সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

সাতচল্লিশে দেশ যখন স্বাধীন হল, তখন আমরা স্কুলের ছাত্র। সেই বছরেই পরীক্ষায় রচনা এল, ১৫ আগস্ট উনিশশো সাতচল্লিশ। জানা ছিল, এই রকম একটা কিছু আসবেই। স্বাধীনতার জন্যে তেমন প্রস্তুত না থাকলেও রচনার জন্যে আমরা প্রস্তুত ছিলুম। কী লেখাই লিখেছিলুম! হাঁসফাঁস করে খাওয়ার কথা শুনেছি। এমন হাঁসফাঁস করে স্বাধীনতার কথা এখন আর লিখতে পারব না।
বয়েস বেড়েছে। বুদ্ধি পেকেছে। চোখ খুলেছে। হাড়ে হাড়ে বুঝেছি, স্বাধীনতা কাকে বলে। দেশের সঙ্গে, দেশের মানুষের সঙ্গে, কেতাবি স্বাধীনতার কোনও যোগ নেই। অর্থনীতির সঙ্গে নেই, শিল্পের সঙ্গে নেই, কৃষির সঙ্গে নেই, সেচ ব্যবস্থার সঙ্গে নেই, পরিবহনের সঙ্গে নেই, সাধারণ মানুষের অবস্থার সঙ্গে নেই। ওই রচনা লিখতে দিলে এখন একটু অন্যরকম লিখতুম।
স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করার স্বাধীনতা। শ' দুয়েক বছর ধরে আমরা শাসিতই হয়েছি। তার আগে প্রায় শ' সাতেক বছর ধরে দেশে মোগলাই খেল চলেছে। সেই খেলায় আমরা একটি তাজমহল, আর কুতুব মিনার পেয়েছি। পেয়েছি লালকেল্লার র্যামপার্ট। চোদ্দোই আগস্ট রাতে বেতারে পেয়েছি দেশবাসীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ। যে ভাষণের বক্তব্য সেই একই কথা আগে বাড়ো, বিদেশি শত্রুর দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখো, একতাবদ্ধ হয়ে দেশের জন্যে ত্যাগ আর কষ্ট স্বীকার করো। বিজ্ঞান এগিয়ে চলেছে, আমাদের স্যাটেলাইট বিদেশি রকেটের মাথায় চেপে, মহাকাশে উঠে, এ যুগের সরকারি কর্মচারীর মতো অর্ধেক দায়িত্ব পালন করেই ঠান্ডা মেরে গেছে। শিল্প এগিয়ে চলেছে, মাঠে হু হু করে সেচের জল না নামুক, বেকারের প্লাবন বইছে। চুরি, ঘুষ বন্ধ না হলেও ধর্মঘটে শিল্প প্রায় অচল। বন্ধ কলকারখানার ফাঁকা গুদামে খ্যাঁকশেয়াল ডাকছে। অন্য কোথাও রেকর্ড করতে না পারলেও মহারাষ্ট্রের কাপড়ের কলের ধর্মঘট লাগাতারের নজির সৃষ্টি করেছে। সৎ মানুষ প্রাণধারণের তাগিদে সমাজবিরোধী হয়েছে। বহু পরিবার আত্মহত্যা করেছে। তাতে অবশ্য সিনেমার সেলুলয়েডে অর্ধনগ্ন সুন্দরীদের নাচ বন্ধ হয়নি। নায়কদের মুখে বিপ্লবের বাণী। রাগি ছোকরারা কোটি টাকার ফিলমে, পরিচালকের নির্দেশে কথায় কথায় ঘুষি আর গুলি চালাচ্ছে, চিৎকার করে বলছে ঃ সমাজকো বদল ডালো। নায়িকার চোখে প্রেমের চুমকি চিকচিক করছে। বিদেশি গাড়ি থেমে নেমে ঝুপড়ির নায়কের গলায় মালা ঝুলিয়ে শিল্পপতি পিতাকে বলছে—মোহব্বত কা দুশমন। ওদিকে টিকিটের লাইনে ব্ল্যাকারদের চাকু চলছে। সাধারণ মানুষ তিনঘণ্টার স্বপ্ন দেখে, তিনটি টাকা খুইয়ে শূকরের আস্তানায় এসে, শুখা রুটি আর লোটাভরা জল খেয়ে, নায়িকার সেক্সের কথা ভাবতে ভাবতে