সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার স্ত্রীর নাম স্নিগ্ধা। বেশ ভারিক্কি চালের মহিলা। স্বভাবে মোটেই স্নিগ্ধ নন। নাম উগ্রচণ্ডী হলে বেশ মানাত। যে বয়সে সাধারণত নাম রাখা হয়, সে বয়সে মানুষের স্বভাব প্রকাশ পায় না। সেই কারণেই বোধ হয় নামঘটিত এই মারাত্মক অমিলটি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এই জিনিসটির হাতে জেনেশুনেই আমাকে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটু টাইট হওয়ার জন্যে। ইট চাপা ঘাসের মতো আমার জীবন এখন বিবর্ণ। যাক, দু:খ করে লাভ নেই। কপালে লিখিতং ধাতা কোন শ্লা কিং করিষ্যতি।
এই মুহূর্তে আমার সেই তেজি টাট্টু ঘোড়ার মতো স্ত্রী বিছানায় আমার পাশে শুয়ে কোঁক কোঁক শব্দ করছেন। না, কুঁকড়ো খেয়ে নয়, জ্বর এসেছে কম্প দিয়ে। অর্থাৎ হাতি এখন পাঁকে পড়েছেন। আমি এক চামচিকি। ইচ্ছে করলে কুতুস করে একটা লাথি মারতে পারি। অতটা অভদ্র নই, তা ছাড়া সেরে ওঠার ভয় আছে। এ জিনিস বেশিদিন শয্যাশায়ী থাকবেন না। আমি স্ট্যাম্প পেপারে লিখে দিতে পারি। তখন আমার এই অপরাধের শাস্তি কী হবে ভেবে আমার সেই প্রবাদোক্ত চিকিচাম হওয়ার সাহস শীতের প্রত্যঙ্গের মতো গুটিয়েই রইল।
কপালে হাত রেখে মনে হচ্ছে দুইয়ের কম হবে না, তিনও হতে পারে। এর কম হলে ঠিক মানাবেও না। স্নিগ্ধা এখন খুবই উত্তপ্ত। ঘাড়ে একটা চাদর চাপিয়েছে, তার ওপর একটা খেস, তার ওপর দুটো পাশ বালিশ। এইবার এই বিচিত্র কম্বিনেশনকে আমি চেপে ধরি, তেনার শরীরের কাঁপুনির সঙ্গে সঙ্গে আমিও কেঁপে কেঁপে উঠছি। ধরিত্রী মাতা কেঁপে উঠলে সন্তানেরও তো নিস্তার নেই। সবই রসাতলে যাওয়ার দাখিল।
মাঝে মাঝে কোঁকোর কোঁ থামলে দাঁতের বাদ্য সহযোগে দু-একটি মধুর বাক্য শ্রীমুখ-নি:সৃত হচ্ছে। জানতুম, জানতুম আমার এই অবস্থাই হবে। যে হাতে পড়েছি! (কে যে কার হাতে পড়েছে) বাবুরা এমন বাড়ি করলেন নর্দমা দিয়ে জল সরে না। কোঁকোর কোঁ। ভালো করে চেপে ধরতেও পারো না, ল্যাদাড়ুস! (স্ত্রীকে চেপে ধরতে পারে, এমন স্বামী কজন আছে!) তার ওপর আবার বাগানের শখ! কোঁকোর কোঁ। বাগান করেছে, বাগান! (দাঁতের বাদ্যি) আফ্রিকার জঙ্গল বানিয়ে বসে আছেন। মশার ঠ্যালায় তিষ্ঠোয় কার বাপের সাধ্যি! আমি জানতুম এই গুলবাগিচায় আমার ম্যালেরিয়াই হবে। এইবার লিভার বাড়বে, পিলে ফুলবে। গ্যাঁড়গেঁড়ে পেট নিয়ে বাকি জীবনটা কাঁথা মুড়ি দিয়ে বাবুর গার্ডেন চেয়ারে বসে বসে শোভা দেখি, গাছের শোভা। কোঁকোর কোঁ।
ল অফ ডিমিনিশিং ইউটিলিটির জলজ্যান্ত উদাহরণ। হাতের কাছে যা ছিল, বিছানার চাদর, দরজার পর্দা, কাঁথা কম্বল সবই চাপানো হয়েছে। একতলা, দো-তলা অবস্থা। দো-তলার গাড়িবারান্দা থেকে মাঝে মাঝে মুখ ঝুলিয়ে আমি জিগ্যেস করছি, কী বুঝছ! আর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বোমার মতো ফেটে পড়ছেন। আর কিছু চাপাতে পারছ না! হাতের কাছে আর তো কিছু দেখছি না। চাপাতে চাপাতে দেউলে হয়ে গেছি। শেষ একটা জিনিসই চাপানো যেতে পারে, সেটা হল রোড রোলার। রাস্তা মেরামত হচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে সেই দৈত্য বিশ্রাম করছে। একমাত্র ওটি চাপালে এটি হয়তো শান্ত হবেন। চিরশান্তি। আমার সেই গরম কাপড়ের সুটটা পরবে? যেটা পরে আমি লে, না লাদাখ, কোথায় যেন গিয়েছিলুম। কথা শুনলে পিত্তি জ্বলে যায়। (জ্বলবেই তো! পিলে বড় হয়েছে যে। রাত দশটা নাগাদ জ্বর এসেছে, দু-ঘণ্টা হতে চলল। এতক্ষণে পিলে নিশ্চয়ই ইঞ্চিখানেক বড় হয়েছে। পিলে তো ভারতের অর্থনীতি নয় যে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করেও বড় হয় না!) ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে। ভেবো না, তোমাকেও ধরল বলে।
সে তো ভালোই। সতীর পুণ্যে পতির পুণ্য। দুজনে জাপটা-জাপটি করে এক আত্মা, এক প্রাণ, এক দেহ হয়ে বিছানায় পড়ে পড়ে, কোঁ কোঁ করব! দাম্পত্য জীবনের ফাটল ফোটল ম্যালেরিয়ার পলেস্তারায় জোড়া লেগে যাবে।
জ্বরটা একবার দ্যাখো তো। মনে হয়, ছয় কি সাতে উঠেছে!
বাব্বা! মানুষের জ্বর-মাপা যন্ত্রে তো কুলোবে না। স্কেল ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। ঘোড়ার থার্মোমিটার চাই। ড্রয়ার থেকে থার্মোমিটার বের করে ঝাড়াতে থাকি। পারা কি সহজে নামতে চায়। চুরানব্বইতে আটকে বসে আছে। খ্যাচাং খ্যাচাং করে ঝেড়েই চলেছি। হাতের খিল খুলে যাওয়ার দাখিল। নিজের পারাই নেমে গেল, থার্মোমিটারের পারা যেমন তেমনি।
ঠুং করে একটা শব্দ হল। টেবিলের কোণে লেগে যন্ত্রের যন্ত্রণা শেষ। মেঝেতে কাচের কুচো। মুক্তোর দানার মতো তিন চার দানা পারা কোণের দিকে টলটল করছে। নামতে নামতে একেবারে মেঝেতে গিয়ে নামল।
যা:, বারোটা বাজালে তো! খাও না খাও, কাল সকালেই একটা কিনে আনবে। ওটা রমাদির থার্মোমিটার।
আমাদেরটা কোথায় গেল?
কমলাদি সেবার ছেলের জ্বরের সময় নিয়ে গেল না!
তারপর কী হল?
আর এল না। সেখান থেকে গেল ছন্দাদের বাড়ি। ছন্দা থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে তন্দ্রা...
বুঝেছি, বুঝেছি। ক্রিস্ট্যাল ক্লিয়ার। জরু আর গরুর মতোই থার্মোমিটার একবার হাতছাড়া হলে আর ফিরে আসে না। সকালে ডাক্তারবাবু এসে ডিক্লেয়ার করলেন, জ্বরের গতি-প্রকৃতির দিকে কড়া নজর রাখুন। বিছানায় ফ্ল্যাট করে ফেলে রাখুন। তিনটি অস্ত্র ছেড়ে গেলুম, ম্যালেরিয়া, বিকোলাই আর টাইফয়েড। যেটা লাগে। এতে যায় ভালোই, নয় তো প্রস্তুত থাকুন। দেহনির্যাস টেস্ট করে মাল ছাড়ব।
সেটা তো আগে করলেই হয়।
কী দরকার? দেখাই যাক না দিন দুই।
এইবার শুরু হল রিয়েল খেল। কে রাঁধবে? শব্দময় ঝঙ্কৃত প্রভাতের বদলে এ যেন ভিন্নতর একটি দিন। স্নিগ্ধার হাঁকডাক নয়, পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে, টুইস টুইস। কী আশ্চর্য! পৃথিবীতে এখনও পাখি ডাকে! ভুলেই গিয়েছিলুম। দেওয়াল ঘড়ি চলছে খটাস খটাস শব্দে। একটা বেড়াল ডাকছে করুণ সুরে। কী সুন্দর মসৃণ, পেলব, প্রসন্ন একটি সকাল। মশারির বাইরে থেকে দেখতে পাচ্ছি রুগির মুখ। জ্বর একটু কম। অসাড়ে ঘুমোচ্ছে। আহা। ঘুমোও ঘুমোও। উঠলেই বড়ো শব্দ হবে। শব্দযন্ত্র। খাটের তলায় একটি বাসি আরশোলা কেতরে কেতরে মর্নিংওয়াকে বেরিয়েছে। অন্যদিন সাহস পায় না।
আর দেখছি রান্নাঘরের দরজার সামনে দু-বোতল দুধ হত্যে দিয়ে পড়ে আছে। কেটলির ওপর ছাঁকনি কার্নিশে ঝুলতে থাকা আত্মহত্যাকারী ব্যর্থ প্রেমিকার মতো বাতাসে দুলছে। পড়িতে পড়িতে না পড়ি। সকালের সংসার অপেক্ষা করে আছে। ভিতরটা চা চা করছে।
রান্নাঘরের দরজা খুলতেই ভুস করে খানিকটা বাতাস বেরিয়ে এল দু:খীর দীর্ঘশ্বাসের মতো। অনেক আগেই তো বাতাসের মুক্তির কথা ছিল। আজ সব কিছুই লেটে চলছে। জানালা খুলতেই আলো এল। কোণের দিকে গ্যাস সিলিন্ডার তাল ঠুকে বললে, আয় চলে আয়, তোকে যমের বাড়ি পাঠাই। বড়ো ভয় পাই ওই লৌহ মদগরকে, জঠরে যার তরল অগ্নি। ফেটে ফুটে কত যে রেকর্ড করেছে। নারী চরিত্রের মতো। বেশ আছে, বেশ আছে, হঠাৎ দুম ফট। সব্যসাচী চলে গেলেন সহমরণে।
গ্যাসের দরকার কী। হবে তো চা, দুধ জ্বাল আর ভাতে ভাত। সাহেবগঞ্জের খাঁটি গব্য টেবিলের ওপর শিশিতে যত দিন যাচ্ছে ততই আরও হলদে হয়ে আরও গাঢ় হচ্ছে। কেরোসিন কুকারেই কাজ চালিয়ে দেওয়া যাক। গ্যাসে খোঁচাখুঁচি না করাই ভালো। তেঁটিয়া স্বভাব। যেমন আছে থাক এক পাশে।
কুকার ঝনঝন করছে। তেল নেই, বোতল টিন সব খালি। পশ্চিমবঙ্গে কবে যে তলে তলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, কেউ টের পায়নি। থেকে থেকে ব্ল্যাক আউট। মাঝে মাঝেই শত্রুপক্ষের অদৃশ্য বিমান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বোমা ফেলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার। বাস ট্রাম দেখলে মনে হয় লোক দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যেভাবেই হোক বিধ্বস্ত শহর ছেড়ে প্রাণভয়ে পালাতে চাইছে। কেরোসিন তেলের বিশাল বড় লাইন এঁকেবেঁকে পড়ে আছে। মাঝ সমুদ্রে ব্লিৎসক্রিগ চলেছে। জাহাজ বন্দরে ভিড়লে তেল মিলবে। লাইনে দাঁড়িয়েই মানদার ডেলিভারি হয়ে গেল। ছেলের নাম রেখেছে কেরোসিন কর্মকার। খেলার লাইনের এক্সপার্টরাই চাকু চড়িয়ে তেলের লাইনে। ধৈর্যে কে হারাবে তাঁদের?
আবার গ্যাসের দ্বারস্থ। ওলটানো শিবলঙ্গিটি স্তোত্রপাঠে সন্তুষ্ট করে হাত লাগাই। কোনটা যে কী, কেমন করে ঘোরায়? রবারের কানেকটার টিউবে সাবানের ফ্যানা মাখিয়ে দেখতে হবে নাকি? লিক করছে কি না! সব সমস্যা মিটলেও একটা সমস্যা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, ভাত প্রায় ফুটে সেদ্ধ হয়ে এসেছে, এখন ফ্যান গালার কী হবে! নারীর জীবনে বিবাহ যেমন এক সমস্যা, পুরুষের জীবনে ভাতের ফ্যানস্রাব তেমনি এক সমস্যা। সমস্যার কী আছে? চেষ্টা করে দেখতে কী দোষ! হাঁড়ির মুখে সরা চাপা দাও। দু দিক থেকে ধরে সামান্য ঝাঁকুনি দিয়েই টেনিসের ব্যাকহ্যান্ড সার্ভিসের মতো উলটে দাও। ঢাকনার মুখ ফাঁক করে সিঁই করে বেরিয়ে এল গরম হাওয়া। তার পরের ব্যাপারটা খুবই সহজ হয়ে গেল। সামান্য একটু চিৎকার। হাঁড়ির পতন। প্রদর্শনী নম্বর দুই। প্রথম প্রদর্শনী বিছানায়। দ্বিতীয় প্রদর্শনী, চেয়ারে ঠ্যাং ছড়ানো আমি, হাতে পায়ে হলদে পোড়ার কলম। তোরা কে দেখবি আয়, কদমতলায় পোড়া কৃষ্ণ, রাধিকা বিছানায়।
একেই বলে শাপে বর। জ্বর বেশ জেঁকেই বসল। দিনে তিনবার কেঁপে কেঁপে আসে আর ঘাম দিয়ে ছাড়ে। ধরে আর ছাড়ে। পুলিশের পলিটিক্যাল মস্তান ধরার মতো। আত্মীয়-স্বজনরা এগিয়ে এলেন। সংসার চলতে লাগল সর্বজনীন পুজোর কায়দায়। কাকিমার বাড়ি থেকে ভাত, দু-চার পদ তরকারি। পিসিমার বাড়ি থেকে পোস্ত। জ্যাঠাইমার বউমা সম্প্রতি ঘর আলো করে এসেছেন। রন্ধনবিদ্যায় দ্রৌপদী। তাঁর হাতর নানা কেরামতি, সব আসতে লাগল লাইন দিয়ে। যেন রাজসূয় যজ্ঞ হচ্ছে। আসছেই আসছে। অড়হর ডাল, লাউ দিয়ে মুগের ডাল, মাছ, তাড়াহুড়ো, তাই ডিম এসেছে সেদ্ধ। খাবার ঘরে সারি সারি মাল চাপা। ঢাকা খুললেই নানা বিস্ময়। আত্মীয়-স্বজনরা প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন। থালার পাশে গোল হয়ে বাটির সারি। সারির পর সারি, একসার, দু-সার। রবিবার তিনসার, চারসার।
ডাক্তারবাবু বলে গেছেন, একমাস একেবারে চিৎপাত পড়ে থাকুন। কোনও কাজ নয়, স্রেফ ক্যাপসুল খেয়ে যান। আমি যখন বলব গেট আপ, তখনই গেট আপ। তার আগে নয়। কী মজা! সকালে বাজার ছুটতে হচ্ছে না। মাছের ন্যাজ ধরে টানাটানি করতে হয় না। রাজার মতো ঘুম থেকে ওঠো, দাড়ি কামাও, চা খাও, কাগজ ওলটাও। চান করে বসতে না বসতেই লাইন দিয়ে আসতে লাগল, বাটি ঘটি, ডেকচি, ডেড়ি ডামড়ি। এই একটা আইটেম আবার শেষ মুহূর্তে উড়তে উড়তে আসে শেষ মুহূর্তের ট্রেনযাত্রীর মতো।
চক্ষুলজ্জা বলে একটা জিনিস আছে তো। এই বাজারে ঘাড়ে বসে খাওয়া। একদিন দুদিন হলে কথা ছিল না। দিনের পর দিন। একদিন একটা ব্যাগে পাঁচশো আলু, আড়াইশো পটল, দুশো ঢ্যাঁড়শ, গোটা তিনেক করলা একটা চালকুমড়ো, এক ডগা পুঁইশাক, আর এক হাতে একটি প্ল্যাস্টিকের ব্যাগে ছোট্ট একটি কাতলা মাছ নিয়ে এক রাউন্ড ঘুরে এলুম। প্রথমে পিসিবার বাড়ি। ছি, ছি, বাবা। তুমি এত নীচ! আমাদের এতই দরিদ্র ভাব! এ তো আমাদের কর্তব্য! যাও নিয়ে যাও। আর কখনও মানুষকে অপমান কোরো না। পিসতুতো ভাই বললে, ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বার করে দাও। দেওয়ার আগে এক কাপ চা খাইয়ে দাও।
সেই একই ব্যাগ হাতে কাকিমার বাড়ি। বড়ো মর্মাহত হলুম বাবা। তিনি বেঁচে থাকলে তোমাকে জুতোপেটা করতেন। এক সময় যৌথ পরিবার ছিল, এখনই না হয় ভেঙে ভেঙে চুরমার। তিনি তোমায় কোলে-পিঠে মানুষ করে গেছেন। আমার ছেলে কি এতই গরিব? তুমি একটা দেড়ছটাকি কাতলা নিয়ে সাত সকালেই আদিখ্যেতা করতে এসেছ! এই সবই হয়েছে তোমার বউয়ের পরামর্শে। পরের মেয়ে এসে এই ভাবেই ঘরের ছেলেকে পর করে দেয়। ঘোর কলি রে বাপ!
আচ্ছা আমি তাহলে আসি, বলে ব্যাগ হাতে বেরিয়ে পালুম।
এরপর জ্যাঠাইমা। আমার ব্যবহারে তিনি একই এতই মর্মামত হলেন, উপায় থাকলে আত্মহত্যা করতেন। নেহাত সংসারে বাঁধা পড়ে গেছেন। মনটাকে ভীষণ উদার করার পরামর্শ দিলেন, যেমন আমার জ্যাঠামশাই ছিলেন। তুমি গলায় ব্যাগটি ঝুলিয়ে কেটে পড়ো এখন। জেনে নিলেন কটায় খেতে বসব। ঠিক নটার সময়।
শীতলাতলায় অনেক দিন একটা সিধে মানসিক করা ছিল। আলু, পটল, ঢ্যাঁড়স, মাছ পূজারীর হাতে দিয়ে একটি প্রণাম ঠুকে পলায়ন। হিসাব করে দেখলুম স্বার্থের পাল্লা লাভের দিকেই ঝুঁকে আছে। রোজ ওষুধ চলেছে গোটা ছয়েক টাকা। নানারকম টেস্ট-ফেস্ট গোটা পঞ্চাশ টাকা, ভিজিট গোটা তিরিশ, বাকি সবই তো দাতব্যে চলেছে।
এরপর লাভের ওপর নিট লাভ, স্নিগ্ধা ফ্যাকাশে পাংশু মুখে বললে, এবারে আমার জন্যে আর পুজোর শাড়ি কিনো না। চিকিৎসায় তোমার অনেক খরচ হচ্ছে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন