সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আবার কী! কথাটা তো বোঝা গেল না। ছেলে মাছ হতে যাবে কেন? আরে ভাই, বিয়ের বাজারে ছেলেরা হল মাছ। কেউ রুই, কেউ কাতলা, কেউ ইলিশ, কেউ চিংড়ি। মেয়ের বাবা কিনতে আসবেন। যাঁর যেমন রেস্ত। বেশ ভালো চাকরি, যেমন মার্চেন্ট অফিসের এগজিকিউটিভ, সেটি হল রুই। কাতলা কে? সরকারী চাকুরে। মাথাটা বড়। তেমন আয় দেবে না, মাইনে কম, তবে চাকরিটা পাকা, পেনসনে আছে! খুব বড় ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হল চিংড়ি। আর ইওরোপ, আমেরিকাবাসী এন. আর. আই. সেতো গঙ্গার ইলিশ। চকচকে ডলারের চাকা চাকা আঁশ, তেলও ছাড়বে তেমনি। মেয়ের বাবা মেয়ের জন্যে ছেলে কিনতে মার্কেটে নামবেন। ট্যাঁকের জোর থাকলে রুই, কাতলা, নয়তো চুনোপুঁটিতেই সন্তুষ্ট।
।। চুনোপুঁটির খেল।।
শেষমেষ এদের এই হয়, কিছুই হল না যখন তখন, একটা বিয়ে করেই দেখা যাক না কেন? প্রবাদে তো আছেই, স্ত্রী ভাগ্যে ধন। ছেলের রোজগার কী, জানাই গেল না, লড়িয়ে দিলে বিয়ে। টার্গেট মেয়ে নয়, মেয়ের বাপ। শ্বশুরকে মাড়াই কলে ফেলে একটু একটু নিঙরব, চুঁই চুঁই করে রস বেরোবে। শ্বশুরমশাইকে সরাসরি নয় পরোক্ষ চাপ মারব অর্থাৎ মেয়েকে নিঙারব, রস ছাড়বে মেয়ের বাপ। মেয়ে আঁ আঁ করবে, মেয়ের বাপ টাকা ছাড়বে। শ্বশুর হল দুধেল ষাঁড়। চ্যাঁক চোঁক দুইব। শ্বশুরমশাই অক্ষম হলে, দুটো রাস্তা ১।। বউ বিদায়, মারো ঘাড়ে রদ্দা। ২।। নয়তো ঝুলায়ে দাও।
ওই দেখো ডারলিং
টিনে ভরা কেরোসিন তেল
পাশে শোভা পাচ্ছে
দেশলাই খোল।
আবার ওই দেখো পাখা
ঝুলছে দোপাট্ট,
কোনটা প্রেফার করো!
পুড়বে না ঝুলবে!
ননদ, শ্বাশুড়ি সব এককাট্টা
টাকা, টাকা নয় তো টাটা।
ওই যে তোমার শ্বশুর
ওই শ্বশুরে না ছাড়লে তেল
দেখবে এই শ্বশুরের
ছেলের খেল,
ট্রা লা লা লা।।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন