েকটি পাতা ইত্যাদি৷ শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে বিদ্যাসাগর পুরস্কার (মরণোত্তর) দেওয়া হয়৷

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪-২০১২) জন্ম ফরিদপুরের একটি গ্রামে৷ বাংলায় ছোটোদের এবং বড়োদের জন্য লেখার অন্যতম প্রধান লেখক৷ গল্প-উপন্যাস-কবিতা-ছড়া, জীবনী, ভ্রমণ কাহিনি, নাটক, প্রবন্ধ, রম্যকাহিনি দু-হাতে লিখে ফেলতেন৷ কাকাবাবু ও সন্তুর অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি বাংলাভাষী ছোটোদের অতি প্রিয়৷ ছোটোদের জন্য সব ধরনের লেখাই লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ভয়ঙ্কর সুন্দর, সবুজ দ্বীপের রাজা, নীল মানুষের সংসার, মিশর রহস্য, সত্যি রাজপুত্র, একটি লাল লঙ্কা, একবাক্স গপপো, গল্পের চকমকি, কিশোর সাহিত্য ইত্যাদি৷

সুনীল জানা (১৯৩৭) জন্ম কাঁথিতে৷ ছোটোদের জন্য লেখায় তাঁর দারুণ হাত৷ গল্প-নাটক-ছড়া-কবিতা সবেতেই তাঁর নৈপুণ্য লক্ষ করা যায়৷ বড়োদের জন্য গল্প লিখে থাকেন৷ ছোটোদের জন্য প্রকাশিত তাঁর কয়েকটি বইয়ের নাম : বেড়াল নিয়ে বেড়ানো, আধখানা ভূত, মহিষাসুরের লাল জামা, অফুরন্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, পুরাণ বালকেরা, রবিঠাকুর কবিঠাকুর ইত্যাদি৷ শিশুসাহিত্য রচনায় কৃতিত্বের জন্য বিদ্যাসাগর পুরস্কার পেয়েছেন৷

সুবিনয় রায় (১৮৯০-১৯৪৫) উপেন্দ্রকিশোরের দ্বিতীয় পুত্র৷ সুকুমার রায়ের অকালমৃত্যুর পর সন্দেশ এবং ইউ. রায়. অ্যান্ড সনসের ভার তাঁর ওপর অর্পিত হয়৷ তিনি যোগ্যতার সঙ্গে সন্দেশ সম্পাদনা করেছিলেন, কিন্তু ব্যবসায়ের জটিলতা সামলাতে পারেননি৷ তাই ব্যবসায়িক বিপর্যয় রোধ করা যায়নি৷ পরে দ্বিতীয় পর্বের সন্দেশ বেরোনোর পরিকল্পনা হলে তাঁকে সম্পাদনার দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ তিনি যেমন চমৎকার গল্প লিখতেন, কবিতা লেখাতেও তাঁর সুন্দর হাত ছিল৷ ধাঁধা তাঁর প্রিয় বিষয় ছিল, তা নিয়ে আস্ত একখানা বই বেরিয়েছিল৷ তবে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখায় তাঁর জুড়ি পাওয়া ভার ছিল৷ বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে তিনি লিখতেন৷ উল্লেখযোগ্য বই : কাড়াকাড়ি, রকমারি, তাই তো, জীবজগতের আজব কথা ইত্যাদি৷ সম্পাদিত গ্রন্থ, আজব বই৷

সুবিমল রায় (১৮৯৭-১৯৭৪) জন্ম কলকাতায়৷ উপেন্দ্রকিশোরের কনিষ্ঠ পুত্র৷ অন্য ভাই-বোনদের মতো সুরসিক হলেও সুবিমল লিখেছেন কম৷ গল্প ছাড়াও নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন৷ প্রকাশিত গ্রন্থ : প্রেত সিদ্ধের কাহিনি ও অন্যান্য রচনা৷

সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ (১৯৩০-২০১২) জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার খোসবাসপুর গ্রামে৷ ছোটোদের এবং বড়োদের জন্য দু-হাতে লিখেছেন৷ গল্প-উপন্যাস ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিবন্ধ লিখেছেন৷ ছোটোদের জন্য তাঁর লেখা কর্নেল কাহিনি খুবই জনপ্রিয়৷ তাঁকে নিয়ে অসংখ্য গল্প উপন্যাস লিখেছেন৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : সবুজ বনের ভয়ঙ্কর, ভয় ভূতুড়ে৷

স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৪৭) জন্ম কলকাতায়৷ সাহিত্যক্ষেত্রে নতুন ভাবনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী৷ গোয়েন্দা, অ্যাডভেঞ্চার, কল্পবিজ্ঞান, ঐতিহাসিক, হাসি-সবরকমের লেখায় সিদ্ধহস্ত৷ বেতার ও দূরদর্শনের জন্য নিয়মিত নাটক লেখেন৷ বহু পুরস্কারে সম্মানিত৷ প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: ড্রাগন পাহাড়ের রহস্য৷ উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : রহস্যভেদী মেঘনাদ (কয়েক খণ্ডে), সেদিন মহেঞ্জোদারো, সেরা রহস্য, সেরা অ্যাডভেঞ্চার ইত্যাদি৷

স্বাতী ভট্টাচার্য (১৯৬৯) জন্ম কলকাতায়৷ শিক্ষা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ একটি দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত৷ ছোটোবেলায় সন্দেশ পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন এবং সন্দেশের হাত পাকাবার আসরে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর লেখা৷

হিমানীশ গোস্বামী (১৯২৬-২০১২) জন্ম ফরিদপুর জেলার রতনদিয়ায়৷ চমৎকার রঙ্গরসের গল্প লেখেন৷ গত শতকের পঞ্চাশের দশকে লন্ডনে গিয়েছিলেন৷ ওদের জীবনযাত্রা এবং এদেশি ছাত্র-বাসিন্দাদের হাঁড়ির খবর নিয়ে লিখেছিলেন : লন্ডনের পাড়ায় পাড়ায়, লন্ডনের আড্ডায়, গোয়েন্দা দে গোয়েন্দা দাঁ, অভিধানাই-পানাই৷

হীরেন চট্টোপাধ্যায় (১৯৪৪) জন্ম মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে৷ পেশায় অধ্যাপক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত৷ গল্প-উপন্যাস-নাটক লেখেন, বড়োদের এবং ছোটোদের জন্য৷ উল্লেখযোগ্য ছোটোদের বই : পার্কের সেই বুড়ো, খাট্টা বুড়োর মিষ্টি আম৷ বেতার ও দূরদর্শনে তাঁর লেখা নাটক বহুবার অভিনীত হয়েছে৷

হেমদাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (?-?) একসময়ে ছোটোদের জন্য অনেক লিখেছেন৷ দ্বিতীয় পর্বের সন্দেশ-এ নিয়মিত লেখক ছিলেন৷ প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ধেত্তেরি, উঃ রে বাব্বা, চীনের পাখি, তাইত! ইত্যাদি৷

অধ্যায় ১০১ / ১০১
সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%