সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আচ্ছা, এইবার তোমরা একটু মন দিয়ে শোনো। আজ আমি সমাজ-সংস্কারক রামমোহন সম্পর্কে তোমাদের কিছু বলব। সেই বিরাট পুরুষ উজ্জ্বল একটি জ্যোতিষ্কের মতো ভারতের আকাশে উদিত হয়েছিলেন'—দোতলার ঘরে নিরঞ্জনবাবু ক্লাস নিচ্ছেন। আর কয়েকমাস পরেই অবসর নেবেন। বয়সের ভারে স্থবির। অবশ্য এই বয়সেই মানুষ এতটা অথর্ব হয়ে পড়ে না। নিরঞ্জনবাবুর সমসাময়িক সুদর্শনবাবু, কিংবা কর্নেল সুরেশবাবু এখনও যেন তরুণ। টাটকা মদের মতোই ফেনিল। সুদর্শনবাবু আইসিএস। এখনও ঝড়ের বেগে গাড়ি চালান। কলকাতার সুইমিং ক্লাবে কস্টিউম পরে সাঁতার কাটেন। সকালে ময়দানে গলফ খেলেন। কর্নেল সুরেশবাবু সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার আগেই, ভবিষ্যতের ব্যবস্থায় ব্যস্ত। বিঘের পর বিঘে জমি কিনে, আধুনিক প্রথায় চাষবাস করছেন। চাকরিটি ছেড়েই এই কৃষি ফার্মে এসে বসবেন। জীবন চলবে স্বচ্ছন্দ ছন্দে হেসেখেলে। যেমন চলছে এখন। বয়সে বিয়ে করেছেন। স্ত্রী এখনও তরুণী। টগবগ করছে প্রাণপ্রাচুর্যে।
আজ থেকে দশ বছর আগে এক শ্রাবণ সন্ধ্যায়, প্রায় বিনা চিকিৎসায় নিরঞ্জনবাবু জীবনের সুখ-দু:খের সঙ্গী সহধর্মিনীকে হারিয়েছেন। পুত্রকন্যার সংখ্যাও কম নয়। স্কুলের সামান্য মাইনের চাকরি আর কিছু টিউশনি এই দিয়ে কায়ক্লেশে জীবন চলছিল। সম্প্রতি দিন আর চলে না। স্কুল-কলেজ ইদানীং বন্ধই থাকে। ছেলেরা আর পড়তে চায় না। তারা পুরোনো কথা শুনবে না। মাঝে মাঝে অনেক রাতে নিরঞ্জনবাবুর যখন ঘুম আসে না, বাঁধানো দাঁত দু'পাটি টেবিলের ওপর খোলাই থাকে, এক কাপ জলে ভেজানো। ফোগলা তোবড়ানো গাল দুটো হাসিতে টোল খায়, তিনি ভাবেন সেই সব মধ্যযুগের কথা—গ্যালিলিও যখন দূরবীক্ষণ যন্ত্রে বিশ্বরহস্যের চৌকাঠে পৌঁছে গেছেন, সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর ঘোরবার কথা যখন নি:সন্দেহে প্রমাণিত, তখন ধর্মের প্রভুরা অনেক সত্যদ্রষ্টাকে ঈশ্বরদ্রোহী হিসেবে প্রাণদণ্ড দিয়েছিলেন। এও কি ঠিক তাই নয়। ইতিহাসকে কি মুছে ফেলা যায়! নিরঞ্জনবাবু সব গুলিয়ে ফেলেন। চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে। জীবনে যে বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে এতটা পথ এলেন, সে সব ভুল, কিংবা তিনি ভুল পথে চলে এসেছেন। এমন মনে করতে তাঁর বেশ কষ্ট হয়। জানালা দিয়ে রাতের একফালি আকাশ উঁকি দিচ্ছে, সেই চিরপরিচিত কালপুরুষ আর সপ্তর্ষি হেলে আছে। এই আকাশ তিনি শুয়ে শুয়ে দেখছেন। তাঁর বাবাও দেখেছিলেন এই একই বিছানায় শুয়ে শুয়ে। তাঁর স্ত্রীও মৃত্যুর আগের দিন রাতে ওই নক্ষত্রদের দিকে তাকিয়ে আবেগ রুদ্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন—'তোমাকে রেখে গেলাম ঈশ্বরের ভরসায়। আমি থাকব তোমারই অপেক্ষায়, কাজ সেরে চলে এসো।' নিরঞ্জনবাবু অত্যন্ত দৃঢ় চরিত্রের মানুষ, কিন্তু সে রাতে চোখের জল চাপতে পারেননি। নির্মলা চলে গেছে, তার সাজানো সংসার ফেলে।
এখন অবশ্য সংসার বলে আর কিছুই নেই। ভাঙনের জন্যে অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সামাজিক অবস্থাই বেশি দায়ী। জীবনে তিনি ভোগের চেয়ে ত্যাগের উপরেই বেশি জোর দিয়েছিলেন। বয়সে যখন তরুণ স্বদেশি করেছেন, তারপর রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামীজিদের জ্বলন্ত আদর্শে। জীবনের পথ খোঁজা চেষ্টা করেছেন গীতার কর্মযোগে, বিবেকানন্দের জীবনাদর্শে। সুতরাং স্বল্প মাইনেতেও তিনি 'কাপড় অনুযায়ী জামা কেটে' বেশ চালাচ্ছিলেন। বড় ছেলেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। মেজো ছেলে বি-কম। কিন্তু ছোট ছেলেতে এসেই তাঁর হিসেব গুলিয়ে গেছে। নাম রেখে ছিলেন তাপস। দুটি মেয়ের পর এই শেষ ছেলে। স্বাধীনতা পাওয়ার পর ছেলে জন্মেছে। স্বাধীন ভারতে শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, প্রতিযোগিতার পথ প্রশস্ত হবে। এই ছিল তাঁর ধারণা। ছেলেকে আইএএস করাবেন; কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে দরিদ্র শিক্ষক হিসেবে আবেদন জানাবেন ছেলেকে বিলেত পাঠাবার। অথবা ছেলে নিজেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পাশ করে স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে চলে যাবে। তাপসের বুদ্ধি, বৃত্তি, মেধা দেখে তিনি আশান্বিত হয়েছিলেন। স্ত্রীকে বলতেন, তাপস আমার বংশের মুখ, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
তারপর অনেক দিন হয়ে গেল অনেক জল নদীতে বয়ে গেছে। অনেকবার ওই সপ্তর্ষি আকাশে যাওয়া আসা করেছে। অনেক চুল সাদা হয়েছে। তাপস এখন কোথায় তিনি বলতে পারবেন না। হয়তো বেঁচেই আছে অথবা ভাবতে গেলে মাথা ঘুরে যায়—একটু একটু করে গলিত শব কোন জলায় অথবা ধানখেতে মিশে গেছে। সেই যেদিন স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় এক থেকে দশের মধ্যে স্থান রেখে, স্কলারশিপ নিয়ে সে হাসতে হাসতে বাড়ি এল। নিরঞ্জনবাবু আর্শীবাদ করেছিলেন। সে যেন কোন এক ভুলে-যাওয়া স্বপ্নের মতো আবছা। কষ্ট করে মনে আনতে হয়। তারপর থেকে তিনবার তাঁর বাড়ি সার্চ হয়েছে। দুবার তাঁর বাড়ির উপর বড় রকমের হামলা হয়েছে।
'রামমোহন থেকে ভারতবর্ষে যে রেনেশাঁর সূত্রপাত তারই পূর্ণ পরিণতি বিবেকানন্দে, রবীন্দ্রনাথে। সে এক যুগ গেছে ধর্মে, সংস্কৃতিতে, সাহিত্যে, সঙ্গীতে যে গণ অভ্যুত্থান ঘটেছিল, শৃঙ্খলমুক্ত মানুষের নতুন সমাজ গঠনের যে অক্লান্ত প্রয়াস দেখা দিয়েছিল, তারই স্ফুলিঙ্গ এসেছিল এ দেশে। নিরঞ্জনবাবু তন্ময় হয়ে পড়াচ্ছেন, সারদাচরণ বিদ্যাপীঠের উৎসবের ঘরে। পশ্চিমে বেলাশেষের গঙ্গা বয়ে চলেছে। ক্লাসে গুটি পঁচিশ ছেলে নিতান্ত আনমনা হয়ে বসে আছে। নিরঞ্জনবাবুর বক্তৃতা তাদের মনে কোনও রেখাপাত করছে বলে মনে হয় না।
