ফোর্থ টেস্ট

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

রোজ সন্ধ্যে বেলা বাড়ি ফিরে নীলাম্বর দাশগুপ্ত এক কাপ চা খান৷ এই কাজটি করে তাঁর খাস বেয়ারা দামু ওরফে শ্রীদাম নায়েক৷ সাড়ে ছ-টা নাগাদ বাথরুমে গরম জল তৈরি থাকে৷ অফিসের পোশাক ছেড়ে স্নান সেরে দাশগুপ্ত সাহেব পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি পরে ফেভারিট রকিং চেয়ারটিতে এসে বসেন আর দামু হাতে দার্জিলিং চায়ের বোন চায়নার পেয়ালাটি ধরিয়ে দেয়-চা আর দুধের হিসেব নিখুঁত, চিনি আধ চামচে৷ নীলাম্বর দাশগুপ্তর জীবনে দু-টি নেশা- একটি এই সন্ধ্যে বেলার চা, অন্যটি ক্রিকেট৷ ছেলেবেলা থেকেই নীলাম্বর ক্রিকেট পাগল৷ স্কুলের নীচু ক্লাসে পড়তে কিছুদিন নিজে খেলার চেষ্টা করেছিলেন৷ তখনই বুঝতে বিন্দুমাত্র কষ্ট হয়নি যে খেলা ওঁকে দিয়ে হবার নয়৷ সেই সময় থেকেই খেলা দেখা শুরু করেন৷ যখন বয়স কম ছিল, সময় ছিল অঢেল-তখন কোনো খেলাই বাদ দিতেন না৷ গড়ের মাঠের ডিভিশন ক্রিকেট তো বটেই-এমনকী ছুটির দিনে রাস্তায় ইঁট লাগিয়ে ছেলেদের টেনিস বলে ক্রিকেট খেলা দেখলেও দাঁড়িয়ে পড়তেন৷ ইডেন গার্ডেনে টেস্টের আসর বসলে গ্যালারির টিকিটের জন্য আগের রাত থেকে লাইন দিতেন৷ তারপর চাকরিতে ঢুকলেন৷ ধাপে ধাপে পদোন্নতির সঙ্গে ক্রমে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অ্যানুয়াল মেম্বার, তারপর অ্যাসাসিয়েট মেম্বার এবং গত বেশ কয়েক বছর থেকে লাইফ মেম্বার৷

ডিরেক্টর হওয়ার পর থেকে অফিসের ফেস্টিভ্যাল ক্রিকেট ম্যাচের লাঞ্চের খরচের মোটা অংশটা তিনি দেন৷ এবারের টেস্ট ম্যাচের জন্য দাশগুপ্ত সাহেবকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ওয়ার্কিং কমিটির মেম্বার করার কথা উঠেছিল৷ কিন্তু ইদানিং ব্লাড প্রেশারটা বেড়েছে৷ ডাক্তার বক্সি বললেন অফিসের পরিশ্রমের পর আর বাড়তি ধকল নেওয়া উচিত হবে না, তাই নীলাম্বর দাশগুপ্ত পিছিয়ে এলেন৷

সাহেব বাথরুমে ঢুকেছেন প্রায় মিনিট পনেরো৷ চায়ের সরঞ্জাম রকিং চেয়ারের পাশের টিপয়ের উপর নামিয়ে রেখে দামু ভাবল সাহেবের বেরোতে এত দেরি তো কখনোই হয় না৷ তা ছাড়া অফিস থেকে ফিরেই আজ দামুকে বলেছেন কাল সকাল থেকে খেলা শুরু, আজ তাড়াতাড়ি ডিনার খেয়ে শুয়ে পড়বেন৷ টেলিফোনটা ওপরের ঘরে আনার দরকার নেই৷ বাথরুমে জলের আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না৷ তাহলে?

আরও মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করার পরও যখন সাহেব বেরোলেন না তখন দামুর হঠাৎ কেমন ভয় হল৷ মেমসাহেব বাড়িতে নেই, সাহেবের একমাত্র ছেলেও বিদেশে৷ যদি কিছু হয়ে থাকে? বাথরুমের দরজার কাছে গিয়ে দামু ডাকল, 'সাহেব চা ঠান্ডা হচ্ছে৷' সাড়া নেই৷ আর একবার ডাকল, আর একটু জোরে-এবারেও নিঃশব্দ৷ তখনই মনে পড়ল বাথরুমের দরজার ল্যাচটা কাজ করে না, ভিতর থেকে বন্ধ করার উপায় নেই৷ সাহস করে ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল৷ নীলাম্বর দাশগুপ্ত সটান বাথরুমের মেঝের ওপর পড়ে আছেন-অজ্ঞান৷ মুখটা একপাশে ফেরানো, নাক দিয়ে সামান্য রক্তের ধারা৷

সেই রাত্রেই নীলাম্বর দাশগুপ্তকে অচৈতন্য অবস্থায় নার্সিং হোমে ভরতি করা হল৷ সেরিব্রো ভাসকুলার অ্যাক্সিডেন্ট-ব্লাড প্রেশার ছিলই৷ রুগিকে পরীক্ষা শেষ করে সহকারী ডাক্তারকে নির্দেশ-টির্দেশ দেওয়ার পর রায়চৌধুরী মিসেস দাশগুপ্তকে বললেন, 'যতক্ষণ জ্ঞান না ফিরছে ততক্ষণ কিছুই বলা যাবে না৷ তবে চেষ্টার ত্রুটি হবে না৷ মিস্টার বোস তো রইলেনই, আমার দু-জন হাউস ফিজিশিয়ানও পালা করে ওঁর কাছে থাকবে৷ তারপর দেখা যাক৷' 'থ্যাঙ্ক ইউ ডক্টর,' বলতে গিয়ে মিসেস দাশগুপ্তর হঠাৎ কেন জানি মনে হল আগামী কাল ইডেন গার্ডেনে ভারত ইংল্যান্ডের ফোর্থ টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে এবং এত বছরের মধ্যে এই প্রথম নীলাম্বর দাশগুপ্ত মাঠে বসে খেলা দেখবেন না৷

সকাল ন-টা পঁয়তাল্লিশ৷ রাত্রে যে সব ইনভেস্টিগেশনগুলো করা হয়েছিল তার রিপোর্ট আনবার জন্যে সিস্টার হাওয়েলকে নির্দেশ দিয়ে ডা. রায়চৌধুরীর সহকারী সমীর বিশ্বাস ব্যাগ থেকে ট্রানজিস্টার রেডিয়োটা বার করল৷ ওরও মাঠে যাবার কথা ছিল আজ-এই কেসটা কাল রাত্রে না এসে পড়লে এতক্ষণে ও ইডেন গার্ডেনে৷ টিকিটটা ভাইকে দিয়ে দিতে হল৷ রুগির অবস্থা এখন মোটামুটি ঠিক৷ জ্ঞান নেই, তবে অবস্থার অবনতিরও কোনো লক্ষণ নেই৷ জানলার কাছাকাছি চেয়ারটা টেনে নিয়ে রেডিয়োটা খুলল সমীর-শিবাজি দাশগুপ্তর গলা৷ হঠৎ মনে হল রুগি কথা বলছে৷ ভল্যুম কমিয়ে রুগির দিকে তাকাল সমীর৷ নিস্পন্দ, নাকে অক্সিজেন আর খাওয়ানোর নল, চোখ বন্ধ কিন্তু ঠোঁট দুটো যেন অল্প অল্প নড়ছে৷ মনে হল রুগি বলছে 'একি পিচে তো মোটেই ঘাস নেই৷' রেডিয়োতে তখন বিশেষজ্ঞ ভাষ্যকার হনুমন্ত সিং বলছেন ইডেনে এমন ঘাসবিহীন ন্যাড়া পিচ এর আগে কমই বানানো হয়েছে৷ সমীরের কেমন খটকা লাগল৷ সত্যি সত্যি কি রুগি ওই কথা বলল না রেডিয়োর কমেন্টারি আর ওর নিজের মনে খেলার চিন্তা থেকে ওর মনে হল এইরকম৷ না, রুগি কিছু বলছে ঠিকই৷ রুগির কাছে সরে এল সমীর৷ অজ্ঞান অচৈতন্য নীলাম্বর দাশগুপ্তর গলায় অস্পষ্ট মৃদুস্বর, কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই কথাগুলো বোঝা যায়, 'গাভাসকার শেষ অবধি টসে জিতল তাহলে৷' সমীর ট্রানজিস্টারের ভল্যুম বাড়িয়ে শুনল, বেশ কয়েকবার টসে হারার পর গাভাসকর টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ আশ্চর্য তো! অজ্ঞান রুগি কখনো কখনো প্রলাপ যে বকে না তা নয়, কিন্তু প্রায়শই তা এত পরিষ্কার বোঝা যায় না৷ তা ছাড়া রুগি যা বলল তার সঙ্গে ক্রিকেটের মাঠে যা ঘটছে তা মিলে যায় কী করে? টেলিপ্যাথি নাকি! সমীর ট্রানজিস্টার রেডিয়োতে হেডফোনটা লাগাল তারপর চেয়ারটা টেনে রুগির খাটের কাছে নিয়ে এসে বসল-সন্দেহটার নিরসন হওয়া দরকার৷ মিনিট কুড়ি বাদে সমীরের খেয়াল হল ওর রীতিমতো ঘাম হচ্ছে-এই শীতের সকালে এয়ার কন্ডিশনড ঘরের মধ্যে! গত কুড়ি মিনিটে রুগি যা যা বলেছে তার প্রত্যেকটা কথার সঙ্গে মাঠে যা যা ঘটছে তার হুবহু মিল৷ এ যেন অচৈতন্য রুগির প্রলাপ নয়, মাঠে বসা একজন ক্রিকেট পাগল দর্শকের প্রতিক্রিয়া৷ গাভাসকর অফ স্টাম্পের বাইরের বল অনর্থক খোঁচা মেরে টেলারের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার সঙ্গেসঙ্গে সমীর ডা. রায়চৌধুরীকে টেলিফোন করল৷

