চণ্ডী লাহিড়ী
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকে বিখ্যাত ঐতিহাসিক বলেই জানে। পকেটে তেমন পয়সা কোনোদিন ছিল না। পিতৃসূত্রেও তিনি ধনী ছিলেন না। কিন্তু মেজাজটা ছিল আমীরসুলভ। নিজের জন্য নয়, নিজ পরিবারের জন্যও নয়। তিনি দু-হাতে খরচ করতেন পরার্থে।

রাখালদাস আবিস্কৃত মহেঞ্জদরো থেকে
পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় লিখছেন, ‘‘রাখালদা ডেকে বললেন, পাঁচুদার (নায়ক-সম্পাদক পাঁচকড়ি সম্পাদক) বড়ো অসুখ। একটা খবর নিয়ে আসতে হবে তোমাকে।
সার্পেন্টাইন লেনে পাঁচুদার বাড়ি এসে যা দেখলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। জিজ্ঞাসা করলাম দাদাকে, কেমন আছেন দাদা? জবাব করলেন, কেমন থাকতে বলো তুমি। কাল থেকে যার বাড়িতে হাঁড়ি চড়েনি, বুড়ো বাপ-মা উপবাসী।

রাখালদাস আবিস্কৃত মহেঞ্জদরো থেকে
দু-পাঁচ কথার পর ভারি মন নিয়ে ফিরে এলাম। আদ্যপান্ত বিবরণ দিয়ে ফেললাম রাখালদাকে—যা দেখেছি, যা শুনেছি। রাখালদা বললেন, চেক বইটা বার করো দেখি। দেখা গেল একশো তেইশ টাকা আছে। বিনা দ্বিধায় একশো টাকার একটা চেক কাটলেন। তারপর তিনুর মার থেকে চেয়ে পাঠালেন দশটি টাকা। চাকরকে পাঠালেন ট্যাক্সি ডাকতে। আমাকেও সঙ্গী হতে হল। ব্যাংক হয়ে চেক ভাঙিয়ে নিয়ে পাঁচুদার বাড়ি এলেন। রাখালদাসকে দেখে কোনো কথা বলতে পারলেন না পাঁচুদা। কথাবার্তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনিই যেন বাড়ির বড়ো ছেলে। সংসারে সেই মুহূর্তে কী কী জিনিস দরকার নিজে থেকেই জেনে নিলেন। তারপর সেগুলি কেনার ব্যবস্থা করে তারপর কথা বললেন পাঁচুদার সঙ্গে।

রাখালদাস আবিস্কৃত মহেঞ্জদরো থেকে
বাড়ি যখন ফিরে এলেন, পাওনাদার বসে আছে। আমাকে আড়ালে ডেকে বললেন, এদের আসতে বলেছিলাম। তুমি বরং আমার চিঠি নিয়ে একবার হরিদার কাছে যাও।’’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন