চণ্ডী লাহিড়ী
দানের ব্যাপারে জীবদ্দশাতেই রাজা রাজেন্দ্রলাল মল্লিক কিংবদন্তী হয়েছিলেন। তিনি নেই। তাঁর নির্মিত মার্বেল প্যালেস আজও কলকাতার টুরিস্টদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। একে বলা হয় পাথরের কাব্য। সেকালে সবাই যখন ব্রিটিশ স্থাপত্য নিয়ে বিগলিত, চোরবাগানের মার্বেল প্যালেস তৈরি হয়েছিল ওরিয়েন্টাল স্থাপত্য-রীতি মেনে। সাহেবরাই ছিলেন এর প্রধান আর্কিটেক্ট। ইটালি থেকে প্রয়োজনীয় মার্বেল জাহাজ যোগে আনিয়ে তৈরি হয়েছিল এই প্রাসাদ—সেজন্য আজও নাম মার্বেল প্যালেস।
রাজেনবাবুর বয়স যখন মাত্র ষোলো তখন এর নির্মাণপর্ব শুরু হয়। তাঁর বয়স যখন একুশ তখন শেষ হয়। পাঁচ হাজার মজুর পাঁচবছর একটানা খেটে এটি তৈরি করেন।
তখন যেভাবে এটি নির্মিত হয়েছিল, তদনুযায়ী এখানে ছিল জাদুঘর, চিড়িয়াখানা, বাগান, সরোবর ইত্যাদির যৌথ সমাহার।
রাজেন্দ্রনাথ ইংরেজ টিউটরের কাছে লেখাপড়া করেন। ইউরোপীয় আর্ট সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল খুব স্পষ্ট। এ ব্যাপারে তিনি অন্যের কথায় চলতেন না। ফ্রান্স থেকে মিরি ফরেনডিকের ক্যাটালগ আনিয়েছিলেন পশ্চিমি ছবি নির্বাচনের জন্য। যেসব ছবি আনিয়েছিলেন প্রায় সবই সেসময়কার বিশ্বসেরা। অস্ট্রিচ, এমু, লায়ার ইত্যাদি প্রচুর বিদেশি পাখি তাঁর বাগানে ছেড়ে দিয়েছিলেন। চীন থেকে আনিয়েছিলেন, ম্যাণ্ডারিন হাস। সিঁড়িতে ওঠার মুখেই সমুদ্র-যোদ্ধা ভাইকিং যোদ্ধার পোশাকে আলো দেখিয়ে যেন আগন্তুককে বলছে—বাইরে কেন? ভেতরে এসো, আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। ইটালি থেকেই জাহাজযোগে এসেছিল মহামূল্যবান কয়েকটি ভেনাস—সেসব এখনো আছে।
নানা বিচিত্র ধরনের মার্বেল ব্যবহৃত হয়েছে এই প্রাসাদে। এত রকমের মার্বেল বিশ্বের আর কোনো স্থাপত্যে ব্যবহৃত হয়নি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন