ক্রিকেট খেলার উপকারিতা

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

নাঃ একথাটা মানতেই হবে যে ক্রিকেট খেলাটা ঠিক আমার ধ্যান-জ্ঞান-মোক্ষ নয়, যদিও খেলাটা আমি ভালোবাসি৷ পড়াশোনা নিয়েই জীবনের অর্ধেকটা কাটিয়েছি, বাকি অর্ধেকটাও নিশ্চয় কেটে যাবে৷ তবে স্বীকার করতেই হবে যে ক্রিকেট খেলার জন্যই আমি আজ এখানে পৌঁছেছি, যেখানে আমার প্রায় জগৎ-জোড়া নাম৷ তাও আবার, সত্যি কথা বলতে, স্রেফ একদিনের একটা খেলার জন্য৷ সে গল্পটাই আজ তোমাদের বলব৷

আমি অর্থাৎ রাজেন রায়চৌধুরি, রাজা নামেই পরিচিত৷ কেমব্রিজ আমি গণিতের অধ্যাপক ও গবেষক, বেশ নামও করেছি৷ ক্রিকেট খেলাটাও ভালোবাসি, শুধু খেলতে পারি না৷ আমাদের পরিবার কিন্তু ক্রিকেটের জন্য এককালে বেশ নাম করেছিল৷ আমার ঠাকুরদা নাটোরের রাজার টিমে খেলতেন৷ ব্যাট হাতে তাঁর বেশ জবরদস্ত চেহারার একটা বাঁধানো ছবিও আছে আমাদের বাড়িতে৷ আমার বাবা ইউনিভার্সিটি দলে রহিন্টন বারিয়া ট্রফিতে খেলে এসেছেন৷ দুই কাকাও টাউন ক্লাব, গ্রিয়ার, টালিগঞ্জ অগ্রগামী, দক্ষিণ কলিকাতা সংসদ এসব ক্লাবে খেলেছেন চুটিয়ে৷ শুধু আমারই খেলাটা ঠিক আসে না, তবে ভালোবাসি খুবই৷

আসলে খুব ছোটোবেলায় হারিয়েছি বাবাকে, তাঁর স্মৃতিটাও আমার কাছে ঝাপসা৷ হয়তো, বাবা থাকলে ক্রিকেটের প্রতি টানটা আর একটু বাড়ত৷ স্কুলে বন্ধুবান্ধবের ঘাটতি ছিল না কখনো, আর তাদের অনেকেই ক্রিকেট বলতে পাগল৷ নিজেও যে একটু-আধটু খেলিনি তা নয়, তবে স্বীকার করতেই হবে আমার ফিল্ডিংটা বেশ খারাপ৷ রোগাপটকা চেহারা, তায় একটু উঁচু ক্লাসে পা দিতেই মাইনাস থ্রি পাওয়ারের চশমা জুটে গেল৷ ব্যাটিঙের সময় এলেই বন্ধুরা বলত, 'তুই ক্লাসের ফার্স্ট বয়, তুই আবার ব্যাট করবি কী? বরং স্কোর লেখ, বা আম্পায়ারিং কর৷' তাই করতে হত৷ আর একথাটাও ঠিক যে পড়াশোনায় আমি ছিলাম বিচ্ছিরি রকমের ভালো, প্রায় সব সাবজেক্টেই ফার্স্ট হতাম, তবে অঙ্কটা বরাবরই আমার ফেভারিট৷ শুনেই আমার বন্ধুরা বলত, 'বাব্বা পারিস বটে!' আবার পরীক্ষার আগে আমার কাছেই বুঝতে আসত৷ যখন সুজিত-সমরজিৎরা বেঙ্গল স্কুলের ক্যাম্পে ডাক পেল, আমি তখন মোহিত কোঅর্ডিনেট জিয়োমেট্রিতে৷ আবার যখন আমার বন্ধু লাড্ডু ইউনিভার্সিটি ট্রায়ালে গেল আমি তখন মশগুল ডিফারেনশিয়াল ইকোয়েশনে৷ এমনি করেই ক্রিকেট মাঠ থেকে ক্রমে দূরে সরে গেছি, চোখের পাওয়ারও বেড়েছে৷ তবে টিভিতে খেলা দেখি-ওখানে কী সুন্দর সবুজ সব মাঠ দেখা যায়, বাস্তবের ক্রিকেট মাঠ অনেক ন্যাড়া আর সব বই-ই গোগ্রাসে গিলতে আমি ওস্তাদ-বাবার ক্রিকেট লাইব্রেরিও গুলে খেয়েছি, অন্যান্য লাইব্রেরিও আছে৷ তবে ক্রিকেটের বই পড়া আর ক্রিকেট খেলা তো এক জিনিস নয়!

অ্যাপ্লায়েড ম্যাথেমাটিকসে এম.এসসি. শেষ করছি, তখন ডুব দিয়েছি লাগ্রাঞ্জিয়ান, হ্যামিলটনিয়ান আর বেসেল ফাংশনে৷ সে বছরই লাড্ডু ইউনিভার্সিটি খেলে বেঙ্গল ট্রায়ালে ডাক পেল৷ আমার দিদি বলত যে অঙ্কের নম্বর থেকেই নাকি ওর এরকম নাম হয়েছে৷ মেয়েরা এত হিংসুটি হয় না! চমৎকার চেহারা লাড্ডুর, জিম করে স্বাস্থ্যটাও দারুণ বানিয়েছে৷ বি.কমের গণ্ডি পেরোতে পারেনি অবশ্য, কিন্তু পড়াশোনায় অত খারাপ ও নয়৷ দু-জনের মধ্যে প্রায় কিছুতেই মিল নেই, কিন্তু বন্ধুত্বটা টিকে আছে আজও৷ ওর জীবনের স্বপ্ন বেঙ্গল আর ইন্ডিয়া খেলা-আর আমার স্বপ্ন কেম্বিÑজে ট্রিনিটি বা কিংস কলেজ যাওয়া৷ এ স্বপ্নটা বোধ হয় অধরাই থেকে যাবে কারণ ওখানে প্রথম দিকে স্কলারশিপ প্রায় নেই-ই আর স্কলারশিপ ছাড়া আমার পক্ষে বিদেশ যাওয়া সম্ভব নয়৷

ইতিমধ্যে বিয়ের পর দিদি পাড়ি দিয়েছে আমেদাবাদ৷ মাও যাবেন কয়েকদিনের জন্য, চিন্তা আমাকে নিয়ে৷ আমি তখন এদিকে-ওদিকে অ্যাপ্লিকেশন ছাড়ছি, কেমব্রিজেও একটা ঠুকে দিয়েছি যদিও কোনো আশা নেই৷ মা আমাকে একা ছেড়ে যেতে চান না৷ আমিও নাছোড়বান্দা! শেষে মা-ই উপায় বাতলালেন, 'মামার বাড়ি থাক না ক-টা দিন!' আমার মামা জুট মিলের ডাক্তার৷ থাকেন হাওড়া জেলার ডোমজুড়ের কাছে, রসুলপুর না কী যেন নাম! মামা বলেন ওটা গণ্ডগ্রাম৷ তবে কলকাতা যাতায়াতটা সহজ৷ মামা-মামি দু-জনেই লোক খুব ভালো আর মামাতো ভাই দুটো শিবু আর শম্ভু আমায় খুব ভালোবাসে৷ অগত্যা রাজি হয়ে গেলাম৷

