অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়
দিদির এক খুকি হয়েছে; বয়েস তার সাত দিন হতে চলল৷
বাড়িতে খুকি নামের আর একটি যে মানুষ আছে, তার বয়েস তেরো, গোখেল মেমোরিয়ালে সে পড়ে৷ সে বলল, 'তোমরা আর কেউ ওকে খুকি বলতে পারবে না-এখন থেকে ডাকতে ডাকতে শেষটায় ওর নাম খুকিই হয়ে যাবে৷ খুকি-কী ভীষণ হোপলেস নাম!'
তার নিজের খুকি নামের বিরুদ্ধে সে বড়ো হয়ে অবধি প্রাণপণে প্রতিবাদ করে এসেছে, ফল হয়নি কোনো৷ তার যে আর একটা নাম আছে, আভা, তা যেন ভুলেই গেছে সবাই; সব চেয়ে ভুলেছেন তাঁরা, যাঁরা ও-নাম রেখেছিলেন৷ অবিশ্যি আভা নামটাও যে তার খুব পছন্দ হয়, তা নয়-আভা, কেমন যেন সেকেলে গন্ধ! মানুষ কেন বড়ো হয়ে তার নিজের নাম বদলে রাখতে পারে না ইচ্ছেমতো!
যাই হোক, নিজের নাম তো যা হবার হয়েছে, এখন দিদির মেয়েকে নিয়ে ভাবনা৷ বাড়ির লোকগুলো এমন-হয়তো ওর নাম সুরমা কি বিমলাই রেখে বসল৷
আভা-আমরা তাকে আভাই বলব-মনে মনে যুদ্ধ ঘোষণা করল বাড়ির লোকের বিরুদ্ধে৷ বলল, 'আমি রাখব খুকির নাম৷'
কোত্থেকে মানিক বলে উঠল ফট করে, 'তাহলেই হয়েছে!'
মানিক দস্তুরমতো বড়ো হয়েছে; বালিগঞ্জ ইশকুল থেকে সে ম্যাট্রিকুলেশন দেবে সামনের বার৷ আভাকে সে মনে মনে জানে ছেলেমানুষ৷
আভা মনে মনে জানে যে তার ছোড়দা, এই মানিক নির্বুদ্ধিতার একটি গৌরীশঙ্কর৷ সে ভুরু বাঁকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে বলল, 'তুই এসব বিষয়ে কথা বলতে আসিস কেন? যা, ফুটবল খেল গে৷'
মানিক সেকথা কিছুমাত্র গায়ে মাখল না; একজন শিশু কী বলে আর না বলে, তা আমরা আমলেই আনি না৷ সে গম্ভীরমুখে বলল, 'আমি একটা চমৎকার নাম ভেবে রেখেছি খুকির জন্য৷'
আভা বেণী দুলিয়ে বলল, 'হ্যাঁঃ, তোর আবার চমৎকার৷'
'দেখবি?'
'কী আর দেখব! পারুলবালা কি সুরকুমারী কি কনকলতা কি ওই গোছের একটা হবে আর কি! তোর যা taste!'
'আর তোর যত বীণা আর মীরা আর ললিতা আর লতিকা-তাই খুব ভালো তো? এক একটা নাম শুনলে ইচ্ছে করে মরে যাই৷'
'ওমা,' আভা খিলখিল করে হেসে উঠল, 'আমি বুঝি তাই বলতে যাচ্ছি! ওসব নাম তো আজকাল একেবারে পচে গেছে৷'
মানিক বলল, 'আমি যা একটা ভেবেছি, তা একেবারে আশ্চর্য! তাক লেগে যাবে তোর শুনলে৷'
'ছাই! হত যদি কুকুরের নাম, তাহলে অবিশ্যি তুই-
'বেশি তড়বড় করিসনে-বুঝলি? এসব পুতুলের নাম রাখা নয়, মনে রাখিস৷'
পুতুলের কথা তোলায় আভা ভীষণ অপমানিত হল৷ হবারই কথা; বেশিদিন নয়, সে পুতুলখেলা ছেড়েছে, সেইজন্য এখন তার চোখে ওসব ভয়ংকর ছেলেমানুষি৷ লাল হয়ে উঠে সে বলল, 'আর তুই তো সেদিনও লাট্টু ঘোরাতিস বোঁ বোঁ করে৷ আর মার্বেল ভেঙে ফেলে দু-ঘণ্টা কেঁদেছিলি ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে মনে নেই?'
