দু:সাহসী দু-চাকা

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

পল্টুকে পল্টুর মা বললেন—সাইকেলটা নিয়ে একবার দ্যাখ না বাবা, পুজোর সময় বয়ে যায়, ভটচায্যিমশাই এখনও কেন আসছেন না। পুজো শেষ হলে তোর বাবা আবার অফিস বেরোবেন।

পল্টু সবে সাইকেল চালাতে শিখেছে। এসব কাজে তার মহা উৎসাহ। সে সাইকেলটা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়ল। বাড়ির উত্তর দিকের রাস্তাটা এঁকে বেঁকে ফাঁকা মাঠ, কখন বাগান, কখন পুকুর, কাঁচা ড্রেনের পাশ দিয়ে ভটচায্যি মশাইয়ের বাড়ির দিকে চলে গেছে। বেশি দূরও নয়। মাইলখানেক পথ। বাঁদিকের ফাঁকা মাঠটাই ছিল পল্টু র সাইকেল শেখার জায়গা। মাসখানেকেই সে নিজেকে এক্সপার্ট ভাবে। তাকে যিনি সাইকেল শিখিয়েছিলেন সেই বিশুকাকা বলেছেন—প্রায় তৈরি হয়েই গ্যাছ, এখন যত চালাবে তত সাহস বাড়বে, তত ব্যালেনস আসবে, কখনও ভয় পাবে না। ডোন্ট গেট নার্ভাস।

পল্টু এমনি ভালোই চালায়। তার কেবল দুটো অসুবিধে। প্রথম অসুবিধে হল—প্যাডেলে পা রেখে ওঠা, উঠে সিটে বসা। দ্বিতীয় অসুবিধে হল সেই একই ভাবে প্যাডেলে পা রেখে নামা। ওই দুটো সময়ে তার হাত লগবগ করতে থাকে। সাইকেলের গতি সাপের মতো এঁকে বেঁকে যায়। সামনে কেউ এসে পড়লে আরও বিপদ। বিপদ পল্টুর যত না, তারচেয়ে বেশি সামনে যিনি পড়বেন তার।

ইদানীং পল্টুকে অনেকেই ভয় পায়। নতুন সাইক্লিস্ট আর ষাঁড় দুটোই বিপজ্জনক। বিশুকাকা বলেছেন—জানো পল্টু জল না খেলে যেমন সাঁতার শেখা যায় না, আছাড় না খেলে তেমনি সাইকেল শেখা যায় না। পাড়ার লোকে পল্টুকে আজকাল তালিমারা পল্টু বলে। জামা-কাপড়ের বাইরে তার শরীরের যতটুকু অংশ দেখা যায় তার প্রায় সর্বত্রই ঢ্যরা ঢ্যরা স্টিকিং প্লাস্টার। না পড়লে সাইকেল হয়তো শেখা যায় না সত্যি তবু পল্টু যেন পতনের রেকর্ড করে ফেলেছে। পল্টুর বাবা বলেছেন—তোকে দেখলেই মনে হয় কেউ যেন তোর ওপর ঘর কাটাকাটি খেলেছে। শরীরের এক ইঞ্চি চামড়া আর খালি আছে মেপে দেখেছিস! সবটাই তো স্টিকিং প্লাস্টার! যেন ছাদের ওপর জল ছাদ।

কোনও রক না পেলে পল্টু সাইকেলে উঠতে পারে না, রক না পেলে নামতেও পারে না। সাইকেল নিয়ে বেরোতে দেখে পল্টুর বাবা বললেন—দুর্গানাম জপতে জপতে যাও। দেখো কোনও বিপদ বাধিও না। ও রাস্তাটার ডানপাশে বিশাল ড্রেন, সোজা তার মধ্যে ঢুকে বসে থেকো না। বাঁ দিকটার জন্যে ভাবি না। বাগানের বেড়া। বড় বউ তুমি ওকে না পাঠালেই পারতে। ভটচায্যি মশাইকে তো বলাই আছে। হয়তো একটু দেরি হচ্ছে।

—তুমি অত পুতুপুতু কোরো না তো, ব্যাটা ছেলেকে একটু ডাকাবুকো হতে হয়, যা দিনকাল পড়েছে। ভটচায্যি মশাই বুড়ো মানুষ, হয় তো ভুলেই বসে আছেন! মনে নেই ও মাসের সত্যনারায়ণের সময় কী করেছিলেন? তুমি না গেলে বুড়ির সঙ্গে ঝগড়াই চলত সারাদিন।

—আহা ঝগড়া তো হবেই। বুড়ির যেমন কাণ্ড! খড়ম দিয়ে কয়লা ভাঙ্গতে গেছেন। খড়ম দু আধখানা। মনে নেই, তুমি বললে না, বাবা আপনার পায়ে দেড়খানা খড়ম কেন? আমি আবার সেইদিনই দশকর্মা ভাণ্ডার থেকে একজোড়া বেলিওলা খড়ম কিনে নিয়ে এলুম।

পল্টু বেরোতে বেরোতে দরজা গোড়া থেকে বললে—কিচ্চু ভেবো না বাবা, আমি একটু বাঁ দিকেই যা টাল খাই, পড়লে বাগানের বেড়ার দিকেই পড়ব, নর্দমায় পড়ার চান্স নেই।

—তুই হেঁটে যা না বাবা। সকালের রাস্তা লোক চলাচল বেশি।

—তাহলে সাইকেলটা শুধু শুধু কিনে দিলে কেন?

—সে তোমার মার পাল্লায় পড়ে।

মা বললেন, চুপ করো তো। তোমার বড্ড বকবক করা স্বভাব।

পল্টু নিজেদের বাড়ির রকে সাইকেলে উঠতে উঠতে বললে—বাবারা ভীষণ ভীতু হয়! সব সময় এই কোরো না ওই কোরো না। এই করলে তাই হয়, তাই করলে এই হয়। ঘোড়ার ডিম হয়।

কিছু দূরেই যতীশবাবু বাজার করে ফিরছিলেন। পল্টুকে সাইকেলে উঠতে দেখে তাড়াতাড়ি মুদির দোকানের রকে উঠে পড়লেন। হরিসাধন ওজন করতে করতে বললে—কী হল কাকাবাবু!

প্রাণটা বাঁচাই ভাই। সেই মারাত্মক ছেলেটা আসছে। সেদিনে ধাক্কা মেরে আমার ছ'লিটার কেরোসিন তেল নর্দমায় ফেলে দিয়েছে।

একপক্ষে ভালোই করেছে, নর্দমায় তেল পড়ে না, তবু আপনার তেলে মশা একটু কমবে!

যতীশবাবু খেপে গেলেন—তোমার আর কী বলো, মুদির ছেলে—নারঙ্গি বসে বাজায় সারেঙ্গি।

পল্টু কিন্তু এসব কথার কিছুই শুনতে পেল না। সে সিটে বসেছে, বাঁ পা-টা তখনও রকে। ডান পা-টা প্যাডেলে। বাঁ পা দিয়ে ঠ্যালা মেরে সাইকেলটা ছাড়ার আগে মনে মনে ভগবানকে স্মরণ করে নিচ্ছে। বাঁ পায়ের ঠ্যালাটা বোধহয় একটু বেমক্কা হয়ে গিয়েছিল। রাস্তার ধার ছেড়ে কোনাকুনি লগবগ করতে করতে সামনের চাকাটা তুলে দিল রাস্তার ওপাশে ঘুমন্ত একটা কুকুরের ন্যাজে। কুকুরটার এমনিই পাড়ায় তেমন সুনাম নেই। তার ওপর সারারাত ঘেউ ঘেউ করার পর সবে একটু ঘুমিয়েছে। তাও রাস্তার একপাশে ছাই গাদায়। কুকুরটা বেঁকে খ্যাঁক করে উঠল। পল্টু আপ্রাণ চেষ্টা করেছে বাঁ দিকে হ্যান্ডেলটা ব্যাঁকাবার। প্রায় সামলে এনেছিল। কুকুরের ধমকানিতে বেসামাল হয়ে হুড়মুড় করে বাঁদিকে শুয়ে পড়ল। কুকুরটা ন্যাজের যন্ত্রণায় কেঁউ কেঁউ করছে। সাইকেলটা পল্টুর পাশ বালিশ হয়ে গেছে।

যতীশবাবু দেখলেন এই সুযোগ। ছোকরা ঠেলেঠুলে উঠতে উঠতেই তিনি পাশ কাটিয়ে পালাতে পারেন। পল্টুর পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন, দু চাকায় তোমার চলবে না বাপু। বাবাকে একটা তিন চাকা কিনে দিতে বলো।

ধুলোটুলো ঝেড়ে পল্টু সাইকেলটা নিয়ে কোনও রকমে উঠে দাঁড়িয়েছে। আগের মতো আর লাগে না। পড়ে পড়ে শরীর শক্ত হয়ে গেছে। তবু বাঁ পায়ের ওপর দিকটা চেনের দাঁত লেগে বেশ জখম হয়েছে। সে আবার রকের কাছে ফিরে এল। আগের কায়দাতেই সাইকেলে উঠল। এবার আর ভগবানকে ডাকা নয়। ভগবান নেই। ভগবান থাকলে এতদিনে সমস্ত স্কুল বন্ধ হয়ে যেত। অঙ্কে স্যারের মারের হাতটা একটু কমত। প্যাডেলে পা রেখে বিশুকাকার মতো সাইকেলে ওঠা নামাটা রপ্ত হয়ে যেত।

পল্টু এইবার সাবধানে স্টার্ট দিল। যাক এবারে কোনও বিপদ হল না। রাস্তাটা সোজা গিয়ে বাঁয়ে বাঁক নিয়েছে। মোড়ের মাথায় বেল বাজানোর নিয়ম। নিয়মে কোনও ভুল হয়নি। সে আইন মতোই কাজ করেছিল। বেআইনি ব্যাপার করল কিশোরী। তার দামড়া মোষটাকে সামনে রেখে সে পেছন পেছন আসছে বালতি হাতে। মোষে আর গাড়িতে কতটুকু তফাত! কিশোরীর হাতে একটা হর্ন থাকা উচিত ছিল। কি হচ্ছে বোঝার আগেই, পল্টু দেখল তার মুখ যেদিকে সেদিকে সে যাচ্ছে না, সে দুলকি চালে পেছন দিকে চলেছে। সাইকেলের সিট থেকে সোজা মোষের পিঠে। কিশোরীর গ্রাহ্যই নেই। সে যেমন গান গাইছিল সেইরকমই গান গাইছে—আরে রামুয়া চলে আগেরে ভাই, লছমনুয়া চলে পিছে, হঁড়ুমাঁড়জী থক গইলবা, সীতামায়ী রোয়ে। মোষের পিঠে বসে বসেই পল্টু দেখলে তার সাইকেলটা পাশের একটা বাড়ির দেওয়ালে ঘাড় মুখ গুঁজড়ে পড়ে আছে।

—এই কিশোরী, কিশোরী আমাকে নামিয়ে দাও।

—আরে রামুয়া চলে আগেরে ভাই, লছমনুয়া রে—।

—আরে এই কিশোরী...

—কাঁহা সে আগলিবা রে তু!

—কিশোরী নামিয়ে দাও, তোমার মোষের গায়ে বেজায় গন্ধ। আমার প্যান্টে গোবর।

গোবর বলেই পল্টুর খেয়াল হল গরুর গোবর হয়, মোষের তো গোবর হবে না, মোবর হবে। কিশোরী হাতের তালুর খইনিটা মুখে ফেলে সেই হাতেই পল্টুকে মোষের পিঠ থেকে নামিয়ে দিল।

পল্টু সাইকেলটাকে তুলল। হ্যান্ডেলটা একটু বেঁকে গেছে। সামনের চাকাটাকে দুপায়ের ফাঁকে রেখে হাতের চাপে ঠিকঠাক করে নিল। এখন আবার একটা রক চাই তবেই সে সিটে বসতে পারবে। দুটো বাড়ির একটা রকওয়ালা বাড়ি। পল্টু সেই পর্যন্ত সাইকেলটাকে হাঁটিয়ে নিয়ে গেল। বিশুকাকা ঠিকই বলেছিলেন—মাসখানেক সাইকেলটাকে শুধু হাঁটাবি। সাইকেলের সঙ্গে গল্প করবি। স্বভাবটা বোঝার চেষ্টা করবি। এইভাবেই ভালোবাসা হবে। আর সাইকেল চালাবার সময় ভুলেই যাবি যে সাইকেলে আছিস। তা না হলেই হাত লগবগ করবে। পড়ে যাওয়ার ইচ্ছে হবে। সাইকেল আর সাহস দুটো শব্দেরই প্রথম অক্ষর স।

পল্টু গুরুজনদের উপদেশ ভীষণ মেনে চলে। তবু সব ব্যাপারেই কেন যে সে তাল রেখে চলতে পারে না, মাঝে মাঝে ভাবলে কূলকিনারা করতে পারে না। সাহস তো তার কম নয়। ভয়টা কীসের! বিশুকাকা বলেছেন, সাইকেল যখন চালাবি, মনে করবি, তুই যেন হাড়গোড় ভাঙা দ। সেইভাবেই পল্টু চালাবার চেষ্টা করছে। করলে কী হবে, সাইকেলের হাতলে তার মুঠো দুটো এমন শক্ত হয়ে আছে, মনে হচ্ছে, হাতলটা যেন পালাতে চাইছে, আর সে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধরে আছে। হঠাৎ ঝোপের মধ্যে থেকে সাদা ন্যাজ মোটা একটা বেড়াল বেরিয়ে এল। বেড়ালটা রাস্তার মাঝখানে থমকে দাঁড়িয়েছে। পল্টু ভেবেছিল পার হয়ে যাবে, তাই সে বাঁ দিক দিয়ে পাশ কাটাতে গেল। পল্টু ভীতু নয়, ভীতু বেড়ালটাই। বেড়ালটা হঠাৎ ব্যাক করল। সে ঝোপ থেকে বেরিয়েছিল সেই ঝোপেই ঢুকতে চাইল। কে বলে বেড়াল বুদ্ধিমান প্রাণী! তা না হলে কেউ রাস্তা পার হতে হতে ওইভাবে বোকার মতো পেছিয়ে আসে ধাঁ করে। সোজা পল্টুর সামনের চাকায় এসে আটকে গিয়ে আধপাক ঘুরে ওপরে ঝুলতে লাগল। স্পোকে একটা পা জড়িয়ে গেছে। পল্টু গেল গেল শব্দে বাঁ দিকে কেতরে গিয়ে বেড়ার ওপর পড়ে গেল। বেড়ালটা যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছে। কী চিৎকার! দু-চারজন লোক জড় হয়ে গেল। এক বৃদ্ধ বোকার মতো প্রশ্ন করলেন, হ্যাঁ বাবা, মা ষষ্ঠীর বাহনকে কেউ ওইভাবে চাকায় বেঁধে নিয়ে যায়! ছি ছি, আজকালকার ছেলেপুলের মুখে আগুন! আমাদের কালে বেড়াল ছাড়তে যেতুম বস্তায় পুরে, মুখ বেঁধে। তাও ঠিক ফিরে আসত। হরিদাসীটাকে বস্তায় পুরে আমার কত্তা নদীর ওপারে ছেড়ে এসেছিল। ওমা, তিন দিন পরে দেখি ঠিক ফিরে এসে উঠোনে গ্যাঁট হয়ে বসে আছে। বিশ্বাস করো বাবা, বয়েস হয়েছে মিথ্যে বলব না। কত্তা বললে, ওটা আর একটা বেড়াল। কী বলে, হরিদাসীকে আমি চিনি না। সেই নাক, সেই মুখ চোখ ন্যাজ, সেই মিঞাও ডাক, সেই ছোঁচকা স্বভাব। রান্না ঘরে কিছু রাখার উপায় নেই। ঠিক ঢাকা খুলে খেয়ে নেবে। বললে কিনা আর একটা বেড়াল। মানুষের যমজ হয়, বেড়ালের যমজ হয় নাকি!

—কী বলছ দিদিমা? বেড়ালের যমজ নয় চারমজ হয়। বিষ্ণু ঘরামি দিদিমাকে জ্ঞান দিল। জমায়েতে নন্দকিশোর ছিল। রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কাজে যাচ্ছিল বোধহয়, হাতে পাটা কর্নিক। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল। সে প্রশ্ন করল, চারমজটা কী রে বিষ্ণু?

—বেড়ালের একসঙ্গে চারপাঁচটা বাচ্চা হয়!

দিদিমা রেগে গিয়ে বললেন—বয়েস হল তিন কুড়ি দশ, তুই আর আমায় শেখাসনি। বেড়ালের একসঙ্গে সাতটা বাচ্চা হতে দেখেছি আমি। সাতটা সাত রকম। বুঝেছিস ড্যাকরা।

পাশের একটা বাড়ির সদর দরজা খুলে গেল। পট্ট বস্ত্র পরা পৈতেধারী ভীষণ চেহারার একজন মানুষ বেরিয়ে এলেন। চোখ দুটো যেন লাল জবা।

—সাত সকালে এখানে কীসের তামাসা? কিসের তামাসা শুনি? জানিস না এটা আমার পুজোর সময়। ধ্যান ভঙ্গ হয়ে গেল আমার। বুনো দামড়া সব, জানিস আমার হার্টের ব্যামো আছে। জানিস আমি পাঁচকুড়ো থানার দারোগা ছিলুম একটানা সাত বছর। সব পিটিয়ে ঠান্ডা করে দেব। আবার বেড়াল ডেকে ইয়ারকি হচ্ছে। কে বেড়াল ডাকছে রে?

—আজ্ঞে কত্তামশাই, বেড়ালেই বেড়াল ডাকছে।

—বেড়াল নিয়ে তোরা কী কচ্ছিস?

—আজ্ঞে আমরা করিনি। বেড়ালটা সাইকেলের চাকায় জড়িয়ে গেছে।

—অ্যাঁ, বেড়াল কি সুতো, সাইকেলের চাকা কি লাটাই যে জড়িয়ে যাবে, দেখি সব সরে দাঁড়া। আমাকে দেখতে দে।

পাঁশকুড়ো থানার একস দারোগা এগিয়ে এলেন। বেড়ালটা স্পোকে জড়িয়ে একফালি সাদা ন্যাকড়ার মতো ঝুলছে। পল্টু অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কি করবে বুঝতে পারছে না।

দারোগাবাবু উঁকি মেরেই বললেন—আরে এতো দেখছি সেই ছেলেটা। সেদিন আমাকে বাজারের রাস্তায় গুঁতিয়ে দিয়েছিল। আরে এতো দেখছি আমাদের বেড়ালটা? সাইকেলের চাকায় বেড়াল বেঁধে ইয়ারকি হচ্ছে? অ্যাঁ ইয়ারকি হচ্ছে? যা খুশি সাইকেলের চাকায় জড়িয়ে নিয়ে পালালেই হল, তাই না, মগের মুল্লুক পেয়েছ?

—আজ্ঞে পালাতে পারেনি বাবু। আপনার বেড়াল তো চোর ধরা বেড়াল।

—ওহে ছোকরা, বেড়াল খুলে দাও। তা না হলে ভারতীয় দণ্ডবিধির পাঁচ ধারায় তোমাকে আমি ঘানি ঘুরিয়ে ছেড়ে দেব।

—আজ্ঞে হ্যাঁ বাবু, ঘুইরে ছেড়ে দিন।

—ঘুইরে নয়, ঘুইরে নয়, বল ঘুরিয়ে।

—আমরা ঘুইরেই বলি, বাপ ঠাকুরদার কাল থেকে বলে আসছি।

—বেশ করেছিস। নাও হে ছোকরা—বেড়াল খোলো। আজ তোমাকে বাগে পেয়েছি। সেদিন খুউব ধাক্কা মেরেছিলে। একবার 'সরি' পর্যন্ত বলার দরকার মনে করোনি।' অভদ্র কোথাকার! আজ তোমাকে কে বাঁচায় দেখি।

পল্টু আগেই একবার বেড়ালটার সামনের পা দুটো ধরে টেনে খোলার চেষ্টা করেছিল। অতটুকু ছোট্ট প্রাণী হলে কী হয়। কী ফ্যাঁস ফ্যাঁসিনি। পল্টু অসহায়ের মতো মুখ করে বলল—খুলতে যে দিচ্ছে না। কেবল কামড়াতে আসছে। ফ্যাঁস ফ্যাঁস করে।

—কামড়ায় কামড়াক। বেড়াল কি আমি জড়িয়েছি মানিক। তুমি যেভাবে জড়িয়েছ সেইভাবে খুলে দেবে। ভিড়ের মানুষ উপদেশ দিলেন—চাকাটাকে উলটোদিকে ঘোরাও না খোকা, এখুনি খুলে যাবে।

পল্টু চাকাটাকে উলটো দিকে অল্প একটু ঘোরাতেই, বেড়ালটা মর্মভেদী একটা চিৎকার ছাড়ল। এতক্ষণ ন্যাজটা তবু ঝুলছিল, ঘোরাবার ফলে সেটাও জড়িয়ে গেল পাকে পাকে।

—বিষ্ণুর বুদ্ধিটা একবার দেখেন কত্তামশাই, ন্যাজটাও জইড়ে গেল।

পাশকুড়ো থানার ভূতপূর্ব দারোগা হুঙ্কার ছাড়ালেন।—ওসব ইয়ারকি আমি বরদাস্ত করব না। ওই সাইকেল আমি বাজেয়াপ্ত করে রেখে দেব।

নতুন ঝকঝকে সাইকেল। সবে পল্টুকে পল্টুর বাবা কিনে দিয়েছেন। খুশি হয়েই কিনে দিয়েছেন পরীক্ষার ফল ভালো করার পুরস্কার। সেই সাইকেল কিনা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে! পল্টু মরিয়া। যা থাকে বরাতে। দুটো পাই চুলের বিনুনির মতো পাকিয়ে গেছে। সেই পাকের মাঝখানে স্পোক। পল্টু একটা থাবা ধরে উলটো পাকে খোলার চেষ্টা করতেই বেড়ালটা ফ্যাঁস ফ্যাঁস করে হাতে কামড় বসিয়ে দিল। রক্তারক্তি ব্যাপার।

—দমকলে খবর দেন কত্তা।

—কী যে বলো হরিপদ, দমকলে খবর দিতে হয় আগুন লাগলে। এ হল মেকানিকের কাজ।

পল্টুর মনে হল, মেকানিক নয়, এ জট খুলতে পারেন একমাত্র অঙ্কের মাস্টারমশাই। মাস্টারমশাই বলেন না, আগে অঙ্কটার দিকে ভালো করে তাকাবে, তাকালেই প্রসেসটা মাথায় এসে যাবে, তারপর ধাপে ধাপে এগিয়ে চলো। সরল করার কায়দা।

যে বাড়িটা থেকে দারোগাবাবু বেরিয়েছিলেন, সেই বাড়ির দোতালার বারান্দা থেকে এক মহিলা খ্যানখেনে গলায় চিৎকার করে উঠলেন—হল কী তোমার? কতক্ষণ আমি ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকব? আমার অন্য কাজকর্ম নেই না কি?

দারোগাবাবু ওপর দিকে চেয়ে ততোধিক উঁচু গলায় বললেন—যতক্ষণ দাঁড়াতে বলব ততক্ষণ দাঁড়াবে। এদিকে দেখেছ, তোমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। সুখী সাইকেলের চাকায় আটকে গেছে। সামনের পা দুটো বিনুনি হয়ে গেছে।

ভদ্রমহিলা গাঁক গাঁক করে চিৎকার করে উঠলেন—কোন মুখপোড়ার সাইকেল? কে করলে? ওমা আমার সুখীরে!

ভদ্রমহিলা এমন ডুকরে কেঁদে উঠলেন যেন তাঁর স্বামী মারা গেছেন। সকলেই বারান্দার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছ।—ওরে আমার সুখীরে! কী সব্বোনাশ হল রে! স্ত্রীর কান্না দেখে দারোগাবাবুর মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল। আমার স্ত্রীর হার্টের ব্যামো আছে, যদি মারা যায় তোমার নামে আমি ক্রিমিনাল কেস করব। যাবজ্জীবন করে ছেড়ে দেব। ওরে কে আছিস গোলাপিকে ডাক।

—তাকে এখন পাচ্ছেন কোথায় কত্তাবাবু। সে তো কাল রাত থেকে জ্বরে প্রলাপ বকছে।

—তার ছেলেকে ডাক।

—ছেলে তো একমাস হল বাপের ছেঁড়া গরম কোট নিয়ে বোম্বে পালিয়েছে হিরো হওয়ার লেগে।

—তার কারখানার যে-কোনও কর্মচারীকে ডাক।

—একমাস হল তার কারখানা তো বসাক বাবুরা কিনে নেছে।

—ইয়ারকি হচ্ছে। সবেতেই তোদের ঝগড়া। ডাক যতীশকে, কামার শালের যতীশকে ডাক।

—তা ডাকতে পারি। এই তো নজদিকেই আছে। একটু আগেই তো দেখছিলুম বটতলায় বসে বিড়ি ফোঁকা করছে।

—কিচ্ছু শুনতে চাই না, উসকো পাকড়কে লে আও।

বারান্দায় আর এক মহিলা এসেছেন। দ্বিতীয় মহিলা দারোগাবাবুর স্ত্রীকে ভোলাবার চেষ্টা করছেন। মা তুমি কেঁদো না মা, কেঁদো না মা। তোমার আবার হাঁপানি আছে, এখুনি টান উঠবে। কেঁদো না মা, কেঁদো না।

পল্টু সেই থেকে বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে। হাতের কবজি বেয়ে সামান্য রক্তের ধারা নেমে রোদে শুকিয়ে গেছে। সে কেবল মাঝে মাঝে মুখে চুকচুক শব্দ করে বেড়ালটাকে ভোলাবার চেষ্টা করছে। এ কি সেই বেড়াল—ভোলালেই ভুলবে। উ:, কী ভাবে জড়িয়েছে দ্যাখো!

ভীষণ জোরে বিড়ি টানতে টানতে ময়লা চেহারার একটি লোক দারোগাবাবুর সামনে এসে খুব রুক্ষগলায় বললে, কী বলছেন, বলছেন কী? পল্টু দেখলে লোকটিকে সে চেনে এই কারণে, লোকটি তার বাবাকে খুব সম্মান করে। কেন করে পল্টু তা জানে না। দারোগাবাবু বললেন—যাও তোমার যন্তরপাতি নিয়ে এসো। ওই ছোঁড়ার সাইকেলের স্পোক কেটে বেড়ালটাকে উদ্ধার করতে হবে। যতীশ এতক্ষণ পল্টুকে দেখেনি, পল্টুকে দেখেই যতীশ বললে, আরে খোকাবাবু! তোমার সাইকেল? দেখি কী হয়েছে। আরে বেড়াল জড়িয়ে গেছে! টেনে বের করে ফেলে দাও না।

পল্টু করুণ গলায় বললে—গায়ে হাত দিতে দিচ্ছে না যে যতীশকাকা। এই দেখ আঁচড়ে দিয়েছে।

—সরো দেখি, ও এলেবেলে হাতে হবে না, লোহা পেটানো হাত চাই।

দারোগাবাবু যতীশকে দাবড়ে উঠলেন—যতে, আমার বেড়ালের চোট হয়ে যাবে। তুই হ্যাকস দিয়ে স্পোক কাট। বেশি পাকামো করে মরবি না। ছোঁড়াটা কে রে? তোকে যতীশকাকা বলছে।

—ছোঁড়াটা কে বলে দিলে আর ছোঁড়া বলবেন না, বলবেন ছেলেটি।

—হ্যাঁ, তোর যেমন কথা। কে এমন তালেবর আছে রে এ পাড়ায়?

—আছে, আছে, আপনিও জানেন, কে আছে। এস. ডি. ও সাহেবের ছেলে।

—অ্যাঁ। এতক্ষণ তালে বলিসনি কেন হতভাগা!

ভিড়ের দিকে তাকিয়ে যারা মজা দেখছিল তাদের ভীষণ দাবড়ে দিলেন—এটা দোল, না দুর্গোৎসব! সব দাঁড়িয়ে আছিস হাঁ করে হতচ্ছাড়ার দল। বারান্দার দিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে ধমকে উঠলেন—গলা দিয়ে আর একটু শব্দ বেরোলেই মুখে গামছা ভরে দে বিমলা।

যতীশ বললে—তাহলে যন্তরটন্তর নিয়ে এসে স্পোকগুলো সব কেটে ফেলি। তারপর এস. ডি. ও সাহেব যা পারেন করবেন।

যতীশ চলে যাচ্ছিল, দারোগা সাহেব তার হাতটা ধরে ফেলে বললেন—আনকোরা নতুন সাইকেল, শখের সাইকেল, স্পোকগুলো কেটে ফেললেই হল না! খুব মজা! ইয়ারকি পেয়েছিস। বেড়ালটাকে ছাড়িয়ে দে। ঘেয়ো, নেড়ি, একটা বেড়াল তাকে নিয়ে আদিখ্যেতা। কী নাম বাবা তোমার? একটু ছায়ায় সরে দাঁড়াও না। আমি তোমার কাকাবাবু হই বাবা।

পল্টুর মনে হল—ভদ্রলোকের বয়স তার বাবার বয়সের চেয়ে অনেক বেশি। পল্টুর তাই ইচ্ছে হল কাকাবাবু সম্বোধনটা মেনে নেওয়া ঠিক হবে না। পল্টু বললে—আজ্ঞে আপনি আমার কাকাবাবু হতে যাবেন কেন? আপনি আমার জ্যাঠামশাই।

—না, না, না, না, তা কী করে হয়। তোমার বাবা বয়সে ছোট হলেও সম্মানে কত বড়। আমি তোমার কাকাবাবু। চলো চলো ভেতরে চল, একটু মিষ্টিমুখ করবে চলো। আজকাল আমার মাথাটার যে কী হয়েছে! কখন কাকে কী কথা বলে ফেলছি! সবই হরির ইচ্ছা! প্রভু হে মধুসূদন! ওরে যতে বেড়ালটা খোল বাবা। না খুলতে পারিস পা দুটো কেটে বাদ দে।

—কত্তামশাই সাইকেলটাকে বরং ঠ্যালা গাড়িতে চাপিয়ে একবার হসপিটালে নিয়ে গেলে যদি কিছু হয়।

—তবে আমার মাথায় আর একটা আইডিয়া এসেছে, দাঁড়ান।

যতীশ হেঁকে উঠল—ও দিদিমা, দিদিমা গেলে কোথায় গো?

—কী বলছিস? চেল্লাচ্ছিস কেন? আমি কী কানের মাথা খেয়েছি।

দিদিমা, তোমার ফুলটুসি বাড়িতে আছে? কত্তামশাই আপনার বেড়ালটা মেনি না হুলো?

—নাম শুনলি সুখী, আবার জিগ্যেস করছিস মেনি না হুলো।

—ফুলটুসিটাকে একবার আনতে পারো?

—তাকে এখন পাব কোথায়? এই সময় সে একটু বেড়াতে বেরোয়। তারও তো আত্মীয়স্বজন আছে। খবরটবর নিতে যায়।

—যাও না একবার বাড়িতে গিয়ে দ্যাখো না, যদি পাও কোলে করে নিয়ে এস।

—তুই যা না, ওই তো আমার বাড়ি। আমাকে আবার হাঁটাবি কেন? আমি পুকুরে পানিফল তুলতে যাচ্ছি। ওমা, ওই তো আমার ফুলটুসি। দ্যাখ দ্যাখ কীরকম পাখি ধরতে বেরিয়েছে।

যতীশ পেছন থেকে আস্তে আস্তে গিয়ে ফুলটুসি পালাবার আগে ফক করে ধরে ফেলল! দারোগাবাবু খুব উদ্বিগ্ন গলায় বললেন—কী করতে চাইছিস যতে!

—দ্যাখেন না, কী মজাটা এবার হয়!

যতীশ ফুলটুসিকে চাকায় আটকানো বেড়ালটার সামনে নামিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে ফুলটুসির পিঠটা ধনুকের মতো বেঁকে গেল। ন্যাজটা ফুলে খাড়া হয়ে উঠল। গলা দিয়ে গোঁরর গোঁরর শব্দ বেরোচ্ছে। সুখীও ফুলছে। যন্ত্রণার চিৎকারটা রাগের চিৎকার হয়ে গেল। একটানে স্পোকে জড়ানো ন্যাজটা নিজে নিজেই এটা ঝটকায় খুলে ফেলে দুপাশে পটাক পটাক নাড়তে শুরু করল। ফুলটুসি ফ্যাস করে একটা থাবা চালিয়ে দিল। সুখীর নাকের পাশে লেগেছে। সুখী মিঞাও করে প্রচণ্ড একটা শব্দ করে, একটা পা খুলে ফেলল। কিছু লোম ছিঁড়ে স্পোকে আটকে রইল। ফুলটুসি সুখীকে বেকায়দায় পেয়ে মেরে দিল আর এক থাবা। সুখী সঙ্গে সঙ্গে আর একটা পা ছাড়িয়ে নিয়ে পিঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে ধপাস করে চাকা থেকে মাটিতে নেমে এল। ফুলটুসি ভেবেছিল সুখী বুঝি নক আউট হয়ে গেছে। সুখী হল দারোগা বাড়ির বেড়াল। তার প্যাঁচ ফুলটুসি জানত না। সুখী আর একটা পাশ ফিরেই মাটি থেকে সোজা লাফিয়ে উঠল ফুলটুসির গলার কাছে। পর মুহূর্তেই হইহই ব্যাপার। সুখী প্রতিপক্ষের গলা কামড়ে ধরে ঝুলছে। ঝটাপটি লাঠালাঠি। দুজনে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশ, ওপাশ থেকে এপাশ, তালগোল পাকাতে পাকাতে আসছে আর যাচ্ছে!

বুড়ি দিদিমা চিৎকার করে কাঁদছেন—ওরে আমার ফুলটুসি রে, ওরে যতে মুখ পোড়াব।

দারোগাবাবু চিৎকার করছেন—চিয়ার আপ সুখী, চিয়ার আপ!

পল্টু যখন বাড়ি ফিরে এল তখন পুজো প্রায় শেষ! পুরোহিত মশাই সত্যনারায়ণের কথা পড়ে শোনাচ্ছেন! পল্টুর রাস্তা দিয়েই কখন নারায়ণ হাতে নামাবলি গায়ে গুটি গুটি চলে এসেছেন, পল্টু দেখতেও পায়নি!

পল্টুর মা বললেন, এই যে ধেড়েকেষ্ট, এদিকে এসে পায় চাপা দিয়ে বস! এখুনি শান্তির জল দেবেন!

পল্টুর বাবা ফিসফিস করে বললেন—আশ্চর্য ছেলে তুমি!

পল্টুর ছোট বোন মার কানে কানে বললে—ওর প্যান্টের পেছনে একধাবড়া গোবর মা! বাবা শুনে বললেন, মাথায় ছিল এইবার প্যান্টে এল!

ভট্টাচার্য মশাই উঠে দাঁড়িয়ে আম্রপল্লব দিয়ে শান্তির জল ছিটোচ্ছেন—ওঁ আপদ শান্তি ও বিপদ শান্তি ওঁ শান্তিরেব শান্তি!

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%