নভেম্বর শেষ৷ একটু শীতের আমেজ এসেছে৷ বইপত্র, বাক্স-বিছানা গুছিয়ে মামাবাড়ি৷ সেখানে আদরযত্নের অভাব কোনোদিনই হয়নি, এবারও হল না৷ মামি আবার দারুণ রান্না করেন-যেমন ভুনি খিচুড়ি, তেমন ভাপা ইলিশ বা মাংসের রোস্ট! শিবু শম্ভুতো আমাকে দেখেই নাচছে৷ ওদের সঙ্গে গল্প করে আর কলকাতার গল্প ওদের শুনিয়ে বেশ দিন কাটছে৷ হপ্তায় বার দুয়েক কলকাতায় যাই৷ ওদের দেখি ক্রিকেটে দারুণ উৎসাহ৷ কলকাতার ছেলে হয়ে, বিশেষ করে এই পরিবারের, খেলা ছেড়ে কেমন করে আছি বুঝতেই পারে না৷ অনেক করে বোঝালাম যে ক্রিকেটের থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জীবনে অনেক আছে৷ ওরা ঠিক বুঝল বলে মনে হল না-কেমন অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে রইল৷ মামারও এ ব্যাপারে উৎসাহ কম নয়৷ মেডিকেল কলেজে পড়তে ক্রিকেট খেলতেন, এখন টিভিতে দেখেন আর বিশ্লেষণ ও আলোচনা করেন৷ মামার মতে শচীনের থেকে গাভাসকার অ-নেক উঁচু পর্যায়ের ব্যাটসম্যান আর তাঁর পুত্রদের মত ঠিক তার উলটো৷ ফলে তর্ক জমে উঠত খুবই আর উচ্চ গ্রামের কথার জন্য দু-পক্ষই বকুনি খেত মামির কাছে৷ ডিসেম্বর মাস পড়তেই দেখি শুধু মামাবাড়ি নয়, গোটা গ্রামটাই উত্তেজনার আগুনে টগবগ করে ফুটছে৷ শুনলাম আট মাইল দূরের গ্রাম রাঘবপুরের সঙ্গে রসুলপুরের একটা বার্ষিক প্রীতি ম্যাচ হয় খ্রিস্টমাসের সময়৷ সেটাই এখানকার স্থানীয় 'অ্যাশেজ'! গত কয়েক বছর রসুলপুর জিতেছে৷ এবার তাদের দু-তিন জন ভালো প্লেয়ার নেই, কাজেই এবার পাল্লা রাঘবপুরের দিকে ভারী! মামি অবশ্য বললেন 'প্রীতি ম্যাচ না ছাই! ম্যাচের সময় ওরা এ ওকে খুন পর্যন্ত করতে পারে৷ আম্পায়ারকে ঘুষ, প্লেয়ার ছিনতাই, খাবারে জোলাপ মিশিয়ে দেওয়া-কী না হয়েছে এই ম্যাচ নিয়ে? ভাবতে পারিস, সারাটা বছর যাদের গলাগলি ভাব, তারা পর্যন্ত এ সময় পরস্পরকে সন্দেহের চোখে দেখে! ক্রিকেট খেলে নাকি চরিত্রগঠন হয়-কচু পোড়া হয়!' মামা তাঁকে থামাতে গিয়ে এক ধমক খেয়ে চুপ, শিবু-শম্ভু ভয়ে কেঁচো৷ আমি বললাম, 'যাক গে, আমি তো আর ওদিকে নেই৷' মামি একগাল হেসে বললেন, 'তাই রক্ষে! সেদিন বাড়িতে ঘি-ভাত মাংস করব, ওরা মাঠে গিয়ে শুকনো রুটি গিলুক গে৷' আমার অবশ্য একটু মাঠে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল৷ ক্রিকেট সাহিত্যের 'ক্লাসিক' বলে স্বীকৃত হিউ দ্যা সেলিনকোর্টের 'দ্য ক্রিকেট ম্যাচ' আর মেরি রাসেল মিটফোর্ডের 'দ্য ভিলেজ ক্রিকেট ম্যাচ' পড়াই ছিল-এবার খাঁটি দেশজ গ্রাম্য ক্রিকেট ম্যাচের স্বাদ পাওয়া যাবে৷ অবশ্যই মাঠের বাইরে থেকে এবং নিরাপদ দূরত্বে৷

কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আর! গ্রামের পুরোনো জমিদারবাড়ি, এখন চৌধুরিবাড়ি বলে পরিচিত, রসুলপুরের ক্রিকেট-চর্চার কেন্দ্র৷ চৌধুরিমশাইয়ের বয়স ৫৬, মাথা জোড়া টাক, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে প্রায় সমান, কিন্তু ক্রিকেটে প্রবল উৎসাহ-এককালে নাকি ভালো খেলতেন৷ ওঁর দুই ছেলে আর ভাইপো বেশ ভালো খেলে৷ ডাক্তারবাবু (অর্থাৎ আমার মামা) আর পোস্ট মাস্টারমশাইও প্রবীণ ও বিচক্ষণ খেলোয়াড়, মানে 'হ্যাজ-বিন'দের দলে৷ আশরাফউদ্দিন নামে এক বেজায় জোরে বোলার আছে, অবশ্য তার কন্ট্রোলের বড্ড অভাব৷ এ ছাড়া গ্রামের দু-তিনটি কলেজে পড়া ছেলে আছে, বাকিরা স্রেফ টিমের শোভা৷ রাঘবপুর নাকি ভালোই টিম গুছিয়ে নিয়েছে, তাদের বক্তব্য 'রঘুপতি রাঘব রাজা রাম'-সেই রামের কৃপাতেই রাঘবপুর নাকি তরে যাবে৷ শুনেই চৌধুরিমশাই বললেন, 'কী! আমি কি ডরাই কভু ভিখারি রাঘবে? আর আল্লা সর্বশক্তিমান, তাঁরই দূত পয়গম্বর বা রসুল৷ রসুলপুর যে গ্রামের নাম তারা কখনো হারতে পারে?' এত জোর দিয়ে যখন কথাটা বললেন তখন খেয়ালই হল না যে এ গ্রামের দোল-দুর্গোৎসবের মাথা তিনি, আর এখানে মুসলমান বলতে ওই আশরাফ মিঁয়া৷ সে অবশ্য মাথা ঝুঁকিয়ে কুর্নিশ করে বলল, 'সবই পয়গম্বরের ইচ্ছা, হুজুর৷' এমনি করেই চৌধুরিবাড়ির চণ্ডীমণ্ডপের সামনে নেট প্র্যাকটিসকে কেন্দ্র করে বেশ ক্রিকেট আড্ডা জমে ওঠে৷ শিবু শম্ভু তো এখানেই পড়ে থাকে, আমিও বিকেলের দিকে একটু ঘুরে যাই৷ মামিমা গজগজ করেন- তবে দেখলাম রাগ করলে ওঁর রান্নার হাতটা আরও খুলে যায়৷

এদিকে খেলার দিন যত এগিয়ে আসছে, চৌধুরিমশাইয়েরও খুঁতখুঁতানি বাড়ছে৷ একজন চৌখস প্লেয়ারের বড্ড অভাব৷ বলেন আর আমার দিকে সতৃষ্ণ নয়নে তাকান৷ আমি অবশ্য আমার বক্তব্য দৃঢ়ভাবেই জানিয়ে দিয়েছি৷ আর করবই বা কী, খেলতেই তো পারি না ছাই৷ তিনি অত্যন্ত অখুশি, বারংবার বলেন, 'অত বড়ো ক্রিকেট পরিবার৷ আর উনি নাকি খেলতেই পারেন না৷ কী করতে পড়াশোনা শিখেছিলে, বাপু? ও সব অঙ্ক-টঙ্ক কষে কোনো মহৎ কাজ হয় না, ক্রিকেটেই জীবনের সব সমস্যার সমাধান, বুঝলে?' অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল- হায় রে, ক্রিকেট থেকে যদি সব সমস্যা সমাধান হত! হঠাৎ কানে এল মামা বলছেন, 'হ্যাঁ রে তোর ওই বন্ধুটি-লাড্ডু না গাড্ডু কী যেন নাম! ও এসে খেলে দিতে পারে না? একটাই তো ম্যাচ!' আরে, এটা তো মাথায় আসেনি৷ তক্ষুনি লাড্ডুকে ফোন, সেও এককথায় রাজি৷ ওই সময়টায় নাকি বেঙ্গল টিম ধানবাদ যাচ্ছে টি টোয়েন্টি খেলতে, তখন লিগ বা নক-আউট খেলাও বন্ধ৷ ও সে-দলেও নেই৷ সুতরাং একদিন এসে খেলে যাবে ম্যাচটা৷ আর একবার কলকাতা গিয়ে ব্যাপারটা পাকা করে এলাম৷ ২৩শে লাড্ডু আসবে, ২৪শে ম্যাচ, ২৫শে আমরা দু-জনেই ফিরব৷ একটা রাত ওর বাড়িতে থাকব, ২৬শে সকালে মা-র ট্রেন হাওড়া ঢুকছে৷ চৌধুরি মশাইয়ের উৎসাহ দেখে কে? বারবার বললেন, 'ভাই, তুমি আমাদের গ্রামের মান বাঁচালে৷ ম্যাচটা বাঁচুক, তুমি যা চাইবে তাই দেব, আমাদের চৌধুরি বংশে মরদকা বাত, হাতিকা দাঁত!' অবশ্য উত্তেজনায় তিনি ভুল করে 'মরদকা দাঁত, হাতিকা বাত' বলে ফেলেছিলেন৷ সে যাক গে৷ সবাই আনন্দে মাতোয়ারা৷ আসলে, লাড্ডুর নামের সুরভি এ গাঁয়েও পৌঁছে গেছে আর সেই সঙ্গে আমারও খাতির বেড়ে গেছে৷ আশরাফ মিঁয়া পর্যন্ত ওর বাড়িতে বানানো বিরিয়ানি, চাঁপ আর ফিরনি খাওয়াল একদিন৷ খুবই উমদা! তারপরেই ফিসফিস করে বলে 'লাড্ডু সাহেবের ইন সুইং-এর গ্রিপটা একটু দেখাবেন? ওটাই সবচেয়ে খতরনাক৷ অসতর্ক হলেই বোল্ড বা এল বি!' আমি তো অবাক! গ্রিপ দেখাব আমি? অবশ্য সুইং বোলিং-এর ফিজিক্সটা আমি বুঝি, ইন্টারনেটে রিভার্স সুইং-এর উপর লেখা একটা আর্টিকলও পড়েছি৷ কিন্তু সিম কোথায় থাকবে, আঙুল কোথায়, এসব আমি কী করে বলব? আশরাফের তাৎক্ষণিক জবাব 'এ সব পড়ি-লিখি আদমিদের নিয়েই যত মুশকিল!' চৌধুরিমশাইও তেরিয়া হয়ে বললেন 'এ তোমার ভারি অন্যায়৷ এত দিন পাশাপাশি আছ, ইন সুইংগারটা শিখতে পারলে না?' কী বিপদ! লাড্ডুও তো আমার কাছে ক্যালকুলাস বা কোঅর্ডিনেট জিয়োমেট্রি শিখতে পারেনি, আমি কি সেজন্য কিছু বলেছি?

এদিকে বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছিল৷ ২১শে খবর এল যে চৌধুরি মশাইয়ের বড়ো ছেলেকে ব্যাঙ্গালোর থেকে জার্মানি যেতে হবে৷ সে আসতে পারবে না৷ ২২শে কলকাতায় এসেই দেখি কেম্বিÑজের চিঠি৷ তারা আমাকে ট্রাইপস প্রোগ্রামে ভরতি করতে রাজি, আগাম অভিনন্দনও জানিয়েছে৷ কিন্তু এখন ফান্ডিং নেই, একটি বছর কাটালে কিছু জোটা সম্ভব৷ এক বছরের রাহা খরচ পাঁচ লাখ, তা আমার কল্পনার বাইরে৷ মনটা খারাপ হয়ে গেল, কেমব্রিজ হাতছানি দিয়েও নাগালের বাইরে রয়ে গেল৷ দেখি, যদি আই.আই.টি. কানপুরটা লেগে যায়৷ ২৩শে ভোর বেলা ফোনটা বেজে উঠল৷ ধরেই শুনি লাড্ডুর উত্তেজিত গলা! হঠাৎ নাকি লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মনোজ তেওয়ারি আর সৌরভ সরকার ভাইরালে কাবু৷ ওকে এখনই ছুটতে হবে ধানবাদ৷ জামাডোবায় ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে ম্যাচ, টিমেও হয়তো চান্স পেয়ে যাবে৷ কংগ্রাচুলেট করে ফোনটা রাখলাম৷ লাড্ডুর তো হিল্লে হয়ে গেল, এবার রসুলপুরের কী হবে? বেলা বাড়তেই খবরটা দাবানলের মতন ছড়িয়ে পড়ল৷ চৌধুরিমশাই উদভ্রান্তের মতন ছুটে এসে বললেন, 'তোমার বন্ধুটির যখন এই অবস্থা, তোমাকেই খেলতে হবে৷ একটু প্র্যাকটিস করে নাও, ম্যাচটা বাঁচাতে হবে বাবা-তোমাকে খুশি করে দেব৷' ভদ্রলোক দেখলাম, যাকে বলে, 'ইনকরিজিবল অপটিমিস্ট'!

বেলায় বাধ্য হয়েই গেলাম ওদের নেট প্র্যাকটিসে৷ একজোড়া কেডস পর্যন্ত নেই, মামার পুরোনো জুতো জোড়ায় সামনে তুলো গুঁজে চালিয়ে দিতে হবে৷ কারোকে বোঝাতে পারলাম না যে আমার নেট প্র্যাকটিস দরকার নেই, ক্রিকেটের সঙ্গে আমার সরাসরি সম্পর্ক নেই কতকাল! কে কান দেয় এসব কথায়? যাক, শেষ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার ব্যাটিঙে ১৯ বার আউট হলাম৷ যেন সেই গঙ্গারাম-'উনিশটি বার ম্যাট্রিকে সে, ঘায়েল হয়ে থামল শেষে'৷ কিন্তু থামার কোনো লক্ষণই নেই৷ তারপর ফিল্ডিং প্র্যাকটিস, তার পরে বিশ্লেষণ ও আলোচনা৷ তবে ঘায়েল হয়েছিলাম বটে-কনুই ছড়ে গেছে, হাঁটুতে প্রবল ব্যথা, কোমর টাটাচ্ছে, ঘাড় কনকন, কান ভনভন৷ শরীরের কোন অঙ্গটা যে ঠিক আছে, বুঝতে পারলাম না৷ সন্ধ্যায় মামাবাড়ি ফিরতে ব্যথাটা আরও বাড়ল৷ মামি বললেন, 'ছেলেটাকে খুন না করে তোমাদের স্বস্তি নেই৷ আহা, কী অবস্থা বেচারার! কাল যদি তেমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়, এই রোগা শরীরে ও কি আর টিকে থাকবে? পুলিশ কেস হবে আর তোমাদের নাটের গুরু চৌধুরিমশাইকে হাজত-বাস করতে হবে, হ্যাঁ!' মামা চিন্তিত মুখে দুটো ব্যথার বড়ি দিলেন৷ রাত্রে টোস্ট আর স্যুপ খেয়ে শুয়ে পড়লাম৷

আশ্চর্য, পরের দিন দেখি শরীরটা বেশ ঝরঝরে লাগছে, মনেও একটা ফুর্তির ভাব! ভাবলাম, কী আর হবে? একটা খেলা বইতো নয়৷ ওদিকে মামা বলেই যাচ্ছেন, 'জিততেই হবে৷ মন্ত্রের সাধন কিবা শরীর পাতন . . .'৷ তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরোলাম৷ মামিও দেখি ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে চলেছেন৷ বললেন, 'পুলিশে খবর দিতে সুবিধা হবে৷' মুচকি হেসে বললাম, 'মামি, স্বেচ্ছায় খেলছি তো! যদি মরি, আত্মহত্যাই হবে-খুনের মামলা টিকবে না৷' মামি বললেন, 'বালাই ষাট! তবে তা হলেও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার একটা ধারা আছে না? তাতেই ফাঁসবে চৌধুরি বুড়ো আর এই ছোঁড়াগুলোও বাদ যাবে না,' বলেই কটমট করে ছেলেদের দিকে তাকালেন৷ বুঝলাম, তিনি বেশ মনোযোগ সহকারে খবরের কাগজের আইন-আদালতের পাতাটা পড়েন৷

ফুর্তির ভাবটা খানিকটা কাটল মাঠে পা দিয়ে৷ মাইল চারেক দূরে নদীর ধারে বিশাল মাঠ৷ সেখানে রোলার চালিয়ে একরকম পিচ তৈরি, ম্যাটিং পাতা, দু-ধারে উইকেট পোঁতা৷ দু-পাশে বিরাট সামিয়ানা, গিজগিজ করছে ভিড়৷ থেকে থেকে এরা গর্জে ওঠে, 'রঘুপতি রাঘব রাজা রাম', আবার ওরা হাঁক পাড়ছে 'আল্লা রসুল'৷ উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে৷ শিবু আর শম্ভুর দেখি খুব আনন্দ, আমাকে বলল, 'বেশ জমেছে, আজ মারপিট না হয়েই যায় না৷' আমার তো আক্কেল গুড়ুম-'মারপিট হয় নাকি রে?' উত্তরে শুনলাম 'এমনিতে হয় না, তবে হলে জব্বর হয়৷' ওদিকে আম্পায়ারদের উপর চোখ বুলিয়ে চৌধুরিমশাই ফিসফিস করে বললেন, 'হাইলি সাসপিশাস! একটা বোধ হয় পার্চেজড!' সবার মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা!

একটু পরেই টস৷ চৌধুরিমশাইয়ের সঙ্গে টস করতে নামলেন ও গাঁয়ের মিত্তিরমশাই, তাঁর বয়স ও চেহারা তথৈবচ৷ একটু বাদেই ঢাকঢোল জগঝম্প বেজে উঠল, রাঘবপুর টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছে৷ চৌধুরিমশাই অবশ্য দমবার পাত্র নয়, গোঁফে চাড়া দিয়ে বললেন, তিনিও তাই চাইছিলেন৷ সকালের উইকেটে নাকি ব্যাট করা শক্ত, পরে উইকেটটা 'ইজি' হয়ে যায়৷ সকলেই ঘাড় নাড়ল, অগত্যা আমিও৷ শুনলাম একদিনের ম্যাচ বটে, তবে ওভার সংখ্যা বাঁধা নয়৷ সকাল ন-টায় শুরু করে সাড়ে বারোটা অবধি ব্যাট করবে রাঘবপুর, যদি অল আউট না হয়ে যায়৷ তারপর এক ঘণ্টা লাঞ্চের বিরতি৷ ফের রসুলপুর খেলবে সেই সাড়ে তিন ঘণ্টা৷ সরাসরি হার বা জিত, তবে ড্র-ও হতে পারে৷ সাধারণত নাকি হার-জিতের ফয়সালা হয়েই যায়৷

এবার খেলা শুরু৷ রাঘবপুরের দু-টি অল্পবয়সি ছেলে ব্যাট করতে এল৷ আমাদের বোলিং শুরু করল আশরাফ আর চৌধুরিমশাইয়ের ভাইপো৷ আশরাফের প্রথম ওভারেই একটা বল নীচু হল, ব্যাটসম্যান বোল্ড৷ পরের ওভারে আরেকজন! প্রবল উৎসাহে আশরাফ পরপর দুটো বাই ৪ দিল৷ আর চৌধুরিমশাইও প্রবল উৎসাহে আমার সব আপত্তি অগ্রাহ্য করে আমাকে টেনে আনলেন থার্ড স্লিপে৷ কিছু বোঝার আগেই একটা বল ব্যাটের কানায় লেগে আমার বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মাঝে লেগে বিদ্যুৎবেগে চলে গেল বাউন্ডারিতে৷ আশরাফ হাত তুলল আকাশে, আমি হাত তুললাম চোখের কাছে-ও কী দেখল জানি না, আমি দেখলাম হাড়ে চোট ছাড়াও খানিকটা চামড়া উঠে বেশ জ্বালা করছে৷ এবার চৌধুরিমশাই বাধ্য হয়েই আমাকে সরিয়ে দিলেন বাউন্ডারি লাইনে৷ আর রান উঠতে লাগল ঝড়ের বেগে, দুই ব্যাটসম্যান ধড়াদ্ধড় চালাচ্ছিল আর ফি ওভারে দু-তিনটে করে চার হচ্ছিল বোলারকে রেয়াত না করেই৷ আরও আশ্চর্য ব্যাপার এই যে, মাঠের মধ্যে যেখানেই দাঁড়াই না কেন, বল আসে মোটামুটি আমার দিকেই৷ দু-তিনটে বাচ্চা ছেলে হাততালি দিয়ে 'খনি, খনি' বলে চিৎকার করছিল৷ তাতে ঘাবড়াইনি, কারণ এরকম শোনার অভ্যাস ছিল এককালে৷ কিন্তু ওদের রান চড়চড় করে ১০-২ থেকে ১৫০ ছাড়িয়ে গেল৷ তখন একদিকে বল করছেন মামা-যাকে বলে 'জেন্টল অফস্পিন', অন্যদিকে চৌধুরিমশাই উঁচু উঁচু লোপ্পা বল ছাড়ছেন-দেখেই কনান ডয়েলের সেই 'স্পেডেগুর ড্রপার'-এর গল্পটা মনে পড়ে গেল৷ তখনই সেই ঘটনাটা ঘটল! মামার বলে দাড়িওয়ালা ব্যাটসম্যানটি সপাটে চালিয়েছিল লং অনের দিকে৷ আমি লং অফ থেকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছুটছি, হঠাৎ কী করে যেন আমার হাতে বলটা জমে গেল৷ কে যে বেশি আশ্চর্য হল, দাড়িওয়ালা না আমি, ঠিক বোঝাই গেল না৷ আর একটু বাদেই আরেকটা বল কেমন ভাবে জানি আমার হাতেই জমা পড়ল! ওদের রান তখন ১৭৮-৪৷ বেশ মজা লাগছে এবার৷ একটু বাদেই চৌধুরিমশাইয়ের একটা লোপ্পা বলকে হাঁকড়াল ব্যাটসম্যান৷ কানায় লেগে বলটা উঠে গেল মহাশূন্যে, তারপর নেমে আসতে লাগল সোজা আমার দিকে৷ 'ক্যাচ ইট' বলে চেঁচিয়ে উঠলেন চৌধুরিমশাই! একী স্বপ্ন না সত্যি? আমি রাজেন রায়চৌধুরি, ম্যাথেমেটিশিয়ান, কি সত্যি সত্যি পরপর তিনটে ক্যাচ ধরে ফেলছি? তবে স্বপ্ন থেকে রূঢ় বাস্তবে ফিরে আসতে সময় লাগল না৷ বলটা আকাশ থেকে নেমে আসতে আসতে হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল৷ তার পরেই হাতের কানায় লেগে কপালে একটা প্রকাণ্ড ধাক্কা আর সব কিছু অন্ধকার৷ আমিও পপাত ধরণীতলে!

জ্ঞান ফিরতে দেখি মাঠের বাইরে একটা ইজি-চেয়ারে আধশোয়া৷ রক্তে ভেসে গেছে শার্ট ও সোয়েটার, আমাকে ঘিরে মামা-মামির উদবিগ্ন মুখ৷ মামা কপালে একটা বড়ো ফেট্টি লাগাচ্ছেন, বললেন, 'স্টিচ লাগবে না, টিংচার বেনজিন সিল করে দিয়েছি৷ একটু বিশ্রাম কর, ঠিক হয়ে যাবি৷' সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখলাম না, মাথাটা বেশ ঝিমঝিম করছে৷ তার মধ্যে মামা দৌড়োলেন মাঠে, আবার বোলিং শুরু হচ্ছে৷ আমার জায়গায় বোধ হয় শিবু ফিল্ড করছে৷ কিন্তু আর ক্যাচ উঠল না, রান উঠল-অনেক! সাড়ে তিন ঘণ্টায় রাঘবপুর করল ২৮৭-৪! এত রান নাকি কখনো হয়নি৷

এবার লাঞ্চের পালা৷ এই পর্বতপ্রমাণ রানের বোঝা দেখে সবাই কেমন ম্রিয়মান, খেতেও পারছে না ভালো করে৷ টম্যাটো স্যুপ, চিকেন স্টু, পাঁউরুটি আর স্যালাড৷ খেতে বেশ লাগল কিন্তু৷ রাঘবপুরের ব্যবস্থা আলাদা, ওরা বেশ হইচই করে খাচ্ছে৷ মামিমা বললেন, 'যাক, প্রাণে বেঁচে আছিস এই ঢের! এবার চল, বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম করবি৷' দোনামোনা করছি, চৌধুরিমশাই বললেন, 'না বউমা৷ আমি যখন ক্যাপ্টেন তখন ম্যাচের শেষ অবধি ও আমার কন্ট্রোলে৷ এ ম্যাচ জেতা সম্ভব না হতে পারে, ড্র তো করা যায়৷ যদি ওর প্রয়োজন পড়ে . . .৷' ওঁর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে মামা বললেন, 'হ্যাঁ, এখন মাঠ ছেড়ে যাওয়াটা . . . ইট ইজ নট ক্রিকেট৷ তা ছাড়া, চোট লেগেছে বটে, কিন্তু তেমন প্রয়োজন হলে দু-চারটে বল খেলে দিতে পারবে৷ কী রে, পারবি না?' অগত্যা মাথা নাড়লাম৷ চৌধুরিমশাই বললেন, 'আশা করি তার দরকার পড়বে না৷' মামিমা ওঁর সামনে তেমন কিছু বললেন না, চাপা গলায় আমাকে বললেন, 'হুঁঃ! তোর মামা আবার ডাক্তার! ভাগনেটা আধমরা হয়ে আছে, এখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা দিতে চায়৷ কালই আমি কলকাতার ভালো ডাক্তার দেখাব৷' মামা চুপ, শিবু-শম্ভু একযোগে বলল, 'সে কী মা, সবাই যে বলে বাবা সাক্ষাৎ ধন্বন্তরী!' মামি একবার অগ্নিবর্ষী দৃষ্টিতে ওদের দেখলেন৷

খেলা শুরু হল৷ একটু পরেই বোঝা গেল যে চৌধুরিমশাইয়ের আশা নেহাতই দুরাশা মাত্র! প্রথমে একটা উইকেট পড়ার পর মামা আর চৌধুরিমশাইয়ের ছোটোছেলে বেশ দেখেশুনে খেলছিল৷ এক ঘণ্টায় ৪০-১৷ তবে কি ম্যাচটা বেঁচে যাবে? ঐকিক নিয়মে তিন ঘণ্টায় রান দাঁড়ানো উচিত ১২০-৩৷ কিন্তু স্পষ্টই দেখা গেল; ক্রিকেট ম্যাচ সে নিয়ম অনুসরণ করে চলে না৷ একটি ঢ্যাঙা মতন ছেলে বল করতে এল, তরফদার না কী যেন নাম! রাঘবপুরের সমর্থকরা তাকে দেখেই নড়েচড়ে বসল৷ তার বলেও দেখি বেশ তেজ৷ মুহূর্তের মধ্যে ব্যাটসম্যানরা ত্রাহি মধুসূদন ডাক ছাড়ল৷ কিন্তু মধুসূদন কি রাঘবকে ছেড়ে রসুলের দিকে আসবেন? দেখতে দেখতে ধস নেমে গেল-৪০-১ থেকে ৬৮-৬৷ রাঘবপুরের চিৎকারে কান পাতা যাচ্ছে না৷ আর তরফদারের পরের ওভারে যা ঘটল, তা না বলাই ভালো৷ সেকেন্ড, থার্ড আর ফোর্থ বলে আমাদের তিন ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নমুখী৷ অবশ্য মামার মতে একটা ডিসিশন 'ডাউটফুল'৷

কে কোথা থেকে প্যাড পরিয়ে দিল, গ্লাভস আর প্রোটেক্টর এনে দিল জানি না৷ মামিমা প্রায় অস্ফুটে বললেন, 'দুর্গা, দুর্গা!' ধীরে ধীরে মাঠে নামছি, স্থির নিশ্চিত জানি একটাই কথা-দেড় ঘণ্টা ব্যাট করা আমার পক্ষে অসম্ভব, এক বল টিকব না দুই ওভার সেটাই দেখবার৷ মাঠ জুড়ে রাঘবপুরের জয়গান, হঠাৎ শুনি 'আল্লা রসুল'৷ দেখি আমার উলটো দিকে ব্যাট-প্যাডে সুসজ্জিত চৌধুরিমশাইয়ের বিরাট বপু৷ এমনিতেই তিনি ছুটতে পারেন না, তায় নাকি পায়ের মাসলে স্প্রেন-তাই আশরাফকে রানার নিয়ে খেলছেন৷ মাসলের আর দোষ কী? ৯৫ কেজি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তো! মাঝমাঠ থেকে বললেন, 'ম্যাচটা বাঁচাতে হবে ভাই, একটু দেখে খেলো৷' ফিল্ডারদের মুখে দেখি চাপা হাসি৷ কোনো মতে ক্রিজে এসে দাঁড়ালাম, আম্পায়ারকে বললাম, 'লেগ গার্ড'-মানে টিভি থেকে এটাই জানা ছিল৷ মন স্থির করে নিলাম, বাঁ-পা বাড়িয়ে ডিফেন্সিভ খেলব-গাভাসকরকে যেমন খেলতে দেখেছি৷ পঞ্চম বল-সোজা ডিফেন্সিভ ব্যাটটা বাড়ালাম কিন্তু বলটা কেমন যেন ঘুরে গেল৷ খুচ করে একটা শব্দ আর হো-ও-ও চিৎকার, শেষে শুনি ওঃ! ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি বলটা ফার্স্ট স্লিপের হাতে লেগে দুই স্লিপের মাঝখান দিয়ে বাউন্ডারি পার৷ ষষ্ঠ বল-ঠিক একই অভিজ্ঞতা, তবে বলটা গেছে উইকেট কিপার আর ফার্স্ট স্লিপের মাঝখান দিয়ে৷ আমি হতবাক, ৮ রান হয়ে গেল প্রায় অক্লেশে৷ রাঘবপুর স্তম্ভিত, রসুলপুর হাততালি দিতে ভুলে গেছে, চৌধুরিমশাই বেশ বিরক্ত 'সোজা খেলছ না কেন?' কী করে বোঝাই সে চেষ্টাই তো করছিলাম৷ পরের ওভার, বিস্ময়মিশ্রিত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি চৌধুরিমশাইয়ের বিপুল পরিধি সত্ত্বেও ব্যাটিং-এ বেশ মুনশিয়ানা আছে৷ প্রত্যেকটা বল সোজা খেলছেন, দু-চারটে বেশ জোরেও মেরে দিচ্ছেন৷ আশরাফ ভালো ছোটে, আমারও হালকা চেহারা-অক্লেশে দু-রান তুলে নিচ্ছি৷ আশরাফ বলল, 'বহুত উমদা,' আমি বললুম, 'সে তো তোমার বিরিয়ানিও৷' তবে সব ভালো যার শেষ ভালো, কিন্তু অবাক হয়ে দেখি, পরের ওভারে সব বলগুলো দিব্যি সোজা ডিফেন্সিভ খেলে দিলাম৷ তার পরের ওভারেও তাই৷ শুধু একটা বল পায়ে লাগল সজোরে, প্যাডের মধ্যে দিয়েও পাটা ঝনঝন করে উঠল৷ বিরাট মুখব্যাদান করে তরফদারের অ্যাপিল, কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দিলেন না৷ কেন কে জানে? ও দিকে চৌধুরিমশাই বেশ খেলছিলেন, আরও ক-টা রানও উঠল৷ একবার অ্যাপিলও হল ওঁর পেটে লাগায়৷ একী বি বি ডব্লু বা ভুঁড়ি বিফোর উইকেট নাকি রে, বাবা৷ উনি কটমট করে তাকালেন, আম্পায়ারও আঙুল তোলেননি৷

এবার জলপানের বিরতি৷ জল খেতে খেতেই চৌধুরিমশাই বললেন, 'এইরকম দেখে খেলো৷ আর এক ঘণ্টা, ব্যাস! কোনোমতে ম্যাচটা বাঁচালেই . . .' ওঁর কথা শেষ হবার আগেই রাঘবপুরের রণহুংকার৷ দেখি আবার তরফদারের হাতে বল৷ ফিরে এলাম বাস্তবে৷ প্রথম দুটো বল ঠিক ডিফেন্সিভ খেলেছি৷ থার্ড বলটা একটু ঠুকে দিয়েছিল৷ সোজা বাঁ-হাতের কনুইয়ে লাগল৷ ঝনঝন করে উঠল, দেখেই বুঝলাম কালসিটে পড়ে যাবে৷ আবার ফোর্থ বলটা সাঁত করে ঢুকে এসে বাঁ-গ্লাভসে লাগল, ঠিক যেখানে স্পাইকটা ভাঙা৷ আঙুলটা প্রায় থেঁতলে গেল৷ বরফ আর আর্নিকা মাদার টিংচার নিয়ে আসছিল, বারণ করলাম৷ এমনিতে আমি শান্ত লোক, হঠাৎ মাথায় আগুনের হলকা অনুভব করলাম৷ এরা পেয়েছে কী? লাস্ট ম্যানকে আউট করতে পারে না? বারবার মারবে নাকি?

রাগের চোটে পরের বলটায় সজোরে ব্যাট চালালাম৷ বল বাউন্ডারির পার৷ আবার চালালাম লাস্ট বলে, এবার ব্যাটে বলে হয়নি৷ উদবিগ্ন চৌধুরিমশাই বললেন, 'করছ কী ভাই! দেখে খেলো!' আর দেখে খেল! পরের ওভারে তিনটে চার মারলাম-একটা কভার দিয়ে, একটা মিড অফ দিয়ে, অন্যটা স্লিপের পাশ দিয়ে৷ তার পরের ওভারে সপাটে মারলাম এক্সট্রা কভারের হাতে৷ সে তৎক্ষণাৎ ফেলে দিল, আর দৌড়ে ২ রান নিলাম৷ আবার পরের বলটা হাঁকড়ালাম ওর দিকে৷ ল্যাঠা মাছ ধরার মতন ছটফট করে বলটা বাউন্ডারি পার করে দিল৷ 'হ্যাঁ, খনি বলছিলে না? ওই দিকে খনি' বলে দেখালাম ওর দিকে৷ ক্যাপ্টেন ওকে সরালেন লং অফে, আর তখুনি গগন-গগনে মারলাম ওর দিকে৷ রাঘবপুরের সিংহ-গর্জন থেমে গেল যখন বলটা ওর আঙুলে লেগে চার হয়ে গেল৷ ফিল্ডারও চোট খেয়ে মাঠের বাইরে৷ পরের ওভারে, তরফদারকে দুটো সোজা চার৷ কোত্থেকে এসব যুৎসই মার আসছে? এবার পরের বলটা সে ছুড়ে দিল আমার চোট খাওয়া মাথার দিকে৷ চোখে দেখলাম কি দেখলাম না, ব্যাটটা চলল গদার মতন-বলটা ডিপ স্কোয়ার লেগের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল৷ ছয়! তরফদার দেখি দু-হাতে মাথা চেপে ধরে টলছে৷ চৌধুরিমশাইও চুপ৷ আধ ঘণ্টায় ৭২ রান উঠল, আমি ৪৮, চৌধুরিমশাই ২৪৷ তরফদার আগে ৮ ওভারে ১৬ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিল, এখন ১১ ওভারে ৫৬ রানে ৮ উইকেট৷

এবার ওরা বেশ ঝিমিয়ে পড়েছে৷ মাঠ জুড়ে 'আল্লা রসুল' চিৎকার৷ এবার চৌধুরিমশাইকে বললাম, 'একটু দেখে খেলুন,' তিনি বাক্যহারা৷ আমাকে তখন খুনের নেশায় পেয়েছে, বোলিং খুনের নেশায়৷ শেষ আধ ঘণ্টায় ছয় ওভার বোলিং হল-চৌধুরি ৬ রান করলেন, এক্সট্রা ১৫ (তিনটে ওয়াইড চার) আর আমি ৫৫-তিনটে ছয়, আটটা চার, পাঁচটা সিঙ্গলস৷ অবশ্য আমার আরও তিনটে ক্যাচ ওরা ফেলেছে৷ খনি আর কাকে বলে? দিনের শেষে আমরা ২১৬-৯, আমি ১০৩ নট আউট, চৌধুরি ৩০ নট আউট৷ ম্যাচ ড্র!

ওরা আমাকে কাঁধে করেই মাঠের বাইরে আনল৷ চৌধুরিমশাই তখনও স্পিকটি-নট, আমি ঢকঢক করে দু-গেলাস জল খেয়ে একটু স্বস্তি বোধ করছি৷ মামি বরফ নিয়ে এলেও আর লাগালাম না৷ চৌধুরিমশাইকে বললাম, 'সরি, মাথাটা বড্ড গরম হয়ে গেছিল৷' উনি কোনোমতে বললেন, 'গ্রেট ইনিংস! উইথ সাম ব্লেমিশেজ, বাট এ ট্রুলি গ্রেট ইনিংস৷' বলবেন নাই-বা কেন? সাতটা ক্যাচ ফেলেছে ওরা, আরও চারটে ক্যাচ হতে পারত৷ যা হোক, ট্রফি শেয়ার! ম্যান অফ দ্য ম্যাচ অবশ্যই তরফদার৷ চৌধুরিমশাই মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, 'পার্শিয়ালিটি,' আমি হাসলাম৷ এতক্ষণে মাথাটা হালকা লাগছে, সেই খুনে মেজাজটাও কোথায় সরে পড়েছে৷

বাড়ি ফিরছি সদল বলে৷ শিবু-শম্ভু তো নাচছে, ওদের বোঝাতেই পারি না ক্রিকেট খেলাটা আসলে ঠিক আমার আসে না, শুধু এই ম্যাচে কী যে হল! ওরা মানতে চায় না, রাতারাতি আমাকে হিরো বানিয়েছে৷ মামা এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন, এবার প্রায় ফিসফিস করে বললেন, 'তোর বাবারও এটা ছিল, জানিস! এমনিতে মাটির মানুষ, যদি বোলারের বলে হাতে চোট পেত বা বাইরে কেউ টিটকিরি দিত, একেবারে খেপে উঠত৷ আর তখন লোপ্পা ক্যাচ দিলেও কেউ ধরতে পারত না৷' আমি তো স্তম্ভিত! শিবু-শম্ভুকে বললাম, 'আমাকে বোধ হয় কিছুতে পেয়ে বসেছিল, জানিস!' ওরা বুঝতেই পারে না৷ মামি বললেন, 'ও সব কথা থাক না এখন, দুর্গা দুর্গা!'

রাতে চৌধুরিমশাইয়ের বাড়ি সবার নেমন্তন্ন৷ ভেবেছিলাম সারা দিনের ধকলের পর যেতে পারব না, কিন্তু শরীরটা ভালোই লাগছিল৷ দারুণ খ্যাঁটের ব্যবস্থা-মাছের মাথা দিয়ে ডাল, বেগুনি, আলু-কপির ডালনা, পোলাও, মাংস, টম্যাটোর চাটনি, দই, মিষ্টি৷ ওদিকে আশরাফ আবার আমার জন্য, 'এস্পেশাল' এনেছে রোগন জোশ৷ সে বলেই চলছে 'উমদা ব্যাটিং, বহোত উমদা ব্যাটিং!' আমি বলি 'খানাও তো বহু উমদা, কিন্তু পেটের খোলে আর আঁটে না যে!'

এবার বৈঠকখানায় চৌধুরিমশাই দণ্ডায়মান৷ বক্তৃতা হবে নাকি রে, বাবা! ওঁর বক্তব্য অবশ্য বেশ সংক্ষিপ্ত : 'বন্ধুগণ, আমরা রসুলপুরের মানুষ সারাটা বছর এই একটি ম্যাচের মুখ চেয়ে থাকি৷ গত ক-বছর ভালোই কেটেছে৷ কিন্তু এবার আমাদের সম্মান ধুলায় লুটিয়ে যাচ্ছিল, তা রক্ষা করেছে এই ছেলেটি৷ ম্যান অফ দ্য ম্যাচ এরই হওয়া উচিত ছিল, কলকাঠি নেড়ে তা পেয়েছে ওই তরফদার ছোঁড়া! রসুলপুরের সম্মানার্থে আমি রাজেনকে একটা পুরস্কার দেব৷ এমন পুরস্কার, যা আমাদের বংশের প্রাচীন সম্পত্তি এবং বাস্তবিকই অমূল্য৷' বলতে বলতে বাড়ির চাকর-বাকরেরা একটা পুরোনো তোরঙ্গ নিয়ে এল৷ আমি তো হতচকিত! পুরোনো জমিদারবাড়ির প্রাচীন সম্পত্তি, একী সোনাদানা নাকি রে, বাবা? তবে কী. . . ? আবার সেই পুরোনো স্বপ্নটা দেখছি, আবার কেমব্রিজর হাতছানি! যদি এটা থেকে প্যাসেজ আর মাস-দুয়েকের খরচটা জুটে যায়, তবে কি ততদিনে একটা কিছু জুটিয়ে নিতে পারব না? নিজেই নিজেকে বলছি, 'রাজেন, স্বপ্ন দেখিস না৷ এ স্বপ্নের জগৎ নয়, রূঢ় কঠিন বাস্তব৷' তবু আমার অজান্তেই স্বপ্নটা ডানা মেলছে৷ স্বপ্নের চটকাটা ভেঙে গেল এক লহমায় যখন তোরঙ্গটা খুলে চৌধুরিমশাই সাদা কাপড়ে মোড়া কী একটা নিয়ে এগিয়ে এলেন৷ এ তো সোনাদানা কি হিরে জহরত নয়৷ সাদা কাপড়টা খুলে চৌধুরিমশাই আমার হাতে তুলে দিলেন একটি সুপ্রাচীন ব্যাট, পলেস্তারা খসা পুরোনো বাড়ির মতন তার চেহারা৷ কাঁপা গলায় বললেন 'এটি আমাদের বংশের প্রাচীন সম্পদ, ঠাকুরদা এনেছিলেন বিলেত থেকে৷ তুমিই এর যোগ্য উত্তরাধিকারী, তাই তোমাকে দিলাম৷' হাততালি ও সাধুবাদ হল৷ আমার স্বপ্ন তখন একেবারে ধূলিসাৎ, তবু দু-চারটি কথায় ওঁকে ধন্যবাদ দিয়ে কাপড়ে মোড়া ব্যাটটি বগলে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম৷

মামা একদম চুপ৷ মামি বিরক্তির সঙ্গে বললেন 'চৌধুরি বুড়ো দিল তো দিল একটা পুরোনো ব্যাট৷ ও ব্যাটে কী আর খেলা যাবে?' বললাম, 'না মামি৷ প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো ব্যাট, একটা বল খেললেও ভেঙে যাবে৷' শিবু-শম্ভু ধরে বসল-১০০ বছরের পুরোনো ব্যাট তাদের দেখাতে হবে৷ কাপড়ের মোড়ক খুলে টেবিলে রাখলাম৷ আহা বেচারা, সব ঔজ্জ্বল্য ম্লান হয়ে গেছে৷ মাঝখানটায় লাল লাল বলের ছাপ, সেও ফেড করে গেছে৷ হঠাৎ নজরে পড়ল নীচে কার সই৷ একটু অস্পষ্ট, একটা অক্ষর উঠেই গেছে৷ ভালো করে দেখি লেখা J. B.–obbs, মাঝখানে অক্ষরটা পড়া যাচ্ছে না, নীচে তারিখ 22.8.1930৷ বুকটা ধক করে উঠল, একি জ্যাক হবসের পুরোনো ব্যাট নাকি রে, বাবা? মামার পুরোনো উইসডেন ঘেঁটে দেখি ওটা তাঁর শেষ টেস্টের শেষ দিন৷ মনে পড়ে গেল নব্যযুবক ব্র্যাডম্যান খেলছিলেন সেই টেস্টে৷ তাঁর মনে হল 'শেষ ইনিংসে মাত্র ৯ রান৷ বড়ো কষ্ট লাগল হবসের জন্য, তখন কি জানতাম যে আমার শেষ ইনিংসে এর থেকে ঠিক ৯ রান কম করব?' কে জানে ক-হাত ঘুরে সেই আশ্চর্য ব্যাট আমার কাছে এল৷ মামা বললেন, 'এ সত্যি অমূল্য সম্পদ রে, রাজা!'

এর পরের কাহিনি বেশ সংক্ষিপ্ত৷ ভারতেই এখন সথেবি আর ক্রিস্টির মতন বড়ো অকশন হাউস এসে গেছে৷ ই-মেল করতেই ওদের ভ্যালুয়ার কলকাতায় এসে দেখে গেল৷ বলল, 'জিনিসটা জেনুইন বলেই মনে হচ্ছে৷ একটু ভালো কন্ডিশনে থাকলে দাম আরও ভালো পাওয়া যেত৷ তবে এখানে দাম নেই, বিলেতে পাঠাতে হবে৷' অগত্যা রাজি হলাম, যদিও ইনসিয়োরেন্সেই খরচ পড়ে গেল অনেক৷ আর তারপর? শুধু স্বপ্নপূরণের খেলা৷ প্রথম ই-মেলে খবর এল অকশনে ওর দাম উঠেছে, ৮৭,০০০ পাউন্ড৷ কল্পনাও করতে পারিনি, এত টাকা৷ তার পরে কেমব্রিজে ই-মেল, কিংস কলেজে ভরতি, ট্রাইপস, তারপর ডি.ফিল.৷ এ তো বিশ বছর আগের কথা৷ এখানেই গবেষণা আর পড়ানোর কাজে ব্যস্ত আছি৷ অঙ্ক কষতে ভালোবাসি, এখন কাজ করি স্ট্রিং থিয়োরি নিয়ে, দেখি আইনস্টাইনের স্বপ্নপূরণ হয়ে কি না৷ বিকেলের দিকে হাঁটতে বেরোই৷ ক্যাম নদীর পাশে ব্রিজ পেরিয়ে হেঁটে যাই ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরি হুইপল মিউজিয়াম বা ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির পাশ দিয়ে৷ কিন্তু কোনোদিনও ভুলি না ফেনার্সের ক্রিকেট মাঠে একটু থামতে৷ এখানে সত্যিই সবুজ গালচের মতন মাঠ৷

শুধু ভাবি, কী করে এসব সম্ভব হল? এর জন্য দায়ী কে-আমি, না চৌধুরিমশাই, না তাঁর অদেখা ঠাকুরদা, না যিনি আমার উপর ভর করেছিলেন তিনি, নাকি পয়গম্বরের দোয়া৷ নাঃ, এখন ঠিক জানি দায়ী একমাত্র ক্রিকেট৷ তাই বলি, পড়াশোনা কর আর যাই কর, ক্রিকেটকে অবহেলা কোরো না৷ ক্রিকেটই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে!

শারদীয়া ১৪১৫

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%