অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়
মুকুল আর মিল্টি স্কুল থেকে ফিরে দেখে বাড়িতে রীতিমতো হইহই কাণ্ড৷ বোন চায়নার বাসনগুলো দেওয়াল-আলমারির তাক থেকে নেমে এসেছে টেবিলের এক্কেবারে মধ্যিখানে৷ মানদা ব্যাজার মুখে কোমরে ময়লা আঁচল জড়িয়ে ফরসা একটা কাপড় দিয়ে সেগুলো মুছছে৷ রান্নাঘরে মা আর বেবি-আন্টি ঝানাঝন ঘটাঘট শব্দে রান্না করছে৷ তার গন্ধগুলো যেমন অদ্ভুত তেমনি সুন্দর৷ একদিকে ওভেনে হলুদ কেক ব্রাউন হবার পথে, অন্যদিকে মিক্সি চলছে ঘরঘর৷ গিরিধারী চোখমুখ কুঁচকে সোফার হাতল, টেবিলের কাচ, টি-পয়ের পায়া ঝেড়ে চলেছে তো চলেছেই৷ ফোন বেজে উঠল দু-বার৷ কপালে অনেকগুলো ভাঁজ নিয়ে মা কী সব কথা বলে আবার দৌড়ে চলে গেল রান্নাঘরে৷ ওরা দুটো জলজ্যান্ত লোক দাঁড়িয়ে আছে, তা চেয়েও দেখল না মোটে৷ ভাবা যায়!
শোবার ঘরে ঢুকে ধপাধপ ব্যাগগুলো আছড়ে ফেলল ওরা৷ মুকুলের জুতো দুটো একছুটে কোথাও উধাও হল, তাদের ফিরিয়ে আনতে মনে হয় স্পেসশিপ লাগবে৷ মিল্টি মোজা খুলে গুঁজল বালিশের নীচে৷ তারপর বলল, 'ব্যাপার কী বল তো?'
উত্তর দিল তিন বছরের মিতুল৷ ছাড়া কাপড়ের বাস্কেটে টেকো পুতুলটা নিয়ে বসে বসে আঙুল চুষছিল ও৷ বলল, 'বাবাল বছ আসবে৷'
'কে আসবে?'
'বছ৷'
'ওঃ, বস,' বলল মুকুল৷ 'সেই যে রে, গত মাসে আসার কথা ছিল নিউ ইয়র্ক থেকে৷'
'নিউ ইয়র্ক নয়, ডেট্রয়েট-' বলল মিল্টি৷
'নিউ ইয়র্ক৷'
'ডেট্রয়েট৷'
'তুই ছাই জানিস৷'
'তুই ডবল ছাই৷'
ছাইয়ের পিঠে ছাই চাপল খানিকক্ষণ৷ অন্যদিন কয়েক টন ছাই জমার আগে থামত না ভাইবোন৷ কিন্তু আজ ফরসা গোল গোল নুড়ি ফেলা রাস্তার উপর গাড়ির চাকার আওয়াজ পেয়েই ছুটল মুকুল, মিল্টু, মিতুল, 'বাবা এসে গেছে৷'
'বস কখন আসবে বাবা?'
'কোত্থেকে আসছে?'
'কেমন দেখতে, গোঁফ আছে?'
'শুধু ইংরেজি বলে, না বাবা?'
'ললিপপ আনবে না বছ?'
মা বেরিয়ে এসে তাড়া দিলেন, 'তোমরা তিনজন যাও তো, আমার অনেক দরকারি কথা আছে বাবার সঙ্গে৷'
বাবার পিছন পিছন শুধু ওরা হাজির হল খাবার টেবিলে৷ মা প্রায় ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন, 'জানতে পারলে কোথাকার লোক?'
'নাঃ,' হতাশ হয়ে মাথা নাড়লেন বাবা৷ 'এমনকী নামটাও উদ্ধার করতে পারলাম না৷ শুধু ওই একটা টেলিগ্রাম-ম্যানেজিং ডিরেক্টর কামিং ফ্রম ডেট্রয়েট৷'
মুকুল বিজেতার হাসি হাসল৷ মিল্টি পাত্তা দিল না মোটেও৷ ডেট্রয়েট আর নিউ ইয়র্ক কতটুকু বা দূর?
মা অভয় দিলেন, 'তুমি চিন্তা কোরো না, সব রাজ্যের রান্নাই করছি আমি৷ মোগলাই, সাউথ ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল সব ক্যুজিনই থাকছে৷ বাঙালির মাছ ভাত তো থাকছেই৷ এ্যাদ্দিন পরে দেশের খাবার খেতে ইচ্ছে হতে পারে তো৷-এ্যাই বেবি, পাবদার একটা ছোটো পিস নিয়ে আয় না!' ছোটো নয়, বেশ জাবদা সাইজেরই পাবদা এল একটা৷ তারপর মটন বিরিয়ানি, তারপর সম্বর ডাল, ফুলো ফুলো ইডলি৷ তারপর নারকোল গুঁড়োর পাউডার মাখা ঝিঙের স্লাইস৷
'একী!' আঁতকে বাবার গলায় সম্বর আটকে যাচ্ছিল৷
'ভেজিটেবিল ভেংকটেশ্বর' জানালেন মা৷ 'সাউথ ইন্ডিয়ান৷ আর এইটা-' থিকথিকে দইয়ে পটল ভাসছে৷ 'পরোয়ার ভোজপুরিয়া৷' মা আলাপ করিয়ে দিলেন৷ 'আর এইটা হল বাঁশের কাঁড়ের চচ্চড়ি, নাগা প্রিপারেশন৷ এ ছাড়া পুলিপিঠে, মোহনভোগ, কেক উইথ কাস্টার্ড . . .'
'করেছ কী?' বাবার গলায় প্রশংসা আর বিস্ময় মিলেমিশে গেল যেন স্ট্রবেরি মিল্কশেক৷ 'সায়েব কালকের ট্রেনে কলকাতা যেতে চাইলে হয়৷'
'তাও তো শুঁটকি মাছের পদ কিছু রাখা হল না৷' খুঁতখুঁত করতে লাগলেন মা৷
'থাকগে থাকগে,' বললেন বাবা৷ 'শুঁটকি মাছের জন্য আমার প্রমোশন আটকাবে না৷'
'তা কি বলা যায়,' মায়ের গলা গম্ভীর, 'চেষ্টা তো করতেই হবে এই অজ পাড়াগাঁ বিলাসপুর থেকে কলকাতা ফিরতে৷ নইলে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনারই বা কী হবে, আর আমার কুকিং ক্লাস, ইকেবানা, সিনে ক্লাব, লেডিজ সার্কেল, সোশাল স্কোয়ার তাদেরই বা কী হবে?'
'সে তো ঠিকই,' বাবা উঠে পড়লেন তাড়াতাড়ি৷ 'মুকুল, মিল্টি একটু চিকেন চিংকারা টেস্ট করবি নাকি?'
আসলে বাবা জানেন বিলাসপুরের খোলা মাঠ, হাজার বন্ধু, নিশ্চিন্ত পথঘাট ছেড়ে কলকাতা যাবার ইচ্ছে মোটেই নেই মুকুল-মিল্টির৷
দুপুর বেলা তিন ভাইবোন বসে প্ল্যান অফ অ্যাকশন ঠিক করল৷ সায়েব রকমারি খেয়ে খুশি হয়ে প্রমোশনটি করে দেবে, আর ওরাও তাড়াতাড়ি গুটিয়ে ভিড়েভিড়াকার কলকাতায় ফিরে যাবে, তা হতে দেওয়া যায় নাকি? তেমন কিছু ভাবতে হল না অবশ্য, অ্যাটাকের নকশা ওদের তৈরি থাকে৷ প্রথমে হাতে বিছুটি লুকিয়ে হ্যান্ডশেক, তারপর চেয়ারের তলায় মার্বেল, আর চেয়ারের ওপরে গাবের আঠা, ডালে লঙ্কা, পায়েসে নুন, মৌরিতে পাথর৷ এতেও যদি না শানায় গাড়ির টায়ারের হাওয়া খুলে দিলেই হবে৷ অমন ওরা ঢের দিয়েছে৷
বিকেল হতেই মা টেবিল সাজানো শুরু করলেন৷ অন্যদিন লোডশেডিংয়ের সময় মোমবাতি জ্বালতে হলে বিলাসপুরকে কত গালাগালি করেন৷ আজ নিজেই লম্বা লম্বা বাহারি মোমবাতি রাখলেন টেবিলে৷ ছ-টা ম্যাট পড়ল, উপুড় করা ডিশ, পাশে ভাঁজ করা ন্যাপকিন৷ মধ্যিখানে বোলে ধরা থাকবে খাবার৷
বস এলেন সাতটার পর৷ গাড়ি থেকে সুট, বুট, হ্যাট-পরা সাক্ষাৎ সায়েব নামলেন৷ তারপরে বাবার পিছন পিছন ঢুকতেই তার মুখের দিকে প্রথমে অবাক হয়ে চেয়ে রইল মুকুল মিল্টি, তারপর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল৷
ওই ঢুলুঢুলু চোখওয়ালা বড়োসড়ো মুখ চেনা চেনা লাগছে কেন? এমনকী মিতুলও আঙুল চোষা থামিয়ে রইল চেয়ে৷ মা অবশ্য কিছু খেয়াল করেননি৷ হাসিমুখে এগিয়ে গিয়ে হ্যান্ডশেকের ভঙ্গিতে সায়েবের হাতটা ধরতেই 'আঁ-আঁ আঁ' সে কী চেঁচানি সায়েবের৷ ঢ্যাবাঢ্যাবা চোখ উলটে এ্যায়সা বড়ো হাঁ করে চেঁচিয়েই চলেছেন৷ আর সঙ্গেসঙ্গে হাড়গোড়ে যেন ঠোকাঠুকি লাগছে, এমনকী ঢক ঢক আওয়াজে বাবা তাড়াতাড়ি ওকে ধরে বসিয়ে দিলেন সোফায়, মা ব্যস্ত হয়ে একটা টেবিল-ম্যাট তুলে হাওয়া করতে লাগলেন আর গিরিধারী দৌড়ে এক গ্লাস জল এনে-সটান সায়েবের মুখে৷ 'গাগ গাল গ্লপ' জল গেলার সঙ্গেসঙ্গে চেঁচানিও থামল ভদ্রলোকের৷ মুকুল হাত আড়াল করে বিছুটি লুকিয়ে ফেলল আবার৷ একটু ছুঁলেই যদি এমন হয়-

ওরা তিনজন একে একে গিয়ে সায়েবকে 'হ্যালো' বলল৷ তিনি কিছুই বললেন না, এমনকী মাথার হ্যাটটাও খুললেন না৷ একবার শুধু গলার মাফলারটা টেনে সর্দি মুছে নিলেন৷ মস্ত মুখের নীচে গলাটা কী সরু!
বাবা খানিকক্ষণ কী সব কাজের কথা বললেন সায়েবের সঙ্গে৷ সায়েব শুধু ঢুলুঢুলু চোখে মাথা নেড়ে গেল৷ হ্যাটটা খুলল না পর্যন্ত৷ খানিক পরে মা হেসে হেসে ডিনারে বসতে অনুরোধ করলেন৷ বাবার পিছু পিছু সায়েবও এলেন টেবিলে৷ কেমন যেন ল্যাগব্যাগে হাঁটা৷ তারপর চেয়ারে বসেই-না, হড়কে পড়া নয়৷ মার্বেলগুলো সরিয়ে নিয়েছে মিল্টি আগেই- ওই চেঁচানি শুনেই৷ ওই চিলচিৎকার আর শুনতে চায় না কেউ৷
'এটা কী, কী এটা?' ডিশের পাশে সুন্দর ফুলকাটা ন্যাপকিনের দিকে আঙুল দেখিয়ে সায়েব কেমন আঁতকে উঠল৷ যেন মুকুলের হাতের বিছুটিই দেখে ফেলেছে৷
'ও, এ তো ন্যাপকিন,' মা ভারি অপ্রস্তুত৷
সায়েব ঘন ঘন মাথা নাড়লেন৷ অর্থাৎ ওটা চলবে না৷ মা তাড়াতাড়ি সায়েবের ন্যাপকিন সরিয়ে তারপর সকলেরই ন্যাপকিন সরিয়ে নিলেন৷ সেটাই ভদ্রদস্তুর কিনা৷
মিল্টি আর মুকুল স্পষ্ট শুনল সায়েব বিড়বিড় করছেন, 'একবার ডিনারের সঙ্গে ন্যাপকিন খেয়ে ফেলে যা দশা হয়েছিল, বাপরে বাপ৷'
মুকুলের মাথার মধ্যে হঠাৎ কে যেন সুইচ টিপে দিল৷ মিল্টির দিকে ফিরে তাকাল ও৷ দেখল মিল্টিও তাকিয়ে আছে ওর দিকে৷ আর ওর চুলগুলো এমন খাড়া হয়ে উঠেছে যে হেয়ার ব্যান্ডটা উঠে গেছে দু-ইঞ্চি৷
ওদিকে তখন মা এক-এক করে ক্যাসারোলের ঢাকা খুলছেন, আর আবির্ভূত হচ্ছে এক একটা অপূর্ব খাবার৷ ভিণ্ডি কা ভিণ্ডালু, বেইগন খুবসুরতি, কাঁচকলার কোপ্তাকারি, মোচার মচমার্চ, সবজিপাঁচরতন৷ সায়েব ঢুলুঢুলু চোখে বসেই রইলেন, একবার চামচের দিকে হাত বাড়ালেন না৷ তারপর নানা আমিষ পদ-মটন মাৎওয়ালা, চিকেন চিংকারা, মেটুলির বাগাডুলি, কিমা দিয়ে সেফার্ড পাই, সায়েব তথৈবচ, চোখের পাতা উঠল না এক ইঞ্চিও৷ বিজলি বাতি নেভানো মোমের নরম আলোয় সায়েবের চেহারাটা এত চেনা, এত অদ্ভুত লাগছিল, কী বলব!
'একটু মিষ্টি অন্তত খান,' মিনতি করলেন মা৷ সামনে ধরলেন কাজু ছড়ানো ঘন ক্ষীরের পায়েস৷ সায়েবের নাক দিয়ে এমন এক দীর্ঘশ্বাস বেরোল যে রুপোর মোমদানিতে বাতিটা নিভু নিভু হয়ে আবার সোজা হল অনেক কষ্টে৷
এমন অবস্থায় কেই-বা খেতে পারে? বাবা তা কোনোমতে কাঁটা-চামচে খানিকটা খাবার নাড়াচাড়া করে উঠে পড়লেন৷ সায়েব ততক্ষণে উশখুশ করতে শুরু করেছেন৷ মা মিল্টিকে ইশারা করতেই মিল্টি সায়েবকে সঙ্গে করে বাথরুমে নিয়ে যাবে বলে উঠে দাঁড়াল৷ উঠে দাঁড়াল সায়েবও৷ আর তক্ষুনি-চেয়ারের নীচের থেকে মার্বেল সরালেও উপর থেকে আঠা সরানো হয়নি৷ সময়ই ছিল না৷ সায়েব উঠলেন৷ সায়েবের প্যান্টের পিছনের কাপড় খানিকটা আটকে রইল চেয়ারে৷-'হি হি হি' করে মিতুল হেসেই ফেলল৷ মুকুল ফিক করে হাসতে গিয়েও যেন হোঁচট খেয়ে থেমে গেল৷ ছেঁড়া প্যান্টের ফাঁক দিয়ে প্যাঁচানো ওটা কী? ওদিকে তোয়ালে হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মিল্টির তখন ঘন ঘন নিশ্বাস পড়ছে৷ সায়েব দু-হাতে বেশ করে সাবান মাখিয়ে হাতে জল নিয়ে ধুয়ে ফেলার বদলে মুখ ধোওয়ার মতো করে বেসিনে ঝুঁকে পড়ে সাবান গোলা খেয়ে ফেলেছেন-'সুপ সুপ সুপ'!!
এরপরে বোঝার আর কী বাকি থাকে?
সায়েবের হাতে তোয়ালে তুলে দিয়ে মিল্টি ফিসফিস করে বলল, 'হারু কেমন আছে?'
'রিটায়ার্ড,' জবাব দিলেন সায়েব৷ তারপর ফোঁস করে আরেকটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, 'আমিও ভাবছি-'
'ধ্যাত,' হেসে ফেলল মিল্টি৷ 'তুমি থাকবে না, তা হয় নাকি?' এই প্রথম সায়েব হাসলেন একটু৷ তারপর তেমনি ল্যাগব্যাগে চালে বেরিয়ে এসে বাবা-মাকে গুড নাইট, থ্যাংক ইউ আরও কীসব বলে গেটের দিকে এগিয়ে গেলেন৷ সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল মুকুল আর মিতুল৷ মিতুলের হাতে খাবার টেবিল থেকে তুলে আনা ছ-টা লম্বা মোমবাতি৷ চুপিচুপি সায়েবের হাতে তুলে দিয়ে বলল, 'এই নাও৷' দ্বিতীয়বার হাসলেন সায়েব৷ আগের বারের চেয়েও বেশি৷ গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবা৷ নিজে চালিয়ে সায়েবকে পৌঁছে দেবেন স্টেশনে, গাড়ির পিছনে অন্ধকারে বসে তিন জোড়া চোখের সামনে মোমবাতিতে কামড় দিলেন সায়েব৷ মট করে আওয়াজও হল যেন৷
পায়ে পায়ে ওরা আবার ফিরে এল ঘরে৷ মুখ অন্ধকার করে সোফায় বসে আছে মা৷ মিতুল দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল কোলে-'মা, খিদে৷'
'আমাদেরও,' কোরাসে গলা মেলাল মিল্টি মুকুল৷ কাঁদো-কাঁদো গলায় মা বললেন, 'কিছুই খেল না, কেমন লোক বল তো?'
'লোকই না, গোরু,' বলল মিল্টি৷
'গোরু নয় রে, পাখি,' শুধরে দিল মুকুল৷
'এ্যাই, গুরুজনদের নামে এসব কী?' মা ছোট্ট একটা ধমক দিলেন৷ তারপর মিতুলকে কোলে তুলে ওদেরকে টেবিলে বসিয়ে ভালো ভালো খাবার সব সাজিয়ে দিলেন প্লেটে৷ আর ওরাও ঝাঁপিয়ে পড়ল তার উপর৷ খেতে খেতে মুকুল বলল, 'মা, তুমি খাও৷' মনের দুঃখে একটু শুধু পায়েস খেলেন মা৷ এক চামচ মুখে দিতেই মুড অনেকটা ভালো হয়ে গেল৷ পাঁচ চামচ খাবার পর মা বললেন, 'আরে! মোমবাতিগুলো গেল কোথায়?'
'পেটে!' বলল মিল্টি৷ তারপর 'হি-হি' করে হেসে উঠল ওরা তিনজনেই৷ পায়েসের চামচ হাতে অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন মা৷
বৈশাখ ১৪০৬
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন