স্পেশাল অফিসার

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

রামপ্রসাদ গান গেয়েছিলেন, মা আমায় ঘুরাবি কত, চোখবাঁধা কলুর বলদের মতো। আর আমাদের এই প্রসাদ, প্রসাদ মিত্র ডাকবাংলার হাতায় বসে মনে মনে বলছেন, কী ফ্যাসাদে ফেললে প্রভু। কারুর ওয়াইফও নই, মিডওয়াইফও নই, অথচ এ কী পাপ! কুকুর ছানা কোলে নিয়ে কতক্ষণ বসে থাকতে হবে কে জানে! কুঁই কুঁই করলেই চাকরি চলে যাবে।

সময়—সন্ধ্যা। স্থান—একটি জেলাশহর। শীত আসছে। বাতাসে ঠান্ডার আমেজ। বেলা একটার সময় ডাকবাংলায় একট জিপ এসে ঢুকেছিল। জিপ থেকে নেমেছিলেন সস্ত্রীক এস. ডি. ও.। মেমসাহেবের কোলে ছিল এই কুকুরটি। এখন প্রসাদের কোলে।

পমেরেরিয়ানের বাচ্চা। মেমসাহেব মুখে ঝকঝকে দাঁতের হাসি খেলিয়ে, শরীর দুলিয়ে মন্ত্রীর হাতে কুকুর বাচ্চাটি দিতে দিতে বলেছিলেন, দিস ইজ ফর ইওর ওয়াইফ স্যার। গতবার এসে আমাকে বলেছিলেন। আমি প্রমিসড হার এ বিট। আমাদের কুকুরটা তখন প্রেগনান্ট ছিল। সেন্ট পারসেন্ট পেডিগ্রিড। ঠিকমতো মানুষ করতে পারলে শি উইল বি এ জয় ফর এভার।

এস. ডি. ও. ভেট দিয়ে চলে যাওয়ার পরই মিনিস্টারের খেল শুরু হয়েছে। মিনিট পাঁচেক কুকুরটাকে ঘাঁটাঘাঁটির পরই তাঁর অরুচি ধরে গেল। (দলে অরুচি ধরার মতো। তিনবার দল বদল করে, এই খেপে গদি পেয়েছেন) কুকুরটা প্রসাদের হাতে দিয়ে ডি. এমের সঙ্গে লাঞ্চ খেতে চলে গেলেন। যাওয়ার সময় বলে গেলেন, যত্ন করবে, আদর করবে, আনন্দে রাখবে, যেই দেখবে পেট পড়ে গেছে, দুধে তুলো ভিজিয়ে চুকচুক করে খাওয়াবে। দুধ যেন বেশি ঘন না হয়, বেশি তরল না হয়। মায়ের দুধের ডাইল্যুশনে নিয়ে আসবে জল মিশিয়ে।

কুকুরের মায়ের দুধ কতটা তরল প্রসাদের জানা ছিল না। ডাকবাংলার চৌকিদার, ঝাড়ুদার, খানসামা কেউই জানত না। পশুপালন বিভাগের প্রবীণ পশুচিকিৎসকও জানেন না। ডিসট্রিক হেলথ অফিসারও এ বিষয়ে অজ্ঞ। এত অজ্ঞতায় দেশ চলছে কী করে, কে জানে! যাই হোক প্রসাদ হাফ দুধ, হাফ জল মিশিয়ে হাসপাতাল থেকে বরিক তুলো এনে নুটি করে ভিজিয়ে দুপুরে কুকুর বাচ্চাটাকে নানাভাবে চেষ্টা করেছিল দুধ খাওয়াবার। সে এক দু:সাধ্য ব্যাপার। কেঁউ কেঁউ করবে না খাবে। একটু জোর-জবরদস্তি করতেই তুলোর তালটা কুকুরের গলায় চলে গেল। চোখ উলটে, দম বন্ধ হয়ে মরে আর কী? প্রসাদ রেডি ছিল। কুকুরের প্রাণবায়ু বেরোলেই সেও ঝুলে পড়বে গলায় দড়ি দিয়ে। কুকুরের কান দুটো ধরে পেছনটা কৌটো ঠোকার কায়দায় কার্পেটে বারকতক ঠুকতেই তুলোর ডেলা গলা ছেড়ে পেটে চলে গেল। বিপদ কাটলেও ভয় রয়ে গেল। তুলো পেটে গিয়ে হজম হবে তো? না লিভারে মেয়েদের খোঁপার জালের মতো জড়িয়ে বসে থাকবে! সঙ্গে সঙ্গে নিজেও সমপরিমাণ তুলো দুধে ভিজিয়ে খেয়ে বসে রইল। টিকে যে সাহেব আবিষ্কার করেছিলেন তিনিও তো প্রথম নিজের ওপরেই পরীক্ষা করেছিলেন। প্রসাদ একবার ভেটিরিনারি অফিসারকেও ফোন করেছিল। সরাসরি জিগ্যেস করেনি। কায়দা করে জিগ্যেস করে, কুকুরে তুলো খেলে কী হয়?

ডাক্তার বলেছিলেন, জুতো খেয়ে যে হজম করে, তুলো তো তাদের কাছে বেলের মোরব্বা মশাই।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধে এসেছে। মন্ত্রীমহোদয় স্নান সেরে শরীরে পাউডার ঢেলে ভস্মমাখা মহাদেবটি হয়ে ধ্যানে বসেছেন। মাথার ওপর পাঁই পাঁই পাখা ঘুরছে। শরীরের চাপে ডানলোপিলো দেবে গেছে। কোণের টেবিলে রুপোর ফোলডিং ফ্রেমে মন্ত্রীর গুরুদেব বাঘছালে বসে আছেন। শিবনেত্র হয়ে। আর একদিকে মা মহামায়া। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ধ্যানের মাত্রাও তত বেড়ে যাচ্ছে। জন্মপত্রিকা নিয়ে জ্যোতিষীরা অঙ্ক কষে চলেছেন। হস্তরেখাবিদরা হাতের ওপর ম্যাগনিফাইং গ্লাস ফেলছেন।

মন্ত্রীর হুকুমে প্রসাদ কুকুর কোলে পাকুড় গাছের তলায় বসে আছে। কেঁউ কেঁউ শব্দে ধ্যানভঙ্গ যেন না হয়। তৃতীয় নয়নে ভবিষ্যৎ দেখার চেষ্টা করছেন। আর একবার গদি চাই। কত কাজ বাকি! নিজের এলাকায় জমিজমা বেড়েছে। বাস আর ট্যাক্সি খাটছে। এইবার সিনেমা হল, আর একটা কোলডস্টোর হলেই কে আর গদির পরোয়া করে! চুলোয় যাক তোদের দেশ, চুলোয় যাক রাজনীতি। চাষির জমিতেও চাষ হবে, মন্ত্রীর জমিতেও চাষ হবে। চাষ হলেই হল। হিমঘর তো দেশের চাষ-আবাদের কল্যাণেই? অর্থনীতি বলছে ধরো, ধরে রাখো, চড়ো, আরও চড়ো তারপর ছাড়ো। মন্ত্রী বলে কী মানুষ নন। মানুষের কাজই তো গুছনো। আখের চাষের মতোই, আখেরের চাষ।

রাতে মন্ত্রী বিশেষ কিছু খেলেন না। লাঞ্চে গুরুভোজন হয়েছে। মাছের মুড়ো দিয়ে সোনামুগের স্পেশালে ডাল, সরু বাসমতী চালের দু চামচে ভাত, একটা মুরগির ঠ্যাং, এক চৌকো পুডিং দিয়ে রাতের আহার শেষ করে বিশাল একটি ঢেঁকুর তুললেন। পেটের মতো মুখও গুরুগম্ভীর হয়ে আছে। নির্বাচন আসন্ন। জেলায় পার্টির ভেতরের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। ফাটল ধরে চাকলা চাকলা। যে যেমন পারছে খাবলা টাকা মেরে সরে পড়ছে। কোঁদল শুরু হয়ে গেছে। কোঁদল থেকে কোদাল। কোদালেই কবর তৈরি হয়। দাঁতে কাঠি খুঁচতে খুঁচতে ডাকবাংলার বারান্দায় পায়চারি করছেন আর সুর করে বারে বারে একটি নামই উচ্চারণ করছেন, বসন্ত, বসন্ত। অসুখ বসন্ত নয়, মানুষ বসন্ত। রাজনীতির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। হজমি পায়চারি চালাতে চালাতে প্রশ্ন করলেন, খাওয়া হয়েছে?

প্রসাদ বললে, এইবার বসব স্যার।

মন্ত্রী বিরক্ত হয়ে বললেন, তোমার নয়, তোমার নয়, কুকুরের খাওয়া হয়েছে?

হয়েছে স্যার।

সারাদিন ক'লিটার দুধ খেয়েছে?

প্রসাদ বিপদে পড়ে গেল। ক'ফোঁটায় লিটার হয় জানা নেই। কেউ যদি প্রশ্ন করেন ক'লিটার কেঁদেছে, কোনও উত্তর হয় কি? প্রসাদ বললে, প্রায় এক বাটি।

ইডিয়েট! তোমার মাপজোকের কোনও ফ্যাকালটিও নেই। চেষ্টাও করো না। সেদিন ডিসট্রিক কনফারেনসে জিগ্যেস করলুম, জেলায় কত ধান হয়? বলতেই পারলে না। ইনএফিসিয়েন্ট। মন্ত্রীর সঙ্গে ঘুরছ, স্ট্যাটিসটিকস তোমার মুখে মুখে থাকা উচিত। যখন যা চাইবে, চটপট বলে দেবে। তা না, হাঁ করে নিরেট নীরেনের মতো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবে। দেশের বারোটা তোমরাই বাজাবে। যেমন অ্যাডমিনসট্রেশনের অবস্থা, তেমনি পলিটিকসের অবস্থা। আমার কী, তোমরাই বুঝবে ঠ্যালা।

মন্ত্রী হাই তুললেন। ঘুম আসছে। জড়ানো গলায় বললেন, আমি শুয়ে পড়ছি। কাল ভোরেই বেরুতে হবে। তুমি কুকুরটাকে কাছে নিয়ে শোবে। মাতৃস্নেহে সারারাত রাখবে। একটা মা বের করার চেষ্টা করো প্রসাদ। পৃথিবীতে মায়ের বড়ো অভাব। খরা চলেছে স্নেহ নেই, ভালোবাসা নেই, থাকার মধ্যে ছত্রিশটা দল। ভোট ভাগাভাগি। ভাগের মা গঙ্গা পায় না।

চৌকিদার প্রসাদকে বললে, বাবু ওটাকে হিসি করিয়ে নিয়ে শুতে যান। তা না হলে বিছানা ভেজাবে। সব সময়েই তো কেঁউ কেঁউ করছে। বুঝবেন কী করে, কোন কেঁউটা হিসির। প্রসাদ গাছতলায় কুকুরটাকে রেখে হিসহিস হিসহিস করতে লাগল। চারপাশে গাছ, মাথার উপর তারাভরা আকাশ। ঠান্ডা বাতাস বইছে। কুকুরটা পায়ের কাছে গোল হয়ে ঘুরছে আর কেঁউ কেঁউ করছে। মানুষের বাচ্চা হিস বোঝে। কুকুরের ভাষাটা কী? প্রসাদ বিরক্ত হয়ে বারকতক ঘেউ ঘেউ শব্দ করে কুকুরের ভাষা নকল করার চেষ্টা করল। লাভ হল না। শেষে ধৈর্য হারিয়ে বিছানায় চলে এল। সাধে বলে, মা হওয়া কী মুখের কথা!

অনেক রাতে প্রসাদের ঘুম ভেঙে গেল। পেটের কাছে ভিজে ভিজে লাগছে। পাজামার দড়িটাকে মাতৃস্তন ভেবে মুখে পুরে মন্ত্রীর কুকুর সারারাত চুকুর-চুকুর চুষে ভিজিয়ে দিয়েছে। কেমন গুটিসুটি মেরে কোলের কাছে শুয়ে আছে। প্রসাদ বড় সন্তুষ্ট হল, যাক এতক্ষণে কুকুরে কুকুর চিনেছে।

হাইওয়ে দিয়ে মন্ত্রীর গাড়ি ছুটছে। সবুজ রঙের ঝকঝকে অ্যামবাসাডার। অন্যান্য বার প্রসাদ সামনে ড্রাইভারের পাশে বসে, এবারে কুকুরের ইঞ্জিনের গরমে কষ্ট হবে বলে মন্ত্রী নিজেই সামনে বসেছে। প্রসাদ পেছনের আসনে। কোলের ওপর তোয়ালে, তার ওপর কুকুর। পাশে প্লাস্টিকের ঝুড়িতে দুটো ফিডিং বোতল। একটায় দুধ আর একটায় জল। প্রসাদের নিজের চান আর ব্রেকফাস্ট না হলেও কুকুরের প্রসাধন হয়েছে। পাউডার পড়েছে গায়ে, লোমে বুরুশ পড়েছে। গাড়ির ঝাঁকুনিতে মাঝে মধ্যে প্রসাদের কোল ছেড়ে খচরমচর করে পালাবার চেষ্টা করলেও সুবিধে করতে পারছে না। একদিনেই প্রসাদ বাচ্চা সামলাবার কায়দাটা বেশ রপ্ত করে ফেলেছে। মন্ত্রীকে সামলাতে পারে না ঠিকই। মন্ত্রীও কি পারেন ভোটার সামলাতে, দপ্তর সামলাতে, দল সামলাতে। প্রসাদ ডানহাতের বুড়ো আঙুলটা কুকুরকে চুষতে দিয়েছে, তাইতেই জীবটি বোকা বনে প্রসাদের কোলে পড়ে আছে। সেই একই টেকনিক। দেশের মানুষও তো ওই একই ভাবে পড়ে আছে, রাজনীতির বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ চুষে। ওরাও তো জীব এরাও জীব। ওরা পাঁচ বছর পাবে, আর এ ব্যাটা ঘণ্টা ছয়েক পারে না? বোকা বানানো কি এতই শক্ত!

মাইল চারেক আসার পর মন্ত্রী বললেন, প্রসাদ একবার করিয়ে নাও। প্রসাদ রাস্তার পাশে নেমে কুকুরকে হিস হিস করতে নিজেরাই পেয়ে গেল। করার উপায় নেই। গাড়িতে ফিরে এল। মন্ত্রী বললেন, ড্রাই হয়ে গেছে সিসটেম, একটু জলের বোতলটা ধরো।

আবার মাইল চারেক গিয়ে মন্ত্রী বললেন, প্রসাদ ট্রাই করো। প্রতি চার মাইল অন্তর প্রসাদ নামে আর ওঠে। এদিকে নিজের পেট ফেটে যাওয়ার অবস্থা। কুকুরের বদলে তাকে করতে বললে ছোটখাট একটা পুকুর তৈরি করে দিতে পারে। শেষে শান্তিপুরের কাছে একটা জংলা জায়গায় প্রসাদ কুকুর নিয়ে নেমে আর সামলাতে পারল না। নিজেও বসে পড়ল। অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল বোধ হয়। পেছনে ফিরেই চক্ষু চড়কগাছ। কুকুর নেই। কিছু দূরে হাইওয়ের ওপর মন্ত্রীর সবুজ গাড়ি। প্রসাদ চাপা গলায় ডাকল, আয় আয় তু তু। ডাক শুনে নীচের ঢালু জমি থেকে একটা ঘিয়ে ভাজা নেড়ি কুকুর উঠে এসে ন্যাজ নাড়তে লাগল। ধ্যার ব্যাটা, তোকে কে ডেকেছে। প্রসাদের মনে হল, সে যে ডাকে ডেকেছে তাতে নেড়িই সাড়া দেবে। বিলিতির ডাক আলাদা। জোরে ডাকতে পারছে না, মন্ত্রী শুনতে পেয়ে যাবেন। হঠাৎ নেড়িটা ঢাল বেঁকে একট ঝোপের দিকে গিয়ে গরর শব্দ করতে লাগল। মরেছে। মন্ত্রীর কুকুর বোধহয় ঝোপে গিয়ে ঢুকেছে। কামড়ে ছেড়ে দিলে রক্ষে নেই। পড়ি কি মরি করে প্রসাদ ঢাল বেয়ে নামতে গিয়ে পা হড়কে সড়াৎ করে ফুট ছয়েক ছেঁচড়ে নেমে গেল। প্রসাদের পতন দেখে নেড়িটা ভয়ে সরে গেছে। প্রসাদ ঝোপঝাড় থেকে বাচ্চাটাকে বগলদাবা করে কামড়ের হাত থেকে বাঁচালেও নিজে আর ওপরে উঠে আসতে পারছে না। পতন যত সহজে হয় আরোহণ তত সহজে হয় না। দুটো হাত কাজে লাগাতে পারলে হয়তো হত। এক হাতে কুকুর। ছ'ফুট ওপরে আকাশের পটে মন্ত্রী মহাশয়ের মুখ দেখা গেল। তিনি কিছু বলার আগেই প্রসাদ নীচে থেকে বললে, পড়ে গেছি স্যার।

মন্ত্রীর মুখটি প্রসাদের চোখে কালো আর বীভৎস দেখাচ্ছে। পেছনে উজ্জ্বল আকাশের জন্যেই বোধ হয় ওইরকম মনে হচ্ছে। সাদা দাঁত ফাঁক করে লাভা স্রোতের মতো মন্ত্রীবাক্য নি:সৃত হল।

পড়লে কী করে?

প্রসাদ কুকুরটাকে দেখিয়ে বললে, আজ্ঞে এ বড়-বাইরে করতে নেমেছিল।

ড্রাইভারের সাহায্যে প্রসাদ ওপরে উঠে এল। কেটেকুটে গেছে। হাতে বাবলা কাঁটা ফুটে গেছে। চেহারা দেখে মন্ত্রী বললেন, অপদার্থ। গুড ফর নাথিং।

এক মাসের মধ্যে প্রসাদের প্রাোমোশন হয়ে গেল। যে ফাইল কিছুতেই নড়ছিল না। কখনও ডিপার্টমেন্টে আটকায়, কখনও ফাইনান্স থেকে অবজেকশন নিয়ে ফিরে আসে, সেই ফাইল হঠাৎ সচল হয়ে প্রসাদকে ভাঙা চেয়ার থেকে চেয়ারে তুলে দিলে। মন্ত্রীর কুকুরের বয়েস বেড়েছে, প্রসাদের পদমর্যাদাও বেড়েছে। চেম্বারে ছোট হলেও চেম্বার। টেবিলে কাচ। চেয়ারের পেছনে ভাঁজকরা তোয়ালে। প্রসাদের কতদিনের আশা। চেম্বারের বাইরে নেমপ্লেট। কাঠের টুকরোর ওপর সাদা হরফে লেখা—স্পেশাল অফিসার। কীসের স্পেশাল অফিসার তা ঠিক না হলেও স্পেশাল অফিসার। টেবিলে আবার ঘণ্টা পেয়েছে। টিপলেই কোঁ কোঁ করে বেজে ওঠে। হঠাৎ একদিন দেখা গেল চকখড়ি দিয়ে স্পেশাল অফিসারের পাশে ব্র্যাকেটে দিয়ে কে বা কারা লিখে গেছে, ডগ। প্রসাদ মিত্র। স্পেশাল অফিসার (ডগ)। তা লিখুক। প্রসাদ এখন মিত্তির সাহেব। অধস্তনেরা স্যার সম্বোধন করে।

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%