ক্লাশ শেষ হল। লাইব্রেরি ঘরে বই জমা দিয়ে নিরঞ্জনবাবু এক গ্লাস জল খেয়ে একটি বিড়ি ধরালেন। গঙ্গার উপর দিয়ে একটি পালতোলা নৌকা মন্থর গতিতে ভেসে চলেছে। বিদ্যালয়ের দারোয়ান তাঁর উদাস চিন্তায় ছেদ টেনে দিল। সমস্ত শিক্ষকই বাড়ি চলে গেছে। ছেলেরাও ঘরমুখো হয়েছে। নিস্তব্ধ বিদ্যালয়-গৃহে মাত্র দুটি প্রাণী, নিরঞ্জনবাবু আর দারোয়ান। দুজনে মুখোমুখি, দুজনেরই বয়স হয়েছে। বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে দুজনেরই অনেকদিনের পরিচয়। লাইব্রেরির সমস্ত বই-ই অনেকদিন আগে ভস্মীভূত হয়েছে। দেওয়ালে টাঙানো মনীষীদের ছবি চুরমার হয়েছে। এখানে ওখানে একাধিক হুক দৃষ্টিকটু ভাবে তাকিয়ে আছে। পাখার ব্লেডগুলো দোমড়ানো মোচড়ানো। সমস্ত বিদ্যালয়ের উপর দিয়ে যেন একটা ঝড় বয়ে গেছে। নিরঞ্জনবাবু পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন। মাত্র কয়েকটা পয়সা পড়ে আছে। শরীর ক্লান্ত। বয়েসে, পরিশ্রমে, অনাহারে। মাইনে প্রায়ই অনিয়মিত। বহু ছেলে ট্রানসফার নিয়ে চলে গেছে। একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বাড়ির পথে পা বাড়ালেন। ভেবেছিলেন একটা রিকশা করবেন; কিন্তু পয়সা নেই। হেঁটেই ফিরতে হবে। জীবনে আয়েস কোনওদিন করেননি। আদর্শ নিয়ে, লড়াই করেই বেঁচে আছেন। আর কটা দিন। জীবনতো প্রায় কেটেই এসেছে।
ভাবতে ভাবতে চলেছেন। একলা পথ চললেই তাঁর নানা ভাবনা আসে। ছাত্রজীবনের কথা। জীবনের উগ্র দিনগুলোর কথা। একাধিক দেশনেতার সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য তাঁর জীবনে ঘটেছে। সেই সমস্ত জ্বলন্ত আদর্শের আলোতে তিনি নিজের পথ খুঁজে পেয়েছেন। রাস্তাটা শুরু, চারিদিক নির্জন। বেলাশেষের আলো আঁধারিতে স্বপ্নময়। পাশেই কোনও বাগানে কাঁঠালি চাঁপা ফুটেছে। গন্ধে চারিদিক আমোদিত। আজকাল রাস্তাঘাট প্রায়ই নির্জন থাকে। মানুষের মনে আগের মতো আর সুখ নেই।
পিছন থেকে একটা গাড়ি আসছে। নিরঞ্জনবাবু রাস্তার একপাশে সরে দাঁড়ালেন। গাড়িটা তাঁকে অতিক্রম করেই থেমে পড়ল। টকটক করে দুটি ছেলে নেমে পড়ল। হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। একজন সোজা এগিয়ে এল তাঁর দিকে। নলটা পাঁজরে ঠেকিয়ে বলল, উঠে আসুন। নিরঞ্জনবাবু হতচকিত। কী ব্যাপার। তাঁর ছেলের বয়সি ছেলেদের একি ব্যবহার। এমন সুন্দর স্বাস্থ্যবান সব তরুণ। তাপসের কথা মনে পড়ে গেল। এদেরকে যেন তাঁর পুত্র স্নেহে ভালোবাসতে ইচ্ছে করল। 'কী করেছি বাবা'—তিনি স্নেহসিক্ত কণ্ঠে বললেন। 'উঠে আসুন সময় নেই।' উঠে বসলেন। ভাবখানা এই, দ্যাখাই যাক না—কী হয়। একজন তাঁর চোখ দুটো কালো কাপড়ে বেঁধে দিল। খসখসে গলায় বলল—'চেঁচালেই পাঁজরা ফুটে হয়ে যাবে।'
না তিনি চেঁচাবেন কেন। তিনি নিজের জীবনের ভীরুতাকে কখন প্রশ্রয় দেননি। গাড়ি ছুটে চলল। দূর দূর অনেক দূর। অবশেষে তিনি নামলেন। আগে পিছে পাহারায় তিনি চলেছেন। একবার তাঁর ভারী মজা লাগল। এ যেন এক সিনেমা। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছে। কিন্তু মুক্তি নেই।
যখন চোখ খোলা হল তিনি একটা অন্ধকার ঘরে বসে। ঘরে মোট চারটি ছেলে। একজনকে তাঁর মনে হল দলের নেতা। দলপতি রুক্ষস্বরে বলল—'আর কতদিন ভুল আবোল তাবোল পড়াবেন?' নিরঞ্জনবাবু বললেন, 'যতদিন বাঁচব।'—'তাই নাকি! তাহলে তো মৃত্যু আসন্ন।'—'আমি ভয় করি না।' 'ভয় যাতে করেন সেই ব্যবস্থাই হবে।' আর একটি ছেলে বললে—'আমরা যা বলব তাই যদি শোনেন এবং প্রচার করেন—আপনার মুক্তি আর তা না হলে মৃত্যু এবং তা এই মুহূর্তে।'
নিরঞ্জনবাবুর কৌতূহল হল—'কী প্রচার করতে হবে বাবা।' —'আপনাদের ওই রামমোহন, বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ, রবীন্দ্রনাথকে ভুলতে হবে। দেশের মানুষকে আর ভুল পথে চালালে চলবে না। আপনারা দেশের শত্রু। দেশের ছেলেদের গড়ে ওঠার বয়সেই আপনারা তাদের মন বিষিয়ে তুলছেন। ওই রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ ভাঙিয়ে বেশিদিন চলবে না। ওরা দেশের শত্রু।'
কিন্তু বাবা ইতিহাস তো নতুন করে লেখা যায় না। এই যে তোমরা এত সব ভাবছ, এই যে বিলেতি ঢঙে পোশাক পরে এত চটপট সুন্দর সুন্দর কথা বলছ, এতো আরও অনেক বছর পেরিয়ে যেতে বাবা। তোমরা আসার অনেক আগেই যে বাবা ওঁরা একটা অন্ধকার যুগকে আলোর দিকে টেনে নিয়ে চলেছিলেন।
—কেন বাজে বকছেন। সময় আমাদের খুব কম। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা যতদিন ঢেলে সাজাতে না পারি, সমস্ত শিক্ষা বন্ধ থাকবে। ভুল শেখানো চলবে না।
—তা হয় না। তোমরা যে রাস্তায় চলছ চলো। আমি যে রাস্তায় চলে এসেছি, সে রাস্তায় কয়েক যুগ ধরে আমরা হাঁটছি, শেষ অবধি হাঁটব। আমার স্বাধীনতা তোমরা জোর করে কেড়ে নিতে পারবে না।
বেশ তাহলে একটু নতুন ব্যবস্থাই নিতে হচ্ছে। ওকে নিয়ে এল। দলপতির নির্দেশে একটি ছেলে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে হাত-পা, মুখ বাঁধা একটি ছেলেকে চ্যাঙদোলা করে ঘরে এনে সকলের সামনে বসিয়ে দিল।
নিরঞ্জনবাবু চমকে উঠলেন—এ কে ! তাপস! তাপস কোথায় ছিল এতদিন! এখানেই বা কী জন্যে! এ জায়গাটাই বা কোথায়!
—একে চেনো?
নিরঞ্জনবাবুর মুখ দিয়ে কথা বেরোল না।
—আপনার ছেলে। আপনার দুর্বল চিত্ত অপদার্থ—পুত্র। আপনার এই দলত্যাগী ছেলের আজ বিচার হবে সে আমাদের নির্দেশ মানে না।
—না মানাই স্বাভাবিক; কারণ সে আমারই ছেলে। তোমরাও আমার ছেলে। পৃথিবী হল মতবাদের পরীক্ষাশালা। মানুষের চিন্তা সবসময় নতুন নতুন পথেই চলে বাবা।
—বক্তৃতা রাখুন। চিন্তার স্বাধীনতা আমরা মানি না। আমরা যেভাবে চিন্তা করাব সেই ভাবেই ভাবতে হবে বুঝতে হবে। শুধু তাই নয়। আপনারা যারা অপদার্থ সন্তানের বাবা তাদেরও আমরা এইভাবেই শিক্ষা দেব। দেখে রাখুন।
হঠাৎ দুটি ছেলে, নিরঞ্জনবাবুকে চেপে ধরল। আর দুটি ছেলে নিমেষে তাপসের বুকের বাঁ-দিকে একটা ছোট্ট ছেঁদা করে দিল, গলার কাছে শ্বাস নালির খানিকটা অংশ ফাঁক করে দিল।
চন্দ্র, সূর্য, গ্রহতারা সমস্ত যেন দ্বিগুণ বেগে ঘুরছে। অসংখ্য তাপসের মুখ যেন ছায়াছবির মতো চোখের সামনে দিয়ে ভেসে চলেছে। সমস্ত রক্ত যেন ঊর্ধ্বমুখী হয়ে মাথার শিরা উপশিরা ফাটিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। অসহ্য ক্রোধ যেন লাভার মতো তরল স্রোতে সব পুড়িয়ে দিতে চাইছে। নিরঞ্জনবাবু চিৎকার করতে চাইছেন কিন্তু শব্দ বেরুচ্ছে না—সমস্ত শরীর শুধু থরথর করে কাঁপছে। ঘর শূন্য ভোজবাজির মতো চরিত্রগুলো উধাও। শুধু নিষ্পন্দ তাপস। তার কুড়ি বছরের টাটকা তরুণ শরীরটাকে অবহেলায় ফেলে রেখে চলে গেছে। চোখে তার কোনও ভাষাই পড়া যায় না।
জায়গাটা কোথায়! রাতই বা কত গভীর! আশেপাশে কারা আছে! এর পরই বা কী হবে!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন