বন্ধুর দান

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

বেনেগ্রাম ছোটো একটি গ্রাম৷ কিন্তু ছোটো হইলেও গ্রামে কয়েক ঘর অবস্থাপন্ন লোকের বাস আছে৷ তখন রেল হয় নাই, সেইজন্য নৌকো করিয়া দূর দেশে যাওয়া-আসা চল ছিল৷ বেনে-গ্রামের কাছেই নদী থাকায় ব্যবসায়েরও সুবিধা ছিল৷ ধনেশ্বর বণিক গ্রামের মধ্যে একজন বড়ো লোক৷ তাঁহার প্রকাণ্ড দোতলা পাকা বাড়ি, বাগান পুকুরে ঘেরা৷ সেই বাগানের বেড়া ঘেঁষিয়া ছোটো একটি একতলা বাড়ি, সেখানি রামলোচন নামে এক গরিব কায়স্থের৷

এই একতলা বাড়ির পিছনে খানিকটা পোড়ো জমি৷ তারই উপর দেখা যায়, ঝোপজঙ্গল ও বাঁশঝাড়ের মাঝখানে, একটি ঢিপির মাথায় একটা ভাঙা মন্দির৷ এই পোড়ো জমিটুকু নাকি বহুকাল আগে রামলোচনের পূর্বপুরুষেরাই ভোগ করিতেন৷ প্রবাদ আছে, সে মন্দিরে এক সময়ে খুব ঘটা করিয়া পূজা হইত, এবং এখনও নাকি দেবমূর্তির বেদির নীচে কিংবা মন্দিরের দেওয়ালের গায়ে, কিংবা আঙিনার তুলসীতলায় কোনো একজায়গায় অনেক ধনরত্ন লুকানো আছে৷ সঙ্গে সঙ্গে এও প্রবাদ আছে যে, মন্দিরের কাছের বাঁশঝাড়ে ভূতের বাসা, কেহ মন্দিরের কাছে গেলে ভূত তাহার ঘাড়ে চাপে৷ তাহা না হইলে অনেক আগেই লোকে সে ধনরত্নের খোঁজ করিত৷ যাহা হউক, গ্রামের লোকে সেসব কথা প্রায় ভুলিয়াই গিয়াছিল৷ কেবল ঠাকুরমা দিদিমারা মাঝে মাঝে ছোটো ছেলে-মেয়েদের কাছে সেই ধনের কথা ও ভূতের কথা গল্প করিতেন৷

ধনেশ্বরের প্রকাণ্ড বাড়িতে থাকিতেন কেবল তিনি নিজে, তাঁহার স্ত্রী ও দাস-দাসীরা৷ তাঁহাদের একটিও ছেলে কি মেয়ে ছিল না৷ পাশের ছোটো একতলা বাড়িতে থাকিতেন রামলোচন, তাঁহার স্ত্রী ও বুড়ি ঝি চণ্ডী, তাঁহাদেরও ছেলে-মেয়ে ছিল না৷

একদিন ভোর বেলা গ্রামের লোকে ঘুম ভাঙিয়া শুনিল, দোতলা বাড়িতে ও একতলা বাড়িতে, দুই বাড়িতে যেন রেষারেষি করিয়া শাঁখ বাজিতেছে৷ ধনেশ্বরের অনেক কাল পরে একটি ছেলে হইয়াছে, তাই এত শাঁখের ধুম৷ বণিকবাড়ির দাসী একতলা বাড়ির বেড়া ফাঁক করিয়া ডাকিল, 'কী লা চণ্ডী, তোরাও দেখি শাঁখ বাজাস? আমাদের ঘরে রাজপুত্র এয়েচেন, তোদের ঘরে কে এয়েচে লা?' চণ্ডী ঝি একগাল হাসিয়া বলিল, 'আমাদেরও রাজপুত্তুর এয়েচেন৷'

ধনেশ্বর তাঁহার ছেলের নাম রাখিলেন, 'কমলাচরণ'৷ তাঁহার ইচ্ছা সে লক্ষ্মীরই সেবা করিবে৷ তিনি গণক ডাকিয়া ছেলের কোষ্ঠী করাইলেন৷ কোষ্ঠীতে লেখা ছিল, সে পরের ধন ভোগ করিবে৷ রামলোচন তাঁহার ছেলের বড়ো বড়ো চোখ দুটি দেখিয়া তাহার নাম রাখিলেন 'পদ্মলোচন'৷ সকলে কমলাচরণকে ক্রমে 'চরণ' ও পদ্মলোচনকে 'লোচন' বলিয়া ডাকিতে লাগিল৷ চরণ দোতলার উপরে সাত দাসীর কোলেপিঠে মানুষ হইতে লাগিল৷ লোচন গরিবের ঘরে, মায়ের ও চণ্ডী দাসীর আদরে মানুষ হইতে লাগিল৷ কিন্তু কেমন করিয়া জানি একদিন চরণ আর লোচনে ভারি ভাব হইয়া গেল; যদিও তাহাদের জাতিতে মেলে না, যদিও একজন গরিবের ছেলে আর একজন ধনীর ছেলে৷

ইহার মধ্যে হঠাৎ রামলোচন স্বর্গে চলিয়া গেলেন৷ তখনও লোচন খুবই ছেলেমানুষ৷ তাহার মা অতি কষ্টে বাসনপত্র বাঁধা দিয়া, বিক্রি করিয়া তাহাকে মানুষ করিতে লাগিলেন৷ চরণ ও লোচন দু-টিতে একসঙ্গে পাঠশালে যায়৷ চরণের পড়ায় তত মন নাই৷ কিন্তু লোচন জানে সে লেখাপড়া শিখিয়া বড়ো হইলে, তবে তাহার মায়ের দুঃখ ঘুচিবে, তাই সে মন দিয়া পড়ে শুনে৷

চণ্ডীর কাছে লোচন মন্দিরের লুকানো ধনের কথা শুনিয়াছিল৷ সন্ধ্যার সময় জানালার ধারে বসিয়া লোচন দেখিত, দূরে কালো ঢিপির উপর অন্ধকার মন্দির আর তার পাশে বাঁশের বন৷ চাহিয়া চাহিয়া সে ভাবিত, 'ওই মন্দিরে না জানি কত হিরা-মানিক লুকানো আছে৷ আহা! সে সমস্ত যদি আমি পেতাম, তবে আর আমাদের এমন কষ্ট থাকত না৷ ও জমি তো আমাদেরই ছিল, ও ধনও তবে আমাদের৷' তাহার ইচ্ছা হইত একবার গিয়া খুঁজিয়া দেখে, যদি-বা কপাল গুণে সে ধন পায়৷ কিন্তু বাঁশের বনের দিকে চাহিয়া তাহার আর সাহসে কুলাইত না৷ তারপর মনে মনে বলিত, 'যখন বড়ো হব তখন খুব সাহস হবে আর ভূতের ভয় থাকবে না, তখন আমি ওই মন্দিরে গিয়া খুঁজব৷' সে চণ্ডীকে বলিত, 'চণ্ডী! জানিস, আমি যখন বড়ো হব, ওই মন্দির থেকে অনেক মোহর এনে তোকে আর মাকে দেব৷' চণ্ডী ভয় পাইয়া বলিত, 'খবরদার খোকাবাবু! ওখানে যেতে নেই, ওখানে ভূত আছে৷'

এমনি করিয়া বছর যায়৷ লোচনের পড়া শেষ হইয়াছে; কিন্তু তাহাদের যে দুঃখ সেই দুঃখই আছে৷ লোচনের বয়স এখন ষোলো-সতেরো হইবে৷ চরণের সঙ্গে এখনও তার ভাব, তবে এখন তাহাকে কাজের চেষ্টায় ঘুরিতে হয়, বাড়ি বাড়ি গিয়া দু-একটি ছেলেকে পড়াইতে হয়, তাই বন্ধুর সঙ্গে তাহার বড়ো দেখা হয় না৷ চরণ বড়োলোকের ছেলে, তাহার অনেক নূতন সঙ্গী জুটিয়াছে, সে লোচনের কথা প্রায় মনেই আনে না৷

লোচন কিন্তু মন্দিরের কথা ভোলে নাই৷ একদিন দুপুর বেলা সে ছোটো একখানা শাবল হাতে করিয়া বাড়ি হইতে বাহির হইল এবং কাহাকেও কিছু না বলিয়া মন্দিরের দিকে চলিল৷ পোড়ো জমি, উঁচু-নীচু খানাখন্দ পার হইয়া যাইতেছে; মাঝে মাঝে পিছন ফিরিয়া দেখে কেহ আসিতেছে কি না, মাঝে মাঝে এপাশে-ওপাশে গাছের দিকে চায়৷ যদিও ভূতের ভয় করিবে না মনে করিয়াছে, তবুও গাটা যেন ছমছম করিতেছে৷ শেষে যখন মন্দিরের কাছে আসিয়া পড়িল, তখন উৎসাহেতে ভূত-টুত সব ভুলিয়া গেল৷

অনেক পুরোনো মন্দির, ছাত পড়িয়া গিয়াছে, একদিকের দেওয়াল পড়িয়া গিয়াছে; সেই দিকেই বাঁশ বন৷ একটা বড়ো বাঁশের ঝাড় একেবারে উঠোনের উপর ঝুঁকিয়া পড়িয়াছে৷ সেই বাঁশঝাড়ের নীচে তুলসীমঞ্চ৷ মন্দিরের দেওয়ালের ও তুলসীমঞ্চের গাঁথুনি ছোটো ছোটো ইটের৷ উঠানে রাশিকৃত ইট-পাটকেল, ভাঙা দরজা কড়িবরগা, বড়ো বড়ো পাথরও৷ লোচন আগে সেই তুলসীমঞ্চের নীচে খুঁড়িতে লাগিল৷ খুঁড়িতে খুঁড়িতে সন্ধ্যা হইয়া গেল, তবু মাত্র আধ হাতের বেশি খুঁড়িতে পারিল না৷ কাজেই সেদিন বাড়ি ফিরিতে হইল৷ কিন্তু সে ছাড়িবার পাত্র নহে৷ এমনি করিয়া প্রতিদিন সে মন্দিরে যাইতে আরম্ভ করিল৷ ভূতের কথা সে ভুলিয়া গেল৷ তুলসীমঞ্চের নীচে কিছু পাওয়া গেল না৷ তখন সে মন্দিরের আবর্জনা সরাইয়া ঠাকুরের ভাঙা বেদি বাহির করিল৷ সেখানে কোনো মূর্তি নাই৷ বেদিখানা পাথরের তৈয়ারি৷ একখানি একখানি করিয়া পাথর ছেনি দিয়া কাটিয়া, শাবল দিয়া খুঁড়িয়া, অনেক কষ্টে সে সেগুলিকে সরাইল৷ পাথরের নীচে ধুলা মাটিতে শাবলের ঘা মারিতে ঠন করিয়া শব্দ হইল৷ তাড়াতাড়ি দুই হাতে মাটি সরাইয়া, লোচন দেখিল, দেড় হাত লম্বা দেড় হাত চওড়া একটা লোহার কবাট৷ কবাটের গায়ে একটা আংটা লাগানো৷ লোচন প্রাণপণে সেই আংটা ধরিয়া টানিল, কিন্তু কবাট খুলিল না৷ সে দাঁড়াইয়া উঠিয়া, কবাটের পাশে মাটিতে দুই পা জোরে বসাইয়া, দুই হাতে গায়ের জোরে টানিল; তাহার হাতের শির ফুলিয়া উঠিল, মুখ লাল হইয়া গেল, তবু লোহার কবাট নড়িল না৷ তখন সে হতাশ হইয়া মাটিতে বসিয়া পড়িল৷ এত কষ্ট করিয়াও কিছু ফল হইল না৷ তখন তাহার মনে হইল, একজনে না পারিলে, দুইজনে পারা যাইবে৷ কিন্তু কাহাকে বিশ্বাস করিয়া সে সাহায্য করিতে ডাকিবে, চণ্ডী দাসী? চণ্ডী দাসী তো বুড়ি, তার গায়ে জোর কোথায়? তা ছাড়া, এ কথা শুনিলে নিজে তো আসিবেই না, তাহাকেও আসিতে দিবে না, ভূতের ভয়ে৷ তখন তাহার মনে হইল, 'বন্ধুকে বললে কেমন হয়?' ঠিক কথা৷ চরণই উপযুক্ত লোক৷ সে তাহার বন্ধু, তাহাকে বিশ্বাস করা যায়৷ তা ছাড়া, যদি ধন পায়ই, লোচন গরিব মানুষ, কোথায় সে এত ধন রাখিবে? সে বন্ধুর সঙ্গে ভাগাভাগি করিয়া ধন লইবে, তাহার বদলে বন্ধু তাহাকে সাহায্য করিবে এবং ধন নিরাপদে রাখিবার ভার লইবে৷ এই ঠিক৷

লোচন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিল৷ কিন্তু সেদিন তাহার এত পরিশ্রম হইয়াছিল, যে, সেদিন আর সে চরণের সঙ্গে দেখা করিতে পারিল না৷

পরদিন লোচন চরণকে একলা ডাকিয়া নিয়া বলিল, 'ভাই, তোমার সঙ্গে আমার একটা দরকারি কথা আছে৷ একটা কাজে তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে? কিন্তু আর কেউ যেন জানতে না পায়৷' চরণ বলিল, 'কী তোমার এমন গোপনীয় কাজ, শুনি? যদি তাতে আমার কোনোরকম ক্ষতি না হয়, তবে সাহায্য করতে পারি৷' লোচন বলিল, 'তোমার ক্ষতি তো নেইই, বরং লাভ৷ তুমি যদি কিছু না-ও কর, তবু এসব কথা আর কাউকে বোলো না, আমি তোমাকে বিশ্বাস করে বলছি৷ ওই যে ভাঙা মন্দির আছে না, যেখানে ধন লুকানো আছে বলে লোকে বলে, সেখানে আমি গিয়েছিলাম৷'

'সত্যি! তারপর? ভূত দেখলে?'

'না না, ভূত কী, ভূতের কথা আমার মনেও হয়নি, আমি ওই ধন খুঁড়তেই গিয়েছিলাম৷'

'পাগল আর কি৷'

'শোনোই না কেন আমার কথা৷ তুলসীতলায় আগে খুঁড়লাম, সেখানে কিছু পেলাম না৷ তারপর বেদির নীচে খুঁড়তেই হঠাৎ ঠন করে একটা আওয়াজ হল-'

'তারপর?'

'তারপর তাড়াতাড়ি মাটিগুলো সরিয়ে দেখি কী, একটা লোহার কবাট৷'

'লোহার কবাট? তারপর?'

'তারপরে আর কী? অনেক চেষ্টা করেও কবাটটা খুলতে পারলাম না, তাই তোমার কাছে এসেছি৷ যদি কিছু পাই তো তোমার অর্ধেক, আমার অর্ধেক৷ তবে কি জানলে, আমি গরিব মানুষ, কোথায় সে সব রাখব? তোমাকেই তার বন্দোবস্ত করতে হবে৷ কেমন, রাজি আছ তো?'

'রাজি৷'

Cov53

পরদিন দুপুরে লোচন আর চরণ দু-জনে মন্দিরে গেল৷ চরণ বলিল, 'লোহার দরজা মরচে পড়ে আটকে রয়েছে৷ এক কাজ করা যাক, আগে দরজাটার চার দিকে শাবল দিয়ে আলগা করে নিয়ে, তারপর দু-জনে মিলে আংটা ধরে টানা যাক৷'

লোচন-'আংটাটাও তো মরচে ধরা, যদি ভেঙে যায়?'

'যায় যদি তো আর কী করা যাবে? তখন দরজাটাকেই শাবল দিয়ে খুঁড়ে তুলতে হবে৷'

তখন তাহারা আস্তে আস্তে দরজার চারিদিকে শাবল দিয়ে ঘা মারিতে লাগিল৷ দরজাটা যখন একটু আলগা মনে হইল, তখন দু-জনে মিলিয়া আংটা ধরিয়া খুব জোরে টান দিল৷ অমনি খটাং করিয়া লোহার দরজা উঠিয়া আসিল৷ দরজার ভিতর দিয়া দেখা গেল, নীচে ছোট্ট একটি কুঠুরি, দুইজন মানুষ কোনোমতে ঢুকিতে পারে৷ লোচন দরজার ফোকরে দুই-পা ঝুলাইয়া দিয়া কুঠুরির ভিতর নামিয়া পড়িল, পিছন পিছন চরণও নামিল৷ প্রথমে অন্ধকারে তাহারা কিছুই দেখিতে পাইল না, কেবল বিশ্রী একটা গুমোট গন্ধে তাহাদের যেন দম আটকাইয়া আসিতে লাগিল৷ তারপর ক্রমে ভিতরের অন্ধকার তাহাদের চোখে সহ্য হইয়া আসিলে, তাহারা দেখিতে পাইল, কুঠুরির দেওয়ালের গায়ে ষোলোটি পিতলের ঘড়া সাজানো৷ ঘড়ার ভিতরে হাত দিয়া দেখিল মোহর! চরণ লোচনের দিকে চাহিল, লোচন চরণের দিকে চাহিল, কেহ কিছু বলিল না৷ দুইজনেই আস্তে আস্তে বাহির হইয়া আসিল; ভিতরে যেন তাহারা নিশ্বাস ফেলিতে পারিতেছিল না৷

বাহিরে আসিয়া লোচন বলিল, 'এখন এত মোহর বাড়ি নেব কেমন করে?'

চরণ বলিল, 'দিনের বেলা নেওয়া যাবে না৷ তাহলে অন্য লোকে দেখে ফেলবে৷ ও একটা ঘড়া আমরা দু-জনে মিলে তুলতে পারব কি না সন্দেহ৷ রাত্রে নিতে হবে৷ বেশি দিন আবার ফেলে রাখাও নিরাপদ নয়৷'

'তবে চলো আজ রাত্রেই আরম্ভ করি৷'

'রোসো, আমি আগে রাখবার জায়গা ঠিক করি৷ তা ছাড়া, পরশুদিন অমাবস্যা গিয়েছে, আজ রাত্রে অন্ধকার হবে৷ জ্যোৎস্না রাত না হলে হবে না৷'

'তাইতো, তাহলে কিছুদিন সবুর করতে হয়৷ সাত-আট দিন পরে হতে পারে৷ এসো তবে এখন যাওয়া যাক৷' দরজাটা আবার বন্ধ করিয়া দিয়া তাহারা বাড়ি ফিরিল৷

এতদিন রোদে রোদে এত পরিশ্রম করার ফলে লোচনের জ্বর আসিল৷ বিকালে চরণ আসিয়া দেখিল বন্ধু শয্যাগত৷ সে মুখে অনেক দুঃখ প্রকাশ করিল বটে, কিন্তু মনে মনে তাহার বিশেষ দুঃখ হয় নাই৷ মোহর দেখিয়া অবধি তাহার যেন মাথা ঘুরিয়া গিয়াছে৷ সে কেবল ভাবিতেছে, 'আটটা ঘড়া আমার, আটটা লোচনের৷ যদি ষোলোটাই আমার হত তবে কেমন হত?' ক্রমেই এই দুষ্টবুদ্ধি তাহাকে পাইয়া বসিল৷ তাই সে লোচনের জ্বর হইয়াছে দেখিয়া, মনে মনে বলিল, 'এইবার সুযোগ৷' কিন্তু তখনও অন্ধকার রাত, কিছুদিন দেরি করিতে হইবে৷ তারপরের দিন-দুপুরে চণ্ডী দেখিল, চরণ কতকগুলি বাঁশের চোঙা হাতে করিয়া পোড়ো জমির দিকে যাইতেছে৷ চণ্ডী তাহাকে ডাকিয়া বলিল, 'দাদাবাবু, লোচনের যে বড্ড অসুখ, একবার তাকে দেখে যাবে না?' 'এই যাব৷' বলিয়া চরণ চলিয়া গেল৷

সন্ধ্যার সময় চরণ লোচনকে চুপিচুপি বলিল, 'জান ভাই, সেইদিন থেকে নাকি মন্দিরের কাছে বাঁশঝাড়ের ভিতর কীরকম বিকট শব্দ শোনা যায়৷ আমরা টাকার সন্ধান পেয়েছি বলে বোধ হয় ভূতগুলো রেগেছে৷ কাল রাত্রে যখন জোরে বাতাস বইছিল, আমাদের দোতলা থেকে 'হু-হু' শব্দ শোনা যাচ্ছিল৷ শব্দটা ঠিক মন্দিরের দিক থেকে আসছিল৷' লোচন বলিল, 'আর তো মাত্র ৫-৭ দিন আছে, এর মধ্যে আমি ভালো হয়ে উঠলে হয়৷'

জ্যোৎস্না রাত আসিয়া পড়িল, কিন্তু লোচনের জ্বর সারিল না৷ চরণ সুযোগ বুঝিয়া একরাত্রে, সেই মোহরের সন্ধানে মন্দিরে চলিল৷ তাহার যে ভূতের ভয় ছিল না তাহা নহে, তবু টাকার লোভে সে অন্য কথা ভুলিতে চেষ্টা করিল৷ লোহার কবাট এখন আলগা, কাজেই সেটাকে সে একটু চেষ্টা করিয়াই খুলিয়া ফেলিল৷ ভিতরে অন্ধকার৷ সে তো বাতি আনে নাই! কিন্তু এত কষ্ট করিয়া আসিয়া আবার ফিরিয়া যাইবে? তাই সে চোখ-মুখ বুজিয়া অন্ধকারেই নামিয়া পড়িল৷

হাতড়াইতে হাতড়াইতে যেমনি একটি ঘড়ার গায়ে হাত ঠেকিল, অমনি ধুড়ুস করিয়া কীসের একটা শব্দ হইল৷ ভয়ে চরণের সমস্ত শরীরের লোম যেন দাঁড়াইয়া উঠিল৷ উপর দিকে চাহিয়া দেখে, দরজার ফাঁক দিয়া যেখানে জ্যোৎস্নাভরা চারকোণা আকাশ চকচক করিতেছিল, সেখানটা একেবারে ঘুটঘুটে অন্ধকার, দরজাটা বন্ধ হইয়া গিয়াছে! নামিবার সময়ে তাড়াতাড়িতে সে ভালো করিয়া দেখে নাই, চারপাশের ছড়ানো পাথরগুলো এমনভাবে ছিল যে, দরজাটা খুলিলে, উলটাইয়া মাটিতে না পড়িয়া, পাথরের গাদার গায়ে ঠেকিয়া খাড়া হইয়া ছিল৷ ঝড়েও বোধ হয় ইট পাটকেল একটু নাড়াচাড়া হইয়া থাকিবে, কেমন করিয়া জানি একটা পাথর গড়াইয়া দরজার উপরে পড়িয়া যায়, তাহাতেই দরজাটা বন্ধ হইয়া যায়৷

কিছুক্ষণ পর্যন্ত চরণের যেন বুদ্ধি লোপ পাইয়াছিল৷ যখন জ্ঞান ফিরিয়া আসিল, সে দুই হাত উঁচু করিয়া পাগলের মতো দরজায় ঘুসি মারিতে লাগিল৷ উপর হইতে টানিয়া খোলা সহজ; নীচ হইতে খোলা সহজ নহে, বিশেষত দরজাটা ভালো করিয়া হাতে পাওয়া যায় না৷ ঘুসি মারিতে মারিতে তাহার হাতের মুঠা কাটিয়া রক্ত বাহির হইল৷ যখন হয়রান হইয়া সে মাটিতে বসিয়া পড়িল, তখন তাহার গা বাহিয়া দরদর করিয়া ঘাম ঝরিতেছে; সে চিৎকার করিয়া কাঁদিয়া ফেলিল, 'হায় রে, আমার লোভের এই শাস্তি৷ এই অন্ধকার মাটির নীচে আমাকে মরতে হবে৷ গলা ফাটিয়ে চেঁচালেও তো কেউ এখানে শুনতে পাবে না, আমি নিজেই যে সে পথ বন্ধ করেছি৷ লোচনের অসুখ, সেও আসতে পারবে না৷' ক্রমে তাহার শরীর অবসন্ন হইয়া পড়িল৷

পরের দিন বণিকবাড়িতে হুলুস্থুল কান্নাকাটি, চরণকে কোথাও পাওয়া যাইতেছে না৷ গ্রামের চারিদিকে লোক ছুটিতেছে, পুকুরে পুকুরে জাল ফেলা হইয়াছে৷ মন্দিরের কথা কেহ ভাবে নাই, ভাবিবার কথাও নহে৷ এদিকে লোচন জ্বর বিকারে বিছানায় পড়িয়া৷ বিকাল বেলা আকাশ অন্ধকার করিয়া ঝড় আসিল৷ এক-একবার বাতাস ঝাপটা দেয়, আর কোঠাঘরগুলি পর্যন্ত যেন নড়িয়া উঠে৷ লোচন বিছানায় ছটফট করিতেছে, মাঝে মাঝে প্রলাপ বকিতেছে৷ মাঝে মাঝে যখন একটু জ্ঞান হয়, চারিদিকে চাহিয়া দেখে৷ একবার দেখিল দরজার কাছে চণ্ডী দাসী ঘুমাইয়া আছে৷ আবার শুনিল বাতাস হাঁকিতেছে, 'হু-হু' করিয়া বাঁশঝাড়ের ভূতটা কাঁদিতেছে৷ তাই তো, আজ না তাহাদের মন্দিরে যাইবার কথা ছিল? এমন দিনে কি আর যাওয়া যায়? আরও কিছুদিন দেরি করিতে হইবে৷ আবার দেখিল, যেন চরণ সেই ঝড়ে বৃষ্টিতে মন্দিরের উঠানে একটা পাথরে হোঁচট খাইয়া পড়িয়া গেল, ভূতটা যেন তাহাকে চাপিয়া ধরিল৷ লোচন স্পষ্ট শুনিল, চরণ তাহার নাম ধরিয়া 'লোচন লোচন' বলিয়া চিৎকার করিতেছে৷ যতবার তাহার ঘুম আসে, ততবার সেই চিৎকার শুনিতে পায় 'লোচন, লোচন, লোচন'৷ শেষে আর সে স্থির থাকিতে পারিল না, লাফাইয়া বিছানা হইতে নামিয়া দরজা দিয়া ছুট দিল৷ চণ্ডী দাসী পিছনে পিছনে ছুটিল 'কোথা যাও, কোথা যাও, পাগল হলে নাকি? ও মা গো, দেখো এসে লোচনের কী হল?'

কোনো দিকে দৃষ্টি নাই, কাহারও কথায় ভ্রূক্ষেপ নাই, লোচন সোজা মন্দিরের দিকে ছুটিয়াছে৷ বাঁশঝাড়ের কাছে আসিতে, সাদা রঙের কী যেন একটা সড়সড় করিয়া গাছের উপর হইতে নামিল৷ লোচন মচমচ করিয়া বাঁশের খোলাটা মাড়াইয়া চলিয়া গেল৷ মন্দিরের উঠানে পৌঁছিয়া সে একবার থামিল, একবার চারিদিকে চাহিল, তারপর চিৎকার করিয়া ডাকিল, 'চরণ'! কেউ কোথাও নাই, কেবল বাঁশঝাড়ে 'হু-হু' করিয়া কে যেন গোঙাইতেছে৷ আবার আরও জোরে ডাকিল 'চর-ণ'৷ এবার যেন তাহার মনে হইল মাটির ভিতর হইতে কে কী বলিল৷ সে ছুটিয়া গিয়া দরজার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়া ডাকিল, অমনি স্পষ্ট শুনিল ভিতরে কে যেন কাঁদিতেছে৷ অমনি দুই হাতে দরজা ধরিয়া টানিতে লাগিল৷ এতদিন ভুগিয়া তাহার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হইয়া পড়িয়াছিল, তবু সে দরজা খুলিবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করিতে লাগিল৷ শেষটায় দরজা খোলার সঙ্গেসঙ্গে সেও অজ্ঞানের মতো মাটিতে পড়িয়া গেল৷ জ্ঞান হইলে চাহিয়া দেখিল, চণ্ডী দাসী তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িয়া দেখিতেছে, তাহার হাতে একটা তেলের বাতি৷ তাহাকে চোখ খুলিতে দেখিয়া চণ্ডী যেন বাঁচিল৷ সে আস্তে আস্তে লোচনকে উঠাইয়া বলিল, 'শিগগির বাড়ি চল, আমি ধরে নিয়ে যাচ্ছি৷ শিগগির চল৷' লোচন খানিক হতভম্বের মতো বসিয়া থাকিয়া, হঠাৎ লাফাইয়া উঠিয়া দাঁড়াইল আর বলিল, 'বাতিটা দাও দেখি৷' বলিয়া, চণ্ডীর হাত হইতে বাতি কাড়িয়া লইয়া সে কুঠুরির ভিতর নামিয়া পড়িল৷ চরণ তখন অসাড় অচেতনের মতো পড়িয়া আছে, মাঝে মাঝে তাহার মুখ দিয়া 'গোঁ গোঁ' শব্দ বাহির হইতেছে৷ চণ্ডী উপর হইতে 'ও লোচন, ও লোচন' করিয়া ডাকিতেছে, ভয়ে তাহার গলার স্বর বাহির হয় না৷ লোচন তাহাকে বলিল, 'চুপ করো, এখন যা বলি তাই করো, আমি একে তুলে ধরছি, তুমি টেনে নাও৷' লোচন ছিল লম্বা, চরণ ছিল ছোটোখাটো৷ লোচন চরণকে উঁচু করিয়া ধরিল, চণ্ডী তাহাকে কোনোমতে টানিয়া উপরে তুলিল৷

মানুষের মনের বলই আসল বল৷ তা না হইলে সেই ঝড়ের রাতে দুর্বল শরীর নিয়ে লোচন কী করিয়া এতদূর চরণকে বহিয়া আনিল? চণ্ডী বাতি হাতে তাহার সঙ্গে সঙ্গে থাকিয়া তাহাকে সাহায্য করিতেছিল বটে, কিন্তু লোচন সেদিন যে সাহস দেখাইয়াছে, তেমন সাহস অল্প ছেলেই দেখাইতে পারে৷

লোচন ও চরণের সম্পূর্ণ সুস্থ হইতে কিছুদিন লাগিল৷ সুস্থ হইয়া তাহারা সমস্ত লুকানো ধন ঘরে আনিল৷ চরণ বলিল, 'ভাই লোচন! আমি যেমন তোমাকে ঠকিয়ে লোভ করে নিজে সব নিতে গিয়েছিলাম, তেমনি শাস্তি আমার হয়েছে৷ এ টাকার ভাগ আমি নেব না, সমস্তই তোমার৷' লোচন তাহাকে বলিল, 'তা হবে না, তোমাকে নিতেই হবে৷ আমার ভাগও তোমার কাছে রাখতে হবে৷ গরিবের বাড়িতে কোথায় এত টাকা রাখা যায়? কিন্তু কী ভাগ্যিস, যতদিন আমরা বিছানায় পড়েছিলাম, ততদিন আর কেউ এর সন্ধান পায়নি৷' তখন চরণ বলিল, 'পাবে কী করে? ভূতের ভয়ে কি কেউ সেদিকে যায়? মনে নেই, তোমার যখন জ্বর হয়েছিল আমি এসে তোমাকে বলেছিলাম যে, আমরা কুঠুরির দরজা খুলেছি বলে ভূতেরা রেগেছে, বাঁশঝাড়ে তারা 'হু-হু' করে চেঁচায় শোনা যায়?'

'ঠিক ঠিক, আমিও সেদিন ঝড়ের সময় শুনেছি 'হু-হু' শব্দ হচ্ছিল৷'

'সে ব্যবস্থা আমিই করেছিলাম৷ এখন অবশ্য এতে আমাদের কাজ দিল, কিন্তু তখন করেছিলাম তোমাকেই ভয় দেখাবার জন্য৷ মন্দ যারা তারা সবাইকে মন্দ মনে করে৷ আমার নিজের মনে যখন মতলব এল, দু-জনে যাবার আগেই একলা গিয়ে ঘড়াগুলো নিয়ে আসব, তখন মনে হল তুমিও তো এই মতলব করতে পার৷ তখন জ্বর তোমার বেশি ছিল না৷ আমি করলাম কী, দু-তিনটা বড়ো বড়ো বাঁশের চোঙা কেটে এমন করে বাঁধলাম যে, তার ভিতর দিয়ে জোরে বাতাস গেলে বিকট আওয়াজ হয়৷ সেগুলোকে মন্দিরের বাঁশঝাড়ে ঝুলিয়ে দিলাম৷ একে বাঁশঝাড়েই নানারকম শব্দ হয়, তাতে এই চোঙাগুলো থাকাতে অদ্ভুত শব্দ হতে লাগল৷ গ্রামের লোকেরা পর্যন্ত সেশব্দ শুনে ভয় পেয়েছে৷ ভাই, আমি কত দুষ্টু দেখলেই তো; আমি এ টাকা কিছুতেই নিতে পারব না৷' লোচন সে সব কথা শুনিল না, সে বলিল, 'আচ্ছা, বন্ধুর উপহার বলেও অন্তত নাও৷'

শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৩০

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%