সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের স্বভাবটাই হল, সব সময়, সব ব্যাপারেই, 'গেল, গেল' করা। সব গেল—জীবন, যৌবন, ধন, মান। তুমি গেলে, আমিও গেলুম, দেশ গেল, সমাজ গেল, সৃষ্টিটাও গেল বলে। আমার বন্ধু সুবীরের একবার ইচ্ছে হয়েছিল—কলকাতার সত্যনারায়ণ পার্কের কাছে কয়েকটা দোকান ছিল, সিদ্ধি আর সরবতের দোকান। একপাশে মাঝারি মাপের একটা মাটির জালা, তার গায়ে ছোট ছোট ঘুঁটের আকারে সিদ্ধির তাল আটকানো থাকে। একটা গুলি, এক গেলাস মালাই, ঠিক সূর্যাস্তের পরে চাপিয়ে দাও, তারপর দেখ কী হয়! এইটির পর সুবীরের যা হল—সে একটা দোতালা বাসের দোতালায় জালনার ধারে গিয়ে বসল। গ্রীষ্মের মধুর রাত। ফুরফুরে দখিনা বাতাস। বাস ছুটছে। ধীরে ধীরে নেশা চড়ছে। আলোকিত কলকাতা। চৌরঙ্গী, পার্ক স্ট্রিট, থিয়েটার রোড। শুরু হল সুবীরের খেল। বাস সামান্য বাঁয়ে কাত, কি ডাইনে কাত হলেই সুবীরের চিৎকার, গেল গেল, গেল গেল। প্রথমবারের চিৎকারে যাত্রীরা সত্যই হতচকিত হয়েছিলেন, বাস বোধ হয় উলটে যেতে যেতে একটুর জন্যে বেঁচে গেল। দোতালা থেকে সমস্বরে চিৎকার করে একতলার চালককে ধমকে দিলেন, কী হচ্ছে কী, সাবধানে চালান, এতগুলি মানুষের প্রাণ নিয়ে ছেলেখেলা!
কলকাতার বাস! ভিড়ে ঠাসা! সব বাসেই সব সময়েই, একজন না একজন 'সবজান্তা' মানুষ থাকবেনই থাকবেন। দুজন থাকলে তো হয়েই গেল। সুবীর যে বাসে উঠেছিল সে বাসে দুজন 'সবজানতা' ছিলেন। একজন বললেন, 'কটা বেজেছে দেখেছেন, প্রায় দশটা, এই সময়ে কোনও ড্রাইভার সাদা চোখে থাকে! কাকে সাবধান করছেন! বোতলকে! ওলটালে ওলটাবে! অত প্রাণের মায়া কীসের!'
আর একজন 'সবজান্তা' সঙ্গে সঙ্গে বললেন, 'ভয় নেই, অত সহজে জীবনযন্ত্রণা থেকে উদ্ধার পাচ্ছেন না, এসব বাস এমন কায়দায় তৈরি, যতই কাত হোক ওলটাবে না। জাইরাস্কোপিক কন্ট্রোল! লেটেস্ট!'
সারাদিনের অফিসের পর সকলেরই মেজাজ গরম। প্রথম সবজান্তা বললেন, 'ছাগলের মতো কথা বলবেন না তো!'
এই সময় সুবীর তারস্বরে চিৎকার ছাড়ল, 'গেল গেল।'
শুধু 'গেল গেল' নয়, 'উড়ে গেল, উড়ে গেল'।
এইবার যে ভদ্রলোক 'ছাগল' অভিধায় সম্বোধিত হয়েছিলেন তাঁর পক্ষ নিয়ে একজন বললেন, 'ছাগল কি কথা বলে? ছাগল 'ব্যা ব্যা' করে। আপনি এমন ছাগল, যে আসল ছাগলের খবর রাখেন না!'
সঙ্গে সঙ্গে আর একজন বললেন, 'কারেক্ট, কারেক্ট।'
এই সময় সুবীর বললে আরও জোরে, 'গেল গেল, গেল গেল।'
সমর্থন পেয়ে প্রথম 'সবজান্তা' জানতে চাইলেন, 'জাইরাস্কোপিক কন্ট্রোলে কী হবে! বাস কাত হতে হতে এক সময় এক পাশে শুয়ে পড়বে, এই তো! ফল সেই একই হবে, হাসপাতাল!'
'সুবীর আবার 'গেল গেল' করে উঠল।
সুবীরের পাশে এতক্ষণ এক নিরীহ চেহারার ভদ্রলোক নীরবে বসেছিলেন, হঠাৎ তিনি ভীষণ খেপে গিয়ে বললেন, 'কন্ডাকটরকে ডেকে এই 'গেল, গেল'টাকে নামিয়ে দিন তো!'
সকলেই একবাক্যে বললেন, 'ঠিক, ঠিক, এইটার জন্যেই যত পারিবারিক অশান্তি।'
বাস তখন ভবানীপুরে। সবাই মিলে সুবীরকে প্রায় ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিলে। সারারাত সুবীর ফুটপাতে শুয়ে রইল। শুয়ে শুয়েই অ্যালার্ম ঘড়ির মতো থেকে থেকে বলতে লাগল, 'গেল গেল'।
পরিবারে পরিবারে এই রকম ' গেল গেল' মার্কা মানুষের অভাব নেই। তাঁদের চোখে সবই গেল গেল অবস্থায় ছুটছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, পরিবার, জীবন। বর্ষার জানলা, পাল্লা খুলতে সামান্য একটু শব্দ হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত, 'যা: গেল'। কোনও জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—'ও গেছে'। কারও ফিরতে একটু রাত হচ্ছে—'ও হয়ে গেছে!' দূরে একদল জটলা করছে—'ও দেখতে হবে না, লাশ পড়ে গেছে'। আতঙ্কের সিদ্ধি খেয়ে, 'গেল গেল সিদ্ধ'।
একদল মানুষ আছেন, যাঁরা সবসময় সব কথাতেই বলবেন, 'কী হবে ভাই?'
এই দলে মহিলার সংখ্যাই বেশি। সকালবেলা ইংলিশ মিডিয়াম কেজি স্কুলের সামনে গেলেই তাঁদের দর্শন পাওয়া যাবে। বহুবর্ণের বিচিত্র শাড়ি পরে উৎসবের সাজে সব দাঁড়িয়ে আছেন ভাগে ভাগে। অন্তরাল থেকে এঁদের আলোচনা শুনলে কিছুক্ষণের মধ্যে আতঙ্ক জাগবে—এই সমস্যাসংকুল ভয়ংকর পৃথিবীতে এখনও বেঁচে আছি কী ভাবে, বেঁচে আছিই বা কেন, থেকেই বা কী হবে! এই উড়ে আসা কিছু কথার নমুনা।
'এত দাম দিয়ে শাড়িটা কিনলুম, দেখ না ভাই জলে পড়ামাত্রই হুশ হুশ করে রং উঠছে।'
'ও প্রথম প্রথম রং একটু উঠবে!'
'একটু কী রে! একবালতি গোলাপি রং। বরের সাদা গেঞ্জিটা গোলাপি হয়ে গেল। সে আর ওঠে না। চটকে চটকে হাতে খড়ি ফুটে গেল। কী হবে ভাই!'
'জানিস না বুঝি, উঠে লাগলে পাকা হয়ে যায়।'
'কী হবে ভাই! আমার বর বলছে, ওটা না ফিমেল গেঞ্জি হয়ে গেছে, তুমিই পরো!'
'নিশ্চয় বাড়িতে কিনেছিলিস! সব সময় বড়ো দোকান থেকে কিনবি। দামেও কম পাবি, জিনিসও এক নম্বর।'
পাশেই ছিলেন বিশেষজ্ঞ। বললেন, 'দেড় কেজি নুনে চব্বিশ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখ। সেই সময় শাড়িটাকে একদম বিরক্ত করবি না।,'
আর একজন বললেন, 'সবচেয়ে ভালো হয়, যদি একবার পুরী যেতে পারিস। আমার একটা শাড়ি ওইরকম করছিল। রং ছাড়ছিল। সমুদ্রস্রান করাতেই সেরে গেল। সামনের মাসে আবার আমরা পুরী যাচ্ছি। শাড়িটা আমাকে দিতে পারিস, চান করিয়ে আনব।'
ওদিক থেকে এদিক সরে এসে একজন বললেন, 'কী হবে ভাই!'
'তোর আবার কী হল!' সমস্বরে সকলের প্রশ্ন।
'আমার মেয়েটার কী হবে! তোরা জিগ্যেস কর, মুখে সব পটাপট বলে দেবে, কিন্তু লিখতে দিলেই হয়ে গেল।'
'অব্বেস কর, 'কী হবে, কী হবে,' করে নাকে কাঁদলে কী হবে।'
'সে কি আর করছি না! সারাটা দিন, লেখ, লেখ, ওরে লেখ। এত স্লো! জানি না বাবা, কী হবে!' একজন বিশেষজ্ঞ মতামত দিলেন, 'সবার আগে চোখটা দেখা।'
'কার চোখ?'
'কার আবার! তোর মেয়ের!'
একজন অজ্ঞ জিগ্যেস করলেন, 'চোখ দেখাবে কেন?'
অভিজ্ঞ বললেন, 'আরে আমার ননদের ছেলেটার এই এক কেস। কিছুতেই লিখতে চায় না। তবে বড়ো স্কুল তো! এই পাঁচবছর আগেও সায়েব ছিল। প্রিন্সিপাল বললেন, চোখ দেখান। দেখা গেল, সত্যিই তাই। চোখটা বেঁকে আছে। দাও চশমা। যে ছেলে লাস্ট হত, সে এখন ফার্স্ট হয়।'
একজন গভীর অজ্ঞ বললে, 'সে তো ছেলে, এর তো মেয়ে!'
ট্যাঁকট্যাঁকে কথা বলার জন্যে কুখ্যাত একজন বললেন, 'সাধে এটাকে মাসে দুবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়! হাঁদু আমার! যখনই দেখবে তখনই চিনেবাদাম চিবোচ্ছে। চোখের আবার ছেলে, মেয়ে আছে নাকি! কী করে তুই গর্ভধারিণী হলি মা! ওই একটা ব্যাপারে ছেলে আর মেয়ের তফাৎ আছে জননী, আর সব এক।'
একজন সদাসর্বদাই গম্ভীর, কারণ তাঁর স্বামী বিরাট ডাক্তার। তিনি বললেন, 'আর একটা ব্যাপারে তফাৎ আছে সেটা হল প্রস্টেট। ছেলেদের আছে, মেয়েদের নেই।'
এক বাঙালি আর এক বাঙালিকে টেক্কা মেরে বেরিয়ে যাবে, তা কখনও হয়েছে না হবে। তিনি ডব্লু বিসি এসের লেডিজ স্টাডি সার্কেলের কনভেয়ার। তাঁর আন্দোলনের বিষয় নারীমুক্তি নয়, কসমেটিক বিরোধী আন্দোলন। লিপস্টিক, নেলপালিশ, শ্যাম্পু, ফেসপ্যাক, রুজ, ম্যাসকারা, আই শ্যাডো, আইলাইনার, ফেস এনামেল সব ছুঁড়ে ফেলে দাও। জলের চেয়ে উত্তম কসমেটিক্স দ্বিতীয় আর নেই।
তিনি বললেন, 'মেয়েদের সব আলাদা। দেহ, মন, অবয়ব।'
'কী রকম, কী রকম?'
'যেমন ধরো চোখ। মেয়েদের চোখ কোণের দিকে যতটা যায় ছেলেদের ততটা যায় না। যাকে বলে, অ্যাঙ্গুলার ভিসান। ছেলেরা হল গণ্ডার। সামনে দৃষ্টি। সোজা তো সোজা। পায়ের কাছে কী আছে দেখার দরকার নেই, দেখতেই পায় না। উটমুখো।'
'আমার হাতা মাড়িয়ে দিয়েছে।'
'কী হবে ভাই! প্ল্যাস্টার করতে হয়েছে?'
'আরে দূর, হাত নয় রে বাবা, হাতা, হাতা।'
'ছাড়িয়ে দে, ছাড়িয়ে দে। আমাদেরটা সেদিন একটা চিনে কাপ ভেঙে দিয়েছে। ইচ্ছে করে।'
'কাকে ছাড়াতে বলছিস?'
'ওই তো, কাজের মেয়ে।'
'আরে ধুর, হাতা মাড়িয়েছে আমার বর। ও মাধু, ও মাধু করতে করতে রান্নাঘরে ঢুকল। দেখেছিস তো কি দশাসই শরীর! হাতাটাকে খুন্তি বানিয়ে ছেড়ে দিলে!'
'ও, তুই তোরটার কথা বলছিস, তাহলে আমারটার সঙ্গে ঘর করতে হলে কী করতিস! নতুন প্লাস্টিকের বালতি। বাথরুমে সেটাকে উপুড় করেছে, এইবার সেইটার ওপর বসে পায়ের তলা ঘর্ষণ হচ্ছে। তপতপে বালতি, অতটা ভার সহ্য করতে পারে কখনও! ফেঁসে গেল।'
স্টাডি সার্কেলের দিদি বললেন, 'মেয়েদের চোখ তিনশো ষাট ডিগ্রিতে ঘোরে। এক নজরে একটা মেয়ে যা দেখে নেবে একটা ছেলে তা পারবে না। গণ্ডার তবু জাতের প্রাণী, এগুলো সব মোষ। গায়ে হাত দিয়ে খিমচে না দিলে টের পায় না। শুয়ে ঘুমোচ্ছে। এসেছি, বেলের পর বেল। ঘুম আর কোনওমতেই ভাঙে না। জানলা দিয়ে প্রথমে ঝুল-ঝাড়ুর মাথাটা দিয়ে ঝাড়লুম। মোষের চামড়া। তখন উলটো দিক। যতক্ষণ না খোঁচা খেলে ততক্ষণ কুম্ভকর্ণ!'
'আমারটি আবার মোষ আর বাঘ একসঙ্গে যা হয়! একটা নাক পেয়েছিল বটে!'
'নিশ্চয় থ্যাবড়া।'
'না, না, খাঁড়া। শুল কী শুরু হল। যেন বাঘ ডাকছে! বাবার উচিত ছিল, বিয়ে দেওয়ার আগে ঘুম পাড়িয়ে দেখে নেওয়া!'
'তুই তো প্রেম করে বিয়ে করেছিস!'
'কে বলেছে! আমি করব প্রেম! ছেলেদের দেখলে আমার গা জ্বলে যায়। আমারটাকে তো মনে করি ফার্নিচার। চেয়ার, টেবিলের মতো, আছে থাক। মাঝে মাঝে তেনার আবার প্রেম উথলে ওঠে। আমি বলেছি, দ্যাখো, এতখানি একটা গোঁপ নিয়ে ন্যাকান্যাকা কথা বোলো না। যাদের নাক ডাকে তারা কখনও প্রেমিক হতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণের গোঁপ ছিল, অর্জুনের গোঁপ ছিল!'
'তুই এখনও গুল এ বকাবলির যুগে পড়ে আছিস, লক্ষ্মীর পাঁচালীর যুগে—প্রাতে উঠি দিবে গোবরের ছড়া। প্রেম আবার কী? প্রেম! একটা ছেলে আর একটা মেয়ের সঙ্গে একসঙ্গে থাকবে।'
'কেন থাকবে? আগে এই প্রশ্নের জবাব দাও। মেয়েরা মেয়েদের মতো থাকবে, ছেলেরা ছেলেদের মতো। একটা ছেলে একটা মেয়ে একসঙ্গে থাকা মানেই হুকুমের রাজত্ব। আদুরে নাম ধরে আদরের গলায় ডাকবে, আর হুকুম করবে।'
'না, সে থাকতেই পারে, তাতে আমাদের আপত্তি করার কোনও কারণ নেই। ছেলেদের সংশোধনের জন্যে, মেয়েদের কাছে থাকতেই হবে। এটা মেয়েদের একটা নৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব, তা না হলে ছেলেরা পৃথিবীটাকে একটা খাটাল বানিয়ে ফেলবে। বাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। আমাদের মেয়েরা এসে থাকবে কোথায়। মেয়েদের স্বার্থেই ঘরে ঘরে মেয়েদের গ্যারেজ খুলতে হবে, সেখানে সব কানকো ভাঙা দার ভাঙা ছেলেরা আসবে, কেউ নিজেকে ভাবে অ্যামবাসাডার, কেউ স্বভাবে মারুতি, কেউ দামড়া সুমো, কেউ আদুরে ফিয়াট। এগুলোকে সব মানুষ করতে হবে। সব শক্তিমান করে তুলতে হবে। আমাদের হুকুমে তোমাদের চলতে হবে। বলামাত্রই সব কাজ, একেবারে টিপটপ। আদ্দেক দিন কাজের লোক আসে না, পারি না বললে তো হবে না, আমরা স্কুলে আসব, তোমরা সেই সময় ঝপাঝপ বাসন মেজে, ঘরদোর সাফ করে, গ্যাসওভেন মুছে-টুছে রেডি করে ফেলবে। আস্তে আস্তে রান্না শিখিয়ে দেওয়া হবে। তখন রান্নাও করে ফেলবে। আমরা সব ফিরে গিয়ে, একটু রেস্ট নিয়ে খেতে বসে যাব।'
একজন বড়ো বড়ো চোখ করে শুনছিলেন, তিনি বিজ্ঞের মতো বললেন, 'স্বামীজি তো একেই বলেছেন, শিব জ্ঞানে জীব সেবা।'
'ওইখানে স্বামীজির মতো মানুষও পুরুষদের দিকে টেনে বলেছেন। শিব নয় পার্বতী, গৌরী। আমরা সব পার্বতী আর গৌরীর দল। অবশ্য তিনি এমন কথাও বলেছেন, রামকৃষ্ণ যান যাক, আমার মাঠাকরুন যেন ঠিক থাকেন।'
'মাঠাকরুন কে?'
'এই দ্যাখ, তোরা সবাই দ্যাখ, মাঠাকরুন কে জানে না। মা ঠাকরুন হলেন সারদা। এইসব মেয়েরাই থ্যাস করে প্রেমে পড়ে ক্ষীরমোহনের মতো থ্যাসথ্যাসে হয়ে যায়।'
গেটের দিকে এক একজন হুড়তে পুড়তে এসে বললে, 'কী হবে ভাই?'
'তোর আবার কী হল?'
'আমার একার নয়, আমাদের সকলেরই বারোটা বেজেছে। পথ অবরোধ। কী হবে ভাই, কী করে বাড়ি ফিরব! আমার বরের কী হবে! না খেয়ে অফিস যাবে!'
'একদিন বাইরে খেয়ে নেবে।'
'তাহলে আর ভাবনা ছিল কী? বাইরে কিচ্ছু খায় না। আমি যা রেঁধে দেব, যেমনই রাঁধি, আনন্দ করে খাবে। একেবারে শিশুর মতো! আমি তো বলি, আমার দুটো ছেলে, একটা গর্ভে এসেছে, আর একটা এসেছে সতেরোই ফাল্গুন। সাতপাকে জড়িয়ে।'
সবাই একসঙ্গে সমস্বরে বলে উঠলেন, 'কী হবে ভাই!'
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন