পি. এ.

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

উচ্চতায় মাঝারি।

বর্ণে শ্যাম।

মুখশ্রী, কখনও ভয়াবহ, কখনও অম্ল-মধুর, কখনও প্রেম প্রাোজ্জ্বল।

আচরণে, নেকড়েবাঘ সদৃশ।

এবংবিধ গুণসম্পন্ন মানুষটি মন্ত্রী না হয়ে অন্য কিছু হলে বেমানান হত। বিধাতার অশীর্বাদে ইনি মন্ত্রীই। এবং চুনোপুটি নয়, বেশ ভারী মন্ত্রী। দপ্তর এঁর কটুকাটব্যে তটস্থ। ইতি স্বভাবে ব্লটিং-পেপার সদৃশ। যেকোনও মুখের হাসি সহসা মুছে দিতে পারেন। যে কোনও চোখে জল এনে দিতে পারেন। যে কোনও সংসার উদার দাক্ষিণ্যে জমজমাট করে দিতে পারেন। যেমন, তেমন যে কোনও সংসারের ভিটেয় জোড়া ঘুঘুও চরিয়ে দিতে পারেন। ইনি কখনও ঝরা কখনও খরা।

'আমায় ভয় পায়' এই ভেবেই তাঁর আনন্দ। 'আমি টেরিবল' এই প্রসাদগুণেই ইনি সুখ্যাত। এ হেন একজন দুরন্ত মন্ত্রীর দপ্তরে শ্যামাচরণ পি. এ. হওয়ার সৌভাগ্য নিয়ে আদি সপ্তগ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিল উনিশশো ছত্রিশ সালে কোনও এক মাসে। তখন সে জানত না তার ভাগ্যে কী লেখা আছে। যখন জানল তখন আর পালাবার পথ নেই। বঙ্কিমবাবু বি এ পাশ করে ডেপুটি হয়েছিলেন। শ্যামাচরণ বিশ্ববিদ্যালয় গুলে খেয়ে এ দপ্তর সে দপ্তর হাতফেরতা হতে হতে খোদ মন্ত্রীর দপ্তরে পি. এ. হয়ে বসেছে। সিনিয়াররা বললেন, বরাত তোমার ভালো শ্যামাচরণ। হলে খুব হবে, না হলে হেলে পড়বে। জিনিসটা বেশ ভালোই। ট্যাকল করতে পারলেই টাকা। না পারলেই ফাঁকা। সার্কাসের সেই তন্বী মহিলাটিকে স্মরণ করো, যে বীরাঙ্গনা সিংহের গলা জড়িয়ে ধরে গোঁফে চুমু খায়। এও সেই একই পদ্ধতি—টেমিং এ লিও।

সার্কাসের সিংহ আফিমের মৌতাতে থাকে। মন্ত্রী থাকেন ক্ষমতার টাটে। বিলিতি কোম্পানির ঘূর্ণায়মান ক্যাঁচোর ক্যাঁচোর চেয়ারে। গদির ওপর গদি (পশ্চাদ্দেশ বড়োই স্পর্শকাতর)। সামনে অশ্বক্ষুরাকৃতি ডবল ডেকার টেবিল। ঝকঝকে চকচকে। ব্র্যাসো দিয়ে মাজা পেতলের পেপারওয়েট মুণ্ডিতোলা সারি সারি। যেন ক্ষমতার বোতাম। মেজাজের মুরগি ঘড়ি। ঠকাস ঠকাস করে ঠুকে কাগজে চাপা দিলে অরডারলি পিওন বুঝতে পারে মালিক কাপুরের মেজাজ চড়ে আছে। টুকুস টুকুস করে নাড়াচাড়া করলে বুঝতে পারে মন্ত্রী মহোদয় এখন খেলোয়াড়ি মেজাজে আছেন। ঘরজোড়া নরম কার্পেট। পা ডুবে যায়। প্রিয়দর্শিনী টেলিফোনের সারি। কখনও একটা বাজে কখনও সবকটা কোলের শিশুর মতো কঁকিয়ে ওঠে। ফোন বাজার দাপট দেখলে দেশের পরিস্থিতি বোঝা যায়। যখন মৃদু মৃদু একটি কি দুটি রিরিরিং রিরিরিং করে, তখন বুঝতে হবে বিরোধীরা শান্ত, লাশটাশ তেমন পড়ছে না, ঝান্ডা তেমন উড়ছে না, মিছিল রাজপথে তেমন পাক মেরে মেরে ঘরমুখো অফিস যাত্রীদের পাকদণ্ডীতে বেঁধে ফেলছে না, বিধানসভায় জুতো ঝ্যাঁটা লাথি চলছে না। শিবিরে শিবিরে বিরাজ করছে সমঝোতার শান্তি। ফোনে তখন প্যানের প্রেমের বুলি। কিন্তু লাল, গোলাপি, নীল সবকটাই যখন তেড়েফুঁড়ে বাজতে থাকে, যখন এ কানে ও কানে একটা, দু-কাঁধে দুটো সরব সপ্তগ্রাম, তখন বুঝতে হবে গেল গেল অবস্থা। গদি করে টলটল, পাসরাতে ওঠে জল।

আজ সেইরকম একটা দিন। মন্ত্রীর কানে লাল টেলিফোন। তিনি খ্যাস-খ্যাসে গলায় ও প্রান্তের মানুষটিকে বেজায় ধমকাচ্ছেন। কথায় সামান্য গ্রাম্য টান। সেই টানটাকে সযত্নে ধরে রেখেছেন। কারণ তিনি মনে করেন—তিনি জনতার প্রতিনিধি। ঠান্ডা ঘরে কাচ মোড়া টেবিলে টাট সাজিয়ে বসে থাকলেও তিনি আছেন মৃত্তিকার কাছাকাছি, তাঁদের সেবক, দাসানুদাস হয়ে।

মন্ত্রী বলছেন—দাঁত মেলছ মনে হচ্ছে। (ও প্রান্তে যিনি তিনি বোধহয় হে হে করে হাসির ভাব এনেছিলেন কথায়। ডাক্তারি ভাষায় এ ব্যাধিকে বলে গ্রেট ম্যান প্রকসিমিটি রিফ্লেকস। অনেকের যেমন বাইরে যাওয়ার নাম শুনলেই নিম্নবেগ আসে। বড় মানুষের সামনাসামনি হলেই অনেকে অজান্তেই হাত কচলাতে থাকেন আর গলা দিয়ে হেঁ হেঁ করে বিচিত্র শব্দ ক্ষেপণ করতে থাকেন। মুখের চেহারা হয় কুমোরের তৈরি কাঁচা মুখ। মাটিতে জোর করে থেবড়ে বসিয়ে দিলে যেরকম হবে, সেই রকম) ওই দাঁত আমি একটা করে খুলে স্যাপারেট পার্সেল করে তোমার বউয়ের কাছে পাঠিয়ে দোব হারামজাদা। মালা করে পরবে। মানকে! মানকে বড় না আমি বড় শুয়োর! মন্ত্রী সেই ভদ্র সন্তানকে শুয়োর বলে ঝপাং করে ফোন ফেলে দিয়ে পায়ের কাছে বোতামে চাপ দিলেন।

শ্যামাচরণের মাথার ওপর লাল আলো দুরুদুরু করে জ্বলে উঠল। শ্যামাচরণ স্টেনোর সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছিল, হাসি ফিউজ হয়ে গেল। পেটে মৌরলা মাছের ঝোল পাক খেয়ে উঠল অ্যাকোরিয়ামের মাছের মতো। (শ্যামাচরণ হালে বিয়ে করেছে। নতুন বউ স্মৃতিশক্তি বাড়াবার জন্য ইদানীং বঙ্গসন্তানটিকে মৌরলা মাছের ঝোল সেবন করাচ্ছেন মন্ত্রীর পি এ। ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে স্মৃতি আর শ্রুতির ওপর। মন্ত্রীর নেকনজরে হয় প্রাোমোশন না হয় লিকুইডেশন। এখন স্বামী আমার রংচটা পতপতে তেরপল ঢাকা জিপে চেপে অফিস যায়। মই বেয়ে আর একটু উঠতে পারলেই মোটর গাড়ি। ফোন হবে, ফ্রিজ হবে, টুর হবে, টি এ হবে)।

শ্যামাচরণ হিলহিলে ঠান্ডাঘরে ঢুকল। মন্ত্রী তখন দু দাঁতের মাঝে একটা টুথপিক ধরে তিরতির করে নাচাচ্ছেন! টেবিলের ওপর হাতের চেটো আঙুল নিয়ে খেলছে। শ্যামাচরণ ঢুকতেই মন্ত্রী টেনে টেনে বললেন) শুয়োরের বাচ্চা।

শ্যামাচরণ বলল—ইয়েস স্যার। (কেরিয়ার গাইড বলছে ডোন্ট প্রাোটেস্ট এ মিনিস্টার। অ্যাকসেপ্ট এভরিথিং অ্যাজ অমৃতং কালমন্ত্রী ভাষিতং)

মন্ত্রী বললেন—বাঁশ দেব। আছোলা বাঁশ।

শ্যামাচরণ : ইয়েস স্যার।

মন্ত্রী : দিল্লি থেকে বাঁশ আনব।

শ্যামাচরণ : ইয়েস স্যার।

মন্ত্রী : ইউ আর এ ফুল।

শ্যামাচরণ : ইয়েস স্যার।

মন্ত্রী : আজই আমি দিল্লি যাব।

শ্যামাচরণ : ইয়েস স্যার (কেরিয়ার গাইড বলেছে, ট্যাকল এ মিনিস্টার উইথ লিমিটেড ভোকাব্যুলারি। প্লে ক্লেভারলি উইথ টু ওয়ারডস—ইয়েস অ্যান্ড স্যার। প্লেস ইট বিফোর, প্লেস ইট আফটার, পাঞ্চ ইট হিয়ার, পাঞ্চ ইট দেয়ার অ্যাজ অফন অ্যাজ ইউ গেট ইওর চানস। হোয়েন ইউ লিভ দেয়ার শুড রিমেন নাথিং বাট ইয়েস অ্যান্ড স্যার)।

মন্ত্রী : কীসে যাব?

শ্যামাচরণ : প্লেনে নয় স্যার, ট্রেনে।

মন্ত্রী : কেন ট্রেনে?

শ্যামাচরণ : অ্যাস্ট্রলজার অ্যাডভাইস করেছেন স্যার প্লেনে স্যার গেলে স্যার অ্যাকসিডেন্ট হবে স্যার।

মন্ত্রী : রাজধানীর টিকিট চাই। দাঁড়িয়ে আছে কেন? যাও এখুনি জোগাড় করো। (সুর করে) ইডিয়েট।

প্যান্টটাকে ভুঁড়িতে বেল্ট ধরে টাইট করে শ্যামাচরণ চু কিত কিত করে ছুটল রাজধানীর টিকিট জোগাড়ে। ভি আই পি কোটা বললেই তো হল না, ভি আই পির সংখ্যা কম নাকি? একটা ট্রেন, অনেক ভি. আই. পি.। শ্যামাচরণের মন্ত্রী অন্যের তো তিনি মন্ত্রী নন। হু কেয়ারস হুম? তোমার মন্ত্রী তুমি মাথায় করে দিল্লি নিয়ে যাও। এ যেন তোমার বউ তুমি ম্যাও সামলাও। শ্যামাচরণ অতি কষ্টে কান ধরে ওঠ বোস করে পাঁচটা সিমেন্টের টোপ ফেলে একটা টিকিট ম্যানেজ করল। কেরিয়ার গাইড বলছে স্ত্রীকে এবং মন্ত্রীকে জীবন দিয়েও সন্তুষ্ট রাখবে। আর প্রমিস? প্রমিস ইজ এ থিং হুইচ ইউ আর নেভার এক্সপেক্টেড টু ফুলফিল। মন্ত্রীদের কেরিয়ার তো অঙ্গীকারের শত শত মৃত স্তূপের ওপরেই হাসছে খেলছে, ভাঙছে, জুড়ছে।

মন্ত্রী বললেন : টিকিট পেয়েছ?

শ্যামাচরণ : পেয়েছি স্যার।

মন্ত্রী : সিকিউরিটিকে জানিয়ে রাখো। আমার ব্যাগেজ রেডি করো।

জনতার সেবক হলেও জনতা মন্ত্রীর সেবক নাও হতে পারেন। হাতের কাছে হ্যান্ডি কিছু পেয়ে ছুঁড়ে মেরে দিতেও পারে। তখন? ক্ষতি তো দেশেরই হবে। মন্ত্রীর আর কী? তিনি মরে ভূত হবেন। কে বলে মন্ত্রীর উপদ্রবের চেয়ে ভূতের উপদ্রব ভালো! তাদের কোনও ধারণা নেই। শ্যামাচরণের আছে। সে দেখেছে কোনও মন্ত্রী তাঁর পি এ-কে মনে মনে অথবা সশব্দে কেশে আট বার মনুষ্যেতর প্রাণীতে সম্বোধন করলেই একটি প্রাোমোশন। তার অর্থ কি তাহলে দুধ মেরে যেমন ক্ষীর, পশুত্ব ঘন হলেই একটি উচ্চপদ? শ্যামাচরণ চা খেয়ে চেয়ারে চিতিয়ে পড়ল। ভুঁড়িটা এগিয়ে গেল সামনের দিকে।

এদিকে বেলা বাড়ছে। আকাশে ঘন মেঘ। এল বুঝি বৃষ্টি। লাঞ্চের সময় শুরু হল শহর ভাসানো বৃষ্টি। মন্ত্রী আর পি এ যখন রাস্তায় নামলেন তখন রাজপথের যা অবস্থা, তাতে আর মোটর নয় স্পিডবোর্ড চলতে পারে।

মন্ত্রী তাল ঠুকে বললেন, তোমাদের ষড়যন্ত্র।

শ্যামাচরণ ইয়েস স্যার বলতে গিয়েও সামলে নিল। নো স্যার।

মন্ত্রী : তোমরা জানতে আমি আজ দিল্লি যাব।

শ্যামাচরণ : ইয়েস স্যার।

মন্ত্রী : তবে তো স্যার বললে কোন আক্কেলে, অ্যাঁ। খোদার খাসি।

শ্যামাচরণ : ইয়েস স্যার।

মন্ত্রী : তোমরা আমাকে স্টেশনে পৌঁছে দেবে যে ভাবেই হোক। আই মাস্ট ক্যাচ দি ট্রেন।

মন্ত্রী উঠলেন গাড়িতে। পেছনের আসনে তিনি। সামনে সিকিউরিটি আর পি এ শ্যামাচরণ। গাড়ি চলছে স্টেশনের দিকে। মন্ত্রী ড্রাইভারকে ধমকাচ্ছেন ট্রেন যদি ধরাতে না পারিস তোকে আমি বিরোধী বলে বরখাস্ত করব। ষড়যন্ত্র। আই নো হু আর বিহাইন্ড দিস। এর পেছনে আমার দলের ফ্র্যাকশন আছে আর আছে অপোজিশান। ড্রাইভার মনে মনে বললে, সব করবি শালা। আজ আছিস কাল নেই। শ্যামাচরণ বললেন, অপোজিশন হল ঈশ্বর স্যার। মন্ত্রী শুয়োরের বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা জপ করতে করতে পুরমন্ত্রীর মুণ্ডপাত করতে লাগলেন। জপাৎ সিদ্ধি কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মনে হল সারা শহরে এক হাঁটু নোঙরা জলে থই থই করছে পালপাল শূকর। একটি দাড়িঅলা শূকর একটা লরি চালিয়ে তাঁর গাড়ির সামনে পথরোধ করে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী ড্রাইভারকে বললেন, সাইরেন লাগাও। হঠাৎ তাঁর মনে হল গাড়ির সামনে পতাকা লাগানো হয়নি। হোয়াই। ষড়যন্ত্র। শ্যামাচরণ। গো। গেট দি ফ্ল্যাগ। রাসকেল।

ভগবান বাঁচলেন। ফ্ল্যাগ গাড়িতেই ছিল। এক কোমর জলে নেমে শ্যামাচরণ পতাকাদণ্ডে পতাকা পরালেন। ঘন ঘন সাইরেন, দণ্ডে জলে ভেজা পতাকা, মন্ত্রীর শূকরোক্তি, সিকিউরিটির চড়চাপড় কোনও কিছুতেই জ্যাম খুলল না। মন্ত্রী মনে মনে তিনজন ব্যক্তিকে বরখাস্ত করে ফেললেন। তার মধ্যে সাদা বর্ষাতি মোড়া ট্রাফিক পুলিশটিও পড়ল। পুরমন্ত্রী যে তার অ্যান্টি গ্রুপে, সে সত্যটিও জলমগ্ন রাস্তায় গাড়িতে বসে তাঁর খেয়াল হল। মনে মনে বললেন, আই উইল সি। সি শব্দটি মনে আসতেই হাত ঘুরিয়ে ঘড়ি দেখলেন। আর মাত্র পঁচিশ মিনিট। শ্যামাচরণ?

ইয়েস স্যার।

নেমে পড়ো।

শ্যামাচরণ জলে নামল। নেমেই বুঝল চাকরির জল কত ঘোলা।

মন্ত্রী—দৌড়ও। তুমি দৌড়ে ট্রেন ধরে রাখো। গার্ডকে বলো মিনিস্টার আসছেন, গোও।

শ্যামাচরণ সেই হাঁটুজলে হাঁচর করে দৌড়তে শুরু করল। উ:, ভুঁড়িটাই এখন দেখছি কাল হল। লরির ফাঁক হল। লরির ফাঁক গলে, ট্রামের পাশ দিয়ে, রিকশার কোল গলে খানাখন্দ পেরিয়ে পি এ ছুটছে।

হাওড়া স্টেশন। গার্ডসাহেব বাঁশি মেরেছেন। পতাকা ঝটপট করছে। ট্রেন ছাড়ল বলে। কাকভেজা একটি লোক ইঞ্জিনের চেয়েও বেশি হাঁপাতে হাঁপাতে সটান তাঁর পায়ে এসে পড়ল।

শ্যামাচরণ : স্টপ, স্টপ, মিনিস্টার ইজ কামিং।

গার্ডসাহেব তলায় পড়ে থাকা মানুষটিকে দেখলেন। প্ল্যাটফর্মেও পুলিশের আয়োজন ছিল, যেহেতু মন্ত্রী যাবেন। শ্যামাচরণ জ্ঞান হারাবার আগে পরিষ্কার বাংলায় বলল, গাড়ি থামান, মন্ত্রী আসছেন। আমি তার পি এ।

গাড়ি লেগে রইল। পুলিশ তৎপর হলেন। আসছেন, তিনি আসছেন। কামরায় কামরায় অসন্তুষ্ট যাত্রী। কে হরিদাস পাল। অবশ্য তারা জানতেই পারলেন না, কেন ট্রেন ছাড়ছে না। গার্ড সাহেব বললেন, টেকনিক্যাল প্রবলেম।

হঠাৎ পুলিশবাহিনী সজাগ হয়ে অ্যাটেনশনের ভঙ্গিতে দাঁড়ালেন। একটি মাঝারি উচ্চতায় পাজামা পাঞ্জাবি পরা মানুষ গটগট করে এগিয়ে এসে প্ল্যাটফর্মে ঢুকলেন। পি এ শ্যামাচরণ সবে তখন জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন। শীতে কাঁপতে কাঁপতে ফাইলে নোট লেখার ভাষায় বললে—ডান স্যার, অ্যাজ ডাইরেকটেড।

মন্ত্রী চলমান গাড়ির জানালা থেকে স্নেহের গলায় বললেন, আই উইল সি।

উপসংহার ঃ সত্যিই তিনি দেখেছিলেন। শ্যামাচরণ মাছের মতো জল কাটতে পারে। হি হ্যাজ প্রুভড ইট। শ্যামাচরণকে মৎস্য বিভাগের উচ্চপদে রেখে মন্ত্রী আই উইল সি করলেন। শ্যামাচরণ-দম্পতি সেই প্রবাদবাক্যের বিপরীত উদাহরণের মতো লেখাপড়া শিখেও মৎস্য ধরিতে লাগিলেন এবং সুখে খাইতে লাগিলেন দীর্ঘকাল। আর মন্ত্রী মহোদয় নির্বাচনে গভীর জলে তলাইয়া গেলেন।

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%