'যা যাঃ, অঙ্কে লাড্ডু পাস আবার কথা বলতে আসিস!'
'আর তুই যে একদিন জিয়োগ্রাফির ক্লাসে দাঁড়িয়ে ছিলি বেঞ্চির উপর-জানিনে বুঝি!'
'ভাগ, এখান থেকে রাক্ষুসি৷'
'তুই তো কুলির দলের সর্দার, জন্মে সাবান মাখবিনি গায়ে৷'
আলাপের বিষয়টা ক্রমেই খুকির নাম থেকে দূরে সরে পড়ছিল; এবং আরও নানারকম সব কথা উঠতে পারত, যা শুনতে মোটেও ভালো নয়-এমনকী, কথা কাটাকাটি থেমে গিয়ে খানিকটা হাতাহাতিও হতে পারত, যদি না ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আভা হঠাৎ আবিষ্কার করত যে এক্ষুনি স্নান করতে না গেলে সে ইশকুলের বাস ফেল করবে৷
* * *
কমল, ওদের মেজদা, এবার সেকেন্ড ইয়ারে উঠল; মাসিকপত্রে তার কবিতা বেরোয়৷ সম্প্রতি সে চুলের চর্চা করছে; আর চাদর জড়াচ্ছে অগোছালো করে-যেন এক্ষুনি খসে পড়বে গা থেকে৷
সে বলল, 'খুকির নামের জন্য ভাবনা কী, রবীন্দ্রনাথকে আমি এক্ষুনি লিখে দিচ্ছি একটা নামের জন্য৷' সে একবার তার অটোগ্রাফের খাতায় দু-লাইন পদ্য লিখিয়ে এনেছিল রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে; আরেকবার এম্পায়ারে কী-এক পালা হচ্ছিল, ভাঙবার সময় সে দাঁড়িয়ে ছিল দরজার একপাশে, রবীন্দ্রনাথ কাছে আসতেই ঢিপ করে এক প্রণাম করেছিল আর তিনি তাকে বলেছিলেন, 'ভালো আছ?' সেই থেকে-তার কাছে রবীন্দ্রনাথের কথা তুলতে কেউ যেন আর সাহস না পায়!
আভা ঠোঁটের একটা ভঙ্গি করে বলল, 'রবিবাবুর আর খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই, তিনি গেছেন তোমার ভাগনির নাম করতে!'
'আন্দাজে বকবক করিসনে৷' কমল দিল এক ধমক, 'জানিস, উনি কত ছেলে-মেয়ের নাম রেখে দিয়েছেন৷ আমি চিঠি লিখলে নিশ্চয়ই পাঠিয়ে দেবেন একটা নাম৷'
'তা কেন? আমরা নিজেরা বুঝি একটা নামও বার করতে পারিনে ভেবে৷'
'করো তোমাদের যা খুশি,' কমল গম্ভীর হয়ে গেল, 'ভালো কথা বললে তো শুনবে না৷'
'এমন একটা নাম চাই', আভা বলল, 'যা এর আগে কেউ কখনো শোনেনি৷ যা এক্কেবারে নতুন৷'
'সেইজন্যই তো বলছিলুম, রবীন্দ্রনাথকে লিখি৷ তাঁর অত বড়ো প্রতিভা, তিনি কোত্থেকে একটা আশ্চর্য নাম খুঁজে বার করবেন, দেখবি হাঁ হয়ে যাবি তোরা সবাই৷ আর তাঁর দেওয়া নাম-এ কি কম ভাগ্যের কথা! খুকি বড়ো হয়ে লোককে বলতে পারবে না!'
'ভারি তো!' রবীন্দ্রনাথের সম্বন্ধে আভার মনে খুব স্পষ্ট ধারণা ছিল না৷ সে শুধু জানত, রবিবাবু বুড়োগোছের এক ভদ্রলোক, যিনি অনেক গান তৈরি করেছেন, আর যাঁর হাতের লেখা অনেকটা তার দাদার লেখার মতো৷ তাই, 'ভারি তো!' সে বলল৷
কমল কিন্তু মর্মাহত হল৷ 'তোমরা যা খুশি করো', অমাবস্যার মতো মুখ করে সে বলল, 'আমাকে কেন ডেকেছ এর মধ্যে?'
সত্যি বলতে, কেউ তাকে ডাকেনি৷ আভা একবার রঙিন পেনসিল দিয়ে একটা নদী আঁকবার চেষ্টা করেছিল; মেজদা তা দেখে বলেছিল, 'বাঃ, চমৎকার হয়েছে মাঠটা৷' সেই থেকে মেজদার বুদ্ধিসুদ্ধির উপর আভার কোনো আস্থা ছিল না৷
আভা বলল, 'আহা, রাগ কর কেন?' ইশকুলে তার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু মীরার সঙ্গে দু-দিন তার কথা বন্ধ ছিল, আজ ঝগড়া শেষ হয়েছে-তারা প্রতিজ্ঞা করেছে, আর কক্ষনো কক্ষনো . . .
থাক সে কথা৷ মোট কথা, সেই কারণে আভার মেজাজটা ভালো ছিল; সে বলল, 'এসো সবাই মিলে একটা নাম ঠিক করা যাক৷' অবিশ্যি তার মনে মনে সন্দেহ ছিল না যে, সে যা বলবে, সেটাই সব চাইতে ভালো হবে, এবং সেটা মেনেও নেবে সবাই৷ 'মানিক, তুই আগে বল৷'
মানিক ফোঁস করে উঠল, 'আমাকে তেমনি বোকা পেয়েছিস কিনা! আগে বলে দিই, আর তুই তক্ষুনি সেটা নিয়ে নে! বললেই হল-আমিও ওটাই ভেবেছিলুম৷'
আভা একবার তাকাল মানিকের দিকে-এমনভাবে, যেন তাঁকে ভস্ম করে ফেলবে৷ তারপর শান্তভাবেই বলল, 'আচ্ছা, চঞ্চুলিকা কেমন নাম?'
কমল বলল, 'চঞ্চুলিকা-তার মানে কী?' আর মানিক উঠল হেসে; 'চঞ্চুলিকা-হাঃ হাঃ! তার চাইতে গড্ডালিকা কি অট্টালিকা রাখ না কেন?'
'কি, ধর', কমল এবার তার প্রতিশোধ নিল, 'করকমলিকা, কি শ্যামকদলিকা, কি নীলোৎপলিকা?'
আভা একেবারে নিবে গেল৷ সে কাঁদবে না ঘর ছেড়ে চলে যাবে, না মা-র কাছে গিয়ে নালিশ করবে, খানিকক্ষণ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারল না৷ এমন যে হবে, সে কখনো ভাবতেও পারেনি৷ অবিশ্যি চঞ্চুলিকার চেয়ে অনেক ভালো নাম ছিল তার মনে, তবে সে সেগুলো বলবে না, খুকিকে ফেলে রাখবে তার অদৃষ্টের হাতে?-না বলাই বোধ হয় ভালো৷ ছেলেরা, সে বরাবর লক্ষ করেছে, এক-একটি জন্তুবিশেষ; কোনো কথা যদি তাদের কাছে বলা যায়৷
কমল একটু ভেবে বলল, 'আমার তো মনে হয় বনশ্রী নামটি বেশ মিষ্টি৷'
আভা ফস করে বলে উঠল, 'ভারি একটা বললে! বললেই বিশ্রী আর মিছরি মনে পড়ে৷'
কমল বলল, 'তাহলে, ধর জয়তী৷'
'ওমা, জয়তী যে আমাদের ক্লাসের একজন মেয়ে আছে৷'
'এমন নাম তুই কোথায় পাবি, যা আর একজনেরও নেই? বাংলাদেশের সব মেয়ের নামই তুই জানিস নাকি?'
'বয়ে গেছে জানতে৷ বেশির ভাগ মেয়ের নামই তো রমা আর ছায়া আর মায়া আর বেলা আর রেবা আর বীণা আর লীলা৷ এমন নাম সহজেই বার করা যায়, যা আর কারও নেই৷'
'তুই-ই বল৷'
'আমি বলছি', মানিক হঠাৎ বলে উঠল, 'সোনালি৷'
'সোনালি! এ আবার নাম হয় কবে!'
এবার আভার পালা হাসবার৷ 'তার চেয়ে বল না চৈতালি কি হরিতালি কি করতালি৷ রুপালি কি তামালিই বা মন্দ কী?'
'কেন হবে না', মানিক তীব্রস্বরে বলল, 'তোমাদের রবিবাবু যদি পদ্যে লিখতে পারেন খেয়ালি আর কাকলি আর ঝামরি-তাহলে সোনালিই বা হবে না কেন?'
'দেখ বোকারাম', কমল তক্ষুনি বলে উঠল, 'রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে তুই কিছু বলিসনে৷ চুপ করে থাক৷'
'ভারি সব দিগগজ পণ্ডিত এসেছেন এক-একজন৷ আমি, দেখে নিয়ো, ওকে সোনালি বলে ডাকব৷'
'তুই মহাকালী বলে ডাকলেও কিছু এসে যায় না৷ কিন্তু ওর নাম হবে মঞ্জুভাষা৷'
কমল বলল, 'ভারি বললি৷ সবাই ডাকবে তো মঞ্জু বলে, আর মঞ্জু নামের হাজারখানেক মেয়ে বোধ হয় আছে দেশে৷'
'তাও তো বটে! তাহলে রাগিণী-'
'দূর,' মানিক বলল, 'শুনলেই মনে হয় রেগে আছে৷'
'বিম্ববতীটা কেমন? বেশ গম্ভীর আওয়াজ৷'
'ঠিক জাম্বুবতীর মতো৷'
'দেখ মানিক, তুই যদি সবসময় ওরকম ফাজলেমি করবি-'
'হ্যাঁ, ফাজলেমিই তো! আর তোমরা যখন করো, খুব ভালো৷'
'তুই এখান থেকে যা৷'
'কক্ষনো যাব না৷'
'নিশ্চয়ই যাবি৷'
'ইস! তোর কথায় নাকি?'
'আচ্ছা, যার কথায় যাবি, তাকে ডাকছি৷' আভা চেঁচাতে আরম্ভ করল, 'মা, মা-'
পাশের ঘর থেকে মা এলেন৷ 'কী হয়েছে?'
'দেখো তো, মা, মানিকটা কী করছে৷'
'কী করেছিস তুই, মানিক?'
'কী আবার করব!'
'তোরা জটলা বেঁধে এখানে করছিস কী? পড়াশোনা নেই কারও?'
আভা তাড়াতাড়ি বলল, 'খুকির একটা নাম ঠিক করছিলুম, মা৷'
'খুকির নাম? খুকির নাম আমি সীতা রাখব৷ তোরা যা-ই বলিস, সীতার মতো মিষ্টি নাম কি আর আছে৷'
আকাশ ভেঙে পড়ল আভার মাথায়৷ 'কিন্তু মা, ও তো একটুও আজকালকার মতো হল না৷ ছি, ছি, ও-নাম তুমি কিছুতেই রাখতে পারবে না৷'
মানিক সুযোগ পেয়ে বলল, 'কেন আমার তো বেশ ভালোই লাগছে৷'
আভা ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠল, 'ইস, ওর আবার একটা ভালোলাগা!'
'থাক, এখন আর তোদের এ নিয়ে ঝগড়া করতে হবে না,' বলে মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন৷
আভা খানিকক্ষণ বসে রইল হতভম্ব হয়ে৷ শেষটায়, সীতা! আভার সব চেয়ে শখের শাড়িটা কেউ কেড়ে নিলেও সে এর চেয়ে দুঃখিত হতে পারত না৷ তারপর সে ভাবল, মা বললেন আর অমনি সবাই নামটা মেনে নিল, তার তো কোনো মানে নেই৷ যে নামটা সব চেয়ে সুন্দর, সেটাই শেষ পর্যন্ত থাকবে৷ তখন সে বলল, 'আচ্ছা মেজদা, দীপা নামটা কারও আছে বলে জানো?'
কমল একটু ভেবে বলল, 'কই, মনে তো পড়ছে না৷'
মানিক বলল, 'ও-নামে কি কেউ ডাকতে পারে? ডাকবার জন্যে দেখবি ঝন্টু কি হাসি কি ছবি ওইগোছের একটা নামই হবে৷'
আভা ক্লান্তসুরে বলল, 'তা-ই যদি হয়, তাহলে এত ভেবেচিন্তে নাম রাখাই বা কেন? একটা বিশ্রী, বিদঘুটে নামে না ডাকলে কারও যদি ভালো না লাগে-'
'দেখ,' কমল হঠাৎ বলে উঠল, 'নাম তো ডাকবারই জন্যে৷ ডাকতে সুবিধে, এমন নামই ভালো৷ আর তেমন একটা অসাধারণ নাম তুই পাবিই বা কোথায়? আমি বলি কী, বেশ ছোটোখাটো একটা মিষ্টি নাম রাখা যাক৷'
'যেমন?'
'যেমন ধর কমলা৷'
'খেপেছ? আমাদের অঙ্কের টিচারের নাম কমলা-আর তাঁর যা মেজাজ৷'
মানিক বলল, 'অরুণা তো বেশ নাম৷'
'না, না, অরুণা-বরুণা-তরুণা ওসবের কাজ নেই৷ শুনলেই মনে হয় নভেল৷'
'মালতী?' কমল বলল, 'বেশ ঠান্ডা নাম৷'
'কচু! ওই তো ও-বাড়িতে এক মালতী আছে-কী বিশ্রী দেখতে৷'
'রানি? যে যা-ই বলুক, রানির মতো নাম আর নেই৷'
'ওই একটা নাম শুনলেই আমার গা জ্বালা করে৷ যদি ওর নাম উর্মিলাও হতে হয়, তবুও রানি নয়৷'
'ঊর্মিলাই বা মন্দ কী, ডাকবে ঊর্মি বলে৷'
'নাঃ,' আভা হতাশভাবে মাথা ঝাঁকুনি দিল, 'এমন বিপদে কে কবে পড়েছে! একটা নাম পাওয়া যাচ্ছে না খুঁজে!'
'দেখ, নাম একটা হলেই হয়৷ শুনতে শুনতে, ডাকতে ডাকতে সব নামই মিষ্টি শোনায়৷'
'নাম রাখো সুধা,' মানিক অনেকক্ষণ পরে বলল, 'শুনলেই মনে হয় লক্ষ্মী মেয়ে৷'
'মনে হয় ছিঁচকাদুনে৷'
'নাহয় নিরুপমা-একটু সেকেলে অবিশ্যি, কিন্তু বেশ-মোটেও ফাজিল গোছের নয়৷'
'কীরকম যেন মোটা মোটা নামটা৷'
'নাঃ, তোকে নিয়ে আর পারা গেল না৷ তোর যা খুশি রাখ, আমরা হার মানলুম৷'
আভা চুপচাপ খানিকক্ষণ ভাবল-প্রাণপণে ভাববার চেষ্টা করল৷ তার নীচের ঠোঁটটা কামড়ে কামড়ে সে আর কিছু রাখল না, ঘাম দেখা দিল কপালে৷
* * *
ঘণ্টা দুই পরে আভা তার দিদির ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল৷
'কী রে?'
'দিদি, তোমার খুকির জন্য একটা নাম . . .৷'
'কী, বল?'
'বনশ্রী৷ চমৎকার নাম-না? আর একেবারে নতুন৷'
'চমৎকার৷ এ নিয়ে পাঁচটা হল৷'
'পাঁচটা?'
'হ্যাঁ-মা বলেছেন সীতা, বাবা বলেছেন মৃন্ময়ী, কমল-'
'মেজদা?'
'হ্যাঁ-কমল বলেছে সুধা-'
'সুধা! কখন বলল?'
'এই তো একটু আগে এসে বলে গেল৷ আর মানিক-'
'মানিক কী বলেছে?'
'মানিক বলেছে রাগিণী৷ তোরা সবাই মিলে ওর নাম রাখছিস, আর খুকি এদিকে কী সুন্দর হাসছে, দেখ৷ দুষ্টু মেয়ে, এখনই এত হাসতে শিখেছে৷ এই খুকি, খুকি-তোমার মাসি এসেছে, খুকি৷ খুকি, তোমার মাসিকে একটু হাসি দেখিয়ে দাও তো৷'
আশ্বিন ১৩৪০

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন