অপরূপ রাজ্য

অশোককুমার মিত্র, প্রসাদরঞ্জন রায়

দেশের ছোটো ছোটো আলোর দল৷

তোমাদের উজ্জ্বল মনটি নিত্য নূতন দেশের যাত্রী৷ আর সে দেশ হচ্ছে-আলোর দেশ৷ আমি জানতে পেরেছি, তোমরা চাচ্ছ, 'আরও আলো৷' 'আরও আলো৷' 'আরও আলো৷'

সেই জন্যে, আজ তোমাদের এক খুব অপরূপ রাজ্যে এসেছি নিয়ে যেতে!

দেখতে পাচ্ছি, তোমরাও এসেছ একেবারেই সেজেগুজে, ভারি উৎসাহে৷ সেই দেশে যেতে হবে বলে৷ তা তো হবেই৷

জানোই তো, তেমন স্বপ্নের রাজ্য কেউ কখনো দেখেনি, আবার তেমন সত্যের রাজ্যেও কেউ যায়নি কখনো! তা ছাড়া, কে যে সেই রাজ্যের মহারাজ, কেউ তা জানে না; কিন্তু সবাই জানে, সে রাজ্যের এক আছেন ম-স্ত রাজা, যাঁর চাইতে বড়ো রাজা আর হতে পারে না৷ আর, সে রাজ্যে এক আছেন রানি, যাঁর চাইতে বড়ো রানিও কখনো হয়নি৷

আর মজা এই যে, সত্য সত্য হয়তো সে দেশও নেই, রাজাও নেই, রানিও নেই৷

কেমন! বলো তো, বড়োই সে মজার রাজ্য, নয়? তার চেয়েও মজা এই যে, নেই কিছুই, তবু আবার, যত কিছু ওর সব, সবই আছে৷

সত্যি, এর চাইতে অপূর্ব রাজ্যের কথা কেউ কখনো শোনেওনি, আর এমন রাজ্যও আর কোথাও নেই৷

বলতে পার কেউ, সে দেশটা কোথায়? কেউ পারলে? সবখানে আছে সে দেশ, কিন্তু নেই কোথাও-ই!

পারলে না? সে দেশটা হচ্ছে-শূন্য৷

আর সেই রাজা? বললে কে, দেখি? হাঁ, হাঁ, রাজা হলেন-সৃষ্টি৷

আর রানি? কে বলতে পার? পারছ না কেউ? তবে, এবারে সে নামটি আমায়ই বলতে হবে? রানি হলেন-পরমোজ্জ্বলা, অপরূপসুন্দরী, মহিমময়ী বিদ্যুৎ৷

দেখতে পেলে তো? সবাই এঁরা রয়েছেন৷ কিন্তু, সবই এঁদের মিছে৷ তবু আবার, খাঁটি সত্যি সবই এঁরাই!

তার পরীক্ষে দেখবে? আচ্ছা, 'শূন্য' বলতে কী বোঝা যায়? 'শূন্য' বলতে সত্যি সত্যি দেখা যায়, সেখানে কিছুই থাকে না৷ কিন্তু, তবু সবাই জান যে, 'শূন্য' বলে একটা কিছু আছে৷

আর, সৃষ্টি মানে কাজ৷ তোমরা যদি কোনো কাজ কর তবেই তো কোনো একটা জিনিস গড়া হয়? নইলে কিছুই গড়া হয় না৷ কিন্তু কাজটা সত্যি সত্যি কিছুই নয়, শুধু একটু নড়াচড়া; হাতটা নেড়ে বাঁটালি ধরি, বাঁটালি নেড়ে কাঠটা কাটি, কাঠটা নেড়ে একটু ঘুরিয়ে দিই, আবার কাটি, এইরকম করে কাঠের একটা জিনিস তৈরি হয়ে যায়৷ তাহলেই, কাজ যদিও কিছু নয়, তবুও কাজ থেকেই সব জিনিস হচ্ছে!

নদীর জলে যেমন ঢেউ, আর সেই চলন্ত উঁচু-নীচু ঢেউ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, তেমনি শূন্যের ঢেউ (-স্পন্দন-মানে কাঁপন) থেকেই প্রথম সৃষ্টি, অর্থাৎ যা কিছু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এ সবার শুরু৷ এই শূন্যের ঢেউ থেকেই, ক্রমে ক্রমে, যে দিকে যা কিছু সবাই দেখতে পাচ্ছি, এ সবই হয়েছে!

আর তারপর, যা কিছু দশদিকে দেখছ তোমরা, সব রয়েছে একটি জিনিসের ভিতর৷ আসল কথা এই যে, সেটিকে জিনিস বললেও ভুল হবে-রয়েছে শুধু একটা টানের ভিতর৷ সব জিনিসের সব কিছুকে রেখেছে সে-ই টেনে ধরে; সেই টানটুকু আছে বলেই, দশদিকের যা কিছু-যা কিছুই দেখছ, সব রয়েছে৷ কে সেই টানটুকু? ওই বিদ্যুৎ তারই নাম! বিদ্যুৎ যদি না থাকে, অর্থাৎ ওই টানটুকু যদি না থাকে, তো, কোনো জিনিসের চিহ্নও, একটুকুও, এক সেকেন্ডও থাকবে না৷

কী ভয়ানক কথা৷

যা কিছু দেখা যায় সব জিনিসের খু-ব ছোটো ছোটো কণা, যা চোখে দেখা যায় না এমন সব অণু কণা, আর যা দূরবিনের মতো-খুব ছোটো জিনিস দেখবার অণুবীণ- দিয়েও দেখা যায় না-এমন সব অতি ছোটো কণা, সব শুধু বিদ্যুতের টানে একসঙ্গে হয়ে আছে বলেই সব জিনিসের আকারটি হচ্ছে, আর সব জিনিস টিকে রয়েছে, আর আমরা তাদের দেখতে পাচ্ছি৷ তা নইলে সব জিনিস টুকরো টুকরো হয়ে, তারপর গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে, তারপর কত কোটি কণা হয়ে যে ছড়িয়ে যেত, তার কোনো কিছুরই আর কোনোই খোঁজ পাওয়া যেত না৷

কিন্তু যদি ভালো করে দেখতে যাও, তো, দেখতে পাবে যে, সত্যি সত্যি বিদ্যুৎটা কিন্তু কিছুই নয়, শুধু ধরে রাখার একটা শক্তি!

অসীম শক্তিময়ী এই বিদ্যুতের শক্তিতে সমস্ত শূন্য দেশটা ছেয়ে রয়েছে৷

দেখতে পেলে এখন? সবই কিন্তু মিছে৷ আবার সবই সত্যি৷ একটা অবাক করা ব্যাপার- না? যেন সব স্বপ্ন! আবার, সেই স্বপ্নই-সব চেয়ে সত্যি!

কী আশ্চর্য!

কিন্তু ওইখানেই অবাক হওয়ার ব্যাপারটা শেষ হয়নি৷ হবে কী করে? এর কবে যে আরম্ভ, আর কবেই যে এর শেষ, কেউ তা পারেনি কখনোই জানতে! কী করেই বা জানবে? মিছেমিছি সেই যে রাজ্যটা, সেই যে 'শূন্য' দেশটা-সে যে কতই প্রকাণ্ড-কত যে অনন্ত কোটি কোটি তেপান্তরের ক-ত কোটি কোটি পারাপার জুড়ে যে তার সীমানা-তার কোনো কিছুরই, কোনোই ঠিকানা নেই৷

মনে মনে একবার বুঝে দেখো এখন, সেই দেশটা তাহলে কী ধরনের৷ মনেও ভেবে উঠা যায় না৷

ভাবতে না পার, কিন্তু মজা হল৷

খুব প্রকাণ্ড একখানা কাগজ-মানে, যত বড়ো কাগজ কলে তৈরি হতে পারে, তার একখানা নিয়ে তোমরা সবাই মিলে, সারা দিন রাত জেগে, একের পিঠে য-ত শূন্য বসাতে পার, তত শূন্য বসিয়ে যাও৷ তাহলে, যে অঙ্কটা হল, দেখে রাখো৷ ঠি-ক তত বছর আগে, সেই রাজা 'সৃষ্টি' আর রানি 'বিদ্যুতের' পুরী আনন্দে ভরে দিয়ে-

হল কী?

না-

হল পরম সুন্দর তাঁদের চারটি রাজপুত্তুর, আর এক রাজকন্যে৷ ওই বিশাল রাজ্যে এই রাজকন্যে আর রাজপুত্তুরদের জন্মে কীরকম শাঁখ যে বেজে উঠেছিল, কে তা ভাবতে পারে?

যা-ই তা হোক, ছেলেপুলেরা জন্মেই উঠে কেঁদে; জন্মেই, পাঁচজনের কেউ কিন্তু কাঁদলেন না৷ সেই রাজকন্যে-রাজপুত্তুরেরা সবাই লাগলেন হাসতে! সে হাসিতে রাজা-রানির পুরী, একেবারে সকল দিক ভরে গেল! চারদিকে ভারি সে আনন্দ! আর সেই আনন্দে, তখনই চার রাজপুত্তুরের চারটি চমৎকার অতুলন নাম দেওয়া হল৷

চার রাজপুত্তুরের বড়ো, নাম তাঁর ব্যোমকুমার-খোকা! তুমি যাকে বলছ আকাশ৷

মেজো রাজপুত্তুর-মরুৎকুমার-খুকু! তুমি যাকে বলছ বাতাস৷

সেজো রাজপুত্তুর হলেন-তেজকুমার-যাকে তোমরা বললে আলো আর আগুন৷

ছোটো রাজপুত্তুরের নাম অপকুমার-এই যে তোমরা এখনই যাকে বললে-জল৷

আর সবার ছোটো বোন, রাজার রাজকন্যের কী হল নামটি? সুন্দর সে নামটি কী? নাম তার-ক্ষিতি৷ ক্ষিতি, ক্ষিতি, কি না, তোমরা সবাই জান-মাটি; যা দিয়ে আজ পৃথিবীর সব জিনিস গড়ে উঠছে৷

প্রথম দিনে কিন্তু ছিল না এরকম৷ রাজপুত্তুর রাজকন্যেরা জন্মিলেন বটে, কিন্তু কারও হাত দেখা যায় না, পা দেখা যায় না, মুখ দেখা যায় না, শরীরও দেখা যায় না!

কী অদ্ভুত! সব অদেখা-অদৃশ্য-ধোঁয়ার আকার!

রানি বলেন, 'ওমা, কী হবে!' রাজা বলেন, 'তাই তো, কী হবে৷' রাজা-রানির মুখ গম্ভীর হয়ে রইল৷ অমন যে অ-সীম রাজপুরী, সেই রাজপুরীতে হয়তো তখন কান্নার হাট-ই বসে গেল৷

ভাবছ, একদিন দু-দিন রাজা-রানি ওইরকম হয়ে রইলেন, আর রাজপুরী ওইরকম হয়েই চলল? এইরকমে কত কত কোটি কোটি বছর যে গেল, কে তার কোনোই খবর রাখে?

কী করে রাখবে? কেননা, তখন না ছিল আলো, না ছিল অন্ধকার৷

বাঃ! আলোও নয়, আঁধারও নয়, কীরকম ছিল তাহলে? সে যে কীরকমটা ছিল, তা বুঝতেই পারা যায় না৷ কিন্তু, ছিল তাইই! কীরকম যে ছিল, কে সে কথা এসে বলবে? কে-ই বা তখন ছিল? রানি যে বিদ্যুৎ, তাঁরও নিজের তখন আলো ছিল না! দিন আর রাত যে, তা-ও ছিল না৷

তবু সে মজার দেশে, ওই ভাবে যায় দিন৷ সবাই ভাবেন শুধু; আর কী করবেন?

যায় দিন৷

হঠাৎ একদিন, বড়ো রাজপুত্তুর ব্যোমকুমার, সেই অদেখা ধোঁয়ার ভিতর থেকে জেগে, কোনো এক সুন্দর মুহূর্তে মাথা জাগিয়ে তুলে বললেন, 'বাবা! মা! এই যে আমি! আমি এই যে!'

শুনতে পেয়ে রাজা-রানি এগিয়ে এলেন, আনন্দে, মহা উৎসুক হয়ে! এসে হবে কী? রাজা-রানি ছেলের ডাক শুনতে পাচ্ছেন বটে, কিন্তু কিছুই তো দেখতে পাচ্ছেন না ভালো করে৷ কোথাও আলোও নেই, অন্ধকারও নেই!

ভারি মুশকিল!

ব্যোমকুমার মা-বাপকে দেখতে না পেয়ে-ছেলেমানুষ হলে কী হবে, বেজায় বীর তো! তাঁদের ডাকতে ডাকতে, খুঁজতে খুঁজতে ভীষণ শব্দ করে-হাত, পা, শরীর, ছড়িয়ে সেই বিশাল মহাশূন্য দেশ ভরে-বড়ো হয়ে হয়ে চলল৷ থামল না আর, চলল, চলল, চললই!

তাই তো সেই আগেকার মহাশূন্য দেশখানি, এই যে এখন দেখছ আকাশ, এই আকাশে ছেয়ে গেল!

শূন্যের জায়গায়, ব্যোমকুমারের বিরাট শরীরের সুন্দর শোভাখানি হেসে উঠল! আর তার ডাকবার শব্দও ছড়িয়ে গেল যত দিকেই!

চলল সেই শব্দ হয়তো কোটি কোটি দিন! তখনকার এক দিন ছিল কত কোটি বছর, কে জানে তা? সেইরকম দিনের কত কোটি দিন তেমনি করেই চলতে থাকল৷

কিছুদিন যাচ্ছে৷ তারপর, একদিন অকস্মাৎ, মেজো ভাই মরুৎকুমার সেই অদেখা ধোঁয়া থেকে মাথা এগিয়ে দিয়ে বললেন, 'দাদা! আমি তো জেগেছি, কিন্তু বাবা, মা, কোথায়? তুমি কোথায়? দেখতে পাচ্ছিনে কিছু যে?'

রাজা-রানি ব্যস্তসমস্ত হয়ে বললেন, 'এই যে! এই যে!' বড়ো ভাই আকাশ উঁচু থেকে অমনি উবু হয়ে বলল, 'এই যে!'

কিন্তু তাঁরা সাড়া দিলে কী হবে? কিছুই দেখা যায় না!

দাঁড়িয়ে থেকে থেকে মরুৎকুমার নিশ্বাস ছাড়তে লাগলেন৷ শেষে, কী আর করবেন! মরুৎকুমার, আস্তে আস্তে শরীর তাঁর বাড়াতে লাগলেন, সবকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলতে লাগলেন, আন্দাজে, এগিয়ে এগিয়ে, ক্রমে বড়ো হতে হতে-যেন হাতড়ে হাতড়ে বুঝতে লাগলেন- কোথায় মা-বাবা, আর কোথায় দাদা, আর পুরীর বা কোথায় শেষ!

এইরকম করে-স্পর্শ দিয়ে জানিয়ে জানিয়ে-ছুঁয়ে ছুঁয়ে-সারা আকাশ ভরে ক্রমে বাতাস ছাড়িয়ে গেল৷

তারপর যাচ্ছে আরও কতক দিন৷ তার অর্থ এই যে, যাচ্ছে আরও কত কোটি বছর৷ সেই না-আলো-না-অন্ধকারের দেশ৷

যেতে যেতে একদিন উঠলেন মাথা সোজা করে, সেজো ভাই তেজকুমার-এমন বেগে, যে যেখানে যত দিক ছিল হঠাৎ সমস্ত দিক যেন চমকিয়ে দিয়ে৷

সমস্ত দিক ভরে 'একী!' 'একী!' 'একী!' করে একেবারে দশটি দিকই শিউরে উঠল! 'কে এল!' 'কে এল!' সোর উঠতেই, এদিকে স্পষ্ট 'আমি!' 'আমি!' বলে তেজকুমার বুক টান করে দাঁড়িয়েছেন, আর তার সাথে সমস্ত দিক যেন জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠেছে৷

সে কী উজ্জ্বল, আর কী চমৎকার!

আগে তো কিছুই দেখা যেত না; না? আজ একেবারে দশদিকে যা কিছু সব-চোখের সামনে আশ্চর্যরকমে ঠিকঠাক আর জ্বলজীয়ন্ত ভাবে দেখা যেতে লাগল দেখে, সেই দিনটিতে তখন, সবার-সে খুশির কি সীমা আছে?

মহাকাশ রাজ্যে হুলস্থুল পড়ে গেল!

কী করলেন রাজা-রানি? পুলকে আকুল হয়ে, অবাক হয়ে রাজা-রানি চেয়ে রইলেন; বড়ো ভাই আকাশ-যত বড়ো চোখ মেলতে পারে তত বড়ো চোখ মেলে আনন্দে চেয়ে রইল, বাতাস একদম নেচে, কুঁদে ছুটোছুটি করে পুরী মাতিয়ে তুলল, আর শুধু বলতে লাগল, 'কী সুন্দর! কী সুন্দর! কী সুন্দর!'

আর এত কাল যে দেখা যায়নি সেই-যে-দুঃখুটা, সেটা ছিল কিনা একটা দুষ্ট দানব, যেমন সেটা এতদিন সব কিছু লুকিয়ে রেখেছিল, তেমনি আজ, সেই দানবটা, অন্ধকারের মূর্তি ধরে, ভয়ে বিকট হা করে-কোথায় যে নিজে লুকোবে, মাথা খুঁড়ে খুঁড়ে সেই পথ খুঁজে খুঁজে বেড়াতে লাগল৷

কী মজাটাই হল!

তেজকুমার কী করলেন? সোনার হাতের আঙুলগুলো ছড়িয়ে তেজকুমার, বাবা, মা আর ভাইদের গলা জড়িয়ে ধরলেন-সেই জ্বলজ্বল কাঁচা সোনার রঙের চাইতেও সুন্দর হাতে! রাজা, রানি বড়ো দুই রাজপুত্তুর আকাশ আর বাতাস-মনে করতে লাগলেন, আজ যেন সত্যি সব কী সার্থক হল! সবই যেন আজ সত্যি সত্যি হল! মনে হল, বলে উঠলেন সবাই, 'কী আজ অপার আনন্দের দিন!'

আর ওদিকে, যা কিছু দেখা যাচ্ছিল, সমস্ত আপনারই মোহন অতুল রূপে ঝলমল উজল করে দিয়ে-যেন সবার বুকের আনন্দের ফুলটি তাদেরই চোখের বাগানে ফুটিয়ে দিয়ে- তেজকুমার, খলখল করে শুধু হাসতে লাগলেন৷

যত কিছু যেখানে ছিল, আর যত সব দিক, সব সেই হাসিতে অপলক হয়ে অপূর্ব উজ্জ্বল হাসিতে মণ্ডিত হয়ে জ্বলতে লাগল৷

রাজপুত্তুর তেজকুমারের সেই অকূল অফুরণ সোনার হাসিতে, এইরকমে স-ব আলোতে আলোময় হয়ে গেল৷

এই হতে হতে, হঠাৎ কেটে গেছে কোটি বছর!

কেটে যাক না; তাতে কী? সব যখন এমনই আলোময় হয়ে গেল, তাই দেখে তখন, আনন্দে রাজা-রানির চোখ, গলে আসে আসে হল-দশদিকের সব দেখে!

বটে তো! কিন্তু মুশকিল আবার! কী হবে তা এলে? চোখে তো আর জল নেই! যে টপ টপ করে পড়বে?

সত্যি, এটা বড়ো দুঃখু কিন্তু! যেমন দুঃখে, তেমনি খুশির সময়েও, চোখের জল না পড়লে কি আসল খুশি হওয়া যায়?

তোমরা কী বল?

তাই তখন সব রাজপুত্তুরের ছোটো, কিনা-চতুর্থ রাজপুত্তুর, অপকুমার ধীরে জেগে উঠে, টলটলে চোখে চেয়ে বললেন, 'বাবা, এই যে আমি! মা, এই যে আমি! এই যে এসেছি৷' বলেই অপকুমার ধোঁয়াগুলো ডিঙিয়ে, ছুটে রাজা-রানির চোখেমুখে চুমো এঁকে দিয়ে তাঁদের বুকে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন৷ ভাইদের চোখে-মুখে চুমো এঁকে দিয়ে তাদের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন৷ ব্যোমকুমার মরুৎকুমার তেজকুমারের চোখে আনন্দের জল এল, আনন্দে জলের বিন্দু দেখা দিল৷ রাজা-রানির চোখে আনন্দজল ঝরতে লাগল৷ যত দিক সব গেল যেন কী চমৎকার ঠান্ডা আর স্নিগ্ধ হয়ে!

এতদিন সব কিনা ছিল শুকনো৷ আকাশ শুকনো, বাতাস শুকনো, আলো বিষম শুকনো- অপকুমারকে পেয়ে আজ সবার মনে ভারি স্ফূর্তি৷

শুধুই স্ফূর্তি? সবার মুখে হাসি হয়ে উঠল ঢল ঢল সরস, আর সুখে সবার চোখ ছল ছল!

এমনি করে-দশদিক ভরে অতুল স্নেহ ভালোবাসা জাগিয়ে দিয়ে, এখন যাকে বলছ জল-এই জলের হল জন্ম৷

হল তো এ সব৷ কিন্তু তার পরে?

এক যে কথা, এখনও বাকি৷

তার জন্যে হাজার হাজার বছর ধরে আকাশ চেয়ে আছেন যত দূর দৃষ্টি যায় ততদূর চেয়ে, হাজার হাজার বছর ধরে বাতাস হু-হু করে খুঁজে খুঁজে ছুটে চলেছেন, আরও হাজার হাজার বছর ধরে, এখনও না দেখতে পেয়ে, আলোর আগুন চোখ গরগর রাগে জ্বলছে শূন্য জুড়ে, আর হাজার হাজার বছর ধরে কান্নাভরা ডাগর চোখ নিয়ে ভাই জল চেয়ে রয়েছেন- কই কোথা তাদের আদরের ছোটো বোনটি, কোথায় মণির পুতুল রাজকন্যে, কেন এখনও জাগছেন না? জাগছেন না?

যুগের পর যুগ রাজা-রানি ব্যাকুল হয়ে, ব্যগ্র হয়ে চেয়ে রয়েছেন-কেন জাগছে না বুকের মণি রাজকন্যে, তাঁদের সব চেয়ে আদরের ক্ষিতি, জাগছে না কেন? কেন এখনও জাগল না?

ওগো আমার আলোর মানিক দল৷ শুনেছ? শোনো! শোনো! রাজকন্যে এখনও যে স্বপ্নে ঘুমিয়ে৷ ঘুম যে ভাঙেনি এখনও৷

শুনতে পাচ্ছি আমি, তোমরা জিজ্ঞেস করছ, 'কবে স্বপ্ন পোহাবে, কবে রাজকন্যের ঘুম ভাঙবে?'

চু...প৷ চু...প৷...

এখনও ভোরের হাওয়া বয়নি! আস্তে!

ভোরের হাওয়া বইবে, আলো পা টিপে টিপে এসে ধীরে ধীরে গান গেয়ে গেয়ে ডাকবে-লক্ষ্মী বোন, জাগো! পারুল বোন জাগো! জাগো! মণি বোন জাগো! তবে তো রাজকন্যে জাগবেন?

লাখ লাখ বছর ধরে এমনি করে আলো এসে ডাকতে ডাকতে ডাকতে ডাকতে ডাকতে ডাকতে, হঠাৎ একদিন ঈষৎ একটুখানি গা মোড়ামোড়ি দিয়ে রাজকন্যে তাঁর পদ্ম-আঁখি মেললেন!

আঃ ! বলে কি শেষ করা যায়? সে দিন দশদিকে কী যে সাড়াই পড়ে গেল! রাজা-রানি তো আনন্দে সিংহাসন ছেড়ে একেবারে উঠে দাঁড়ালেন৷ আকাশ বাতাস আলো জল চার ভাইয়ের চটাপট হাততালিতে আর জয়গানের সুরে যত দিক, সব ডুবে গেল৷ আকাশ তো ছিলেন ওই একরকম, তাঁর না ছিল হাড় না ছিল মাংস, তিনি অমনি একধরনের ছিলেন; বাতাস, আলো, জল, এঁদের গায়ে মাংস ছিল তো হাড় ছিল না, তাঁরা ছিলেন আর এক ধরনের-

আর রাজকন্যের? রাজা, রানি, ভাইয়েরা সব দেখলেন, কালো পাথরে রাজকন্যের এলোকেশ মেঘবরন চুল, লাল পাথরে সাদা পাথরে কচি কোমল হাড়ে, সোনায় রুপোয় হিরে মানিকে রাজকন্যের কুঁচবরন অঙ্গ-বাষ্পের দুধবরন শাড়ি পরা, জরির তাতে পাড়- সোনার ফুলের পাপড়ির উপরে পরমা সুন্দরী রাজকন্যে শুয়ে আছেন, টুল টুল করে চেয়ে৷ গায়ে পায়ে তাঁর অলংকারের জ্যোতি ঠিকরে পড়ছে!

Cov70

আর? এতদিন কোনো কিছুরই ছিল না তো কোনো গন্ধ! আজ লাখো হাজার ফুলের সৌরভের মতো, রাজকন্যের গায়ের স্বর্গের মধুর সুবাসে-গন্ধে-দিক সব ময় হয়ে গেল৷ সেই সুবাসে, যেখানে যে ছিল, সবাই গেল মুগ্ধ হয়ে৷

রাজা-রানি হাত বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি করে তুলে নিলেন প্রাণ-মণি রাজকন্যেকে কোলে৷ আহা! তাদের বুক যেন আজ কত দিনের চাওয়া চন্দনে শী-ত-ল হল৷

আজ এতকাল পরে, এতদিনে তাঁরা তাঁদের বুকের সত্যি সত্যি মানিকটিকে পেলেন৷ যার জন্যে জেগে ছিলেন কোটি কোটি কোটি কোটি নিযুত কোটি বছর!

মনের আনন্দে রাজা-রানি তাকে কোলে নিয়ে দোলাতে লাগলেন; নাচাতে লাগলেন; আকাশ এসে বোনটিকে চুমো খেলেন, বাতাস এসে চুমো খেলেন, আর মণি বোনের গায়ের সুগন্ধ মেখে সারা রাজ্য ছুটোছুটি করতে লাগলেন, খুশিতে মেতে! আলো তো সেই ভোর থেকেই কত আদর করছেন তার কি সীমে আছে? জল ছুটে এসে চুমো খেলেন আর বোনটির সারা গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করতে লাগলেন; আর তখন খুশিতে রাজা-রানির মুকুটের চুড়ো দুলতে লাগল!

এগিয়ে আলো বলল, 'বাবা! আমি তো বোনটিকে জাগিয়েছি, আজ আমি সারাদিন বোনটিকে কোলে নিয়ে খেলা দেব!'

এগিয়ে আকাশ, বাতাস, জল তারাও বলল, 'বা রে! আর আমরা?'

রাজা রানি বললেন, 'ঝগড়া কোরো না; আচ্ছা, আজকের দিনটি আলোর কোলেই থাক না, সবাই বোনটিকে নিয়ে মিলেমিশে খেলো; তারপর আবার তোমরা কোলে নেবে খন৷' এ কথা শুনে সবাই ভারি খুশি হয়ে বলল, 'আচ্ছা! আচ্ছা!'

তারপর আলো তখন গম গম আগুনের আসন পেতে, বোনটিকে কোলে নিয়ে বসল৷ রাজ্য জুড়ে অতুলন খেলার উৎসবের হাট বসে গেল ভাইদের!

তারা ভোরের বাঁশিতে সুর দিয়ে তখন সবাই মিলে জুড়ে দিল তাদের মজার খেলার গানখানি! চলল সে গান দিন রাত্তির পেরিয়ে কত হাজার হাজার কোটি কোটি বছর ধরে, আর কতই যে হাজার হাজার রকমের সুরে!

খাওয়া-দাওয়া কি আর তাদের মনে আছে? তারা চলল মনের আনন্দে গেয়েই! সেরকম সুন্দর গান কেউ কখনো শোনেনি ত্রিভুবনে!

সুন্দর জাঁকালো সে গান! মহাশূন্য ভরা সে সুন্দর গান!

রাজা খুশি হলেন৷ রানি তো খুশি হয়ে গিয়েছেন, যারপর নেই৷ দিকেরা সব মহাখুশি৷ দেখতে দেখতে সে গানের সুরে সারা শূন্য দেশটা একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে গেল!

দিকে দেশ আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে গানের মধুর সুরে৷

যেতেই-সেই সুন্দর গানের সুরের মধ্যে, একদিন, চারিটি ভায়ের সেই যুগ যুগের গানের সুর ছাপিয়ে উঠে, রাজকন্যের অমৃত মুখে, কথা ফুটল!

কথা ফুটল রাজকন্যের, কী সে মি...ষ্টি! কী অফুর মধুর সে কথা! রাজকন্যের কথার মধুর সুরে যেন কত দূরের কোটি বাঁশি বেজে উঠল, চারিদিক যেন ভরে গেল মধুতেই৷

বলে উঠেছেন রাজকন্যে, 'মা কই? বাবা কই? দাদারা কোথায়? আমি যে খেলব৷'

চারিদিকে-'কী?' 'কী?' 'কী?' 'কী?'

রাজকন্যে মধুঢালা কথা বলেছেন, রাজকন্যে কথা বলেছেন, রাজকন্যে খেলতে চেয়েছেন, রাজকন্যে খেলবেন-রাজপুরীতে উৎসবের একেবারে কলরব আর কোলাহল পড়ে গেল!

মহাশূন্যে আবার হুলস্থুল পড়ল! রাজকন্যে খেলবেন, তা কোথাও তো কিচ্ছু নেই তখন! 'কোথায় খেলনা?' 'কোথায় খেলনা?'

রাজা মুকুটের ঝালর ঝাঁকি দিয়ে, তখনই বিশ্বকর্মাকে ডেকে পাঠালেন৷

কোথায় কোন শূন্যপুরীর ঘূর্ণিঘরে চিরকালের অ-ঠিকানায় বিশ্বকর্মার আস্তানা, সেইখানে রাজার খবর যেতেই বিশ্বকর্মা একেবারে বিরাট এক লাট্টুর মতো ছুটে এসেছেন ঘুরতে ঘুরতে৷

বিশ্বকর্মা আসতে-না-আসতেই রাজা তাঁকে আদেশ করলেন, 'রাজকন্যে খেলবেন, শিগগির তুমি তাঁর খেলনা তৈরি করে দাও৷'

বিশ্বকর্মার নাম 'জ্বলচ্চক্র বলয়ংকর ঘুরপাক'৷ হাজার মহা ঘূর্ণি দিয়ে কোনোরকমে মাথাটা ঠিক করে দাঁড়িয়ে, তিনি তো প্রথমেই থতমত খেয়ে গেলেন৷

'তাই তো, রাজকন্যে খেলবেন-কীরকম সে খেলনাটা হবে?'

তোমরা তাঁর ভাব দেখে হাসছ নিশ্চয়ই! বিশ্বকর্মার মতো অত বড়ো ওস্তাদ কারিগর, একটা খেলনা তৈরি করবে, তারই এত ভাবনা!

কিন্তু তিনি সত্যিই ঠাহর করে উঠতে পারছিলেন না৷

এ তো আর বাজারের খেলনা নয়, যে, যাহোক করে তৈরি করে দিলেই হল, কি, বেশ দেখেশুনে বেছে একটা কিনে এনে দিলেই হল; খেলবেন রাজকন্যে, হুকুম করেছেন রাজা স্বয়ং, আর তা তৈরি করতে হবে বিশ্বকর্মাকে নিজে; আর সে দিনে বাজারও হয়নি, যে, বাজারের মতন করে কোনো জিনিস তৈরি করা যাবে৷

বুঝছ? সে কি যেমন-তেমন খেলনা হবে? সে তেমনি খেলনা!

তাই তো; তাঁকে অনেক ভাবনায় পড়তে হল৷

ভেবে, বলয়ংকর বিশ্বকর্মা ঘুরপাক কী করলেন? আবার সেইখানেই এক লক্ষ বার ঘুরে, সোজা হয়ে দাঁড়ালেন৷

আর তারপর, সেই মহাশূন্যরাজ্য তোলপাড় করে তাঁর যত যন্ত্রপাতি ছিল, যেখানে যা কিছু ছিল, সব নিয়ে-বিশ্বকর্মা জ্বলৎ-চক্র ঘুরপাক বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ বোঁ করে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে ঘুরতে, ঘুরতে শুরু করে দিলেন-দশ দিকে দশ হাজার কোটি আগুনের চুল্লি জ্বালিয়ে নিয়ে, হাজার হাজার কোটি কোটি, অযুত-কোটি কোটি বছর ধরে- রাজকন্যের খেলনা তৈরি করতে!

কীরকম যে সে খেলনাটা হবে, তা কি কেউ এতটুকুও কিছু পাচ্ছ টের?

ওগো কচি আর সুন্দর, আলোর রাজ্যের আনন্দ-মানিক সব! জানতে তোমাদের ভারি ইচ্ছে হচ্ছে? না?

তা কি আর না হয়ে যায়, বলো৷ কিন্তু সে যে কিরকম আশ্চর্য খেলনা হবে, তা তোমরাও জান না; আর বিশ্বকর্মার মহাশূন্যের ওই প্রকাণ্ড ব্যাপারের হিসেবটাতে একটুকু উঁকি না মেরে-এতদূর থেকে আসল খবর ও পুরীর, পাওয়া যাবে কী করে?

কাজেই, চলো-পার কে কে, আঙুলে গুণতে কর দেখি শুরু-আগে আমরা হিসেব করে দেখি, যে, ক-হাজার কোটি বছর পেরিয়ে এলেন ওইরকম করে ঘুরে বলয়ংকর জ্বলচ্চক্র ঘুরপাক মহাশয়-কতটা দূর-তাহলেই হঠাৎ সেই অদ্ভুত খেলনার খবর জানতে পারবে, এইখানে বসেই!

আর তার সঙ্গে তারপর তোমাদের সভায় হয়তো এ খবরও এসে পৌঁছোবে, যে,-সেই অজানা খেলনা নিয়ে কী অপরূপ খেলা খেলবেন তোমাদের অপরূপ রাজ্যের রাজকন্যে!

জ্যৈষ্ঠ-শ্রাবণ ১৩৩৯

Cov71
সকল অধ্যায়
১.
চাং
২.
হাবুর বাবুগিরি
৩.
ভবম হাজাম
৪.
হুড়ুকবাজ সিং
৫.
হাতির ভয়
৬.
বোকা তাঁতি
৭.
ঝানু চোর চানু
৮.
বাঘ মামা
৯.
শ্বেতব্রাহ্মণের উপাখ্যান
১০.
এক হল দুই
১১.
রামভজনের ঘোড়া কেনা
১২.
দাশুর কীর্তি
১৩.
বুনো মোষ পোষমানা
১৪.
ষর্ণশের্ণ
১৫.
নেড়ুর ভয়
১৬.
হেঁড়ে-গর্জন দৈত্য
১৭.
চোর আর ঠগ
১৮.
আলি ভুলির দেশে
১৯.
বড়ো গদাই আর ছোটো গদাই
২০.
পুরস্কার
২১.
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
২২.
ঠেকে শেখা
২৩.
যুদ্ধের গল্প
২৪.
বন্ধুর দান
২৫.
মানুষের ইতিহাস
২৬.
সূর্যমুখীর কথা
২৭.
ন্যাপলা
২৮.
খেয়ালহারা
২৯.
পরিবর্তন
৩০.
আচ্ছা জব্দ
৩১.
সে
৩২.
মিষ্টি মুখ
৩৩.
চিচিং ফাঁক
৩৪.
অপরূপ রাজ্য
৩৫.
গরিবের দান
৩৬.
চোর ধরা
৩৭.
ময়ূরপঙ্খি
৩৮.
সম্পাদকের সমস্যা
৩৯.
তাইতো
৪০.
লাঠি-সমস্যা
৪১.
খুকির নাম
৪২.
স্বপ্নাদ্য ঔষধ
৪৩.
অজানা কুটুম
৪৪.
রায় মহাশয়ের গল্প
৪৫.
সমরের ষড়যন্ত্র
৪৬.
সুধাং-অ্যাং
৪৭.
ফাঁকিবাজের শিক্ষা
৪৮.
ঘঙ্গোপাধ্যায়
৪৯.
নিশুর বিপদ
৫০.
ফুটবল ম্যাচ
৫১.
এক ভাল্লুকের গল্প
৫২.
কৃপাময়
৫৩.
সেজমামার চন্দ্রযাত্রা
৫৪.
রূপসায়রী
৫৫.
দুই পড়শি
৫৬.
সন্দেশের চিঠি
৫৭.
সদাশিবের ঘোড়া-ঘোড়া কাণ্ড
৫৮.
ভবানন্দের কাশীযাত্রা
৫৯.
প্রথম পুরস্কার
৬০.
কালো মানিক
৬১.
চেঙ্গিস আর হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
৬২.
গোবিন্দ গোয়েন্দা
৬৩.
দুগ্যো সদ্দার
৬৪.
ক্যাপ্টেন মুকুন্দরাম
৬৫.
অসমঞ্জবাবুর কুকুর
৬৬.
পিপীলিকা আতঙ্ক
৬৭.
মরুপ্রাসাদের রহস্য
৬৮.
সাতজনের তিনজন
৬৯.
গোরুর বিচার
৭০.
সংস্কার
৭১.
গঙ্গোত্রীর মহাপুরুষ
৭২.
মিনিয়েচারের বোম্বাই যাত্রা
৭৩.
চিতা কাহিনি
৭৪.
বটুকেশ্বরের আবির্ভাব
৭৫.
নিবারণের সমস্যা
৭৬.
ফোর্থ টেস্ট
৭৭.
টাক এবং ছড়ি রহস্য
৭৮.
কলাবতীর ময়দান রিপোর্টিং
৭৯.
ভোটরঙ্গ
৮০.
ঢেউয়ের পরে ঢেউ
৮১.
পাগলা গণেশ
৮২.
সেতু বন্ধন
৮৩.
চিপুরি বিলের মহাশোল
৮৪.
রামেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ
৮৫.
বলো তো কে এসেছিল ডিনারে
৮৬.
বোকা রাজার বুদ্ধিমতী রানি
৮৭.
টিপলুর ইতিহাস চর্চা
৮৮.
সোনার মেডেল উধাও
৮৯.
তুতানের বন্ধু
৯০.
ভূত মরলে কী হয়
৯১.
কথারা সব বেরিয়ে পড়েছিল
৯২.
বড়দার কবে ভালো লাগবে
৯৩.
শিবের অসাধ্যি
৯৪.
জয়রামের সিন্দুক
৯৫.
সংবাদের নেপথ্যে
৯৬.
নাড়কান্ডার নানাকাণ্ড
৯৭.
করণপুরার টাঁড়
৯৮.
সাঁঝবাতি
৯৯.
ক্রিকেট খেলার উপকারিতা
১০০.
অলক্ষ্যে হাসে মহাকাল
১০১.
লেখক-পরিচিতি

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%