হাতির ভয়

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

হাতি যে কেমন বেখাপ্পা জানোয়ার, এবারে তার কথা কিছু বলব৷ আমরা পাকোয়া নদীর ধারে এসেছি৷ নদীটি ৭০-৮০ হাত চওড়া হবে, তাতে এক কোমর জল৷ নদীর ধারে হাতির পায়ের তাজা দাগ একটির পিছনে আর একটি, তার পিছনে আর একটি, এমনি করে একদল হাতি গিয়েছে৷ পায়ের দাগ দেখে আমি বললাম, '৫-৭টা হাতি হবে৷' লুশাই বুড়ো খানিক বেশ ভালো করে দেখে বলল, '৪০-৪৫টার কম নয়৷ ঠিক দাগে দাগে পা ফেলে গিয়েছে, তাই বুঝতে পারা যাচ্ছে না৷'

সারাদিন জলে জলে চলে আমার কাপড়চোপড় সব ভিজে গিয়েছিল৷ আমি নদীর ধারে পাহাড়ের গায় ঠেসান দিয়ে বসে জুতো-মোজা খুলতে লাগলাম, লুশাইটিকে বললাম, 'পারে গিয়ে তাঁবুর জায়গা দেখো!' লুশাই ওপরে চলে গেল, শ্যামলাল খালাসিও বন্দুকটি নিয়ে তার সঙ্গে সঙ্গে গেল; আমি বসে বসে হু-উঁ-উঁ করে চেঁচিয়ে পিছনের লোকদের ডাকতে লাগলাম৷ খাবারওয়ালা খালাসি তাদের সঙ্গে; আমার বড্ড খিদে পেয়েছে৷

বার দুই 'হুঁ-উঁ-উঁ' করে চেঁচিয়েছি অমনি ঠিক আমার মাথার উপরের পাহাড় থেকে একটা হাতি 'হুঁ-উঁ-উঁ' করে উঠল৷ আর আমার কাছ থেকে ৫০-৬০ হাত দূরে আরও অনেকগুলো হাতি গুড়গুড় শব্দ করে তার জবাব দিতে লাগল! আমি আবার চেঁচালাম, হাতিগুলোও আবার ঠিক তেমনি করতে লাগল! আবার চেঁচালাম, আবারও তাই৷ একটা পাহাড়ের উপর থেকে হুঁ-উঁ-উঁ করে ওঠে, আরগুলো নালার কাছ থেকে গুড়গুড় করে আর নাকে ফোঁস ফোঁস করে৷

এমন সময় আমার মাথার উপর থেকে মড়মড় করে বাঁশ ভাঙার আওয়াজ হতে লাগল, আর ওপর থেকে শ্যামলাল আর লুশাই বুড়ো ব্যস্ত হয়ে আমাকে ডাকতে লাগল, 'চলে এসো৷ চলে এসো!' ৩-৪টা হাতি আমার আওয়াজ শুনে দেখতে আসছে, এটা কীরকম জানোয়ারের ডাক৷ আমার মাথার ১০০-১২৫ গজ উপর অবধি এসেছে!

আমি তাড়াতাড়ি নদীর এপারে এসে শ্যামলালের হাত থেকে বন্দুক নিয়ে গুলি ভরে, নদীর কিনারায় গিয়ে দাঁড়ালাম; শ্যামলাল আর লুশাই বুড়ো খুব চেঁচামেচি করতে লাগল; তা শুনে হাতিগুলো দৌড়ে গিয়ে আবার পাহাড়ে উঠল৷ তারপর অনেকক্ষণ নদীর ধারে দাঁড়িয়ে রইলাম, কিন্তু আর হাতি দেখতে পেলাম না৷ হাতির আওয়াজ কিন্তু ক্রমাগতই শোনা যাচ্ছিল, আর নদীর জল একেবারে ঘোলা হয়ে গিয়েছিল৷

চারটা-সাড়ে চারটার সময়ে সব লোকজন এল; নদীর ওপারে বন কেটে তাঁবু খাটানো গেল; খুব বড়ো বড়ো ধুনি আর পাহারারও ব্যবস্থা হল৷ আমার সঙ্গে দুটো হাতি ছিল৷ মাহুতেরা রোজ তাদের চরে খাবার জন্যে বনে ছেড়ে দেয়, আজ আমাদের কাছেই বেঁধে রাখল৷ ছেড়ে দিলে বুনো হাতিতে তাদের ভুলিয়ে নিয়ে যাবে, নাহয় মেরে ফেলবে৷ লুশাইরা শুকনো শুকনো বাঁশের মশাল বানিয়ে লম্বা লম্বা কাঁচা বাঁশের আগায় বেঁধে নিল৷ রাত্রে হাতি এলে ওই মশাল জ্বালিয়ে সেই লম্বা বাঁশের বাঁট ধরে সামনে ঘুরিয়ে তাকে তাড়াবে-এমনি করে লুশাই দেশে খেত থেকে হাতি তাড়ায়৷

সে রাত্রে আর হাতির জ্বালায় ঘুম হয়নি৷ অন্ধকার হতেই তারা আমাদের কাছে এল, আর বোধ হয় ধুনির আলোতে আমাদের হাতি দুটোকে দেখতে পেয়ে তাদের মনে ভারি খটকা লাগল যে, এ দুটো আবার ওখানে কী করছে! ৫-৭টা হাতি মিলে এপারে আসবার জন্য এক-একবার এসে নদীতে নামে৷ তারা নদীর মাঝামাঝি আসতে-না-আসতেই আমাদের হাতি দুটো ছটফট করতে আর চ্যাঁচাতে থাকে৷ অমনি আমাদের লোকেরা প্রাণপণে মশাল ঘুরিয়ে সকলে মিলে বিকট চিৎকার করতে করতে ছুটে যায়, আর হাতিগুলো ছুটে গিয়ে আবার বনে ঢোকে৷ সারাটা রাত এইভাবে কাটল৷ ভোরের বেলায় কতগুলো হাতি পুবের পাহাড়ে আর কতগুলো পশ্চিমের পাহাড়ে উঠে গেল৷

সকালে উঠে, চা খেয়ে, জিনিসপত্র বেঁধে, আমরাও পথ ধরলাম৷ সেই পুবের পাহাড়ে আমাদেরও যেতে হবে৷ যেমন রোজ যাই, তেমনি চলেছি-লুশাই বুড়ো আগে আগে, তার পিছনে আমি, আমার পিছনে শ্যামলাল, খাবারওয়ালা আর আমার চাকর গঙ্গারাম৷

খানিক দূর এসে একটা ঝিল পেলাম, তাতে জল নাই, কিন্তু কাদা খুবই৷ আমরা বলাবলি করছি, কেমন করে কোনদিক দিয়ে পার হব৷ আর অমনি সেই ঝিলের মাঝে শরবনের আড়াল থেকে একটা হাতি উঠে, বাঁশবন ভেঙে সে যা হুড়মুড় করে ছুট! পাহাড়পর্বত যেন সব একেবারে ভেঙে পড়ল৷

যাহোক, এতে আমাদের এই উপকার হল যে, কোনখান দিয়ে ঝিল পার হতে হবে সেটুকু আর বুঝতে বাকি রইল না৷ সেই হাতির পায় পায় আমরা ঝিলের ওপারে চলে গেলাম৷ তখন লুশাই জিজ্ঞাসা করল, 'কোন দিকে যাব?' আমি বললাম, 'যেদিকে হাতিটা গিয়েছে সেই দিকে৷' সেই দিকেই হাতির পায়ের দাগ আর বাঁশ ভাঙা দেখে চলতে লাগলাম৷ তারপর খানিকটা পাহাড়ে উঠে বন্দুকটা শ্যামলালের হাতে দিলাম৷

লুশাই বুড়ো আগে গিয়ে পাহাড়ের উপরে পৌঁছোল; পৌঁছিয়েই সে ডেকে বলল, 'মস্ত দোয়াল (হাতির রাস্তা)! কোনদিকে যাব?' আমি বললাম, 'পূর্বদিকে যাও, উপরের দিকে৷' সেইভাবে সে হাত ৫০-৬০ গিয়েছে, আমিও ততক্ষণে এসে দোয়ালে পৌঁছিয়েছি, শ্যামলাল আমার হাত ৪-৫ পিছনে, গঙ্গারাম আর অন্য খালাসিটি আর একটু পিছনে৷

দোয়াল ধরে উপরের দিকে সবে হাত ৮-১০ গিয়েছি, এমন সময় সামনে ভয়ংকর একটা গোলমাল, বাঁশ ভাঙার হুড়মুড় আর জানোয়ারের গর্জন, আর লুশাইয়ের চিৎকার৷ আমি বললাম, 'ক্যা হ্যায় রে?' শ্যামলাল পিছন থেকে বলল, 'গণ্ডা (গণ্ডার) হোগা হুজুর৷'

সামনের দিকে চেয়ে দেখি লুশাই বুড়ো ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে নামছে, আর তার পিছনে প্রকাণ্ড হাতি শুঁড় তুলে কামানের গোলার মতো আসছে৷

তা দেখে আমি 'বন্দুক লাও' বলে হাত বাড়িয়েছি, কিন্তু বন্দুক আর আসে না; চেয়ে দেখি শ্যামলাল লম্বা দিবার ফিকির করছে৷ দুই লাফে তাকে গিয়ে ধরে, দুই থাপ্পড় দিয়ে বললাম, 'ভাগতা কাঁহা?' তারপর তার কাছ থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে উপরের দিকে ছুটলাম৷ বন্দুক হাতে নিয়েই মনে হল তার এক নালে ছিটা, এক নালে মাত্র গুলি৷ দৌড়াচ্ছি আর টোটা বদলাচ্ছি৷ বদলানো কি যায়? তাড়াতাড়িতে এক সেকেন্ডের কাজ পাঁচ মিনিটেও হতে চায় না৷

যাহোক, কোনোমতে ছিটা বদলে গুলি তো ভরা হল৷ দৌড়াচ্ছি তখনও তাতে আবার উপরে উঠতে হচ্ছে-মাটির দিকে চেয়ে, নইলে পড়ে মরবার ভয়৷ গুলি ভরে সামনের দিকে চাইলাম৷ সর্বনাশ৷ লুশাই বুড়ো দাঁড়িয়ে গিয়েছে৷ হাতে দা ছিল, হাতির সামনে তাতে কোনো কাজ দেবে না বলে সেটা ফেলে দিয়েছে, দিয়ে রাস্তার মাঝখানে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ হাতি তার কাছ থেকে ৯-১০ হাত মাত্র দূরে-এই ধরল!

সেখানের রাস্তায় দুটো মোড় ছিল, আমার চোখের সামনেই হাতির কপালটা৷ আর কথা নাই; বন্দুক তুলেই দে সেই কপালে গুড়ুম করে ছেড়ে৷ হাতি কিন্তু থামেনি, এক পা আরও চলে এসেছে৷

এবারে তার পাঁজর আমার সামনে৷ বন্দুক আমার তোলাই ছিল৷ গুড়ুম করে দিলাম সেই পাঁজরে আর এক নালা ঝেড়ে৷ এবারে ওষুধ ধরল৷ আওয়াজও করা, আর যা চিৎকার হাতির! পাহাড় বন সব থরথর করে কাঁপতে লাগল৷ তার সঙ্গে সঙ্গে হাতিটা, সেখান থেকে ঘুরে কয়েক পা ছুটে গিয়েই কুড়ুঙ্গের ভিতর হুড়মুড় করে পড়ল৷ আর যা চিৎকার!

আমি দুই গুলি মেরেই পথ ছেড়ে তাড়াতাড়ি আর দুটো গুলি ভরে নিয়েছি৷ আর হাতির পিছনে আর একটা মেরেছিও৷ কিন্তু সেটা বাঁশে আটকে গিয়ে আর হাতির গায়ে লাগতে পারেনি৷

বিপদ তো কেটে গেল, এখন চারিদিকে চেয়ে দেখতে লাগলাম৷ লুশাই বেচারা সেইখানেই কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে৷ আমার কাছ থেকে সে ৬ ধাপ মাত্র দূরে৷ আর যেখানে হাতিটাকে গুলি মেরেছিলাম সে জায়গাটা লুশাইয়ের কাছে থেকে মোটে ৩ ধাপ৷ হাতির শুঁড়টা আমার মনে হচ্ছিল যেন ঠিক লুশাইয়ের মাথার উপরেই ছিল৷ পিছনে চেয়ে দেখি ২০-২৫ হাত দূরে দাঁড়িয়ে গঙ্গারাম, শ্যামলাল আর অন্য খালাসিটা ঠক ঠক করে কাঁপছে আর খালি বলছে, 'বাবারে বাবা!' 'ওরে বাবারে! ওরে বাবারে!' তারা এগোয়ও না পালায়ও না৷ গঙ্গারামের বড়োই দুর্দশা! বেচারার মুখে যেন আর কথা বেরোচ্ছে না-ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে মাঝে মাঝে বলছে 'বাবারে বাবা৷ এত্তা বড়া কপাল৷' হাতির ওই কপালটাই খালি তার চোখে পড়ছে৷

আমি লুশাইটির কাছে গেলাম৷ বেচারা প্রাণের তো আশা ছেড়েই দিয়েছিল৷ আমি কাছে যেতেই আমার পা জড়িয়ে ধরল৷-মুখে তার কথা নাই৷

তখনও হাতিটার চিৎকারে বনজঙ্গল কাঁপছে; আর যেদিক দিয়ে সে গিয়েছিল, তাতে খালি রক্ত আর রক্ত৷

আমরা হাতির কাছ থেকে লুশাই বুড়োকে বাঁচাবার জন্য ব্যস্ত রয়েছি, ততক্ষণে আমাদের বাকি লোক সব এসে পৌঁছিয়েছে! তারা তো বন্দুকের আওয়াজ শুনে ভারি ফুর্তি করতে করতে আসছে যে আজ খুব করে হরিণের মাংস খাবে৷ এসেই সামনে পেয়েছে শ্যামলাল, গঙ্গারাম আর খাবারওয়ালা খালাসিকে আর তাদের মুখে ভালো করেই শুনেছে ব্যাপারখানা কীরকম৷ তখন আর কারোর মুখে হাসি নাই৷ লুশাই দোভাষী একজন ছিল, সে আরও কয়েকজন কুলিকে নিয়ে দেখতে গেল হাতিটা কী করছে; দু-চারজন খালাসিও তাদের সঙ্গে গেল৷

খানিক দূর গিয়েই তারা চেঁচামেচি লাগিয়েছে৷ তারপরেই দোভাষী আর দুইজন লুশাই ছুটে এসে বলল, 'চল! হাতিটা যেন কুড়ুঙ্গের ভিতর পড়ে আছে৷ আমরা খাই হাতির মাংস!' আমি কিন্তু কিছুতেই তাতে রাজি হলাম না; বললাম, 'বিপদ কেটে গেছে, লোকটার প্রাণ বেঁচেছে, এই ঢের; আর হাতির মাংস খেয়ে কাজ নেই৷'

তখন তারা বন্দুকটা চাইল৷ তাও দিলাম না দেখে শুধু দা কুড়ুল নিয়েই গেল৷ তারপর তারা কুড়ুঙ্গের দিকে খানিক দূর নেমে গিয়েছে, অমনি আবার চেঁচামেচি, আর তারপরেই আবার তারা ছুটে এসে হাজির৷ বলে, 'শিগগির এসো, শিগগির এসো! হাতির বাচ্চা!'

ছোট্ট একটা বাচ্চা, যেখান দিয়ে হাতিটা কুড়ুঙ্গের মধ্যে গিয়ে নেমেছে, সেইখান দিয়ে নামছে৷ ওই হাতিটারই বাচ্চা-হাতিটা কুনকি ছিল৷ বাচ্চাটার এক পায় চোট-টোট লেগে থাকবে, তাই খোঁড়াচ্ছে৷ দোভাষী দৌড়ে গিয়ে তার শুঁড় ধরেছিল, আর ব্যস্ত হয়ে আর সকলকেও ধরবার জন্য ডাকছিল, কিন্তু কারও যেতে ভরসা হয়নি৷ বাচ্চা হলে কী হবে? হাজার হোক, হাতির তো বাচ্চা! সে ঢিপঢাপ খালি দোভাষীকে ঢুঁ মারতে লাগল আর তার ওই ছোট্ট ছোট্ট পায় লাথি৷ দোভাষী তাতে থতমত খেয়ে ছুটে এসেছে খবর দিতে৷

ওই বাচ্চাটির খাতিরেই তার মা বুড়ো লুশাইকে মারতে গিয়েছিল৷ সন্তানের মায়া! বাচ্চাটি চলতে পারেনি বলে সে তাকে নিয়ে দলের পিছনে পড়ে যায়৷ তারপর বুড়ো গিয়ে হঠাৎ তার সামনে পড়তেই বোধ হয় বেচারির মনে হল যে, 'যা! হতভাগা বুঝি তবে আমার বাচ্চাকে ধরে নিতে এসেছে!'

হাতি বড়ো বেখাপ্পা জানোয়ার! এর সম্বন্ধে একটা কথা বলছি, শোনো৷ একটা পাহাড়ের উপর কোনো গ্রাম নাই৷ একজন সাহেব সেখানে জরিপের কাজ করতে গিয়েছিলেন৷ উঁচু পাহাড় পথ নাই, আবার বেজায় জঙ্গল৷ পাহাড়ে হাতির ভয়ও খুব আছে৷

সকালে উঠে সাহেব একজন আমিনের কাজ দেখতে বেরিয়েছেন৷ লোকজনদের বলে গিয়েছেন যে পাহাড়ের সকলের চেয়ে উঁচু চূড়াটার ঠিক নীচেই যেন তাঁবু লাগায়৷ পথ নাই, তাই হাতির পথ ধরে লোকজনেরা খচ্চরে করে সাহেবের জিনিসপত্র নিয়ে উপরে উঠল৷ বিকালে সেই চূড়াটার নীচে পৌঁছিয়ে তারা দেখল যে সেখানে বেশ জল আছে, তাই তারা সেইখানেই তাঁবু ফেলল৷

এদিকে সাহেব কাজে বেরিয়েছেন৷ তিনিও সেই জায়গায় আসবেন, তবে তাঁকে বনজঙ্গল ঘুরে আমিনদের কাজ দেখতে দেখতে আসতে হবে৷ সেদিন কিন্তু সাহেবের তাঁবুতে পৌঁছানো ঘটল না৷ বনের ভিতর ঘুরে ঘুরে তার আগেই রাত হয়ে গেল৷ অন্ধকারে চলতে না পেরে সাহেব আর তাঁর সঙ্গের লোকেরা পাহাড়ের উপরেই এক জায়গায় গাছের ধুনা জ্বেলে শুয়ে রইলেন, ভাবলেন সকালে উঠে তাঁবু যাওয়া যাবে৷

এদিকে তাঁবুতে সকলে পথ চেয়ে আছে কখন সাহেব আসবেন; কিন্তু সাহেবের দেখা নাই৷ ডাকাডাকি করে করে বেচারাদের গলা ভেঙে গেল, কিন্তু সাহেব ঢের দূরে-সে ডাক শুনতে পেলেন না৷ শেষে তারা সাহেবের আশা ছেড়ে দিয়ে শুয়ে রইল৷

অনেক রাত্রে খচ্চরগুলোর হুটোপুটিতে তাদের ঘুম ভেঙেছে৷ তারা ভাবল, ব্যাপারখানা কী? বলে যেই তাদের একজন খালাসি তাঁবুর দরজা একটু ফাঁক করে গলা বার করেছে, অমনি দেখে যে, বাবারে! এয়া বড়ো দাঁতওয়ালা হাতি, তার পিছনে আরও হাতি৷ সে আস্তে আস্তে সকলকে সাবধান করে দিয়ে সেই তাঁবুর পিছনের দিক দিয়ে বেরোতে যাবে, অমনি হাতিটাও তাঁবুর উপর এসে পড়েছে৷ তখন সকলে গড়িয়ে খাদের ভিতরে ঢুকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচাল, আর হাতিগুলো সেই রাস্তায় রাস্তায় চলে গেল৷ তাঁবুটার যা কিছু তাদের সামনে পড়েছিল, সব তারা শুঁড় দিয়ে ছুড়ে ছুড়ে খাদের মধ্যে ফেলে দিয়ে গেল৷ খচ্চরগুলো রাস্তার উপরেই বাঁধা ছিল, তারা সকলেই দড়ি ছিঁড়ে পালাল; খালি একটা খচ্চর মজবুত নতুন রশি দিয়ে বাঁধা ছিল, সে বেচারা তা ছিঁড়তেও পারেনি, পালাতেও পারেনি৷ হাতিরা সেটাকে মাড়িয়ে একেবারে পিষে দিয়ে গেল৷ পরদিন সাহেব তাঁবুতে ফিরে তো অবাক!

বৈশাখ ১৩২১

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%