নিজের শীর্ণ স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে, নেমে আসছে পথে, উপচে পড়ছে। জনসংখ্যাবিদরা হায় হায় করছেন : প্লিজ, আর বেড়ো না। বেতার, টিভি, কাগজ, হোর্ডিং, পোস্টার, অ্যাড ফিলম, সর্বত্র নিরোধ আর নিরোধ। সেনসার কর্তৃপক্ষ মাথার চুল ছিঁড়ছেন, পর্দায় চুম্বন চলবে না, চলবে না। ওদিকে দক্ষিণ ভারত থেকে তেড়ে আসছে ব্ল্যাকনাইট, রোডসাইড ইন। কৃষিতে আমরা এগিয়ে চলেছি। তবু স্বাধীনতার আগে যুদ্ধের সময় যে রেশন ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তা আজও চালু রয়েছে। কলকাতার মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে—পশুখাদ্য নয়, মনুষ্যখাদ্য দাও। পুষ্টিবিদরা বলেছেন, আয়ু আর স্বাস্থ্যের গোপন কথা হল ব্যালেন্সড ডায়েট। শিশুমৃত্যুর হার এত বেশি কেন, কেন এত মানুষ অন্ধ, স্বাস্থ্যের এই দুরবস্থা কেন? ডিম খাও, ছানা খাও, প্রাোটিন খাও টিন টিন, ভিটামিন ভুলো না। ফলের রস খাও গেলাস গেলাস। সব শেষে স্থির হল বুকের দুধ। সফিস্টিকেটেড ম্যাগাজিনের মসৃণ পাতায় সাত হাজার টাকার বিজ্ঞাপনে, সুন্দরী রমণীর দুগ্ধ ভারাক্রান্ত স্তনে শিশুর ঠোঁট। ম্যাগাজিনের কাটতি বেড়ে গেল—বড়িয়া সেক্স জী।
পনেরোর সকালে মোগলাই ফোর্টের র্যামপার্টে বড়িয়া খেল। প্রধানমন্ত্রী পতাকা তুলবেন। পায়রা ওড়াবেন। ফরেন ডিগনিটারিজরা গম্ভীর মুখে বসে থাকবেন। তোপ গর্জন করবে। ভাষণে শোনা যাবে আবার সেই হুঁশিয়ারি। তারপর শুরু হবে প্যারেড, শুরু হবে ইউনিটি ইন ডাইভারসিটির ট্যাবলো। প্রাদেশিক নৃত্য।
ওদিকে সারা ভারত একতার জ্বলন্ত নিদর্শনে জ্বলছে। ঘর বাড়ি, গ্রাম, মানুষ ছারখার। মোগল আমলের শেষের দিকে দিল্লির মসনদের শক্ত বাহু নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। ভারত সন্ধিতে সন্ধিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে শাসনক্ষমতার মুঠো থেকে খুলে খুলে পড়ে গিয়েছিল। দিকে দিকে শুরু হয়েছিল সামন্তরাজাদের দাপট। খেয়োখেয়ি। ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে। কেন্দ্রের মুঠো আজ শিথিল। জাতির জনক এতকাল রাজঘাটে বাৎসরিক বিস্তৃতির তলায় চাপা ছিলেন। প্রথামত একটি ছুটি, আর ফুলের স্তবক এই ছিল আমাদের আদর্শপরাণতার প্রাণহীন ভণ্ডামি। সায়েব অ্যাটেনবরো তাঁকে এতদিন পরে টেনে তুলেছেন। নেহেরুর ব্যক্তিত্বের চুম্বকশক্তিতে যে দেশ ধরা ছিল, বাষট্টির ইন্দোচিন যুদ্ধের পর সে শক্তি ক্রমশ তিরোহিত হয়ে, ধীরে ধীরে এ এক ধরনের অরাজকতায়, দেশ এখন বিক্ষত। ছত্রিশটি দল বসে বসে কালনেমির লঙ্কাভাগ করছে। দূর থেকে বিদেশিরা হাসছে, আর লিখছে—বাহ ভারত, শক্তিশালী এক জাতি। হাতে আনবিক শক্তি, আকাশে নিবন্ত হলেও উপগ্রহ ঘুরছে, সীমান্তে সদাজাগ্রত শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী। আকাশে ন্যাট, মির্যাজ, সমুদ্রে নৌবহর। একচক্ষু হরিণের আত্মরক্ষার আয়োজন। বিষফোঁড়া ঠেলে উঠছে ভেতর থেকে। সকলেই স্বপ্ন দেখছে গদির। রাজ্য ভেঙে ভেঙে, টুকরো টুকরো হচ্ছে। যত রাজ্য বাড়বে, তত মুখ্যমন্ত্রী বাড়বে, বাড়বে মন্ত্রীর সংখ্যা।
সকলে মিলে দেশটাকে একদিকে টানলে এতদিনে কোথায় এগিয়ে যেত। সকলেই টানছে, তবে গলায় দড়ি বেঁধে বিভিন্ন দিকে। ভারতমাতার চোখ কপালে উঠে গেছে। আধ হাত জিভ বেরিয়ে এসেছে। বাঙলায় একটি প্রবাদ আছে—ভাগের মা গঙ্গা পায় না।
গণতন্ত্র এখন মস্তানতন্ত্রের চেহারা নিয়েছে। যে যা করছে, সবই বিপ্লবের ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছে। দেওয়ালে পেচ্ছাব করাটাও এখন বিপ্লব। পণের টাকার দাবিতে বউ পুড়িয়ে মারা—সেটাও বিপ্লব। অপোনেণ্টের গলায় চাকু—সেটাও বিপ্লব। কেতাবে কয়েছে, ডেমক্রেসিতে হেলদি অপোজিশান ভীষণ প্রয়োজন। অপোজিশান হল জাগ্রত আঁখি। শাসকদলকে স্বৈরাচারী হতে দেয় না। শাসকদল প্রায় সর্বত্রই এখন পাঁচমিশেলি পঞ্চরঙ্গ আচারের মতো। ক্ষমতায় আসার জন্যে জোড়াতালি ব্যবস্থা। পরস্পর পরস্পরকে ব্ল্যাকমেল করে টিঁকে থাকার চেষ্টা। স্বার্থে সামান্য আঘাত লাগলেই কাঁচের বলের মতো ভেঙে পড়ে যায়। নির্বাচনের আর সে পবিত্রতা নেই। নেতাদের আর তেমন শ্রদ্ধা নেই। রাজনীতি এখন পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি। দেশের মানুষকে প্রথমে কলা খাওয়াও, তারপর কলা দেখাও। সাধারণ মানুষ আর নেই, আছে দলের সমর্থকরা। এ দলে ও দলে লাগাতার সংঘর্ষ। কে যে কার শত্রু, সহজে বোঝা যাবে না। চাপে চাপে প্রশাসন অচল। কিছু না করাটাই প্রশাসনিকদের পক্ষে সবচেয়ে নিরাপদের। আগে হত কথার লড়াই, কাগজের লড়াই, এখন হয় দৈহিক লড়াই।
ক্রমশই আমরা টেকনিক্যাল হয়ে উঠছি। অন্য শিল্প তলিয়ে গেলেও বোমশিল্প, পাইপগানশিল্প, চাকুশিল্পের এখন রমরমা। সাধারণ মানুষের হাতও বেশ খুলে গেছে। মানুষ মারার নানা পদ্ধতি বেরিয়েছে। ভাগলপুর থেকে এসেছে চোখ উপড়ে নেওয়ার আওয়াজ। সান অফ দি সয়েল বা মাটির সন্তান, এই দাবিতে যা খুশি তাই করার দৃষ্টান্ত ক্রমশই একটা ধর্মীয় প্রথার মতো হয়ে উঠছে। ম্যাগাজিনের সমস্ত সংস্করণ গায়েব করে আসামের কলঙ্ক কি মোছা যাবে! রাজনীতির নামে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। অনগ্রসর শ্রেণির স্বার্থ দেখার নামে নিজেদের স্বার্থ খুঁজছেন অনেকে। অর্ধনগ্ন, আত্মবলে বলীয়ান এক মানুষ, ইংরেজের মতো এক শক্তিকে অহিংস পথে কাবু করলেন। সেই শূন্যতায় আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল একদল পামর। সহিংস, নারীঘাতী, শিশুঘাতী, গদিলোভী মানুষ। এই নাকি বুদ্ধের দেশ, জৈন তীর্থঙ্করের দেশ, শ্রীচৈতন্যের দেশ!
এমন অদ্ভুত শূন্যতা আর কোনও কালে দেখা যায়নি। প্রবীণেরা বলেন ইংরেজদের আমলে লাল ফিতে, ঘুষ, দুর্নীতি সবই ছিল; কিন্তু সাধারণ কিছু অ্যাডমিনিস্ট্রেশানও ছিল। চোর চুরি করতে ভয় পেত, ডাকাত ডাকাতি করতে ভয় পেত। খুনি খুন করে সকলের সামনে দিয়ে এখনকার কালের মতো বুক ফুলিয়ে, সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে হিরোর সম্মানে ঘুরে বেড়াবার সাহস পেত না। যে ঘুষ নিত, সে কাজও করত। স্বাধীনতা আমাদের হাতে কিছু না করার স্বাধীনতা তুলে দিয়েছে। আবার সেই প্রবাদ, 'ভালো করতে পারি না, মন্দ করব, কী দিবি তা বল।'প্রশাসনে শাসন নেই। ওষুধে ওষুধ নেই, হাসপাতালে হাসপাতাল সেই, দুধে দুধ নেই, ঘিয়ে ঘি নেই, তেল তেলে নেই, তকমায় ক্ষমতা নেই। সবচেয়ে মজার কথা—মানুষে মানুষ নেই।
এ যুগ হল ধরা-করার যুগ। রেলের টিকিটের জন্যে টাউট ধরতে হবে। চাকরির জন্যে মামা ধরতে হবে। পারমিট আর লাইসেন্সের জন্যে চামচা ধরতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডমিশানের জন্যে নেতা ধরতে হবে। এমনকি হাসপাতালে বেড পেতে হলে, আগে বড় একজন ডাক্তারকে আশি কি একশো টাকা ফি গুণে দিয়ে তাঁর রুগি হতে হবে। তিনি ব্যবস্থা করে দিলে তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে একটি বেড মিলবে। পথের মানুষ পথেই মরবে। ধনীর জন্যে নার্সিহোম! গরিবের ওপর হাত পাকাবে ছাত্রের দল। তারা হল সবরকম পরীক্ষার মানুষ, গিনিপিগ। দেশের অর্ধেক নতুন মানুষ জন্মাচ্ছে ফুটপাথে, ঝুপড়িতে। সমাজবিরোধীদের সাঁড়াশি অপেক্ষা করে আছে। একটু সাবালক হলেই তুলে আনবে গলা ধরে। 'গরিবি হটাও' ছিল গালভরা স্লোগান। বুঝতে ভুল, শুনতে ভুল হয়েছিল—গরিবি হটাও নও, গরিব হটাও।
জমিদার উচ্ছেদ হয়েছে, রাজন্যভাতা বন্ধ হয়েছে। হলে কী হবে—জোতদার আর মজুতদার এসেছে। দু'নম্বরি শিল্পপতিরা দু'হাতে কালোটাকা ওড়াচ্ছে। ইনফ্লেশানে সাধারণ মানুষ দিশাহারা। প্রতিবছরের বাজেট এক আতঙ্ক। করভারে জর্জরিত। দুর্নীতি আর অপশাসনের খেসারত দিতে হবে খেটে-খাওয়া মানুষকে। গৌরী সেনের টাকায় যারা নাচার, তারা নেচে যাবে। পাঁচ তারার বলরুমে সেমিনার হবে! মাইলের পর মাইল পরিকল্পনা টাইপ হবে আর যাদের জন্যে ডেমোক্রেসি, তাদের পরনের শেষ বস্ত্রখণ্ড খুলে পড়ে যাবে। এ এক উলঙ্গ রাজার দেশ। সবাই ক্রশবিদ্ধ যিশু।
এক সময় নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে মানুষের রাতের ঘুম চলে গিয়েছিল। দুর্বল মোগল শাসনের সুযোগে ঠ্যাঙাড়ে, ফাঁসুড়ে আর বর্গীর হামলায় দেশ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠেছিল। চেহারা আর নাম পালটে তারাই আবার ফিরে এসেছ। পুলিশের খোঁচড় প্যালা আদায় করছে মোড়ে মোড়ে। মাস্তানরা তোলা তুলছে হকারদের কাছ থেকে। পুজোর নামে চাঁদার উৎপাত। মোড়ে মোড়ে ছিনতাই পার্টি। দেশ উন্নত হয়েছে। ছেনতাইবাজ ছোকরারা মোটর গাড়ি চেপে কারবার চালাচ্ছে। ডাকাতি সহজ ব্যাপার। ব্যাংক সাফ করতে মিনিট পনেরো সময় লাগে, বাড়ি হলে আর একটু ধীরে সুস্থে। প্রতিরোধের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পুলিশ বড় ব্যস্ত। প্রতিবেশী ভীত। বেশ দেখেশুনে, গুছিয়ে-গাছিয়ে, ঝেড়েবেছে মাল প্যাক করো। যুবতী মেয়ে থাকলে সেক্স করো। ফ্রিজ খুলে একটু পান ভোজন করো। তারপর বাইরে এসে উষার আকাশের দিকে তাকিয়ে দুটি বোমা ফাটিয়ে, নতুন দিনের আগমন ঘোষণা করে, বেড়াতে বেড়াতে যে যার ক্যাম্পে ফিরে যাও।
অবশ্যই আমরা উন্নত জাতি, সায়েবরা আমাদের 'নেটিভ' বলে লাথি মারত। এখন ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া বাদামি সায়েবরা সারা দেশটাকে ফাঁক করে বেড়াচ্ছে। বিদেশিরা লিখত, 'সিটিজ অফ স্কাইস্ক্র্যাপারস অ্যান্ড স্প্রলিং স্লামস।' বদলায়নি কিছু। আকাশ ফুড়ে মাথা তুলেছে অ্যাপার্টমেন্ট, সেলামি একলাখ, ফ্ল্যাটের দাম তিনলাখ। তাও কাড়াকাড়ি। এরা কারা? কোথা থেকে আসছে এত টাকা? ইনকাম ট্যাক্স জানে? ভিজিলেনস খবর রাখে? বিজ্ঞাপনে উড়ছে সুন্দরীর শাড়ির আঁচল, জাঙ্গিয়া পরা সুন্দর মস্তান গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। তার হাতে রিভলভার, কাঁধে মাথা রেখেছে ভারতীয় নারী। একটা জায়গায় আমরা আমেরিকাকে ধরে ফেলেছি। আকাশচুম্বী বাড়ির খোপে খোপে ফ্রি সেক্স, ওম্যানস লিব। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি পাঁচজনের একজন সিফিলিটিক। সাকশান পদ্ধতিতে পাঁচ মিনিটে অ্যাবরশান।
আজ থেকে সতেরো বছর আগে গিরিডির এক সরল টাঙ্গাওয়ালা আমাকে বলেছিল—সায়েব, দেশে আমাদের তিন কিসিমের ডাকুর রাজত্ব চলেছে। এক সফেদ ডাকু, দুই কালা ডাকু, তিন পিলা ডাকু। ব্যাখ্যা করেছিল সুন্দর। সফেদ মানে যারা খদদর পরে রাজনীতি করছে। কালা মানে কালোবাজারি। পিলা মানে গেরুয়াধারী ধর্মগুরু। যে বলেছিল, তার বয়েস তখন অনেক। আজ আর সে বেঁচে নেই। যদি থাকত, তাহলে সে কি অন্য কিছু বলত! মত কি পালটাত!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন