দক্ষিণ যেন বিলেত

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

বড় অপদস্থ হয়ে ফিরে এলুম। বিলেত থেকে নয়, আমাদেরই এই কলকাতার দক্ষিণাঞ্চল থেকে। উত্তর কলকাতার ছেলে। কে জানত ছাই, চুলে তেল মাখা একটা মস্ত বড় অপরাধ। নুইসেনস। আমাদের উত্তরাঞ্চলের সাবেক প্রথা, মাথার ব্রহ্মতালুতে নারকোল তেল থাবড়ে, সর্বাঙ্গে সরষের তেলের প্রলেপ মেরে নিত্য স্নান। তা তেল চুকচুকে ফুলেল বাবুটি হয়ে আমার এক সহপাঠীর বাড়িতে প্রথম গেছি। খোদ বালিগঞ্জে তাদের বাড়ি। গরম কাল। বেশ ঘেমেছি। ঝুলপির পাশ দিয়ে তেল চুকচুকে একটু ঘামও নেমেছে। মুখটাও মনে হয় চকচক করছে।

যাই হোক বাইরের ঘরের সোফায় স্থান হল। প্রথম গেছি! একটু আড়ষ্ট ভাব। একে একে পরিবারের সকলে এলেন। আমার সেই বন্ধুর মা, তার বোন, ছোট ভাই। বাবাও একবার এসে উঁকি দিয়ে গেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারলুম, আমাকে সবাই দেখছেন। অনেকে আবার এসে এসে দেখে যাচ্ছেন। ছোট বড় সবাই। আমি এখানে একটা সোফায় আমাদের কলকাতার চিড়িয়াখানার মোহনের মতো বসে আছি। মোহন সেইসময় খুব বিখ্যাত হয়েছিল। শিম্পাঞ্জি মোহন। শুধু দেখা নয়, মুচকি মুচকি হাসছেনও। ব্যাপারটা কী ঠিক বুঝতেও পারছি না।

শেষে আমার বন্ধু বললে, 'তুই চুলে অত তেল মেখেছিস কেন! যাত্রার দলের অধিকারীদের মতো। পাতা কেটে চুল আঁচড়েছিস। গোলাপফুল আঁকা একটা টিনের সুটকেস নিয়ে সাইকেল রিকশায় চেপে কোলে একটা টোপর, যেন নসীপুরের গোপাল বিয়ে করতে চলেছে।' খিলখিল হাসি। সুন্দরী সুন্দরী মেয়েদের সামনে আমার সে কী করুণ অবস্থা। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখটা একবার মুছে নেব, সে সুযোগও আর রইল না।

সেই প্রথম আমার শিক্ষা হল চুলে তেল মাখলেই দক্ষিণের কেতায় তুমি ব্রাত্য। তুমি হরিজন। উত্তরের চুল আর দক্ষিণের চুলে অনেক ফারাক। উত্তরের মেয়েরা সাবেক প্রথায় বিশ্বাসী! চুলে তেল তো দিতেই হবে। নিয়মিত আঁচড়াতে হবে, টান টান করে বাঁধতে হবে। দক্ষিণের কি ছেলে কি মেয়ে, গোঁফের আমি গোঁফের তুমি নয়, চুল দিয়ে যায় চেনা। দক্ষিণের কালচার হল শ্যাম্পু কালচার। এক মাথা কটা কটা চুল বাতাসে উড়বে। ঝোড়ো কাকের মতো হয়ে যাবে। তেলের অভাবে ঊর্ধ্ববায়ু রোগ হলেও ফ্যাশানের সঙ্গে কম্প্রোমাইস করা যাবে না। মাথা আগুন। ফাঁকে ফাঁকে খুসকি। পেকে যাক, পড়ে যাক, টাক পড়ে যাক সেও ভি আচ্ছা, চুলে তৈল নাস্তি। উত্তরের প্রবীণা দক্ষিণের নবীনাকে কাছে পেলে আদর করে বলবেন, 'মা চুলে একটু তেল দিস না কেন? জটে বুড়ি, পাগলি পাগলি চেহারা করে রেখেছিস।'

দক্ষিণ কলকাতাই প্রথম সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে, পেছন দিক থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই কে ছেলে আর কে মেয়ে। উত্তরের বনেদি মানুষ ট্রাম থেকে নামবেন। বললেন, 'দেখি মা আমাকে একটু যেতে দাও।' হেঁড়ে গলায় উত্তর, 'যান না। ঠেলে চলে যান।' বৃদ্ধ নামতে নামতে বললেন, 'বাবা এ যে দেখি পরশুরামের লালিমা পাল, পুং।' উত্তর কলকাতায় স্ত্রীলিঙ্গ পুংলিঙ্গ সহজে আলাদা করা যায়। উত্তরে ছেলেরা মেয়েদের মতো সুললিত চারুকারু-কলার মতো, ফিনফিনে, মিনমিনে হলে খুব একটা গৌরবের হবে না। সকলেই এক বাক্যে বলবেন, মেনিমুখো, এফিমিনেট। আবার মেয়েরা ছেলেদের মতো লাজলজ্জাহীন, মুখরা, চোটপাট, গায়ে পড়া হলে, উত্তরের মানুষ বলবেন, দজ্জাল। ছেলে ছেলে ভাব।

দক্ষিণ যত দ্রুত বিলেত হতে পেরেছে, উত্তর পারেনি। এখনও পারেনি। পারবেও না। প্রাোটেস্টান্ট আর ক্যাথলিকদের মতো উত্তর কলকাতার কালচারাল প্রাোটেস্টান্টরা দক্ষিণে মাইগ্রেট করেছেন। দক্ষিণের অহঙ্কার হল কলকাতা বলতে দক্ষিণেকেই বোঝায়। এক সময় কল্লোল গোষ্ঠীর লেখকরা রবীন্দ্রভাবমুক্ত হওয়ার জন্যে গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায় খুব বোল্ড হয়ে উঠেছিলেন। জীবনের এমন সব কথা লিখতে আরম্ভ করেছিলেন যাকে বলা চলে এক ধরনের দু:সাহস। অনেক বাধা, বিধিনিষেধ তাঁরা ফেলে দিয়েছিলেন। দক্ষিণ কলকাতায় একটা 'ফেলা কালচার' শুরু হয়। প্রথমে মেয়েরা চুল ফেলে দিলেন। সত্যিই বুকের পাটা আছে বলতে হবে। কত সাধনায় চুল বাড়ে। সেই চুল প্রথমে হল ডগা ছাঁটা, তারপর হল 'বব', শেষে বয়কাট। উত্তরের মেয়েদের অত দু:সাহস নেই। এখনও চুলের মোহে মোহগ্রস্ত। সামান্য এক বিঘত চুল ফেলতে তাদের দ্বিধা যেন সন্ন্যাস নিয়ে সংসার ত্যাগের দ্বিধার মতো।

তারপরের ফেলায় কোপ পড়ল মেয়েদের জামায়। কাঁধ থেকে ব্লাউজের হাতা অ্যামপুট। কোমরের দিক থেকে চলে গেল এক রাউন্ড। শ্রী আর শ্রীমতী দুজনেই স্যান্ডো। উত্তরবাসী ব্যঙ্গ করলেন, 'ইঞ্জেকশন' হাতা। দুটি প্রাণীর সুবিধে হল, কম্পাউন্ডার আর মশা। ধরো আর ফোটাও। রোল ইওর স্লিভস বলতে হবে না।

উত্তর কলকাতার যুবকদের চেয়ে দক্ষিণের যুবকরা অনেক সুখী। অনেক বেশি শরীর ও রূপ সচেতন। নারসিসিস্ট বলব কি না ভাবছি। কলকাতার ওই তল্লাটে 'বিউটি স্লিপ' বলে একটি প্রথার প্রচলন আছে। দুপুরে আহারাদির পর ছোট্ট একটি ঘুম। ঘুম থেকে ওঠার আগে মাথাটা খাট বা ডিভান থেকে কিছুক্ষণ ঝুলিয়ে রাখা। উদ্দেশ্য চোখ মুখ একটু ফোলা ফোলা তপতপে করে তোলা। কারণ দক্ষিণে প্রেম একটু বেশি। রাতে যেমন চৌকিদার রোঁদে বেরোয় সেই রকম যুবকরা বিকেলে মেলামেশায় বেরোয়। লেক আছে, পার্ক আছে, গড়িয়াহাটের মোড় আছে দক্ষিণের ছেলেরাও সাজতে জানে। মুখে পাউডার তো মাখেই। ঠোঁটে হালকা করে লিপস্টিক মাখলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। উত্তমকুমার মাখতেন। সেই তুলনায় উত্তরের ছেলেরা চাষা।

জামা-কাপড়েও দক্ষিণের একটা নিজস্ব ব্যাপার আছে। সাধারণ কাপড়ে জামা প্যান্ট তৈরি তো সবাই করে। দক্ষিণের উদ্ভাবনী শক্তি অনেক বেশি। পরদা কেটে পাঞ্জাবি। লুঙি কেটে বুশ শার্ট। চট কেটে ফুলপ্যান্ট। যে যত উদ্ভট সাজপোশাক করতে পারবে সে তত বেশি ইন্টেলেকচুয়াল। দক্ষিণ কলকাতায় গামছা একটা নিষিদ্ধ আইটেম। ব্যবহারের তালিকায় গামছা, খাদ্যের তালিকায় পোস্ত, মুড়ি বাতিল। তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু বাঁদিপোতার গামছা কেটে পাঞ্জাবি করলে হই হই পড়ে যাবে। ফুলপ্যান্টের সঙ্গে পাঞ্জাবি পরার ফ্যাশান সাউথ থেকেই মনে হয় এসেছে। ফুল প্যান্টের সঙ্গে ফিতে বাঁধা শু পরলে সবাই ছি ছি করবে গ্রাম্য বলে। পরতে হবে স্লিপার। কিন্তু প্যান্ট পাঞ্জাবি কম্বিনেশনের সঙ্গে স্পোর্টস শু চলতে পারে। তাঁতের শাড়ি আর হ্যান্ডলুমের জামার কাপড় হল দক্ষিণী কালচারের অঙ্গ। সিন্থেটিক শাড়ি, বিশেষ করে পলিয়েস্টার প্রায় অচল। জামার তলায় গেঞ্জি পরার প্রথা উঠে যাচ্ছে। পাঞ্জাবির বুকের বোতাম লাগানো গ্রাম্যতার লক্ষণ। দক্ষিণী স্টাইলের পাঞ্জাবিতে বোতাম ঘর না রাখাটাই ফ্যাশান। জামার তলা থেকে লোমওলা বুক অল্প একটু উঁকি মারবে।

উত্তরবাসীদের শোওয়ার কোনও নির্দিষ্ট পোশাক নেই। যা হয় একটা কিছু পরে শুলেই হল। দক্ষিণবাসীদের চাই স্লিপিং স্যুট। সব ব্যাপারেই একটু নায়ক নায়ক, উত্তমকুমার উত্তমকুমার ভাব আছে। চান করে একটা বাথস্যুটের বা তোয়ালে গাউনের কোমরের দড়িতে ফাঁস বাঁধতে বাঁধতে বেরিয়ে আসার দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়বে। উত্তর কলকাতার স্নানের দৃশ্য বেশ অশালীন। তোয়ালে বা গাউন এখনও ঢোকেনি। তোয়ালের চেয়ে গামছা অনেক ভালো, বেশি হাইজিনিক। এইরকম একটা ধারণা উত্তরবাসীর মধ্যে প্রচলিত আছে। সেই গামছা পরে উদোম হয়ে স্নান করায় বেশ একটা তৃপ্তি খুঁজে পায় উত্তরতলির মানুষ। উত্তরের মানুষের লজ্জাশরম একটু কম। তেমন কেতাদুরস্ত নয়।

ডাইনিং টেবিলের চল দক্ষিণেই হয়েছে আগে। উত্তরে এঁটোকাঁটার বিচার একটু বেশি। মাটিতে থেবড়ে বসে যতটা জমিয়ে খাওয়া যায়, ডাইনিং টেবিলে ঠিক ততটা হয় না। এই সেদিন পর্যন্ত উত্তরের ঘরে ঘরে কাঁসার থালা, ঘটি, বাটি, গেলাসেরই চল ছিল বেশি। ইদানীং স্টেনলেস ঢুকে পড়েছে কিন্তু পোরসিলেন খুবই কম। উত্তরের খাবার বেড়ে দেওয়া হয়। দক্ষিণে খেতে খেতে বাঁ-হাতে তুলে নিতে হয়। এই প্রথায় অপচয় কম হয় ঠিকই কিন্তু ঘাঁটা চটকা ঠেকাঠেকির একটা ব্যাপার থেকে যায় যা উত্তরের গৃহিণীরা অপছন্দ করেন। স্ট্যাটিসটিকস নিলে দেখা যাবে উত্তরে সংসার এখনও তেমন ফ্রিজনির্ভর হতে পারেনি। তারা টাটকা খাবারে বিশ্বাসী। ফ্রিজ থেকে ঠ্যাং বেরোবে। বরফ কঠিন মাছের মৃতদেহ বেরোবে, তিন দিন আগে রান্না ডাল তরকারি বেরোবে, উত্তরবাসীর সেটা পছন্দ নয়। উত্তরের মানুষ রোজ বাজার করবে, দক্ষিণের মানুষ তিনদিনে একদিন।

উত্তর কলকাতার মানুষ আঙুলের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, দক্ষিণে মানুষ চামচে নির্ভর। চামচে দিয়ে সিঙ্গাড়া খেতে গিয়ে খোল নলচে আলাদা হয়ে যায়। খোল একদিকে পুর আর এক দিকে। ছুরি কাঁটা দিয়ে চারাপোনার ডিসেকশন উত্তরের পাকা সার্জেনেরও সাধ্যে কুলোবে না। দক্ষিণের ট্রেনিংটাই আলাদা! সকালবেলা গলার টাগরায় ডান হাতের তিনটে আঙুল পুরে অ-অ শব্দে জিভ ছোলা, ফচাত ফচাত কুলকুচো। দানবীয় পুরুষালি ভাব। দক্ষিণের মানুষ দাঁত মাজার বুরুশ ধরেন শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি ধরার কায়দায়। কেতাবি ক্রিকেটের মতো দাঁতে ব্রাশ চালান কেতাবি কায়দায়। নীচে থেকে ওপর। ওপর থেকে নীচে। কষের দাঁতে বৃত্তাকার ছন্দ। উত্তরের ঘেসর ঘেসর নয়। উত্তরের মানুষ দাঁত মাজছে না বাসন মাজছে ছাই আর শালপাতা দিয়ে বোঝা মুশকিল। উত্তর একটু লাউড। দক্ষিণ একটু সফট। জীবনের সব ব্যাপারেই বেশ একটা পালিশ আছে যাকে ইংরেজিতে বলা চলে ফিনিশ। সেই কারণে উত্তরের সংসার যেন সময় সময় ফেটে পড়ে। ঝগড়া-ঝাঁটির সময় শিক্ষা দীক্ষার সব বাঁধন-টাঁধন খুলে পড়ে যায়। সেখানে যা কিছু ঘটে সব সিনসিয়ার অ্যান্ড অরিজিন্যাল। দক্ষিণের সব ব্যাপারে একটা দক্ষিণী মোড়ক থাকে। উত্তরের কেউ রেগে গেলে, ঝট করে সরোষে বলে ফেলবে, মারব জুতো। দক্ষিণ সেই একই কথা বলবে মোলয়েম করে। মৃদু সুরে বলবে, 'আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি। লুজিং টেম্পার। পা থেকে জুতোটা খুলে তোমার গাল দুটোয় এক রাউন্ড লেদার মাসাজিং করে দিলে খুব অন্যায় হবে কি? এক্সকিউজ মি, তুমি একটা জেনুইন শূকর শাবক।' সাউথ যা কিছু ছাড়ে বেশ ফিনিশ করে ছাড়ে। দক্ষিণের স্বামী যদি স্ত্রীকে ধরে পেটাতে চান, তাহলে স্ত্রীকে বলবেন, 'এক্সকিউজ মি। তুমি কাইন্ডলি একটু বেডরুমে এস। হ্যাঁ, এবার পরদাগুলো টেনে দাও। নাও, গেট রেডি। মুখে একটা মাফলার জড়াও। ইট ইজ বিটুইন ইউ অ্যান্ড মি। সিলি সোয়াইন।' এক চড়। দক্ষিণের জীবন খুব মাপা। ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট ধস্তাধস্তি। টি এস এলিয়ট সায়েবের কথায়, 'কফি স্পুন'-এর জীবন। আই হ্যাভ মোজারড আউট মাই লাইফ উইথ কফি স্পুনস। এরপর কর্তা রবীন্দ্রনাথের আফ্রিকা আবৃত্তি করতে লাগলেন। গিন্নি বসে গেলেন হারমোনিয়াম নিয়ে। অল্প অল্প কান্না জড়ানো গলায় গাইতে লাগলেন—এই কথাটি মনে রেখো, আমি যে গান গেয়েছিলাম। দক্ষিণের বধূ হত্যা বিছানায় জড়ানো থাকে খাটের তলায়। পুলিশ এসে দেখতে পায়, ঘরে পারিবারিক ভোজসভা চলেছে, কি সাঁইভজন হচ্ছে। উত্তরে এখনও কালীঘাটের পটের জীবন চলেছে। চুলির মুঠি ধরে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে এল দাওয়া থেকে ঘরে। চিৎকার, চেঁচামেচি। লোক জড়ো হয়ে গেল। দক্ষিণের মানুষ খাঁদা। কেউ কারুর ব্যাপারে নাক গলায় না। যে যার সে তার। উত্তরে তা নয়। উত্তরের জীবনে পরচর্চা এখনও একটা রিয়েল চার্ম। কলকাতা দূরদর্শনের এক পরিচালক বলেছিলেন ভারী সুন্দর কথা, দক্ষিণের মেয়েদের কোনটা যে কথা আর কোনটা যে কথার কথা বোঝা দায়।

উত্তর কলকাতার ঘর সংসার এখনও এলোমেলো। ইন্টিরিয়ার ডেকরেশন নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নেই। যা হয় একটা হলেই হল। জিনিসপত্র যেভাবে হোক রাখলেই হল। খুব ফাংশানাল। ফ্রি ফর অল। ঘর অনুযায়ী ফার্নিচার, অথবা স্পেস প্ল্যানিং-এর কোনও ব্যাপার নেই। খাটের ছতরি থেকে গামছা ঝুলে আছে। চেয়ারের ওপর ডাঁই করা জামাকাপড়। টেবিলের ওপর এলোমেলো বই। ঘরের কোণে পুরোনো কাগজের তাগাড়। খাটের তলায় ভাঙা কাঠকুঠো। ঘুঁটে কয়লা কেরোসিন বেরলেও আপত্তির কিছু নেই। ঢাউস একটা কি দুটো স্টিল আলমারির সিকিউরিটি নিয়ে সংসার। সব ফ্যামিলিতেই আলো বাতাস বন্ধ করে খাড়া জগদ্দল। দক্ষিণে বসবাসের মহা হ্যাপা। জানলায় জানলায় পেলমেট চাই। সার সার পরদা চাই। ঘরের দেওয়ালের সঙ্গে রং মিলিয়ে বিছানার চাদর, পর্দা, এটা ওটার ঢাকা। বসার ঘরে এক টুকরো কার্পেট চাই। আজকাল আবার একটা রবার গাছ চাই। রোজ সকালে ছোট ছেলেকে যেমন মা চান করান সেই রকম রোজ সকালে রবার গাছের পাতা বুরুশ দিয়ে ঝেড়ে, তেল জল দিয়ে চুকচুকে করে দিতে হবে। তা ছাড়া সারা ঘরে আরও অনেক হুজ্জোত ছড়ানো থাকবে। দক্ষিণের মানুষ কারুশিল্পের ভক্ত। দেয়ালে মাদুর। দরজার পর্দার টিংলিং ঘণ্টা। ও দেওয়ালে মুখোশ। সে দেওয়ালে একটা পেতলের থালা। বাইরের ক্যাবিনেটের ওপর মনসার ঝাড়। কোণের দিকে বাঁকুড়ার পাঁচমুড়ার গলা উঁচু পোড়া মাটির ঘোড়া। সোফায় গোল ঢাকা, চৌকো চার কোনা পিঠ বালিশ। নানা ঝঞ্ঝাট নিয়ে উস্তমখুস্তম অবস্থা। ঝুল আর ধুলোর সঙ্গে নিত্য লড়াই। এরপর লাল নীল মাছের অ্যাকোরিয়াম হল গোদের ওপর বিষফোড়া। আজকাল আবার একরকমের লোমওয়ালা কুকুর বেরিয়েছে। ঘরে ঘরে ওই কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। লোমের পরিচর্যায় দিন কাবার।

বাংলা বর্ণমালায় তিনটে স আছে। শ, ষ, স। দক্ষিণ সব স-কেই তালব্য শ করে ফেলেছে। নাটকে নায়িকা নায়ককে বলছে, শ্যোনো, শ্যোমেন তুমি শ্যোমার শ্যঙ্গে শ্যুখে থাকো আমি শ্যেলদা থেকে ট্রেন ধরে শ্যামনগর চলে যেতে পারব 'দক্ষিণ কলকাতার বাঙলা উচ্চারণের বেশ একটা মজা আছে। ড়-এর উচ্চারই বেশি। যেমন আমড়া কড়েছি আমাদের কাজ। তোমড়া কড়ো তোমাদেড়। দক্ষিণ কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব উত্তরের চেয়ে অনেক বেশি। জোড়াসাঁকোর দুধারে এখন যাত্রাপাড়ার দাপাদাপি। উত্তর এখনও ওই—সতীর কোলে পতির পুণ্য, সিঁদুর দিও না মুছে, এইসব নিয়েই মেতে আছে। উত্তরের সংস্কৃতি ভোলাময়রা, গিরিশচন্দ্র, অহীন্দ্র চৌধুরী, শিশির ভাদুড়ীতেই প্রাণ পায়। খেয়াল, টপ-ঠুংরি, টপ্পা, খেমটার সঙ্গে বেশি একাত্ম হতে পারে। রবীন্দ্রনাথ উত্তরের মানুষ হয়েও আসন পেতেছেন দক্ষিণে। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষার যত ভালো প্রতিষ্ঠান সব দক্ষিণে। আর রবীন্দ্রসদন ও অ্যাকাডেমি পড়ে আছে নর্থ সাউথ গ্রেট ডিভাইডের ওপর। রবীন্দ্র প্রভাবে দক্ষিণের বাচনভঙ্গি একটা স্বতন্ত্র ঘরানা পেয়েছে। একসময় পাজামা, গেরুয়া পাঞ্জাবি আর ঝোলা ব্যাগ ছিল সাউথের জার্সি। এখন হয়েছে জিনিস। যার ভেতরের ফ্ল্যাপে ছোট ছোট করে লেখা আছে ডোন্ট ওয়াশ, সিম্পলি ব্রাশ।

সাউথের ট্যাক্সি চাপা দিয়ে তরজার দরজা বন্ধ করি। ট্যাক্সির চালক বললেন, 'সাউথের ট্যাক্সি চাপা কীরকম জানেন। খুকু চাপা। একটি ছেলে একটি মেয়ে। ট্যাকসি-ই। এই ট্যাক্সি। আপনারা উত্তরের লোকেরা ওভাবে ডাকতেই পারবেন না? এর পরে, যাবে কত দূর জানেন? এ মোড় থেকে ও মোড়।'

স্ট্র্যান্ড রোডের অফিস থেকে দুই বন্ধু বেরোলেন। দুজনেরই বাড়ি সাউথে। ট্যাক্সি ধরলেন। গাড়ি চলেছে। দুজনেরই চোখ মিটারে। কালীঘাট যেই পেরিয়েছি দুজনেই এক সঙ্গে চিৎকার করে উঠলেন, স্টপ, স্টপ। ড্রাইবার চমকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক। বাড়ি তখনও মাইল দুই দূরে। বাকি পথটুকু হেঁটে। একে বলে হিসেবির ট্যাক্সি চাপা। পনেরো টাকা যাব, কি কুড়ি টাকা যাব, সেটা ঠিক করে গাড়িতে ওঠা। পুরো পথের কথা ভাবার দরকার নেই।

উত্তর চিরকাল বেহিসেবি। সেই বাবু কালচারের ট্র্যাডিশন। খেয়ে, খাইয়ে, উড়িয়ে পুড়িয়ে ফাঁক। চালাও পানসি বেলঘরিয়া। দক্ষিণের জীবনে ফিনিশ আছে, পালিশ আছে, ফিনফিনে ভাব আছে। চুলে শ্যাম্পু, মুখে পাউডার পাফের হালকা পোঁচ, গায়ে সেন্ট। কায়দার কথা; কিন্তু বড় হিসেবি। মেলামেশায় কেতাবি ভদ্রতা। কিপলিং-এর অনুকরণে বলা যায় নর্থ ইজ নর্থ, সাইউ ইজ সাউথ, কানেকটেড বাই আন্ডার গ্রাউন্ড রেল। পুজোর সময় উত্তর এসে গড়িয়াহাট লুটেপুটে নিয়ে যাবে। উত্তরের মানুষ এখনও ওড়ে বেশি। বাসা না থাক ডানা আছে। দক্ষিণ বসে আছে দাঁড়ে, কাকাতুয়া হয়ে। তবে একটা জিনিস লক্ষ করছি, উত্তরের মানুষের একটু নাম হলেই তাঁরা দক্ষিণে উঠে যাচ্ছেন। দক্ষিণ যেন কলকাতার বিলেত। কত ফ্রিডম, কত ফেসিলিটি!

যত সুখ সাউথে, বলে যাঁরা ওই তল্লাটে গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন বা জাতে উঠেছেন তাঁরা জানেন উত্তরের জীবনের ঘন বুনোন ওখানে নেই। এর বাড়ির মোচার তরকারির সঙ্গে ওর বাড়ির বড়ির ঝালের আদানপ্রদান হয় না। একটা গল্পের মতো সত্য ঘটনা বলি। দক্ষিণে বড় বড় চাঁই অফিসারদের জন্যে সুদৃশ্য ফ্ল্যাট আছে। আমার পরিচিত শ্রী সেনগুপ্ত অসুস্থ শুনে দেখতে গেছি। পাশাপাশি অনেক ফ্ল্যাট। খুঁজে খুঁজে শ্রী সেনগুপ্তর ব্লকটি পেলুম। সিঁড়ি ভেঙে তিনতলায়। ডানপাশে একটি ফ্ল্যাট বাঁ পাশে একটি ফ্ল্যাট। সেনগুপ্ত থাকেন বাঁয়ে। আমি ভুল করে ডানদিকের কলিংবেলের বোতাম টিপলুম। উগ্র চেহারার এক ভদ্রলোক দরজা খুলে ছিটে গুলির মতো প্রশ্ন ছুড়লেন—'হুম ডু ইউ ওয়ান্ট।' পরনে মানিক পিরের মতো ড্রেসিং গাউন। থতোমতো খেলেও বিশুদ্ধ বাংলায় জিগ্যেস করলুম, 'মিস্টার সেনগুপ্ত আছেন?'

'হু ইজ মিস্টার সেনগুপ্ত?'

আমি পুরো নাম ও তাঁর পরিচয় দিলাম। ভদ্রলোক বললেন, 'সরি, আই কান্ট টেল। সপাটে দরজা বন্ধ করে দিলেন। ঘুরে দাঁড়াতেই দেখি উলটো দিকের দেওয়ালে শ্রী সেনগুপ্তর নেম প্লেট। এপাশে গাঙ্গুলি ওপাশে সেনগুপ্ত। সেনগুপ্তকে বললুম, 'কী আশ্চর্য, মিস্টার গাঙ্গুলি আপনাকে চেনেন না?

মিস্টার সেনগুপ্ত চিবিয়ে চিবিয়ে ভুরু কুঁচকে বললেন, 'হু ইজ গাঙ্গুলি?'

এই হল দক্ষিণ।

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%