ভূমিকা

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমরা ক্রমশ সভ্য হয়ে উঠছি। শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, চেতনার উন্নতি হয়েছে। সংকীর্ণতা কমে এসেছে। সমাজ-সচেতনতা বেড়েছে। বিজ্ঞান বিস্ময়করভাবে প্রকৃতিকে জয় করতে শুরু করেছে। আমরা আর আগের মতো নেই। দেবতার কাছাকাছি চলে এসেছি। সত্যই আমরা অমৃতের সন্তান। ভালো করে তাকালে আমাদের মাথার পেছনের দেয়ালে আলোর গোলাকার ছটা দেখা যাবে।

সংকীর্ণতা, স্বার্থান্বেষ, লোভ যেটুকু চোখে পড়ছে, তা আমাদের পরিশীলিত আচার আচরণের অপব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা যদি আগের চেয়ে উদার না হয়ে থাকি, তাহলে এত মানুষ এক জায়গায় শান্তিতে বাস করছি কী করে! ষাঁড়ের দৃষ্টান্তই তুলে ধরা যাক। দুটো মাত্র ষাঁড় এক জায়গায় হলেই শিঙে শিঙে লাগিয়ে, ঠেলাঠেলি করে কিছুক্ষণের জন্যে যানবাহন বন্ধ করে দেয়। আমরা নিশ্চয়ই ষাঁড়ের চেয়ে উন্নত। হ্যারিসন রোডের কাছে কখনও কী দেখা গেছে দুটো বিশাল মানুষ মাথায় মাথা লাগিয়ে পরস্পরকে ঠেলছে! ট্রাফিক পুলিশ হাত নামিয়ে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে! গাড়ি ঘোড়া সব বন্ধ! না, এ দৃশ্য দেখা যাবে না। অথচ সেই পরশ্রীকাতর ষাঁড় মহেশ্বরের বাহন! আর মানুষ হল শয়তানের আপেল খেকো ইডেনভ্রষ্ট জীব।

বেদান্তে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছবার একটা সহজ রাস্তা আছে। সেই রাস্তাটি হল নেতি, নেতি। এটা নয়, ওটা নয়, সেটা নয় করতে করতে আসল সত্যটিকে ল্যাম্পপোস্টের মতো জাপটে ধরে চিৎকার করে ওঠা : সোহহং। সেই নীতিই প্রয়োগ করে নিজেকে এইভাবে চেনা যেতে পারে, যেমন আমি ষাঁড় নই, কারণ আমার শিং নেই, আমি গুঁতোই না। মাঝে মধ্যে হাঁটুর গুঁতো মারি, কনুই চালাই, অবশ্যই বিপাকে পড়ে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে 'সরি' বলি। এক সময়কার দেবভাষা। ষাঁড় কি শিং দিয়ে গুঁতো মেরে 'সরি' বলে! বলে না। আমার গুঁতো অত্যন্ত উঁচু মানের গুঁতো। তার প্রয়োগ যানবাহনে আরোহণ, অবরোহণের সময়। ঈশ্বরলাভের জন্যে বহুপ্রকারের যোগ, মুদ্রা ও প্রাণায়াম বিধির প্রচলন আছে। সবই সিদ্ধসাধক নির্দিষ্ট পথ। এই জনভারাক্রান্ত দেবভূমিতে অফিসযাত্রী। দেবতাদের জন্যে রথের সংখ্যা বড়ই কম। ওদিকে দপ্তরে দপ্তরে অপ্সরা-পরিবৃত ইন্দ্রের দেবসভায় ঠিক সময়ে হাজিরা দিতে না পারলে খেদেশ্বর ক্ষিপ্ত হবেন। রথলাভকে ঈশ্বর লাভের তুল্য জ্ঞান করলে গুঁতো এবং কনুইয়ের সুপ্রয়োগ এক ধরনের হঠযোগ কিংবা মুষ্টিযোগের পর্যায়েই পড়বে। সেই যোগে কোনও দেবতা যদি ভূতলে পতিত হন অথবা পথচক্রে নিষ্পেষিত হন, তাহলে দেবভাষায় আমরা দেবোক্তিই করতে পারি : নায়মাত্মা বলহীনেন লভ্য।

আমার আমিটাই যখন সব, তখন অন্যের আমি নিয়ে মাথা ঘামাবার কী বা প্রয়োজন! অন্যের আমি অন্যে সামলাক, আমার আমিকে আমি সামলাই। জীবনের পথ তো বড় সোজা নয়, দেবতার পথ আরও দুর্গম : ক্ষুরস্যধারা নিশিতা দুরাত্বয়া। সুতরাং একটু নড়েচড়ে, গ্যাঁট হয়ে খেলিয়ে বসি। শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আমাদের বলেছিলেন, 'ক্লৈব্যং মাস্ম গম: পার্থ:'। আমি ক্লীব নই। আমি ব্রহ্ম। আমার হাঁটুর ওপর ব্রিফকেস ফেলে, দুপাশে ডেঙ্গোডাঁটার মতো ঠ্যাং ছড়িয়ে, সন্ধের পর সামান্য সোমরস পান করে, তাম্বুল চিবোতে চিবোতে, লর্ডের মতো বসে থাকব মিনি রথের জোড়া আসনে। অন্যের অসুবিধে। হচ্ছে হোক। তা বলে আমি অসভ্য নই। ন্যায়শাস্ত্র প্রমাণে বিশ্বাসী! আমি যে অসভ্য, প্রমাণ করো। উদাহরণ দিয়ে সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত করো। অসভ্যেরা উলঙ্গ হয়। আমি উলঙ্গ নই। ভারতের শ্রেষ্ঠ মিলের তৈরি জামা-কাপড় আমার পরিধানে! অসভ্যেরা সাবান, পাউডার ইত্যাদি প্রসাধন ব্যবহার করে না। আমি করি। তারা কাঁচা মাংস খায়। আমি চিকেন তন্দুরি খাই। কোনও অসভ্যের বাবাও অমন সুস্বাদু রান্না করতে পারবে না। অসভ্যেরা নখ কাটে না, দাড়ি কামায় না। আমি সপ্তাহে একবার নখ কাটি, রোজই বিলিতি বেলেডে দাড়ি কামাই। অসভ্যেরা জঙ্গলে বাস করে, আমি কলকাতা নামক শহরের সুরম্য ফ্ল্যাটে বসবাস করি। রেডিয়ো শুনি, টিভি দেখি, রেকর্ড প্লেয়ার চালাই। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল বের করে খাই। হাজারটা উদাহরণ উদ্ধৃত করে আমি যে অসভ্য নই, তা প্রমাণ করে দোব। ন্যায়শাস্ত্রে একে বলে খণ্ডন। আমি এখন চলন্ত গাড়ি থেকে থু: করে থুতু ফেলব। একবারও পথচারীদের কথা ভাবব না। এই জন্যে ভাবব না, আমি তো পথচারী নই এখন। শুধু তাই নয়, গতি আমাকে নিমেষে নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে। ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাবে। আমি এখন দাঁতখোঁচা দিয়ে দাঁত খুঁটে প্রাপ্ত খাদ্যাংশ সামনে ফুত করে ছুঁড়ব! কারুর গায়ে পড়বে। পড়ুক। এক আমি ভেঙে ভেঙে বহু আমি হয়েছে। যার গায়ে পড়ল সেও তো আমি। দৃষ্টিভঙ্গি পালটে ফেললে মানুষের দেবত্বের প্রমাণ দিকে দিকে!

আমি হৃদয়হীন নই। আবার সেই প্রমাণ। যারা খুন করে, তারাই হৃদয়হীন, আমি কাউকে খুন করিনি। খুন করলে জেলে যেতুম। যেহেতু জেলে যাইনি, সেইহেতু 'ল অফ দি ল্যান্ড' অনুসারে আমি সাধু। সাধুরা হৃদয়হীন হতে পারে না। যাঁরা বলেন কর্মস্থলে আমি চক্রান্ত করে উপযুক্ত ব্যক্তির পদোন্নতি না ঘটিয়ে তৈল প্রদানকারীরই স্বার্থ দেখি, তাঁরা ভুল ব্যাখ্যা করেন। তেল দিতে না চাওয়াটা এক ধরনের অহংকার। আমি কাউকে তেল দিই না। আমি কারুর পায়ে ধরে বড় হতে চাই না। সাধনমার্গে অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা অহমিকা। অহংকারী মানুষ উচ্চমার্গে ওঠার অধিকারী নয়। আমি নিজে অহম বিসর্জন দিয়ে, নানাভাবে সন্তুষ্ট করে ইন্দ্রের কাছাকাছি একটি আসন লাভ করেছি সাধনার জোরে। আমি জানি রামকৃষ্ণ কত বড় সত্য কথা বলেছিলেন, অহংকারের ফেঁসো উঠে থাকলে সুতো ছুঁচের গর্তে কিছুতেই ঢুকবে না।

মানুষকে দু-শ্রেণিতে ভাগ করে নিলেই সব ল্যাঠা চুকে যায় : কর্মী আর কর্মহীন। কর্মহীনদের জাগতিক আচরণ থেকে সহজেই বাদ দেওয়া চলে। তারা হল ভাগীদার। কিছুই না করে জায়গা দখল করে বসে আছে। পরান্ন ধ্বংস করে চলেছে। কোনও এক দেশে অত্যাচারী, ক্ষতিকারক পোকা মাকড় ও জীবজন্তু মেরে ফেলার প্রকল্প চালু আছে, যেমন চড়াই পাখি, কাক, পঙ্গপাল ইত্যাদি। সেই প্রকল্প এদেশে চালু করার অনেক বাধা। কারণ যারা কিছু করে না তারা ভোট দেয়। এরা অবশ্য দিনে দিনে ক্ষয় পাবে। প্রথমত রাজনৈতিক কামানের মানব-গোলা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পেটের দায়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করতে গিয়ে মার খেয়ে মরবে। নেশা-ভাঙ করতে করতে টেঁসে যাবে। ব্যাপারটা খুব ধীরে ধীরে হবে। তা হোক। তবু রাস্তা খোলা রইল। আর যারা যাবেই, তাাোদর অহমিকারও মূল্য নেই, বাতুলতাও কর্ণপাতের অপেক্ষা রাখে না। ওরা হল ক্ল্যামারিং মাস। একটা একটা করে না দেখে তাল হিসেবেই দেখা উচিত, দেখা হয়ও। সেইভাবেই বস্তিতে, ঝুপড়িতে থাকে। এদের অপরাধপ্রবণতা, এদের যৌনতা, এদের পুষ্টিহীন বেঁচে থাকা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে থিসিস লিখে ডক্টরেট করা যায়। মাঝে মধ্যে সোয়াবিন, চাপ ছোলার ডাল, গুমো আটা আর ভেলি গুড় মিশিয়ে পাউরুটি তৈরি করে নিউট্রিশানাল ব্রেড নাম দিয়ে এদের মধ্যে বিতরণ করে সমাজসেবীর সম্মান পাওয়া যায়, খেতাব পাওয়া যায়। সমাজসেবী সংস্থা এদের দৌলতেই দেশি বিদেশি অর্থ সাহায্য পেতে পারে। বিদেশি সাহায্যের গুঁড়ো দুধ, বাটার অয়েল ব্ল্যাকে ঝেড়ে দিয়ে নিজেদের বিলিতির খরচ তুলে নিতে পারে। সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা সেমিনার করতে যেতে পারে। সুতরাং এরা একেবারে মরে হেজে গেলে বড় অসুবিধে হবে। এদের মেয়েদের শ্লীলতাহানি করা যায় বলে হোমস বেঁচে আছে। হোমস-এ নানারকম কাজ হয়। সেইসব কাজ দিয়ে অনেকে অল্প খরচে ঘর সাজাতে পারেন। এদের পাপে ওপরতলার অনেকে পাপের সুযোগ পান। সেই সব হোয়াইট কালার ক্রাইম মাঝে মধ্যে কাগজে হঠাৎ ফাঁস হয়ে গেলে চায়ের দোকান সরগরম হয়। মধ্যবিত্তরা বেশ আনন্দ পান। সাহস আর সুযোগের অভাবে নিজে যে পাপ করতে পারিনি, সেই পাপ অন্যে করেছে দেখলে নিজের খাই খাই আত্মার আংশিক আহার হয়। ঘ্রাণে অর্ধ ভোজনের মতো। আমরা যারা কোনও না কোনও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কিছু করি আর না করি মাসের শেষে মাইনে পাই, তারা তো আর তেমন গায়ে গতরে হতে পারে না! তাদের মস্তিষ্কটাই বড় হয়। তারা বুদ্ধিজীবী। শ্রমজীবী নয়। তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করার জন্যে এমনকি মুখের সামনে এক গেলাস জল এগিয়ে দেওয়ার জন্যেও একজন লোক চাই। সে আবার কেমন হবে? বামুনের গরুর মতো। খাবে কম, দুধ দেবে বেশি। এমন মানুষ কারো সাপ্লাই দেবে? কেন এই হ্যাভ নটসরা। দেশটা আমেরিকার মতো উন্নত হয়ে গেলে মহাবিপদ হবে। ফোর্ড গাড়ি চেপে যদি রাঁধুনি আসে, কি সুইপার, কি ডিশ ওয়াশার আসে আর রোজ দশ ডলার পারিশ্রমিক চায়, তাহলে হোয়াইট কালারদের মুখ যে হোয়াইট হয়ে যাবে। তাই ওরা থাক। তেল দিক আর না দিক ফুটপাথে ঝুপড়িতে ওদের বংশবৃদ্ধি হোক। আমাদের রোদে বড়ো কষ্ট হয়, জলে ভিজলে কপালে শ্লেষ্মা জমে, ভারী কিছু তুলতে গেলে ফিক ব্যথা লাগে, নীচু হতে গেলে কোমরের স্লিপ ডিস্ক। আমাদের মহিলাদের রান্নাবান্না একঘেঁয়ে লাগে। তারা ওম্যানস লিব বলে চেল্লাচিল্লি করছে। দাস-দাসী নিয়ে গায়ে ফুঁ লাগিয়ে মুখে মেকআপ করে সংসার করতে গেলে আমাদের বড় দাস হতে হবে। তেল মেরে ঠাট রাখতে হবে। অহং নিয়ে লম্ভঝম্ভ করতে গেলে হাতে হ্যারিকেন হবে। আমাদের তাই গৃহে কালোয়াতি, কর্মস্থলে দাসত্ব। পাড়ার প্রিন্স সেরেস্তার ক্রীতদাস। এতে অগৌরবের তো কিছু নেই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'নিজেকে সমর্পণ করো।' শ্রীকৃষ্ণ কে? জীবনরথের সারথি তিনি। তার মানে জীবিকা।

বেঁচে থাকাটাই বড় কথা। কীভাবে বেঁচে থাকব, সেটা বড় নয়। সভ্যজগতে অনেক সভ্য জীবিকা আছে। সভ্য নামে সহনীয়। যেমন দালাল বললে রেগে যাবে। মিডলম্যান বললে তেমন খারাপ শোনাবে না। চামচা বললে মুখ ভার হবে, ফলোয়ারস বা অ্যাসোসিয়েটস বললে বিগলিত হবে। ষড়যন্ত্রকারী বললে প্রহার দিতে পারি। ম্যানিপুলেটারস বললে ক্ষমা করে দোব।

The life is more than the meat

বসুধৈব কুটুম্বকম এ যুগের বিধান নয়।

যে মানুষ চাকরি করে, যে মানুষ বহুতল বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে জীবন কাটায়, সুখী পরিবারের আধুনিক নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে তারা পাশের খুপরির মানুষের সঙ্গেই কুটুম্বিতা করতে পারে না বসুধা। জীবনের ওপর জীবিকার বেশ বড় রকমের একটা প্রভাব আছে। দাস আমি, সে যত বড় দাসই হোক না কেন, সংকীর্ণ আমি! প্রচুর মাইনে, অনেক সুযোগ সুবিধে। সাজানো ফ্ল্যাট, গাড়ি, ফোন, ফ্রিজ, এয়ারকুলার, ট্রাভেল, পার্টি, সুন্দরী স্ত্রী, হাই কানেকশন। জীবন একেবারে জজবজে। হলে কী হবে? সেই ছেলেবেলার যাত্রার আসর? সামনে অসংখ্য মাথা। দর্শক উচ্চতায় খাটো। একটি মাত্র বেঞ্চি। উঠে দাঁড়ালে ভালো দেখা যায়। সবাই উঠতে চায়। এ ওঠে তো ও পড়ে, ও ওঠে তো এ পড়ে। জীবিকার উঁচু মাচান থেকে প্রতিযোগীর ধাক্কায় পড়ে যাওয়ার আতঙ্কে কেরিয়ার শিকারি রাইফেল বাগিয়ে বসে আছে। চেষ্টা করেছ কি মরছে।

একটা জায়গায় মানুষ 'প্রটেকটিভ' হলে সাইকোলজিস্টদের ধারণা সে মানুষের পারসোনালিটি হবে 'ক্লোজড'। ক্রমশই উদারতার মৃত্যু হচ্ছে। ইংরেজদের কায়দায় আমারা এখন পরস্পরের সঙ্গে 'নডিং টার্মসে' নেমে এসেছি। সম্পর্ক, কেমন আছেন, ভালো আছি-র। চালাক বলবেন, বেশি 'হবনবিং' ভালো নয়। প্রথমত মানুষের আর সে অফুরন্ত সময় নেই। আমার কাজ আছে। মুখে নির্লজ্জের মতো না পারলেও মনে অস্বস্তি। অ্যা, ঠিক কাজের সময় জ্বালাতে এল। কাজটা কী? কেরিয়ার পালিশ। চকচকে, আরও চকচকে। আরও ক্ষমতা, কোথায় ক্ষমতা। সেরেস্তায়। পৃথিবী বিশাল। বিশালে স্থান পাওয়া কঠিন। সেখানে কে তুমি হরিদাস পাল। যাদের ওপর ডান্ডা ঘোরানো যায় তারা হল দাসের দাস। জীবিকা আমাদের 'স্যাডিস্ট' করে তুলেছে। এই 'স্যাডিজম' ওপর থেকে নীচের তলা পর্যন্ত চলে গেছে। রসায়নের ভাষায় যাকে বলা চলে 'পারকোলেশন'। চাকুরিজীবী মানুষ তুমি, 'মিলার অফ দি ডি'র মতো, রাতে নিশ্চিন্ত আরামে নিশ্ছিদ্র ঘুমে তলিয়ে যাবে তা তো হয় না। প্রতিদিন আউন্স মেপে তোমার অপমানের ঝুলি ভরা হবে। তোমার 'আমি'কে প্রতিদিন চটকে বিকলাঙ্গ করে তোলা হবে। এই সভ্যতাতেই সেই ঘটনা ঘটে। ডিকেন্সের 'অলিভার টুইস্টে'র কাল থেকে সমাজ এক চুলও কি এগিয়েছে? চাইল্ড লিফটিং বেড়েছে বই কমেনি। শিশুকে হাঁড়ি কিংবা কলসির মধ্যে পুরে রেখে বিকৃত করে পথের পাশে বসিয়ে রাখা হয়। যে মানুষ এমন কাজ সহজে পারে, সেই মানুষই আবার পকেটে হাত ঢোকায় ভিক্ষে দেওয়ার জন্যে। অনুকম্পায় হায় হায় করে ওঠে। এখানেই স্বর্গ, এখানেই নরক। দেবতা আর শয়তান একই আকাশের তলায় গুলতানি করছে। সিনডিকেট তৈরি করে বিকলাঙ্গ বানাবার ঘটনা অপরাধ জগতের ব্যাপার। আর যাঁরা প্রতিদিন সুস্থ মানুষের আমি চটকে ব্যক্তিত্বের নির্যাস বের করে ক্রীতদাস তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিচার করার কেউ নেই। আর একবার 'আংকল টমাস কেবিন' লেখার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। গণতন্ত্র মার্চ করছে। সমাজতন্ত্র মানুষকে মানুষ করে দিয়েছে। আমরা সবাই রাজা, এই রাজার রাজত্বে। স্বর্গের জানালা খুলে অজস্র তারার চোখে ঈশ্বর তাকিয়ে আছেন পৃথিবীর দিকে। মানুষের মাথা আকাশের চাঁদোয়ায় গিয়ে ঠেকেছে। কৃত্রিম উপগ্রহ সেই বিশ্বস্রষ্টার কানের কাছে বিপ বিপ করে চলেছে অষ্টপ্রহর।

তবু কেন ঘুম আসে না। ঘরের দেওয়াল 'সাটিন সিল্ক'। হালকা রঙের খোশ মেজাজে দামি আলোর শেড বেয়ে নেমে আসা বিদ্যুতের আলোয় অবগাহন করছে। ক্যালেন্ডারের নীল জলে রাজহাঁসের মতো পাল তুলেছে ইয়ট। চির, চেনার মাথা তুলেছে, পেছনে পাহাড়ের মাথায় বরফ জমে আছে। পা ডোবানো কার্পেটে ইরানি লতাপাতা। অকালেই সেই বৃদ্ধ শিল্পীর কথা মনে পড়ে। এক মাথা পাকা চুল। নাকের ওপর ঝুলছে দড়ি জড়ানো নিকেলের গোল চশমা। হাতে ছুঁচ আর পশম। সারাজীবন যে শুধু কার্পেটের নকশা তুলে গেল। যার দুটো পা পাথরের মেঝের শীতল স্পর্শ ছাড়া আর কিছুই পেল না। যার স্যাঁতসেঁতে ঘরের বাগিচায় বুলবুলি ডেকে যায়। বৃদ্ধ শুনতে পায় না। অপুষ্টিতে কান গেছে। দ্রাক্ষাকুঞ্জে আঙুর ঝোলে লাল হয়ে। আপেল গাছে ফুল আসে। এত বড় পৃথিবীতে তার কোনও প্রয়োজন নেই। জীবনের আয়োজন বড়ো সংকীর্ণ। কমজোর ফুসফুস, ক্ষীণ দৃষ্টি, কয়েকটা বাজরার রুটি, ছেঁড়া তালিমারা পশমের জামা, গোটা কতক মোটা কম্বল আর অপরিসীম শিল্পচেতনা, এই পথে তো জীবনের বৈভব। ভাগ্য পুরুষানুক্রমে এইভাবেই তো বাঁচতে শিখিয়েছে। পাহাড়ের মাথা থেকে বরফ চুঁইয়ে শীত নেমে আসে। বৃদ্ধ তবু শান্তিতে ঘুমোয়। ঘুমোতে পারে না সে, সেই নরোত্তম যার অভ্রোত্তম দেওয়াল থেকে দেওয়ালে মেঝে ঠেসে গালচের ওপর লোমশ কুকুর হামা দিয়ে বসে থাকে। চকচকে ফ্রিজের কফিনে নরম আলোয় ওঁত পেতে থাকে বরফ শীতল দ্রাক্ষাসব। কৃত্রিম চামড়া বাঁধানো সার সার সোফাসেট দেওয়ালে ঠেসান দিয়ে মাফিয়া নেতাদের মতো সারারাত ঐশ্বর্যের ষড়যন্ত্র ডিজিট্যাল ঘড়ি আলোর অক্ষরে জানাতে থাকে, আমি তোমার সময়, অনবরতই চলেছি, চলেছি। কালের দিকে চলেছি। Which is today tomorrow will be yesterday. চাঁদের আলোয় নীচের লনে সাদা মোটরের বনেটে শিশির জমছে মাঝ রাতে। বড় একা, বড় একা। প্রেম করো। তোমার এত প্রয়োজন। সুকোমল শয্যা, বড় উদ্বেল করা সুগন্ধ। ভারী ভারী পর্দা। খাবার টেবিলে মুর্গমসল্লম। একটু হাসো। দিলখোলা হাসি। হাসি আসছে না। অন্তরে গুমরে ফিরছে কান্না। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বড়ো ঠুনকো। সব জোড় খুলে যাচ্ছে। শিল্পের জগতে অনেক শক্তিশালী 'অ্যাডহেসিভ' বেরিয়েছে। কী না জোড়া যায় তাতে! সম্পর্ক কিন্তু জোড়ে না। মনের ফাটল বেড়েই চলেছে। স্ত্রী অসংলগ্ন। পুত্র কন্যারা কক্ষচ্যুত গ্রহের মতো দূর থেকে দূরে চলেছে। আয়োজন সাজানো শ্মশান। শয্যাসঙ্গী ঘিনঘিনে দুশ্চিন্তা। জীবন শেকসপিয়রের সেই কৃষক, Who hanged himself in expectation of plenty। ট্যানটেলেসের সেই কাপ। ঠোঁটের এক ইঞ্চি দূরে ঝুলে থাকে। চুমুক দেওয়া যায় না। এ যেন সেই ক্যাবারে নর্তকী। খুব সেজে পাদপ্রদীপের সামনে এসেছে। ঘুরে ঘুরে নাচছে। মনে মনে প্রস্তুত। রোমশ হাত এগিয়ে আসবে। শুরু হবে বস্ত্রহরণের পালা। শেষ দৃশ্যে সম্পূর্ণ উদম। এ নিয়তি কেউ ফেরাতে পারে না। এ খেলা চলে আসছে সেই মহাভারতের কাল থেকে। কৃষ্ণ কোথায়?

অনিশ্চয়তার রাজারা বসে আছেন সর্বত্র। ফৌজ তৈরি। অসংখ্য পেরেক, ত্রুশ আর কাঁটার মুকুটের আয়োজন। হাজার যিশু প্রস্তুত হচ্ছেন, হাজার সিজার অশ্রুত কোরাসে বলছেন, এত তু ব্রুটাস। সিজারে আর ব্রুটাসে খেলা চলেছে। খেলাটা হল, খেয়ে পরে বেঁচে থাক, তবে মানুষের মন নিয়ে নয়, পশুর মন নিয়ে। বাবুর বাড়িতে কুকুর খুব সুখে থাকে। সকালে বিস্কুট, দুপুরে মাংসভাত, রাতে দুধ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, নিয়মমতো চান, লোমে বুরুশ; কিন্তু ভীষণ বাধ্য হতে হবে। প্রভুকে দেখে ন্যাজ নাড়তে হবে। সামনের দুটো পা দিয়ে বুকে উঠে দাঁড়িয়ে চুকচুক করে মুখটা একটু চেটে দিতে হবে। ন্যাজ নেড়ে, মাথা নেড়ে, পাগলামি করে বোঝাতে হবে, বড় আনন্দ। প্রভু বললেন, হ্যাঁ এই তো আমার কুকুর, ওয়েল ব্রেড ওয়েল ট্রেনড। পেডিগ্রিভ কুকুর কি ট্রেনিং নেয় মশাই। একেবারে মানুষের মতো। শুধু ভাষাটাই যা আলাদা। এ ডগ হ্যাজ এভরিথিং একসেপ্ট স্পিচ। ওর পেছনে, মাসে আমার কত খরচ জানেন? ডেলি মাংস, দুধ, ওষুধ। তবে হ্যাঁ, খরচে সুখ। বেইমানি করে না।

মাসে মাইনে চার কি পাঁচ হাজার টাকা। সাজানো ফ্ল্যাট। গাড়ি। আশপাশ খরচের জন্যে অ্যালাউনস। পেডিগ্রি বাজিয়ে চেয়ারে বসানো হয়েছে। সব ঠাটই বজায় থাকবে, তবে ম্যানেজমেন্টের কথা শুনে চলতে হবে। যাদের দেখে ঘেউ ঘেউ করতে হবে তাদেরই ঘেউ ঘেউ করবে, যাদের দেখে ন্যাজ নাড়তে হবে, তাদের দেখে যেন ঘেউ ঘেউ করে ফেলে না। বুল-ডগ আর নেড়ি-ডগের ক্লেভার কম্বিনেশনই হল ঠাটবাট বজায় রাখার, ওপরে চাবিকাঠি। চাপে থাকো, চাপে রাখো। অন্য কিছু করার চেষ্টা কোরো না, বিপ্লব-টিপ্লবের কথা বলতে পারো, তবে বিশ্বাস কোরো না। রুশো, ভলটেয়ার, লেনিন, গুয়েভার, ক্যাস্ট্রো, ও সব হল সাইক্লোনের মতো। নিম্নচাপ, ঊর্ধ্বচাপের খেলা। প্রভাব বেশি দিন থাকে না। ন্যাজ আবার বেঁকে যাবেই। ন্যাজের স্বভাব যাবে কোথায়? সিনেমার পোস্টার দ্যাখোনি; ভাই হো তো অ্যায়সা। সেই রকম ন্যাজ হো তো অ্যায়সা। কথাটা হল 'কনট্রোল'। নিয়ন্ত্রণ। সামলে রাখো, কান ধরে টান মারো, বেশ করে মোচোড় মারো। রসকিনের কথায় মহাত্মাজির মতো চোগা-চাপকান ছেড়ে নাটালে চলে যেও না যেন। সব মহাত্মারই শেষ পাওনা একটি বুলেট। প্রমাণিত সত্য, কলমের চেয়ে টেলিস্কোপিক রাইফেল অনেক শক্তিশালী। গান্ধী রাজঘাটে, কেনেডি, মার্টিন লুথার কিং আমেরিকায়। পড়তে পারো, তবে বিশ্বাস কোরো না।

The life is more than the meat

The rich not only refuse food to the poor, they refuse wisdom, they refuse virtue, they refuse salvation. Ye sheep without shepherd, it is ot the pasture that has been shut from you but the presence. Meat! perhaps your right to that may be pleadable; but other rights have to be pleaded first, Claim your crumbs from the table, if you will; but claim them as children not as dogs; claim your right to be bed, but claim more luodly your right to be holy, perfect and pure.

তমসো মা জ্যোতির্গময়, অসতো মা সদগময়, মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়। ঘুম আসে না, চারিদিকে বলাৎকারের চিৎকার। চলবে না, চলবে না। চলছে তো? এইভাবেই চলছে, চলবে। নান্য: পন্থা বিদ্যতে হয়নায়। মর্ডান মেডিসিন চেতনায় প্রলেপ লাগাবার স্মিত বটিকা বের করেছে। ব্যক্তিত্বকে চুরমার করে দেওয়ার দাওয়াইও বিজ্ঞানের হাতে।

Where, where in Heaven am I?

But don't tell me!

প্রেমে আর রণে যে কোনও কৌশল অবলম্বন করা চলে। শাস্ত্রের সমর্থন আছে। সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরও অশ্বথামা হত জোরে বলে, ফিসফিস করে যোগ করেছিলেন ইতি গজ। রাজনীতিতে চাণক্য আছে। নীতি একটাই, কূটনীতি। মানুষের পৃথিবী মানুষের নিয়মেই চলবে। আদর্শ এক জিনিস, আচরণ আর এক জিনিস। একটা থিয়োরি, আর একটা প্র্যাকটিস।

মর্ত্যে স্বর্গ কোথায়! কল্পনায়! মর্ত্যে হল বিকিকিনির হাট। এখানে যৌবন বিকোয়, অভিজ্ঞতা নিলামে চড়ে। শিক্ষা সোনার চাবিকাঠি দিয়ে সাফল্যের দরজা খোলে। অতীতে কিছু কল্পনাপ্রবণ মানুষ, ধর্ম নিয়ে, আদর্শ নিয়ে, জীবন নিয়ে, পাতার পর পাতা বড় বড় কথা লিখে গেছেন! তখন কলকারকাখা ছিল না, কোর্ট কাছারি ছিল না, নির্বাচন ছিল না, ইউনিয়ন ছিল না, ট্রেড ইউনিয়ন ছিল না। মালিম শ্রমিক সম্পর্ক ছিল না। পৃথিবীতে পোকার মতো মানুষ গিজগিজ করত না। যে মানুষের মগজ থেকে বৈদিক সূক্ত বেরিয়েছিল, যে মগজে জন্মেছিল উপনিষদ, গীতা, ভাগবত, সেই মানুষেরই মগজ সৃষ্টি করেছে পর্ণোগ্রাফি, সেক্স শপ, টর্চার মেশিন। যে মাটিতে যিশু, সেই মাটিতেই মোবুতু। মন্দিরের দশ হাত দূরেই বেশ্যালয়। একদল যখন মা মা করছেন, আর একদল তখন মাগ মাগ। যে নারীতে মা, সেই নারীতেই মায়া। একজনের পায়ের ধুলো নিয়ে আর একজনের ঘাড়ে লম্ভ মারি। মূর্তি তৈরি করে সোনার সিংহাসনে বসাই, আবার সোনালি ব্রা পরিয়ে উলঙ্গ করে ক্যাবারে নাচাই। যে নারীতে আমার জন্ম, সেই নারীতেই আমার জারজ সন্তান। যে মাটিতে রাজা, সেই মাটিতেই চেনে বাঁধা ক্রীতদাস। মানুষ কারুর প্রভু, কারুর দাস।

জীবনের বিচিত্র ভূমিকা।

বিভাসবাবু বড় চাকরি করেন। চাকরি যে করে তাকেই তো চাকর বলে। বিভাসবাবুকে চাকর বললে অনেকেরই চাকরি যাবে। তিনিও যে চাকর এই বোধ তাঁর সাবকনশাসে ছড়িয়ে আছে। চাকর বললেই তিনি রেগে যান। বলতে হবে অফিসার। ফার্স্টক্লাস, গেজেটেড অফিসার। বলতে হবে বড় সাহেব। আগে পরে স্যার জুড়তে হবে। ঘরে ঢোকার আগে অনুমতি নিতে হবে, মে আই কাম ইন স্যার! অধস্তনের দিকে নিতান্ত তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলবেন, ইয়েস। সামনে সারি সারি চেয়ার; কিন্তু বসা চলবে না। বসলেই একটা কর্কশ দৃষ্টি লেহন করবে সর্বাঙ্গ। অপরাধ বুঝে ওঠার আগেই বড় সাহেবের অন্তরীক্ষে সর্বনাশের পরোয়ানা প্রস্তুত হয়ে যাবে। আমি তো তোমায় বসতে বলিনি হে ক্রীতদাস। যে জানে, সে কখনও বিনা অনুমতিতে বসার দু:সাহস দেখায় না। বড় সাহেবের কামরায় হাত কচলানোই বিধেয়। মাঝে মাঝে মাথা চুলকানো এক ধরনের অধস্তন ভঙ্গি। বাদামি সাহেবরা এই ভঙ্গিটি বড় পছন্দ করেন। সাহেব আড়চোখে দেখেন, আর মনে মনে তারিফ করেন। এই তো আমার হোয়াইট কালার ক্রীতদাস। এই সময়টায় যিনি জানেন, তিনি সঠিক তৈল প্রদান করে ভবিষ্যতের পথ তৈলাক্ত করেন, পণ্ডিতপ্রবর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তো লিখেই গেছেন, তৈল এক প্রকার স্নেহজাতীয় পদার্থ। বাঙালির শরীর তেলে আর জলে। তুমি আমাকে স্নেহ করো, আমি তোমাকে স্নেহ করি। সায়েব যদি অন্যায় বলেন, হে অধস্তন, তুমি প্রতিবাদ কোরো না। শুধু মাঝে মাঝে, ইয়েস স্যার বলে যাও। ইয়েস স্যারের সুপ্রয়োগে পঙ্গুও কেরিয়ারের সুউচ্চ পর্বত লঙ্গন করতে পারেন। কত নজির চাই। তিনি বললেন, ইউ আর এ ফুল। তুমি বলো ইয়েস স্যার। তিনি বললেন, আপনি একটা অপদার্থ, গাধা। তুমি বলো, ইয়েস স্যার। এবংবিধ আচরণে কত অপদার্থ গর্দভ সুউচ্চ পদে আরোহণ করে স্বাধীনচেতা, আদর্শবাদী পদার্থের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। নিজেকে পদার্থ প্রমাণ করে কায়ক্লেশে বেঁচে থাকা মূর্খের বিলাসিতা। বুদ্ধিমান গাড়ি-বাড়ি করে। ফুটবলের মতো স্ত্রী পুত্র নিয়ে সুখে দিনাতিপাত করে। একটু ছোট হলে যদি বিরাট হওয়া যায়, তা হলে অত মর্মবেদনা কেন? ক্ষমতাশীল মানুষ যদি শুয়োরের বাচ্চা বলেন, তাহলেই কী তুমি জেনুইন শুয়োরের বাচ্চা হয়ে গেলে! তোমারও তো একটা এলাকা আছে, যেখানে তুমি মানুষ, অন্য শূকরশাবক। আলো আর ছায়ার মতো এই তুমি মানুষ, এই তুমি শূকর তনয়। থিয়েটারের স্টেজ। চরিত্রের ওপর আলোর ফোকাস পড়ছে। কখনও নীল, কখনও লাল।

ভাদুড়ী চক্রবর্তীকে বললেন, কী বড় সাহেবের কাছে খুব ঝাড় খেয়ে এলে?

চক্রবর্তী বললেন, আরে ভাই আন্ডার সেক্রেটারি ডেপুটির কাছে সকালে খুব ঝাড় খেয়েছে। ডেপুটি খেয়েছে জয়েন্টের কাছে। জয়েন্ট খেয়েছে সেক্রেটারির কাছে। সেক্রেটারি খেয়েছে মন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রী খেয়েছে গিন্নির কাছে!

গিন্নির কাছে?

হ্যাঁ রে ভাই। সকালে খুব ঝাড়ু দিয়েছে।

চার্লির ছবির মতো। হেড বাটলার অ্যাসিসটেন্টকে লাথি ঝাড়ল, সেই লাথি রিলে হতে হতে চলে গেল ডোরকিপারের পাছায়। ছিটকে পড়ল রাস্তায়।

কোনও মানুষই স্বাধীন নয়। সংসারী মানুষ তো আদপেই নয়। যিনি সন্ন্যাসী তিনি কোনও সংঘ বা সংগঠনের দাস। কোনও রাষ্ট্রও পুরোপুরি স্বাধীন নয়। স্মল পাওয়ার বিগ পাওয়ারের ধামা ধরে থাকতে বাধ্য হয়। তা না হলে যে-কোনও সময়ে অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।

উপার্জনের জন্যে জীবিকার বাজারে মানুষ নিজেকে নিলামে চাপায়। আর তখনই সে হয়ে যায় দাস আমি। যত বড় চাকরিই হোক। একবার লিডেন সাহেব ক্ষুণ্ণ হয়ে চাকরি ছেড়ে চলে এসেছিলেন। ক্ষোভের কারণ, নতুন রাজধানীতে মানুষের শ্রেণিবিন্যাস হয়েছে উপার্জন অনুসারে। যাঁদের বেশি আয়, তাঁরা থাকবেন এ সেক্টারে, এইভাবে ধাপে ধাপে বি সি ডি। জাতিভেদ, বর্ণভেদ কাগজে কলমে উঠে গেলেও আর এক ধরনের বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যার মূলে আছে উপার্জনভেদ।

যে কোনও শিল্প-শহরেই এই নতুন বর্ণভেদ তৈরি হয়েছে। পদমর্যাদা অনুসারে মানুষের কোয়ারেন্টাইন। মেলামেশার ব্যাপারেও পদমর্যাদার বাধা। অফিসারস ক্যান্টিন। সেখানে ইতর জনের প্রবেশ নিষেধ। এ কী জ্বালা! ছিলাম উচ্চবর্ণের মানুষে। লেখাপড়াতেও তেমন খারাপ ছিলাম না। বশংমর্যাদা ছিল। তেমন করিৎকর্মা হতে পারিনি বলে ইস্পাত কারখানার ফোরম্যান। কোয়ার্টার জুটেছে সি সেক্টারে। কাজকর্মেও চৌখস। তবু আমি কী ক্লাস। এ ক্লাসের ব্রাহ্মণরা ব্রাত্য। ওঁদের ক্যান্টিনে গ্রিলড চিকেন হলে আমাদের ক্যান্টিনে ঘুগনি, আলুর দম।

কোনও কোনও অফিসে ল্যাভেটরির মাথায় লেখা আছে, গেজেটেড অফিসারস। সেখানে হোমরাচোমরা পুঁই পুঁই পুঁই করে শিস দিতে দিতে জলবিয়োগ শুরু করলেন। ঝুল পাঁচিলের পাশে উঁচিয়ে আছে বকের মতো গলা হঠাৎ পাশের দিকে নজর চলে গেল। অচেনা কে একজন পাশের আড়ালে একই কর্মে ব্যস্ত। নিজের ত্যাগ বন্ধ রেখে তিনি একধাপ পিছিয়ে এলেন। ব্যাটা যদি ননগেজেটেড হয়। গেজেটেড মলমূত্র আর ননগেজেটেড মলমূত্রের জাত আলাদা। তিনি যেই শেষ করলেন, ইনি প্রশ্ন করলেন, আর ইউ গেজেটেড?

পা ফাঁক করে নেচে প্যান্টের ফাস্টনার আঁটতে আঁটতে তিনি বললেন, অ, সিওর। কান্ট ইউ রেকগনাইজ মি ফ্রম দি স্মেল অফ মাই ইউরিন?

বড়সায়েব টুরে চলেছেন। সঙ্গে চলেছেন, কয়েকজন কুচো সায়েব। সার্কিট হাউসে পদার্পণ করেই তিনি গরম জল, চা, চিকেনের ফরমায়েশ পেশ করে কুচোদের বললেন, যান আপনারা আপনাদের মতো একটা হোটেল-টোটেল দেখে নিন। এতক্ষণ একই জিপে এঁরা এসেছেন। গল্পগুজবও হয়েছে। মাঝে মধ্যে রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে, চা, সিঙাড়া, কৃষ্ণনগর হলে সরপুরিয়া, শক্তিগড় হলে ল্যাংচা, গোবরডাঙা হলে কাঁচাগোল্লা, মুর্শিদাবাদ হলে ছানাবড়া সেবন হয়েছে। সার্কিট হাউসে অনেক ঘর, কিন্তু চাকরিতে যারা নীচ জাতীয় তাদের সঙ্গে সহবাস চলে না। নীচ জাতীয় মহিলার সঙ্গে সহবাস কিন্তু শাস্ত্রসম্মত। আমাদের শাস্ত্রে আছে, বিদেশি শাস্ত্রেও সেই একবিধি। সাদা সায়েবরা এদেশে সেই প্রজাতি রেখে গেছেন।

মাঝরাতে বিনা নোটিসে সপার্ষদ মন্ত্রী এসে হাজির হলেন। সবকটা ঘরই তাঁর লাগবে। সায়েব তাঁর লটবহর, গেলাসে হাবুডুবু নকল দাঁতসহ, সার্কিট হাউসের হাতায় অর্জুন গাছের তলায় গিয়ে বসলেন। রাত কেটে গেল তারা গুণে।

ছোট করে দাও, চেপে দাও, দুমড়ে মুচড়ে দাও। ক্ষুদ্র মানুষ কল্পনায় বিশাল হতে চায়। মনস্তত্বের ব্যাখ্যায় একে বলে বিপরীত ইচ্ছা। ক্ষুদ্র করে রাখার চেষ্টা হলেই প্রতিরোধ তৈরি হবে। বিশালের কল্পনা আসবে। গাছের ফল ন্যাকড়া বেঁধে রাখলে বড় হয়। মানুষ সহসা বড় হতে পারে না। জগতাতীতে সে পূর্ণতা খোঁজে। অরণ্যদেবকে ভালোবেসে ফেলে। আসলে যা হয়, সব মানুষের ক্ষেত্রেই যা সত্য, সে স্যাডিস্ট হয়ে যায়। পরকে মারার ইচ্ছে পূর্ণ হলে, নিজে মার খাবার ইচ্ছে অবচেতনে লুকিয়ে বসে থাকে। যুদ্ধের নিয়ম হলে কিল অর বি কিলড। পরের দাসত্বে মানুষ মাধুর্য খুঁজে পায় একই কারণে। নিপীড়নের ইচ্ছা নিপীড়িতে তৃপ্তি খুঁজে পায়। খুব ঝেড়েছির মতো খুব ঝাড় খেয়েছিতেও একই আনন্দ। প্রেম প্রীতি ভালোবাসা এক ধরনের ক্লান্তি, আকাঙ্ক্ষা। বৃদ্ধ মাস্তান যেমন হৃতবল হয়ে, কপালে তিলক সেবা করে, ভাগবত পাঠের আসরে বসে, দুলে দুলে কীর্তন শোনে। লোকে ভাবে এত প্রেম ছিল কোথায়! দাঁত পড়ে গেছে তাই নিরামিষাশী। চোখে ভালো দেখতে পাই না তাই জগৎ সুন্দর। ঘাড় মটকাবার শক্তি নেই তাই :

হা হা প্রাণপ্রিয় সখী কী হৈল মোরে।

কানু প্রেমবিষে মোর তনু-মন-জড়ে।।

রাতিদিন পোড়ে মন সোয়াং না পাঙ।

যাঁহা গেলে কানু পাঙ তাঁহা উড়ি যাঙ।।

প্রেম আবার কী? একপক্ষে অধিকার বোধ আর একপক্ষে আত্ম বিসর্জন। আমাতে আত্মসমর্পণ করো আমি তোমাকে বাঁচিয়ে রাখব। স্বামী স্ত্রীকে বললেন, যা বলব তাই শুনবে, প্রতিবাদ করবে না, উঠতে বললে উঠবে বসতে বললে বসবে। তুমি আমার পেট ডগ। বিছানা পাবে, সিল্ক পাবে, সোনা পাবে। পিতা পুত্রকে বললেন, অবাধ্য হবে না। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। মালিক শ্রমিককে বললেন, নতজানু হও, বোনাস পাবে। চেলারা নেতাকে বললেন, আমাদের কালটিভেট কর গুরু তবেই গদি থাকবে। আইনের প্রভুরা বললেন, সন্তুষ্ট রাখুন, বেআইনি চালাতে দোব। স্বর্গ কোথায়? পলাতকের দুর্বলতায়। এরিক ফ্রমকে টেনে আনি, The power of the one to whom one submits is inflated, may he be a person or a god, he is everything. I am nothing except in as much as I am part of him.

সকল অধ্যায়
১.
কখগঘ
২.
মনোরঞ্জন অসুস্থ
৩.
নীপার বক
৪.
ফুল ফোটার আয়োজন
৫.
আমার বিয়ে
৬.
ট্রেন
৭.
মিলিটারি সিন্দুক
৮.
বত্রিশ নম্বর বিছানা
৯.
কাটলেট
১০.
অভয়ারণ্য
১১.
চলে যায়
১২.
শীর্ষ সম্মিলন
১৩.
যদি হই মুখ্যমন্ত্রী
১৪.
একদা 'একদিন'
১৫.
মৃত্যুর বয়স
১৬.
এক চড়েতেই রাজা
১৭.
অর্জুন
১৮.
সুন্দরী লেন
১৯.
দ্বিতীয় পক্ষ
২০.
সেই দিদি
২১.
ভালোবাসা মোরে ভিকিরি করেছে
২২.
চিড়িয়াখানা
২৩.
হনুমান টুপি
২৪.
দুই আর দুয়ে চার
২৫.
সন্ধানে কোনও ভালো ছেলে আছে
২৬.
ডা: অমৃত চৌধুরীর ডায়েরি
২৭.
কুকুরের ডাক্তারি
২৮.
পাঁচ বন্ধু
২৯.
ইঁদুর ও দাদু
৩০.
একটি মানুষ একটি বল
৩১.
দু:সাহসী দু-চাকা
৩২.
সব ভালো যার শেষ ভালো
৩৩.
পার ঘাট
৩৪.
কৃপা
৩৫.
সেতার
৩৬.
বোতাম
৩৭.
সুরঞ্জনা
৩৮.
গেল, গেল
৩৯.
বলদের গলায় গোড়ের মালা
৪০.
আর যা-ই করো,বিপজ্জনক রকমের বড়লোক হয়ো না
৪১.
ছদ্মবেশী
৪২.
চাঁদের আলো
৪৩.
বাঁদর
৪৪.
কোরা কাগজ
৪৫.
কোনওদিন শুনেছ,চোর এসে সাধ করে ধরা দিচ্ছে
৪৬.
বড়ি ও শ্বশুরমশাই
৪৭.
তাসের ঘর
৪৮.
দগ্ধ দরজা
৪৯.
গগনের মাছ
৫০.
তোয়াজ
৫১.
ফিরে আয়
৫২.
মাংস
৫৩.
পয়সা
৫৪.
বামুনের গরু
৫৫.
জলছাত
৫৬.
সাইডিং
৫৭.
শেষযাত্রা
৫৮.
বয়েসে
৫৯.
শেষ কুত্তা
৬০.
ছুটি
৬১.
অংশীদার
৬২.
কারণ
৬৩.
প্রেম
৬৪.
দু:খের আনন্দ
৬৫.
মা
৬৬.
ধড় আমার মুণ্ডু পাবলিকের
৬৭.
পুজোর আয়োজন সহজ নয়
৬৮.
'স্থান নেই কাল নেই পাত্র নেই'
৬৯.
লববর্ষের নকশা
৭০.
দক্ষিণ যেন বিলেত
৭১.
হাসি কোথায় হারিয়ে গেল
৭২.
শীত
৭৩.
গল্প লিখে কী বিপদ!
৭৪.
চিচিং ফাঁক
৭৫.
আগমনী
৭৬.
দেউলে হতেও রাজি
৭৭.
হারিয়ে গেল
৭৮.
কী জ্বালা
৭৯.
বেদনা
৮০.
বেঁচে থাকার সহজপাঠ
৮১.
প্রেম ও বিবাহ
৮২.
জীবন বেদ
৮৩.
জীবন দর্শন
৮৪.
নিজের ঢাক নিজে পেটালে
৮৫.
মরীচিকা
৮৬.
তোমার ম্যাও তুমি সামলাও
৮৭.
হাসতে মানা নেই
৮৮.
বাঙালির পুচ্ছ নৃত্য
৮৯.
যুগ যুগ জিও
৯০.
ভরাডুবি
৯১.
স্বভাব যখন অস্বাভাবিক
৯২.
ষষ্ঠীসংবাদ
৯৩.
নিমিত্তের ভাগী
৯৪.
ইচ্ছাপূরণ নগদে অথবা কিস্তিতে
৯৫.
দুই পুরুষে
৯৬.
সব জানা চাই
৯৭.
দুধের দাঁত
৯৮.
ছত্রিশটি বছর
৯৯.
বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল
১০০.
পদকে নই পদানত
১০১.
স্যাটা স্যাট
১০২.
গরু
১০৩.
ছাগল
১০৪.
বোকা পাঁঠা
১০৫.
হ্যাচাং করে কেতরে গেল
১০৬.
আমি আর তুমি
১০৭.
টাচ্
১০৮.
বেশ আছি রসে বসে
১০৯.
মেয়েদের ভাগ্য ফিরবে কবে!
১১০.
গিলে করা দম্পতি
১১১.
এটা কোন যুগ!
১১২.
জ্ঞানদা, মোক্ষদা
১১৩.
যাও পাখি
১১৪.
যোগসূত্র পটাং
১১৫.
কে উদার?
১১৬.
মান অপমান
১১৭.
পলায়ন নয় সম্মুখ সমর
১১৮.
আয়না
১১৯.
রোগ দুরারোগ্য
১২০.
গেল, গেল তবু যায় না
১২১.
নবীন বছরে প্রবীণ বাঙালি
১২২.
বিদায় পৃথিবী
১২৩.
বাতি জ্বলল, বাতি গলল, ভোর
১২৪.
মিলেনিয়াম
১২৫.
দীর্ঘ রজনী প্রভাত প্রায়
১২৬.
যাঁহা বাহান্ন তাঁহা তিপ্পান্ন
১২৭.
জীবনের কার্টুন
১২৮.
প্রেম-১
১২৯.
প্রেম-২
১৩০.
প্রতিষ্ঠিত প্রেম
১৩১.
ছেলে যেন মাছ
১৩২.
পুজোর বাজার
১৩৩.
কী চাই! (১)
১৩৪.
কী চাই! (২)
১৩৫.
ফুটবল
১৩৬.
এক দানা চাল
১৩৭.
মরিতে চাহি না আমি
১৩৮.
বিউটি পারলার
১৩৯.
ইংলিশ মিডিয়াম
১৪০.
সাগর
১৪১.
বাউল
১৪২.
জ্ঞান
১৪৩.
গৃহসুখ শাস্ত্র
১৪৪.
আশা
১৪৫.
বিশ্বাস
১৪৬.
স্বীকারোক্তি
১৪৭.
ভূতের সঙ্গে গল্প
১৪৮.
আর বোলো না ভাই!
১৪৯.
আজও দাঁড়িয়ে আছি
১৫০.
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
১৫১.
শেয়ালেও কামড়ে দিতে পারে
১৫২.
জীবনের জাতীয় সঙ্গীত
১৫৩.
মেয়েদের সৌন্দর্য
১৫৪.
বাস-মিনিবাসের লাইনেঘোষ, বোস, মিত্তির
১৫৫.
ফরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, ফরে ফরে
১৫৬.
বাঁচতে ইচ্ছে করে না
১৫৭.
মৃত্যু একটা ড্রপসিন
১৫৮.
শান্তির সহজপাঠ
১৫৯.
বুদ্ধুকা দেশমে ধুর্তুকা রাজ
১৬০.
সকাল সকাল ভোট দিন
১৬১.
অনুসন্ধান
১৬২.
পকেটমারি
১৬৩.
কোথাকার জল কোথায় গড়ায়
১৬৪.
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ মদতপুষ্ট কিছু মানুষ
১৬৫.
বেঁচে থাকার বিশ্রী ভয়টা আর নেই
১৬৬.
প্রেম শিকল পরায়, সংসারে ঢোকায়
১৬৭.
ভগবান হেরে গিয়েছেন
১৬৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
১৬৯.
বাড়িওয়ালা
১৭০.
প্রেসার কুকার
১৭১.
সাত টাকা বারো আনা
১৭২.
আমার ভূত
১৭৩.
ভূমিকা
১৭৪.
ন্যাড়ার বেলতলা
১৭৫.
আজ আছি কাল নেই
১৭৬.
ট্রিটমেন্ট
১৭৭.
দিন আনি দিন খাই
১৭৮.
লেপ
১৭৯.
শাপে বর
১৮০.
স্পেশাল অফিসার
১৮১.
বিলিতি বাঁশ
১৮২.
টেলিফোন
১৮৩.
খ্যাঁকশিয়াল
১৮৪.
পি. এ.
১৮৫.
জরদগব
১৮৬.
মাসি
১৮৭.
গরলপুত্র
১৮৮.
শশধর হাকসলি অ্যান্ড গুজ
১৮৯.
চিন্তা
১৯০.
তুমি আমার আমি তোমার

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%