রায়চৌধুরী এসে পৌঁছোতে পৌঁছোতে সোয়া বারোটা বাজল৷ ইতিমধ্যে অজ্ঞান নীলাম্বর দাশগুপ্তর মুখে সমীর ভারতের তিনটে উইকেট পড়ার খবর শুনেছে লাঞ্চের সময় পর্যন্ত-এবং ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে রুগির অবস্থাও সামান্য অবনতির দিকে-ব্লাড প্রেশার খানিক ওঠা-নামা করছে-পালস একটু ইরেগুলার, দ্রুত৷ রুগিকে পরীক্ষা করার পরে রায়চৌধুরী সমীরের দিকে তাকালেন!

'তুমি কী যেন বলেছিলে সমীর?'

সমীর ইতস্তত করছিল, 'হ্যাঁ স্যার৷ একটা কথা, মানে, ঠিক কীভাবে যে-'

সমীরের মুখে ঘটনাটার কথা শুনতে শুনতে অভ্যাসবশে রায়চৌধুরী মাথার সামনের দিকে টাকের পিছন থেকে বেশ গোটাকতক চুল ছিঁড়ে ফেললেন! 'বল কী সমীর! আর ইউ কোয়াইট সিরিয়াস?'

'পুরোপুরি স্যার৷ আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না প্রথমে৷'

'আচ্ছা! খোলো তো তোমার রেডিয়োটা৷ সিস্টার একটু বাড়িতে খবর দিয়ে দিন তো ভাই, ফিরতে দেরি হবে৷' রায়চৌধুরী রুগির বিছানার পাশের চেয়ারটায় গিয়ে বসলেন, কানে সমীরের রেডিয়োর হেডফোন৷ লাঞ্চের পর খেলা ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছে-মাঝে মাঝেই নীলাম্বর দাশগুপ্তর গলায় মৃদুস্বরে সেইরকম মন্তব্য-যার সঙ্গে ইডেনের মাঠের খেলার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ মিল৷

