সাঁঝবাতি

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

চাংরিপোতা থেকে হরিনাভির গঙ্গার ঘাট বড়োজোর দেড়-দু ক্রোশ পথ৷ এ পথটুকু হাঁটতেই সার্বভৌম মশায়ের পায়ে ঝিনঝিন ধরে গেল৷ বড্ড বয়স হয়ে গেছে৷ ছেলেবেলায় হারজিচণ্ডীতলার মাঠ, গোড়ের খাল, ঠাকুরজি পুকুর পেরিয়ে কালীখেত সুতানুটি অবধি হেঁটে যেতেন তুড়ি মেরে৷ পালকি আর নৌকো থাকলেও পয়সা লাগত বলে চড়তেন না৷ আর আজকালকার বাবুদের তো এপাড়া থেকে ওপাড়া যেতেও পালকি চাই৷ পোড়ারমুখো সাহেবরা আবার ঘোড়ায় টানা হাওয়া গাড়ি বার করে ছেলেছোকরাদের মাথা খেয়েছে৷ তবিলে কড়ি থাকলে অমন আরও কত কী বার হবে! তালপাতার ছাতাখানা পুরোনো হয়ে প্রায় খসে পড়ছে, এবার নতুন আর একখানা না হলেই নয়৷ খড়মটাও পালটানো দরকার৷ পাঠশালের চাল ছাইবার খড়ও চাই কয়েক কাহন৷ চাই বললেই তো হবে না৷ তার জন্য কড়িও চাই ঢের৷ শুধু তাঁরই নয়, এ তল্লাটের আরও দশ-বিশটা পাঠশালে ওই একই অবস্থা৷ পালাজ্বরে গাঁয়ের পর গাঁ উজাড়, পোড়ো আসবে কোত্থেকে৷ বারুইপুরের সদর কাছারিতে এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এসেছে৷ নৈহাটির চাটুয্যে৷ বড়ো ভালো ছোকরা৷ এত বড়ো চাকুরে তার কোনো দেমাক নেই৷ ওই ভরসা৷ চাটুয্যে ছোকরা কথা দিয়েছে কোম্পানি না করলে ও নিজের থেকেই সাহায্য করবে৷ আহা বেঁচে থাক, এটুক ভরসাই বা কে দেয় আজকাল৷

এই সব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে টুক টুক করে হাঁটছেন বুড়ো মানুষটা৷ পথে দেখা হল দুকড়ি ডোমের সাথে৷ দুকড়ির ছায়া হয়ে সেঁটে আছে ওর ছেলে পরাণ৷ পথের ধুলোর ওপরেই সাষ্টাঙ্গ পেন্নাম করলে দুকড়ি৷ তাড়ির গন্ধে বাতাস ভরপুর৷

'পেন্নাম হই গো পণ্ডিতমশাই৷'

'ওরে ধুলোর ওপর গড়াসনা, বেঁচে থাক বেঁচে থাক৷ শরীর গতিক ভালো তো?'

'আপনাদের কিপায় ভালোই আজ্ঞা৷ বউটার সান্নিপাতিক হয়ে যাই যাই হয়েছিল, দয়াময়ী সতীমায়ের থানে হত্যে দেবার পর থেকে অষুধ ধরতেছে৷ কবরেজ মশাই আজ্ঞা করেছেন গেল হপ্তায় ঠিক হয়ে যাবেখন৷'

দয়াময়ী সতীমায়ের কথা শুনে সার্বভৌম ঠাকুর আনমনা হয়ে পড়লেন৷ চোখের কোনায় জল৷ ছেলেবেলায় দয়াময়ী ঠাকরুণকে সতী হতে দেখেছেন তিনি৷ দশ বছরের কচি মেয়েটাকে কড়া সিদ্ধি খাইয়ে বুড়ো বরের সাথে চিতায় পুড়িয়ে মেরেছিল সামন্তরা৷ ধর্মের নামে কত বড়ো অন্যায়! তাঁর নিজেরও তখন দশ-বারো, দয়াময়ীর খেলার সাথি৷ দয়াময়ীর বুড়ি সতীনের ছেলে পিতেম্বর সামন্ত সেই চিতার ওপর মঠ বানিয়েছিল৷ টাকাকড়ির মুখে আগুন! আশি বচ্ছর আগেকার সেই তুমুল ঢাক ঢোলের শব্দ আজও তাঁকে অসাড় করে দেয়৷ রাগে আপাদমস্তক জ্বলতে থাকে৷ দয়াময়ীর পর আর কেউ সতী হয়নি, এ গাঁয়ে ছোকরা পণ্ডিতের দল লাঠি হাতে রুখে দাঁড়িয়েছিল৷

'হত্যে দিয়ে আর মন্তর দিয়ে কিছু হয় না রে ব্যাটা, কবরেজের ওষুধই সব৷ সান্নিপাতিক বড়ো সাধারণ অসুখ নয়! সাবধানে রাখিস৷'

বেলা পড়ে আসছে৷ হেমন্তের বিকেলে বাতাসে শীত শীত ভাব৷ গঙ্গার জলে জোয়ারের বান লেগেছে৷ বুড়ো বট গাছের ছায়ায় চওড়া বাঁধানো ঘাটে বসে হাঁপ ছাড়লেন নব্বই বছরের ভবনাথ সার্বভৌম৷ লাল কাপড়ে যত্ন করে বাঁধা তলপি কপালে বুকে ঠেকিয়ে নামিয়ে রাখলেন পাশে৷ দেড়-শো বছরের পুরোনো চণ্ডীমঙ্গলের পুঁথি আছে এতে৷ ভবনাথের ভুরু কোঁচকানো৷ দুকড়িকে বলা হয়নি৷ কথাটা গেল হপ্তায় নয়, বলতে হবে 'আসছে হপ্তায়'৷ বামুন কায়েতরাই ভুল করে, এ হতভাগ্য তো ডোম৷ এদের লেখাপড়া শেখাবে কে?

'নমস্কার পণ্ডিতমশাই৷'

অবেলায় নজর ঠিক থাকে না, তবু গলার আওয়াজে চিনতে পারলেন ভবনাথ৷

'আরে দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ মশাই! আসতে আজ্ঞা হোক, আসতে আজ্ঞা হোক!'

'ঠাকুরদা৷ দয়া করে আপনি আজ্ঞে করবেন না৷ তার চাইতে গাল বাড়িয়ে দিচ্ছি, চড় মারুন একটা৷'

'আয় আয় বোস৷ তুই তোকারি করলেই কি আর পাণ্ডিত্য কমবে তোর! তুই আমার বিদ্যার জাহাজ৷'

'আর তোমার বিদ্যের সাগরটি কী রকমের?'

'কে, ঈশ্বর! ওরে বাবা ও তো জলবিছুটি, বুনো ওল৷ মাথাটি দেখেছিস৷ কসুরে জই! ওর তো আজ আসবার কথা এখেনে৷ এত দেরি তো করে না সে!'

'বলেছে যখন আসবেই৷ হাঁটা পথে পটলডাঙা থেকে হরিনাভি, অনেকটা দূর৷ তোমার তলপিতে আজ কার অধিষ্ঠান? মনসা, কালিকা না চণ্ডী?'

'ওদিকে নজর দিসনে ছোঁড়া৷ ঈশ্বরের বায়না করা আছে৷'

'কার রচনা?'

'তার নামের জায়গাটি উই বা ইঁদুরে রসিকতা করে খেয়ে রেখেছে, অবশ্য মূল অংশটা ঠিক আছে এখনও৷ দেড়-শো বছরের প্রাচীন পুঁথি, চণ্ডীমঙ্গল৷'

'কালকেতু ফুল্লরা!'

'ফুল্লরার বারোমাস্যার জায়গাটি খাসা! ঠিক যেন আমাদের ঘরের ঠাকুরানিদের চোপা থেকে তুলে সাজানো৷ পদকর্তার গিন্নিটি নির্ঘাৎ কুঁজলে ছিল৷ আহা;

'আষাঢ়ে রবির রথ চলে মন্দগতি৷

ক্ষুধায় আকুল হই লোটাই আক্ষি ক্ষিতি৷

ক্ষণে ক্ষণে ঊর্ধে আক্ষি চারিদিকে চাহি৷

হেন সাধ করে সনে অন্য জাতি যাই৷'

'জয় মা কালী ঘ্যাচাং!'

কচি গলার শির ফুলিয়ে চেঁচাচ্ছে পরাণ৷ কলাগাছের থোরের গায়ে কাঠের টুকরোর ঘা পড়ছে ধপাধপ৷ পরনের ত্যানাটুকু কোথায় গেছে কে জানে৷ কালো হাড় জিরজিরে শরীরে তেজের অবশ্য কমতি নেই৷ কম নেই কাদা মাটিও৷ হুঁকোর কলকিতে ফুঁ দিতে দিতে হাসছে দুকড়ি৷

'চুপ করবি রে ছোঁড়া!'

'পাঁঠা বলি দিচ্ছি যে!'

'এখন চুপ কর৷ কালীপুজোর দেরি আছে আরও এক হপ্তা, তখন পাঁঠাবলি দিস৷'

হুঁকোর মাথায় কলকি চড়িয়ে কলাপাতের নল বসিয়ে একটু দূর থেকে হাত বাড়াল দুকড়ি৷

'বাবাঠাকুর, আজ্ঞা হোক৷'

ভবনাথ হাত বাড়িয়ে হুঁকো নিলেন৷ গুর গুর করে শব্দ হচ্ছে৷ আবছা অন্ধকারে কালচে দেখাচ্ছে গঙ্গার ঘোলা জলে দুলন্ত কলসির দাম৷ তারা ফুটে উঠছে একটি দু-টি৷ হুঁকোর নীলচে ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে হেমন্তের জোলো বাতাসে৷ একটা বজরা ভেসে যাচ্ছে সুতানুটি কলকাতার দিকে৷ বজরার জানলায় লন্ঠন জ্বলছে৷ লালচে আলোয় কে একজন সাহেবি পোশাকের মানুষ মাথা নীচু করে বসে আছেন৷ দুই পণ্ডিত চেয়ে দেখলেন৷ বজরার গুনটানা মাঝি একটু বসল এসে ঘাটের পৈঠেতে৷

'কে যায় হে মাঝির পো?'

'বারুইপুরের কাছারিসাহেব আজ্ঞা৷'

আবার উঠে হাঁটা দিয়েছে মাঝি৷ বজরা ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছে ঘর ফিরতি ক্লান্ত রাজহাঁসের মতো৷ দেখতে দেখতে ডাইনে রাজপুর জগদ্দলের ঘাট পেরিয়ে গেল৷ জানলার আলো এখনও দেখা যায় মিটমিটে আকাশ পিদিমের মতো৷ ছোটো হতে হতে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে৷ আলো নেই আর একটুও৷ আকাশে অগুন্তি তারা ফুটে উঠেছে৷ রাজপুর শ্মশানে চিতা জ্বলে উঠল কারও৷ আকাশে আগুনের ফুলকি উড়ছে, উড়ছে অনেক জোনাকিও৷ গঙ্গার ওপাড়ে মানিকপুর৷ কয়েক ঘর লোকের বাস সেখানে৷ তাদের ঘরে সাঁঝবাতি জ্বলে উঠল৷ গেরস্তঘরের শাঁখে ফুঁ পড়ল৷

দ্বারকানাথের দিকে হুঁকো বাড়িয়ে দিলেন ভবনাথ৷ দ্বারকানাথের দাড়ি উড়ছে ফুরফুর বাতাসে৷ কলকের টানে টানে উলপে ওঠা আগুনে আনমনা চোখ দু-টি দেখা যায়৷ গলার স্বর চাপা গম্ভীর৷

'বঙ্কিম চাটুয্যে মশাই কলকেতা চললেন৷ এই অবেলায়, কে জানে কী কারণ? কোম্পানির বড়ো কুটুমদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তো ভালো নয় একেবারেই৷ বেশিদিন এখানে তাঁকে পাব বলে মনে হয় না ঠাকুরদা৷'

'ঠিকই আন্দাজ করেছ৷'

অন্ধকারে চেহারা দেখা যায় না, যেন আর একটা জমাট অন্ধকার এসে বসল গা ঘেঁষে৷ মাথায় খাটো, গলার আওয়াজ রুক্ষ আর জোরালো৷ ভবনাথ নড়েচড়ে বসলেন৷

'কে গো, ঈশ্বরচন্দ্র মশাই নাকি? স্বাগতম!'

'প্রণাম নাও ঠাকুরদা, বেঁচে আছ দেখছি৷ একটুও টসকাওনি!'

'বুড়ো আরও বিশ বছর বাঁচবে৷ তারপর কী বলছিলি?'

'বলছি ঠিকই ধরেছ৷ বঙ্কিম বোধ হয় চাকরিতে ইস্তফা দিলেন৷ অবশেষে ভালো করে বললে কোম্পানি চাকরি ছাড়তে বাধ্য করল৷'

'সে কী!' বৃদ্ধ সার্বভৌম বিচলিত হলেন৷ দ্বারকানাথ নড়েচড়ে বসলেন৷

'ছোকরার মর্যাদাবোধ খুব৷ রসবোধেরও তুলনা নেই৷ তবে লেখায় এখনও বড়ো ম্লেচ্ছভাব৷'

'চাটুয্যের পোকে চিনি অনেকদিন৷ ভারি মিশুকে৷ আমার তালপাতার চটির মাথা কেমন বেঁকে বেঁকে যায়৷ বঙ্কিম আমায় বললে, 'বিদ্যেসাগর মশায়ের চটি তো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে স্বর্গবাসি হতে চাইছে'৷'

'তুই কী বললি?'

'আমি বললাম 'চট্টোপাধ্যায় বুড়ো হলেই বঙ্কিম হয়'৷' দুই পণ্ডিত হা-হা করে হাসছেন৷ বেদম হয়ে হাসলেন ভবনাথ৷

'রসিক বটে! তা কোম্পানি তো হাতে ময়লা কাটছে, সাদা শকুনের দল যাকে বলে৷'

'দেরি আমার এ জন্যেই৷ ঝগড়া করে এলেম সাহেবগুলোর সঙ্গে৷ চব্বিশ পরগনা অন্ধকার হয়ে গেল হে!'

'একে কি এঁটে উঠতে পারবে সায়েবরা? মামলা করবে না?'

'ওকে ওর কথা ভাবতে দাও ঠাকুরদা৷ বঙ্কিমের ধাত আলাদা৷ শান দেয়া ইস্পাত৷ ঠাকুরদা আমার চণ্ডীমঙ্গল?'

ভবনাথ অন্ধকারে তলপি বাড়িয়ে দিলেন৷ ঈশ্বর দু-হাতে যত্ন করে মাথায় ঠেকিয়ে পাশে রেখে গুছিয়ে বসলেন৷ ভবনাথ নরম হাতে ছুঁলেন ঈশ্বরকে৷

'এত দেরি করে এলি যে, কলকেতা ফিরবি কী করে?'

'কাল ফিরব৷ তোমাদের সঙ্গে কথা আছে ঢের৷ দ্বারকা দুকড়িকে পাঠাও তো, পালকিতে আলো এনেছি, নিয়ে আসুক৷

'পালকি কোথায়?'

'রাজপুরের ঘাটে৷ পালকি চড়তে দেখলে বুড়োটা গাল দেয় বলে এ অবধি আনতে ভরসা পাইনি৷ দোখনো বুড়োর ঝাঁঝ খুব৷'

পরানকে পণ্ডিতমশাইদের পাশে বসিয়ে দুকড়ি গেল আলো আনতে৷ রাত হলেই পরানের জারিজুরি খতম৷ ঢুলে পড়ছে ঘুমে৷ ঈশ্বর ওকে দ্বারকার কাছ থেকে নিজের কোলের কাছটিতে নিয়ে বসালেন৷ ভবনাথ দ্বারকার সাথে চোখাচুখি করে মুচকি হাসলেন৷

'বিদ্যেসাগর, পোলাটি কিন্তু চণ্ডালের৷'

'আরে আমরা তিনমূর্তিই বুঝি বড্ড বামুন? জাতপাত মানো না বলে তোমাদের চতুষ্পাঠিতেও তো পোড়ো পাঠাতে চায় না লোকে৷ ডোমের হাতে হুঁকো খাও৷'

'বেশ করি জাত মানি না৷ মানুষে মানুষে ভেদ থাকা উচিত শুধু জ্ঞান আর অজ্ঞানে, বোধ আর নির্বোধে৷'

আকাশ থেকে তারা খসে পড়ল একটা৷ কথা নেই কারও মুখে৷ গঙ্গায় বুঝি জোয়ার এল, ছলছলাৎ শব্দ নৈঃশব্দ বাড়িয়ে দিচ্ছে৷

পরানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন ঈশ্বর পণ্ডিত৷ ঘুমিয়ে কাদা পরান৷

'আমার নতুন বই করছি এদের সবার জন্য৷ বাংলার হরফ, বানান, চলতি কথা লিখতে শেখা এসব ব্যাপার আর কি৷ নাম দিয়েছি 'বর্ণপরিচয়'৷ বামুনের তবিলের তালপাতা নয়, কাগজে ছাপা বই হবে৷ সব জাতের ছেলে-মেয়েরা পড়বে৷'

'তালপাতের মতো টিকবে তো?'

'টিকবে টিকবে৷ তা ছাড়া দু-চারখানি না ছিঁড়লে আমার বিক্রি বাড়বে কী করে৷'

'ব্যাটা বামুন-ব্যাপারী!'

'ওরে শালা, বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী৷ দু-বোনের ভাব না হলে লেখাপড়া এগোবে?'

দুকড়ি ফিরে এল আলো নিয়ে৷ পিছু পিছু যমদূতের মতো পালকি বেহারাদের সর্দার ধরনী সাঁতরা, হাতে সড়কি মাথায় পাগ৷ তার লাল চোখ, গম্ভীর আওয়াজ৷

'বেহারাদের রেতে থাকবার ব্যবস্থা করে এলাম আজ্ঞা৷ আমি এলাম আপনাকে পাহারা দিতে, জায়গা তো ভালো নয়৷'

'কোনো দরকার নেই, তুই যা৷ বাড়ির বাইরে যেতে বারণ করিস, বড়ো শেয়ালের ভয় আছে এদিককার জঙ্গলে৷ দুকড়ি চকমকি আন৷'

হেমন্তের রাত বাড়ছে৷ দূরে দূরে শেয়ালের ডাক শোনা যায়৷ ঘাটের পৈঠের গায়ে ভরা জোয়ারের ঢেউ ভাঙছে কুল কুল৷ বিন্দু বিন্দু হিম জমা হচ্ছে গাছের পাতায় পাতায়৷

ঘাটের ফাঁকা চত্বরে তিন পণ্ডিত বাতি ঘিরে গুছিয়ে বসেছেন৷ দুকড়ি নতুন করে কলকে সাজাচ্ছে৷ ন্যাংটা শিশু পরান ঘুমিয়ে পড়েছে ঈশ্বরের চাদরের ওপর, ভবনাথের কোলে তার মাথা৷ কাঁধের ঝোলা থেকে নতুন লেখা কাগজের তাড়া বার করছেন ঈশ্বর৷ মুখপাতে খয়েরের রঙে বড়ো করে লেখা 'বর্ণপরিচয়'৷

দ্বারকা আস্তে আস্তে ঠেলা দিলেন পরানের গায়ে৷

'ওঠ বাবা ওঠ৷ পড়তে হবে যে!'

বড়ো বড়ো চোখ করে উঠে বসেছে পরান৷ চোখ কচলাচ্ছে কচি দু-হাতে৷ কাঁপা কাঁপা প্রদীপের আলোয় মন্দির কাঁপছে, ছায়া কাঁপছে৷ ঈশ্বর পণ্ডিত বলছেন;

'বল তো পরান, আমার সাথে সাথে বল-

'কাক ডাকিতেছে৷

গোরু চরিতেছে৷

পাখি উড়িতেছে৷

জল পড়িতেছে৷

পাতা নড়িতেছে৷'

বৈশাখ ১৪১৫

Cov199
সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%