গল্প লিখে কী বিপদ!

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বেশ কিছুদিন আগে ছোটদের একটি পত্রিকায় একটা গল্প লিখেছিলাম, 'নির্জন বনপথ' একদিন খুব সকালে এক ভদ্রলোক বাড়িতে এসে হাজির। কোথা থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করেছিলেন বলতে পারব না। বেশ রাগী রাগী চেহারা। দরজার মুখে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন—আপনিই কী সেই?

—আজ্ঞে হ্যাঁ। তা ভেতরে আসুন। কোথা থেকে আসছেন আপনি?

আপ্যায়নে এতটুকু খুশি না হয়ে বললেন,—দুর্গাপুর।

—কী সৌভাগ্য আমার!

—আপনার সৌভাগ্য, আমার দুর্ভাগ্য। শুনুন মশাই, হাসির গল্প লিখছিলেন, সেই তো ভালো ছিল। হঠাৎ এই ভীমরতি কেন?

—তার মানে?

—আপনার নির্জন বনপথ পড়ে আমার ছেলে সাতদিন লাগাতার কেঁদেছে। নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে গেছে। এই এক মাস হয়ে গেল ভালো করে খাচ্ছে না। এক কেজি ওজন কমে গেছে। আমেরিকা হলে আপনার এগেনস্টে ক্ষতিপূরণের মামলা করতুম। একটা ছেলের ভবিষ্যৎ। আপনি ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।

রাগরাগ চোখ, দাঁতে দাঁত চাপা। চোয়ালের হাড় দুটো শক্ত। পারলে ভস্ম করে দেন। মেঘ গর্জনের গলায় বললেন,—ওয়ান অ্যাডভাইস, পারলে হাসির গল্প লিখবেন, না পারেন লিখবেন না, কান্নার গল্প লিখে দেশের ফিউচার নষ্ট করতে কেউ আপনাকে বলেনি। আচ্ছা চলি। চলে যাওয়া ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বললুম, আপনার ছেলে কি সারাজীবন শুধুই হাসবে।

—চেষ্টা করবে। পয়সা খরচ করে কাঁদতে যাবে কোন দু:খে!

হয়তো তাই। দু:খ তো আমরা এমনি পাব। যা মুফতে পাওয়া যাবে তার জন্যে অর্থ ব্যয় করার কী দরকার! গনগনে আগুনে একটি কড়া। মশলা মাখানো মাংস কষা হচ্ছে। লোভনীয় সুবাশে আমোদিত চারপাশ। পুরো ব্যাপারটাই কিন্তু দু:খের, কষ্টের। জীবহত্যা। কিছু আগেই যে প্রাণীটি নির্বোধের মতো বটপাতা চিবোচ্ছিল, এখন খণ্ড বিখণ্ড, তৈলসিক্ত। পাকা রাঁধুনির হাতের কায়দায় ওলটপালট। কড়াটা বসে আছে আগুনে। যে বস্তুটি তৈরি হচ্ছে সেটি হল আমাদের রসনার আনন্দ। যাবতীয় যন্ত্রনায় পাক হচ্ছে সুস্বাদু ভোগ্য।

পৃথিবীতে মানুষের প্রবেশ পথ কিন্তু যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে। মায়ের যন্ত্রণা। গর্ভযন্ত্রণার চেয়ে তীব্র যন্ত্রণা আর কী আছে! অতএব গালিবের কথাই ঠিক। মৌত সে পহলে আদমী গমসে নজাত পাএ কেঁ*্যা। মরার আগে দু:খ থেকে নিষ্কৃতি কোথায়!

এই দু:খের পৃথিবীতে হাসতে হবে, হাসাতে হবে। প্রশ্ন হল, কী ভাবে? মানুষ কেন হাসবে। জীবনের অসঙ্গতি দেখে হাসবে। মানুষের বোকামি, ভণ্ডামি, অহঙ্কার, প্রচ্ছন্ন পাগলামি হাসির উপাদান, একজন বিপদে পড়বে ল্যাজে গোবরে হবে, সেই দেখে আর একজন হাসবে। অসহায় বাধর্ক্যের ক্ষমতা অক্ষমতা দেখে যৌবন হাসবে। ধনীর মদমত্ততা দেখে তত্বদর্শী হাসবে। বলবে, কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন, যৌবন ধন মান। লোভীর তুচ্ছ বস্তুর প্রতি লোভ দেখে, নির্লোভ বৈরাগী হাসবে। যৌবনের দম্ভ দেখে প্রবীন হাসবে। অর্থাৎ সত্য, যাকে আমরা 'ট্রুথ' বলি, সেই সত্য এই মায়ার সংসারের দিকে তাকিয়ে সদাই হেসে চলেছে, বিধাতার হাসি। সত্যদর্শী একান্তে বসে গাইবেন; এমনি মহামায়ার মায়া রেখেছে কী কুহক করে/ব্রহ্মা বিষ্ণু অচৈতন্য জীবে কী জানিতে পারে/বিল করে ঘুনি পাতে মীন প্রবেশ করে তাতে/যাতায়াতের পথ আছে তবু মীন পালাতে নারে/দার্শনিকের হাসি বহু ব্যাপক। সবেতেই হাসির উপাদান খুঁজে পাবেন। দু:খ কোথাও নেই। মানুষ খেলেও মরবে, না খেলেও মরবে। প্রাসাদে যে আছে সেও মরবে, পর্ণকুটীরে যে আছে সেও মরবে। চিরকালে ভেসে যাবে খণ্ডকাল! এর মধ্যে একজন জীবন প্রেমিক ঢুকে পড়ল অন্য আলো বেরিয়ে আসবে, যেমন গালিব। তিনি বলবেন বৈদান্তিকের মায়াবাদ, দ্বৈতবাদীর কায়াবাদ, বুদ্ধের নির্বানবাদে আমার প্রয়োজন নেই। আমার জগৎ একশো ভাগ সত্য। আমি বুঝেছি,

গম-এ হস্তী-কা, অসদ, কিস-সে হো জুজ মর্গ ইলাজ,

শম হর রঙ্গ-মে জলতী হৈ সহর হোনে তক।।

মৃত্যু ছাড়া আর জীবনযন্ত্রণার আর কী ওষুধ থাকতে পারে; কিন্তু আমার জীবন প্রদীপকে তো জ্বলতেই হবে। যতভাবে জ্বলা যায়। কখনও উজ্জ্বল, কখনও স্তিমিত, কখনও স্থির, কখনও চঞ্চল। জ্বলতেই হবে সেই ভোর হওয়া পর্যন্ত—শম হর রঙ্গ মে জলতী হৈ সহর হোনে তক।

এই জীবনের রহস্য জানলে জীবন নিয়ে খানিক উচ্চাঙ্গের রসিকতা করা যায়। রসিকতা করা মানে হাসানো নয়। রসিকতার ইংরেজি হল, হিউমার। মানুষ হ্যা হ্যা করে হাসবে না হয়তো কিন্তু মজা পাবে। একটা ধাক্কা খাওয়ার মজা। নিজেকে সঠিক পটভূমিতে আবিষ্কারের আনন্দ। যুধিষ্ঠিরকে যক্ষ জিগ্যেস করেছিলেন, বার্তা কী। কা চ বার্তা! চিরকালের সংবাদপত্রে হেডলাইনটা কী হওয়া উচিত। সুন্দর উত্তর যুধিষ্ঠিরের—

পৃথিবীর এই মোহময় কড়াতে সূর্যরূপ অগ্নিদ্বারা, দিবারাত্রিরূপে কাষ্ঠদ্বারা, মাস ঋতুরূপে হাতাদ্বারা ঘাঁটিয়া 'কাল' জীবগণকে পাক করিতেছে, ইহাই বার্তা।

যক্ষ তখন প্রশ্ন করলেন, কিমাশ্চার্যং? যুধিষ্ঠির বললেন, অহন্যহনি ভূতানি গচ্ছন্তি যমমন্দিরম, প্রতিদিন জীবগণ মরিতেছে, অথচ অবশিষ্ট সকলে অমরত্ব আকাঙ্ক্ষা করে, ইহা অপেক্ষা আর কী আশ্চর্য!

আমার আমার বলে যারা চিৎকার করছে, তাদের নিয়ে রসিকতা করা যায়। যারা ভাবছে যৌবনকে চিরকালে ধরে রাখা যায় তারাও হাসির পাত্র। শেকসপিয়ার তাঁর নাটকের অনেক দার্শনিক কথা নির্বোধের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন। ভাঁড়ের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন। অ্যাজ ইউ লাইক ইট-এ আছে, A fool, A fool I met a fool, বনের মধ্যে গাছের তলায় সেই মূর্খ বসে আছে। নিশ্চিত নিশ্চেষ্ট। 'নমস্কার মূর্খ!'

লোকটির প্রতিবাদ, 'মূর্খ বলবে না যতক্ষণ না ঈশ্বর আমাকে অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারী করেছেন।'

এরপর সে একটা ঘড়ি বের করে দেখছে আর বিড়বিড় করে বলছে দশটা বাজল। জগৎ কী ভাবে চলছে! একঘণ্টা আগে ন'টা ছিল এক ঘণ্টা পরে এগারোটা হয়ে যাবে। কিমাশ্চর্যং!'

এরপরেই সেই বিখ্যাত উক্তি। শেকসপিয়ারের ইংরেজিতে না বললে জমবে না।

And so, from hour to hour, we ripe and ripe,

And then, from hour to hour, we rot and rot

And there by hangs a tale,

শঙ্করাচার্যের প্রতিধ্বনি : অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডং, দশনবিথিং জাতং তুণ্ডম। সময় ছুটছে, যৌবন ঢলছে জরার দিকে। সব গলে গলে পড়ছে 'এ কথা জানিতে তুমি ভারত ঈশ্বর শাহজাহান/কাল স্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধন মান।' রবীন্দ্রনাথ থেকে শেকসপিয়ারে ফিরি; পৃথিবীটা রঙ্গমঞ্চ। নরনারী হল অভিনেতা। একদিক দিয়ে ঢুকছে আর একদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে চিরতরে। একটা মানুষ তার জীবৎকালে অনেক ভূমিকায় অভিনয় করে। তার সাতটা দশা। সাত বয়সে সাত অবস্থা। প্রথমে শিশু। ধাত্রীর কোলে ওঁয়া ওঁয়া কান্না, দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা। এরপর স্কুল বালক। পিঠে বইয়ের ব্যাগ। উজ্জ্বল মুখ। ভোরের আকাশ। শামুকের মতো গুটি গুটি চলছে স্কুলে। ইচ্ছে নেই, তবু চলছে। এরপর সে প্রেমিক। হাপরের মতো দীর্ঘশ্বাস। প্রেমিকের বাঁকা ভুরুর আর্কষণে করুণ সঙ্গীত। আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি। অত:পর একজন সৈনিক। জীবনযুদ্ধে মার ঝাঁপ। মুখে চাপ দাড়ি। মনে অদ্ভুত অদ্ভুত সব শপথ। সম্মানলোভী, উদগ্র মেজাজ, কথায় কথায় কলহ, প্রতিষ্ঠা ব্যাকুল কামানের মুখে দাঁড়িয়ে খ্যাতি ছিনিয়ে আনতেও পিছপা নয়। অবশেষে বিচারক। মধ্যবয়েসের পরিমিত ভুঁড়ি। জমকালো পোশাক। চোখের দিকে তাকাতে ভয় করবে। পদমর্যাদা অনুযায়ী ছাঁটা দাড়ি। কথায় কথায় জ্ঞানের বচন আর আধুনিক উদাহরণ। আর এইভাবেই তার ভূমিকা পালন। এইবার সে প্রমাণ করছে তার ষষ্ঠ বয়সে। অবশ, কৃশ দেহ, ঝলঝলে প্যান্টুলুন। নাকের ডগায় ঝুলছে চশমা, চোখের তলায় 'পাউচ'। অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডং। কোথায় সেই পুরুষালি কণ্ঠস্বর। দ্বিতীয় শৈশবে প্রবেশ। ক্ষীণকণ্ঠে, শিশুর গলার মতো কম্পিত, শ্লেষ্মার বাঁশরী শ্বাসে-প্রশ্বাসে। শেষ দৃশ্যে নায়ক জরাগ্রাসে অসহায়। শেকসপিয়ারের সেই বিখ্যাত দুটি লাইন—Is second childishness and mere aoblivion/Sainteeth, Sanseyes, Sanstaste, Sansevery thing// ইংরেজ শঙ্করাচার্য।

সমগ্র জীবন নিয়ে তত্বদর্শী বহুপ্রকার মজা করতে পারেন। মানুষকে দশ দশার যাবতীয় ব্যাখ্যা। যা থাকবে না, থাকে না, তাই নিয়ে মানুষের খামচাখামচি। আবার এই তত্বদ্রষ্টাও রসিকতার লক্ষ। যেমন রবীন্দ্রনাথ করেছেন তাঁর—হাস্যকৌতুক-এ। 'গুরু বাক্য থেকে উদ্ধৃতি। খগেন্দ্র নামে একটি চরিত্র বলছে—অন্ন এবং অন্নপায়ীর মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ। সহজ বুদ্ধিতে পূর্বে সেটা একরকম ঠাউরেছিলাম কিন্তু গুরুদেবের কথা শুনে বুঝলুম যে, পূর্বে কিছুই বুঝিনি এবং তিনি যা বললেন তাও কিছুই বুঝলুম না।'

'তৈলাধার পাত্র না পাত্রধার তৈল নৈয়ায়ীকদের এই তর্ক নিয়ে বহুকালের রসিকতা। পিপা পিপা নস্য যায় উড়িয়া। রবীন্দ্রনাথ এদের নিয়ে চূড়ান্ত রসিকতা করে গেছেন।' কাল মশারি ঝাড়তে ঝাড়তে হঠাৎ মনে একটা তর্ক এল যে, এত দেশ থাকতে জটায়ু কেন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে মারা পড়ল? জটায়ু যে রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে মরল তার অর্থ কী, এবং তার তাৎপর্যই বা কী? এর মধ্যে যদি কোনও রূপক থাকে তবে তাই বা কী? যদি কোনও অর্থ না থাকে তাই বা কেন? 'বিষয়টা শক্ত বটে। শিরোমণি মশায় আসুন।'

তিনি এলেন ব্যাপারটা আরও জটিল হল। শিরোমণি বললেন, 'বলো তো, অস্ত্রাঘাতেই বা জটায়ুর মৃত্যু হল কেন, রক্তপিত্ত রোগেই বা না মরে কেন? রাবণের সঙ্গেই বা যুদ্ধ হয় কেন, ভস্মলোচনের সঙ্গেই বা না হল কেন? অত কথায় কাজ কী, জটায়ুই বা মরে কেন, রাবণ মরলেই বা ক্ষতি কী ছিল?

কৌতুকের সঙ্গে শ্লেষও আছে বিলিতি পণ্ডিতরা কিছু না বললে সমস্যার সমাধান হয় কী করে! 'তোমাদের রস্কো সাহেব কী লেখেন? তোমাদের টিণ্ডালই বা কী বলেন! হকসলি সাহেব কী মীমাংসা করেন শুনি?'

এরপর শিরোমণি দিলেন ফাইনাল সলিউশান ঃ 'নিয়তি কেন বাধ্যতে।' যদি বলো নিয়তি কে বাধা দিতে পারে—এ কথার অর্থ কী, তবে সরল করে বুঝিয়ে দিই। নিয়তত্বই হচ্ছে নিয়তির গুণ এবং নিয়তির গুণই হচ্ছে নিয়তি। তা যদি হয় তবে নিয়তকালবর্তী যে নিয়তি তাকে পুনশ্চ নিয়ত নিয়ন্ত্রিত করতে পারে এমন দ্বিতীয় নিয়তির সম্ভাবনা কূত:?

কারণ কি না, নিত্য যাহা তাহাই নিয়ত এবং তাহাই নিয়ন্তা, অতএব রাবণের সঙ্গেই যে জটায়ুর যুদ্ধ হবে এ আর বিচিত্র কী!'

সুকুমার রায়ও এই ধরনের রসিকতায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। তাঁর চলচ্চিত্ত চঞ্চরী শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। দাদাঠাকুরের বোতলপুরাণে রঙ্গব্যঙ্গের দুটি ধারাই খেলেছে, স্থূল এবং সুষম। শিবরাম চক্রবর্তীর মতো তিনিও কথা নিয়ে 'পান' করতেন। কথার খেলা। একটি উদাহরণ পুরোনো রেডিয়ো অফিসের সামনে একজন গায়ক দাঁড়িয়ে আছেন, দাদাঠাকুর জিগ্যেস করছেন, এখানে দাঁড়িয়ে! কী করো তুমি?'

'আমি গাই।'

'অ, তা দিনে কীসের দাও?'

ইংরেজিতে একে বলে 'কুইপ'-হয় তো একটু মোটা দাগের, তা হোক। বঙ্কিমচন্দ্র 'কমলাকান্তের দপ্তরে' যা করেছেন, তা হল 'সোস্যাল' স্যাটায়ার। একটা যুগের যাবতীয় ভণ্ডামিকে ধাক্কা মারা। কুইনসির, 'কনফেশনাস অফ অ্যান ইংলিশ ওপিয়াম ইটার'-এর কথা মনে পড়ে যায়। জেরোম জেরোম ক্লাপকার হিউমারও অবিস্মরণীয়। একটি মাত্র বইয়ের জন্যই অমর 'থ্রি ম্যান ইন এ বোট'। চেকভও তুলনাহীন। হাসির জন্যে ভালো ভালো সিচ্যুয়েশান তৈরি করতে হয়। চেখভ এই ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত ছিলেন।

মানুষকে হাসাতে হবে ভাবলেই আমরা ভাঁড়ামি করতে চাই। নাটকে, চলচ্চিত্রে যা দেখি সবই 'স্ল্যাপস্টিক কমেডি'। অঙ্গভঙ্গি, হাত-পা নাড়া তোতলামি। মেদভারাক্রান্ত মানুষকে অপদস্থ করে আনন্দ দেওয়া। কিছু টাইপ চরিত্র তৈরি করে হাসাবার চেষ্টা। ভোলা মনের মানুষ, রাগী, খিটখিটে মানুষ, গোঁড়া আদর্শবাদী মানুষ, চালিয়াত, বোকা বদমাইশ, এইসব হল উপাদান। গোপাল ভাঁড়ের ট্রাডিশন। এই হাসির পরিসর খুব ছোট। পারমুটেশন, কম্বিনেশনে একই সিচ্যুয়েশন বারেবারে ফিরে আসে। হিউমারিস্ট, স্যাটায়ারিস্ট সূক্ষ্মে বিচরণ করেন। সেই কারণে তাঁদের জগৎ দেখার জন্য মন চাই। আর সৃষ্টির কাজটা মনই করে। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, যার চোখে যে রঙের চশমা, জগতের রং তার চোখে সেইরকম। ঠিক রংটা কেমন, কে বলবে? ভারা বেঁধে খুব উঁচুতে একজন কাজ করছে। নীচে রাস্তা দিয়ে লোক যাচ্ছে। একজন তাকিয়েই ভাবছে, নির্ঘাত পড়বে। সে হল সিনিক। একজন ভাবছে, দেখো ভগবান, যেন পড়ে না যায়! বাড়িতে বউ, ছেলে, মেয়ে আছে, কে দেখবে তাদের এই বাজারে! একজন ভাবছে, যদি পড়ে যায়। তারপর মনে মনে বলে পড়বে কেন? এইতেই তো সে অভ্যস্ত। পড়লেই হল। আর কম্পিউটার এজের মানুষ বলবে, পড়ে যেতেই পারে, মরে যেতেই পারে, সো হোয়াট। দ্যাটস ইন দি গেম। বিদেশ হলে ইনসিওরেন্স থাকত। ওদেশের ফুটবল প্লেয়ারদের পা ইনসিওরেন্স করা থাকে। স্বামী হঠাৎ মারা গেছে। তা কী হয়েছে, ইনসিওরেন্স তো আছে। আর যৌবন থাকলে একটা কেন, দশটা স্বামী পাওয়া যাবে। এইরকম একটা বৈদান্তিক যুগে জীবন একটা মহা তামাশা। সব তালগোল পাকিয়ে অহরহ যেন লুচির ময়দা ঠাসা হচ্ছে। নেতাকে জনতাতে, শিক্ষকে শিক্ষার্থীতে, ত্যাগীতে ভোগীতে, প্রাচীনে নবীনে, নীতিতে দূর্নীতিতে, বক্তাতে শ্রোতাতে চটকা চটকি ব্যাপার। প্রিয়জন মারা গেছে। চোখ শুকনো। বললে, ডিহাইড্রেশন হয়ে গেছে। কেন ডিহাইড্রেশন?

ওই যে জল কম খায়?

কেন কম খায়?

জলেই তো জীবাণু, তাই স্রেফ চায়ের ওপর আছে।

চা আর চাঁদা, চটি আর চাঁটি এই হল যুগ। হাসিও নেই কান্নাও নেই। আছে, বেঁচে থাকা। বাঁচতে বাঁচতে মরে যাও। এক ঢেলা কর্পূরের মতো উবে যাও। জীব জীবনের দিকে তাকিয়ে মহাজীবন হাসছে, হাউ আর ইউ? ও:, ফাইন। ভেতরটা শুকলে কী হবে, বাইরে ময়েশ্চারাইজার লাগাচ্ছি। রোদে বেরচ্ছি, সান স্ক্রিন লোশান মেখে। সব ঠোঁটেই লিপস্টিকের মতো মৃদু হাসি, ব্যঙ্গের হাসি, দু:খের হাসি। সাজানো বাগান শুকিয়ে যাওয়ার হাসি। শর্মা—হর রঙ্গ—মে জলতী হই। আমাদের বাইরের হাসি ভেতরে কান্না। কান্নাটাকে হাসির ড্রেসিং-এ পরিবেশন করতে পারলেই চার্লি চ্যাপলিন। অবিস্মরণীয় একটা কিছু।

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%