প্রায় দু-ঘণ্টা বাদে রায়চৌধুরী চেয়ারটা ঠেলে উঠলেন৷ বেশ উত্তেজিত৷ ইতিমধ্যে টাকের পিছনের বিরল কেশদাম আরও একটু পাতলা হয়ে এসেছে৷ বললেন, 'অ্যামেজিং! বুঝলে সমীর, অবিশ্বাস্য! ইনক্রেডিবল! একটা পাবলিশ করার মতো কেস৷ রুগিকে সর্বক্ষণ মনিটর করার দরকার৷ আর প্রলাপটা-প্রলাপই বা বলি কী করে, প্রত্যেকটা কথাই তো বাস্তবের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, ওটা রেকর্ড করো৷ একটা টেপ রেকর্ডার লাগাও৷ মোস্ট ইন্টারেস্টিং৷ ঘটনাগুলো সিকোয়েন্স অনুযায়ী নোট করে রাখো, বুঝলে৷ ব্রেন স্ক্যানের রিপোর্টটা এসেছে? এরকম যদি চলতে থাকে তাহলে আর একবার রিপিট করাতে হবে৷ আর একটা কথা৷ এ সম্বন্ধে এখন কেউ না কিছু জানতে পারে৷ যতক্ষণ না ব্যাপারটা বোঝা যাচ্ছে-একেবারে চুপ৷ রুগির আত্মীয়স্বজনকেও এখন কিছু বলার দরকার নেই৷ গুরুত্বটা বুঝতে পারছ তো? আর, নো ভিজিটর্স৷ আমি যাবার সময় গুপ্তাকে বলে যাচ্ছি৷ সিস্টার, ঘরের বাইরে 'নো ভিজিটর্স' বোর্ডটা টাঙিয়ে দিন তো৷'

আজ ৪ জানুয়ারি৷ নীলাম্বর দাশগুপ্তর নার্সিংহোম বাসের ষষ্ঠ এবং ভারত ইংল্যান্ড ফোর্থ টেস্ট ম্যাচের পঞ্চম দিন৷ সকাল ন-টা৷ রুগির শারীরিক অবস্থা প্রায় একইরকম৷ সমীর বিশ্বাস ডায়েরিতে কেসটার জরুরি পয়েন্টগুলো লিখে রাখছিল৷ ইনভেস্টিগেশনে মস্তিষ্কের বিশেষ কোনো ক্ষতি ধরা পড়েনি৷ জ্ঞান কিন্তু ফিরে আসা উচিত ছিল৷ আরও একটা কথা৷ খেলার গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রুগি যে সর্বক্ষণ মন্তব্য করে গেছে তাই নয়, খেলার ওঠা-নামার সঙ্গে রুগির শারীরিক অবস্থাও ওঠা-নামা করেছে৷ অন্য সময় রুগি চুপ, অবস্থারও বিশেষ তারতম্য নেই৷ খেলার পঞ্চম এবং শেষ দিনে ভারত বিপর্যয়ের মুখে৷ ইনিংসে হার এড়ানোর জন্যে এখনও ২০৩ রানের দরকার৷ চতুর্থ দিনের শেষে বথামের শেষ ওভারের শেষ বলে শ্রীকান্ত লেগ বিফোর উইকেট আউট হয়ে গেছে এবং সেই সঙ্গে নীলাম্বর দাশগুপ্তর মুখে শেষ কথা, 'হায় ভগবান!' এখন ন-টা পঁচিশ! খেলা আজ আধঘণ্টা আগে শুরু৷ সমীর টেপরেকর্ডারটা চালিয়ে দিয়ে রেডিয়োর হেড ফোনটা কানে লাগাল৷ সিস্টার হাওয়েলের চোখ মনিটরের দিকে৷

ফোর্থ টেস্টের শেষ দিনের চায়ের বিরতি এইমাত্র শেষ হয়েছে৷ খেলা এখনও ভারতের প্রতিকূল-ছ-উইকেটে ১৩৫৷ একমাত্র ভরসা গাভাসকর এখনও ক্রিজে, সঙ্গে যশপাল শর্মা-দু-জনেই রক্ষণাত্মক৷ দর্শকরা উত্তেজনায় নিস্তব্ধ৷ নীলাম্বর দাশগুপ্ত রেস্টলেস-ব্লাড প্রেশার আবার ওঠা-নামা করছে-নাড়ির গতি দ্রুত৷ দুপুর থেকেই ডা. রায়চৌধুরী রুগির ঘরে৷ তাঁর আমন্ত্রণে বম্বের বিখ্যাত স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডা. জাল পোস্তওয়ালাও এসে পৌঁছেছেন৷ অজ্ঞান রুগির মুখে অস্ফুট ভগবানের নাম৷

ম্যান্ডেটরি ওভার শুরু হবার ঠিক আগের ওভারের দ্বিতীয় বলের সঙ্গে সঙ্গে রুগির মুখে পরিষ্কার শোনা গেল-'ওহ নো, আউট৷' সারা মাঠ তখন হায় হায় করে উঠেছে৷ উইলিসের বলে যশপাল শর্মা ক্লিন বোলড৷ এবারে ব্যাট করতে আসছে সন্দীপ পাতিল৷ নীলাম্বর দাশগুপ্তর কাছ থেকে তখন অবশ্য ঘরের সবাই জানতে পেরেছে সন্দীপ পাতিল প্রথম ইনিংসে প্রথম বলেই আন্ডারউডের টপ স্পিনের লাইন সম্পূর্ণ মিস করে শূন্য রানে বোল্ড হয়েছিল৷ ভারতের সংকট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রুগীর অবস্থাও আবার অবনতির দিকে৷ ছটফটানি একটু বেড়েছে-পালস ইরেগুলার৷ সমীরের নির্দেশে সিস্টার হাওয়েল চট করে একটা ইঞ্জেকশন দিলেন৷

পঞ্চম ম্যান্ডেটরি ওভার৷ গত ছ-ওভারে স্কোর বোর্ডে রান বেড়েছে মাত্র তিন৷ সন্দীপ পাতিলের স্বভাবসিদ্ধ মারকুটে খেলার চিহ্নমাত্র নেই৷ ব্যাট না তুলে মাটি কামড়ে খেলছে৷ ইয়ান বথাম এবং বব উইলিসের দুর্ধর্ষ আক্রমণের সামনে গাভাসকর পাহাড়ের মতো অনড়৷ নীলাম্বর স্থির, বিড়বিড় করে মন্ত্র জপ করার মতো বলে যাচ্ছেন, 'লেট দেম স্টিক, স্ট্রোক চাই না, খেলাটা বাঁচাও হে ভগবান৷'

এগারো নম্বর ওভার শুরু হতে নীলাম্বর দাশগুপ্তর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের সব দর্শক একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল৷ গাভাসকরের বিরুদ্ধে বল করতে এসেছে গ্রাহাম গুচ৷ শার্টের হাত কবজি অবধি নামানো, চোখে সানগ্লাস, বাঁ-হাতে বল-হুবহু দিলীপ দোশীর ভঙ্গি৷ নীলাম্বরের চোখের পাতা অল্প অল্প কাঁপছে, ঠোঁটের কোনে হাসি৷ গাভাসকর স্ট্রোক করার ভঙ্গি করে শেষ মুহূর্তে ব্যাট তুলে নিল-বল অবশ্য ক্রিজের হাত দুয়েক বাইরে দিয়ে একমাত্র স্লিপ ফিল্ডার গ্যাটিংয়ের হাতে৷ যেটুকু সময় বাকি তাতে আর ডিসিশন হওয়া সম্ভব নয়৷

প্রায় পুরো ছ-দিন বাদে নীলাম্বর দাশগুপ্ত চোখ খুললেন৷ খাটের ডানদিকে বসা সমীরের দিকে মুখ ফিরিয়ে পরিষ্কার গলায় বললেন, 'যাক, বাঁচা গেল তাহলে!'

রুগির ঘর থেকে বাইরে বেরিয়েই ডা. রায়চৌধুরী মিসেস দাশগুপ্তর মুখোমুখি হলেন৷ বললেন, 'বিপদ বোধ হয় এ যাত্রা কাটল৷ জ্ঞান ফিরেছে৷ আপনি যান না ভেতরে, দেখে আসুন৷'

'এই প্রথম, জানেন ডাক্তারবাবু,' আধখোলা দরজায় দাঁড়িয়ে মিসেস দাশগুপ্ত রায়চৌধুরীকে বললেন, 'কলকাতা টেস্ট ম্যাচ হল আর উনি দেখতে পেলেন না৷' রুগির খাটের কাছে গিয়ে মিসেস দাশগুপ্ত দেখলেন নীলাম্বর দাশগুপ্ত ঘুমিয়ে পড়েছেন৷ স্বাভাবিক ঘুম৷ প্রশান্ত মুখে কেমন একটা রহস্যময় হাসি৷

কার্তিক ১৩৯২

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%