সোনার মেডেল উধাও

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

একেবারে সেই আবোল তাবোলের 'বিস্ময়ে বাকবন্ধ' হয়ে যাবার মতো খবর!

চুরি হয়ে গিয়েছে 'চক্রবর্তী ভিলা'য়৷ না, নিশুতি রাতে নয়, দরজা-জানলা ভেঙে নয়, একটা জলজ্যান্ত মানুষের চোখের সামনে একেবারে ভরদুপুর বেলায় এই একটু আগে! ভাবা যায়! তবে তার চেয়েও যেটা বুকে বিঁধছে আমাদের সেটা হল, চুরি গিয়েছে আমাদের বিখ্যাত তিন দাদুর সেই সব সোনার মেডেল, যা এতদিন প্রায় গল্প কথায় পরিণত হয়েছিল৷ আমাদের বাবা-কাকারা তার গল্প করেছেন আমাদের কাছে, আর আমরা তার গল্প করতাম বাড়িতে নতুন লোকজন কেউ এলে-টেলে৷

করবার অবশ্য কারণও আছে৷ দাদু কি আর নেই আমাদের এই মোহনপুর গ্রামে! দাদু, জ্যেঠু, কাকা, কাকি-এই সবই তো বলি আমরা সবাইকে, কিন্তু তাই বলে বড়োদাদু, মেজোদাদু আর ছোটোদাদু! সেরকম কি আর কাউকে পাওয়া যাবে ওখানে! শুধু মোহনপুর কেন, গোটা নীলগঞ্জ রোড ধরে যাও যেখানে খুশি-কোথাও পাবে না৷

তিন ভাই একেবারে তিন রত্ন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে উঁচু উঁচু পরীক্ষা পাশ, তিনজনেই৷ আর তিনজনেই একেবারে সেরা ছাত্র৷ সেইজন্যেই তো মেডেলগুলো সব পেয়েছিলেন৷ কাজকর্মও করতেন সব তেমনি-একজন ছিলেন কোন একটা কলেজের প্রিন্সিপাল, একজন জুট রিসার্চের হোমরাচোমরা কেউ, আর একজন ডাকসাইটে অধ্যাপক৷ সবাই অবশ্য রিটায়ার করেছেন, বয়স হয়েছে তো!

অবশ্য বয়স যে হয়েছে সেটা ওঁদের হাবভাব দেখে বোঝা মুশকিল৷ না, চুল আর গোঁফ তো ধপধপ করছেই, কিন্তু চেহারা একেবারে বেতের মতো টানটান৷ গায়ের রং এখনও যা, দেখলে অবাক লাগে৷ আর তেমনি সব ব্যবহার, হাসিটা যেন মুখে লেগেই রয়েছে৷ সে তুলনায় বরং দিদা, মানে ওঁদের একমাত্র বোনকে একটু খিটখিটে বলা যায়৷ চোখে সর্বদাই বিরাট ঠুলি এঁটে বসে আছেন, আর দেখা হলেই এটা-ওটা হাজারটা প্রশ্ন৷ চক্রবর্তী পরিবারে বিয়ে হয়েছিল একমাত্র দিদারই, তিন দাদুদের কেউ বিয়ে-থা করেননি, কিন্তু এমনই কপাল, দিদাও বাচ্চা নাতিকে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন একটা বিচ্ছিরি ব্যাপারের পর-কী একটা দুর্ঘটনায় নাকি দিদার স্বামী-ছেলে-বউমা সবাই মারা গিয়েছিল৷ সবেধন নীলমনি ওই হাবুদাই এখন ওঁদের একমাত্র সম্বল৷

এসবই অবশ্য আমাদের শোনা কথা, কারণ হাবুদা আমাদের চেয়ে অন্তত আট-দশ বছরের বড়ো৷ পরে হাবুদাকে হাড়ে হাড়ে চিনেছি৷ ওই বাড়িতে ওরকম একটা অপদার্থ ছেলে যে কী বেমানান সে আর কী বলব! লেখাপড়ায় একেবারে ক-অক্ষর গোমাংস, নীচু ক্লাসেই দু-চার বার গোঁত্তা খেয়ে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে বসে আছে৷ শিং ভেঙে ঢুকে গিয়েছিল বাছুরের দলে-একে শাসানো ওকে শাসানো, বাঁ-হাতে ঠকাস ঠকাস করে গাঁট্টা মারা, আসলে বেঁয়ো তো, বাঁ-হাতটাই সব ব্যাপারে চলে ভালো-এক কথায় সবাইকে গুঁতিয়ে বেড়ানোই হচ্ছে ওর প্রধান কাজ৷ ওকে দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায় আমাদের৷

আসলে এত কথা ভাবতে পারছিলাম এইজন্যে যে আমরা একেবারে থ হয়ে গিয়েছিলাম৷ গোটা ব্যাপারটা যেন মাথাতেই ঢুকছিল না আমাদের৷ বহুক্ষণ ওইরকম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার পর আমাদের মধ্যে বিচকে বলল, 'কথাটা তুই ঠিক শুনেছিস তো বিশু?'

বিশুই এনেছিল খবরটা, কাজেই রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে সে বলল, 'শুনেছি মানে? দেখে এলাম তো নিজের চোখে! বাড়ির সামনেটা ভিড়ে ভিড়-দাদুরা উত্তেজিত হয়ে কী সব বলাবলি করছে৷'

'কী বলছে?'

'দূর, অত কি আর আমি শুনতে পেয়েছি! মোটামুটি যা বুঝলাম, নানকুদের বাড়ি গিয়েছিল সকলে-শ্রাদ্ধ ছিল না নানকুর ঠাকুমার! সেই আর কি, দুপুরের নেমন্তন্ন৷ দিদাই শুধু বাড়িতে ছিল একা, সেই সময়েই জিনিসটা চুরি গেছে৷'

'মানে? কেমন করে চুরিটা হল, কী কী চুরি হল, তাকে কেউ দেখতে পেয়েছে কি না-'

'ওসব আমি জানি না'-বিশু বাধা দিয়ে বলে উঠল, 'যেটুকু জানতাম বলে দিলাম, ব্যাস৷ আর কিছু আমাকে জিজ্ঞেস করিস না৷'

বিশু ব্যাস বলা মানে আমাদেরও ব্যাস, কিন্তু বিচকের তো তা নয়৷ সবটা না শুনে বিচকে ছাড়ে কী করে! কাজেই বললে, 'চল না জেনে আসি কী হল ব্যাপারটা! যাবি তোরা কেউ আমার সঙ্গে?'

যাবার জন্যে তো সত্যি কথা বলতে কী, আমরা মুখিয়েই আছি, কিন্তু তিন দাদুর সামনে গিয়ে দাঁড়ানো এই সময়ে-

'ঠিক বুঝতে পারছিস না বিচকে'-আমাদের মনের কথাটাই মুখ থেকে বেরিয়ে এল পিঙ্কুর, 'মানে আমাদের দেখে যদি রাগ-টাগ করেন'-

'কেন, রাগ করতে যাবে কেন! আমরা তো ভালোর জন্যেই যাচ্ছি, যদি ব্যাপারটার কোনো সুরাহা করা যায়'-

ও, 'এই' কথা! একটু যেই রহস্যের গন্ধ পেয়েছে, অমনি সেটার সমাধান করার জন্যে ছোঁক ছোঁক করছে৷

বিচকেকে যে চেনে না তার কাছে ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগতে পারে-একটা ক্লাস এইট-নাইনের ছেলে আবার রহস্যের 'সমাধান' করবে কী৷ কিন্তু আমরা হইনি, কারণ ও হল 'বিচকে'৷

বিচকের নামটা কে দিয়েছিল কে জানে৷ বিচ্ছু নয়, মিচকেও নয়, বিচকে৷ কিন্তু আমরা জানি বিচকে আসলে দুটোই৷ তবে বুদ্ধিটা যে ওর বেশ সে কথা স্বীকার করতেই হবে৷ পড়ে তো আমাদের সঙ্গেই, কিন্তু ব্যাঙ্ক-ট্যাঙ্কের পরীক্ষা দেবার জন্যে কিংবা সরকারি চাকরির জন্যে যেসব ধাঁধা আর আঁকিবুকির বই পাওয়া যায়, দিব্যি দেখি সেই সব বই জোগাড় করে তাতে বুঁদ হয়ে আছে৷ আরও কী সব বইপত্তর যে ছাই পড়ে-যত অদ্ভুত আর বিদঘুটে জিনিসই ওর ভালো লাগে৷ আমায় একটা বই দেখিয়েছিল একবার-রিপলির বিশ্বাস করো আর নাই করো৷ বইটা অবশ্য মজার৷

আসলে বিচকে ওর মধ্যেই দুটো-চারটে ঘটনায় আমাদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে, তার মধ্যে একটা স্বয়ং বড়োদাদুর ব্যাপার৷ বড়োদাদুর পুরোনো ঐতিহাসিক জিনিসপত্র জমানোর শখ আছে৷ কে একজন নাকি একটা চিঠি লিখেছিল বড়োদাদুকে-মিশর থেকে এক ফারাওয়ের প্রস্তরলিপি নিয়ে এসেছে, মাত্র পঁচিশ হাজার টাকা পেলেই দিয়ে দেবে৷ অনেকগুলো টাকার ব্যাপার, বেশ দোনোমনো করছিল বড়োদাদু, সেই জন্যেই বিচকে সেটা দেখবার একটা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল৷ চিঠিতে একজায়গায় লেখা ছিল ফারাওয়ের রাজত্বকাল ১২০৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১২৪১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ৷ দেখেই বিচকে বলেছিল, লোকটা ঠক, টাকা রোজগারের জন্যে এই সব করে বেড়াচ্ছে, কারণ কোনো পণ্ডিত মানুষ এই ভুল করতেই পারে না-খ্রিস্টপূর্বাব্দ লিখবার সময় সময়টা বেশি থেকে কমের দিকে যায়, খ্রিস্টাব্দের ঠিক উলটো৷

এই হচ্ছে বিচকে৷ কাজেই সে যে নির্ভয়ে দাদুদের বাড়ি যাবে এতে আর আশ্চর্যের কী আছে৷

আমরা দু-জন যখন পৌঁছোলাম তখন অবশ্য বাড়ির সামনেটা ফাঁকা৷ দোতলা বাড়ি, আগেও এসেছি একবার৷ একতলায় ছোটোদাদুর বিশাল এক লাইব্রেরি আছে, সেখানে ছোটোদাদু এখনও বেশ খানিকটা করে সময় কাটান৷ কিন্তু নীচে কেউ থাকেন না, থাকা বলতে একমাত্র বঙ্কুদা, ওঁদের অনেক দিনের কাজের লোক৷ বঙ্কুদাকে আমরা সবাই চিনি৷ একটু যেন হেঁচকি টানার মতো করে কথা বলে, কিন্তু মানুষটা বেশ৷ একদিন আমায় ওদের বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল, খুব খাইয়েছিল-বেগুনপোড়া-মুড়ি আর খেজুরের রস৷

ভেজানোই ছিল দরজা, ঠেলতে খুলে গেল৷ কাউকে দেখতে না পেয়ে বিচকে আলতো গলায় ডাকল, 'বঙ্কুদা'-

অবশ্য তার আগেই দিদার গলা ভেসে এসেছে, 'কে রে ওখানে?'

'আমরা দিদা'-গলা তুলে বলছে বিচকে, 'আমি আর শ্যাম৷ ওই শুনলাম কী সব চুরি-টুরি হয়েছে, তাই'-

'ওপরে আয়!' বড়োদাদুর গলা, সুতরাং এবার নির্ভয়ে ওঠা যায় ওপরে৷ সিঁড়ি থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম বড়োদাদু আর দিদা বসে আছে মুখোমুখি৷ নাক কুঁচকে আমাদের দেখতে চেষ্টা করছিল দিদা, ঠিকমতো ঠাহর না পেয়েই বোধ হয় দাদুকে বলল, 'বললাম তোমায় লাগিয়ে এসো দরজাটা৷'

'কী আর হবে?' বড়োদাদু বললেন, 'যা হবার তা তো চলেই গেল৷' আমরা ওপরে উঠে এসেছিলাম, বড়োদাদু ইঙ্গিতে বসতে বললেন৷ বিচকে ভূমিকাটা তৈরি করবার জন্যে বলল, 'সত্যি বড়োদাদু, দিনদুপুরে যে ওগুলো ওইভাবে চুরি হয়ে যাবে-মানে দিদা বাড়ি থাকতেও যে লোকটা কিচ্ছু বুঝতে না দিয়ে-'

'থাম থাম!' দিদা থামিয়ে দিয়ে বলল, 'দিদা কী করবে! এই শরীর নিয়ে দৌড়ে গিয়ে চোর ধরবে?'

'তুমি জানতে পেরেছিলে?'

'কেন পারব না! চোখের মাথা তো আর খাইনি-চোরকে তো আমি দেখতে পেয়েছি৷'

'দেখতে পেয়েছ! তুমি চেনো তাকে?'

'আদিখ্যেতা! বলি বঙ্কুকে চিনব না!'

'মানে!' একেবারে হকচকিয়ে গেছে বিচকে এবার, গলা শুনেই বুঝতে পারছি আমি৷ বেচারির রহস্য সমাধানের চেষ্টা যে এইভাবে পটল তুলবে, আগে নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারেইনি৷ অনেক কষ্টে নিজেকে একটু সামলে নেবার চেষ্টা করে বললে, 'শেষ পর্যন্ত বঙ্কুদা! মানে এত দিনের বিশ্বাসী লোক হয়ে-'

'বিশ্বেস-টিশ্বেস আর নেই কাউকে! আমি একলা থাকব শুনেও যখন বলল একটু বাড়ি থেকে ঘুরে আসবে দুপুরে, তখনই ওর মতলব বোঝা উচিত ছিল আমার৷'

বঙ্কুদার বাড়ি কতটা দূর আমার জানা ছিল, তাই বললাম, 'তাহলে তো আজ ফিরবে বলেও মনে হয় না!'

'থাম দিকি!' গজগজ করতে লাগলেন দিদা-'আজ! ও আর কোনোদিনই ফিরবে না৷ সেই জন্যেই তো দারোগার কাছে গেছে সব৷ কোমরে দড়ি বেঁধে না আনলে কি আর সে-'

'আঃ , কী হচ্ছে কী!' এতক্ষণ কথা বলেননি, এবার বোনকে বাধা দিলেন বড়োদাদু, বললেন, 'কথাটা ওদের খুলে বলবে তো! নইলে ওরা জানবে কী করে!'

'খোলাখুলির আর আছে কী! এমনিতেই পোড়া চোখে ঘুম আসে না, বাড়ি খালি হয়ে গেলে আসবে! চোখ বুজে শুয়ে ছিলাম-একা থাকলেই এলোমেলো হাজার চিন্তা-হঠাৎ চোখ খুলে দেখি বড়দার ঘরে বঙ্কু!'

'কোন ঘরটা?'

একেবারে শেষের ঘরটা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন, 'সিন্দুকটা ওঘরেই তো-কালই সবে নতুন করে রং করা হয়েছে৷ কিন্তু সিন্দুকের পাশে বঙ্কু দাঁড়িয়ে, সন্দেহ তো হতেই পারে আমার-'

'দাঁড়াও দাঁড়াও'-বিচকে মাঝখানে বলল, 'বঙ্কুদা ঢুকল কী করে বাড়িতে? দরজা খুলে দিল কে! নাকি পাঁচিল-টাঁচিল ডিঙিয়ে-'

বড়োদাদু চোখ ফেরালেন বিচকের দিকে, ভাবখানা এই যে প্রশ্নটা তাঁর ভালো লেগেছে, বললেন, 'বাইরের দরজার ছিটকিনিটা সোজা করে তুলে ধরলে, মানে তুলে আর না ঘোরালে বাইরে থেকেও ওটা খোলা যায়, দরজার দুটো কড়া একটু জোরে টেনে ধরলেই হল৷ বাড়ির সবাই সেটা জানে৷ কুসুম, মানে যে দু-বেলা রান্না করে দিয়ে যায়, সেও ওইভাবেই দরজা খোলে৷'

'বঙ্কুও ওইরকমই করে দরজা খুলেছিল নিশ্চয়ই'-দিদা তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, 'কথাটা আমায় শেষ করতে দে আগে৷ আমার একটা বিচ্ছিরি হাঁচির রোগ আছে জানিস তো! সেটাই ওই মাথা তোলার সঙ্গেসঙ্গে চাগিয়ে উঠেছিল-'

'মাটি করেছে!' কথাটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল আমার৷ বেরিয়ে আসা অবশ্য খুবই স্বাভাবিক, কারণ এই হাঁচির জন্যেই দিদা এখানে বিখ্যাত৷ শুরু হল তো চলল অন্তত দু-তিন মিনিট ধরে৷ তাও আবার পর পর-থামাথামির ব্যাপার নেই, কমসে কম শ-খানেক বার হিঁচ্চিক হিঁচ্চিক করে নাকের জলে চোখের জলে হয়ে থামবে৷ তা সেইরকমই যদি চলে-

'বুঝতেই পারছিস অবস্থা'-আমার কথাকে পাত্তা না দিয়েই দিদা বলে চলেছেন বুঝতে পারলাম, 'সবই দেখতে পাচ্ছি-সিন্দুকের তালা খোলা, মেডেলের বাক্স বঙ্কুর হাতে, কিন্তু এগিয়ে গিয়ে ওর টুঁটি টিপে ধরব, সে অবস্থা তো নেই৷ বেমালুম পালিয়ে গেল ব্যাটা তর-তর করে সিঁড়ি দিয়ে-

বিচকের মুখচোখের চেহারা দেখে বুঝতে পারছিলাম একটা কিছু হয়েছে৷ হঠাৎ একটা কিছু মাথায় এসে গেলে ওর চোখের দৃষ্টিটা এইভাবে পালটে যায়৷ আমি অবশ্য দিদার কথায় এরকম ভাবান্তর ঘটার মতো কিছুই পাইনি৷ তাই নিজেই একটু সাহস সঞ্চয় করে বললাম, 'তবু ভালো বঙ্কুদা অন্য জিনিস কিচ্ছু নিতে পারেনি! দাদুরা বুঝি দারোগাবাবুর কাছে বলতে গেছেন ওর কথা?'

'বলবে না? বজ্জাতটা যদি পালিয়ে যায়!'

'না না, পালিয়ে যাবে কোথায়'-বিচকের মুখে তখনও কোনো কথা নেই বলে আমাকে বলতে হচ্ছিল, 'আমি তো ওর বাড়ি চিনি৷'

'বাড়িতে এখন বসে আছে ও!' চশমার কাঁচের মধ্যে দিয়ে দিদার চোখ অনেক বড়ো বড়ো দেখায়, বললেন, 'ব্যাটার সাহসটা একবার দেখ! আমারই খাবে আমারই পরবে, অথচ-'

'বড়োদাদু!' বেশ বুঝতে পারছি আমাদের এতক্ষণকার কথাবার্তা বিচকে কিছুই শোনেনি, বলল, 'সিন্দুকটা একবার দেখব আমি?'

'আয় না'-বড়োদাদু নিজেই উঠে দাঁড়ালেন, দিদা ভুরু কুঁচকে বসেই রইলেন৷

পুরোনো আমলের সিন্দুক৷ সত্যিই একেবারে কাঁচা রং৷ বঙ্কু হাত দিয়েছে বলেই বোধ হয় ডানদিকে কোণের কাছটা-না, হাতের ছাপ ঠিক নয়, হাতের ভর-টর দিয়েছে বলে একটু যেন রং উঠেছে ওই তেলোর মাপের জায়গায়৷ বিচকেও দেখলাম বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখছে জায়গাটা৷ বুঝতে পেরে নিজেকেই মনে মনে একটু তারিফ করে নিলাম, আমারও চোখে পড়েছে ওটা৷ দু-পাল্লার দরজা, মাঝখানে একটা খোলা তালা৷ অর্থাৎ ডুপ্লিকেট চাবি করানো হয়েছে, তালা ভাঙা-টাঙা হয়নি৷

বড়োদাদু বললেন, 'ওর ভেতরেই থাকত মেডেলগুলো৷ ব্যাঙ্কে রাখার কথা ভেবেছি কয়েকবার, কিন্তু ও জিনিস আর কে নেবে, এই ভেবে আর করা হয়নি কিছু৷'

'বঙ্কুদা জানত নিশ্চয়ই এগুলোর কথা?'

'কে জানত না তাই বল৷'

'আপনার নিজের সন্দেহ হয় বঙ্কুদাকে?'

এর সঙ্গেসঙ্গে যে উত্তরটা বেরিয়ে আসা উচিত ছিল সেটা হচ্ছে, নিশ্চয়ই৷ কারণ দিদা নিজের চোখে দেখেছেন বঙ্কুদাকে, সন্দেহের চেয়েও বড়ো ব্যাপার৷ একেই তো ইংরেজিতে বলে কট রেড হ্যান্ডেড৷ এখন শুধু ওই কটটা হতেই যা বাকি৷

কিন্তু আশ্চর্য, বড়োদাদু কোনো উত্তর দিলেন না৷ চেয়ে রইলেন শুধু বিচকের দিকে৷ বিচকে আবার করল প্রশ্নটা-'বলুন না দাদু, আপনার বিশ্বাস হয় ব্যাপারটা?'

এবারেও কোনো উত্তর দিলেন না বড়োদাদু, তবে চোখের ইঙ্গিতে বাইরের বারান্দাটা একবার দেখিয়ে দিলেন বিচকেকে, তারপর দিদার দিকে চেয়ে বলেন, 'ওপর থেকে একবার দেখিয়ে দিই বিচকেকে, কোন রাস্তা দিয়ে বঙ্কু পালাতে পারে৷'

বারান্দায় এসে বললেন, 'তোর দিদার দারুণ কান, কোনো রিস্ক নিলাম না৷ বুঝতে পেরেছিস নিশ্চয়ই?'

'হ্যাঁ, দিদার কান আমি ঢোকার সময়ই বুঝতে পেরেছি-দরজা ঠেলতে প্রায় আওয়াজই হয়নি কোনো, কিন্তু উনি শুনতে পেয়েছেন৷'

'এবার বল কী বলবি৷'

'সবচেয়ে আগে বলব একটা ফোন করুন থানায়৷'

'মানে?'

'মেজোদাদুরা যেন থানায় কোনো রিপোর্ট না করে চলে আসেন, এই কথাটা জানিয়ে দিন৷'

'কী বলছিস তুই! ওরা গেল এফ.আই.আর. করতে, আর আমি বলব-'

'দরকার হলে আমি আর আপনি যাব, আধঘণ্টা পরে৷ আধঘণ্টায় বঙ্কুদা দেশ ছেড়ে পালাতে পারবে না৷'

বড়োদাদু ভুরু কুঁচকে কী ভাবলেন, তারপর সত্যিই ফোনের রিসিভার তুললেন৷ ফোনটা সেরে এসে বললেন, 'বল এবার তুই কী বলবি৷'

ব্যাপারটা বড়ো বাড়াবাড়ি বলে মনে হচ্ছিল আমার৷ এতবড়ো গোয়েন্দা বিচকে নিশ্চয়ই হয়ে যায়নি এখনও৷ কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে দু-বার করা প্রশ্নটাই ফের করল ও বড়োদাদুকে-'আপনি বিশ্বাস করেন, বঙ্কুদা চুরি করেছে?'

'খুবই শক্ত বিশ্বাস করা, কিন্তু তোদের দিদা যখন বলছে-'

'দিদা যদি সত্যি কথা না বলে থাকেন?'

না, ছেলেটা একটা চড়-চাপড় খাবে দেখছি এবার৷ কিন্তু বড়োদাদু শান্ত, বললেন, 'মিথ্যে কথা বলে ওর লাভ? নিজের চোখে দেখেছে বলছে-'

'সেইটেই যে সম্ভব নয় বড়োদাদু৷ বরং যদি বলতেন কানে শুনে বুঝেছেন, সেটা অনেক সহজে বিশ্বাস হত৷'

'কেন?'

'আপনিই চিন্তা করুন, ভেজানো দরজার পাল্লা ঠেললে দিদা শুনতে পান, আর বঙ্কুদা বাইরে থেকে পাল্লা টানলেন, খটাস করে ছিটকিনি পড়ল দিদা শুনতে পেলেন না? দিদা একেবারে আপনার ঘরের মধ্যে দেখলেন বঙ্কুদাকে?'

