চণ্ডী লাহিড়ী
মধ্যযুগের গ্রিসে করোবিয়ান (Corobian) ছিলেন চ্যাম্পিয়ন মুষ্টিযোদ্ধা। একাধিকবার তিনি দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে বিজয়মুকুট পরেছেন। যুদ্ধরত অবস্থাতেই তিনি মারা যান।
সেকালের নিয়ম অনুসারে মেয়েরা মুষ্টিযুদ্ধ, মল্লযুদ্ধ ইত্যাদিতে কেবল যে অংশ নিতে পারতেন না তাই নয়—সেসব দেখাও ছিল নিষিদ্ধ। নিষেধ অমান্য করলে প্রাণদন্ডের বিধান ছিল। পাহাড়-চূড়া থেকে নিক্ষেপ করাই ছিল বিধান।
করোবিয়ান নিজের ছেলেকে মুষ্টিযুদ্ধ শেখাবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু অকালে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় সেশিক্ষা তেমন এগোয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর করোবিয়ানের স্ত্রী নিজে এগিয়ে এলেন ছেলেকে মুষ্টিযুদ্ধ ও অসিযুদ্ধ শেখাতে। তিনি পুত্রকে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে পারদর্শী করে তুললেন। তারপর একদিন প্রতিযোগিতার দিন এল। করোবিয়ানের বিধবা স্ত্রী পুরুষের ছদ্মবেশে গেলেন অ্যারেজা অর্থাৎ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে। অনেকক্ষণ আত্মগোপন করেছিলেন তিনি পুরুষের পোশাক করে। কারণ স্ত্রীলোকদের সেখানে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু যেই শ্রেষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে পুত্রের নাম ঘোষিত হল, শ্রীমতী করোবিয়ান আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলেন। স্ত্রীলোকের কন্ঠ ধরা পড়ে গেল।
এবার শ্রীমতী করোবিয়ানের মৃত্যুদন্ড হবার কথা। তাঁকে বন্দি করে রাজার কাছে আনা হল। শ্রীমতী করোবিনা সরাসরি রাজাকে বললেন—আমি বিখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা করোবিনার স্ত্রী। বারবার মুষ্টিযুদ্ধে জয়ী হয়ে এই দেশকে তিনি গর্বিত করেছেন। আমি এই দেশের ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য নিজের ছেলেকে মুষ্টিযুদ্ধ শিখিয়েছি। যদি সেটা অপরাধ হয়, প্রাণদন্ড মাথা পেতে নেব।
এবার গ্রিক সম্রাটের চোখে জল। মাকে মৃত্যুদন্ডের বদলে রাজা পুরস্কৃত করলেন মহিলাকে। শ্রীমতী করোবিনা তো দেশের গৌরব।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন