সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বেশ পাকা পকেটমাররাই মৃত্যুর পর আমাদের স্ত্রী হয়ে জন্মায়। এই মহাসত্য আমার অজানাই থেকে যেত যদি না আমি বিবাহ করতুম। এর মধ্যে মধ্যে আবার আর একটি সত্য আছে। সেটাও আমার আবিষ্কার। পেনিসিলিন আবিষ্কারের মতোই আকস্মিক। অথচ সাংঘাতিক। বেদান্ত বলেছেন, সত্য গুহায় গা ঢাকা দিয়ে থাকে। হামাগুড়ি দিয়ে বের করে আনতে হয়। যে স্বামী নাড়ুগোপালের মতো হামা দিয়ে প্রাক-বিবাহ পর্বে স্ত্রীরূপী নাড়ুটিকে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, তাঁরই এই ফাউ সত্যটি লাভ হয়। কী সেই সত্য! প্রেমিকা যদি স্ত্রী হয়ে জীবন-আঙিনায় নৃত্য করতে আসেন, তাহলে তিনি তো নেত্যকালী হবেনই, সেই সঙ্গে 'গোদের ওপর বিষফোঁড়া'র মতো শুধু পকেটমার নন, চোরও হবেন। অনেকটা অ্যালসেশিয়ান চোরের মতো। অ্যালসেশিয়ান চোর জিনিসটা কী? একটু ব্যাখ্যার দরকার। ছিঁচকে চোর আছে, সিঁদেল চোর আছে, যে বস্তুটি বলছি সেটি কী? অ্যালসেশিয়ানের ঘ্রাণ আর শ্রবণশক্তি খুব প্রখর এবং বিশ্বস্ত! সেই অ্যালসেশিয়ান যদি চোর হয় তাহলে প্রেম করে বিয়ে করা বউয়ের মতো হবে। এমন বউয়ের ঘ্রাণেন্দ্রিয় আর শ্রবণেন্দ্রিয় বড় সাংঘাতিক।
বুক পকেটে সাত টাকা আর পাশ পকেটে বারো আনা! জামা ঝুলছে হ্যাঙারে। সংসার খরচের টাকা, আলুকাবলি, ঘুগনি, ফুচকা খাবার টাকা, সিনেমা দেখার টাকা, সবই সেই মহীয়সীর কাছে জমা করে দিয়ে অবশিষ্ট কয়েকটি টাকায় লেংচে লেংচে আমার মাস চলে। লোকলৌকিকতা হলে সেই অর্থেও সংসার খাবলা মারে। তখন টিফিনে মুড়ি আর গুটিকয়েক বাদামদানা খেয়ে দিন চালাতে হয়।
প্রেমের তুফানে অর্থনীতির নৌকোর তলা ফেঁসে গেছে। মনকে বোঝাই, ওরে মন, পস্তাও মাৎ, প্রেম বড় পবিত্র মাল। লায়লা-মজনুর কথাই স্মরণ করো। রামী-চণ্ডীদাসের কথা ভাবো। বিল্বমঙ্গলের উদ্দেশে প্রণাম করো। প্রেম যুগে যুগে। পচা বাদাম চিবিয়ে মুখের বারোটা বেজে গেছে। কুছ পরোয়া নেহি। অধরসুধা পানে চাঙ্গা হয়ে যাবে।
অফিসবারে সকালের দিকেই যত ফ্যাঁকড়া বেরবে। হঠাৎ জগন্নাথবাবু আসবেন। বললেন, আচ্ছা মশাই, সিমেন্ট ডিপার্টমেন্টে আপনার কেউ জানাশোনা আছে? নেই! হেলথ ডিপার্টমেন্টে? তাও নেই! মোটর ভেহিকলস? তাও নেই! কী আছে আপনার! খালি আপনি আছেন আর আপনার ছায়া আছে? সমাজের কোনও কাজেই লাগবেন না? সমাজবন্ধু হতে পারেন না? ওয়ার্থলেস বাঙালি।
অথবা কাকে স্টেনলেস স্টিলের চামচে ঠোঁটে করে নিয়ে নিম গাছের বাসায় গিয়ে ছেলেকে পুডিং খাওয়াচ্ছে। একটু পেড়ে এনে দাও না গো। জীবনে যে টুলে উঠে বালব পরাতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ভয়ে মরে, সে উঠবে নিম গাছে। বলো কী ম্যাডাম!
আহা তুমি উঠবে কেন? রকে গোবিন্দ বসে আছে। তাকে গোটা দুই টাকা দিলেই পেড়ে এনে দেবে।
বারো আনা দামের চামচের জন্যে দু-টাকা খরচ।
তা তো বলবেই। তুমি যে সোনার চামচে মুখে দিয়ে জন্মেছিলে! আমি বলে কত কষ্ট করে পাঁচ কেজি কাপড় কাচার গুঁড়ো কিনে চামচেটা ফিরি পেয়েছিলুম। সুন্দর চামচে! আমার চামচে!
তোমার চামচে তো কী হয়েছে! ওটা তো নেতার চামচে নয়, যে কাকে নিয়ে গেছে বলে, চলবে না, চলবে না করার লোক কমে যাবে।
মাদ্রাজি মহিলা হলে আমি তোমাকে আজই তালাক দিতুম। জানো কি, তাদের স্টেনলেস স্টিলের প্রাণ। কিংবা, আমার সেই প্রেমাঙ্গিনী বাথরুম থেকে বিকচ্ছ অবস্থায় বেরিয়ে এলেন, ওগো শুনছ!
একী? তুমি যে হিন্দি ছবির নায়িকা হয়ে আছ, একেবারে সত্যম শিবম সুন্দরম। সেনসার না কেটে ছেড়ে দিলে কী করে? এখুনি সামনের আসনের দর্শকরা যে সিটি মারবে!
আ: রসিকতা রাখো। কী হবে?
হাউসফুল হবে।
রসিকতা কোরো না। সর্বনাশ হয়ে গেছে, আমার আঙুল থেকে এক ভরির আংটিটা সিলিপ করে প্যানে পেড়ে গেছে।
বাঁচা গেছে।
ওমা সে কী! আমার বিয়ের আঙটি! একবার দ্যাখো না, হরিয়াকে যদি ধরতে পারো। হাত ঢুকিয়ে বের করে এনে দিতে পারে কি না দেখুক।
আজ সেই রকম একটা দিন। শ্যালক আসছেন শোলাপুর থেকে। তিনি চিংড়ির মালাইকারি ছাড়া আর কিছু খান না। ক্ষীর সহযোগে খানছয়েক ফুলকো লুচি চলতে পারে। আর নতুন ফুলকপি উঠেছে। ভাপিয়ে দিলে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। শ্যালকের মালমশলা জোগাড় করতে গিয়ে ঘড়ির কাঁটা ঝুলে গেল। তেড়েফুঁড়ে রাস্তায় বেরোতেই পিতার বয়সী শশাঙ্কবাবু—গুপ্ত প্রেস আর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে এক কুটকচালে প্রশ্ন করে বসলেন। গাদি খেলার কায়দায় ঝুল কেটে পালাতে চাইছি। পথ পাচ্ছি না। সাবেক কালের মানুষ, আমার চেয়ে ভালো খেলেন। কিছুতেই ঘর ছেড়ে বেরোতে দিচ্ছেন না।
মুক্তি যখন পেলুম, তখন আর বাসে যাওয়ার সময় নেই। এদিকে আজই ইনকাম ট্যাক্সের হিয়ারিং-এর দিন। অনেক চেষ্টায় একটা ট্যাক্সি ধরে ফেললুম। আগে চাকরি, পরে খরচের হিসেব। গাড়িতে উঠেই মনে পড়ল, পকেটে পড়ে আছে সাত টাকা বারো আনা। সাত টাকা বারো আনায় চার চাকায় চাপা যায় না। ঝাঁকামুটের চার্জও অনেক বেশি।
গাড়ি ঘুরিয়ে আবার বাড়ি ফিরে এলুম। গোটা পঞ্চাশ টাকা পকেটে রাখা উচিত। যেতে হবে বাম্বুভিলা! সেখানেও কিছু পূজা-অর্চনা আছে। আসতে আসতে পকেটটা একবার চেক করার ইচ্ছে হল। সাত টাকা আছে না গেছে। বুক পকেটটাকে আমি ইচ্ছে করেই হরেকরকম কাগজে ঠেসে রাখি। একে বলে 'অ্যান্টি-পকেটমার ডিভাইস।' টুক করে টাকা তুলে নোব, তা হবে না। বিশল্যকরণীর সন্ধানে জাম্বুমানের মতো গন্ধমাদন ঘাড়ে করতে হবে। স্ত্রী মোরে করিয়াছে জ্ঞানী।
লন্ড্রির বিল বেরুচ্ছে, র্যাশনের ক্যাশমেমো, কোষ্ঠীর ছক, বাজারের হিসেব, যাবতীয় ভেজাল সবই ঠিকঠাক বুক পকেটে বহাল, টাকা সাতটাই নেই। সর্বনাশ! পাশ পকেটেও তেমন ঝঙ্কার উঠছে না। আধুলি আর সিকি সরব দম্পতির মতো সাড়া দিচ্ছে না। সিকি আধুলিকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে। তার মানে পঞ্চাশ পয়সা নিয়ে কলকাতা শহরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বেরিয়েছিলুম! আমি কি নাগা সন্ন্যাসী। কুম্ভমেলায় নাঙ্গা হয়ে ঘুরে বেড়াব! মেজাজের এই অবস্থাকেই বলে, বাবু একেবারে ফায়ার।
যে কেশদামে একদা হাত বোলাতে বোলাতে বলতুম চুল আর কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, সেই কেশভারে তিনি চিরুনি চালাচ্ছিলেন বেশ আয়েস করে। আমাকে দেখেই ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন। 'এ কী, ফিরে এলে?'
ক্রোধে কণ্ঠ রুদ্ধ। হুম করে গলা দিয়ে বাঘের মতো গর্জন বেরুল।
—'কী, বড় বাইরে পেয়েছে!'
মাঝে মাঝেই আমাকে অসময়ে নিম্নচাপে কাহিল হতে হয় ফিরে আসতে হয় ঠিকই, তবে আজ যে অন্য কারণ। দাঁত চেপে বললুম, আজ্ঞে না। সব ঝেড়ে ফাঁক করে দিয়েছ, তোমার কি কোনও কালেই আক্কেল হবে না? বলতে কী হয় যে, তোমার পকেট সাফ করে দিয়েছি!
বাইরে ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে, শোওয়ার ঘরে ঢুকে গুপ্তধন খুঁজছি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক একদিন এক এক জায়গায় টাকা রাখি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোমেলের ট্যাকটিক্স। একে বলে ম্যানুভার। যুদ্ধেক্ষেত্রে আর সংসারে কোনও তফাত নেই। তিন পাট বিছানার যে-কোনও এক পাটে খামে ভরা গোটা কতক কুড়ি টাকার নোট থাকা উচিত। খাটের চার পাশ। চার পাশের কোন পাশে আছে? মাথার দিকে না পায়ের দিকে? ডান পাশে বাঁ পাশে। প্রথম পাটে, না দ্বিতীয় পাটে, না তৃতীয় পাটে। সাত ঝামেলায় স্মৃতি এখন এতই বিপর্যস্ত, কিছুই মনে থাকে না। কোথায় টাকা রাখলুম ডায়েরিতে লিখে রাখতে হয়। কম্বিনেশন তালার কোডের মতো। এক জায়গায় পর পর দুদিন তো আর রাখা যাবে না।
—কী খুঁজছ অমন হন্যে হয়ে, বলো না? হয়তো সাহায্য করতে পারি।
—থাক তোমাকে আর সাহায্য করতে হবে না। যে ভালো করেছ কালী, আর ভালোতে কাজ নাই। তুমি এখন সরে পড়ো।
—বিছানাপত্তর অমন ওলট-পালট করছ কেন? বিছানায় ছারপোকা নেই।
—কী খুঁজছি তুমি ভালোই জান। যদি সরিয়ে থাকো, দয়া করে খামটা দিয়ে দাও। বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
—মাইরি বলছি আমি নিইনি। আমি নিলে বলে নিই।
ভালো মানুষের মতো মুখ করে তিনি সরে পড়লেন। এখন ডায়েরি ভরসা। সাত তারিখে রেখেছিলুম মায়ের ছবি পেছনে। আট তারিখে বিভূতি গ্রন্থাবলির তৃতীয় খণ্ডের আঠাশ পাতায়। ন'তারিখে দেরাজের তলায়। দশ তারিখে কাপড়ের আলমারির তৃতীয় তাকে হলদে শাড়ির ভাঁজে। মাঝে মাঝে শত্রুপক্ষের এলাকায় ঢুকতে হয়। ভুলেও ভাবতে পারবে না, তস্করের ডেরায় মাল সাজানো। এগারো তারিখে বাথরুমে সেভিংসেটের ভেতরে। বারো তারিখে পুরোনো খবরের কাগজের গাদায়। তেরো তারিখ রেকর্ডপ্লেয়ারের স্পিকারের তলায়। কাল কোথায় রেখেছি? মরেছে, কোনও এনট্রি নেই।
সারা ঘর তোলপাড়। হিঁয়া কা মাল হুঁয়া। গাড়ি হর্ন দিয়ে অধৈর্য প্রকাশ করছে। এখন তিনিই ভরসা। আমারই টাকা আমাকে চাইতে হবে ভিখিরির মতো। এখন আর খোঁজার সময় নেই। পরে এক জায়গায় চোখ বুজিয়ে বসে ধীরে ধীরে ভাবতে হবে। অফিস থেকে এলুম, জুতো খুললুম, অবিনাশ বাইরের ঘরে বসেছিল, তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে লোডশেডিং। তারপর, তারপর কী হল! দেশলাই কোথায়, বাতি কোথায়, হই হই, রই রই। তারপর? আর মনে পড়ছে না।
—হ্যাঁগো, কোথায় গেলে?
—বলো, কী বলছ?
গোটা কুড়ি টাকা দেবে?
কোথায় পাব?
কোথায় পাব মানে! আজ তো সবে পনেরো তারিখ। সংসার খরচের টাকা নেই!
তোমাকে আমি টাকা দোব না। তুমি নিলে আর দিতে চাও না। শেষ মাসে বড় বিপদে পড়তে হয়। আগে দু-চার টাকা এদিক-ওদিক থেকে সরাতুম, পুষিয়ে যেত। এখন কোথায় যে রাখো খুঁজে পাই না।
ও এখন আর সরাও না! আমার দু টাকার নোটের বান্ডিল থেকে রোজই সরছে। জানো কি, আমি নম্বর লিখে রাখি!
—তোমার সন্দেহ বাতিক।
ও তাই নাকি। তাহলে সকালে সাত টাকা চার আনা সরল কী করে? ক্লিন হাপিস। একবার বলার ভদ্রতাটাও হল না। পথে বেরিয়ে বিপদের একশেষ।
ভুলে গেছি। তুমি সব আনলে, একটু মিষ্টি আনলে না। ওই টাকায় মিষ্টি আসবে।
আবার হর্নের শব্দ। কি, টাকা তাহলে দেবে না?
—দিতে পারি এক শর্তে।
ঘড়ি বাঁধা দিতে হবে?
ও তো তোমার ঘড়ি নয়। বাবার দেওয়া।
বেশ, তাহলে আমার বাবার দেওয়া এই সোনার তাবিজ।
ওসব তাবিজ-মাবিজ নয়, কথা দাও আজ রাতেই ফিরিয়ে দেবে। আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু, তোমার ওই ন্যাজে খেলা চলবে না।
বেশ তাই হবে। ফিরে এসে কান ধরে আদায় করে নেবে।
ট্যাক্সিচালক বললেন, কী মশাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নাকি?
না, না, ঘুমবো কেন? টাকা খুঁজছিলুম। কোথায় যে রেখেছি কিছুতেই মনে করতে পারছি না।
আপনি ব্যাগ ব্যবহার করেন না?
না।
ভালোই করেন। ব্যাগ মানেই পকেটমার। ও হবেই হবে। আমার আবার দু-জায়গাতেই ভয়, ভেতরে বাইরে।
আরে মশাই, ভেতরের পকেটেই রাখুন, আর বাইরে পকেটেই রাখুন, পকেটমারের হাত থেকে রেহাই নেই। আমার বাড়িতেও পকেটমার হয়।
ছেলে বুঝি বড় হয়েছে! হিন্দি সিনেমা যতদিন না দেশ থেকে যাচ্ছে ততদিন বাপের পকেট গড়ের মাঠ হবেই।
ছেলে নয় মশাই, স্ত্রী। সবচেয়ে মারাত্মক জিনিস।
হ্যাঁ, তা যা বলছেন। ওকেই বলে খাল কেটে কুমির আনা। আপনি আমার মতো করতে পারেন।
—কী বলুন তো?
—সেরেফ চোরের ওপর বাটপাড়ি।
—যেমন?
—আপনিও চুরি করে ফাঁক করে দিন।
—ও বাব্বা, সে একবার দুবার চেষ্টা করে দেখেছি। কোথায় যে রাখে! রান্না ঘরে শ'খানেক কৌটো। কোনটার মধ্যে যে মাল আছে, কে জানে?
ওদের টাকা রাখার ফিক্সড কতকগুলো জায়গা আছে। যেমন মিটসেফ, চালের টিন, ছাড়া শাড়ির আঁচল, বালিশের খোল। একটু চেষ্টা করলেই সন্ধান পেয়ে যাবেন!
আমি তো খুচরো পয়সা কোনওদিন চোখেই দেখতে পাই না। এই আছে, এই নেই।
খুচরো বাড়িতে ঢোকাবেন না। শেষ নয়া পয়সা শেষ করে বাড়ি ঢুকবেন। অন্যের হাতে যাওয়ার চেয়ে নিজের হাতেই যাওয়া ভালো! খরচ করার আর কোনও রাস্তা না পেলে শেষ দশ পয়সায় একটা ওজন নেবেন।
সময় বিশেষে অন্যের কাছে নিজের স্ত্রীর নিন্দে করতে পারলে মনটা বেশ হালকা হয়ে যায়। সর্বক্ষণ আমার সেই এক কাজ, নিজেকে অনুসরণ করা। অবিনাশ। কথা বলতে বলতে লোডশেডিং। দেশলাই, বাতি, আমার জামা ছাড়া, তারপর পকেট থেকে টাকার খাম বের করে কোথায় যেন রাখলুম। কোথায় যেন রাখলুম। বাথরুমে?
ইনকাম ট্যাক্স অফিসার কি একটা প্রশ্ন করেছিলেন, খেয়াল করিনি। বেশ বিরক্ত হয়ে বললেন, কী মশাই ভাবসমাধি হয়ে গেল নাকি?
—কী বলতে কি বললুম। কোথায় রেখেছি বলুন তো?
—কী রেখেছেন? কালো টাকা? ধমকের সুর।
—আজ্ঞে না, সাদা টাকা।
—সাদা টাকা আর নেই। সবই কালো। কই দেখি, রেন্ট রিসিটটা দিন।
বাম্বুভিলা থেকে বেরিয়ে অফিসে আসার পথে চটির স্ট্র্যাপ ছিঁড়ে গেল। নাও, বোঝো ঠ্যালা। ট্যাক্সি ভাড়া মেটাবার পর পকেটে মাত্র ছটা টাকা পড়ে আছে। যাই হোক চটিটাকে টানতে টানতে এক মেরামত ওয়ালার কাছে নিয়ে এলুম। আজকাল যা বাজার পড়েছে, দেড়টা টাকা খসে গেল। কোনও কোনও পেশায় মানুষের বিপদটাই হল মূলধন। চাপ দিয়ে রস বের করার মতো নিঙড়ে টাকা বের করে নাও। ট্যাক্সের ফাঁড়া কাটতে না কাটতেই আর এক ফাঁড়া। ছেঁড়া চটি সারাতে বিদ্যুৎ-চমকের মতো পূর্ব রাতের স্মৃতি ফিরে এল। মনে পড়েছে, কোথায় রেখেছি টাকা। মোক্ষম জায়গা। কারুর বাবার ক্ষমতা নেই খুঁজে বের করে। আমার নিউকাট জুতোর শুকতলার ভেতরে এমন একটা জায়গা অন্য কারুর কল্পনায় আসবে না। যাক, এখন আমার কাজে মন আসবে। ঘিনঘিনে চিন্তাটা চলে গেল। সারা মাসের রসদ। হারালেই হাতে হ্যারিকেন।
সন্ধের পর নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরে এলুম। আসতে আসতে ভাবছি, শ্যালক মহারাজ এতক্ষণে তোফা চিঁড়ে বাদাম ভাজা খাচ্ছেন। একটু পরেই ফুলকো লুচি চিংড়ির মালাইকারি। কিন্তু কোথায় সেই দশাসই ঘরজোড়া নয়নলোভন, ব্যাঘ্রলালা-উৎপাদনকারী শ্যালক মহোদয়! আমার স্ত্রীরত্নটিই বা কোথায় গেলেন!
মানুর মা বললেন, জামা কাপড় ছাড়ুন, চা করে দিচ্ছি।
—ওরা কোথায় গেল?
—বউদিরা দক্ষিণেশ্বরে গেছেন। বেলাবেলিই গেছেন। ফিরে আসার সময় হয়েছে।
যাক বাবা, ওরা আসার আগে গুপ্তস্থান থেকে টাকাটা বের করে রাখি। দেখতে পেলে হাসাহাসি করবে। জুতোর র্যাকে ছেঁড়া খোঁড়া জুতো, জুতোর বাক্সের অভাব নেই। এক জোড়া বাইশ শো বাইশ হাফ-বুট শ্যালকের মতোই খুশ মেজাজে বসে আছে। কিন্তু আমার নিউকাট জোড়া কোথায়? জুতো কি মালিক ছাড়াই বেড়াতে বেরিয়ে গেল!
—মানুর মা, এখানে আমার এক জোড়া জুতো ছিল, কোথায় গেল জানো কি?
জুতো! মনে হয় দাদাবাবু প'রে গেলেন। বউদি আপনার ধুতি পাঞ্জাবি বের করে দিলেন, তারপর জুতোটা পায়ে গলিয়ে দাদাবাবু বললেন, বেশ ফিট করেছে। বউদি বললেন, তাহলে ওইটাই পরে চল। বেশ জামাই জামাই দেখাচ্ছে।
সে কী! জুতো আর চশমা, হ্যাঁ আর একটি বস্তু, স্ত্রী, যার যার, তার তার, এই রকমই তো শুনেছি এতকাল। নয়া জমানায় স্ত্রী হাত-পালটাপালটি হয়, আজকাল হামেশাই হচ্ছে। জুতোটা ফিট করেছে বলে পরে চলে গেল। যেমন বউ তার তেমনি ভাই। সব যেন গামছা হাতে জন্মেছে। গামছাবতার। লম্ব গলা দেখলেই লাগাও আর মারো টান। পঁয়তাল্লিশ টাকার জুতোর শুকতলায় পাঁচখানা কুড়ি টাকার নোট। জুতো ছেড়ে মন্দিরে ঢুকবে। জুতো-চোর মুখিয়ে থাকবে। ধর্মের স্থানেই যত অধার্মিকের উৎপাত। হয়ে গেল। একেই বলে গ্রহ। পেয়েও হারালুম।
সাতটা বাজল, সাড়ে সাতটা বাজল। খবর শেষ হয়ে গেল। দুই মালের তবু দেখা নেই। গেছে তো গেছেই। মানুর মা বসে বসে ঢুলছে। দুধ ওতলানোর মতো একশো টাকার শোক মনে উতলে উতলে উঠছে। উদাসীনতার পাখার বাতাস মারছি। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
পৌনে ন'টা নাগাদ গাড়ি থামার শব্দ হল! উৎকণ্ঠার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি। শ্যালকের জন্যে নয়, জুতোর জন্যেই উতলা হয়ে দরজা খুলে বাইরে ছুটে গেলুম। রোমান্সের সবুজ পাতা কবে শুকিয়ে ঝরে গেছে জীবনতরু থেকে। চলতে গেলে মচমচ শব্দ হয়! জীবনসঙ্গিনী না ফিরলেই সুখী হতুম। কেউ পরে চলে যাক না। দিন কতক পরেই বাপ বাপ বলে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে। আমার সেই জুতো জোড়ার মতো। পরলেই ফোসকা। ভেসলিন, গ্লিসারিন, তুলো, সব হার মেনে গেল। জুতোয় টকদই, কেরোসিন, স্বভাব আর কিছুতেই নরম হয় না। প্রেমের কোনও লক্ষণ-ই নেই। যে জগাই মাধাই, সেই জগাই মাধাই। দেখলেই কলসির কানা ছোঁড়ে। শেষে জুতো-বিশেষজ্ঞরা বললেন, ও মশাই খাঁটি গণ্ডারের চামড়া, কিছুতেই কিছু হবে না। পা গলিয়ে আর পিরিতের দরকার নেই। স্বভাব না যায় মলে। পরম ভট্টারকের জুতো করে তাকে তুলে রাখো। শান্তি পাবে। এক জোড়া চপ্পল কিনে নাও, আর লেংচে লেংচে চলতে হবে না। তোমার দু:খে আমাদের বুক ফেটে ভেঙে যায় মা। জুতো তাকে তুলে রাখা যায়। বউকে তো আর তুলে রাখা যাবে না, ঠিক নেমে আসবে।
শ্যালক সূর্যবাবু নেমে আসছেন। আমার ধুতির ফুলপাড় কেমন ঝিলিক মারছে! আমার নজর পায়ের দিকে। যাক জুতো জোড়া পায়েই আছে। শ্যালকের পেছনে পেছনে আমার সহধর্মিণী নামছেন। যখন বলতে শুরু করেন তখন আর সহজে থামানো যায় না। এ তো আর প্রেস ফ্রিডাম নয়, যে অর্ডিনানস করে চেপে যাবে! এ হল নারী স্বাধীনতা, যার শুরু আছে, শেষ নেই। বাপের দেওয়া বাড়ির লোক পেয়ে আজ একটু বেশি বেশি খরখর করছেন।
গাড়ি থেকে মালপত্তর নামছে তো নামছেই। বাবা, কত কী কিনেছে। সারা দক্ষিণেশ্বরটাই কিনে এনেছে। ক্লিং করে মিটার তুলে গাড়ি চলে গেল। অন্ধকারে এবার তেমন দেখতে পাচ্ছি না। শ্যালকের পায়ে সেই জুতো জোড়াই তো?
সূর্যবাবু বললে, কী দেখছেন অমন করে! আপনার জুতো আমার পায়ে দারুণ ফিট করেছে। সেম সাইজ। আপনি বাঁ দিকে কেতরে চলেন, আমিও বাঁ দিকে কেতরে চলি। আপনিও প্রেমিক, আমিও প্রেমিক। আপনি ফেঁসেছেন, আমি ফাঁসিনি।
স্ত্রী বললেন, ধরো, ধরো।
কাগজে মোড়া বেশ ভারী একটা কী হাতে এসে গেল। স্পর্শে মনে হচ্ছে কাপ ডিশ। অনেক স্বামীই তোয়ালে জড়ানো ছেলে ধরে বোকা বোকা মুখে স্ত্রীর পেছন পেছন সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে আসেন। সামনে বেটার হাফ চলেছেন বুক ফুলিয়ে। বেশ মূল্যবান উপহার দিয়ে লোক যেভাবে বিয়ে বাড়িতে খাবার টেবিলের দিকে এগিয়ে যান। ইনিও সেইভাবেই চলেছেন। আয়না নেই, থাকলে দেখতে পেতুম, আমাকেও নিদারুণ বুদ্ধুর মতো দেখাচ্ছে। মন কেবলই উশখুশ করছে, কখন তুমি জুতোজোড়া খুলবে, আমি অমনি তাক বুঝে নোট ক'খানা বের করে নোব। পায়ের চাপে ভেপসে কী অবস্থা হয়েছে কে জানে!
খাবার টেবিলের ওপর একে একে কেনা জিনিস সাজাতে সাজাতে আমার শ্যালকের বোন বললেন, আজ একেবারে প্রাণ খুলে কিনেছি। তোমার সঙ্গে বেরলে কেনাকাটা করে তেমন সুখ হয় না। যা কিনতে যাব তুমি অমনি বলবে, উঁহু উঁহু, বাজে খরচ। এই দ্যাখো কেমন কাপডিশ কিনেছি। পাথরের চাকি-বেলুন। আ: লুচি বেলেও সুখ। আজই উদ্বোধন হবে। এই নাও তোমার অ্যাশট্রে। আর এখানে সেখানে ছাই ফেলবে না। বুদ্ধমূর্তিটা দ্যাখো, আহা তুমি যদি ওইরকম শান্তশিষ্ট, ধ্যানস্থ হতে! সংসারের চেহারাই পালটে যেত। অমন গুলিখোরের মতো মেজাজ করেছ কেন? বাইরে মনে হয় তোমার কোনও মেয়েছেলে আছে!
হ্যাঁ, এক মেয়েছেলেতেই চক্ষু চড়কগাছ!
আমার মতো মেয়ে তুমি পাবে না গো। পড়তে অন্যের পাল্লায়, হৃদয়ে হাফশোল লাগাতে হত। এই দ্যাখো, দু ডজন চুরি কিনেছি, শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে। এবার যখন তোমার সঙ্গে সেজেগুজে বেরব না, তখন দেখবে, চড়চড় করে সকলের বুক ফাটবে। ফিসফিস করে বলবে, দ্যাখ, দ্যাখ, বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা।
আমি বাঁদর!
মানুষের মতো তো কিছুই দেখি না, সব সময় দাঁত খিঁচোচ্ছে।
স্বামীকে বাঁদর বললে কী হয় জানো?
নরকে যেতে হয়। তোমার সঙ্গে সংসার করার চেয়ে নরকে গিয়েও সুখ। তোমার ড্যাভোস আর খেতে পারি না। এই নাও তোমার ফুলদানি আর ধূপদানি। নাও হাত পাতো। ভক্তিভরে মায়ের প্রসাদ খাও, মনে মনে বলো, মা আমার স্বভাবটা একটু ভালো করে দাও মা। বলো, আমি যেন একটা মানুষ হতে পারি। অমানুষ করে রেখেছ মা!
হাতের তালুতে গোল মতো একটা প্যাঁড়া বসিয়ে দিয়ে, তিনি হুটপাট করে হেঁশেলে গিয়ে ঢুকলেন। আমার নয়, শ্যালকের বড় খিদে পেয়েছে।
শ্যালক সূর্যকান্তের জামা-কাপড় জুতো ছাড়ার তেমন কোনও ইচ্ছেই দেখা যাচ্ছে না। এলিয়ে বসে আছেন সোফায়। বড় ক্লান্ত। মনটা বড় ছটফট করছে। জামা কাপড় না ছাড়ুক, জুতোটা অন্তত খোল! তোমার পদতলে আমার অর্থ দলিত হচ্ছে।
সূর্য, জামা-কাপড় ছেড়ে, পাজামা পরে মুখ হাতে জল দিয়ে বেশ ফ্রেস হয়ে বোসো না। ভালো লাগবে। সূর্যকান্ত ডান থেকে বাঁ পাশে এলিয়ে পড়ে বললেন, আপনি ব্যস্ত হবেন না জামাইবাবু। গেলুম ট্যাক্সিতে, এলুম ট্যাক্সিতে, কী আর এমন পরিশ্রম। আপনি ব্যস্ত হবেন না। এ তো আমার নিজের বাড়ির মতো।
প্রথম দিনেই তোমার তা হলে বেশ চোট হয়ে গেল! কী বলো?
এইভাবেই খেজুরে আলাপে মনটা ঘুরিয়ে রাখি! কখন বাবু উঠবেন, কখন বাবু জুতো ছাড়বেন, বাবুই জানেন। বউয়ের ভাইয়ের হালচালই আলাদা! জামাইয়ের চেয়ে আদর বেশি। একটু এদিক ওদিক হলেই কাঁধের ভূত কান ধরে মোচড় মারবে।
সূর্যকান্ত একগাল হেসে বললেন, আমার এক পয়সাও খরচ হয়নি। দিদি কার হাতে পড়েছে, দেখতে হবে তো! যেই টাকা বের করতে যাই, অমনি বলে টাকার গরম তোর বউকে দেখাস।
মনে মনে বললুম, আচ্ছ, তাই নাকি? শখের প্রাণ গড়ের মাঠ। সারা মাসের সংসার খরচ হাওয়ায় উড়ছে! যত টানাটানি রোজ মাছের বেলায়, একটু এদিক-ওদিক খাওয়ার বেলায়।
হেঁশেল থেকে আদরের সুর ভেসে এল। সূর্য, জামাকামড় ছেড়ে হাত মুখ ধুয়ে নে। গরম গরম ভাজছি। আমার জন্যে কোনও মধুর নির্দেশ এল না। আমি তো কাঙালি। খেতে বোসো, না হাত ধুয়ে বসে আছি।
দেখতে দেখতে বেশ রাত হয়ে গেল। চারপাশ নিশুতি। বড় চাপ খাওয়া হয়ে গেল রে দিদি, বড় চাপ খাওয়া হয়ে গেল, বলতে বলতে সূর্যকান্ত বেশ পরিতৃপ্ত বাঘের মতো গোটা কতক হাই তুলে ফুলতোলা চাদরে লটকে পড়ল। বোন এলেন মশারি গুঁজতে! আমার ওপর হুকুম হল, ঘরের মশারিটা ফেলে ভালো করে গোঁজো, হাঁ করে বসে আছ কেন? দেখছ তো, আমি একটা কাজ করছি!
—যো হুকুম! আমি তো আর তোমার শ্যালক নই!
দালানে ঘুটঘুট করে ঘড়ি চলছে। বাইরে সূর্যকান্তর নাক ডাকছে। আমার পাশে তার বোন যেভাবে এলিয়ে আছে, মনে হচ্ছে জেগে নেই। এই তো সুযোগ। এই তো চোরেদের বেরোবার সময়। যাই, নিজের টাকা নিজেই চুরি করে আনি।
ডান পাটির শুকতলা তুলে ফেললুম। ফাঁকা। তবে কি বাঁ পাটিতে। সে পাটিতেও বিধবার হাহাকার। যা:, টাকা নেই। মহারাজ, হাঁড়ি খুলে দেখি মাংস নেই। মাঝরাতে পা ছড়িয়ে বসে আছি, সামনে দু-পাটি নিউকাট। পেছন থেকে কাঁধের ওপর দুটো হাত এসে পড়ল। কে রে বাবা, ভূত নাকি!
—না, আমার সহধর্মিণী।
—কী গো, মাঝরাতেই জুতো পালিশ করতে বসলে কেন?
ঘুম আসছে না। তাই ভাবলুম কাজটা একটু এগিয়ে রাখি। সকালে তো একেবারেই সময় পাওয়া যায় না। মনে হচ্ছে, যেতে আসতে সূর্য তো এই জুতোটাই পরবে। বলছিল, পায়ে বেশ ফিট করেছে।
দেখেছ, প্রসাদের কী গুণ! তুমি কী ভালো হয়ে গেছ গো, শোনো বৃথাই খুঁজছ, মাল আর ওখানে নেই। কাপ, ডিশ, অ্যাশট্রে চুড়ি হয়ে গেছে। এপিঠ-ওপিঠ দু'পিঠ ট্যাক্সি ভাড়া হয়েছে। গোটা পঁচিশ পড়ে আছে। কুড়ি টাকা আমার ধার শোধ। পাঁচ টাকা কাল সকালে তোমাকে দিয়ে দোব। জুতোর তলায় কেউ টাকা রাখে। ছি:! মা লক্ষ্মী। জুতোর তলায় চোরাচালানকারীরা সোনার বিস্কুট রাখে। চলো, শোবে চলো। ঝাড়তে গিয়ে ভাগ্যিস দেখতে পেলুম।
তুমি জুতো ঝাড়তে গিয়ে, সারা মাসের হাত খরচ ঝেড়ে দিলে! আমার মাস চলবে কী করে?
ও তুমি ভেবো না, যে খায় চিনি তারে জোগায় চিন্তামণি।
সূর্যর নাক গাঁক করে ডেকে উঠল।
আমি অদৃশ্য কাত্যায়নের দিকে কবজি তুলে ধরে মনে মনে বলুলম, কাত্যায়ন নাড়িটা একবার দ্যাখো তো, বেঁচে আছি না মরে গেছি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন