বয়েসে

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

রোজ সকালে বিষ্ণুবাবু কী করেন? ঘুম থেকে ওঠেন। না, বিষ্ণুবাবু রাতে ঘুমোতে পারেন না। অতএব ঘুম থেকে ওঠার কোনও প্রশ্নই নেই। তবে, হ্যাঁ, বিছানা ছাড়েন। বিছানা ছাড়েন সংসারের গুঁতোয়। তাঁর শোওয়ার ঘরের বাইরের জগৎ হইহই করে জেগে ওঠে। গোটাকতক নাতি নাতনি। গোটা দুয়েক পুত্রবধূ। গোটাতিনেক ডাকসাইটে ছেলে। একটি মুখরা ঠিকে-ঝি। সঙ্গে ততোধিক মুখরা তার মেয়ে অ্যাসিসটেন্ট। সব মিলিয়ে এক বিচিত্র কনসার্ট। ঐক্যতান নয়, অনৈক্যতান।

বিষ্ণু বারকতক চা চা করে দরজা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বাইরেটা দেখে নেন। দরজার বাইরে করিডর প্রশস্ত দুদিকে। একদিকে ছড়ানো জুতো, ঝ্যাঁটা, হাত মোচড়ানো আলুর পুতুল। অন্যদিকে খানকতক বই, খাতা পেনসিল আর একটি চেয়ারে বসে থাকা অসহায় একটি চরিত্র। এ বাড়ির গৃহশিক্ষক। বিষ্ণুবাবু শুধু চায়ের প্রত্যাশী। গৃহশিক্ষক ভদ্রলোককে দেখলে দু:খ হয়। তিনি ছাত্র-ছাত্রী দুটোরই প্রত্যাশা নিয়ে ঠায় বসে থাকবেন। কোনও কোনও দিন দুটোই পেয়ে যান। কোনও কোনও দিন একটা। কোনও কোনও দিন একটাও না।

চায়ের কী হল রে! দরজার বাইরে বাইরে দাঁড়িয়ে একবার হাঁক মেরেই বিষ্ণুবাবু ঘরে ঢুকে গেলেন। নিজের আধোআলোকিত ঘর অনেক ভালো। বাইরেটা বড়ো বেশি পরিষ্কার স্পষ্ট। 'হোওচ্ছে' রান্নাঘর থেকে একটা কর্কশকণ্ঠ উড়ে এল। বড় বউয়ের গলা। বিষ্ণবাবু তিনবার হাঁকবেন। এর মধ্যে চা এল এল, না এল তো ভাঁজ করা একটা বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন। অবশ্য ক্যালেন্ডারে একটা দাগ মেরে রাখবেন। হিসেবটা থাকা চাই কদিন চা পেলেন আর কদিন পেলেন না।

'কোই কী হল', গৃহশিক্ষকের তৃতীয় হাঁক। 'ওরে মেথা কোথায় গেলি, মাস্টার বসে আছে।' ইস, সেই মাস্টার! বিষ্ণুবাবু সিটকে গেলেন। কতদিন বলেছি মাস্টার নয়, মাস্টারমশাই। বাড়ির দুটো বউই জানোয়ার! ছোটটার বউ আনার সময় বেশ বাজিয়ে আনতে হবে। ও একদিনের দেখায় ঠিক চেনা যায় না! ছদ্মবেশে বাড়ির আনাচে কানাচে দিবারাত্র ঘুরতে হয়। তবেই মা লক্ষ্মীদের আসল রূপ ধরা যায়। মাছের কানকো তুলে দেখার মতো এক ঝলকের দেখায় জিনিস ঠিক বোঝা যায় না। ঠকে মরতে হয়। আজকাল আবার কানকোতে আলতা মাখানো থাকে।

'কী হল চায়ের?' জামার গলার বোতাম লাগাতে লাগাতে বিষ্ণবাবু দ্বিতীয়বার তাগাদা লাগালেন। এক কাপ চা করতে হাতে সব পক্ষাঘাত হয়। জটলা হচ্ছে মা লক্ষ্মীদের । সবকটার গলা শোনা যাচ্ছে কিন্তু চা হাতে এদিকে আসার গরজ কারুর নেই। মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না। একটু পালটে নিই, মানুষ বৃদ্ধ না হইলে উপেক্ষিত হয় না। দরজা দিয়ে আর একবার গলাটা বাড়ালেন। এ কী! মাস্টারমশায়ের পাশে একটা খালি কাপ রয়েছে মনে হচ্ছে! তার মানে! আমারটা ভুলেই মেরে দিয়েছে। বিষ্ণুবাবু গুটি গুটি শিক্ষক মশায়ের কাছে এগিয়ে গেলেন। কী মশাই চা পেয়েছেন? করুণ মুখে ভদ্রলোক বললেন, 'আজ্ঞে না। চা, ছাত্রী, কোনওটাই আসেনি!' বিষ্ণুবাবুকে খালি কাপের দিকে তাকাতে দেখে বললেন, 'ওটা বোধহয় কালকের। কাল সকালের কাপটা।'

'কেন আসেন আপনি? কী জন্য আসেন?' অসহায় ভদ্রলোককে বিষ্ণুবাবুর সোজা প্রশ্ন কড়া প্রশ্ন।

'পড়াতে আসি।'

'কে পড়ে? দায়টা কার, আপনার, না যে পড়ে তার?'

'আজ্ঞে যুগটাই তো পালটে গেছে। পড়াশোনায় সব তেমন মন নেই। মায়েদেরও শাসন কমে গেছে।'

'বাপেরা কী করছে? বগল বাজিয়ে বংশবৃদ্ধি করছে? কাল থেকে আর আসবেন না আপনি।'

'খাব কী? ছেলে ঠেঙিয়েই তো সংসার চলে। ভাত ভিক্ষে।'

'তবে মরুন। হাঁ করে বসে থাকুন।' বিষ্ণুবাবু গজগজ করতে করতে নিজের ঘরে এসে ঢুকলেন।

বেলা আটটার মধ্যে বাজার ফেলতে না পারলে ছেলেরা খেয়ে বেরোতে পারবে না। চায়ের জন্য বাজারের দেরি, এ যুক্তি সংসার মানবে না। বিষ্ণুবাবুর পিণ্ডি চটকে দেবে। চাকুরে ছেলে বলে কথা! সংসার মাথায় করে রেখেছে। তার আদর আগে, না অবসর ভোগী বুড়ো বিষ্ণুর আদর আগে।

সেই বিষ্ণুবাবু চায়ের অপেক্ষা না করেই ব্যাগ হাতে বেরিয়ে পড়লেন বাজারের জন্যে। টাকাটা রাতের বেলাতেই বিষ্ণুবাবু নিয়ে রাখেন। চশমার খাপে ভরে রাখেন, হিসেবটা এখনও মা লক্ষ্মীরা চায় না। তবে মাঝে মাঝে কানে আসে, এ কী বাজার! একটা মাত্র কপি! ওমা, এই কটা আলু, সে কীরে ছোটো! দ্যাখ বড়, মাছের টুকরোটা! তারপর থেকেই বিষ্ণুবাবু বাজারের থলেতে প্রতিটি জিনিসের 'কেজি প্রতি দাম' গ্রাম এবং দাম মন্তব্যসহ একটি চিরকুটে লিখে ভরে রাখেন। যেমন মাছ (কাটা পোনা) ১৮ টাকা কেজি দরে দুশো গ্রাম (আঁশসহ) ৩ টাকা ৬০ পয়সা। গতকল্য ষোলো টাকা ছিল। ফুলকপি প্রতিটি ৫৫ পয়সা হিসেবে দুটো ১ টাকা ১০ পয়সা। গতকল্য প্রতিটি ৫০ পয়সা ছিল। একবার ভেবেছিলেন বাজারের দায়িত্বটা ছেড়েই দেবেন। তারপর ভাবলেন, না, শ্রমের বিনিময়েই পাত পাতবেন। বলতে যেন না পারে বুড়ো বসে বসে ভাত মারছে।

পাড়ার চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একবার ভাবলেন, শীতের সকাল এক কাপ চা খেলে মন্দ হয় না। তারপরই মনে হল জীবনে যা কখনও করেননি তা এই বয়েসে কী করে করবেন। চ্যাংড়া ছেলে-ছোকরার সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে চা খাবার বয়েস চলে গেছে।

ধোঁয়া ওঠা কেটলির দিকে তাকাতে তাকাতে বিষ্ণুবাবু বাজারের পথে পা বাড়ালেন।

সাদা ধবধবে সোয়েটারের ওপর ঘি রঙের গরম চাদর। মাথার সব চুলই প্রায় ধবধবে সাদা। পায়ে চকচকে জুতো। সবাই ভাবেন বৃদ্ধের কী সুখ। তিন চাকুরে ছেলে, দু বউ। আহা, কী সুখের সংসার।

বিষ্ণুবাবুর বাড়ি থেকে গৃহশিক্ষক বেরিয়ে এলেন শুকনো মুখে বিরক্তি নিয়ে। মনে তার গজগজানি, সামান্য টাকার জন্য ভদ্রলোকের কী হেনস্তা। পান বিড়ির দোকানে টাবু সবে সিগারেট ধরিয়েছিল। তাড়াতাড়ি লুকিয়ে রেখে দোকানের মালিককে বলল, 'উরে বাপরে, কত বড় মানী লোক, ওঁর মতো শিক্ষক এ তল্লাটে ছিল না। আমার বাবাকে উনি পড়িয়েছেন। এখন অবশ্য বয়েস হয়েছে। তাহলেও।'

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%