'হ্যাঁ, কিন্তু দেখেছে যে সেটাও তো ঠিক৷'

'ঠিক হতেই পারে না, অসম্ভব৷ একটা মানুষ ঘরের ভেতরে, নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন কিন্তু সে যে বঙ্কু, এটা বোঝা দিদার ওই চোখে ভারি শক্ত৷ অবশ্য তা ছাড়াও একটা ব্যাপার আছে৷'

'কী বল তো৷'

'দিদার হাঁচি৷ ওই বিচ্ছিরি হাঁচি, দু-তিন মিনিট ধরে৷'

'তাতে কী হল?'

'অত ঘন ঘন হাঁচলে চোখে কিছুই দেখা সম্ভব নয়৷'

'এ তত্ত্বটা আবার কোত্থেকে আবিষ্কার করলি?'

'আমি করিনি, রিপলি সাহেব করেছেন বড়োদাদু! চোখ খুলে হাঁচা অসম্ভব, 'বিলিভ ইট আর নট' বইয়ে আছে৷ তো চোখই যদি বন্ধ হয়ে গেল তো দিদা আবার দেখবেন কেমন করে!'

কিছুক্ষণ একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন বড়োদাদু বিচকের মুখের দিকে৷ আমার অবশ্য খুব মজা লাগছিল দেখতে, অত বড়ো পণ্ডিত মানুষ একটা পুঁচকে ছেলের কথা শুনে অবাক হয়েছেন৷ একটু পরে থেমে থেমে বললেন, 'তার মানে তোদের দিদা ইচ্ছে করে কথাটা বানিয়ে বলেছে?'

'এক্কেবারে তাই৷'

'অথচ ও জানে না জিনিসটা কে চুরি করেছে, এ-ও তো হতে পারে না৷ কান যার এত পরিষ্কার-কেউ ঢুকল, সিন্দুকের তালা খুলল, জিনিসটা নিল-'

'নিশ্চয়ই! আমিও তো তাই বলছি৷'

'মানে? তোর দিদা জানে চোর কে, তাও বলছে না! মিথ্যে কথা বানিয়ে বলছে? ধ্যাৎ, এটা কিন্তু তুই-'

'আচ্ছা বড়োদাদু!' যেন দাদুর কথা শুনতেই পায়নি, এইভাবে কথার মাঝখানে হঠাৎ বলে উঠল বিচকে, 'হাবুদা আপনাদের সঙ্গে নেমন্তন্নে গিয়েছিল?'

'কেন যাবে না?'

'ছিল সব সময় মানে যতক্ষণ আপনারা ছিলেন?'

'না, খাওয়া-দাওয়ার পর একটু বাইরে বেরিয়েছিল-মানে, তোরা তো জানিসই দু-একটা বদ অভ্যেস করে ফেলেছে! ওই সেই জন্যেই বোধ হয়-'

'কতক্ষণ হবে সেটা?'

'তা প্রায়-হ্যাঁ, একটু বেশিই হবে বোধ হয় সময়টা-ধর ঘণ্টা খানেক৷'

'নানকুদের বাড়ি থেকে এখানে আসতে ধরুন মিনিট কুড়ির বেশি লাগার কথা নয়৷ তার মানে সময়ের কথা ভাবলে কাজটা হাবুদার পক্ষে করে আসা সম্ভব৷'

'এই! কী বকছিস আবোলতাবোল৷' বড়োদাদু এমনি করে ধমকে উঠেছেন যে আমি চমকে উঠেছিলাম৷ সত্যিই তো, এসব কী পাগলামি করছে বিচকে! কিন্তু আশ্চর্যের কথা, বিচকে নিজে একটুও বিচলিত নয়, বলল, 'আপনি এখনও বুঝতে পারছেন না বড়োদাদু, কেন সমস্ত জেনেও দিদাকে মিথ্যে কথা বলতে হয়!'

'তুই বলছিস-তার মানে-'

'হ্যাঁ, একমাত্র হাবুদাকে বাঁচানোর জন্যে!'

'কিন্তু এ তো তোর মনগড়া কথা! কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ না পেয়ে তুই-'

'প্রমাণ আছে বড়োদাদু৷ বঙ্কুদার এত সাহস হবে না সে সিন্দুকের তালার ডুপ্লিকেট চাবি করাতে, দিদা বাড়ি থাকতে গোপনে বাড়ি ঢুকে সিন্দুক থেকে আসল জিনিসটা সরিয়ে নেবে, ধরা পড়ে গেলে পায়ে ধরে ক্ষমা না চেয়ে জোর করে পালাবে! বঙ্কুদাকে তো আমরা চিনি দাদু!'

'তাও এসব তোর অনুমান! ডেফিনিট কোনো প্রমাণ ছাড়া এ কথা আমি-'

'আছে দাদু, তাও আছে৷ ওই সিন্দুকের ছাপ৷'

'ওটা কার? হাবুর?'

'আমি জানি না দাদু এখানে হাতের ছাপ তোলার ব্যবস্থা আছে কি না, কিন্তু তুললে সেটা যে হাবুদার সঙ্গে মিলবেই এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই৷'

'এত জোর দিয়ে বলছিস কী করে? বুঝিয়ে দে!'

'এক হাতে ভর দিয়ে অন্য হাতে তালাটা খোলা হয়েছিল তাই তো? সাধারণ লোক হলে কী হত! বাঁ-হাতে ভর দিয়ে ডান হাতে চাবিটা খুলত, তাতে দাগটা থাকত সিন্দুকের বাঁ-দিকে৷ কিন্তু লেগেছে দেখুন, উলটো দিকে৷ তার মানে কাজটা যে করেছে সে বেঁয়ো, আর আপনি তো জানেন বড়োদাদু-'

কিন্তু কোথায় তখন বড়োদাদু! সোজা চলে গিয়েছেন তিনি দিদার কাছে৷ চোখমুখ থমথম করছে৷ কোনোরকম ভনিতা না করেই বলেন, 'ছি ছি ছি-নিজের নাতির কীর্তি তুমি বঙ্কুর ঘাড়ে চাপাতে চাইছিলে!'

'অ্যাঁ! না, মানে-'

'যাক, তোমাদের দুটোকে ধরেই আমি জেলে দেব৷ ছিঃ! তোমার লজ্জা করল না? এই বুড়ো বয়সে নাতিকে বাঁচাবার জন্যে মিথ্যে করে তুমি-'

'শোন দাদা, শোন-হাবুর সে মূর্তি তো তুমি চোখে দেখনি! এমন করে এসে দাঁড়াল- বলল, একটা কথা কেউ জানতে পারলে সবাইকে শেষ করে দেবে! আমি তো ভয় পেয়ে-'

'করাচ্ছি শেষ! কিছু হলে বঙ্কুটার কী দশা হত ভাব তো? কিচ্ছু জানল না, কিচ্ছু শুনল না-পুলিশ গিয়ে তাকে একেবারে'-হঠাৎ বিচকের দিকে ফিরলেন বড়োদাদু, বললেন, 'ওঃ, কী বাঁচান যে বাঁচালি না সবাইকে! তুই অনেক বিদ্বান হবি, অনেক বড়ো হবি, আমি প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করছি তোকে৷'

Cov180

গদগদ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আরও অনেকক্ষণ প্রশংসা শুনতে পারত বিচকে, কিন্তু বাইরে সদলবলে দাদুদের ফেরার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল৷ এর পরের দৃশ্য খুব মনোরম হবে না বুঝতে পেরে বিচকে টুক করে বড়োদাদুকে একটা পেন্নাম ঠুকে বলল, 'আমরা তাহলে এখন যাই দাদু-'

না, পুলিশে শেষপর্যন্ত দেওয়া হয়নি হাবুদাকে৷ ঘরের কেলেঙ্কারি বাইরে চাউর করতে কেউই চাননি৷ তবে তিন দাদু ধরে এমন ঠেঙিয়ে ছিলেন ওকে যে শুনছি বেচারি নাকি এখনও বাড়িতে হাড়গোড় ভাঙা 'দ' হয়ে পড়ে আছে৷ আর একটা ব্যাপারও হয়েছিল৷ দিন তিনেকের মধ্যেই কলকাতা থেকে ঝকঝকে মলাটের বুক অব নলেজের একটা দামি সেট বড়োদাদু নিজে বিচকের বাড়ি এসে উপহার দিয়ে গিয়েছেন৷ বিচকে এখন তাতে এমনই ডুবে আছে যে মাস খানেকের মধ্যে তাকে টেনে তুলবার সাধ্যি আমাদের নেই৷

শারদীয়া ১৪০৬

সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%