শীত

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

কতরকমের দুর্ভাবনা মানুষের, শীত কেন পড়ছে না। জনে জনে প্রশ্ন, শীতের কী হল বলুন তো মশাই? আবহাওয়াটা কি একেবারেই বদলে গেল? পোষ মাস শেষ হতে চলল। আর কবে শীত আসবে! কথায় আছে আধা মাঘে কম্বল কাঁধে। ভয় দেখাবার মানুষের অভাব নেই শীত না পড়ার মানে বোঝেন, পকস। মায়ের দয়ায় সব উজাড় হয়ে যাবে। হয় শীতের দয়া না হয় মায়ের দয়া। শীত না আসুক শ্বাসকষ্টের রোগীরা যথারীতি কাতর হয়ে পড়েছেন। ধুলো আর ধোঁয়ায় ঘনঘন হাঁচি। মধ্যরাত পর্যন্ত বিছানায় খাড়া বসে। শ্বাসে প্রশ্বাসে মাউথ অরগ্যান। ওষুধের কম্ম নয়। সভ্যতার হাঁসফাঁসানি শেষ রাতে অটোমেটিক্যালি সাবসাইড করবে। সিভিলাইজেশনের দীর্ঘশ্বাস। লক্ষ লক্ষ চুলা বাতাসে ধোঁয়া উগরে গেছে, সারাদিন হাজার হাজার গাড়ি ফুঁসে গেছে, একজস্টড ফিউম, তুলে গেছে ধুলোর ঝড়। শীত না আসুক বাতাস ভারী হয়েছে। বিষাক্ত চন্দ্রাতপের তলায় জীবনের ছটফটানি। সেমিনারে সেমিনারে বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে রোমহর্ষক সব হুঁশিয়ারি। ক্যানসার রোখে কে? প্রতি শ্বাসে ফুসফুসের ঝিল্লি অঙ্গার কণিকায় কালো হচ্ছে। কত আর নাকে রুমাল চাপা দিয়ে মৃত্যুদূতকে ঠেকানো যায়!

শীত কোন দিক থেকে আসে! উত্তরবঙ্গের পথ বেয়ে না রাজধানীর দিক থেকে! শীত না আসাটা কি কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ না দার্জিলিং-এর ঘিসিং আন্দোলন। অথবা পাক পরমাণু বোমা, কি চিনের কোনও আণবিক কেরামতি! অত্যন্ত দুর্ভাবনার মধ্যে দিন কাটছে। যত অনিষ্টের গোড়া আমাদের লেজে পড়ে থাকা বঙ্গোপসাগর। চাপের গোলমালে হিমালয়ের হিমেল বাতাসকে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছে।

শীত এখন স্মৃতি! কলকাতায় সেই শীত সত্যিই আর পড়ে না। লাজুক মেয়ের মতো উঁকিঝুঁকি মেরে সরে পড়ে। আমার বয়েস তখন খুবই কম। তবে প্রবীণ মানুষদের নানা কিছু বলার মতো, আমিও বলতে পারি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ আমি দেখেছি। শীতের রাতে দোতলার ঘেরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাতিবাগানে জাপানি বোম পড়া আমি দেখেছি। ফুটফুটে চাঁদের আলোয় চরাচর ভেসে যাচ্ছে। হঠাৎ আকাশ গুমরে উঠল। যেন এক ঝাঁক ভ্রমর কাছেই কোথাও উড়ে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ আগুনের করাতে আকাশ চিরে গেল। পরক্ষণেই একটা গম্ভীর শব্দে জানলার শার্সি, আলমারির কাচ কেঁপে ঝনঝন করে উঠল। পুরোনো বাড়ির ভিতরের ছাদ থেকে খসে ঝরে পড়ল চুন আর বালি। বড়রা হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন একতলার জানলাহীন গুদামঘরে। যে ঘরে আমরা অন্য সময় ভয়ে ঢুকতাম না। ড্যাম্প লেগে দেওয়ালে নোনা ধরে গেছে। সেই ঘরের শীতল মেঝেতে জড়াজড়ি করে বসে আছে গোটা পরিবার। টিমটিম করে বাতি জ্বলছে কেঁপে কেঁপে। ওই ঘরে ছিল অসংখ্য ইঁদুর, ছুঁতো আর কয়েক হাজার লাল লাল স্বাস্থ্যবান আরশোলা। একটি শিশুর কাছে জাপানি বোমার চেয়েও ভীতিপ্রদ ছিল আরশোলা। জ্যাঠামশাইয়ের গরম চাদরের তলায় গুটিসুটি মেরে বসে থাকতুম। আরশোলা ওড়াওড়ি করত। মৃত্যুর মতো শীতলতা চারপাশ থেকে চেপে আসত। জ্যাঠামশাই আমাকে বুকের উষ্ণতায় চেপে ধরে বলতেন, ভয় নেই বাপি। এখুনি অল ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

অল ক্লিয়ারই হয়ে গেছে। ভালোবাসার যাঁরা ছিলেন, বুকে টেনে নিয়ে অভয় দেওয়ার যাঁরা ছিলেন তাঁরা অল ক্লিয়ার করে চলে গেছেন। স্মৃতিটুকুই কেবল পড়ে আছে। আপনজন ঘিরে না থাকলে শীতের মাধুর্য খোলে না। শীতে একা আর কফিনে শুয়ে মাটির তলায় চলে যাওয়া একই অভিজ্ঞতা। বিশাল খাটে রোদ-ফোলা নরম গরম বিছানা। রাতের তরিবাদি খাওয়া শেষ। উত্তরের বারান্দায় হিমশীতল জলে কোনওরকমে হাত ধোয়া। উত্তুরে বাতাসে বুকের ভেতরটা গুড়গুড় করে কেঁপে উঠছে। বড়রা বলছেন, জলে যেন হাত ঠেকানো যাচ্ছে না। হাত কেটে নিচ্ছে। যাদের দাঁত খারাপ তাঁরা কুলকুচো করার জন্যে মুখে জল নিয়েই, বাবারে, বলে লাফিয়ে উঠছেন। সাবধানী, স্বাস্থ্য-বাতিকগ্রস্ত গুরুজন মহিলাদের কেউ বলছেন, খোকার হাতটা ধোয়ার পর ভালো করে দেখো, শীতের ভয়ে গামছাতেই এঁটো হাত মুছে দেবে। ছেলেবেলায় আমরা তাই করতুম। কোনওরকমে হাত মুছে হিহি করতে করতে সোজা বিছানায়, একেবারে লেপের তলায়। ওরে! পা মোছ, পা মোছ। আর পা মোছ। পায়ের দায়িত্ব লেপের ওয়াড়ের। বিছানায় সাদা চাদরে শীত লেগে আছে। গায়ের গরমে গরম না হওয়া পর্যন্ত একটা কুঁইকুঁই ভাব। মুখে লেগে আছে, শীতের ফুলকপির স্বাদ। এখনও ফুলকপি আছে। সে স্বাদ নেই। কেমিকেল সারে স্বাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফুলকপির সঙ্গে কড়াইশুঁটি এক দুর্লভ পাওনা। যেমন পায়েসের সঙ্গে কিসমিস। সে যুগের নতুন আলু তারও কোনও তুলনা ছিল না। খোসা ওঠা ওঠা এক অনবদ্য আকর্ষণ। শুকনো দমের ঘ্রাণ এখনও যেন নাকে লেগে আছে। সেকালের শৈশব একালের মতো মাথায় তোলা আদরে ভরপুর ছিল না। অভিভাবকরা বলতেন, ছেলেদের একটু কষ্টের মধ্যে রাখতে হয়, মানুষ করতে হয়। হাতে এক আনাপয়সা এলে আমাদের মনে হত কী বড়লোক। এক পয়সা, দু-পয়সা চাঁদা তুলে শিশুদের বনভোজন। শীতের মাঠে সোনা রোদ। ঝোপের আড়ালে মিষ্টি গরমে, ইটের উনুনে আলুর দম। আমার দিদি অল্পবয়েসেই পাকা রাঁধুনি হয়ে উঠেছিল। সেই রাঁধত। শালপাতায় পরিবেশন। এক-একটা আলুতে লেগে থাকত অদ্ভুত পানসে স্বাদ। নতুন আলুর বৈশিষ্ট্য। পাতাটাকে চেটেচুটে তেলা করে ফেলতুম। তাই দেখে আমার দিদি তার ভাগ থেকে একটু ভাগ দিত। ঝালের চোটে ওই শীতেও আমাদের নাকের ডগায় ঘাম জমত। শীত গেছে। শৈশব গেছে। দিদি গেছে। স্মৃতি নিয়ে পড়ে আছে পাকতেড়ে এক বৃদ্ধ।

সময়ের সেতু যত বড়ই হোক মন তাকে ইচ্ছে মতো ছোট বড় করতে পারে। শৈশব নামক নদীর ওপারটি যত দূরই হোক তাকে ইচ্ছে করলেই নাগালে আনা যায়। মনে হয়, এই তো সেদিন। এই তো সেদিন আমাদের দোতলার ঘরে সাদা বিছানায়, সাদা লেপের তলায় শুয়ে আছে শিশুটি। পাশে শাল মুড়ি দিয়ে বালিশে আড় হয়ে আছেন জ্যাঠামশাই। যিনি সারাদিনে দুটি পান খেতেন। সকালে আর রাতে খাওয়ার পর। সামান্য একটু জর্দা। সেই গন্ধে মনে একটা সুখ সুখ ভাব হত। জ্যাঠামশায়ের মুখটা যত না কাছে তার চেয়েও বেশি কাছে মনে হত। তিনি মজার মজার সব গল্প শোনাতেন। সেই গল্প শুনে মেয়েরা সব হাসাহাসি করত। গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতায় সন্দেহ প্রকাশ করত। গঙ্গার ব্রিজের ওপর দিয়ে মালগাড়ি যাওয়ার একটানা গুম গুম শব্দ উত্তুরে বাতাসে ভেসে আসত। মনে মনে ভাবতুম, ইঞ্জিনের ড্রাইভার তবু আগুনের কাছে আছে; কিন্তু গার্ডসায়েবের কতই না শীত করছে। গাড়ির শব্দ লেপের তলা থেকে আমার মনটাকে তুলে নিয়ে যেত, দূরে বহুদূরে। জামতাড়ায়, মধুপুরে, দেওঘরে, কারমাটারে, শিমুলতলায়।

শীতে বাইরে যাওয়ার রেওয়াজ তখন বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারে খুব চালু ছিল। এখন হয়েছে পুজোয়। বাঙালির আর একটি প্রিয় জায়গা ছিল সাহেবগঞ্জ। পাহাড় ঘেরা ছোট্ট একটি শহর। পাশে বয়ে চলেছে গঙ্গা। সেখানে আবার ছিল নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ। এখনও হয়তো আছে। সন্ধেবেলা পাহাড়ের মাথায় ফুসফুসি ঘাসে কারা আগুন ধরিয়ে দিত। কাচের ঘরে বসে মাংসওয়ালা মাংস বিক্রি করত। সকালে ঘি চপচপে মোহনভোগ খেয়ে বড়দের হাত ধরে মাইলের পর মাইল শুধু হাঁটা। পাহাড়ি নদীর মজা বুকে গোল গোল নুড়ি আর চুনাপাথর। চলতে পা হড়কে যেত। এমন শীত যে গলাবন্ধ অলেস্টার পরেও যুত হত না। মাথায় হনুমান টুপি। গলায় মাফলার। পায়ে মোজা। কিছুক্ষণ হাঁটার পরই, নাকে জল। নিজের আঙুল গলার কাছে ঠেকালেই ছ্যাঁক করে উঠত।

শীতে একবার গড়ের মাঠ, ইডেন গার্ডেন, এখন অদৃশ্য কার্জন পার্ক আর চিড়িয়াখানায় যাওয়া হতই। সঙ্গে খাবার আর অজস্র কমলালেবু। চিড়িয়াখানার ঝিলে অজস্র হাঁস। বেতগাছের ঝোপের পাশে শতরঞ্জি বিছিয়ে রোদে বসা। কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে এক একটি কোয়া মুখে ফেলা। শীতের সঙ্গে রোদ্দুর রঙের কমলালেবুর গন্ধের একটা আত্মীয়তা আছে। লেবুর কোয়ার ফুল বের করে খাওয়া ধৈর্যের ব্যাপার হলেও এক ধরনের বিলাসিতা। আমার পরিবারের সুন্দরী মেয়েরা কোথায় চলে গেলেন আমাকে ফেলে। আমার মা, জ্যাঠাইমা, দিদি। নীল রঙের ফুল হাতা সোয়েটার, সিল্কের শাড়ি, মাথায় সিল্কের স্কার্ফের ঘোমটা। পায়ে ডোরাকাটা পামশু। শীত এলেই মেয়েদের দেহত্বক আরও তেলা, আরও শুভ্র হয়ে উঠত। মরা মরা চিড়িয়াখানা এখনও আছে। ঝিলে আর তেমন পাখি নামে না। মিলিয়ে গেছে শীতের দুপুরে আমার প্রিয়জনদের উচ্ছল হাসি। সেই জমিটুকু আছে, সেখানে পঞ্চাশ বছর আগে পৌরুষের দুপুরে সুখী একটি পরিবার গিয়ে বসত। রোদ মোলায়েম হতে হতে সময় গিয়ে উঠত গাছের মাথায়। বিছানো খবরের কাগজ শীতল হয়ে আসত। গুটি গুটি সবাই এগিয়ে যেত গেটের দিকে। ঘাসের ওপর থেকে তুলে নিত গরমজামা।

আমাদের ছাদে ঢালু চিলের ছাদ ছিল। অনেকটা বাসে থাকা চিলের মতো। তারই ছায়ায় মাদুর পেতে শীতের দুপুরের অংক কষা। শ'খানেক বড় বড় টবে নানা বর্ণের চন্দ্রমল্লিকা ফুটে আছে। সেকালের অনেক বাড়িতেই চন্দ্রমল্লিকার চর্চা ছিল। প্রখর শীতের যাদুতে চন্দ্রমল্লিকার রূপ খোলে। এই জাপানি ফুলকুমারীকে দিয়ে শীত মাপা যায়। শীত যখন সময়ের পথ গড়িয়ে মাঝামাঝি চলে যায় তখন আসর সাজাতে আসে ডালিয়াকুমার। তখন শীত ছিল, মানুষের শখ ছিল, খোলামেলা ছাদ ছিল। ছাদে ছাদে ছিল ফুলের বাহার হেলিকপ্টার নামার জন্যে যেমন প্যাড চাই, সেইরকম শীত নামার জন্যে চাই বড় ছাদ আর সবুজ মাঠ। একালের মানুষের জীবন থেকে ছাদের বিলাসিতা হারিয়ে গেছে। মাঠ হারিয়ে গেছে কংক্রিটের জঙ্গলে। অধিকাংশ মানুষই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা। ছাদ পড়ে থাকে তালাবদ্ধ।

শৈশবে আমার জীবনে একটা ছাদ ছিল। সেই ছাদের তলায় ছিল শীতের লেপের নরম উষ্ণতার মতো স্নেহভরা এক পরিবার। হাসি ছিল, গান ছিল, গল্প ছিল। সদলে বেড়ানো ছিল। ছাদে রোদে বসে তেলমাখা, সেই রোদে বসে স্নান। পায়ে জড়িয়ে যেত ছাদের কালো কালো বালি। ঠান্ডা শরীর ধীরে ধীরে রোদের তাপে গরম হত। মনে হত ক্রমশই সজীব আর সতেজ হয়ে উঠছি। শরীরের ত্বক থেকে উঠত জীবনের গন্ধ।

চিলের ছাদের ছায়ায় বসে বিদ্যাচর্চা। পাশেই ফুলের মেলা। রোদ যেন বর্ণ ঢালছে, নেশা ঢালছে, চন্দ্রমল্লিকার পাপড়িতে। মাঝে মাঝে ভ্রমর আসত স্কুলের হেডমাস্টারের মতো পর্যবেক্ষণে। ডেঁও আর লাল পিঁপড়ে আসত সার দিয়ে লোভীর মতো খাদ্যের সন্ধানে। ছুটছাট প্রজাপতিও আসত নেচেনেচে। আমাদের এলাকায় ঘুড়ি উড়ত সরস্বতী পূজার সময়। ঘুড়ির খুব নেশা ছিল। পূজার এক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত। আর পূজার দিন আকাশ ছেয়ে যেত রং-বেরংয়ের ঘুড়িতে। ঘুড়ি মানুষের চোখকে আকাশলগ্ন করে। নীলের নেশায় বুঁদ করে দেয়। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দ্বিপ্রহরের আকাশের দিকে চোখ মেললেই দেখা যেত লাট খাচ্ছে চাঁদিয়াল, পাক মারছে চিল। সেকালে আবার ঘুড়ি বেড়ে প্রেম হত। আমাদের পাড়ার পাকা ছেলে বিজয় ঘুড়ির গায়ে লিখলে, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারপর সেই ঘুড়িটাকে নামিয়ে দিলে বোস বাড়ির ছাদে। আলসেতে দাঁড়িয়ে ছিল সুন্দরী উত্তরা। রোদে চুল শুকোচ্ছিল। ভালোবাসার বদলে বিজয়ের বরাতে জুটল অভিভাবকের জুতোপেটা।

শীতের ভোরে ঘরের জানলা খোলাটাও ছিল বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। কোনও কোনও দিন জানলা খুলেই অবাক। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সব ধোঁয়া। আকাশ বাতাস যেন জমে গেছে। কুয়াশা, কুয়াশা বলে চিৎকার চেঁচামেচি। কথা বললেই মুখ দিয়ে ভলভল করে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। জানালার বাইরে অদৃশ্য হাতের পাঁচিল তৈরি হয়েছে রাতারাতি। রাস্তায় মাফলারে মাথা ঢেকে কে চলেছে বোঝা দায়। সবাই যেন আততায়ী। রুটির গাড়ি চলেছে কফিনের মতো। বড়রা বলছেন—লণ্ডন-ফগ। আমরা কথা বলছি ভলকে ভলকে ধোঁয়া। মনে মনে ভাবছি সায়েব হয়ে গেছি।

অনেক অনেক পরে কুয়াশার জাল ছিঁড়ে ভেজা ভেজা রোদ গরাদ গলে লাল মেঝেতে পিওনের ফেলে যাওয়া চিঠির মতো এসে পড়ল। ইস্ত্রি করা নির্ভাজ নীল আকাশে গলগলে আনন্দের মতো ঝাঁক ঝাঁক পায়রা। ছেঁড়া মাকড়সার জালের মতো কুয়াশা তখনও ঝুলে আছে, ঝোপে ঝাড়ে, মাটির কাছাকাছি। আমরা ছুটে যেতুম ঘাসের ডগায় শিশিরের নোলক দেখতে। সবুজ, ভেলভেটের মতো বহু বর্ণ কচুপাতায় টুসটুস করছে বিশুদ্ধ শিশিরের ফোঁটা। হাঁসেদের শীত নেই। পুকুরের সবুজ জলে পেছন উলটে উলটে চান করছে। প্যাঁক প্যাঁক ডাকে প্রভাত মুখর। গরুর দুধ দোয়া হচ্ছে। দুধ থেকেও ধোঁয়া বেরুচ্ছে।

শীত কি সত্যিই পড়ে না? না, বহুদিনের বেঁচে থাকার কর্কশ অভিজ্ঞতায় প্রবীণদের চামড়া গণ্ডারের মতো পুরু আর অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে! বাসন্তী রঙের উল জড়ানো, রাঙা টুপি মাথায় তিনমাসের টাটকা শিশুটি প্রবীণ পিতার বুকের কাছে। তার চোখ দুটো যেন নীলকান্ত মণি। তার আপেলের মতো গালে আমার ভাঙা গাল ঠেকালুম। কী, ঠান্ডা! নিশ্বাসে পবিত্র দুধ-দুধ গন্ধ। শীত কি তাহলে আছে। প্রবীণের বুকে ধরা পবিত্র শিশুটির মতো।

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%