চণ্ডী লাহিড়ী
মাইকেল প্রত্যহ আকন্ঠ মদ্যপান করতেন। একবার তাঁর খেয়াল হল, সংস্কৃত শিখবেন। পৌরাণিক কাব্য নাটক লিখতে গেলে সংস্কৃত জ্ঞান থাকা দরকার। তিনি রামকুমার বিদ্যারত্নকে গৃহ শিক্ষক নিযুক্ত করলেন। মাইকেল একদিকে সংস্কৃত শিখছেন, অন্যদিকে মদ্যপানও চলছে। দেবভাষা শেখার সময় বিলাতি মদ্যপান ব্যাপারটা বিদ্যারত্ন তেমন মেনে নিতে পারলেন না। তিনি মাইকেলকে মদ্যপানের পরিমাণ একটু কমাতে বললেন। ব্যস এখানেই বাধল গোল। বিদ্যারত্ন, একথা যেন আর না শুনি। বিদ্যারত্ন আর মাইকেলের বাড়ি আসেননি কেউ কেউ রং চড়িয়ে বলেছেন, মাইকেল নাকি তাঁর মদের বোতল ছুঁড়ে মারেন এবং আহত বিদ্যারত্ন তাঁকে অভিশম্পাত দেন।
মদ্যপান তো সেকালের সাংস্কৃতিক জগতের সবাই কমবেশি করতেন। কিন্তু মদ্য-রসিকের সংখ্যা তেমন বেশি কোনদিনই নয়। সারা ভারতে মদ্য-রসিক হিসাবে প্রথম শিরোপা পাবার অধিকারী রাজনারায়ণ বসু। কলেজ স্কোয়ারে যে কয়েকটি বঙ্গ যুবক মদ্যপানের আসর বসাতেন, রাজনারায়ণ তাদের অন্যতম। বোতল হাতে পেয়েই তিনি রেলিং টপকে ওপারে যেতেন চাটের সন্ধানে। রেলিং টপকে না গিয়ে সদর গেট দিয়ে গেলে সময় লাগতো বেশি। তখন তো নাম ছিল গোল দীঘি। সেই গোল দীঘি ভেঙে যখন স্কোয়ার অর্থাৎ চতুষ্কোণ করা হল তখন খালি মদের বোতল মিলেছিল কয়েক ঝুড়ি। অনেকেরই সন্দেহ, এসব মদের বোতল আমদানি হয়েছিল মহাত্মা রাজনারায়ণ বসু ও সম্প্রদায়ের হাতে। আর এই গূহ্য এবং আপত্তিকর সংবাদটি পরিবেশন করেছেন রাজনারায়ণের জামাই কৃষ্ণকুমার মিত্র।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন