দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

নতুন শতাব্দীর দুয়ারে হাজির। এসো হে, এসো হে অনাগত কাল! মহাকালের টেলিপ্রিন্টার থেকে ক্রমে ক্রমে কী বার্তা আসে, তা জীবিতরা জানবেন। আপাতত অজ্ঞাত, অনুমান মাত্র। মানব জীবনের তিনটি প্রবণতায় কোনও পরিবর্তন আসবে না—আহার, নিদ্রা, মৈথুন। যত্র জীব তত্র শিবের মতো যত্র জীব তত্র এই তিন।

আহার থাকবে তবে আহার্যের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। তার সূচনা তো হয়েই গেছে। এই শতাব্দীতে হবে প্রতিষ্ঠা। পারিবারিক রান্নাঘর, ভাঁড়ার ঘর বলে কিছু থাকবে না। মানুষ সংখ্যায় ছাগলকে ছাপিয়ে গেলেও মুরগিকে হারাতে পারেনি। এই শতাব্দীতে মানুষ আর মুরগি এক হবে। আবাসনে 'ফুটেজ' আরও কমবে। যেমন বাবা ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তিনি চিতায় চিরশয়ান। দুই ভায়ে লাঠালাঠি। ফ্ল্যাটে পার্টিশন। যেটা এখনও হয়নি। হবে। টোয়েন্টিথ সেঞ্চু রির অনেক ফাদার টোয়েন্টি ফার্স্টে চন্দ্রবিন্দু হয়ে যাবেন। ফ্ল্যাট পার্টিশন হলে রান্নাঘর উঠেই যাবে। টয়লেটও থাকে কী যায়, দেখা যাক। ন্যাশনাল ল্যাভেটারি তো রইলই।

তাহলে আহারের কী হবে? ভোজনং যত্রতত্র শয়নং হট্টমন্দিরে। মিডলক্লাসকেও পথে নামতে হবে। শয়নং ফুটপাতে, ভোজনং ফাস্টফুড সেন্টারে। মিডল ক্লাস আর থাকবে না, থাকবে মিডলম্যান, পরিষ্কার বাংলায় দালাল। শুরু হল, 'এজ অফ দালাল।' শুরু হল, বললে ভুল হবে, ফিরে এল। ইংরেজদের কালে দালালরাই সম্পন্ন হয়েছিলেন—বেনিয়ান, মুৎসুদ্দি। এখনও আছে। এই শতাব্দীতে আরও জোরদার হবে। বেচা আর কেনার মাঝে এই ক্লাসের ক্লাসিক অভ্যুত্থান। ক্লাসলেস সোসাইটির কনসেপ্টে মধ্যবিত্তদের অস্তিত্ব নাশের স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েইছিল। এইবার সেইটি সমাপ্ত হবে। গরিব আর বড়লোক এর মাঝে দ্বিতীয় নাস্তি। তবে একটি সেতু থাকবে, সেই সেতু হল রাজনীতি। সেই সেতু দিয়ে অনবরতই মিছিল চলবে, 'চলবে না, চলবে না' ধ্বনি দিতে দিতে। আর 'চলবে না' চালিয়ে একদল বিশাল ধনী হবে। তাদের নাম হবে 'বড়লোক গরিব'। সোনার পাথরবাটি শোনা গেছে, এই শতাব্দীতে দেখা যাবে এবং মেনে নেওয়া হবে। এরাও দালাল শ্রেণিভুক্ত। এদের বৈশিষ্ট্য হল এদের পণ্য। এদের পণ্য হবে মানুষ এবং মানুষের ভাগ্য। রাজনীতিতে অনেক ক্লাস তৈরি হয়েই আছে, এইবার সেই মাঠে নাগরদোলা বসবে। উঠবে, পড়বে, পড়বে, উঠবে। এই শ্রেণীবিভাজন আরও স্পষ্ট হবে। আপার ক্লাস, লোয়ার ক্লাস, ওয়ারিয়ার ক্লাস। এর মাঝে বিশিষ্ট হবে, 'বাটখারা ক্লাস'। তাদের কাজই হবে, পাল্লার ঝুঁকতি ঠিক রাখার জন্যে একবার এ-পাল্লায়, একবার ও-পাল্লায় চেপে বসা। এরা স্বভাবে অতিধূর্ত। ধড়িবাজ, শঠ। মুখোশটা হবে দুরকম, একটা হল, ধর্মনিরপেক্ষতা। ইংরেজরা শিখিয়ে গেছে কায়দাটা। কীরকম? ব্রাহ্মণ, পাদ্রি। তাদের নাম হয়েছিল, হোয়াইট ব্রাক্ষিণ, শিখা-সূত্রধারী খ্রিস্টান। উদ্দেশ্য একটাই, জেলায় জেলায়, গ্রামে গঞ্জে গিয়ে মানুষকে খ্রিশ্চান করা। মানুষের আস্থা অর্জন করে তার টিকিটি কেটে নেওয়া। বর্তমানের ধর্মনিরপেক্ষতা সেই একই ক্লাসের। বাণী একটাই, তোমাদের মেরে ফেলার চক্রান্ত হয়েছে, আমার দল তোমাদের শুধু প্রাোটেকশন নয়, নানারকম তোয়াজের ব্যবস্থা করবে। শুধু আমাদের কাঁধে করে গদিতে বসিয়ে দাও। গাছেরও খাব, তলারও কুড়ব টাইপের পলিটিক্স। কোনও আইন তোমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, তোলা আদায়, জবর দখল, ফুটপাথ অধিকার, এসব ফাউ হিসেবে পাবে; কারণ আমরা হলুম রাজনীতির বাটখারা। গণতান্ত্রিক মেজরিটির পাল্লার টাল সামলাতে আমরা কখনও বামে কখনও ডানে। আমরা মিডওয়াইফ। সংসদীয় গণতন্ত্রের পেট চিরে সরকার নামক শিশুটির ডেলিভারি করাই। সাতচল্লিশের স্বাধীনতা তোমাদের যা দিতে পারেনি, আমরা তোমাদের তাই দোবো—যা খুশি তাই করার স্বাধীনতা। 'লড়কে লেঙ্গে হিন্দুস্থান।'

আর একটি মুখোশ হল, 'দলিত দরদী'। পুরাতনী গানের একটি লাইন—'যার কেহ নাই তুমি আছ তার।' যার কেউ নেই আমরা তাদের। গোটা কতক শব্দ আছে, পেট ওয়ার্ডস, প্রাোটেকশন, রিজার্ভেশন। রাজার ছেলে, ভূমাধিকারী এদের জন্যে কেঁদে ভাসিয়ে দেবেন, আবার মেয়ের বিয়েতে ছ কোটি টাকার রোশনাই, আর যাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে প্রতিপত্তি, তারা দুটো ভালোমন্দ খাওয়ার আশায় জড়ো হওয়া মাত্রই লাঠি হাতে রে রে করে তাড়া। একজন মস্ত সাধিকা সম্প্রতি চলে যাওয়ার একমাস আগে বলেছিলেন, পি থ্রি, তিনটে পি আমাদের শেষ করে দেবে। পুপ্যুলেশন, পভার্টি আর পলিউশন। দূষণ একটি ব্যাপক বস্তু। জল, স্থল, অন্তরীক্ষ তিনটেকেই শেষ করে দেবে। অন্তরীক্ষ মানে আকাশ। মানুষের মন একটি আকাশ। মানুষের চিন্তাভাবনাও দূষিত হয়ে যাবে। যাবে নয় গেছে।

শেষোক্ত দূষণটিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অতিসভ্যতার বদান্যতা প্রভূত। তিনটি বিভাগ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে যেমন, ছপ্পর ভরকে দিয়া ওইসি ছপ্পর ফঁড়কে লিয়া। আমার খুব ইচ্ছে করছে, আর্থার কোয়েসলারের 'দি স্লিপ ওয়াকারস' থেকে একটি উদ্ধৃতি দিতে—তিনি এটি আবার উদ্ধৃত করেছেন উইলিয়াম জেমসের 'দি ট্রেল অফ দি ডাইনোসর' থেকে—আমাদের চিরকালের, প্রশ্ন, জীবনের অর্থ কী! কেন আমরা এই গ্রহে আসি কয়েক বছর বেঁচে থাকতে। প্রাচীন কালের উত্তর ছিল, His will, তাঁর ইচ্ছা। তাঁর ইচ্ছায় আছি, তাঁর ইচ্ছাতেই নেই। তিনি কে? রহস্যাবৃত রহস্য ভগবান। বিজ্ঞান এসে এই মিথ চটকে দিলে। As a result, man's destiny was no longer determined from 'above' by a Superhuman wisdom and will, but from 'below' by the Subhuman agencies of glands, atoms or waves of probability. পরাজ্ঞান, অপরাইচ্ছা, বলে কিছু নেই হে মানব। তোমার প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞান বলছে তুমি কে? মানুষ বলে কিছু নেই, আছে, মনুষ্যেতর কিছু 'এজেন্ট'—তাদের নাম, গ্ল্যান্ড, জিন পরমাণু আর Waves of probability সম্ভাবনার ঢেউ। এই ক্ষরা তো এই ঝরা। এই ঘটনা তো এই দুর্ঘটনা। এই সিদ্ধান্তের ফল—The Uomo universal of the Renaissance who was artist and craftsman, philosopher and inventor, humanist and scientist, astronomer and monk, all in one, split up into his component parts. যে যুগটাকে ইতিহাস বলে, জাগরণের যুগ, সেই যুগের এক, যার মধ্যে শিল্পী, কারিগর, দার্শনিক, আবিষ্কর্তা মানুষ এবং বিজ্ঞানীর সমন্বয়, সেই এক টুকরো টুকরো হয়ে ছত্রাকার হয়ে গেল। সব আলাদা, সংযুক্ত নয়। ফল কী হল? Art lost its mythical, science its mystrical inspiration : man became again deaf to the harmony of the spheres. শিল্প তার পৌরাণিক রহস্য হারাল, বিজ্ঞান অধরাকে ধরার, আগ্রহ হারাল। বিশ্বের সঙ্গে মানুষের সংযোগের যে-সংযোগ, যে-ঐকতান সেটা হারিয়ে গেল। জীবনের নতুন ব্যাখ্যা, made it impossible to find in the driftings of the cosmic atoms, wheather they work on the Universal or on the particular scale, anything but a kind of aimless weather, doing and undoing, achieving no proper history, leaving no rusult, মহাজাগতিক বস্তুকণার প্রবাহে এর উত্তর খোঁজা বৃথা হল। বিশ্ব অথবা ব্যক্তি যে স্তরেই এর প্রভাব পড়ে থাকুক, মানুষের বোধ সেখানে পৌছবে না। আবহাওয়ার লক্ষ্যশূন্য আচরণের মতো, ধ্বংস অথবা সৃজন, অর্থশূন্য উন্মাদ ইতিহাস। বিজ্ঞানের পথে জীবনের অর্থ অণ্বেষণে এই হল, the new explanations, with all their precision made the question of maning itself meaningless. নতুন ব্যাখ্যায় অনেক বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতা সত্বেও ব্যাপারটা এই দাঁড়াল—'মানে কী?' এই প্রশ্নটারই আর কোনও মানে রইল না।

মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ থেকে অতি আধুনিক যুগ—সময়ের এই গতিকে আমরাই চিহ্নিত করেছি প্রগতির ঘড়ি দিয়ে। সময় চলে না, সময় স্থির, চলছে মানুষ। ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, মানুষের মেধা আর দক্ষতার ফল। মোমবাতি তার রহস্যময় আলোর প্রেম বিজলিবাতিতে হারিয়েছে। শ্রমিক শ্রমের গৌরব যন্ত্রে সমর্পণ করে বিক্ষুব্ধ পরাজিতের সংঘবদ্ধ আন্দোলনকে রাজনীতির ঝাণ্ডা করেছে। প্রেম আজ পরাজিত মহাপ্রতাপাণ্বিত POWER-এর কাছে। আর একজন চিন্তাবিদ অ্যালভিল টফলার একবিংশ শতাব্দী সম্পর্কে কী ভেবেছেন দেখা যাক তাঁর Power Shift গ্রন্থে। This is a book about at the edge of the 21st century. It deals with violence, wealth and knowledge and the roles they play in our lives. তিনটি শব্দ Violence, wealth and knowledge প্রণিধানের বিষয়। সন্ত্রাস, সম্পদ ও জ্ঞান। সন্তোষ, সুখ, প্রজ্ঞা, বিতরণ, উত্তরণ গৌণ। শক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে সন্ত্রাস। শক্তির প্রকাশ সম্পদ আকর্ষণে। আর জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হৃদয়হীন আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। জীবন সংরক্ষণে এক টাকা, জীবন হরণে নিরানব্বই টাকা, এই হবে দেশে দেশে বাজেট বরাদ্দ। পৃথিবীর দৌলত এইভাবে খরচ হবে, সন্ত্রাস নির্মাণে ও সন্ত্রাস ধ্বংসে। সন্তোষের স্থান নেবে সন্ত্রাসজনিত ত্রাস। Power, যার বাংলা হল শক্তি, সেই শক্তিই তো বিশ্বসৃজনের মূলে। ভারতীয় ঋষিরা তো সৃষ্টির উন্মেষ কালেই সে কথা বলে রেখেছেন। সাধক তাঁর সাধন দর্শনে জীব আর জীবন রহস্যের মূল কারণ উপলব্ধি করে কালের হাতে সেই তত্ব তুলে দিয়েছেন। বিজ্ঞান তো তার বাইরে যেতে পারছে না। জড়বিজ্ঞানের তো যাওয়ার পথ নেই। একটি কথাতেই তো প্রশ্নের সমাধান চিরতরে হয়ে গেছে—সর্বংখল্বিদং ব্রহ্ম। ব্রহ্ম আর ব্রহ্মের শক্তি অভেদ। অণু, পরমাণুর সেই শক্তিতেই তো নৃত্য। ঋষিচিন্তার সঙ্গে পাশ্চাত্য চিন্তার তফাত একটাই—জগৎ শুধু শক্তিময় নয়, চৈতন্যময়। টফলার বলছেন, Despite the bad ordor that clings to the very notion of power because of the misuses to which it has been put, power in itself is neither good nor bad. It is an inescapable aspect of every human relationship, and it influences everything from our sexual relations of the jobs we hold, the cars we drive, the television we watch, the hopes we pursue. To a greater degree than most imagine, we are the products of power. অদ্বৈত বেদান্তরেই কথা না জেনে বলে ফেলা। Power in itself is neither good nor bad. ব্রহ্ম নির্গুণ। সেই নির্গুণ সত্তার যাবতীয় প্রকাশ, যাবতীয় বিস্ফোরণ বা স্ফুটই হল তার শক্তি। আছে আবার নেইও। শঙ্করাচার্য যেমন বললেন, 'সন্নাপি অসন্নাপি, ভিন্নাপি অভিন্নাপি' আছে অথচ নেই, ভিন্ন অথচ অভিন্ন এই যে জগৎ। যাই হোক টফলার মানুষের শক্তির ব্যবহারে দুর্গন্ধী হয়েছে। শক্তিতে দেবগন্ধ নেই দানব-গন্ধী হয়েছে। একুশ শতকের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে এই কথা। জীবনের সমস্ত সংযোগে এই শক্তির লীলা। সমস্ত কর্মে, সমস্ত সম্পর্কে এই শক্তির খেলা, যৌন সম্পর্কে, কর্মসম্পর্কে, যে গাড়ি আমরা চালাচ্ছি, যে টেলিভিশন আমরা দেখছি, যে আশা, যে আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটছি ধরার জন্যে, সর্বত্র ভীষণ ভীষণ শক্তির প্রকাশ। We are the products of power, টফলার বলছেন পৃথিবীর সেই ক্ষণে আমরা বাস করছি, যে ক্ষণকে বলা যেতে পারে Powershift era. শক্তি সরে যাচ্ছে, এতকাল যেখানে ছিল সেইখান থেকে। যে শক্তি এতকাল ধরে পৃথিবীকে ধরে রেখেছিল, সেই শক্তির অবয়ব ভেঙে পড়ছে। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী একটি শক্তি গড়ে উঠছে। সর্বত্র এই শক্তির প্রকাশ চোখে পড়বে। অফিসে, সুপার মার্কেটে, ব্যাঙ্কে, কর্মকর্তাদের নিবাসে, চার্চে, হাসপাতালে, স্কুলে, ঘরে ঘরে। নতুন শক্তি অজানা পথে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করছে, পুরোনো শক্তিরেখাকে চুরমার করে।

জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। পৃথিবী কিন্তু বাড়ছে না। যা আছে, যা ছিল তাই থাকবে। বিজ্ঞান খাদ্যোৎপাদন কতটা বাড়াতে পারবে! ফলন বাড়াতে বাড়াতে প্রায় শেষ সীমায় এসেছে। সমস্ত অরণ্য কেটে বসতি কী চাষ করলে পৃথিবীটাই তো ধ্বংস হবে। ইতিমধ্যেই আবহাওয়া ভারসাম্য হারিয়েছে, তাপমাত্রা ক্রমশই বাড়ছে। সাইক্লোন এখন সুপারসাইক্লোন। কথায় কথায় প্লাবন, ভূমিকম্প। উন্নত দেশের সমস্যা আর ভারতের সমস্যা বিপরীতধর্মী। ভারতের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। কোনওরকমে বেঁচে আছে। ভারতীয়দের অণ্বেষণ হবে—একমাত্র বস্তু—অর্থ এবং বিত্ত। অর্থাৎ সর্বস্তরে লালসার বিকাশ। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে একবিংশ শতাব্দী হবে এজ অফ গ্রিভ। লালসার যুগ। এরই অনুষঙ্গ, খুন, জখম, ছিনতাই, হরণ, অপহরণ। মানবিকতার মৃত্যু। মোটর গাড়ির উপমা—গাড়ির হর্সপাওয়ারের স্টিয়ারিং থাকে শিক্ষিত চালকের হাতে। রোড সেফটি সে জানে, সেই ভাবেই গাড়ি চালায়, নিজের এবং অন্যের ক্ষতি না করে। গাড়ি যদি কম্পিউটারাইজড হয় তাহলে কী হবে। তার মেমারিতে যা ভরা হবে, যতটুকু ভরা হবে, সেই অনুসারেই গাড়ি চালাবে কম্পিউটার যন্ত্র। যন্ত্রে সব ভরা যায়, ভরা যায় না প্রেম, সহানুভূতি, সমবেদনা। দুটো গাড়ি পাশাপাশি যেতে যেতে প্রশ্ন করবে না, 'কী ভাই কেমন আছ!' মানুষ প্রায় সেইরকমই হয়ে এসেছে। বোধহীন নিরেট প্রাণী। সে কারও বন্ধু নয়, আত্মীয় নয়। ধাতব যন্ত্র। সংঘর্ষে আগে ব্যবহার করা হত কথার অস্ত্র, ইদানীং আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, লোহার রড। আগে সমঝোতা হত, এখন হয় সমাধি। আগে কামের সঙ্গে প্রেম ছিল, গড়ে উঠত সংসার, সন্তান-সন্ততি, বেরিয়ে আসত কর্তব্য, ক্রিয়াশীল হত বিবেক। একটি ঠাকুর ঘর থাকত, পট এবং ঘট, শঙ্খধ্বনি। বৃদ্ধসংসারী বন্ধনমুক্তির উদার আস্বাদন পেত। শুনতে পেত গঙ্গার কলধ্বনি, মানসচক্ষে ভেসে উঠত তুষারমণ্ডিত পর্বতশৃঙ্গ। তীর্থ হিমালয়। এখন মানুষ এক্সকার্সানে যায়, তীর্থ করতে যায় না। আগে মানুষ হরি হরি বলত, এখন বলে টাকা টাকা। আগে সেবা বলে একটা শব্দ, অভ্যাস করত ত্যাগ। এখন সেবা বলতে আত্মসেবা। মদ খাব, মাংস খাব, প্রেমহীন ধর্ষণ।

তবু আশা। স্বামীজী তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—তার দুটি মিলে গেছে অভ্রান্তভাবে। একটি হল পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ভারত স্বাধীন হবে। মিলে গেছে। দ্বিতীয় হল, First proletariat revolution will take place in Russia, মিলে গেছে। মার্ক্স বলেছিলেন, জার্মানিতে। মেলেনি। তৃতীয় ভবিষদ্বাণীর দ্বারমুখে থমকে আছে ভারত। দেখা যাক, একবিংশ শতাব্দীর দুয়ার ঠেলে ভারত প্রবেশ করতে পারে কি না সেই অঙ্গনে—India would some day rise to great heights of prosperity and power, far more than she had done in the past. 'জাগো, জাগো, দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়।'

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%