সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

মা একদিন ছেলেকে ডেকে বললেন, 'খোকা! আর না বলে পারছি না রে!'
'কী মা?'
'বিয়ের পর তোর খুব পরিবর্তন হয়েছে।'
'কী পরিবর্তন মা? কই, তেমন তো কিছু বুঝছি না।'
'তা হলে বলেই ফেলি। বিয়ের আগে আমি তোকে যা বলতুম, তুই সঙ্গে সঙ্গে করে দিতিস। এখন বারবার বলেও হয় না। ধরিয়ে দিলেই লাফিয়ে উঠিস—ইস! ভুলে গেছি মা। তিন মাস হয়ে গেল, বেশি কিছু না, একটা গামছা এনে দিতে বলেছিলুম। অথচ লক্ষ করি, বউ কিছু বললে, ভুল হয় না, সঙ্গে সঙ্গে করিস।'
এইবার ছেলের উত্তর। হাসতে হাসতে বলছে, 'মা! এটা পরিবর্তন নয়, যান্ত্রিক ত্রুটি, টেকনিক্যাল ফল্ট।'
'সে আবার কী?'
'দাঁড়াও, তোমাকে বোঝাই, এমন কিছু কঠিন নয়। মানুষের দুটো কান। তুমি যখন কিছু বলো, তখন হয় আমি দাঁড়িয়ে শুনি, না হয় বসে বসে। তার ফলে হচ্ছেটা কী! এক কান দিয়ে ঢুকে আর এক কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর বউ যখন কিছু বলে তখন একটা কান আমার বালিশ চাপা থাকে। তার ফলে বউয়ের কথার এনট্রি আছে এগজিট নেই। একবার ঢুকলে ঢুকেই রইল। আর একটা কান তো চাপা, বেরবে কোথা দিয়ে।'
মা হাসলেন।
এ একটা গল্প। তবে, এটা ঠিক জীবনে বউ এলে নিক্তির সেই দিকটাই ঝুঁড়ে পড়ে। বউয়ের পাল্লাই ভারী। বেশিরভাগ ছেলেই মাথা মোটা এবং বউ ক্যাংলা। বরং বউরা খুব বুঝদার। দু-একটা বিদঘুটে বউ থাকতে পারে। সেসব সাইকোলজিক্যাল কেস তাঁদের জন্যে টিভি সিরিয়ালের দুনিয়া আছে। কেঁদে-কেটে, আঁচড়ে কামড়ে, ভাঙচুর করে 'মেগা'র পর্যায়ে চলে যান। 'মেগা'র একটা সুবিধা আছে, শেষ নেই। যে যেখানে, সে সেখানে। কারুর বয়েস বাড়ে না, সমস্যারও সমাধান হয় না।
মেয়েরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে এক সংসার ছেড়ে আর এক সংসারে আসে। যেখানে সাপের খোলসের মতো পড়ে থাকে তার বড় হওয়া, পড়ে থাকে বাপ-মায়ের ভালোবাসা, আদর-আবদার, মান-অভিমান। শ্বশুরবাড়িতে তার কে আছে। একমাত্র স্বামী।
মেয়েরাই সংসার, ছেলেরা সব তাঁবু। 'গৃহিণী গৃহমুচ্যতে।' মেয়েরা স্বভাবতই 'ব্যালেনসড'।
ছেলেরাই এক বগগা। যত শিক্ষিত, যত উচ্চপদস্থ, নামি-দামি, ততই তারা অকৃতজ্ঞ। তা এই বড়ো হওয়ারও একটা পর্যায় আছে। সময়ের পথ ধরে এগোতে হবে। কেউ পেট থেকে পড়েই বিজ্ঞানী হয়ে আমেরিকায় চলে যেতে পারে না। পিতামাতার ত্যাগ, সাবধানী সংরক্ষণ, নিজেদের সংযম ও আদর্শ এর পেছনে কাজ করে। না খেয়ে, না দেয়ে, নিজেদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে সঞ্চয় ভেঙে ছেলের ভবিষ্যৎ তৈরি করেন। ছেলের ভবিষ্যৎই পিতামাতার ভবিষ্যৎ। কটি ছেলে এটি মনে রাখে। বাইরের জগৎ তাকে টানতে থাকে। বন্ধুবান্ধব। আড্ডা। বাইরের জগতের রূপ পালটাচ্ছে। আগে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে রাম ডাকত, এখন টেলিফোনে ডাকে রাম। আগে টেলিফোন ছিল কাজের লোকের দূরভাষ। এখন হয়েছে 'গল্প দাদুর' আসর। পাশে দাঁড়িয়ে শুনতে বেশ মজা লাগে। আগে বলত বেশ সুর করে, হ্যালোওও। ওপাশ থেকে উত্তর আসতে দেরি হলে, এপাশে দারোগার কণ্ঠস্বর। হ্যালো। তিরিক্ষি প্রশ্ন, কে বলছেন? ওপাশে যদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বড় কেউ থাকেন, সঙ্গে সঙ্গে গলার পরিবর্তন। ছিল ফাটা বাঁশ হয়ে গেল কৃষ্ণের বাঁশি, হ্যাঁ হ্যাঁ বলুন। ঘাড়টা একদিকে কাত হয়ে গেল, পাথুরে মুখে ননির নবনী। 'ডেট' ছিল খেজুর, আমেরিকা থেকে হয়ে এল মিলনের দিন। খেজুর রইল—খেজুরি আলাপে। এইরকম একটি যোগাযোগ লাইনে ঢুকলে আর রক্ষে নেই। বেরিয়ে যাবে কখন কেউ জানে না। শুরুতে থাকবে 'হাই' (প্রসেসড ইন আমেরিকা, প্লেসড ইন দি ইন্ডিয়ান সার্কিট)। যত কিছু 'হাই' সব আমেরিকান। হাই হিল, হাই রাইজ, মদ খেয়ে হাই হাই টেক, হাই ফাই। বাংলা হাই মুখেই রয়ে গেল। বসে বসে হাই তোলো, শুয়ে শুয়ে হাই তোলো। সভায় গিয়ে বসলে তো কথাই নেই। বক্তা বকে মরছে, শ্রোতারা হাই তুলছে। যত বড় বক্তৃতা, তত বড় বড় হাই। প্রাচীনাদের 'হাই'-এর ছোট, বড় লেজ থাকে—'আ মাগো! আর কবে নেবে।' হাই তুললে মুখ এঁটো হয়ে যায়, তাই একবারে শেষে শব্দ:প্রক্ষালন। সেই শব্দটা হবে এইরকম—চম চম চম। ভিজে 'চ'। ছলছলে 'চ'। লাল মিশ্রিত। যেন চমচম খাওয়া হল।
আজকাল 'লেস'-এর যুগ। আগে 'লেস' ঝুলত মেয়েদের পায়ের কাছে। সায়ার লেস। সে 'লেস' আর পায়ে পড়ে না। ব্যক্তিত্ব বেড়েছে। ঘরে ঘরে কর্ডলেস কোম্পানির দেওয়া 'সেট'টি বৃদ্ধ চৌকিদারের মতো কোথায় পড়ে আছে কে জানে! গলা পাওয়া যায়, দেখা পাওয়া যায় না। এখন 'কর্ডলেস'। যেমন বোনলেস চিকেন, ফ্যাটলেস মাখন, দুধ, সুগার লেস সুগার। বহু মানুষ আক্ষরিক অর্থে 'হার্টলেস'। পেস মেকার বসান। পেস মেকার-এর কেরামতিতে কখনও হৃদয়হীন, কখনও হৃদয়বান। এটা বন্ধ হলে ওটা চলে। এটা চললে ওটা বন্ধ হয়। স্ত্রী স্বামীকে জিগ্যেস করছেন, 'তুমি এখন কীসে চলছ? পাম্পে? না হার্টে।'
'কেন?'
'যদি তোমার হার্ট চালু থাকে, তা হলে কথাটা বলব; কারণ সেটা হৃদয়ের কথা। তা না হলে বলব না।'
হাতে কর্ডলেস। তাঁবুর কাপড়, যাকে বলে 'জিন', পরিধানে সেই জিনের প্যান্ট, কোমর ধরে বাটখারার মতো ঝুলছে। ক্যাটক্যাটে খয়েরি চালানি টি-শার্ট। বুকে লেখা—'বেবুন'। চুলে ব্রাজিলিয়ান ছাঁট। নেচে নেচে ফোন হচ্ছে প্রেমিকার সঙ্গে। এঘর থেকে ওঘরে, সেখান থেকে বারান্দায়। কখনও শুয়ে পড়ছে। কখনও আড় কাত। 'না, না, শোনো শোনো, লেট মি ফিইনশ...' সোফা ছেড়ে টুলে। পেছন শক্ত কিছুর সাপোর্ট চাইছে, কারণ 'হার্ড টক' হচ্ছে।
প্রাচীনপন্থীর অভিযোগের উত্তরে পিতা বলছেন, 'সেকেলে হয়ে থাকবে না কি? যুগ যেমন সেইরকমই তো হতে হবে। ফাস্ট ফুড, ফাস্ট লাইফ, হাই স্পিড ডেথ, ফাস্ট ম্যারেজ, ফাস্ট ডিভোর্স। একটি বাচ্চা টান টান হয়ে আমেরিকান মুভি দেখছে। একটা গাড়ি তীব্র বেগে এসে মারল ধাক্কা। চালক ছিটকে পড়ল। মৃত্যু। বাচ্চাটি সবে কথা বলতে শিখেছে। মাকে বলছে, 'মাম্মি, মাম্মি,দ্রাম, মাম।' অর্থ—দ্রাম করে মারল তারপর 'মাম'—অর্থাৎ মৃত।
শরীরের সমাধানহীন উপদ্রব শেষকালে তীর্থযাত্রীর মতো এসে ওঠে অ্যালার্জির মন্দিরে। সেইরকম প্রজন্মেরে সব সমস্যা একটি কথায় এসে সহনীয় হয়ে ওঠে—'জেনারোশন গ্যাপ'। কী করবে বলো! খুব হাঁচছে—অ্যালার্জি। খুব হাসছে—অ্যালার্জি। ছেলে বাবাকে ওলড ফুল বলেছে—'জেনারেশন গ্যাপ।' বাপকে খুপরি ঘরে ভরে দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সারারাত রাম্বা-সাম্বা করেছে। দলে মেয়েরাও ছিল ও দেখতে হবে না—জেনারেশন গ্যাপ। পুত্রবধূ শাশুড়িকে খিটখিটে বুড়ি বলেছে। বউমা শিক্ষিতা বলে বেঁচে গেছেন, সেকালের বউ হলে বলত মাগী।
এখন কথা হল, স্বদেশে বিদেশ এসে গেছে। ঠেলে আটকে রাখা যাবে না। একালের ছেলের পেছনে আধ হাত ঘোমটা টানা বউ খালি পায়ে হেঁটে আসবে না, হাতে গোলাপফুল মার্কা টিনের স্যুটকেস, কি দুহাতে ধরা কাঁথা মোড়া একটি শিশু। এখন অন্যরকম। একালের স্ত্রীরা স্বামীকে নাম ধরে ডাকেন। বাপের গৌতম ডাক, মা ডাকছেন, গৌতম, বউও ডাকছে গৌতম। সেকালে এক মহিলা হরি নাম করছেন, ফরে কৃষ্ণ ফরে রাম। গুরু বললেন, 'এ কী হচ্ছে মা? মহিলা বললেন, আমার যেমন বরাত। শ্বশুর বাড়ির সবাই দেবদেবীর নাম নিয়ে বসে আছেন যে, আমি কোন দিকে যাই। শ্বশুর হলেন ফরি (হরি), স্বামী হলেন ফালি (কালী), আর ভাসুর হলেন ফঙ্কর (শঙ্কর)। গৌতম, গৌতম ডাক শুনে ছেলে বুঝতে পারছে না, কে ডাকছে! মা না বউ।
সায়েব বাচ্চা করতে হলে তাদের গোটা ব্যবস্থাটাই নিতে হবে। ছেলে অ্যাডাল্ট হলেই আলাদা। তুমি তোমার জীবন চিনে নাও। আবার সে-দেশে কে কার বাবা, কে কার মা খাতা খুঁজে বের করতে হবে। সেখানে সবই তো 'স্টেপ'—স্টেপ ফাদার, স্টেপ মাদার। মানুষ সেখানে স্টেট প্রপার্টি। পৃথিবীর এক নম্বর বড়োলোক বিল গেটস এই সেদিন উইল করলেন। ছেলেমেয়েদের কিছু দেননি তাঁর মৃত্যুর পর সব চলে যাবে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনে। প্রশ্ন করায় বললেন, বাপের টাকা হাতে পড়া মানে উড়িয়ে দেওয়া। আমি ওদের নষ্ট করে দিতে চাই না। তোমাদের কেরিয়ার তোমরা তৈরি করে নাও।
এ দেশে পিতাকে সন্তানের কথা ভাবতেই হয়। এক একটি পুরুষ পাট চুকিয়ে উপরে পাড়ি দেওয়ার সময় একটি কথাই ভাবেন—আমরা তো কোনওরকমে গোলে তালে চালিয়ে গেলুম, যারা পেছনে পেছনে আসছে তাদের কী হবে! গোটা কতক টাকার কোনও দাম নেই। সঞ্চয় প্রত্যয় হারিয়েছে। সুদ কমতে কমতে হয়তো শূন্যে পৌঁছবে। কয়েক কাঠা জমি, একটা ফ্ল্যাট পাখির বাসার মতোই তুচ্ছ। বাপের চাকরির পর ছেলের চাকরি কোথায়! প্যান্টে আমেরিকা, জুতোয় হল্যান্ড, চুলে ব্রাজিল, ক্রাইমে ইতালি, জীবিকায়? ভাঁড়ে মা ভবানী। সেখানে কেরিয়ার আর সুযোগ এতটাই উন্মুক্ত, এতটাই উদার—ধরো আর ছাড়ো। মাঝখানে যদি ফাঁক থাকে—স্টেট থাকে—স্টেট পেনসন। না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে না।
এ-দেশের সিকিউরিটি সব টেনে নেওয়া হয়েছে ওদিকে যাঁরা গদি নিয়ে কামড়াকামড়ি করছেন। মাথায় ঠাসা দুষ্ট বুদ্ধি। বড় বড় চাকরিয়াদের হতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েক লাখ টাকার ফলস সিকিউরিটি। অনেক ঝাণ্ডা উড়িয়েছেন, এইবার ডাণ্ডা নিয়ে বিশ্রাম। আমরাও গণেশ উলটে বিদায় নিচ্ছি। এইবার চলুক 'প্রাোমোটার রাজ আর তোলাবাজ'। কোথায় গেল সেই যুগ—বাপের চেয়ারে ছেলে। পেনশন, ইনসিওরেন্স! তখন বিবাহাদি উৎসবের মধ্যে আলাদা একটা আমেজ ছিল, স্বপ্ন ছিল, জীবন-স্বপ্ন। আমাদের ছেলে, মেয়ে তো স্বপ্ন আশা আকাঙ্ক্ষা দিয়ে গড়া, স্নেহ সংরক্ষিত। প্রাচীনা মায়েদের কাছে আশি বছরের ছেলে গোলাপ এখনও সেই দুশ্চিন্তা—খোকার ফিরতে এত দেরি হচ্ছে কেন।
বাইরে যতই হুড়োহুড়ি হোক সংস্কার কি সহজে ছাড়া যায়! মানুষ চটজলদি একটা মানুষকে হত্যা করতে পারে, সংস্কারকে কি অত সহজে গলা টিপে মারা যায়! কেমন যেন মুখের ওপর বলা যায়—বাছা! তুমি তোমার বউ নিয়ে আলাদা হয়ে যাও। কেউ যদি এমন হয়, বলার কিছু নেই। এই বিচ্ছিন্নতাও বিষাদে ভরা। যতই দেখাবার চেষ্টা হোক, বেশ আছি, তোফা আছি, মিথ্যে কথা। কেউ সুখে নেই। দরজায় তালা। দুজনের কাছে ডুপ্লিকেট চাবি। ছেলে যখন বায়না ধরে—আম্মার কাছে চলো না মা! মা তখন রেগে যান। বুঝতে পারেন তাঁর মধ্যে একটা অভাব আছে। দুপুরবেলাটা যেন, ভেন্টিলেটারে দুটো চড়াই পাখি।
এই চিত্রটি কেমন? মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার ওয়ার্ড। ভীষণ গ্রীষ্মের মধ্য সকাল।
'রে' নেওয়ার লাইন। এক সুন্দরী ও রোগকাতর এক বৃদ্ধ—দুজনে পাশাপাশি বসে আছেন। বৃদ্ধের চেয়ে তরুণীকেই বেশি উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে। ছোট হাত-রুমাল দিয়ে বৃদ্ধকে সামান্য বাতাসে আরাম দিতে চাইছেন। পরিচয় হল। পুত্রবধূ শ্বশুরমশাইকে সযত্নে, আগলে নিয়ে এসেছেন 'রে' দেওয়াতে। থ্রোট ক্যানসার। কণ্ঠ রুদ্ধ। সব ভাষার উৎসস্থান দুটি চোখ, জলে ভরা।
মেয়েটি ছলছলে চোখে প্রশ্ন করল, 'কী হবে বলুন তো!' খুব মৃদু কণ্ঠে একপাশে সরে এসে। বৃদ্ধ যেন শুনতে না পান! 'বাবা চলে গেলে কে আমার সঙ্গে গল্প করবে? কে আমার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করবে!'
আর কথা হল না। নাম ডেকেছে। শ্বশুরমশাইয়ের কাঁধে বন্ধুর মতো হাত রেখে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলেছেন 'কোবাল্ট রুমের দিকে।'
আমেরিকায় আছেন এলভিস, মেরিলিন। ইংল্যান্ডে ডায়না। এই মেয়েটি একমাত্র এখানেই আছে। এই বাংলায়। শেষ কথা এই প্রাচীন গানে—
চোরের উপর রাগ করে ভাই
ভুঁয়ে ভাত খেও না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন